What do you think?


পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি
রাজ চব্বিশ বছরের এক হতভাগা তরুণ। যার সম্পর্কে সংক্ষেপে বলতে গেলে- জীবাণু যেমন খালি চোখে দেখা যায় না, তেমনি তার জীবন এতটাই সাদামাটা যে দশজন মানুষের ভিড়েও তাকে আলাদাভাবে শনাক্ত করা কঠিন। ভাগ্য কিংবা দুর্ভাগ্যক্রমে পথ চলতে গিয়ে তার সঙ্গে এক সাধুবাবার সাক্ষাৎ ঘটে। অন্তর্যামী লোকটি জানান, জীবনের রজতজয়ন্তীতে রাজের সবকিছু বদলে যাবে চোখের পলকে। জীবনে এতটাই পরিবর্তন আসবে, যা বাংলা ছায়াছবির গল্প-কাহিনিকেও হার মানিয়ে দেবে। এটা শুনে খুশিতে রাজের চোখে জল এসে যায়। এরপর কোথাকার জল কোথায় গিয়ে গড়ায়, সে এক অদ্ভুত কাহিনি!
একবার হলেও বাংলা সিনেমা দেখেছেন, এমন পাঠকেরা চাইলে আন্দাজ করতে পারেন সামনে কী ঘটতে চলেছে। তবে হলফ করে বলা যায়, এ ধরনের পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি কেউ কস্মিনকালেও দেখেনি।
.
প্রচ্ছদ: আরাফাত করিম
একবার হলেও বাংলা সিনেমা দেখেছেন, এমন পাঠকেরা চাইলে আন্দাজ করতে পারেন সামনে কী ঘটতে চলেছে। তবে হলফ করে বলা যায়, এ ধরনের পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি কেউ কস্মিনকালেও দেখেনি।
.
প্রচ্ছদ: আরাফাত করিম
112 pages, Hardcover
First published February 16, 2025
About the author
Zamsedur Rahman
11 books177 followersজামসেদুর রহমান সজীব এর জন্ম রাজবাড়ী জেলাশহরে। ছোটবেলা থেকেই জাতীয় পত্রিকায় লেখালেখি করেন। রাজবাড়ীতে ‘আড়ম্বর’ শিশু সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে সাহিত্যের ছোটকাগজ ‘মুদ্রণশিল্প’ সম্পাদনার দায়িত্বে রয়েছেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও সফল এ তরুণ সংগঠক। বেশ কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ‘শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশ ২০১৭’তে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে তার নির্মিত ‘বাড়ি ফেরা’ চলচ্চিত্রটি।
খুব ছোট্ট একটি সূত্র অনুসরণ করেন জীবনে। নিজে হাসিখুশি থাকতে হবে, আশপাশের সকলকেও হাসিখুশি রাখতে হবে। একারণেই বেছে নিয়েছেন লেখালেখি। নিয়মিত রম্য লিখছেন। পাঠকের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন হাসি-আনন্দ।
খুব ছোট্ট একটি সূত্র অনুসরণ করেন জীবনে। নিজে হাসিখুশি থাকতে হবে, আশপাশের সকলকেও হাসিখুশি রাখতে হবে। একারণেই বেছে নিয়েছেন লেখালেখি। নিয়মিত রম্য লিখছেন। পাঠকের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন হাসি-আনন্দ।
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 13 of 13 reviews
September 26, 2025
জামসেদুর রহমান সজীব ভাইয়ের “পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি” বইটি শেষ করলাম। বইটা আগে পড়ার ইচ্ছে করেনি ,কারণ ভেবেছিলাম হয়তো ভালো লাগবে না। আগেও হয়েছে এরকম একটা বই পড়ার পরে আফসোস করেছি এজন্য যে কেন আগে পড়িনি।
বইটা অনেক দিন আগে নিলেও নানান কারনে পড়া হয়ে উঠেনি। শুরুতে ভালো লাগেনি, কিন্তু কয়েক পৃষ্ঠা পড়ার পরেই শুরু হলো বিনোদন। মনে হচ্ছে যেন একেবারে খাটি বাংলা সিনেমা দেখছি। লেখক ফ্ল্যাপেই বলে রেখেছেন যে “এ ধরনের পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি কেউ কস্মিনকালেও দেখেনি”। আসলেই তাই।
ছোটবেলায় যে বাংলা সিনেমাগুলো দেখেছি, যেগুলোর সংলাপ লোকমুখে শোনা, নিজের বলা,সেসব সংলাপ গুলোই এ-ই বইয়ে ঠাসা।
এর আগে লেখকের তিনটি বই পড়েছি, এইটি সহ চারটা। এটাই সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। উপভোগ করেছি সব দিকেই, আর চমৎকার একটি এন্ডিং পেয়েছি।
বইটা অনেক দিন আগে নিলেও নানান কারনে পড়া হয়ে উঠেনি। শুরুতে ভালো লাগেনি, কিন্তু কয়েক পৃষ্ঠা পড়ার পরেই শুরু হলো বিনোদন। মনে হচ্ছে যেন একেবারে খাটি বাংলা সিনেমা দেখছি। লেখক ফ্ল্যাপেই বলে রেখেছেন যে “এ ধরনের পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি কেউ কস্মিনকালেও দেখেনি”। আসলেই তাই।
ছোটবেলায় যে বাংলা সিনেমাগুলো দেখেছি, যেগুলোর সংলাপ লোকমুখে শোনা, নিজের বলা,সেসব সংলাপ গুলোই এ-ই বইয়ে ঠাসা।
এর আগে লেখকের তিনটি বই পড়েছি, এইটি সহ চারটা। এটাই সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। উপভোগ করেছি সব দিকেই, আর চমৎকার একটি এন্ডিং পেয়েছি।
September 22, 2025
নির্মল বিনোদন।
কিছু কিছু জায়গায় কাতুকুতু দিয়ে হাসানোর চেষ্টা হয়েছে, হয়ত বাদ দেয়া যেত, কিন্তু ব্যাপার না।
কিছু কিছু জায়গায় হা হা করে হেসে উঠেছি, দিন শেষে "বই" টা বিনোদন দিয়েছে।
সুন্দর একটা সমাপ্তি!
কিছু কিছু জায়গায় কাতুকুতু দিয়ে হাসানোর চেষ্টা হয়েছে, হয়ত বাদ দেয়া যেত, কিন্তু ব্যাপার না।
কিছু কিছু জায়গায় হা হা করে হেসে উঠেছি, দিন শেষে "বই" টা বিনোদন দিয়েছে।
সুন্দর একটা সমাপ্তি!
March 16, 2025
#পাঠচক্র_রিভিউয়ার্স
২০২৫ রিভিউ
বিষয়: বই
রিভিউ: ২৮
বই: পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি
লেখক: জামশেদুর রহমান সজীব
প্রকাশনী: গ্রন্থরাজ্য
মানুষের জীবন বড্ড নাটুকে। বাংলা সিনেমার চাইতেও অদ্ভুত সমীকরণ আছে জীবনে। সজীব ভাই এর আরেকটি রম্য উপন্যাস।
রাজ, বাবা মায়ের বড় ছেলে। একঘেয়ে সাদামাটা জীবন তার। একদিন এক সাধুবাবার সাথে তার দেখা হয়। সেদিনই তার জীবন পুরো বদলে যায়। একের পর এক তথ্য আর ঘটনার ঘনঘটায় রাজের মাথা আর মন আর শরীরের বারোটা বাজে। সাথে কয়লা উস্কে দেয়ার মত হাপর হিসেবে আছে তার বন্ধু হৃদয়।
যেখানে এক খানা প্রেমিকা জোটে না, সাধু বাবার দয়া বা দোয়ায় একের পর এক নারীর আগমন ঘটে। নিজের জানা যাবতীয় ইতিহাস পুরোটায় বদলে যায়। ঘটনাগুলো এত দ্রুত ঘটে, সে তো হজম করতে পারেই না, সাথে দেশ থেকে তাকে বিদেশেও চলে যেতে হয়। অল্প ক’দিনে সে ঠ্যালাচালক থেকে মাদক ব্যবসায়ীও হয়ে যায়। কিন্তু কেন তাকে এত কাজ করতে হচ্ছে? যা ঘটছে তা আদৌ ঘটছে? না পুরো স্বপ্ন? না রাজ কোন চক্রান্তের শিকার?
জানতে হলে বইটা পড়তে হবে।
সজীব ভাই এর খান ফ্যামিলির চাইতে এই বইটা বেশি ভালো লেগেছে। প্রতিটি লেখা আর ঘটনায় অসাধারণ পরিপক্কতা। প্রতিটি ঘটনা একের সাথে এক যেভাবে জুড়েছেন, সিরিয়াল হিসেবে অনায়াসে চালানো যাবে। টি আর পি আসবে ভালো।
আমাদের প্রত্যেকের জীবন সিনেমার কাহিনীর চাইতেও ঘটনাবহুল। রাজের সাথে যা যা ঘটেছে, এরকম না হলেও ঘটনাবহুল ঘটনা প্রত্যেকের জীবনেই ঘটে, ঘটবে। বইটা নিয়ে বেশি কিছু বলার নাই, বইটা পড়লে নিজেই বুঝতে পারবেন। ছোট্ট বই, সময়টা দারুন কাটবে।
২০২৫ রিভিউ
বিষয়: বই
রিভিউ: ২৮
বই: পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি
লেখক: জামশেদুর রহমান সজীব
প্রকাশনী: গ্রন্থরাজ্য
মানুষের জীবন বড্ড নাটুকে। বাংলা সিনেমার চাইতেও অদ্ভুত সমীকরণ আছে জীবনে। সজীব ভাই এর আরেকটি রম্য উপন্যাস।
রাজ, বাবা মায়ের বড় ছেলে। একঘেয়ে সাদামাটা জীবন তার। একদিন এক সাধুবাবার সাথে তার দেখা হয়। সেদিনই তার জীবন পুরো বদলে যায়। একের পর এক তথ্য আর ঘটনার ঘনঘটায় রাজের মাথা আর মন আর শরীরের বারোটা বাজে। সাথে কয়লা উস্কে দেয়ার মত হাপর হিসেবে আছে তার বন্ধু হৃদয়।
যেখানে এক খানা প্রেমিকা জোটে না, সাধু বাবার দয়া বা দোয়ায় একের পর এক নারীর আগমন ঘটে। নিজের জানা যাবতীয় ইতিহাস পুরোটায় বদলে যায়। ঘটনাগুলো এত দ্রুত ঘটে, সে তো হজম করতে পারেই না, সাথে দেশ থেকে তাকে বিদেশেও চলে যেতে হয়। অল্প ক’দিনে সে ঠ্যালাচালক থেকে মাদক ব্যবসায়ীও হয়ে যায়। কিন্তু কেন তাকে এত কাজ করতে হচ্ছে? যা ঘটছে তা আদৌ ঘটছে? না পুরো স্বপ্ন? না রাজ কোন চক্রান্তের শিকার?
