দৃশ্যটা রিকের কেমন অপার্থিব ঠেকে। এই মেয়েটার সাথে ও থাকছে গত দুই যুগ ধরে তাও মাঝেমধ্যে কেমন অচেনা লাগে, আজ যেমন লাগছে। রিক একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল যখন দেখল মেরি একটু সামনে গিয়েই আবার ফেরা শুরু করেছে। হঠাৎ মেরি কোথাও হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল। পরক্ষণেই একটা গগনবিদারী চিৎকার ভেসে এলো। এক অচেনা আশঙ্কায় পায়ের নিচ থেকে রিকের পৃথিবী যেন সরে গেল।
মাশুদুল হকের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। এক দশকের বেশি সময় ধরে লিখছেন থ্রিলার, সায়েন্সফিকশন ও শিশু-কিশোর সাহিত্য, প্রকাশিত হয়েছে নিয়মিত ভাবে বাংলাদেশ ও ভারত থেকে।
সাহিত্য-পুরস্কার : এইচএসবিসি-কালিওকলম তরুণ কথাসাহিত্যিক পুরস্কার ২০১৩।
Masudul Haque is a contemporary writer from Bangladesh known for his works on thrillers, Sci-Fi, and children's literature. His works have been published in Bangladesh and India regularly for the last 12 years. He was awarded the Kali O Kalam Young Writer Award in 2013.
৩.৫/৫ মাশুদুল হকের যে কোনো লেখাই আমি সাগ্রহে পড়ি। "হরর সাইফাই" বলে চিহ্নিত করা হলেও শুধু এই জনরাতে আবদ্ধ না থেকে "খরগোশকে মারো"তে আছে ভিন্ন স্বাদের বেশকিছু গল্প। সবচেয়ে ভালো লেগেছে - খরগোশকে মারো, পারফেক্ট কেক, রুকিতা, সাইকোপ্যাথ ইত্যাদি। দীর্ঘতম গল্প "অরোরাল্যান্ড" না থাকলেই খুশি হতাম। ব্যক্তিগতভাবে মনে হোলো, কাহিনি নির্বাচন ও মুডের দিক থেকে মুহম্মদ জাফর ইকবালের প্রথম দিককার বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো স্বাদু হয়েছে লেখকের কিছু গল্প।
৩.৫/৫ নেটফ্লিক্সের কল্যাণে 'লাভ ডেথস এন্ড রোবটস' আমাদের অনেকেরই দেখা। আনন্দের বিষয় হলো আমাদের এখন ওরকম গল্প আছে। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আমরা খরগোশকে মারো'র গল্পগুলো নিয়ে কখনো এমন বড় স্কেলের এনিমেটেড সিরিজ বানিয়ে ফেলবো। এখানের সবগুলো গল্প ভালো লাগেনি, কয়েকটি গল্পে হালকা তাড়াহুড়োর ছাপ লক্ষণীয়। পছন্দের গল্প খরগোশকে মারো, পারফেক্ট কেক, পাখিপ্রেমী, ঝড় আসছে, রুকিতা।
সবসময়ই ভিন্নধর্মী কনসেপ্টে লিখতে পছন্দ করেন সুলেখক মাশুদুল হক। এই বইয়েও এর ব্যতিক্রম হয়নি। খরগোশকে মারো মূলত একটা গল্প সংকলন। সাইফাই, ডিস্টপিয়ান, হরর ঘরনার গল্প নিয়েই মূলত এই সংকলনটা বানানো। নয়টা ছোট গল্প রয়েছে এতে। দ্রুতই পড়া যায়। ভালো লেগেছে খরগোশকে মারো, পাখিপ্রেমী, বনছায়া, রুকিতা। তবে যেভাবে গল্পটা হয়ে উঠল নামক গল্পটা বিশেষ। আমার মনে হয়েছে গল্পের মধ্যে দিয়ে শহীদুল জহির ও আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে ট্রিবিউট দিতে চেয়েছেন লেখক। গল্পটার লেখার ধরনও তাদের মতোই, কন্সেপ্টটা দারুণ। সামনে আশা করি লেখকের ভিন্নধর্মী আরও কাজ পাবো।
