রাতের আঁধারে বুড়িগঙ্গার অন্তর থেকে ধরা পড়ল পলায়নরত দুই মন্ত্রী!
ওদিকে কেচো খুঁড়তে সাপ খুঁজে পেয়েছে সদ্য গঠিত বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান শিকদার পাটওয়ারী। ব্যক্তিগত সম্পর্কের দায়ে জড়িয়ে পড়েছে সাত বছর পুরনো একটা খুনের কেসেও। আর এসবের মাঝেও নির্দ্বিধায় অভিনব পন্থায় দেশ থেকে টাকা পাচার করে যাচ্ছে এক ছায়ামানব! তাকে চেনে না কেউ, নামও জানে না! পর্দার আড়াল থেকে তাকে খুঁজে বের করা যাবে কি না সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
'হরিলুট' একটা বিক্ষিপ্ত সময়ের গল্প, চরিত্রগুলোর ব্যক্তিগত সংকট আর অপরাধজগতের এক অনন্য মিশেল। যে জগতে পাঠক আগে কখনো ভ্রমণ করেনি...
বই : হরিলুট লেখক : সামসুল ইসলাম রুমি প্রকাশনী : বাতিঘর প্রকাশনী প্রকাশকাল : অমর একুশে বইমেলা ২০২৫
হরিলুট গল্পটা দুইজন মন্ত্রীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা কেন্দ্রিক, তবে তদসংশ্লিষ্ট আরও বেশ কিছু ঘটনাও এখানে ফুটে উঠেছে। দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করার মতো জঘন্যতম অপরাধ নিয়ে এর আগে কোন কাহিনী আমার পড়া হয় নাই। রুমি ভাইয়ের কাঠগড়া আর হাতকড়া পড়ে বেশ ভালো মতোই বুঝতে পেরেছি আইনি জটিলতা আর কুটিলতা সংক্রান্ত কাহিনী লিখতে তিনি পটু।
টাকা পাচারকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটি যেহেতু আবর্তিত তাই টাকা পাচার নিয়ে খুঁটিনাটি অনেক কিছু এখানে উঠে এসেছে। লেখাটা পড়ে বুঝা যায় লেখক ঘটনা সাজাতে নিজের মস্তিষ্ককে বেশ খাটিয়েছেন, প্রথমত কাহিনীর স্তর গুলো সাজাতে, দ্বিতীয়ত কাহিনীর রসদ সংগ্রহ করতে, তৃতীয়ত পুরো বিষয়টাকে নিপুণভাবে গুছিয়ে তুলে ধরতে।
সঙ্গত কারণেই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে চাকরিজীবীদের সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। যেগুলো পড়ার পরে রীতিমতো বিস্মিত হয়েছি, কারণ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতা সম্পর্কে জানা থাকলেও এমন গহীনে জানার মতোন অবস্থা ছিল না। আর্কিটেক্ট, শিকদার পাটোয়ারী, আব্দুস সামাদ, আঁখি, সাজ্জাদ প্রমুখ চরিত্র গুলো গল্পকারের দক্ষতাকে সমৃদ্ধ করেছে মনে হয়েছে।
আরও বিস্তারিত জানার জন্য দুর্দান্ত এই উপন্যাস পড়ে নিতে হবে। আপাতত পরবর্তীতে কাহিনীর আরও কিছু পাবার জন্য অপেক্ষমান হয়ে আছি .........