জানতে হলে বইটা পড়তে হবে।
সজীব ভাই এর খান ফ্যামিলির চাইতে এই বইটা বেশি ভালো লেগেছে। প্রতিটি লেখা আর ঘটনায় অসাধারণ পরিপক্কতা। প্রতিটি ঘটনা একের সাথে এক যেভাবে জুড়েছেন, সিরিয়াল হিসেবে অনায়াসে চালানো যাবে। টি আর পি আসবে ভালো।
আমাদের প্রত্যেকের জীবন সিনেমার কাহিনীর চাইতেও ঘটনাবহুল। রাজের সাথে যা যা ঘটেছে, এরকম না হলেও ঘটনাবহুল ঘটনা প্রত্যেকের জীবনেই ঘটে, ঘটবে। বইটা নিয়ে বেশি কিছু বলার নাই, বইটা পড়লে নিজেই বুঝতে পারবেন। ছোট্ট বই, সময়টা দারুন কাটবে।
April 7, 2025
সিনেমা দেখতে গিয়ে আমাদের প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো সময় মনে হয়েছে, ইশ! আমি যদি এই নায়কের মতো হতাম। আমার জীবন যদি এই নায়কের মতো হতো! ঢিসুম ঢিসুম করে সব শত্রুকে ঘুষি মেরে উড়িয়ে দিবো। নায়িকার সাথে ধাক্কা লাগবে, ঘড়িতে ওড়না আটকাবে, প্রেম হবে জম্পেশ। বাংলা ছায়াছবি দেখে এমন চিন্তা হয়তো বেশিরভাগ মানুষই মাথায় চলেই আসত।
কিন্তু জীবন তো সিনেমা নয়। জীবন নিরেট বাস্তব। সেখানে সিনেমার গল্পের মতো রঙিন কিছুই ঘটে না। বরং বলা যায়, বাস্তব জীবনের গল্প সিনেমার গল্পকেও কখনও কখনও পিছনে ফেলে দেয়।
আমাদের এই গল্পের প্রধান চরিত্র রাজ। রাজ এমন এক চরিত্র, যাকে কখনও গুরুত্ব দিতে হয় না। এতটা সাদামাটা জীবনযাপন করে ছেলেটা, তাকে হয়তো মনে রাখারও কোনো কারণ নেই। মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে রাজের সংসার। সেই সংসারের বাইরে এক বন্ধু আছে, হৃদয়। যারা না থাকলে অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে অণুজীব খুঁজে পাওয়া গেলেও রাজকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
রাজের ২৫তম জন্মদিনের কিছুদিন আগে বোটানিক্যাল গার্ডেনে ঘুরতে গিয়ে এক সাধুবাবার সাথে দেখা হয় তার। সাধুবাবা জানায়, বয়স ২৫ পেরিয়ে গেলেই জীবনে নতুন মোড় আসবে। অনেককিছুই বদলে যাবে রাজের। নতুন করে জীবনের গল্প লেখা হবে। সেই থেকে নতুন স্বপ্ন বিভোর রাজ। বদলে যাওয়া দিনের অপেক্ষায় মশগুল।
কিন্তু এভাবে কি মানুষের ভাগ্য বদলে যায়? বদলে গেলেও কীভাবে এ দিন বদলের লেখা হবে? রাজের কৌতূহল মেটানোর চেষ্টাতে গল্পে এন্ট্রি নেয় নায়িকা। নায়কের সাথে ধাক্কা, প্রেমের বাজনা বাজে। না, বাংলা সিনেমার মতো স্লো মোশনে রোমান্টিক দৃশ্য এখানে ছিল না। ছিল না কোনো গান। বরং চার তলা থেকে গড়িয়ে দুই তলায় ভূপতিত হয় রাজ। তবে তার আগেই কান্ড ঘটে গেছে। মনে প্রেমের বাজনা বেজে উঠেছে।
তবে এত সহজে কি নায়িকাকে পাওয়া যায়? আবির্ভাব হয় দুই তলা থেকে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করা এক প্রেমিক পুরুষ। কোটি টাকা ছুঁড়ে দিয়ে প্রেম কিনে নিতে চাওয়া বড়লোক বাবা। বড়লোক বাবার মেয়েকে বিয়ে দিতে চাওয়া বন্ধুর বখাটে ছেলে। ভিলেনের সাথে একটু লড়াই না হলে যে জমে না। তবে এ লড়াই বাংলা সিনেমার মতো ঢিসুম ঢিসুম না। লুকোচুরি খেলতে গিয়ে আঘাতে নায়িকার আবার স্মৃতিভ্রষ্ট হয়।
নায়কের নাম যেহেতু রাজ, সেহেতু তার নায়িকার অভাব হয় না। কখনও মিষ্টি, কখনও, কল্পনা, কখনও শোভা। রাজ জানতে পারে সে তার মায়ের কুড়িয়ে পাওয়া সন্তান। বাবা নামে ফকির, কিন্তু কর্মে বিশাল বড়লোক। যে তাকে জীবনটা বুঝে নেওয়ার আগেই এক জায়গায় বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। ঘটনাক্রমে এক বিশাল মাফিয়ার চক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। যেখানে মাফিয়া কিং তার বোনের সাথে রাজের বিয়ে দিতে চায়।
রাজ চেয়েছিল তার জীবনটা সিনেমার মতো হোক। যেখানে অনেক সংগ্রামের পর একটা হ্যাপি এন্ডিং, এরপর সুখে শান্তিতে বসবাস। কিন্তু বাস্তবে কি আর তা হয়? ফলে সিনেমার চেয়েও কঠিন এক প্যাঁচানো জীবনে আবদ্ধ হয়ে একটু ভালো থাকার পথ খুঁজছে। কিন্তু যেখানেই যায়, সেখানেই ঝামেলা। আর এই ঝামেলা থেকে পরিত্রাণের উপায় নেই…
▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :
নব্বই দশকের প্রজন্মের কাছে একটা আবেগের সময় ছিল শুক্রবার। তখন বিটিভিতে বাংলা সিনেমা দিত। পরিবারের সবাই মিলে সেই সিনেমা উপভোগ করত। শাবানা, ববিতা, আলমগীর, জসিম, আনোয়ার হোসেন, মান্না, ডিপজল…. তাদের সিনেমা আজকালকার যুগে খুব ক্রিঞ্জ মনে হলেও তখনকার সময় বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল।
লেখক জামসেদুর রহমান সজীব তার “পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি” বইতে সেই সব সিনেমার গল্পকে জীবন্ত করার চেষ্টা করেছেন, যা এক সময় দাদী-নানীদের আনন্দের উপলক্ষ্য ছিল। শুধু যে সেই সময়ের সিনেমা তা নয়, বর্তমান সময়ে ভাইরাল হয়ে ওঠে সংলাপ, ঘটনাকেও এক দারুণ দক্ষতায় লেখক সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন। যা পড়ে পাঠক মজা পাবে।
তবে খুব বেশি খুঁতখুঁতে হলে এই জাতীয় বই ভালো লাগার কথা না। কেননা এখানে যুক্তির বলাই নেই। পুরোনো দিনের বাংলা সিনেমা কবেই বা বাস্তবসম্মত যুক্তির ধার ধেরেছিল! তাই লেখক বইয়ের উপাদান ঠিক একইভাবে রেখেছেন। হাস্যরসাত্মক বই, সেভাবেই পড়ে মজা পাওয়া যায়। বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা খুঁজতে গেলে হতাশ হতে হবে।
এখানে প্রতিটি ঘটনা কোনো না কোনো বাংলা সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত, যা নস্টালজিক করে দেয়। নায়িকার সাথে নায়কের পরিচয়, নায়িকার বাবার বড়লোকি মনোভাব, নায়কের বাবার হত্যা, নায়কের মায়ের বিলাপ, নায়কের সাথে ভিলেনের মুখোমুখি অবস্থান সবকিছুই পরিচিত ঘটনা। যা আমরা রূপালী পর্দায় অহরহ দেখেছি।
তবে লেখকের দক্ষতা একাধিক ঘটনাকে এভাবে জুড়ে দিয়ে একটা পরিপূর্ণ রূপ দিতে পেরেছেন। অনেককিছুই লেখকের লেখাতে উঠে এসেছে। মেলায় হারিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাকেও বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে লেখক উপস্থাপন করতে পেরেছেন। তারপর অতীতের পরিচয়, সেখান থেকে যখন জানতে পারল বুঝে ওঠার আগেই বিবাহ বন্ধন আবদ্ধ হয়েছে এই বিষয়টা মজা লেগেছে। আবার মদ দিয়ে ভাত খাওয়া কিংবা মাফিয়ার বোনকে উত্যক্ত করার কারণে শাস্তির যে বয়ান, তাও বাংলা সিনেমার এক প্রতিচ্ছবি হিসেবে ধরা দিয়েছে।
আমার মায়া লেগেছে রাজের উপর। বেচারা নিজের ভাগ্য বদলের আশা করতে করতে এমনভাবে বদলে গেল, এই বদল হয়তো সে চায়নি। যেখানে গেছে, যেভাবে গেছে সেখানেই কোনো না কোনো ঝামেলা তার কাঁধে চেপে বসেছে।
নায়কের একজন সহযোগী থাকে, সেই কাজটি করেছে হৃদয়। তবে শুরুতে হৃদয়কে নেশাখোর, নানা অপকর্মে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত করিয়ে দিলেও বইটিতে তেমন কিছুই ছিল না। হৃদয় চরিত্রকে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, আরেকটু ভালোভাবে জায়গা দেওয়া যেত। বন্ধুমহলে এমন কিছু বন্ধু থাকে, যার পরামর্শ অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে হলেও দিন শেষে এমন পরামর্শের কারণেই বিপদে পড়তে হয়। আর রাজের বন্ধু তো একজনই। যার পরামর্শ শুনে কাজ করলে কোনো কিছুই স্বাভাবিকভাবে শেষ হয় না।
হাস্যরসাত্মক বই হিসেবে বেশ ভালো লেগেছে। কিছু অংশ উপভোগ করেছি। কিছু ঘটনা আরোপিত, অতিরঞ্জিত লেগেছে। আমি আশা করব লেখক পরেরবার একটু সময় নিয়ে গল্প আর কাহিনি বিল্ডআপ করবে। এমনিতে লেখকের লেখা পড়তে ভালো লাগে। বেশ সাবলীল। গতি পরিমিত। শব্দচয়ন ঠিকঠাক লেগেছে। তবে ১১২ পৃষ্ঠার বইটি কিছু অংশে ব্যাখ্যার দাবি রাখে। অনায়াসে ১৫০ পৃষ্ঠার আশেপাশে নিয়ে কিছু ঘটনা বাড়ানো যেত। কয়েক জায়গায় তাড়াহুড়ো লেগেছে। বিশেষ করে শেষের দিকে।
কল্পনার ভূমিকা শেষ পর্যন্ত কী হলো, এই বিষয়টা একটা ধোঁয়াশা থেকে গেল। লেখক অবশ্য বলেছেন, কিন্তু তারপরও কল্পনাকে আরেকটু জায়গা দেওয়া যেত। শেষের দিকে অবশ্য লেখক গুরুগম্ভীর পরিসমাপ্তি এনেছেন। বাস্তব জীবন যে বাংলা সিনেমার মতন নয়, সেই বিষয়টা শেষে বেশ ভালোমতোই ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। ভালো লেগেছে। যদিও সেটা আরো বেটার হতে পারত বলেই আমার মত। চরিত্রগুলো নিয়ে আরেকটু কাজ করার সুযোগ ছিল।
তবে ওভারঅল হাস্যরসাত্মক বই হিসেবে এক বসায় পড়ে ফেলা যায়। ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা হবে।
বইয়ের প্রচ্ছদ দারুণ। এই প্রচ্ছদে মূল চরিত্রের প্রায় সবাইকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বানান ও সম্পাদনাও বেশ ত্রুটিমুক্ত ছিল। আমার চোখে তেমন ভুল ধরা পড়েনি। এইটা ভালো লেগেছে।