বইটা আমার কাছে আসতে যতটুকু দেরি, পড়তে ওতো বেশি সময় আমি নিই নাই। এক বসাতে শেষ করে তারপর উঠেছি। কিছু গল্প দুবার পড়েছি। কোনটা রেখে কোনটাকে প্রিয় বলব বুঝে উঠতে পারছি না। আসলে সবগুলোই ভালো লেগেছে। তবে নাম গল্প খরগোশকে মারো বাস্তবিকই ভয়ানক। বনছায়া গল্পটা আমার জন্য বিশেষ কিছু। রুকিতা গল্পটা? অন্যরকম, জাদুময়।
২.৫/৫ এ যাত্রায় মাশুদুল হক ভালোরকম হতাশ করলেন। তিনি যে ধারায় গল্প লেখেন তাতে প্লট এবং সমাপ্তি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। এই দুটো উপাদানই চমৎকার ডেলিভার করতে পারায় গত বইমেলায় প্রকাশিত "ডায়াস্পোরা ব্লুজ" এবং "অসচরাচর" নামক বই দুটো প্রচুর প্রশংসা কুড়িয়েছিল। এবারের বইতে ঘটল ঠিক উল্টো ব্যাপার। দুই-তিনটি গল্প বাদে না পাওয়া গেল জমজমাট কোনো প্লট, না হলো ওসবের ভালো কোনো সমাপ্তি৷
সাই-ফাই জনরার এই বইতে ছোটগল্প আছে ৯ টা। অরোরাল্যান্ড গল্পটা ছাড়া বাকিগুলোকে আকারে ক্ষুদ্রই বলতে হচ্ছে৷ নামগল্প "খরগোশকে মারো" দিয়েই বই শুরু। আমার চোখে সবচেয়ে ভালো আবেদন রাখতে পেরেছে এই গল্পটা। পরের গল্প "পারফেক্ট কেক" কেও ভালোর কাতারে রাখা যায়৷ এ দুটো গল্প পড়ার পর মনে হচ্ছিলো আরেকটা ভালো সংকলন বুঝি পেতে চললাম। কিন্তু সেই উৎসাহে পানি ঢেলে বাকিটা সময় ক্রমাগত এভারেজ এবং বিলো এভারেজ গল্প উপহার দিয়ে গেছেন লেখক। শেষদিকে পাওয়া "সাইকোপ্যাথ" গল্পটা অবশ্য অন্যগুলো তুলনায় ভালো।
বইয়ের সবচেয়ে চমৎকার গল্প হতে পারত অরোরাল্যান্ড গল্পটা। এটা মূলত ডায়াস্পোরা ব্লুজের একটি ঘটনার বর্ধিত অংশ। শুরুটা বেশ সম্ভাবনাময় হলেও যতো সামনে এগিয়েছে ততোই গুবলেট অবস্থা পাকিয়েছে। শেষটাও এতো অসম্ভব দ্রুততায় ঘটেছে যে অসংখ্য প্রশ্ন ঘুরপাক খেয়েছে মাথায়৷ মনে হচ্ছিল কোনো এক সিনেমার টিজার বুঝি দেখলাম, যেখানে ছুড়ে দেয়া হয়েছে তালগোলহীন অসমাপ্ত কিছু সমীকরণ।
মাশুদুল হক ইতোপূর্বে ভালো লেখা উপহার দিয়েছেন৷ সেসব অতীত অভিজ্ঞতার বলেই তার লেখা পড়তে আগ্রহী হই৷ পাঠক হিসেবে তাই চাওয়া সামনের বইগুলোতে তিনি আরেকটু মনোযোগী হবেন, গল্পের বিন্যাসে সময় নিবেন।
(প্রচ্ছদ নজরকাড়া এবং যুৎসই হয়েছে৷ সব্যসাচী মিস্ত্রির প্রতি সেজন্য সালাম। শুরুতে এক পাতায় দুই লাইনের কোটেশন লিখে, পাতা ফাকা রেখে ১২ পৃষ্ঠা স্রেফ অপচয় করা হয়েছে। এগুলো ৪-৫ পৃষ্ঠায় করা সম্ভব ছিলো৷)
