মায়ানগরী মুম্বাই। এ শহর যেন স্বপ্নপূরণের ঠিকানা। আরবসাগরের তীরে অবস্থিত এই বন্দরনগরী ভারতবর্ষের অর্থনৈতিক রাজধানীও বটে। আর যেখানে অর্থ, অনর্থও সেখানেই। স্বাধীনতার অব্যবহিত পর থেকেই এই বন্দর এলাকাকে কেন্দ্র করে ছড়াতে থাকে অপরাধের জাল। প্রথমে অবশ্য সেসব সংগঠিত অপরাধ ছিল না। বরং শুরুর দিকে যে সমস্ত ছোটোখাটো গ্যাং এই শহরের অপরাধজগৎকে নিয়ন্ত্রণ করত, তাদের বেশিরভাগই নিজেদের মধ্যে দলীয় কোন্দল নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকত। তারপর বোম্বে ডকের এক সাধারণ কুলি স্বপ্ন দেখল এই শহরকে জয় করার। সেই যুবকটি তখনও জানত না যে বোম্বাইয়ের অপরাধ জগতের ইতিহাস লেখা হলে, তাকে দিয়েই শুরু হবে প্রথম অধ্যায়। সে-ই হাজি মস্তান। তারপর ঢেউয়ের পর ঢেউ এসেছে। এ শহরের বুকে অপরাধ জগত কায়েমী রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। রাশিয়ান, ইটালিয়ান মাফিয়াদের সঙ্গে এক সারিতে উচ্চারিত হয়েছে বোম্বাই মাফিয়াদের নাম। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বোম্বাই তথা মুম্বাইয়ে চলেছে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডনেদের বিভীষিকা। রক্ত ঝরেছে অহোরহ। সেই অন্ধকার দুনিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে আলোকোজ্জ্বল বোম্বের আর এক দুনিয়ার নাম। বলিউড। হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি একটা সময় নিয়ন্ত্রিত হয়েছে এইসব মাফিয়াদের অঙ্গুলিহেলনে। সে এক দীর্ঘ আখ্যান, থ্রিলারের চেয়েও বেশি থ্রিলিং। কাল্পনিক কাহিনির চেয়েও বেশি রহস্যময়…
সোমজা দাসের জন্ম উত্তরবঙ্গের জেলাশহর কোচবিহারে। সেখানেই বেড়ে ওঠা। বাংলা সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা সেই শৈশব থেকে। জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন এবং কলকাতায় একটি বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মজীবন শুরু করেন। লেখকের এখন অবধি প্রকাশিত একক বইগুলি হল ‘এক কুড়ি পাঁচ গল্প’, ‘টাপুরদির গোয়েন্দাগিরি’, ‘কৃষ্ণগহ্বর’ ও ‘নিকষিত হেম’, ‘কাল-কূট’ ও ‘মৃতেরা কোথাও নেই’। আনন্দবাজার এছাড়াও পত্রিকা, আনন্দমেলা, কিশোর ভারতী, বর্তমান পত্রিকা, সাপ্তাহিক বর্তমান, সুখী গৃহকোণ, উত্তরবঙ্গ সংবাদ, গৃহশোভা ও আরও অনেক পত্রপত্রিকা ও গল্প সংকলনে লিখেছেন এবং লিখছেন। লেখালেখি ছাড়াও প্রচুর পড়তে ভালোবাসেন তিনি। নিজেকে তিনি লেখকের চাইতে মগ্ন পাঠক হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন।