সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত এ উপন্যাসের কাহিনি নিয়ে আলাদাভাবে বলার তেমন কিছু নেই। বলে না দিলেও বোঝা যায় নায়ক রহমান লেখকের প্রতিচ্ছবি। শহীদ আখন্দ নরনারী উভয়ের যৌন বিষয়ে চিন্তাভাবনা একদম অকপটে ও অক্লেশে বর্ণনা করেছেন যা বেশ অবাক করার মতো। কারণ ২০২৫ এ এসেও এভাবে লেখার মতো ঔপন্যাসিক আমাদের খুব কমই আছে। পুরো বইতে একটা কৌতুকের আবহ আছে, পড়তে ভালো লাগে কিন্তু লেখক তার চরিত্রদের মনস্তত্ত্ব বা পারিপার্শ্বিকতা ফুটিয়ে তুলেছেন মোটাদাগে। তাই মহৎ সাহিত্য পাঠের আনন্দ পাওয়া যায় না।
(মজার ব্যাপার, বইটা খুব ভালো না লাগলেও মনে হচ্ছে লেখকের অন্য বইগুলোও পড়া দরকার।)
এশিয়া আফ্রিকার কয়েকটি অনুন্নত রাষ্ট্রের প্রতিনিধি যাচ্ছেন ডেনমার্কে। উদ্দেশ্য অনুন্নত দেশকে উন্নত করা। ডেনমার্ক গোড়া থেকে কিভাবে বর্তমান অবস্থানে পৌছালো তাদের কাছে গিয়ে শিখে নেয়া। এই স্টাডি ট্যুরে আছে ইতালির তুরিন থেকে শুরু করে অস্ট্রিয়া, জার্মানি হয়ে ডেনমার্কে কিয়ের্কেগার্ড আর হান্স ক্রিশ্চিয়ান এন্ডারসনের শহর ঘোরার গল্প।
এই গল্পের মধ্যেই আছে উন্নত অনুন্নত দেশের মানুষের মুখোমুখি হওয়ার গল্প। আছে পাওয়া না-পাওয়ার গল্প। আছে ভালোবাসার গল্প।
লেখকের গদ্য চমৎকার, পড়তে ভালো লাগে। বইটাকে লেখক একইসাথে ভ্রমণকাহিনী এবং উপন্যাস বলেছেন। ভ্রমণকাহিনী হিসেবে যদি পড়ি তাহলে বইয়ের অনেককিছুই, অনেক কাহিনিই সত্য বলে ধরে নিতে হয়। আর এই ধরে নেওয়াটাতে আমার কিঞ্চিৎ আপত্তি আছে। লেখক যেভাবে বলেছেন পুরো বইতে সেটা আদৌ সত্য কি না, ভাববার বিষয়। অন্তত আমার সবটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি।
এবার যদি উপন্যাস হিসেবে বইটাকে দেখি তাহলে বলতে হয় উপন্যাস হওয়ার মতো কিছুই নেই এতে। তবে লেখক ওই সময়ে বসে এমন খোলামেলা লেখা লিখতে অতখানি সাহস কীভাবে সঞ্চয় করলেন সেটা ভেবে অবাক হয়েছি।