হরর-সাইফাই জনরার মোট ৯ টা গল্পের সংকলন 'খরগোশকে মারো'। জনরা ব্লেন্ডিং আমি বরাবরই বেশ উপভোগ করি, আর মাশুদুল হকের লেখা সাইফাই আমার দারূণ প্রিয়। লেখকের মুনশিয়ানায় হরর-বিমুখ আমিও গোগ্রাসে গিলেছি গল্পগুলো। প্রত্যেকটা গল্পের প্রেক্ষাপটই কিছুটা ফিউচারিস্টিক, প্রযুক্তির কল্যানে এগিয়ে যাওয়া সভ্যতা। সাইফাই এর গৎবাঁধা কনসেপ্ট- সিমুলেশন, অল্টারনেট রিয়্যালিটি, ডিস্টোপিয়া, রোবট অনেকটাই অনুপস্থিত থাকায় গল্পগুলো বেশ রিফ্রেশিং, হরর জনরার সাথে মিশেল এখানে নতুনত্ব এনেছে। তবে এখানে হরর এলিমেন্টগুলো ভয় পাওয়ানোর থেকে অসহায়ত্ব আর অস্থিরতার উদ্রেক করে বেশি।
পছন্দের গল্পগুলো 'খরগোশকে মারো', 'পাখিপ্রেমী', 'ঝড় আসছে', 'সাইকোপ্যাথ' আর 'রুকিতা'। প্রতেকটা গল্পেই শেষটা একদম নাড়া দেওয়ার মতো। প্রযুক্তির কল্যানে এগিয়ে যাওয়া মানবসভ্যতার কয়েক শতাব্দী পর বর্তমানের আচার ব্যবহারগুলোর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, একাকীত্ব আর জীবে প্রেম থেকে তৈরি হওয়া অবসেশন, ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়ে অসহায়ত্ব ভুলে প্রশান্তির অনুভূতি - সব মিলে এই গল্পগুলো মনে থাকবে অনেকদিন।
একমাত্র আক্ষেপের জায়গাটা হয়তো 'অরোরাল্যান্ড'। অরোরাল্যান্ড নিয়ে আগেই পড়েছিলাম লেখকের উপন্যাস 'ডায়াসপোরা ব্লুস' এ৷ আমার অতি প্রিয় বই 'ডায়াসপোরা ব্লুস' কে আমি প্রায়ই বর্ণনা করে থাকি বিক্ষিপ্ত চিন্তাভাবনার কিছুটা গোছানো সংকলন হিসাবে। অরোরাল্যান্ড সেখানে আমাকে মুগ্ধ করেছিলো, এর কারণ সম্ভবত তখনো অরোরাল্যান্ড ছিলো শুধুমাত্র একটা অসম্পূর্ণ চিন্তা। একটা নগরী যেখানে সবার বয়স বিশ, কঠোর পরিশ্রমের জীবনযাপন করে অভাব অনটনের পরও বাসিন্দারা সবাই তারুণ্যকে উপভোগ করে খুশি। ওয়ান ওয়ে ট্রেনের মাধ্যমে পাশের নগর সানিল্যান্ডে যাওয়া যেতে পারে যেখানে উন্নত প্রযুক্তিতে আরাম আয়েশে বসবাস করা যাবে তবে এই যাত্রা বয়স বাড়িয়ে দেবে চল্লিশ বছর। কেন যেন এই গল্পসংকলনে অরোরাল্যান্ডের পেছনের যুক্তি আর তার পরিনতি সন্তোষজনক লাগলো না, কিছু রহস্যের হয়তো সমাধান জানতে নেই।
লেখকের 'স্যালামান্ডার জিন', 'ডায়াসপোরা ব্লুস' বা নেটফ্লিক্সের 'লাভ ডেথ রোবটস' উপভোগ করে থাকলে 'খরগোশকে মারো' রেকমেন্ডেড।
গল্পগুলো আসলেই ছোটগল্প। অল্প জায়গায় শেষ ���য়ে গেলো। সম্ভবত দুটো গল্প ভালো লাগেনি। বাকিগুলো ভালোই লাগলো। আর দু তিনটে বেশ ভালোই লেগেছে। গল্পগুলো হরর, থ্রিলার, সাইফাই যাই হোক না কেন; পড়ে মনে হলো গল্পগুলোতে 'অন্ধকার' রয়েছে।