▪️পরিশেষে, আমাদের জীবন একটা নাট্যমঞ্চ। যেখানে আমাদের প্রতিনিয়ত অভিনয় করেই চলতে হয়। এই অভিনয় হয় বাস্তব, এখানে কোনো খাদ নেই। অতিরঞ্জিত বিষয় নেই। টিভি পর্দায় দেখা সিনেমাগুলো আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করতে চাইলেও আমাদের জীবন সেই প্রভাব কাটিয়ে এমন এক গল্পের উপাখ্যান এনে দেয়, যেখানে সিনেমার বাঘা বাঘা সব চিত্রনাট্যকার তব্দা খেয়ে বসে থাকবে। জীবন এমনই। এখানে সিনেমার গল্পও বিশাল ব্যবধানে হেরে যায়।
▪️বই : পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি
▪️লেখক : জামসেদুর রহমান সজীব
▪️প্রকাশনী : গ্রন্থ রাজ্য
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৮/৫
কিন্তু জীবন তো সিনেমা নয়। জীবন নিরেট বাস্তব। সেখানে সিনেমার গল্পের মতো রঙিন কিছুই ঘটে না। বরং বলা যায়, বাস্তব জীবনের গল্প সিনেমার গল্পকেও কখনও কখনও পিছনে ফেলে দেয়।
আমাদের এই গল্পের প্রধান চরিত্র রাজ। রাজ এমন এক চরিত্র, যাকে কখনও গুরুত্ব দিতে হয় না। এতটা সাদামাটা জীবনযাপন করে ছেলেটা, তাকে হয়তো মনে রাখারও কোনো কারণ নেই। মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে রাজের সংসার। সেই সংসারের বাইরে এক বন্ধু আছে, হৃদয়। যারা না থাকলে অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে অণুজীব খুঁজে পাওয়া গেলেও রাজকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
রাজের ২৫তম জন্মদিনের কিছুদিন আগে বোটানিক্যাল গার্ডেনে ঘুরতে গিয়ে এক সাধুবাবার সাথে দেখা হয় তার। সাধুবাবা জানায়, বয়স ২৫ পেরিয়ে গেলেই জীবনে নতুন মোড় আসবে। অনেককিছুই বদলে যাবে রাজের। নতুন করে জীবনের গল্প লেখা হবে। সেই থেকে নতুন স্বপ্ন বিভোর রাজ। বদলে যাওয়া দিনের অপেক্ষায় মশগুল।
কিন্তু এভাবে কি মানুষের ভাগ্য বদলে যায়? বদলে গেলেও কীভাবে এ দিন বদলের লেখা হবে? রাজের কৌতূহল মেটানোর চেষ্টাতে গল্পে এন্ট্রি নেয় নায়িকা। নায়কের সাথে ধাক্কা, প্রেমের বাজনা বাজে। না, বাংলা সিনেমার মতো স্লো মোশনে রোমান্টিক দৃশ্য এখানে ছিল না। ছিল না কোনো গান। বরং চার তলা থেকে গড়িয়ে দুই তলায় ভূপতিত হয় রাজ। তবে তার আগেই কান্ড ঘটে গেছে। মনে প্রেমের বাজনা বেজে উঠেছে।
তবে এত সহজে কি নায়িকাকে পাওয়া যায়? আবির্ভাব হয় দুই তলা থেকে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করা এক প্রেমিক পুরুষ। কোটি টাকা ছুঁড়ে দিয়ে প্রেম কিনে নিতে চাওয়া বড়লোক বাবা। বড়লোক বাবার মেয়েকে বিয়ে দিতে চাওয়া বন্ধুর বখাটে ছেলে। ভিলেনের সাথে একটু লড়াই না হলে যে জমে না। তবে এ লড়াই বাংলা সিনেমার মতো ঢিসুম ঢিসুম না। লুকোচুরি খেলতে গিয়ে আঘাতে নায়িকার আবার স্মৃতিভ্রষ্ট হয়।
নায়কের নাম যেহেতু রাজ, সেহেতু তার নায়িকার অভাব হয় না। কখনও মিষ্টি, কখনও, কল্পনা, কখনও শোভা। রাজ জানতে পারে সে তার মায়ের কুড়িয়ে পাওয়া সন্তান। বাবা নামে ফকির, কিন্তু কর্মে বিশাল বড়লোক। যে তাকে জীবনটা বুঝে নেওয়ার আগেই এক জায়গায় বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। ঘটনাক্রমে এক বিশাল মাফিয়ার চক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। যেখানে মাফিয়া কিং তার বোনের সাথে রাজের বিয়ে দিতে চায়।
রাজ চেয়েছিল তার জীবনটা সিনেমার মতো হোক। যেখানে অনেক সংগ্রামের পর একটা হ্যাপি এন্ডিং, এরপর সুখে শান্তিতে বসবাস। কিন্তু বাস্তবে কি আর তা হয়? ফলে সিনেমার চেয়েও কঠিন এক প্যাঁচানো জীবনে আবদ্ধ হয়ে একটু ভালো থাকার পথ খুঁজছে। কিন্তু যেখানেই যায়, সেখানেই ঝামেলা। আর এই ঝামেলা থেকে পরিত্রাণের উপায় নেই…
▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :
নব্বই দশকের প্রজন্মের কাছে একটা আবেগের সময় ছিল শুক্রবার। তখন বিটিভিতে বাংলা সিনেমা দিত। পরিবারের সবাই মিলে সেই সিনেমা উপভোগ করত। শাবানা, ববিতা, আলমগীর, জসিম, আনোয়ার হোসেন, মান্না, ডিপজল…. তাদের সিনেমা আজকালকার যুগে খুব ক্রিঞ্জ মনে হলেও তখনকার সময় বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল।
লেখক জামসেদুর রহমান সজীব তার “পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি” বইতে সেই সব সিনেমার গল্পকে জীবন্ত করার চেষ্টা করেছেন, যা এক সময় দাদী-নানীদের আনন্দের উপলক্ষ্য ছিল। শুধু যে সেই সময়ের সিনেমা তা নয়, বর্তমান সময়ে ভাইরাল হয়ে ওঠে সংলাপ, ঘটনাকেও এক দারুণ দক্ষতায় লেখক সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন। যা পড়ে পাঠক মজা পাবে।
তবে খুব বেশি খুঁতখুঁতে হলে এই জাতীয় বই ভালো লাগার কথা না। কেননা এখানে যুক্তির বলাই নেই। পুরোনো দিনের বাংলা সিনেমা কবেই বা বাস্তবসম্মত যুক্তির ধার ধেরেছিল! তাই লেখক বইয়ের উপাদান ঠিক একইভাবে রেখেছেন। হাস্যরসাত্মক বই, সেভাবেই পড়ে মজা পাওয়া যায়। বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা খুঁজতে গেলে হতাশ হতে হবে।
এখানে প্রতিটি ঘটনা কোনো না কোনো বাংলা সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত, যা নস্টালজিক করে দেয়। নায়িকার সাথে নায়কের পরিচয়, নায়িকার বাবার বড়লোকি মনোভাব, নায়কের বাবার হত্যা, নায়কের মায়ের বিলাপ, নায়কের সাথে ভিলেনের মুখোমুখি অবস্থান সবকিছুই পরিচিত ঘটনা। যা আমরা রূপালী পর্দায় অহরহ দেখেছি।
তবে লেখকের দক্ষতা একাধিক ঘটনাকে এভাবে জুড়ে দিয়ে একটা পরিপূর্ণ রূপ দিতে পেরেছেন। অনেককিছুই লেখকের লেখাতে উঠে এসেছে। মেলায় হারিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাকেও বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে লেখক উপস্থাপন করতে পেরেছেন। তারপর অতীতের পরিচয়, সেখান থেকে যখন জানতে পারল বুঝে ওঠার আগেই বিবাহ বন্ধন আবদ্ধ হয়েছে এই বিষয়টা মজা লেগেছে। আবার মদ দিয়ে ভাত খাওয়া কিংবা মাফিয়ার বোনকে উত্যক্ত করার কারণে শাস্তির যে বয়ান, তাও বাংলা সিনেমার এক প্রতিচ্ছবি হিসেবে ধরা দিয়েছে।
আমার মায়া লেগেছে রাজের উপর। বেচারা নিজের ভাগ্য বদলের আশা করতে করতে এমনভাবে বদলে গেল, এই বদল হয়তো সে চায়নি। যেখানে গেছে, যেভাবে গেছে সেখানেই কোনো না কোনো ঝামেলা তার কাঁধে চেপে বসেছে।
নায়কের একজন সহযোগী থাকে, সেই কাজটি করেছে হৃদয়। তবে শুরুতে হৃদয়কে নেশাখোর, নানা অপকর্মে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত করিয়ে দিলেও বইটিতে তেমন কিছুই ছিল না। হৃদয় চরিত্রকে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, আরেকটু ভালোভাবে জায়গা দেওয়া যেত। বন্ধুমহলে এমন কিছু বন্ধু থাকে, যার পরামর্শ অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে হলেও দিন শেষে এমন পরামর্শের কারণেই বিপদে পড়তে হয়। আর রাজের বন্ধু তো একজনই। যার পরামর্শ শুনে কাজ করলে কোনো কিছুই স্বাভাবিকভাবে শেষ হয় না।
হাস্যরসাত্মক বই হিসেবে বেশ ভালো লেগেছে। কিছু অংশ উপভোগ করেছি। কিছু ঘটনা আরোপিত, অতিরঞ্জিত লেগেছে। আমি আশা করব লেখক পরেরবার একটু সময় নিয়ে গল্প আর কাহিনি বিল্ডআপ করবে। এমনিতে লেখকের লেখা পড়তে ভালো লাগে। বেশ সাবলীল। গতি পরিমিত। শব্দচয়ন ঠিকঠাক লেগেছে। তবে ১১২ পৃষ্ঠার বইটি কিছু অংশে ব্যাখ্যার দাবি রাখে। অনায়াসে ১৫০ পৃষ্ঠার আশেপাশে নিয়ে কিছু ঘটনা বাড়ানো যেত। কয়েক জায়গায় তাড়াহুড়ো লেগেছে। বিশেষ করে শেষের দিকে।
কল্পনার ভূমিকা শেষ পর্যন্ত কী হলো, এই বিষয়টা একটা ধোঁয়াশা থেকে গেল। লেখক অবশ্য বলেছেন, কিন্তু তারপরও কল্পনাকে আরেকটু জায়গা দেওয়া যেত। শেষের দিকে অবশ্য লেখক গুরুগম্ভীর পরিসমাপ্তি এনেছেন। বাস্তব জীবন যে বাংলা সিনেমার মতন নয়, সেই বিষয়টা শেষে বেশ ভালোমতোই ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। ভালো লেগেছে। যদিও সেটা আরো বেটার হতে পারত বলেই আমার মত। চরিত্রগুলো নিয়ে আরেকটু কাজ করার সুযোগ ছিল।
তবে ওভারঅল হাস্যরসাত্মক বই হিসেবে এক বসায় পড়ে ফেলা যায়। ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা হবে।
বইয়ের প্রচ্ছদ দারুণ। এই প্রচ্ছদে মূল চরিত্রের প্রায় সবাইকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বানান ও সম্পাদনাও বেশ ত্রুটিমুক্ত ছিল। আমার চোখে তেমন ভুল ধরা পড়েনি। এইটা ভালো লেগেছে।
▪️পরিশেষে, আমাদের জীবন একটা নাট্যমঞ্চ। যেখানে আমাদের প্রতিনিয়ত অভিনয় করেই চলতে হয়। এই অভিনয় হয় বাস্তব, এখানে কোনো খাদ নেই। অতিরঞ্জিত বিষয় নেই। টিভি পর্দায় দেখা সিনেমাগুলো আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করতে চাইলেও আমাদের জীবন সেই প্রভাব কাটিয়ে এমন এক গল্পের উপাখ্যান এনে দেয়, যেখানে সিনেমার বাঘা বাঘা সব চিত্রনাট্যকার তব্দা খেয়ে বসে থাকবে। জীবন এমনই। এখানে সিনেমার গল্পও বিশাল ব্যবধানে হেরে যায়।
▪️বই : পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি
▪️লেখক : জামসেদুর রহমান সজীব
▪️প্রকাশনী : গ্রন্থ রাজ্য
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৮/৫
May 27, 2025
সিনেমা। বিটিভি থেকে শুরু করে নেটফ্লিক্স পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছি এখন সিনেমা দেখার ক্ষেত্রে। সেই শুক্রবারের দুপুরবেলা শাকিব,আলমগীর,বাপ্পারাজ,জসিম,মান্নার সিনেমা , সিডি প্লেয়ারে দেব আর জিৎ এর সিনেমা পরে হিন্দি,তামিল, তেলেগু,মালায়লাম, হলিউড সহ আরো কত ইন্ডাস্ট্রির সিনেমা যে দেখা হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। আমার জেনারেশন একেবারে মান্না থেকে শুরু করে মারফি পর্যন্ত দেখছে সিনেমা বা ছায়াছবির ক্ষেত্রে।
অন্য সব ছায়াছবিতে অনেক জটিল বিষয় থাকলেও আমাদের বাংলা ছায়াছবিতে তা নেই। একদম সহজ সরল একটা কাহিনী উঠে আসে যেখানে চরিত্রের আবেগ গুলা প্রধান থাকে। একের পর এক পাঞ্চ লাইন দিয়ে ধরাশায়ী করা অপরপক্ষ কে,চৌধুরী সাহেবের বাড়িতে গিয়ে প্রেমের শক্তি প্রকাশ করা কিংবা ঠেলাগাড়ি চালিয়ে বড়লোক হয়ে যাওয়া সবকিছু মিশেই আমাদের বাংলা ছায়াছবি। সেই বাংলা ছায়াছবিকে আঁকড়ে ধরে জামসেদুর রহমান সজীব লিখেছেন ভিন্নরকম এক রম্য উপন্যাস 'পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি' যার কপিরাইট শাকিব খানের কাছে আছে এখন।
বইটির গল্প আমাদের চেনাজানা। শাহরুখ খানের রাজ থুক্কু সজীব ভাইয়ের রাজ নামের প্রধান চরিত্র গল্পের শুরুতে একেবারে সাদামাটা এক জীবন কাটিয়ে গেলেও একদিন গায়ক হৃদয় খান উহু, বন্ধু হৃদয়কে নিয়ে এক সাধু বাবার কাছে ভবিষৎবাণী জেনে যায়। তার জীবন নাকি বাংলা ছায়াছবির মত বদলে যাবে। যেই বলেছে ওমনি শুরু হয়ে যায় তার জীবনের কাটা পরিবর্তন হওয়া। যে ছেলে কোনো প্রেমিকাই পাচ্ছিলো না সেই বান্দা একের পর এক নারীর আগমনে কোণঠাসা হয়ে উঠতে থাকে। ঘটনা যত আগাচ্ছিল ততই তার জীবনে বারোটা, তেরোটা বাজতে শুরু করছিল সাথে বন্ধুর টিপ্পনী সেটা চৌদ্দটাও বাজিয়ে দেয়।
বইটা আমি ২৫ মে তে ধরেছিলাম। সেদিনের মত বিরক্তিকর দিন আর এই বছরে আসে নি। অর্ধেকের মত বইটা পড়ে বুঝলাম হাসির অনেক খোরাক আছে কিন্তু আমার হাসি পাচ্ছে না সেদিনের ঝামেলার জন্য। সেদিনের মত রেখে দেই বইটা। পরদিন যখন আবার বইটা নিয়ে বসি তখন অনেক হেসেছি। বলা যায় মন ভালো হয়ে গিয়েছে। গল্পে অনেক চরিত্র এসেছে এবং প্রতিটি চরিত্র অনেক হাসিয়েছে। রাজের মা, রাজের বয়স ১ বছরের সময় বিয়ে করা স্ত্রী,চৌধুরী সাহেবের মেয়ে মিষ্টি এদের চরিত্র দারুণ উপভোগ করেছি। আমাদের বাংলা ছায়াছবির অনেক সংলাপ লেখক গল্পের খাতিরে এনেছেন। বইটা আমার খান ফ্যামিলি ২ থেকেও ভালো লেগেছে। চাইলে বইটা আরো বাড়ানো যেত, আরো উপভোগ্য হতো তখন।
বইটার সমাপ্তিটা বেশ ভালো লেগেছে। আমি ভেবেছিলাম টিপিকাল এক সমাপ্তি হতে পারে কিন্তু শেষ পাতার প্যারাগুলো বেশ মায়ায় ফেলে দেয়।
যারা বাংলা ছায়াছবির স্বাদ পেতে চান রম্যের আঙ্গিকে তাদের জন্য বইটা রেকোমেন্ডেড।
অন্য সব ছায়াছবিতে অনেক জটিল বিষয় থাকলেও আমাদের বাংলা ছায়াছবিতে তা নেই। একদম সহজ সরল একটা কাহিনী উঠে আসে যেখানে চরিত্রের আবেগ গুলা প্রধান থাকে। একের পর এক পাঞ্চ লাইন দিয়ে ধরাশায়ী করা অপরপক্ষ কে,চৌধুরী সাহেবের বাড়িতে গিয়ে প্রেমের শক্তি প্রকাশ করা কিংবা ঠেলাগাড়ি চালিয়ে বড়লোক হয়ে যাওয়া সবকিছু মিশেই আমাদের বাংলা ছায়াছবি। সেই বাংলা ছায়াছবিকে আঁকড়ে ধরে জামসেদুর রহমান সজীব লিখেছেন ভিন্নরকম এক রম্য উপন্যাস 'পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি' যার কপিরাইট শাকিব খানের কাছে আছে এখন।
বইটির গল্প আমাদের চেনাজানা। শাহরুখ খানের রাজ থুক্কু সজীব ভাইয়ের রাজ নামের প্রধান চরিত্র গল্পের শুরুতে একেবারে সাদামাটা এক জীবন কাটিয়ে গেলেও একদিন গায়ক হৃদয় খান উহু, বন্ধু হৃদয়কে নিয়ে এক সাধু বাবার কাছে ভবিষৎবাণী জেনে যায়। তার জীবন নাকি বাংলা ছায়াছবির মত বদলে যাবে। যেই বলেছে ওমনি শুরু হয়ে যায় তার জীবনের কাটা পরিবর্তন হওয়া। যে ছেলে কোনো প্রেমিকাই পাচ্ছিলো না সেই বান্দা একের পর এক নারীর আগমনে কোণঠাসা হয়ে উঠতে থাকে। ঘটনা যত আগাচ্ছিল ততই তার জীবনে বারোটা, তেরোটা বাজতে শুরু করছিল সাথে বন্ধুর টিপ্পনী সেটা চৌদ্দটাও বাজিয়ে দেয়।
বইটা আমি ২৫ মে তে ধরেছিলাম। সেদিনের মত বিরক্তিকর দিন আর এই বছরে আসে নি। অর্ধেকের মত বইটা পড়ে বুঝলাম হাসির অনেক খোরাক আছে কিন্তু আমার হাসি পাচ্ছে না সেদিনের ঝামেলার জন্য। সেদিনের মত রেখে দেই বইটা। পরদিন যখন আবার বইটা নিয়ে বসি তখন অনেক হেসেছি। বলা যায় মন ভালো হয়ে গিয়েছে। গল্পে অনেক চরিত্র এসেছে এবং প্রতিটি চরিত্র অনেক হাসিয়েছে। রাজের মা, রাজের বয়স ১ বছরের সময় বিয়ে করা স্ত্রী,চৌধুরী সাহেবের মেয়ে মিষ্টি এদের চরিত্র দারুণ উপভোগ করেছি। আমাদের বাংলা ছায়াছবির অনেক সংলাপ লেখক গল্পের খাতিরে এনেছেন। বইটা আমার খান ফ্যামিলি ২ থেকেও ভালো লেগেছে। চাইলে বইটা আরো বাড়ানো যেত, আরো উপভোগ্য হতো তখন।
বইটার সমাপ্তিটা বেশ ভালো লেগেছে। আমি ভেবেছিলাম টিপিকাল এক সমাপ্তি হতে পারে কিন্তু শেষ পাতার প্যারাগুলো বেশ মায়ায় ফেলে দেয়।
যারা বাংলা ছায়াছবির স্বাদ পেতে চান রম্যের আঙ্গিকে তাদের জন্য বইটা রেকোমেন্ডেড।
February 19, 2025
"আসেন আসেন দেইখা যান
আজব এক বায়োস্কোপ"
আইজকা আইছি বায়োস্কোপ লইয়া। আগেরবার আমার মাইকের ব্যবসা আপনেরা বন্ধ কইরা দিসেন। এইবার কিন্তু যেনতেন জিনিস না, এই গোলাকার বাক্সে আছে দারুন একখান সিনেমা।
"আসেন আসেন দেইখা যান
আজব এক বায়োস্কোপ"
পুলাপাইন আহো আহো ওই গোল ছিদ্র দিয়া ভিতরে তাকাও। এই সিনেমা "পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি" যেখানে তোমরা পাইবা জসীম, মান্না, আলমগীর, শাবানা আরো কত কাহিনী। এই সিনেমার প্রধান হিরো রাজের কথা শুরু করি বলা। রাজ চব্বিশ বছরের এক হতভাগা তরুণ। যার সম্পর্কে সংক্ষেপে বলতে গেলে- জীবাণু যেমন খালি চোখে দেখা যায় না, তেমনি তার জীবন এতটাই সাদামাটা যে দশজন মানুষের ভিড়েও তাকে আলাদাভাবে শনাক্ত করা কঠিন। তাহার কপাল এতই খারাপ যে নিজের বাড়িওয়ালা পর্যন্ত তাঁকে চেনে না। শেষে মায়ের নাম সকিনা বলে তাঁকে নিজের পরিচয় চেনাতে হয়। না আছে কোনো গুণ, না আছে কোনো অলৌকিক ক্ষমতা মানে ওই আর কী! বাংলা সিনেমায় বাপ্পারাজ আর আমাদের হিরু আহমেদ রাজ। পার্থক্য সেরাম কিছু নেই।
নাহ রাজের তবুও কিছু একটা আছে। আছে এক বদ চরিত্রের বন্ধু হৃদয়। এহেন অপকর্ম নেই যা এই ছেলে করে নাই। কিন্তু কপাল পোড়া রাজ এটাকেই বন্ধু হিসেবে পেয়েছে। দুই বন্ধু মিলে এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াতে যায়। কাজ তো দুজনে তেমন কিছু পারে না। ওহ্ হৃদয় আবার মুশকিল আসান। রাজের সব বিপদে রাজ ছুটে যায় হৃদয়ের কাছে বুদ্ধি নিতে। আর এই হৃদয় যা বুদ্ধি বের করে তা করার থেকে বিপদে পড়া বোধহয় বেশি সহজ।
ভাগ্য কিংবা দুর্ভাগ্যক্রমে পথ চলতে গিয়ে দুই বন্ধুর সঙ্গে এক সাধুবাবার সাক্ষাৎ ঘটে। গায়ে জামাকাপড়ের বালাই নেই, ধবধবে সাদা গোঁফ দাড়ি তার। প্রথমে বাবা বলে ডাকলেও শেষে লোকটার বিরক্তি দেখে গুরুজি বলে ডাকা শুরু করে দুই বন্ধু। রাজের মনে আশা জাগে এসব সাধু টাইপের লোক অনেক কিছু পারে। এবং হলোও ঠিক তাই। এই সাধুবাবা মানে গুরুজি লোকটি জানান, জীবনের রজতজয়ন্তীতে রাজের সবকিছু বদলে যাবে চোখের পলকে। জীবনে এতটাই পরিবর্তন আসবে, যা বাংলা ছায়াছবির গল্প-কাহিনিকেও হার মানিয়ে দেবে। এটা শুনে খুশিতে রাজের চোখে জল এসে যায়। এইবার জীবন হবে অন্যরকম। সে হয়ে যাবে হিরো। সবাই এখন ওকে নজর দেবে।
খুশিমনে দুই বন্ধু গেল বাসায়। অবশ্য সাধুবাবাকে দক্ষিণা হিসেবে একটা সিনেমার টিকিটের টাকা দিতে হলো। রাজ দুরুদুরু বুকে অপেক্ষা করতে লাগলো আসলেই কী তার জীবন বদলে যাবে? হৃদয় হিসাব করছে রাজের ২৫ তম জন্মদিন কবে। যাই হোক রাজ তো খাবার খেয়ে রাতে ঘুমাতে গেল। সকালে উঠে দেখলো কোথায় কী! সবকিছু তো আগের মতই আছে! রাজ ভেবে পায় না আসলেই কী হবে।
"ভাবতে ভাবতে শুরু হইলো
নতুন আজব খেলা,
রাজের সামনে আইলো এক
সুন্দরী একলা"
ইউনিভার্সিটিতে রাজের সাথে ঘটে গেল আজব ঘটনা। হঠাৎ করেই সে সিনেমার কায়দায় ধাক্কা খেল এক সুন্দরী মেয়ের সাথে। ধাক্কা খেয়ে রাজ ছিটকে পড়লো কয়েক হাত দূরে। সুন্দরী মেয়েটার বইগুলো এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে পড়লো। ব্যাস বই গোছাতে গিয়ে দুজনের আলাপ। পরিচয়ের সূত্রে জানা গেল মেয়েটির নাম মিষ্টি। কিন্তু মেয়েটির রূপ দেখে রাজের তো তাকে রসগোল্লা, সন্দেশ, পান্তুয়া সব ধরনের মিষ্টি মনে হলো।
পুলাপাইন ধাক্কাধাক্কি না কইরা বায়োস্কোপ দেখো তোমরা। তারপর কী হইলো শুনবা না?
