গোয়েন্দাপীঠ সিরিজের প্রথম তিনটি খণ্ড এবং পরবর্তীতে নতুন চারটি গল্পসহ “গোয়েন্দাপীঠ সমগ্র” প্রকাশমাত্রই পাঠকপ্রিয় হয়েছিল সর্বস্তরে। কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দাদের নিয়ে| বাস্তবের নানান FEE মামলার ধ্রিলারধর্মী| আখ্যান সহ্দয় স্বীকৃতি পেয়েছিল পাঠকের| দরবারে। সেই সিরিজেরই এবার প্রত্যাবর্তন আটটি কাহিনি নিয়ে। তদস্ভপদ্ধতির নিরিখে দিকচিহ্ন হিসেবে স্বীকৃত, এমন একাধিক মামলার নেপথ্যকাহিনি সমৃদ্ধ | করেছে গোয়েন্দাপীঠ সিরিজের এই নবতম নিবেদনকে। অভিজ্ঞ আইপিএস সুপ্রতিম সরকার | তাঁর নির্মেদ এবং স্বাদু লেখনীতে আটটি ভিন্ন চরিত্রের মামলায় তুলে এনেছেন বাস্তবের ফেলু-ব্যোমকেশদের SHRI নানান চড়াই-উতরাই। ঘটনার কিনারা, তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এবং চার্জশিট পেশ যদি ম্যারাথন দৌড়ের প্রথমার্ধ হয়, তার চেয়েও কঠিনতর হল দ্বিতীয়ার্ধ, যেখানে অভিযুক্তকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করাটাই হয়ে দাঁড়ায় তদস্তকারীর পাখির চোখ। এই দ্বিতীয়ার্ধের যাত্রাপথের বাধাবিপত্তি-টানাপড়েন নিখুঁত উঠে এসেছে লেখকের টানটান বর্ণনায় | মাত্র মাসচারেক আগে দক্ষিণ চবিবশ পরগনার জয়নগরে এক নাবালিকার ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল রাজ্যে। সংশ্লিষ্ট মামলায় মাত্র বাযট্টরি দিনের মধ্যে অভিযুক্তের ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল আদালত, যা পশ্চিমবঙ্গের তদস্ত-ইতিহাসে এক সর্বকালীন নজির। কোন পথে কীভাবে এগিয়েছিল তদন্ত, কীভাবে হয়েছিল এই অসাধ্যসাধন, শেষ কাহিনিতে সুপ্রতিম সবিস্তার লিপিবদ্ধ করেছেন তার প্রামাণ্য ধারাবিবরণী। যা এ-ধরনের মামলায় আদর্শ তদস্ত-মডেল হিসেবে নিশ্চিত অনুসৃত হবে আগামীতে। | ‘Police procedural’ গোত্রভুক্ত এই বই বাংলার অপরাধ-সাহিত্যে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। সে রক্তমাংসের গোয়েন্দাদের কর্মকাণ্ডে উৎসাহী সাধারণ পাঠকই হোন বা পেশাজনিত তদন্তশিক্ষার্থী, সবার কাছেই অবশ্যপাঠ্য। গোয়েন্দাপীঠ। ফিরে এল।
সুপ্রতিম সরকারের জন্ম কলকাতায়, ৩০ মে ১৯৭১। আশৈশব কৃতী ছাত্র। ছাত্রজীবন কেটেছে সেন্ট লরেন্স হাই স্কুলে। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণির স্নাতক। আনন্দবাজার পত্রিকায় স্বল্প দিনের সাংবাদিকতার পর ১৯৯৭ সালে যোগ দেন ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসে। কর্মজীবনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এবং কলকাতায় নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলেছেন। বর্তমানে কলকাতা পুলিশে অতিরিক্ত কমিশনার পদে কর্মরত। কর্মক্ষেত্রে প্রশংসনীয় দক্ষতার জন্য ২০১৫-য় সম্মানিত হয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত ‘ইন্ডিয়ান পুলিশ মেডেল’-এ, ২০১৭-য় ভূষিত হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী প্রদত্ত বিশেষ সম্মানপদকে।পেশায় আই পি এস অফিসার, নেশায় আপাদমস্তক ক্রিকেটানুরাগী। লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই ‘গোয়েন্দাপীঠ লালবাজার’।