What a collection! গাল্পিক মাশুদুল হক-এর পরিচয় যতগুলো বইয়ে জড়ো হয়েছে, তাদের একেকটার স্বাদ অন্যের থেকে পুরো আলাদা! ডক্টর কিজিল-এর সাথে শুরু হওয়া প্রটাগনিস্ট কেন্দ্রীক ফাই-ফাই যাত্রা একটু বদলে গেছিল স্যালামান্ডার জিন-এ এসে। তখন বুঝতে পারছিলাম, কিজিলের মতো এডভেঞ্চারাস, হোপফুল গল্পের বাইরেও ডার্ক এবং সংশয়পূর্ণ গল্পের একটা ধারা আছে মাশুদুল হক-এর মাঝে। আমার মতে, সেটাই বিকশিত হয়েছে খরগোশকে মারো বইয়ে। মাঝে অসচরাচর ১ এবং ২ ছিল মেডিকেল সায়েন্সের আবর্তে রহস্য সমাধানের উদ্দীপনা, কিন্তু খরগোশকে মারো আবার লেখকের সে ধারাটিকে তুলে এনেছে, যেখানে অজানার দিকে তাকানো অসহায়বোধ আছে, আছে তাকে বরণ করার প্রবণতা। একাধিক পাঠক এই সংকলনের সংগ্রহকে Love, Death, and Robots-এর আবহের সাথে তুলনা করছেন। আমিও একমত। উক্ত সিরিজে যেমন ভীষণ ভিন্নধর্মী সব আইডিয়াকে এমনভাবে ছুঁয়ে দেখা হয়েছে যে দর্শকদের জন্য জীবন-মরণ সঙ্কট প্রতিপন্ন হয়েছে ওই সীমিত সময়টুকু, সমধর্মী আমেজ খরগোশকে মারো পড়তে গিয়েও বোধ করেছিলাম... এবং গল্পগুলোর কাহিনী-ও বেশ চমৎকার।
৯টা গল্প আছে এই সংকলনে। খরগোশকে মারো, গল্পটা যেভাবে হয়ে উঠলো, সাইকোপ্যাথ, রুকিতা আমার পছন্দের। 'অরোরাল্যান্ড' সবথেকে বিস্তৃত পরিসরের গল্প, যার শুরুটাই হয়েছিল 'ডায়াসপোরা ব্লুস' বইতে, ... লেখক তাকে একটা কাঙ্ক্ষিত পরিণতি দিয়ে চেয়েও তাড়াহুড়োয় শেষ করেছেন। একটু আক্ষেপ রয়ে গেলো এই গল্পটা নিয়ে।
মাশুদুল হকের সব লিখা ভালো লাগে।বাট এই গল্প সংকলন টা হতাশ করল।প্রত্যাশা বেশি ছিল। সেই অনুযায়ী পূরণ হইল না।একদম শেষের গল্প টা ভালো এছাড়া সব ই এভারেজ আর বিলো এভারেজ।
হরর, সাইফাই ও অতিপ্রাকৃত জনরার নয়টি ছোটোগল্পের সংকলন 'খরগোশকে মারো'। প্রতিটি গল্পই ভিন্নস্বাদের, রহস্যে মোড়ানো এবং পাঠককে গল্পে টেনে রাখার ক্ষমতা রাখে।
সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে সংকলনের দীর্ঘতম গল্প "অরোরাল্যান্ড"। গল্পটি প্রযুক্তির বিপুল অগ্রগতির ফলে মানুষের জীবনে যে পরিবর্তন আসতে পারে, এমনকি পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, তা নিয়ে একটি ভবিষ্যদ্বাণীমূলক কাহিনি। গল্পটি পাঠকদের মনে প্রশ্ন তুলবে— পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর আমাদের পরিণতি কি হবে! আমাদের কি উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে ক্লোন করা হবে নাকি অন্য গ্রহের প্রাণী আমাদের নিয়ে গেম খেলবে! আমরা কি বাস্তবতাকে ধরে রাখতে পারবো, নাকি একদিন কৃত্রিম বাস্তবতায় পুরোপুরি হারিয়ে যাবো?