এরপর মিষ্টির রূপের আগুনে জ্ব*লে পু*ড়ে ছা*রখার পুরো ক্যাম্পাস। তেমনি এক ছাগল উঠেছে বিল্ডিং এর দুই তলায়। মিষ্টি তাকে আই লাভ ইউ না বললে সে ঝাঁপ দিবে নিচে। এটা দেখে রাজের মাথা খারাপ হয়ে গেল। এরা কারা ভাই! রাজ নিজেই চান্স পাচ্ছে না মিষ্টির কাছাকাছিই যাবার এখন আবার আছে প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু ওই যে বললাম না মুশকিল আসান আছে। আরে ওই হৃদয়। সে রাজকে বুদ্ধি দিলো মিষ্টিকে পটাতে হলে রাজের উচিত চার তলায় উঠে হুমকি দেয়া। প্রথমে গাইগুই করলেও রাজ পরে চার তলায় ওঠে। আর এদিকে এই দুই ছাগলের কান্ড দেখে ভার্সিটির ভিসি রেগেমেগে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এরা যদি ঝাঁপ না দেয় তিনি নিজে এদের ধাক্কা মে*রে ফেলে দিবেন।
"পিরিতি বিষম বেদনা"
এটা জ্ঞানীরা নয় বোধহয় প্রেমিকেরা বলে। কারণ মিষ্টির সাথে এই ঝাঁপ দেয়া কান্ডের পর থেকে প্রেম জমে উঠলেও দেখা দিয়েছে আরেকটা সমস্যা। মিষ্টির বাবা সেই বাংলা সিনেমার বিখ্যাত চৌধুরী সাহেবের মতো নাম তমীজ চৌধুরী ওদের সম্পর্কটা মেনে নিতে চাচ্ছেন না। কারণ মিষ্টির দৈনিক হাতখরচ নাকি ৫০০০০ টাকা। তিনি রাজকে অবশ্য সুযোগ দিয়েছিলেন টাকা রোজগার করে নিজেকে প্রমাণ করার কিন্তু সিনেমার নায়ক জসিমের মতো রাজ ঠেলাগাড়ি ঠেলে বড়লোক হতে পারলো না। দুই দিন কাজ করে সাতদিন গায়ে ব্যথায় কাতরাচ্ছে। অতি কষ্টে সে ৫০০০০ টাকা রোজগার করেছিল ঠিকই কয়েক দিন ধরে জমিয়ে জমিয়ে। কিন্তু মিষ্টির হাতখরচের কথা শুনে বেচারা আবার মিইয়ে গেল। চৌধুরীকে কীভাবে খুশি করবে রাজ?
ঝামেলা আরো লেগেছে। রাজের মা সকিনা আহমেদ তমীজ চৌধুরীর নাম শুনেই রাজকে ঠাস করে চড় মে*রে বললেন এই তমীজ চৌধুরী রাজের বাবাকে মে*রে ফেলেছে। পিতার হ*ত্যাকারীর মেয়েকে রাজ ভালোবাসতে পারে না। আর বাংলা সিনেমার মতো রাজের মাথাতেও প্রতিশোধের আগুন জ্বলে ওঠে। চৌধুরীকে শায়েস্তা করতে হবে। কিন্তু কীভাবে? ওই যে মুশকিল আসান হৃদয় আছে না! বুদ্ধি আবারও সে দিচ্ছে।
আরে আরে পুলাপাইন থামো সবে তো শুরু। মা সকিনা আহমেদ রাজকে আরেকটা কঠিন সত্য বলেন রাজ তাদের নিজেদের ছেলে নয়। রাজবাড়ীর বানিজ্যমেলা থেকে তাকে কুড়িয়ে পাওয়া গেছে। আআআআআআ! আআআআআআ! ওওওওওওওওও! এমন ঘটনায় বাংলা সিনেমার এমন করুন সুর বাজে কিন্তু রাজের জীবনে যা ঘটছে বেচারা বোধহয় অবাক হবার ক্ষমতাও হারিয়েছে। শুধু হা করে তাকিয়ে রইল। সকিনা আহমেদ তাড়া দিলেন রাজকে তার আসল বাবা মায়ের খোঁজ করতে।
এরপর কী হলো? হে হে হে জানতে হইলে দৌড়ে গিয়ে বাসা থেকে টিকেটের পয়সা লইয়া আসো পুলাপাইন। আর পাঠকেরা পড়ুন জামসেদুর রহমান সজীবের লেখা "পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি"। কারণ শাহরুখ খান বলেছেন পিকচার আভি বাকি হে মেরে দোস্ত।
আআআআআআ! সবাই দেখি আবার মা*রতে আসছে। নাহ এই পাড়ায় আর ঢোকা যাবে না। ব্যবসায় লাল বাতি জ্বালিয়ে দেয় এরা। পালাওওওওওওও!!
🎬পাঠ প্রতিক্রিয়া:
"পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি" হলে চললে বলতে হবে সুপার হিট, ব্লকবাস্টার এইসব। কিন্তু বইয়ের পাতায় হলে আমি পাঠক হিসেবে ভালো লাগলে যেটা বলি পুরো পয়সা উসুল। এবং এই বইয়ের শুরুটা যেভাবে হয়েছিল ধীরে ধীরে কিন্তু লেখক জমিয়ে দিয়েছেন গল্প।
আমাদের এই দৌড়ঝাঁপ জীবনে আমার মনে হয় রম্য রচনা পড়া উচিত আমাদের। রম্য রচনায় আপনি লজিক খুঁজলে ঠকবেন। রম্য রচনা পড়লে উপকার কী হবে জানেন এটি আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং মনের মাঝে আনন্দের সৃষ্টি করে। রম্য রচনা সাধারণত হাস্যরসাত্মক বা বোধগম্য ভাষায় লেখা হয়, যা পাঠককে আনন্দ দেয় এবং শিথিল রাখে। এটি সাধারণ জীবনের নানা সমস্যা এবং দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মজা করে, যা আমাদের নিজস্ব জীবনের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করে। রম্য রচনায় আমি ব্যক্তিগতভাবে কী খুঁজি জানেন? পরিপূর্ণ নির্মল আনন্দ। এবং তাহলে মনে হয় বইটি আমার কাছে সঠিকভাবে ধরা দিয়েছে।
এই বইটিতে লেখক শুরুতে গল্পের প্লটটা পরিচয় করিয়েছেন যে এটা কী ধরনের হতে পারে। চরিত্রদের পরিচয় দিয়েছেন। এবং এই অংশে আমার বোরিং লেগেছে বেশ। আগ্ৰহ পাচ্ছিলাম না লেখনীতে। তবুও ভাবলাম থাক দেখি না কী হয়। বাংলা সিনেমায় তো এমনি হয় শুরুতে বেশ ধীরে এগোয় গল্প। তো আমি এগোতে শুরু করলাম।
এরপর আস্তে আস্তে কিন্তু কাহিনী পরিপক্কতা লাভ করেছে। লেখকের উদ্দেশ্য ছিল বইয়ের লেখনীতে তুলে ধরবেন বাংলা সিনেমার আইকনিক সেইসব দৃশ্য এবং চরিত্র। পাওয়া যাবে নষ্টালজিক একটা ফিল। এবং আমি এটা আসলেই খুঁজে পেলাম। হাস্যরসাত্মক উপস্থাপনায় বাংলা সিনেমার বিখ্যাত ডায়লগ, চরিত্র নিয়ে লেখক চেষ্টা করেছেন রম্য জনরার বই উপহার দিতে। এবং আমি বেশ সন্তুষ্ট। হাস্যরসাত্মক দিক ছিল, ইমোশন, ড্রামা, রোমান্স, অ্যাকশনসহ ফুল একদম কমার্শিয়াল বাংলা সিনেমার মতো।
বাংলা সিনেমায় গালিগালাজ আছে। এবং এই ক্ষেত্রে যাদের আপত্তি আছে তাদের বলে রাখি যেহেতু এটা বাংলা সিনেমার ভাইব দিবে তো এগুলো আপনি পাবেন। আমার কাছে হাসির লেগেছে কিছু কিছু গালিও। বাকিদের কেমন লাগবে জানা নেই অবশ্য।
লেখনী যদি আগের বইয়ের সাথে তুলনা করি বেশ কয়েক জায়গায় মিল থাকলেও আগের বইয়ের সাথে, লেখক এই বইয়ে চেষ্টা করেছেন রম্য ধাঁচে সিনেমাটিক গল্প দিতে। আমি মনে করি সে ক্ষেত্রে তিনি সফল। হাহাহা শুধু একটাই আফসোস একটাও গান ছিলো না নায়ক নায়িকার। যাই হোক এই বইয়ের সাথে ভালো সময় কেটেছে আমার।
🎬বইয়ের নাম: "পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি"
🎬লেখক: জামসেদুর রহমান সজীব
🎬 প্রকাশনা: গ্ৰন্থরাজ্য
🎬 ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.২/৫
আজব এক বায়োস্কোপ"
আইজকা আইছি বায়োস্কোপ লইয়া। আগেরবার আমার মাইকের ব্যবসা আপনেরা বন্ধ কইরা দিসেন। এইবার কিন্তু যেনতেন জিনিস না, এই গোলাকার বাক্সে আছে দারুন একখান সিনেমা।
"আসেন আসেন দেইখা যান
আজব এক বায়োস্কোপ"
পুলাপাইন আহো আহো ওই গোল ছিদ্র দিয়া ভিতরে তাকাও। এই সিনেমা "পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি" যেখানে তোমরা পাইবা জসীম, মান্না, আলমগীর, শাবানা আরো কত কাহিনী। এই সিনেমার প্রধান হিরো রাজের কথা শুরু করি বলা। রাজ চব্বিশ বছরের এক হতভাগা তরুণ। যার সম্পর্কে সংক্ষেপে বলতে গেলে- জীবাণু যেমন খালি চোখে দেখা যায় না, তেমনি তার জীবন এতটাই সাদামাটা যে দশজন মানুষের ভিড়েও তাকে আলাদাভাবে শনাক্ত করা কঠিন। তাহার কপাল এতই খারাপ যে নিজের বাড়িওয়ালা পর্যন্ত তাঁকে চেনে না। শেষে মায়ের নাম সকিনা বলে তাঁকে নিজের পরিচয় চেনাতে হয়। না আছে কোনো গুণ, না আছে কোনো অলৌকিক ক্ষমতা মানে ওই আর কী! বাংলা সিনেমায় বাপ্পারাজ আর আমাদের হিরু আহমেদ রাজ। পার্থক্য সেরাম কিছু নেই।
নাহ রাজের তবুও কিছু একটা আছে। আছে এক বদ চরিত্রের বন্ধু হৃদয়। এহেন অপকর্ম নেই যা এই ছেলে করে নাই। কিন্তু কপাল পোড়া রাজ এটাকেই বন্ধু হিসেবে পেয়েছে। দুই বন্ধু মিলে এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াতে যায়। কাজ তো দুজনে তেমন কিছু পারে না। ওহ্ হৃদয় আবার মুশকিল আসান। রাজের সব বিপদে রাজ ছুটে যায় হৃদয়ের কাছে বুদ্ধি নিতে। আর এই হৃদয় যা বুদ্ধি বের করে তা করার থেকে বিপদে পড়া বোধহয় বেশি সহজ।
ভাগ্য কিংবা দুর্ভাগ্যক্রমে পথ চলতে গিয়ে দুই বন্ধুর সঙ্গে এক সাধুবাবার সাক্ষাৎ ঘটে। গায়ে জামাকাপড়ের বালাই নেই, ধবধবে সাদা গোঁফ দাড়ি তার। প্রথমে বাবা বলে ডাকলেও শেষে লোকটার বিরক্তি দেখে গুরুজি বলে ডাকা শুরু করে দুই বন্ধু। রাজের মনে আশা জাগে এসব সাধু টাইপের লোক অনেক কিছু পারে। এবং হলোও ঠিক তাই। এই সাধুবাবা মানে গুরুজি লোকটি জানান, জীবনের রজতজয়ন্তীতে রাজের সবকিছু বদলে যাবে চোখের পলকে। জীবনে এতটাই পরিবর্তন আসবে, যা বাংলা ছায়াছবির গল্প-কাহিনিকেও হার মানিয়ে দেবে। এটা শুনে খুশিতে রাজের চোখে জল এসে যায়। এইবার জীবন হবে অন্যরকম। সে হয়ে যাবে হিরো। সবাই এখন ওকে নজর দেবে।
খুশিমনে দুই বন্ধু গেল বাসায়। অবশ্য সাধুবাবাকে দক্ষিণা হিসেবে একটা সিনেমার টিকিটের টাকা দিতে হলো। রাজ দুরুদুরু বুকে অপেক্ষা করতে লাগলো আসলেই কী তার জীবন বদলে যাবে? হৃদয় হিসাব করছে রাজের ২৫ তম জন্মদিন কবে। যাই হোক রাজ তো খাবার খেয়ে রাতে ঘুমাতে গেল। সকালে উঠে দেখলো কোথায় কী! সবকিছু তো আগের মতই আছে! রাজ ভেবে পায় না আসলেই কী হবে।
"ভাবতে ভাবতে শুরু হইলো
নতুন আজব খেলা,
রাজের সামনে আইলো এক
সুন্দরী একলা"
ইউনিভার্সিটিতে রাজের সাথে ঘটে গেল আজব ঘটনা। হঠাৎ করেই সে সিনেমার কায়দায় ধাক্কা খেল এক সুন্দরী মেয়ের সাথে। ধাক্কা খেয়ে রাজ ছিটকে পড়লো কয়েক হাত দূরে। সুন্দরী মেয়েটার বইগুলো এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে পড়লো। ব্যাস বই গোছাতে গিয়ে দুজনের আলাপ। পরিচয়ের সূত্রে জানা গেল মেয়েটির নাম মিষ্টি। কিন্তু মেয়েটির রূপ দেখে রাজের তো তাকে রসগোল্লা, সন্দেশ, পান্তুয়া সব ধরনের মিষ্টি মনে হলো।
পুলাপাইন ধাক্কাধাক্কি না কইরা বায়োস্কোপ দেখো তোমরা। তারপর কী হইলো শুনবা না?