গল্পের শুরু পলায়নরত দুই মন্ত্রীর নৌকায় ধরা পরা থেকে। (চেনা চেনা লাগে ঘটনা?) এই দুই মন্ত্রীর নামে হাজারটা অভিযোগ। তার মধ্যে একটা দেশের অর্থনীতি ধ্বসিয়ে দিয়ে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা। মানি লন্ডারিং।
এই "মানি লন্ডারিং" কন্সেপ্টের উপরেই এই পুরো বই। "ক্রাইম ফিকশন" সাধারণত মার্ডার/কিডন্যাপ/রেইপ/হাইজ্যাক এধরণের ক্রাইমের উপরেই বেশি লেখা হয়। তাই "মানি লন্ডারিং" এর উপর ক্রাইম ফিকশন লেখার আইডিয়াটা বেশ ইউনিক।
লেখক অযথা বইকে টেনে হিচড়ে বড় করে নি, এজন্য সাধুবাদ। এর আগে এই লেখকের "সময়িন্দ্রজাল" এবং "কাঠগড়া" পড়েছি। সেখান থেকে বলতে পারি, লেখকের বইয়ের প্লট সবসময়ই অন্য ধাঁচের। তবে আগের থেকে লেখার ধাঁচে বেশ উন্নতি হয়েছে। এক টানে পড়ে ফেলা যায়।
বইয়ের এন্ডিংটাই কেবল যুতসই না। সম্ভবত বইয়ের নেক্সট পার্ট আসবে। Good wishes for that. I hope the next part will meet the expectations.
বই : হরিলুট লেখক : সামসুল ইসলাম রুমি প্রকাশনী : বাতিঘর প্রকাশনী
সরকার পতনের পর দেশের বিক্ষিপ্ত পরিবেশ নিয়ে লেখা এই উপন্যাস। গল্পের শুরুটা হয় দুই মন্ত্রীর পালিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে। গল্পে লেখক মূলত তুলে ধরেছেন মানি লন্ডারিং, বিদেশে টাকা পাচার এবং জনগণের টাকা আত্মসাৎ করে কিছু অসাধু মানুষের ফুলে ফেপে উঠা। টাকা পাচারকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটি যেহেতু আবর্তিত তাই টাকা পাচার নিয়ে খুঁটিনাটি অনেক কিছু এখানে উঠে এসেছে। সঙ্গত কারণেই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে চাকরিজীবীদের সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে , উঠে এসেছে দেশের আইন শৃঙ্খল বাহিনীর দুর্বলতার কথা ।লেখক এখানে জুলাইয়ের আন্দোলনকেও তুলে ধরতে চেষ্টা করেছেন। উপন্যাসটি টাকা পাচারকে কেন্দ্র করে হলেও একটি অমীমাংসিত খুনের কাহিনীও বার বার আর্কষণ কেরেছে। আর দেখিয়েছে অপেক্ষা। সাজ্জাদের জন্য আখির ন্যয় বিচারের ৭ বছরের অপেক্ষা। দেখিয়েছে পাব না জেনেও ভাগ্যের করুন পরিহাসের কাছে হেরে গিয়েও ভালোবেসে তার স্মৃতি আকড়ে বাচার যন্ত্রণা।
লেখক সামসুল ইসলাম রুমির লেখার সাথে আমার পরিচয় 'কাঠগড়া' বইটা দিয়ে। তখন থেকেই তার লেখায় ইউনিকনেস লক্ষ্য করেছি। তথাকথিত গন্ডির বাইরেই ছিলো সবসময় তার লেখা।
এবছরও তার ব্যক্তিক্রম হয়নি। এবারে তার লেখা বইটির নাম ‘'হরিলুট।”
হরিলুটঃ হরিলুটের অনেকগুলো বিষয় আমার কাছে ভালো লেগেছে। তার মধ্যে প্রথম বিষয় হলো এটার ইউনিক কনসেপ্ট এবং গল্প প্রবাহ। সেসব নিয়ে একটু পরে কথা বলছি।