এছাড়া নামগল্প খরগোশকে মারো, পাখিপ্রেমী, সাইকোপ্যাথ এবং রুকিতা— গল্প চারটি দুর্দান্ত লেগেছে। তবে "পারফেক্ট কেক" এবং "যেভাবে গল্পটা হয়ে উঠল" গল্প দুটি গড়পড়তা লেগেছে।। অন্যদিকে, "ঝড় আসছে" এবং "বন ছায়া" তুলনামূলকভাবে অনেক দুর্বল গল্প মনে হয়েছে।
মাশুদুল হকের লেখা প্রথমবার পড়ার অভিজ্ঞতা বেশ ভালোই। তবে সবগুলো গল্পের দৈর্ঘ্য যদি "অরোরাল্যান্ড" এর মতো দীর্ঘ হতো, তাহলে বেশি ভালো লাগতো। নতুন পাঠকদের জন্য এই সংকলন নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ হবে। তবে যারা এই জনরার গল্প পড়ে অভ্যস্ত, তাদের গল্পগুলো ভালো লাগলেও খুব বেশি বিস্মিত করবে না।
৩.৫/৫ সবগুলো গল্প ভালো লাগেনি। নামগল্প খরগোশকে মারো, পার্ফেক্ট কেক, পাখিপ্রেমী, সাইকোপ্যাথ, রুকিতা এই গল্পগুলি ভালো লেগেছে। "অরোরাল্যান্ড" গল্পটা সবচেয়ে বড়। এটা না থাকলেই বোধহয় ভালো হতো, গল্পটার আগামাথা কিছু বুঝিনি। মনে হলো খুব তাড়াহুড়ো করে গোঁজামিল দিয়ে শেষ করা হয়েছে। বাকি গল্পগুলি মোটামুটি এভারেজ।
সাইফাই, হরর ঘরানার ৯টি ছোট গল্প নিয়ে সাজানো বইটি। মাশুদুল হকের দূর্দান্ত লিখনশৈলী থাকলেও গল্পগুলো ঠিক মন ভরাতে পারেনি। মনে হচ্ছিল নিতান্তই ফেসবুকের কিছু গল্পকে মলাটের মাঝে বন্দী করে ফেলা হয়েছে।
খরগোশকে মারো গল্পটা মোটামুটি লেগেছে। এমন কনসেপ্টের গল্প পড়া বা সিরিজ দেখা হয়েছে আগেই। পারফেক্ট কেক গল্পটা ভাল্লাগে নাই। ক্যান লাগে নাই তাও জানি না। পাখিপ্রেমী, একেবারে পিচ্চি গল্প হিসাবে মন্দ নয়। এন্ডিংটা ভালোই ছিল। অরোরাল্যান্ড বইয়ের সবচেয়ে বড় গল্প। এর আগে লেখকের ডায়াসপোরা ব্লু বইয়ে এই গল্পের কিছুটা অংশ ছিল। লেখক এখানে সেটার যথাযথ সমাপ্তি টানতে চেয়েছেন। এবং মজার ব্যাপার সেই সমাপ্তির আগ পর্যন্তই গল্পটা ভালো লেগেছে!! ঝড় আসছে, এটা কি এমন কোনো গল্প যার ভিতরে অনেকগুলা লেয়ার আছে? যা আমি আনলক করতে পারি নাই!! কে জানে আমার কাছে এইটা এমনকি কোনো গল্পও মনে হয় নাই। মানে এইটা কি আর কেন সেই প্রশ্নই জেগেছে মাথায়। বনছায়া, অতিপ্রাকৃতিক ঘরানার। মোটামুটি চলে টাইপ গল্প। এমন গল্প অনেক অনেক আছে। যেভাবে গল্পটা হয়ে উঠল, এটা বেশ অদ্ভুত ধরণের একটা গল্প। ফ্যান্টাসি লেখকদের মাথায় তৈরি হওয়া বিভিন্ন জগতের একটা মাল্টিভার্স তৈরি করে কিছু একটা লিখতে চেয়েছেন লেখক। আফসোস এইটুকুন লেখায় মূল কনসেপ্টটা ঠিক ফুঁটে উঠেনি। এই কনসেপ্টটা এতোই ইউনিক যে, এটা নিয়ে একটা উপন্যাসিকা অন্তত ঠিকই লিখে ফেলতে পারেন লেখক। বের হলে আমি অন্তত আগ্রহ নিয়েই পড়ব। সাইকোপ্যাথ, ভালো লেগেছে। সাদামাটা গল্প, তবে শেষটা দারুণ। চাই কি মেটাফোর হিসাবেও নেয়া যাবে। রুকিতা, আমার মতে বইয়ের সবচেয়ে সুন্দর গল্প এটাই। এন্ডিংটা যদিও ধারণা করতে পারছিলাম। তবুও পড়তে বেশ ভালো লেগেছে।