এরপর মিষ্টির রূপের আগুনে জ্ব*লে পু*ড়ে ছা*রখার পুরো ক্যাম্পাস। তেমনি এক ছাগল উঠেছে বিল্ডিং এর দুই তলায়। মিষ্টি তাকে আই লাভ ইউ না বললে সে ঝাঁপ দিবে নিচে। এটা দেখে রাজের মাথা খারাপ হয়ে গেল। এরা কারা ভাই! রাজ নিজেই চান্স পাচ্ছে না মিষ্টির কাছাকাছিই যাবার এখন আবার আছে প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু ওই যে বললাম না মুশকিল আসান আছে। আরে ওই হৃদয়। সে রাজকে বুদ্ধি দিলো মিষ্টিকে পটাতে হলে রাজের উচিত চার তলায় উঠে হুমকি দেয়া। প্রথমে গাইগুই করলেও রাজ পরে চার তলায় ওঠে। আর এদিকে এই দুই ছাগলের কান্ড দেখে ভার্সিটির ভিসি রেগেমেগে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এরা যদি ঝাঁপ না দেয় তিনি নিজে এদের ধাক্কা মে*রে ফেলে দিবেন।
"পিরিতি বিষম বেদনা"
এটা জ্ঞানীরা নয় বোধহয় প্রেমিকেরা বলে। কারণ মিষ্টির সাথে এই ঝাঁপ দেয়া কান্ডের পর থেকে প্রেম জমে উঠলেও দেখা দিয়েছে আরেকটা সমস্যা। মিষ্টির বাবা সেই বাংলা সিনেমার বিখ্যাত চৌধুরী সাহেবের মতো নাম তমীজ চৌধুরী ওদের সম্পর্কটা মেনে নিতে চাচ্ছেন না। কারণ মিষ্টির দৈনিক হাতখরচ নাকি ৫০০০০ টাকা। তিনি রাজকে অবশ্য সুযোগ দিয়েছিলেন টাকা রোজগার করে নিজেকে প্রমাণ করার কিন্তু সিনেমার নায়ক জসিমের মতো রাজ ঠেলাগাড়ি ঠেলে বড়লোক হতে পারলো না। দুই দিন কাজ করে সাতদিন গায়ে ব্যথায় কাতরাচ্ছে। অতি কষ্টে সে ৫০০০০ টাকা রোজগার করেছিল ঠিকই কয়েক দিন ধরে জমিয়ে জমিয়ে। কিন্তু মিষ্টির হাতখরচের কথা শুনে বেচারা আবার মিইয়ে গেল। চৌধুরীকে কীভাবে খুশি করবে রাজ?
ঝামেলা আরো লেগেছে। রাজের মা সকিনা আহমেদ তমীজ চৌধুরীর নাম শুনেই রাজকে ঠাস করে চড় মে*রে বললেন এই তমীজ চৌধুরী রাজের বাবাকে মে*রে ফেলেছে। পিতার হ*ত্যাকারীর মেয়েকে রাজ ভালোবাসতে পারে না। আর বাংলা সিনেমার মতো রাজের মাথাতেও প্রতিশোধের আগুন জ্বলে ওঠে। চৌধুরীকে শায়েস্তা করতে হবে। কিন্তু কীভাবে? ওই যে মুশকিল আসান হৃদয় আছে না! বুদ্ধি আবারও সে দিচ্ছে।
আরে আরে পুলাপাইন থামো সবে তো শুরু। মা সকিনা আহমেদ রাজকে আরেকটা কঠিন সত্য বলেন রাজ তাদের নিজেদের ছেলে নয়। রাজবাড়ীর বানিজ্যমেলা থেকে তাকে কুড়িয়ে পাওয়া গেছে। আআআআআআ! আআআআআআ! ওওওওওওওওও! এমন ঘটনায় বাংলা সিনেমার এমন করুন সুর বাজে কিন্তু রাজের জীবনে যা ঘটছে বেচারা বোধহয় অবাক হবার ক্ষমতাও হারিয়েছে। শুধু হা করে তাকিয়ে রইল। সকিনা আহমেদ তাড়া দিলেন রাজকে তার আসল বাবা মায়ের খোঁজ করতে।
এরপর কী হলো? হে হে হে জানতে হইলে দৌড়ে গিয়ে বাসা থেকে টিকেটের পয়সা লইয়া আসো পুলাপাইন। আর পাঠকেরা পড়ুন জামসেদুর রহমান সজীবের লেখা "পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি"। কারণ শাহরুখ খান বলেছেন পিকচার আভি বাকি হে মেরে দোস্ত।
আআআআআআ! সবাই দেখি আবার মা*রতে আসছে। নাহ এই পাড়ায় আর ঢোকা যাবে না। ব্যবসায় লাল বাতি জ্বালিয়ে দেয় এরা। পালাওওওওওওও!!
🎬পাঠ প্রতিক্রিয়া:
"পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি" হলে চললে বলতে হবে সুপার হিট, ব্লকবাস্টার এইসব। কিন্তু বইয়ের পাতায় হলে আমি পাঠক হিসেবে ভালো লাগলে যেটা বলি পুরো পয়সা উসুল। এবং এই বইয়ের শুরুটা যেভাবে হয়েছিল ধীরে ধীরে কিন্তু লেখক জমিয়ে দিয়েছেন গল্প।
আমাদের এই দৌড়ঝাঁপ জীবনে আমার মনে হয় রম্য রচনা পড়া উচিত আমাদের। রম্য রচনায় আপনি লজিক খুঁজলে ঠকবেন। রম্য রচনা পড়লে উপকার কী হবে জানেন এটি আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং মনের মাঝে আনন্দের সৃষ্টি করে। রম্য রচনা সাধারণত হাস্যরসাত্মক বা বোধগম্য ভাষায় লেখা হয়, যা পাঠককে আনন্দ দেয় এবং শিথিল রাখে। এটি সাধারণ জীবনের নানা সমস্যা এবং দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মজা করে, যা আমাদের নিজস্ব জীবনের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করে। রম্য রচনায় আমি ব্যক্তিগতভাবে কী খুঁজি জানেন? পরিপূর্ণ নির্মল আনন্দ। এবং তাহলে মনে হয় বইটি আমার কাছে সঠিকভাবে ধরা দিয়েছে।
এই বইটিতে লেখক শুরুতে গল্পের প্লটটা পরিচয় করিয়েছেন যে এটা কী ধরনের হতে পারে। চরিত্রদের পরিচয় দিয়েছেন। এবং এই অংশে আমার বোরিং লেগেছে বেশ। আগ্ৰহ পাচ্ছিলাম না লেখনীতে। তবুও ভাবলাম থাক দেখি না কী হয়। বাংলা সিনেমায় তো এমনি হয় শুরুতে বেশ ধীরে এগোয় গল্প। তো আমি এগোতে শুরু করলাম।
এরপর আস্তে আস্তে কিন্তু কাহিনী পরিপক্কতা লাভ করেছে। লেখকের উদ্দেশ্য ছিল বইয়ের লেখনীতে তুলে ধরবেন বাংলা সিনেমার আইকনিক সেইসব দৃশ্য এবং চরিত্র। পাওয়া যাবে নষ্টালজিক একটা ফিল। এবং আমি এটা আসলেই খুঁজে পেলাম। হাস্যরসাত্মক উপস্থাপনায় বাংলা সিনেমার বিখ্যাত ডায়লগ, চরিত্র নিয়ে লেখক চেষ্টা করেছেন রম্য জনরার বই উপহার দিতে। এবং আমি বেশ সন্তুষ্ট। হাস্যরসাত্মক দিক ছিল, ইমোশন, ড্রামা, রোমান্স, অ্যাকশনসহ ফুল একদম কমার্শিয়াল বাংলা সিনেমার মতো।
বাংলা সিনেমায় গালিগালাজ আছে। এবং এই ক্ষেত্রে যাদের আপত্তি আছে তাদের বলে রাখি যেহেতু এটা বাংলা সিনেমার ভাইব দিবে তো এগুলো আপনি পাবেন। আমার কাছে হাসির লেগেছে কিছু কিছু গালিও। বাকিদের কেমন লাগবে জানা নেই অবশ্য।
লেখনী যদি আগের বইয়ের সাথে তুলনা করি বেশ কয়েক জায়গায় মিল থাকলেও আগের বইয়ের সাথে, লেখক এই বইয়ে চেষ্টা করেছেন রম্য ধাঁচে সিনেমাটিক গল্প দিতে। আমি মনে করি সে ক্ষেত্রে তিনি সফল। হাহাহা শুধু একটাই আফসোস একটাও গান ছিলো না নায়ক নায়িকার। যাই হোক এই বইয়ের সাথে ভালো সময় কেটেছে আমার।
🎬বইয়ের নাম: "পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি"
🎬লেখক: জামসেদুর রহমান সজীব
🎬 প্রকাশনা: গ্ৰন্থরাজ্য
🎬 ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.২/৫
April 24, 2025
বইটা আসলেই বাংলা সিনেমা'কে হারা মানায়, পরিশেষে
রাজের জন্য অনেক খারাপ অনুভূত হচ্ছে, দুইটা পরিবার এবং বউ বলেন কিংবা প্রিয় মানুষ সকলের নিকট কম
গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে হয়েছে আমার কাছে। সব থাকার পরও সে যেন সবার জীবনে অনাহুত অতিথি হিসেবেই
রয়ে যায়। তার অনুভূতি সম্পর্কে কেউ চিন্তা করে না।
রাজ যেন আমাদেরই প্রতিনিধিত্ব করছে এই বিস্তৃীর্ণ
পৃথিবীতে এক অব্যক্ত অনুভূতির মানুষ হয়ে🍁🖤
জামশেদ ভাই, এক বিশাল অতৃপ্ত অনুভূতি নিয়ে বসে আছি,
আশা করি পরবর্তী সিক্যুয়েলে কিছুটা হলেও আমাদের হতাশা দূর করবেন। যেন আমরা একটু আশার আলো দেখতে পারি, ভালো বোধ করি এই পৃথিবীর মাঝে কারণ
দিনশেষে আমরা রাজের মতো জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত🖤
রাজের জন্য অনেক খারাপ অনুভূত হচ্ছে, দুইটা পরিবার এবং বউ বলেন কিংবা প্রিয় মানুষ সকলের নিকট কম
গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে হয়েছে আমার কাছে। সব থাকার পরও সে যেন সবার জীবনে অনাহুত অতিথি হিসেবেই
রয়ে যায়। তার অনুভূতি সম্পর্কে কেউ চিন্তা করে না।
রাজ যেন আমাদেরই প্রতিনিধিত্ব করছে এই বিস্তৃীর্ণ
পৃথিবীতে এক অব্যক্ত অনুভূতির মানুষ হয়ে🍁🖤
জামশেদ ভাই, এক বিশাল অতৃপ্ত অনুভূতি নিয়ে বসে আছি,
আশা করি পরবর্তী সিক্যুয়েলে কিছুটা হলেও আমাদের হতাশা দূর করবেন। যেন আমরা একটু আশার আলো দেখতে পারি, ভালো বোধ করি এই পৃথিবীর মাঝে কারণ
দিনশেষে আমরা রাজের মতো জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত🖤
May 31, 2025
আমাদের দেশে রম্য উপন্যাস নাই বলতে গেলে, কিন্ত উপর বাংলায় কতরকম রম্য লেখক আছে যা বই পড়ে বা অডিও বুক শুনে ইনজয় করি। সেখানে সজীব ভাইয়া যে সাহস করে রম্য উপন্যাস লিখে যাচ্ছেন তাতে করে তিনি প্রশংসার দাবি রাখে।
ভাইয়া এভাবে আরো আরো বই চাই আপনার কাছ থেকে।
উপন্যাসটা বড় করলে কি ক্ষতি হত আপনার?
