গল্প নয়, উপন্যাস নয়, ঠিক যেন আত্মজীবনীও নয়। কেবল চারুকলায় লেখকের ছাত্রত্বের আর তার পরের কিছু দিনের খুবই ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ। কিন্তু ব্যক্তিগত এইসব দিনযাপনের দিন গুলোই যখন একদা ইতিহাসের উপাদান হয়ে দাঁড়ায়, তখন আর সেসব ব্যক্তিগত থাকে কী? নাকি হয়ে দাঁড়ায় ইতিহাসের দলিল?
ইমতিয়ার শামীম পড়তে গেলে মনে হয়, তিনি শব্দ বুনে গল্প বলেন না ঠিক, বরং শব্দের আচঁড়ে আচঁড়ে ছবি আঁকেন। দুই একটা বাক্যে এমনভাবে ঘটনা-সময় বইয়ের পাতায় ফুটিয়ে তোলেন, যেমন শিল্পী তুলির আঁচড়ে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলেন ছবি। স্তোত্রপাঠের দিন পাঠ করতে গিয়ে তাই যে চিত্র মানসপটে ভেসে উঠতে দেখি, তার প্রেক্ষাপট নব্বুইয়ের শেষ থেকে এই শতাব্দীর শুরুর দিকের দিন গুলিতে হলেও চোখের সামনে বদলাতে থাকা দেশটার গত ছয়মাসের চিত্রের সাথে খুব একটা তফাত খুঁজে পাই না। হয়তো এই মিল খুঁজে পাওয়ার তাগিদ থেকেই ঠিক এই সময়টাতেই লেখক ওই সময়টার ছবি স্মৃতি হাতড়ে এঁকে রাখলেন। শেষটায় যে দৃঢ় আশাবাদ নিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন তারা সেই সময়টায়, এবং একসময় মেঘ কাটিয়ে ফেলতেও সক্ষম হয়েছিলেন, নিজেও আশাবাদী, সেই দিন আবার আসবে।
এবার মেলায় কেনা একমাত্র বই স্তোত্রপাঠের দিন। ভালো লেগেছে। তবে দুই তিন যায়গায় চরিত্রদের নাম উলটপালট হয়ে গিয়েছে। মেলার বই বলেই তাড়াহুড়ো ছিলো বোধহয় সম্পাদনায়।