ব্যক্তিগত রেটিং: ০৫/১০ (হাতেগোনা ৩/৪টা গল্প ছাড়া বাকীগুলো মোটেও মন ভরাতে পারেনি। অসচরাচর লেভেলের কিছু আশা করেছিলাম। তাই হতাশার পরিমাণটাই বেশি)
3.5 আমার পড়া প্রথম বই এই লেখকের, হয়তো অন্য বই দিয়ে শুরু করলে বেশি ভালো হতো। যেন শুরু হতে না হতেই শেষ হয়ে গেলো। তবে সবচেয়ে পছন্দের ছিল খরগোশকে মারো, সাইকোপ্যাথ,রুকিতা।
খরগোশকে মারো বইয়ের নাম দেখলে প্রাণীপ্রেমীরা বেশ রেগেই যেতে পারেন। যেমন আমি প্রাণীপ্রেমী কিছুটা বিধায় বইটার নাম পড়ে মনটাই খারাপ হয়ে গেছিলো। পড়লাম, বুঝলাম যে এইটা গল্প সংকলন। আর ব্যাপারটা শুধু খরগোশ মারা নিয়েই এমনটা নয়। তাই এখন খারাপ লাগাটা কমে গেছে। 😁
তবে আমি মাশুদুল হকের সাই-ফাই লেখার ফ্যান বলতে পারেন। তাই ভাবছিলাম গল্পগুলো প্রচুর ভাল হবে। কিছু গল্প সত্যিই ভাল লেগেছে। খরগোশকে মারো, বনছায়া, রুকিতা এই তিনটা গল্প বেশি ভাল লেগেছে। এরপরের অবস্থান অরোরাল্যান্ডের৷ বাকিগুলো একটু খাপছাড়া লাগছিল। জানিনা বাকিদের কিরকম লাগবে। তবে অল্প সময়ে পড়ার জন্য ভাল একটা বই। রিডিং ব্লক থাকলে কাটিয়ে উঠা যাবে মনে করি।
পড়ে শেষ করলাম মাশুদুল হকের হরর-সাইফাই 'খরগোশকে মারো'। বেশ অনেকটা উচ্ছাশা নিয়েই পড়তে বসেছিলাম। কিন্তু রিডিং শেষে হতাশ হয়ে বলতে হচ্ছে, বইটা ভালো লাগলো না।
কোন গল্পই খুব একটা দাগ কাটে নি। যদি জোর করে একটার নাম বলতে হয়, তবে 'রুকিতা'-র নামটাই আসবে। এছাড়া 'অরোরাল্যান্ড' (এই বই এর সবচেয়ে বড় গল্প) - কিছুটা প্রমিসিং থাকলেও কিছুদূর পর একেবারেই ভেঙ্গে পড়ে।
ভিন্নধর্মী একটা বই। একেক গল্প একেক ঘরানার। নয়টি ছোট গল্প নিয়ে বইয়ের সংকলন । ব্যক্তিগতভাবে আমার পছন্দ হয়েছে পাখিপ্রেমী, রুকিতা, বনছায়া, যেভাবে গল্পটা হয়ে উঠলো। আমি জানিনা কেন তবে প্রতিবারই সবার পছন্দের সাথে আমার পছন্দের ভিন্নতা পরিলক্ষিত করা যায় । যাইহোক, কিছু গল্প লেখক খুব তাড়াহুড়ো করে শেষ করেছেন , না লিখলেও চলতো , আবার কিছু গল্প খুবইই ছোট হওয়ার কারণে হতাশ হতে হয়েছে । সবমিলিয়ে ৩.২৫/০৫
মাশুদুল হকের লেখার প্রতি আমি সত্যি বলতে একটু বায়াসড। তাই ৪ স্টারই দিয়ে দিলুম। তবে আরো একটু ভালো হতে পারতো। আবার এটাও ঠিক যে একটি ছোটগল্প সংকলনে সবগুলো গল্পই সমমানের হবে এটা আশা করা বোকামি। ওভারঅল ভালো লেগেছে।