ভাইয়া এভাবে আরো আরো বই চাই আপনার কাছ থেকে।
উপন্যাসটা বড় করলে কি ক্ষতি হত আপনার?
December 20, 2025
আরো ভালো করা যেতো।
লেখক মনে হয় এখনো হুমায়ূন আহমেদের প্রভাব কাটাতে পারেনি। তবুও ভালই লেগেছে।
লেখক মনে হয় এখনো হুমায়ূন আহমেদের প্রভাব কাটাতে পারেনি। তবুও ভালই লেগেছে।
August 5, 2025
There are very few good comedy writers and works till now in BD. Especially from our young generation. I am already a big fan of Zamsedur Rahman's work. His writing has a very unique way to connect to the readers and i think i enjoy that thing the most.
In this book he used all the words, meems, dialogues, concepts we are very familiar with in our day to day life in Bangladesh. Identifying them and putting them together to construct a fabulous piece, Mr Writer has done an amazing job. And i do believe these types of works in bangla literature should get more publicity and admirers.
In this book he used all the words, meems, dialogues, concepts we are very familiar with in our day to day life in Bangladesh. Identifying them and putting them together to construct a fabulous piece, Mr Writer has done an amazing job. And i do believe these types of works in bangla literature should get more publicity and admirers.
Read
March 21, 2025❛জীবন করছে নানা হম্বিতম্বি
মনে হয় যেন দেখছি পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি!❜
বাস্তব সিনেমাকেও হার মানায়। আবার বাস্তব থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে নাটক, সিনেমা তৈরি হয়। পর্দার কাহিনিতে সমাপ্তি থাকে, নতুন আশা থাকে। কিন্তু বাস্তব? বাস্তব তো সিনেমার নিয়মে চলে না। বাস্তবে নায়িকার ওড়না নায়কের ঘড়ি কিংবা আংটিতে আটকে যায় না। আবার মধুর দৃশ্যে তুমি আমার জীবন গানও বেজে ওঠে না। কিন্তু তবুও বাস্তবের সাথেই আমাদের চলতে হয়।
রাজ, নাম তো শুনাই হে না?
না, নাম শুনার কথা না। রাজ এমন একজন চব্বিশ বছর বয়সী ছেলে যার উপস্থিতি এতটাই মলিন যে এই ধরিত্রীতে সে আছে এটাই বোঝা যায় না। বইয়ের ভাষায় খালি চোখে চেষ্টা করলে জীবাণু দেখা সম্ভব কিন্তু রাজ নামের এই ছেলেটির উপস্থিতি উপলব্ধি করা সম্ভব না।
বিধবা মায়ের দুই ছেলের বড়ো ছেলে রাজ। নিঃসঙ্গ জীবনে একমাত্র বন্ধু হৃদয়। যে কিনা রাজের ১৮০° বিপরীত। হম্বিতম্বি থেকে এহেন কোনো কাজ বাদ নেই হৃদয় করে না। রাজকে দুনিয়াছাড়া পা গলা বুদ্ধি দিতে সে সিদ্ধহস্ত।
কপোত কপোতীর প্রেমলীলা দেখতে হৃদয় তার বন্ধু রাজকে নিয়ে গেছিল পার্কে। সেখানেই দেখা পায় এক গুরুজীর। সাদা চুল দাড়িতে মোড়ানো গুরুজী থেকে রাজ জানতে চায় তার জীবনে কি কিছুই ভালো হবে না? গুরুজী তাকে জানান আসছে পঁচিশেই তার জীবন বদলে যাবে। এমন এমন মোড় নিবে যা হার মানাবে সিনেমাকেও। তার জীবন একেবারে হয়ে যাবে ❛পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি❜।
গুরুজীর কথাতেই নাকি তার ভাগ্যে উপরওয়ালা তাই লিখে রেখেছিলেন বলেই হয়তো রাজের জীবনে বদলের হাওয়া বয়ে গেল। আজকালকার পোলাপান জীবনে পরিবর্তন বলতে ঐ প্রেমের দোলা লাগাকেই একটু বেশি বুঝে। রাজের জীবনেও ঐ মিষ্টি হাওয়া আসে।
তবে বদলের হার এতই বেশি যে কোন পরিবর্তন থেকে কোনটা গিলবে রাজ খেই হারিয়ে ফেলে। বাংলা ছবির মতোই রাজের জীবনে আসে লাট সাহেবের বেটি, সেই বেটির বাপ নিশ্চিতভাবেই একজন চৌধুরী সাহেব। সেই চৌধুরী সাহেবও বাংলা সিনেমার মতোই গরীব বিধবার পুত্র রাজকে মেনে নিতে চায়না, জুড়ে দেয় শর্ত!
রাজ বাপ্পারাজ হবে না। তাই সে হয়তো ভাবে,
❛তোমার জন্য ম র তে পারি
ও সুন্দরী, তুমি গলার মালা!❜
কিন্তু ভালবাসা তার সত্যি সে শর্ত পূরণ করে কিন্তু মোবাইল কোম্পানির মতো শর্তের মধ্যেও আরো শর্ত পরীক্ষা দিয়ে রাজের জীবন ত্যানা হয়ে যায়! কী আর করা জীবনে বদল এসেছে তাকে একটু গ্রহণ তো করতেই হবে। এরমধ্যেই রাজের জীবনে এক ভিলেন আসে যে মিষ্টিকে চায়। একটু মা রপিট হয় আর এতেই মাথায় আ ঘাতে স্মৃতিশক্তি কিছুটা হারিয়ে ফেলে আমাদের সুন্দরী নায়িকা মিষ্টি।
রাজ এই জীবনে অভ্যস্ত হতে থাকে। কিন্তু তখনই জানতে পারে মায়ের থেকে এক তিক্ত সত্যি। রাজ আসলে মেলায় কুড়িয়ে পাওয়া এক সন্তান। জীবন তার সিনেমা থেকেও জটিল হয়ে যায়। সিনেমা এক কাহিনিতে থাকে। রাজের জীবন অনেকগুলো সিনেমার কাহিনির মিক্সার হয়ে গেছে।
এভাবেই মায়ের কথায় আসল বাপ মায়ের সন্ধানে যায়, পেয়েও যায় সেখানে গিয়ে দেখে রাজ আসলে ফকিরের পোলা! কিন্তু সেই ফকির আবার বিশাল বড়লোক! মানে বড়লোকের নাম ফকির। রাজ তাদের তিন নাম্বার প্রোডাকশন। হারিয়ে যাওয়া পরিবার নিয়ে একটু আনন্দ করার আগেই রাজের জীবনে আসে তার ছোটবেলার বউ কল্পনা। এতদিন জীবনে মাইয়াই আছিলো না এখন একের পর এক আসতেই আছে।
নতুন পরিবার, ছোটকালের বউ, বড়কালের প্রেমিকা এসবের মধ্যেই অভিনয় করতে হয় এক মা দক ব্যবসায়ীর সাগরেদ হিসেবে। কলির কেলো এখানেও আরেক মাইয়া হাজির তারে বিয়ে করতে। ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে রাজ উড়াল দেয় অস্ট্রেলিয়া। ওমাগো ওখানেও আরেক ললনা হাজির!
রাজ আর পারেনা। সিনেমাময় টুইস্ট ওয়ালা জীবন থেকে কি আগের নিস্পন্দ জীবনই বেশি ভালো ছিল তার? রাজ জানেনা। সে সবকিছু থেকে চলে যেতে চায়। ভালোবাসা, নতুন পরিবার, পালিত মা, ছোটবেলার বউ সবকিছুই কি তবে অর্থহীন? রাজের মনে কি তবে এই গান বাজে,
❛আমাকে আমার মতো থাকতে দাও,
আমি নিজেকে নিজের মতো গুছিয়ে নিয়েছি
যেটা ছিল না ছিল না সেটা না পাওয়াই থাক
সব ফেলে নষ্ট জীবন!❜
রাজ কোথায় যাবে যেখানে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
❝পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি❞ জামসেদুর রহমান সজীবের লেখা রম্য উপন্যাস।
রম্য লেখা পড়তে আমার ভালো লাগে। যাপিত জীবনে কাঠিন্য, সবসময় পড়া থ্রিলার, কিংবা কঠিন কঠিন বইয়ের মাঝে একটু বদল আনতে রম্য বই বেশ কাজে দেয়। যেন বলে
❛বেরেন টা পাশে রেখে চিন্তাহীন হয়ে পড়া শুরু করো❜
কারণ রম্য উপন্যাসে আপনি লজিক, ডিবেট এসব থেকে হাসির খোরাক আছে নাকি তাই খুঁজবেন। লেখকের লেখা এই উপন্যাস সেই অনুভূতিটাই দিবে।
বইটা রম্য হওয়ার সাথে সাথে বলা যায় a glimpse or a flashback to our golden childhood। কেন বললাম?
মনে আছে ছোটকালে শুক্রবারের দুপুরে প্রচারিত বাংলা সিনেমার কথা? জসিম, শাবানা, রাজ্জাক, বাপ্পারাজ, মান্না, ববিতা, সালমানশাহ তাদের চোখ ধাঁধানো অভিনয়ে আমরা বুদ হয়ে থাকতাম। কে কার প্রিয় নায়িকা, নায়ক এই নিয়েও কত কথার ফুলঝুড়ি ছিল। তখন জীবন ছিল সাধারণ। সিনেমায় বাস্তবতা থেকে উপভোগের খোরাক খুঁজতাম। সেলাই মেশিন চালিয়ে শাবানার সাবলম্বী হওয়া, ২০ বছর আগে কোনো খান কিংবা চৌধুরী দ্বারা নায়কের বাবার প্রাণনাশ, মেলায় হারিয়ে যাওয়া সন্তান, র ক্ত জোগাড় করতে গিয়ে জসিমের ঠেলা গাড়ি চালানো কিংবা সব সময় প্রেমের বলি হওয়া বাপ্পারাজের গড়িয়ে পড়া - কী সুন্দর সময় ছিল না!
লেখক এই ১১২ পৃষ্ঠার লেখায় সেই সময়টাকে হাস্যরসের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। রম্য লেখক হিসেবেই আমরা তাকে চিনি। আগের লেখাও পড়েছি। আমার মনে হয়েছিল সেখানে কিছুটা জোর করে হাসানোর ব্যাপার ছিল। তবে এই উপন্যাসে সেই অভিযোগ বাতিল করা যায়। আরোপিত ব্যাপার ছিল না। কোথাও কোথাও আপনা থেকেই হাসি এসেছে।
প্রচলিত অনেক হাস্যকর উক্তি, ট্রেন্ড কিংবা ভাইরাল টপিকের সাথে সিনেমার অদ্ভুত সুন্দর মেলবন্ধন করেছেন লেখক। এজন্য পড়তে উপভোগ্য লেগেছে। যুক্তিতর্ক, কেন হলো এসব চিন্তার ধার না ধেরে শুধু বাংলা সিনেমার সেকালের একটা দৃশ্যপট উঠে এসেছে এই রম্যের মাধ্যমে। শেষটায় একটু গাম্ভীর্য দেখাতেও ভুলেননি তিনি। এজন্য উপভোগ্য লেগেছে। পড়ার সময় ফেলে আসা শৈশবের টিভির পর্দায় দেখা স্মৃতি গুলোও ভেসে উঠেছিল।
বাংলা সিনেমার একটা সময় ছিল উজ্জল অতীত। আমরা যতই খাটো করি না কেন সে সময়ের এই বিনোদনের মাধ্যমগুলো আমাদের হাসির, উপভোগের খোরাক ছিল। আধুনিক প্রযুক্তিহীন ঐ সময়ে এই সিনেমাগুলোতেই আমরা নিজেদের বিনোদন খুঁজে নিতাম। সেই সময়টার একটা স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়ার জন্য লেখকের এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানাই।
আমি বইটা নিছকই বিনোদনের জন্য পড়েছি। বিনোদন পেয়েছি। এটাই প্রাপ্তি।
প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:
প্রচ্ছদটা সুন্দর ভালো লেগেছে।
❛জীবন সিনেমা থেকেও ঘটনাবহুল তবুও জীবন তো জীবনই!❜
মনে হয় যেন দেখছি পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি!❜
বাস্তব সিনেমাকেও হার মানায়। আবার বাস্তব থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে নাটক, সিনেমা তৈরি হয়। পর্দার কাহিনিতে সমাপ্তি থাকে, নতুন আশা থাকে। কিন্তু বাস্তব? বাস্তব তো সিনেমার নিয়মে চলে না। বাস্তবে নায়িকার ওড়না নায়কের ঘড়ি কিংবা আংটিতে আটকে যায় না। আবার মধুর দৃশ্যে তুমি আমার জীবন গানও বেজে ওঠে না। কিন্তু তবুও বাস্তবের সাথেই আমাদের চলতে হয়।
রাজ, নাম তো শুনাই হে না?