গল্পটা শুরু হয়, পালিয়ে যাওয়া দুই মন্ত্রীর ধরা পরার সময়টা থেকে। ফ্ল্যাপেই লেখা ছিলো, এখানে আছে টাকা পাচারের গল্পও। পুরোনো সম্পর্কের সাথে আবারও দেখা হওয়ার কিছু বিষয়ও রয়েছে।
হরিলুটের প্রায় প্রতিটা অধ্যায়ে বেশ কিছু লাইন ছিলো, যেগুলোতে বেশ ভালো হিউমার টের পেয়েছি। লেখক ইমোশনাল একটা টাচ এনেছেন গল্পে, সেই সমস্ত বিষয়গুলো বেশ রিলেটেবল এবং গোছানো লাগলো। সেখানে গল্পটাকে স্ট্রেচ করার বিষয়গুলো ছিলো না। যতটুকু দরকার ছিলো ঠিক ততোটুকুই।
টাকা পাচারের বিষয়টা একটু জটিল, একটু টেকনিক্যাল। এটা নিয়ে এর আগেও বেশ কয়েকবার ঘাটাঘাটি করেছি। তবে খুব বেশি সুবিধা করতে পারিনি। তবে লেখকের গল্পে প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল বিষয়গুলো খুব সহজভাবেই তিনি দেখিয়েছেন, যেখানে কনফিউজড হয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
ফ্ল্যাপের লেখাগুলোর বাইরেও আরও কিছু ঘটনাপ্রবাহ আছে বইটিতে, যার প্রায় প্রতিটাই আমার ভালো লেগেছে। ভিন্নধর্মী জিনিসগুলো আমাকে একটু বেশিই টানে। সামসুল ইসলাম রুমির ‘'হরিলুট” বইটাও তাই আমাকে বেশ টেনেছিলো। এবং হাতে নিয়ে এক বসায় পড়ে ফেলেছি বইটা।
টাকা পাচার, টাকা পাচারের টেকনিক্যাল বিষয়াদি, পলিটিকাল কিছু বিষয়, আরও কিছু ঘটনাপ্রবাহ, পুরোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইমোশনাল টাচ, সবকিছু মিলিয়ে বইটা একটা দারুন কম্বো। তবে শেষের একটা লাইনে লেখক বুঝিয়ে দিলেন, “খেলা সবে শুরু মাত্র!”
বইঃ হরিলুট লেখকঃ সামসুল ইসলাম রুমি প্রচ্ছদঃ ডিলান প্রকাশনীঃ বাতিঘর প্রকাশনী পৃষ্ঠাঃ ১৬০ মূদ্রিত মূল্যঃ ২৬০ প্রথম প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ রেটিংঃ ৫
মানি লন্ডারিং থ্রিলার জনরায় খানিকটা অপরিচিত টপিক। বাংলা ভাষায় তো এ নিয়ে লেখা হয়েছে আরও কম, কিংবা এই প্রথম, আমার জানা নেই সঠিক। লেখক নতুন এবং অপরিচিত কিছু নিয়ে লেখার প্রয়াস নিয়েছেন, এ কারণে সাধুবাদ জানাই।
শুরুটা বেশ চটকদার, লেখনীও আকর্ষণীয়। টাকা পাচার এবং টাকা পাচারের বিভিন্ন ট্যাকনিকাল বিষয়াদি নিয়ে বেশ খুঁটিনাটি তুলে ধরেছেন লেখক, পড়ে আনন্দ পেয়েছি। আমার ট্যাক্সের টাকা কত বিচিত্র ও ইউনিক উপায়ে পাচার হয়ে যাচ্ছে ভাবলে অবাকই হই।😂
কিন্তু শেষ হতে হতে কি খেই হারিয়ে গেল, নাকি পরের পর্ব আনার আকাঙ্ক্ষায় এমন অগোছালো এন্ডিং, তা বোধগম্য হলো না। কিছু রহস্যের কিনারা অন্তত এই বইয়েই সমাধান হওয়া প্রাপ্য ছিল বলে মনে হয়েছে।
গল্পের জট যতটা পাকানো হয়েছে, তার কোনো গিঁটই পুরোপুরি খোলার আগেই বই শেষ। থ্রিলারের স্বাদ পেতে পেতে যেন শেষ পর্যন্ত পাওয়া হলো না।