সুপ্রতিম বাবুর কলমের ধার কমেছে...মনে হচ্ছে ওনার মাথায় রিভলবার ঠেকিয়ে কেউ একজন লিখিয়ে নিয়েছেন। প্রথম তিনটি গোয়েন্দাপীঠ যদি বিরাট কোহলির কভার ড্রাইভ হয়,তাহলে এটা টেল এন্ডারদের ব্যাটিং এর মতো(ওই ক্রিজে টিকে থাকতে হলে যা করতে হয় আর কী?)। তদন্ত আছে কিন্তু সেই গোয়েন্দাপীঠ সুলভ যে একটা নেশা যা আমাদের এক টানে পুরো বই পড়ে ফেলতে বাধ্য করত,সেটার অভাববোধ করলাম,হতাশ তো অবশ্যই। তবে পুরো বইটার মধ্যে প্রথম কাহিনীটার প্রশংসা না করলে অন্যায় হবে।
ফিরে এল গোয়েন্দাপীঠ সুপ্রতিম সরকার আনন্দ পাবলিশার্স মম: ৪০০/-
কিছু বই থাকে একবার হাতে নিয়ে বসলে পুরোটা শেষ করেই উঠতে ইচ্ছে করবে। এই বইটি নিঃসন্দেহে সেই গোত্রের।
না, কোনো গোয়েন্দা কাহিনী নেই। নেই কোনো শিহরণ জাগানো ক্রাইম থ্রিলার বিস্তারিত বিবরণ। যেটুকু ঘটেছে, সেটুকুই ব্যক্ত। আর তাতেই পড়ার কৌতূহল কোনো ফিক্শন এর থেকে অনেকগুন।
আমি এমন একটা বয়সে এসে পোঁছেছি যেখানে অগুনতি গোয়েন্দা, থ্রিলার, ক্রাইম পড়েছি যাতে আসামি অভিযুক্ত করা অবধি যাবতীয় গোয়েন্দাগল্প রয়েছে। বর্তমান পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে আমার মনে হয়েছে অভিযুক্ত করার চেয়ে আরো বড়ো কাজ হলো চার্জশীট পেশ আর মামলা - যার দায়িত্বে রয়েছেন পুলিশ আর পাবলিক প্রসিকিউটর। দিনের শেষে অভিযুক্ত আসামি যদি সত্যি অন্যায় করে থেকেও যথপোযোগী শাস্তি না পায়, তাহলে যাবতীয় গোয়েন্দাগিরির ফল শুন্য।
এই জায়গাতেই বইটি বাজিমাত করেছে। পুলিশের তৎপরতা, ধৈর্য, অনুসন্ধান, চার্জশীট আর শেষে বাদীপক্ষের মামলার দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। গল্প-চয়ন করা হয়েছে ভালো ভাবে। প্রাথমিক এবং গুরুতর সব ধরণের অপরাধের কাহিনী রয়েছে। সম্প্রতি ২০২৪ সালে বারুইপুরে-জয়নগরে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনাটিও রয়েছে।
পরিশেষে লেখক "আর জি কর" নিয়ে কিছু কথা লিখেছেন। একটু হলেও বোঝা যায় জয়নগরের সাফল্য দিয়ে "আর জি কর" এর ন্যায়-বিচার নিয়ে পুলিশের ওপর আস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। জয়নগর নিয়ে লেখক গর্ব করে লিখেছে "justice for jaynagar, neither delayed, nor denied" আশা করবো, গোয়েন্দাপীঠ লালবাজারের পরের খন্ডে "আর জি কর" নিয়ে এই আংশিক কথা বলতে, "justice delayed, but not denied"
অন্যান্য গোয়েন্দাপীঠ কালেকশন এর মত এই সংকলন টিও যথেষ্ট উপভোগযোগ্য। অপরাধী মানসিকতা ও পুলিশ এর জটিল তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া ঘটনাবহুল অধ্যায় গুলি নিপুণ ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন লেখক