না, নাম শুনার কথা না। রাজ এমন একজন চব্বিশ বছর বয়সী ছেলে যার উপস্থিতি এতটাই মলিন যে এই ধরিত্রীতে সে আছে এটাই বোঝা যায় না। বইয়ের ভাষায় খালি চোখে চেষ্টা করলে জীবাণু দেখা সম্ভব কিন্তু রাজ নামের এই ছেলেটির উপস্থিতি উপলব্ধি করা সম্ভব না।
বিধবা মায়ের দুই ছেলের বড়ো ছেলে রাজ। নিঃসঙ্গ জীবনে একমাত্র বন্ধু হৃদয়। যে কিনা রাজের ১৮০° বিপরীত। হম্বিতম্বি থেকে এহেন কোনো কাজ বাদ নেই হৃদয় করে না। রাজকে দুনিয়াছাড়া পা গলা বুদ্ধি দিতে সে সিদ্ধহস্ত।
কপোত কপোতীর প্রেমলীলা দেখতে হৃদয় তার বন্ধু রাজকে নিয়ে গেছিল পার্কে। সেখানেই দেখা পায় এক গুরুজীর। সাদা চুল দাড়িতে মোড়ানো গুরুজী থেকে রাজ জানতে চায় তার জীবনে কি কিছুই ভালো হবে না? গুরুজী তাকে জানান আসছে পঁচিশেই তার জীবন বদলে যাবে। এমন এমন মোড় নিবে যা হার মানাবে সিনেমাকেও। তার জীবন একেবারে হয়ে যাবে ❛পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি❜।
গুরুজীর কথাতেই নাকি তার ভাগ্যে উপরওয়ালা তাই লিখে রেখেছিলেন বলেই হয়তো রাজের জীবনে বদলের হাওয়া বয়ে গেল। আজকালকার পোলাপান জীবনে পরিবর্তন বলতে ঐ প্রেমের দোলা লাগাকেই একটু বেশি বুঝে। রাজের জীবনেও ঐ মিষ্টি হাওয়া আসে।
তবে বদলের হার এতই বেশি যে কোন পরিবর্তন থেকে কোনটা গিলবে রাজ খেই হারিয়ে ফেলে। বাংলা ছবির মতোই রাজের জীবনে আসে লাট সাহেবের বেটি, সেই বেটির বাপ নিশ্চিতভাবেই একজন চৌধুরী সাহেব। সেই চৌধুরী সাহেবও বাংলা সিনেমার মতোই গরীব বিধবার পুত্র রাজকে মেনে নিতে চায়না, জুড়ে দেয় শর্ত!
রাজ বাপ্পারাজ হবে না। তাই সে হয়তো ভাবে,
❛তোমার জন্য ম র তে পারি
ও সুন্দরী, তুমি গলার মালা!❜
কিন্তু ভালবাসা তার সত্যি সে শর্ত পূরণ করে কিন্তু মোবাইল কোম্পানির মতো শর্তের মধ্যেও আরো শর্ত পরীক্ষা দিয়ে রাজের জীবন ত্যানা হয়ে যায়! কী আর করা জীবনে বদল এসেছে তাকে একটু গ্রহণ তো করতেই হবে। এরমধ্যেই রাজের জীবনে এক ভিলেন আসে যে মিষ্টিকে চায়। একটু মা রপিট হয় আর এতেই মাথায় আ ঘাতে স্মৃতিশক্তি কিছুটা হারিয়ে ফেলে আমাদের সুন্দরী নায়িকা মিষ্টি।
রাজ এই জীবনে অভ্যস্ত হতে থাকে। কিন্তু তখনই জানতে পারে মায়ের থেকে এক তিক্ত সত্যি। রাজ আসলে মেলায় কুড়িয়ে পাওয়া এক সন্তান। জীবন তার সিনেমা থেকেও জটিল হয়ে যায়। সিনেমা এক কাহিনিতে থাকে। রাজের জীবন অনেকগুলো সিনেমার কাহিনির মিক্সার হয়ে গেছে।
এভাবেই মায়ের কথায় আসল বাপ মায়ের সন্ধানে যায়, পেয়েও যায় সেখানে গিয়ে দেখে রাজ আসলে ফকিরের পোলা! কিন্তু সেই ফকির আবার বিশাল বড়লোক! মানে বড়লোকের নাম ফকির। রাজ তাদের তিন নাম্বার প্রোডাকশন। হারিয়ে যাওয়া পরিবার নিয়ে একটু আনন্দ করার আগেই রাজের জীবনে আসে তার ছোটবেলার বউ কল্পনা। এতদিন জীবনে মাইয়াই আছিলো না এখন একের পর এক আসতেই আছে।
নতুন পরিবার, ছোটকালের বউ, বড়কালের প্রেমিকা এসবের মধ্যেই অভিনয় করতে হয় এক মা দক ব্যবসায়ীর সাগরেদ হিসেবে। কলির কেলো এখানেও আরেক মাইয়া হাজির তারে বিয়ে করতে। ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে রাজ উড়াল দেয় অস্ট্রেলিয়া। ওমাগো ওখানেও আরেক ললনা হাজির!
রাজ আর পারেনা। সিনেমাময় টুইস্ট ওয়ালা জীবন থেকে কি আগের নিস্পন্দ জীবনই বেশি ভালো ছিল তার? রাজ জানেনা। সে সবকিছু থেকে চলে যেতে চায়। ভালোবাসা, নতুন পরিবার, পালিত মা, ছোটবেলার বউ সবকিছুই কি তবে অর্থহীন? রাজের মনে কি তবে এই গান বাজে,
❛আমাকে আমার মতো থাকতে দাও,
আমি নিজেকে নিজের মতো গুছিয়ে নিয়েছি
যেটা ছিল না ছিল না সেটা না পাওয়াই থাক
সব ফেলে নষ্ট জীবন!❜
রাজ কোথায় যাবে যেখানে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
❝পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি❞ জামসেদুর রহমান সজীবের লেখা রম্য উপন্যাস।
রম্য লেখা পড়তে আমার ভালো লাগে। যাপিত জীবনে কাঠিন্য, সবসময় পড়া থ্রিলার, কিংবা কঠিন কঠিন বইয়ের মাঝে একটু বদল আনতে রম্য বই বেশ কাজে দেয়। যেন বলে
❛বেরেন টা পাশে রেখে চিন্তাহীন হয়ে পড়া শুরু করো❜
কারণ রম্য উপন্যাসে আপনি লজিক, ডিবেট এসব থেকে হাসির খোরাক আছে নাকি তাই খুঁজবেন। লেখকের লেখা এই উপন্যাস সেই অনুভূতিটাই দিবে।
বইটা রম্য হওয়ার সাথে সাথে বলা যায় a glimpse or a flashback to our golden childhood। কেন বললাম?
মনে আছে ছোটকালে শুক্রবারের দুপুরে প্রচারিত বাংলা সিনেমার কথা? জসিম, শাবানা, রাজ্জাক, বাপ্পারাজ, মান্না, ববিতা, সালমানশাহ তাদের চোখ ধাঁধানো অভিনয়ে আমরা বুদ হয়ে থাকতাম। কে কার প্রিয় নায়িকা, নায়ক এই নিয়েও কত কথার ফুলঝুড়ি ছিল। তখন জীবন ছিল সাধারণ। সিনেমায় বাস্তবতা থেকে উপভোগের খোরাক খুঁজতাম। সেলাই মেশিন চালিয়ে শাবানার সাবলম্বী হওয়া, ২০ বছর আগে কোনো খান কিংবা চৌধুরী দ্বারা নায়কের বাবার প্রাণনাশ, মেলায় হারিয়ে যাওয়া সন্তান, র ক্ত জোগাড় করতে গিয়ে জসিমের ঠেলা গাড়ি চালানো কিংবা সব সময় প্রেমের বলি হওয়া বাপ্পারাজের গড়িয়ে পড়া - কী সুন্দর সময় ছিল না!
লেখক এই ১১২ পৃষ্ঠার লেখায় সেই সময়টাকে হাস্যরসের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। রম্য লেখক হিসেবেই আমরা তাকে চিনি। আগের লেখাও পড়েছি। আমার মনে হয়েছিল সেখানে কিছুটা জোর করে হাসানোর ব্যাপার ছিল। তবে এই উপন্যাসে সেই অভিযোগ বাতিল করা যায়। আরোপিত ব্যাপার ছিল না। কোথাও কোথাও আপনা থেকেই হাসি এসেছে।
প্রচলিত অনেক হাস্যকর উক্তি, ট্রেন্ড কিংবা ভাইরাল টপিকের সাথে সিনেমার অদ্ভুত সুন্দর মেলবন্ধন করেছেন লেখক। এজন্য পড়তে উপভোগ্য লেগেছে। যুক্তিতর্ক, কেন হলো এসব চিন্তার ধার না ধেরে শুধু বাংলা সিনেমার সেকালের একটা দৃশ্যপট উঠে এসেছে এই রম্যের মাধ্যমে। শেষটায় একটু গাম্ভীর্য দেখাতেও ভুলেননি তিনি। এজন্য উপভোগ্য লেগেছে। পড়ার সময় ফেলে আসা শৈশবের টিভির পর্দায় দেখা স্মৃতি গুলোও ভেসে উঠেছিল।
বাংলা সিনেমার একটা সময় ছিল উজ্জল অতীত। আমরা যতই খাটো করি না কেন সে সময়ের এই বিনোদনের মাধ্যমগুলো আমাদের হাসির, উপভোগের খোরাক ছিল। আধুনিক প্রযুক্তিহীন ঐ সময়ে এই সিনেমাগুলোতেই আমরা নিজেদের বিনোদন খুঁজে নিতাম। সেই সময়টার একটা স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়ার জন্য লেখকের এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানাই।
আমি বইটা নিছকই বিনোদনের জন্য পড়েছি। বিনোদন পেয়েছি। এটাই প্রাপ্তি।
প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:
প্রচ্ছদটা সুন্দর ভালো লেগেছে।
❛জীবন সিনেমা থেকেও ঘটনাবহুল তবুও জীবন তো জীবনই!❜
March 15, 2025
জীবনে কতগুলো বাংলা ছায়াছবি দেখেছি তার হিসেব নাই৷ কিন্তু এরকম “পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি” জীবনেও দেখি নাই আগে৷ যারা সেভাবে সিনেমা দেখেন না, কিন্তু ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের বাংলা সিনেমার ভাইরাল আর জনপ্রিয় দৃশ্য কিংবা ক্লিপ দেখেছেন, তারা খুব সহজেই রিলেট করতে পারবেন৷ আর মজাটা আসলে এখানেই৷ মনে হবে সব জানেন, চিরচেনা দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেখবেন৷ কিন্তু মিলবে না৷ বরং কাহিনি আর ঘটনা এমন অদ্ভুত দিকে মোড় নেবে, কল্পনা করতেই হিমশিম খেতে হয়। প্রচুর হেসেছি সেসব ঘটনায়। এভাবেও যে গল্প বলা যায়, তা প্রথমবার অভিজ্ঞতা হলো৷ এই ছায়াছবির আরও কয়েকটি পর্ব এলে মন্দ হয় না। অপেক্ষায় রইলাম।
March 14, 2026
৩.৫ তারা। ভালো রম্য উপন্যাস। উপভোগ করেছি। বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি সব ডায়লগের দেখা পাওয়া যায়। এন্ডিংয়ে এত কাব্যিক লেখা পড়ে আরাম পেলাম। জীবন সত্যই এক বিচিত্র ছায়াছবি!
Displaying 1 - 13 of 13 reviews












