What do you think?


মরণের ডঙ্কা বাজে
বিমল ও সুরেশ বাঙাল মুল্লুকের দুই যুবক। বেকারত্ব ঘোচাতে পাড়ি জমায় বিদেশ বিভূঁইয়ে। রেঙ্গুনের এক স্টিমারে পরস্পরের সাথে তাদের পরিচয়। পেশাজীবন সূচনার লক্ষ্যে দুজনেরই গন্তব্য সিঙ্গাপুর। কিন্তু ঘটনাচক্রে তারা জড়িয়ে পড়ে চীন-জাপান যুদ্ধে। কনসেশন আর্মির হয়ে কাজ করতে তারা পৌঁছে যায় সাংহাই-এ। যুদ্ধের নারকীয়তার মধ্যে তাদের পরিচয় ঘটে পিতৃসুলভ প্রফেসর লি এর সাথে। যিনি অসীম জীবনীশক্তির অনন্য আধার। অপরদিকে রয়েছে মিনি এবং এ্যালিস। মৃত্যুভয় ছাপিয়ে যাদের কণ্ঠে শুধুই মনুষ্যত্বের জয়গান। ভাগ্য তাদের সকলকে গেঁথে দিয়েছে একই সুতোয়।
128 pages, Hardcover
First published January 1, 1940
About the author
Bibhutibhushan Bandyopadhyay
213 books1,218 followersBibhutibhushan Bandyopadhyay (Bangla: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়) was an Indian Bangali author and one of the leading writers of modern Bangla literature. His best known work is the autobiographical novel, Pather Panchali: Song of the Road which was later adapted (along with Aparajito, the sequel) into the Apu Trilogy films, directed by Satyajit Ray.
The 1951 Rabindra Puraskar, the most prestigious literary award in the West Bengal state of India, was posthumously awarded to Bibhutibhushan for his novel ইছামতী.
The 1951 Rabindra Puraskar, the most prestigious literary award in the West Bengal state of India, was posthumously awarded to Bibhutibhushan for his novel ইছামতী.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 59 reviews
November 9, 2013
১৯৪০-এ বাঙালী কেউ চীন-জাপান যুদ্ধ নিয়ে লিখেছেন, যুদ্ধের বই; অতর্কিত এয়ার রেইড, বোমারু বিমানের হামলা, সম্মুখ যুদ্ধ, বেয়োনেটের ক্ষত, ছিন্নভিন্ন লাশ, ব্ল্যাক আউট, এতিম পথশিশু, বাস্তুহারা, দিশেহারা গ্রামের মানুষ, যুদ্ধ, একদম সামনে থেকে বাঙালীর চোখের সামনে, কিশোর-তরুণদের জন্যে উপস্থাপন, শুধু এই অদ্ভুত চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্যেই মনে হয় আমি বিভূতিভূষণের এই বইটাকে ৪ তারা দেব। ৫ তারাই দাগানো যেত, কিন্তু এখনকার হিসেবে কিছুটা জলো হয়ে গেছে অ্যাডভেঞ্চার, কিছু জায়গায় দিনক্ষণের অসংলগ্নতা আছে, আর আছে গণচীন আর ভারত উভয় রাষ্ট্রের প্রতিই পক্ষপাতিত্ব।
বিভূতিভূষণ বাংলা সাহিত্যে আমার প্রিয় লেখক। ছোট গল্প তো বটেই, 'আম আঁটির ভেঁপু' আমার স্কুল জীবনে পড়া একাধারে পছন্দের আর কষ্টের বই। যে সময়ে বাঙালী জাতি আর বাংলাদেশের (পশ্চিম-পূর্ববঙ্গ মিলিয়ে) মানুষের জগৎ ছিলো সীমাবদ্ধ, সেই সময়ে বিভূতিভূষণ বাংলা ভাষী তরুণ চরিত্রকে হাজির করেছেন আফ্রিকার বিপদসংকুল অরণ্য থেকে শুরু করে চীনের যুদ্ধে, এইটাই আমার কাছে বেশি সাবাশের মনে হয়। এই বইটা পড়তে গিয়ে আরেকবার টের পেলাম, বাক্যগঠন, সাবলীলভাবে গল্প এগিয়ে নেয়ার ক্ষমতা, এসব দিকে তার যে কৃতিত্ব, তাও এখনো ম্লান নয়!
বিভূতিভূষণ বাংলা সাহিত্যে আমার প্রিয় লেখক। ছোট গল্প তো বটেই, 'আম আঁটির ভেঁপু' আমার স্কুল জীবনে পড়া একাধারে পছন্দের আর কষ্টের বই। যে সময়ে বাঙালী জাতি আর বাংলাদেশের (পশ্চিম-পূর্ববঙ্গ মিলিয়ে) মানুষের জগৎ ছিলো সীমাবদ্ধ, সেই সময়ে বিভূতিভূষণ বাংলা ভাষী তরুণ চরিত্রকে হাজির করেছেন আফ্রিকার বিপদসংকুল অরণ্য থেকে শুরু করে চীনের যুদ্ধে, এইটাই আমার কাছে বেশি সাবাশের মনে হয়। এই বইটা পড়তে গিয়ে আরেকবার টের পেলাম, বাক্যগঠন, সাবলীলভাবে গল্প এগিয়ে নেয়ার ক্ষমতা, এসব দিকে তার যে কৃতিত্ব, তাও এখনো ম্লান নয়!
July 8, 2022
জীবিকার তাগিদে সিঙ্গাপুরে উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় দুই যুবক বিমল ও সুরেশ্বর। চাকরি অবস্থা সংকীর্ণ থাকায় দুজন বেশ চিন্তিত। হঠাৎ খেয়াল করলো কেউ একজন লুকিয়ে নজর রাখছে তাদের উপর। তারপর জানা গেল চীনা চর তাদের চিকিৎসা পেশা জানার পর আগ্রহ দেখাচ্ছে তাদের যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের মানুষের চিকিৎসা করতে। এটি মূলত জাপান - চীন যুদ্ধের পটভূমিতে লেখা কিশোর এডভেঞ্চার উপন্যাস। বিভূতিভূষণের অন্যান্য লেখার তুলনায় এটা কিছুটা ভিন্ন বলা যায়।
চীন জাপান যুদ্ধে সাংহাই শহরে যুদ্ধের বীভৎসতার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। যুদ্ধে পর্যায়ক্রমে এলিস, মিনি, প্রোফেসর লী এদের সাথে পরিচয় হয়। এদের মতো কিছু মানুষ আছে বলেই, পৃথিবীটা আজও বাসযোগ্য। এই যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে নানাভাবে তারা সাহায্য করেছেন।
চীন জাপান যুদ্ধে সাংহাই শহরে যুদ্ধের বীভৎসতার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। যুদ্ধে পর্যায়ক্রমে এলিস, মিনি, প্রোফেসর লী এদের সাথে পরিচয় হয়। এদের মতো কিছু মানুষ আছে বলেই, পৃথিবীটা আজও বাসযোগ্য। এই যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে নানাভাবে তারা সাহায্য করেছেন।
July 9, 2015
ব্যাক্তি বিভূতিভূষণ ছিলেন খুব ভ্রমণপিপাসু একজন মানুষ। এডভেঞ্চার বিষয়টা তাঁর রক্তে ছিল। তাই বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় তাঁর গল্প উপন্যাসের চরিত্রেরা অভিযাত্রী হয়ে বিপদের টানে চলে গেছে একেবারে অজপাড়াগাঁ থেকে সুদূরের বিপদসংকুল কোন দেশে।
অনেকটা সেই অলিখিত নিয়ম মেনেই মরণের ডঙ্কা বাজে বইতে দুই বাঙালী যুবক চলে গেছেন বাংলাদেশ থেকে দূরবর্তী চীনদেশে। যেখানে যুদ্ধের দামামা তাদের টানছিল।
মরণের ডঙ্কা বাজে চীন-জাপানের যুদ্ধকালিন দুঃসময়ের গল্প। শক্তিশালী জাপানের ভারী বোমা বর্ষণে একে একে গুড়িয়ে যাচ্ছে চীনের বড় শহর থেকে ছোট ছোট গ্রাম--- সেই দুঃসময়ের চিত্রই লেখক এঁকেছেন এই বইতে।
বিভূতিভূষণের লেখা সবসময়ই এতোটা আন্তরিক আর ভালোমানুষি ধরনের হয় যে আমার ধারনা ছিল তিনি হয়ত একটা যুদ্ধের ধ্বংসলীলা ঠিকমতো ফুটিয়েই তুলতে পারবেন না। অথচ 'পথের পাঁচালী'র সেই সহজ সরল লেখক এখানে একেবারে ভিন্নধর্মী!
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় যেকোন অদেখা দেশ বা স্থান নিয়ে লিখবার আগে সেই জায়গা নিয়ে বিস্তর লেখাপড়া করে নেন। এখানে লেখকের "অদেখা চীন" আর "জাপানের যুদ্ধের সরঞ্জামাদির" বর্ণনায় সেটাও চোখে পড়বে।
তবে গল্পের কাহিনীটা আমার কাছে মাঝে মাঝে একটু ঢিমেতালের মনে হয়েছে। কোথাও কোথাও বর্ণনা চোখে উঠে আসতে পারেনি (না-কি আমিই আঁকতে পারিনি?)।
লেখকের দ্বিতীয় এই কিশোর উপন্যাসের সমাপ্তি ঘটে এক নব দম্পতীর হাসির মাধ্যমে। তাদের হাসি সেই সংকটময় মুহূর্তেও মনে হয় দানবীয় শক্তির ওপর--- মৃত্যুর ওপর মানুষের বিজয়ের হাসি।
অনেকটা সেই অলিখিত নিয়ম মেনেই মরণের ডঙ্কা বাজে বইতে দুই বাঙালী যুবক চলে গেছেন বাংলাদেশ থেকে দূরবর্তী চীনদেশে। যেখানে যুদ্ধের দামামা তাদের টানছিল।
মরণের ডঙ্কা বাজে চীন-জাপানের যুদ্ধকালিন দুঃসময়ের গল্প। শক্তিশালী জাপানের ভারী বোমা বর্ষণে একে একে গুড়িয়ে যাচ্ছে চীনের বড় শহর থেকে ছোট ছোট গ্রাম--- সেই দুঃসময়ের চিত্রই লেখক এঁকেছেন এই বইতে।
বিভূতিভূষণের লেখা সবসময়ই এতোটা আন্তরিক আর ভালোমানুষি ধরনের হয় যে আমার ধারনা ছিল তিনি হয়ত একটা যুদ্ধের ধ্বংসলীলা ঠিকমতো ফুটিয়েই তুলতে পারবেন না। অথচ 'পথের পাঁচালী'র সেই সহজ সরল লেখক এখানে একেবারে ভিন্নধর্মী!
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় যেকোন অদেখা দেশ বা স্থান নিয়ে লিখবার আগে সেই জায়গা নিয়ে বিস্তর লেখাপড়া করে নেন। এখানে লেখকের "অদেখা চীন" আর "জাপানের যুদ্ধের সরঞ্জামাদির" বর্ণনায় সেটাও চোখে পড়বে।
তবে গল্পের কাহিনীটা আমার কাছে মাঝে মাঝে একটু ঢিমেতালের মনে হয়েছে। কোথাও কোথাও বর্ণনা চোখে উঠে আসতে পারেনি (না-কি আমিই আঁকতে পারিনি?)।
লেখকের দ্বিতীয় এই কিশোর উপন্যাসের সমাপ্তি ঘটে এক নব দম্পতীর হাসির মাধ্যমে। তাদের হাসি সেই সংকটময় মুহূর্তেও মনে হয় দানবীয় শক্তির ওপর--- মৃত্যুর ওপর মানুষের বিজয়ের হাসি।
August 16, 2023
১৯৪০ সালের চীন-জাপান যুদ্ধের মধ্যে পড়ে যায় দুই বাঙালি যুবক সুরেশ্বর আর বিমল।যুদ্ধের ভয়াবহতার এক জীবন্ত আখ্যান এই বই।সবকিছু ছাপিয়ে মানবতা আর মানুষেরই জয় হয়- তাই প্রকাশ করেছেন লেখক।
বিভূতিভূষণের চাঁদের পাহাড়(অসম্ভব সুন্দর একটা বই) এর পর মনে হল যেন আরেকটা রোমাঞ্চকর বই পড়লাম।
বিভূতিভূষণের চাঁদের পাহাড়(অসম্ভব সুন্দর একটা বই) এর পর মনে হল যেন আরেকটা রোমাঞ্চকর বই পড়লাম।
October 1, 2026
চীন জাপানের যুদ্ধে দুই ভারতীয় যুবক গিয়ে পড়ে।ভাল লেগেছে কিন্তু বিভূতিভূষণ ফিল পেলাম না!
August 14, 2023
প্রত্যক্ষ যুদ্ধ যে কতটা ভীতিকর হতে পারে তার একটা মোটামুটি আভাস পেলাম এই বইয়ের কাহিনীতে। ফ্রন্টলাইনে জীবন কতটা অনিশ্চিত হতে পারে তাও খুব ভালোভাবেই বুঝলাম।
দুই বাঙ্গালী যুবক ভাগ্যান্বেষনে গিয়ে ঘটনাচক্রে চীন-জাপান যুদ্ধের কেন্দ্রে চলে আসে। তাদের সেই যুদ্ধের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা গুলো বইয়ের প্রতি পাতায় পাতায়। পাঠককে শিহরিত করে, যুদ্ধের ভয়াবহতা যে কি, তা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
দুই বাঙ্গালী যুবক ভাগ্যান্বেষনে গিয়ে ঘটনাচক্রে চীন-জাপান যুদ্ধের কেন্দ্রে চলে আসে। তাদের সেই যুদ্ধের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা গুলো বইয়ের প্রতি পাতায় পাতায়। পাঠককে শিহরিত করে, যুদ্ধের ভয়াবহতা যে কি, তা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
June 23, 2026
আমার সর্বপ্রথম বিভূতি ভূষণ পড়া শুরু হয় "চাঁদের পাহাড়" দিয়ে, আমার বিদ্যালয় জীবনে একটি প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতায় বইটি আমি উপহার পেয়েছিলাম। তাই আমার ধারণা ছিলো উনি শুধুমাত্র প্রকৃতি নিয়ে লেখেন। কিন্তু এটা পড়ার পর সেই ধারণাটি থেকে আমি বের হয়ে আসি।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক ভিন্নধর্মী এবং রোমাঞ্চকর উপন্যাস হলো 'মরণের ডঙ্কা বাজে'। সাধারণত আমরা বিভূতিভূষণকে প্রকৃতির রূপকার বা গ্রামীণ জীবনের শান্ত-স্নিগ্ধ আবহ তৈরির কারিগর হিসেবেই বেশি চিনি। কিন্তু এই উপন্যাসটি তাঁর সেই চেনা গণ্ডির বাইরে গিয়ে এক সম্পূর্ণ আলাদা স্বাদ দেয়।
আপনি যদি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুধু গ্রামীণ বা শান্ত প্রকৃতির লেখার বাইরে গিয়ে তাঁর রোমাঞ্চকর ও যুদ্ধকালীন পটভূমির লেখার স্বাদ নিতে চান, তবে 'মরণের ডঙ্কা বাজে' আপনার জন্য একটি চমৎকার পছন্দ হতে পারে।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক ভিন্নধর্মী এবং রোমাঞ্চকর উপন্যাস হলো 'মরণের ডঙ্কা বাজে'। সাধারণত আমরা বিভূতিভূষণকে প্রকৃতির রূপকার বা গ্রামীণ জীবনের শান্ত-স্নিগ্ধ আবহ তৈরির কারিগর হিসেবেই বেশি চিনি। কিন্তু এই উপন্যাসটি তাঁর সেই চেনা গণ্ডির বাইরে গিয়ে এক সম্পূর্ণ আলাদা স্বাদ দেয়।
আপনি যদি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুধু গ্রামীণ বা শান্ত প্রকৃতির লেখার বাইরে গিয়ে তাঁর রোমাঞ্চকর ও যুদ্ধকালীন পটভূমির লেখার স্বাদ নিতে চান, তবে 'মরণের ডঙ্কা বাজে' আপনার জন্য একটি চমৎকার পছন্দ হতে পারে।
September 7, 2023
Landmine Has taken my sight
Taken my speech, Taken my hearing
Taken my arms, Taken my legs
Taken my soul, Left me with life in Hell
Hold my breath as I wish for death
Oh please, God, wake me
Now the world is gone, I'm just one
Oh God, help me
Hold my breath as I wish for death
Oh please, God, help me!
(One By Metallica)
বিভূতিভূষণ সব বিষয়ে লিখতে পারেন। তাকে শুধু একটা সিনারিও দিন। এমন জিনিস লিখে দেবেন যেন আপনি সামনে বসে ফুল সিনেপ্লেক্সের ফিল পাচ্ছেন। মাই গড!
বার্মায় জাপানিজ অভিযান আসলে ২য় বিশ্বযুদ্ধের এক বিস্মৃতপ্রায় অধ্যায়। আর চীন জাপান যুদ্ধকে হয়ত মানুষ মনে রেখেছে রেপ অফ নানকিং এর জন্যই।
তবে কতটা ভয়ানক ছিল সেই যুদ্ধ? বিভূতির জাদুকরী কলমে তার আভাস দেওয়া আছে। যেন একদম চাক্ষুষ। আবার শেষে শোনানো হয়েছে ধ্বংসের মধ্যেও নতুন প্রাণের গান।
যুদ্ধ মানব সভ্যতার একটা অবিমিশ্র পার্ট। ভাঙবে, গড়বে। কখন এর সমাপ্তি, কেউ জানে না, ১৯৪০ এ বিভূতিভূষণও জানতেন না। তবে তাতে থেমে গেলে হবে না। যুদ্ধ মানুষকে যেমন নিষ্ঠুর করে, তেমনি মানবতাও শেখায়৷ যেমন ঘৃণার উল্টোপিঠে থাকে ভালবাসা।
আসুন, বিমল আর সুরেশ্বরের সঙ্গী হোন। দেখে নিন এই ভাঙাগড়া, ঘৃণা-প্রেম, অস্ত্র-সেবার হোলিখেলা।
গল্পটা গপ্পো মীরের ঠেকের থেকেই শুনে নেবেন, উপস্থাপনা চমৎকার।
July 10, 2026
I guess I had read this as a kid, because I definitely remember getting a copy from the library once, but I remembered absolutely nothing about it, and the blurb felt intriguing; hence, I revisited it, and I know I will forget it again. This is pure amateurish prose; I understand that my childhood favourite book from this author, চাঁদের পাহাড়, is also written for the younger crowd, but the prose is brilliant enough to allure a grown-up man too. In this case, the author wished to be concise, but he went to such an extreme that it felt like lacklustre documentation rather than the coherent, empathetic tale that it aspired to be. Ambitious enough, I will give it that, but any tale of war that wishes to integrate so many other elements into it demands considerably more depth and space.
April 14, 2026
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মরণের ডঙ্কা বাজে’ উপন্যাসটি বই আকারে প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে। তার আগে অবশ্য উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে ১৯৩৮ সালে তৎকালীন জনপ্রিয় পত্রিকা মৌচাকে প্রকাশিত হয়। ১৯৩৭ সালে শুরু হওয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাস। অবশ্য যুদ্ধের সামগ্রিক অবস্থা উঠে আসেনি গল্পে; চীন - জাপানের মধ্যকার যুদ্ধের ভয়াবহতাই মূলত পুরো উপন্যাস জুড়ে এসেছে।
উপন্যাসের কাহিনী আবর্তিত হয় দুই ভারতীয় তরুণ বিমল ও সুরেশ্বরকে ঘিরে। সিঙ্গাপুরগামী জাহাজের কামরায় দেখা হয় তাদের। একজন যাচ্ছে কোম্পানির হয়ে ঔষধের ব্যবসা করতে, আরেকজন ডাক্তারি করতে। বাঙালি হওয়ায় দুজনের মধ্যেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সিঙ্গাপুরে পৌঁছে দুজন ওঠেও একই হোটেলে। এদিকে রহস্যজনক ভাবে হোটেলে উঠে একটি চিঠি পায় তারা যেখানে দুজন মানুষের সাথে দেখা করতে বলা হয়। আর দেখা করতে গিয়েই তারা অফার পায় চীনে চাকরির চুক্তির। লোভনীয় সেই অফারকে উপেক্ষা করতে পারে না বিমল এবং সুরেশ্বর। দুজনেই সিঙ্গাপুর থেকে চলে যায় চীনে । চীনের অবস্থা তখন ভয়াবহ। জাপানের যুদ্ধে বিধ্বস্ত চীনের মানুষজন। একাধারে সেখানে চলছে গনহত্যা, ভাঙচুর, লুটপাট আর অপহরণ। এমনাবস্থার যাত্রা পথে সুরেশ্বর আর বিমলের পরিচয় হয় বৃদ্ধ প্রফেসর লির সাথে। সেই সাথে যুদ্ধের ময়দানেই তাদের দেখা হয় মার্কিন তরুণী অ্যালিস এবং মিনির সাথে। পাঁচজনই ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে আসলেও পাঁচজনের ব্রতই ছিলো একই; যুদ্ধপীড়িতদের সেবা করা।
এই সময়ে এসে বিভূতিভূষণের লেখাটা আজকের দিনে খুব সহজ হলেও ১৯৩৭-৩৮ সালে খুব সহজ কিছু ছিল না। তবে উপন্যাটি যেহেতু প্রায় দেড় বছর সময় নিয়ে ধারাবাহিক আকারে প্রকাশ হয়েছে, তাতে বলা যেতে পারে লেখক বেশ ভালোভাবেই তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে মরণের ডঙ্কা বাজে উপন্যাটি রচনা করেছেন। বইয়ের বিভিন্ন ঘটনাবলি এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন বর্ণনা অন্তত তাই বলে। বইটিতে যুদ্ধের ভয়াবহতা তিনি দারুণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। চোখের সামনে অনেক কিছুই কল্পনা করা যাচ্ছিল। কামানের গোলা, বারুদের গন্ধ, রণক্ষেত্রের আকস্মিক আক্রমণ, নির্মমতা, শোচনীয় মৃত্যুর মতো বিষয় তথা যুদ্ধের দামামা পুরোপুরিভাবে লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর লেখনশৈলীর মেজাজ-মতো বিষয় নয়। যার মাঝে পরিচিত লেখককে খুঁজে পাওয়া বেশ কষ্টকর বটে। তারপরেও লেখক সুনিপুণভাবে একটি ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিকে উপন্যাস আকারে রূপ দিতে কোনো প্রকার ত্রুটি রাখেননি।
একটা যুদ্ধ দেশের জন্য কতটা ক্ষতিকর যারা তার সম্মুখীন হয় তারাই জানে। পুরো একটা জাতিকে ধ্বংস করে এই যুদ্ধ। হানাহানি রেশারেশিতে প্রাণ যায় নিরীহ জনগণের। উপন্যাসের এই ঘটনাগুলোই একজন পাঠকের মন বিষাদে ভরিয়ে তুলবে।
উপন্যাসের কাহিনী আবর্তিত হয় দুই ভারতীয় তরুণ বিমল ও সুরেশ্বরকে ঘিরে। সিঙ্গাপুরগামী জাহাজের কামরায় দেখা হয় তাদের। একজন যাচ্ছে কোম্পানির হয়ে ঔষধের ব্যবসা করতে, আরেকজন ডাক্তারি করতে। বাঙালি হওয়ায় দুজনের মধ্যেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সিঙ্গাপুরে পৌঁছে দুজন ওঠেও একই হোটেলে। এদিকে রহস্যজনক ভাবে হোটেলে উঠে একটি চিঠি পায় তারা যেখানে দুজন মানুষের সাথে দেখা করতে বলা হয়। আর দেখা করতে গিয়েই তারা অফার পায় চীনে চাকরির চুক্তির। লোভনীয় সেই অফারকে উপেক্ষা করতে পারে না বিমল এবং সুরেশ্বর। দুজনেই সিঙ্গাপুর থেকে চলে যায় চীনে । চীনের অবস্থা তখন ভয়াবহ। জাপানের যুদ্ধে বিধ্বস্ত চীনের মানুষজন। একাধারে সেখানে চলছে গনহত্যা, ভাঙচুর, লুটপাট আর অপহরণ। এমনাবস্থার যাত্রা পথে সুরেশ্বর আর বিমলের পরিচয় হয় বৃদ্ধ প্রফেসর লির সাথে। সেই সাথে যুদ্ধের ময়দানেই তাদের দেখা হয় মার্কিন তরুণী অ্যালিস এবং মিনির সাথে। পাঁচজনই ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে আসলেও পাঁচজনের ব্রতই ছিলো একই; যুদ্ধপীড়িতদের সেবা করা।
এই সময়ে এসে বিভূতিভূষণের লেখাটা আজকের দিনে খুব সহজ হলেও ১৯৩৭-৩৮ সালে খুব সহজ কিছু ছিল না। তবে উপন্যাটি যেহেতু প্রায় দেড় বছর সময় নিয়ে ধারাবাহিক আকারে প্রকাশ হয়েছে, তাতে বলা যেতে পারে লেখক বেশ ভালোভাবেই তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে মরণের ডঙ্কা বাজে উপন্যাটি রচনা করেছেন। বইয়ের বিভিন্ন ঘটনাবলি এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন বর্ণনা অন্তত তাই বলে। বইটিতে যুদ্ধের ভয়াবহতা তিনি দারুণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। চোখের সামনে অনেক কিছুই কল্পনা করা যাচ্ছিল। কামানের গোলা, বারুদের গন্ধ, রণক্ষেত্রের আকস্মিক আক্রমণ, নির্মমতা, শোচনীয় মৃত্যুর মতো বিষয় তথা যুদ্ধের দামামা পুরোপুরিভাবে লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর লেখনশৈলীর মেজাজ-মতো বিষয় নয়। যার মাঝে পরিচিত লেখককে খুঁজে পাওয়া বেশ কষ্টকর বটে। তারপরেও লেখক সুনিপুণভাবে একটি ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিকে উপন্যাস আকারে রূপ দিতে কোনো প্রকার ত্রুটি রাখেননি।
একটা যুদ্ধ দেশের জন্য কতটা ক্ষতিকর যারা তার সম্মুখীন হয় তারাই জানে। পুরো একটা জাতিকে ধ্বংস করে এই যুদ্ধ। হানাহানি রেশারেশিতে প্রাণ যায় নিরীহ জনগণের। উপন্যাসের এই ঘটনাগুলোই একজন পাঠকের মন বিষাদে ভরিয়ে তুলবে।
January 11, 2026
বিভূতিভূষণের আরেকটা মাস্টারপিস "মরণের ডঙ্কা বাজে"। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বইটা রচিত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে অনেকটা ভাগ্যন্বেষণে বিমল ও সুরেশ্বর তৎকালীন ব্রিটিশ অধিকৃত সিঙ্গাপুরে পৌঁছেন। প্রাথমিকভাবে সিঙ্গাপুরে থাকবার কথা থাকলেও চীনারা তাদের প্রস্তাব দেয় তাদের হয়ে চীনে গিয়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজ করবার। বিমল ও সুরেশ্বর রাজি হয় তাদের হয়ে কাজ করবার।
পরবর্তীতে নানাবিধ ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে তাঁরা চীনের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছান।
সে সময়টাতে চীনে জাপানের আগ্রাসন চলছে। দলে দলে যুদ্ধাহত লোকজন আসছে হাসপাতালে। আবার একদল লোক বেরিয়েছে যুদ্ধের ময়দানে নিজেদের অসৎ স্বার্থ চরিতার্থ করতে। একটা সময় আমেরিকান তরুণী এ্যালিস, অধ্যাপক লি এর মতো মহানুভব লোকজনের সাথে। তাঁদের নিয়ে কাহিনি আবর্তিত হয়েছে এখানে।
বিভূতিভূষণের লেখা মানেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিবরণী। এ লেখাতেও তার কিছুটা হলেও পরিচয় পাওয়া যায়।
আচ্ছা, যুদ্ধের সময়টাতে কিংবা এর আশপাশের সময়টাতে লেখক কি চীন, সিঙ্গাপুর কিংবা বার্মায় গিয়েছিলেন? নতুবা এতোটা দারুণ বর্ণনা লিপিবদ্ধ করলেন কিভাবে???
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে অনেকটা ভাগ্যন্বেষণে বিমল ও সুরেশ্বর তৎকালীন ব্রিটিশ অধিকৃত সিঙ্গাপুরে পৌঁছেন। প্রাথমিকভাবে সিঙ্গাপুরে থাকবার কথা থাকলেও চীনারা তাদের প্রস্তাব দেয় তাদের হয়ে চীনে গিয়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজ করবার। বিমল ও সুরেশ্বর রাজি হয় তাদের হয়ে কাজ করবার।
পরবর্তীতে নানাবিধ ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে তাঁরা চীনের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছান।
সে সময়টাতে চীনে জাপানের আগ্রাসন চলছে। দলে দলে যুদ্ধাহত লোকজন আসছে হাসপাতালে। আবার একদল লোক বেরিয়েছে যুদ্ধের ময়দানে নিজেদের অসৎ স্বার্থ চরিতার্থ করতে। একটা সময় আমেরিকান তরুণী এ্যালিস, অধ্যাপক লি এর মতো মহানুভব লোকজনের সাথে। তাঁদের নিয়ে কাহিনি আবর্তিত হয়েছে এখানে।
বিভূতিভূষণের লেখা মানেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিবরণী। এ লেখাতেও তার কিছুটা হলেও পরিচয় পাওয়া যায়।
আচ্ছা, যুদ্ধের সময়টাতে কিংবা এর আশপাশের সময়টাতে লেখক কি চীন, সিঙ্গাপুর কিংবা বার্মায় গিয়েছিলেন? নতুবা এতোটা দারুণ বর্ণনা লিপিবদ্ধ করলেন কিভাবে???
May 24, 2026
বইটার প্রেক্ষাপট চীন - জাপান যুদ্ধ।
একটা জাতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয় এই যুদ্ধ!
বিভূতিভূষণের এত নিখুঁত আর জীবন্ত বর্ণনা ছিল যে পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল আমি নিজেই যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করছি।
একটা জাতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয় এই যুদ্ধ!
বিভূতিভূষণের এত নিখুঁত আর জীবন্ত বর্ণনা ছিল যে পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল আমি নিজেই যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করছি।
August 19, 2022
বিভূতিবাবুর রচনার অলঙ্কার হল 'বর্ণনাশৈলী'। বর্ণনার গভীরতায় উপন্যাসের ঘটনাবলী সময়ের থেকে অনেকটা এগিয়ে যায়। এই কাহিনীও তেমনি সুদূরপ্রসারী। যুদ্ধের ভয়াবহ পরিবেশে সংকটের বাতাবরণে কল্পিত পাঁচটি কেন্দ্রীয় চরিত্রের সঙ্গে বর্তমান সময়ের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বহু অসহায় অথচ জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় লড়াকু যুবক-যুবতীর মিল খুঁজে পাওয়া যায়। কিশোর-কিশোরী বেলায় এই রচনা হয়তো যুদ্ধময় পরিস্থিতির বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও মানুষের নৃশংসতার সঙ্গে পরিচয় করাবে। তবে বড় হয়ে যদি আবারও এই উপন্যাসের স্বাদ গ্রহণ করা হয় বিশেষত বর্তমানে যদি এই কাহিনীর প্রতি মোড়কে একটুকু শ্বাসবায়ু খুঁজতে চান তাহলে একবিংশ শতকের দুই ভয়াবহ ঘটনার অভিজ্ঞতার সঙ্গে আশ্চর্য মিল খুঁজে পাবেন; এক, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ; দুই, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ।
বিমল, সুরেশ্বর, মিনি, এ্যালিস ও প্রফেসর লি প্রত্যেকের জীবনসংকটের মধ্যেও একে-অপরের সঙ্গটুকু অবিচ্ছিন্নরূপে গড়ে তোলার মানবিকতা, কেন্দ্রীয় সংকট হতে উত্তরণের বার্তা বয়ে নিয়ে আসে। এখানে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত লড়াইয়ের মানসিকতা একটা গোটা প্রজন্মকে শিখিয়ে দেয় 'আত্মত্যাগ'-ও সাহসিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বিভূতিবাবুর কালজয়ী চরিত্রের তথা উপন্যাসের সার্থকতা এখানেই।
বিমল, সুরেশ্বর, মিনি, এ্যালিস ও প্রফেসর লি প্রত্যেকের জীবনসংকটের মধ্যেও একে-অপরের সঙ্গটুকু অবিচ্ছিন্নরূপে গড়ে তোলার মানবিকতা, কেন্দ্রীয় সংকট হতে উত্তরণের বার্তা বয়ে নিয়ে আসে। এখানে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত লড়াইয়ের মানসিকতা একটা গোটা প্রজন্মকে শিখিয়ে দেয় 'আত্মত্যাগ'-ও সাহসিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বিভূতিবাবুর কালজয়ী চরিত্রের তথা উপন্যাসের সার্থকতা এখানেই।
October 30, 2024
#বুক_রিভিউ