লেখক মাশুদুল হকের লেখা আমার বরাবরই ভালো লাগে। তার লেখায় স্বকীয়তা দেখা যায়। লেখা শেষের টুইস্টগুলোও হয় ইউনিক। খরগোশকে মা রো ৯টি হরর-সাইফাই গল্পের মিশেলে লেখা। দুয়েকটা বাদে বাকি সবগুলো গল্পই ভালো লেগেছে। সবথেকে চমৎকার লেগেছে অরোরাল্যান্ড ও যেভাবে গল্পটা হয়ে উঠল গল্প দুটো। যেভাবে গল্পটা হয়ে উঠল গল্পটাতে সাইফাইয়ের পাশাপাশি খানিকটা মেটাফিকশনের ছাপ রয়েছে বলে মনে হল। কিন্তু শিওর হয়ে উঠতে পারিনি। অন্য গল্পগুলোর মধ্যে ভালো লেগেছে-- খরগোশকে মা রো, পাখিপ্রেমী, বনছায়া, সাইকোপ্যাথ, রুকিতা। এই বইতে গল্পের মাঝে মাঝে কয়েকটা ইলাস্ট্রেশন থাকলে একদম জমে যেতো।
Just like other books by the author Masudul Haque, this one hooked me right from the beginning. This is a compilation of sci-fi horror, and although I'm not a big science fiction fan, I enjoyed this a lot as these were more dystopian than sci-fi. The first few stories were great however, the last couple of stories did not really hit the mark. Still worth a read though!
বই: খরগোশকে মারো লেখক: মাশুদুল হক জনরা: সাইন্স ফিকশন হরর/ অতিপ্রাকৃত ছোটগল্প/ থ্রিলার প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২৫ প্রকাশক: জ্ঞানকোষ প্রকাশনী মুদ্রিত মূল্য: ২৫০/-
⭐ ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.৫/৫.০
"খরগোশকে মারো" বইটি লেখক মাশুদুল হকের লেখা কিছু ভিন্নধর্মী ছোটগল্পের সংকলন। বইটিতে মোট নয়টি ছোটগল্প রয়েছে, যেগুলোর কোনোটিতে রয়েছে আধুনিক বিজ্ঞানের অপব্যবহার বা ক্ষতিকর দিকের বর্ণনা, আবার কোনোটিতে রয়েছে অতিপ্রাকৃত ও থ্রিলারের অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ। কিভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে মানুষ অন্য প্রজাতির জীবের পাশাপাশি নিজের বা স্বজাতির প্রতিনিয়ত ক্ষতিসাধন করে যাচ্ছে তার সামান্য কিন্তু হৃদয়স্পর্শী চিত্র লেখক তার লেখার মাধ্যমে এই বইটিতে ফুটিয়ে তুলেছেন। অন্যদিকে মানুষের মনোজগতের অদ্ভুত বিচরণের পাশাপাশি মানুষ কিভাবে তার নিজের অজান্তেই জীবনে বিভিন্ন অতিপ্রাকৃত বা প্যারানরমাল ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে, সেটির বর্ণনাও এই বইটিতে পাওয়া যাবে, যেগুলো প্রকৃতপক্ষে কাল্পনিক হলেও পাঠকের কাছে বাস্তবিক রূপে ধরা দিবে।
ব্যক্তিগত অভিমত: লেখকের লেখার সাথে আমার প্রথম পরিচয় ঘটে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও অতিপ্রাকৃতের সংমিশ্রণে লেখা তাঁর পাঠকসমাদৃত বই "অসচরাচর"- র মাধ্যমে। পরবর্তীতে এই বইটির সিকুয়েল "অসচরাচর ২" পড়া হয়। এই দুটি বই-ই আমার সবথেকে পছন্দের বইয়ের লিস্টে জায়গা করে নিয়েছিল। তাই লেখকের "খরগোশকে মারো" বইটি নিয়েও আমি অত্যন্ত আশাবাদী ছিলাম এবং এইবারও লেখকের লেখা পড়ে আমি নিরাশ হইনি। "খরগোশকে মারো" বইটির প্রতিটি গল্পই অসাধারণ এবং একটি অপরটির থেকে সম্পন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে লিখিত। গল্পগুলোর মধ্যে কোনোটি ভয়ের, কোনোটি কৌতূহলের, আবার কোনোটি রহস্যময়তার অনুভূতি প্রদান করেছে। লেখক বরাবরই তাঁর লেখায় বিজ্ঞান আর কল্পনার এত্তো নিখুঁত আর চমৎকার সংমিশ্রণ ঘটান, যে পাঠকের কাছে কল্পনাও বাস্তব হয়ে ওঠে। বইটির গল্পগুলোর ভাষা সহজ ও সাবলীল, যা যেকোনো বয়সের পাঠকের কাছেই বোধগম্য হবে। এছাড়া প্রতিটি গল্পের গতিই তার ঘটনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে বইটি পড়তে পড়তে পাঠকের বিরক্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। মাত্র ৮০ পৃষ্ঠার এই বইটি যেকোনো পাঠক কেবল এক বসাতেই পড়ে উঠতে পারবেন।
হরর, সাইফাই ও অতিপ্রাকৃত জনরার নয়টি ছোটগল্প সংকলন 'খরগোশকে মারো'। প্রতিটি গল্প ভিন্ন স্বাদের, রহস্যে মোড়ানো এবং পাঠককে গল্পে টেনে রাখার মতো।
সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে যে গল্প গুলা খরগোশকে মারো,পাখিপ্রেমী (এই গল্পটা বেশি ভালো লেগেছে), অরোরাল্যান্ড (গল্পটা উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার গল্পটাও সুন্দর), সাইকোপ্যাথ, রুকিতা।
এছাড়াও যেসব গল্প রয়েছে পারফেক্ট কেক (গল্পটার কিছু বুঝতে পারি নি), যেভাবে গল্পটা হয়ে উঠলো, ঝড় আসছে, বনছায়া।
মাশুদুল হকের লেখা প্রথম বই পড়া এটা। কিছু গল্প ভালো লেগেছে আর কিছু গল্প একদম ভালো লাগে নি। তবে ভালো লাগার পরিমাণ বেশি। ৩.৫/৫
সাইফাই হরর এন্থলজি "খরগোশকে মারো" - ছোট গল্পের সংকলন। পছন্দের গল্প খরগোশকে মারো, ঝড় আসছে, রুকিতা। বইয়ের বেশ কিছু গল্পকে 'লাভ, ডেথ, রোবটের' মতো কোন অ্যানিমেটেড সিরিজের পর্ব হিসেবে স্ক্রিনে দেখার লোভ সামলানো কঠিন।
অরোরাল্যাণ্ডের প্রেক্ষাপট ডায়াসপোরা ব্লুস উপন্যাসের কারণে আগে থেকেই পরিচিত। তবে এবার গল্পের সমাপ্তি টানার কারণে কিছুটা আক্ষেপ রয়ে গেল, কিছু গল্পের পরিণতি হয়তো না জানাই ভালো!
অনেক বছর পর সাই-ফাই ঘরানার বই পড়া হলো। ছোট্টবেলায় জাফর ইকবালই ছিলো আমার কাছে সাই-ফাই এর একমাত্র যোগানদাতা। যত বড় হলাম, এই জনরা ততই পড়া বইয়ের জগৎ থেকে দূর হতে লাগলো। মাশুদুল হকের লেখনিতে নতুন করে এ জনরার বই পড়ে নস্টালজিক হয়ে গেছি। ৯টা গল্পসংকলনের বই "খরগোশকে মারো"। মস্তিষ্ক ঠাণ্ডা করা আর দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া প্রতিটা গল্পই এক কথায় দুর্দান্ত!.
নামগল্পটা অতি চমৎকার। সাইকো- গল্পটাও বেশ ভাবনা উদ্রেককারী। বেশ কিছু গল্প গড়পড়তা লেগেছে। বড় গল্পটা, অরোরাল্যান্ড খুব ভালো লাগছিল, তবে শেষটা মন ভরাতে পারে নি।