দুই বাঙালী তরুণ সুরেশ্বর ও বিমল। ভাগ্যান্বেষণ করতে রওনা হয়েছিলেন সাগরপথে। গন্তব্য সিঙ্গাপুর। জাহাজেই দেখা হয় দুজনেরই। আস্তে আস্তে পরিচিত হয়ে উঠেন এবং গন্তব্য পৌছে যান। কিন্তু বাধ সাদলো নিজের বিবেক। ঘটনাক্রমে সেই বিবেকের তাড়নায় ছুটে যান দুইজনই বিধ্বস্ত চীনে রোগীদের সেবা করতে। যেখানে চলছে চীন-জাপান যুদ্ধ(১৯৩৭-১৯৪৫)। জাপান একের পর এক বোমারু প্লেন নীল আকাশকে কালো করে যাচ্ছে চীনের উপর বোমাবর্ষণ করে।
বইটা পড়ে মনে হচ্ছিলো কোনো নরকে চলে গিয়েছি আমি। প্রত্যক্ষ যুদ্ধ যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা পাতায় পাতায় ফুটে উঠেছে। ফ্রন্টলাইনের যোদ্ধাদের নিজের জীবন নিয়ে চিন্তা করা যে বোকামী তা দেখিয়ে দিয়েছে বইটা। সাধারণ মানুষের মানবেতর জীবনযাপন, পদে পদে ম*রার ভয় বাঙ্গালী যুবকদের মাধ্যমে লেখক পাঠকদেরও সেখানে নিয়ে গিয়েছেন।
লেখক যুদ্ধ চলাকালীন সময়েই এই বইটা লিখেছেন। এ এক অন্য বিভূতিভূষণ এর লেখা বলা যায়। যেরকম সবসময় আমরা উনার বই পড়ে এসেছি এটা তার ভিন্ন। অনেক তথ্যবহুল বইটা। যুদ্ধ ও মানবতার একটা মিশ্রণ এই বইটা বলতে গেলে।
সতীর্থ প্রকাশনীর পেপারব্যাক এই এডিশনটার বাইন্ডিং আমার দারুণ লেগেছে। আরামসে খুলে পড়া যায়। প্রচ্ছদটাও সুন্দর। যারা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সাথে মানবতার গল্প পড়তে চান তাদের জন্য এই বইটা উপভোগ্য হবে।
মরণের ডঙ্কা বাজে
লেখক: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশনী: সতীর্থ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৮
দুই বাঙালী তরুণ সুরেশ্বর ও বিমল। ভাগ্যান্বেষণ করতে রওনা হয়েছিলেন সাগরপথে। গন্তব্য সিঙ্গাপুর। জাহাজেই দেখা হয় দুজনেরই। আস্তে আস্তে পরিচিত হয়ে উঠেন এবং গন্তব্য পৌছে যান। কিন্তু বাধ সাদলো নিজের বিবেক। ঘটনাক্রমে সেই বিবেকের তাড়নায় ছুটে যান দুইজনই বিধ্বস্ত চীনে রোগীদের সেবা করতে। যেখানে চলছে চীন-জাপান যুদ্ধ(১৯৩৭-১৯৪৫)। জাপান একের পর এক বোমারু প্লেন নীল আকাশকে কালো করে যাচ্ছে চীনের উপর বোমাবর্ষণ করে।
বইটা পড়ে মনে হচ্ছিলো কোনো নরকে চলে গিয়েছি আমি। প্রত্যক্ষ যুদ্ধ যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা পাতায় পাতায় ফুটে উঠেছে। ফ্রন্টলাইনের যোদ্ধাদের নিজের জীবন নিয়ে চিন্তা করা যে বোকামী তা দেখিয়ে দিয়েছে বইটা। সাধারণ মানুষের মানবেতর জীবনযাপন, পদে পদে ম*রার ভয় বাঙ্গালী যুবকদের মাধ্যমে লেখক পাঠকদেরও সেখানে নিয়ে গিয়েছেন।
লেখক যুদ্ধ চলাকালীন সময়েই এই বইটা লিখেছেন। এ এক অন্য বিভূতিভূষণ এর লেখা বলা যায়। যেরকম সবসময় আমরা উনার বই পড়ে এসেছি এটা তার ভিন্ন। অনেক তথ্যবহুল বইটা। যুদ্ধ ও মানবতার একটা মিশ্রণ এই বইটা বলতে গেলে।
সতীর্থ প্রকাশনীর পেপারব্যাক এই এডিশনটার বাইন্ডিং আমার দারুণ লেগেছে। আরামসে খুলে পড়া যায়। প্রচ্ছদটাও সুন্দর। যারা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সাথে মানবতার গল্প পড়তে চান তাদের জন্য এই বইটা উপভোগ্য হবে।
মরণের ডঙ্কা বাজে
লেখক: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশনী: সতীর্থ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৮
October 19, 2025
নিজের স্বভাবসিদ্ধ লেখার প্রেক্ষাপটের বাইরে গিয়েও বিভূতিবাবু চমৎকার লিখেছেন।
May 31, 2023
স্তব্ধ আবহাওয়াতে যখন বজ্রপাত হয় তখন ভয়ে গুটিসুটি হয়ে যেমন করে ঘরের কোণে লুকিয়ে থাকি তেমনি 'মরণের ডঙ্কা বাজে'! ভয়ংকর মুহুর্ত গুলোতে লেখক যেমন করে মানুষকে বাঁচাতে পারেননি, অকাতরে দুঃখের বলিয়ান শক্তি বর্ণনা করেছেন তার তুলনা আমি কিসের সাথে দিব। যুদ্ধের বিভীষিকায় মনুষ্যত্বের স্থান কতটা নীচে লেখক শব্দ দিয়ে বর্ণনা করতে পারেন নি। নিষ্পাপ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হওয়ার উৎসব চিরকাল ছিল যুদ্ধের ময়দানে।
লেখক মানবতাহীন হয়ে শুধু যুদ্ধের বাঁকের গল্প বলেন নি, বলেছেন মানবতার প্রতীক রুপে ডাক্তারদের আত্মত্যাগের কথা। মিস্টার. লি ছিল শাদা কুর্তা পরিহিত ধোপদুরস্ত চীনের উজ্জ্বলতার প্রতীক। তার নির্বিকার সাহায্য করার প্রতিমা মূর্তি সৌন্দর্যের অপরুপ। সুরেশ্বর, বিমল, মিনি, এ্যালিস সকলে একই সূত্রে গাঁথা নঁকশি কাথার বুনন। একে অপরের যেন বাঁধা সেতু।
বিমলের মানুষকে সাহায্য করার প্রবৃত্তি লেখকের সাহসিকতার দৃষ্টান্ত। তিনি এঁকেছেন ভারতীয় বাঙালির অদম্য মনোবলে বেড়ে উঠা এক মানবতার ফেরিওয়ালাকে! সে যেন ভাঙা চাউলের মত শত চাউলের জায়গা করে দেওয়া সুক্ষ্ম প্রতীক!
বইটির সারসংক্ষেপ হলো, দুজন বাঙালি সিঙ্গাপুর গিয়েছে নিজেদের উন্নতি সাধনে। কিন্তু ভাগ্যের কল্যাণে তারা চীনের সাহাংই শহরে আসে চীন জাপান যুদ্ধে আহত সৈনিকদের সাহায্য করতে। এখানে নানান ঘাত প্রতিঘাতে, রক্ত, বোমা, মেশিনগানের শব্দে মানবতার চরম পরিণতীর কথা লেখক তুলে এনেছেন।
লেখক মানবতাহীন হয়ে শুধু যুদ্ধের বাঁকের গল্প বলেন নি, বলেছেন মানবতার প্রতীক রুপে ডাক্তারদের আত্মত্যাগের কথা। মিস্টার. লি ছিল শাদা কুর্তা পরিহিত ধোপদুরস্ত চীনের উজ্জ্বলতার প্রতীক। তার নির্বিকার সাহায্য করার প্রতিমা মূর্তি সৌন্দর্যের অপরুপ। সুরেশ্বর, বিমল, মিনি, এ্যালিস সকলে একই সূত্রে গাঁথা নঁকশি কাথার বুনন। একে অপরের যেন বাঁধা সেতু।
বিমলের মানুষকে সাহায্য করার প্রবৃত্তি লেখকের সাহসিকতার দৃষ্টান্ত। তিনি এঁকেছেন ভারতীয় বাঙালির অদম্য মনোবলে বেড়ে উঠা এক মানবতার ফেরিওয়ালাকে! সে যেন ভাঙা চাউলের মত শত চাউলের জায়গা করে দেওয়া সুক্ষ্ম প্রতীক!
বইটির সারসংক্ষেপ হলো, দুজন বাঙালি সিঙ্গাপুর গিয়েছে নিজেদের উন্নতি সাধনে। কিন্তু ভাগ্যের কল্যাণে তারা চীনের সাহাংই শহরে আসে চীন জাপান যুদ্ধে আহত সৈনিকদের সাহায্য করতে। এখানে নানান ঘাত প্রতিঘাতে, রক্ত, বোমা, মেশিনগানের শব্দে মানবতার চরম পরিণতীর কথা লেখক তুলে এনেছেন।
Read
December 29, 2021মাত্র শেষ করলাম "মরণের ডঙ্কা বাজে"।
শুরুটা জীবীকার খোঁজে সিঙ্গাপুরে রওনা হওয়া দুই তরুণ বিমল আর সুরেশ্বরের। ঘটনাক্রমে তারা চলে যায় চীনে,পরিচিত হয় প্রফেসর লি,এ্যালিস,মিনি সহ নানা চরিত্রের সাথে প্রত্যক্ষ করে যুদ্ধের হত্যালীলা, ধ্বংসাযজ্ঞ,ভয়াবহতা।
এটি মূলত চীন - জাপান যুদ্ধের পটভূমিতে লেখা এক কিশোর অ্যাভেঞ্চার উপন্যাস।
বিভূতিভূষণের অন্য সব লেখার সাথে এটাকে খাপ খাওয়াতে একটু কষ্ট হয়েছে বলতেই হবে।
পুরো বইয়েই কাহিনীর মধ্যে কখনোই নিজেকে পুরোপুরি ডুবাতে পারিনি।
বিভূতিভূষণের সব লেখা পড়ার ইচ্ছা আছে তাই শেষ করেছি।
তবে অন্য সব লেখার মত এখানেও প্রকৃতির বর্ণনা যতটুকু ছিলো পড়ে মুগ্ধ হয়েছি।
সেই ৪০ এর দশকে, একটা জায়গায় না গিয়ে শুধু বই পড়ে এত নিপুণ কৌশলে সেখানকার বর্ণনা করা হয়তো বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই সম্ভব।
বইটা কিশোর বেলায় পড়তে পারলে আরো ভালো লাগতো বলেই আমার বিশ্বাস।
রেটিং ৩ দিলে মনে হচ্ছে কম হয়ে যাচ্ছে আবার ৪ দিলে বেশি হচ্ছে।
তাই ৩.৫/৫ দিতে হচ্ছে।
২৯.১২.২০২১
শুরুটা জীবীকার খোঁজে সিঙ্গাপুরে রওনা হওয়া দুই তরুণ বিমল আর সুরেশ্বরের। ঘটনাক্রমে তারা চলে যায় চীনে,পরিচিত হয় প্রফেসর লি,এ্যালিস,মিনি সহ নানা চরিত্রের সাথে প্রত্যক্ষ করে যুদ্ধের হত্যালীলা, ধ্বংসাযজ্ঞ,ভয়াবহতা।
এটি মূলত চীন - জাপান যুদ্ধের পটভূমিতে লেখা এক কিশোর অ্যাভেঞ্চার উপন্যাস।
বিভূতিভূষণের অন্য সব লেখার সাথে এটাকে খাপ খাওয়াতে একটু কষ্ট হয়েছে বলতেই হবে।
পুরো বইয়েই কাহিনীর মধ্যে কখনোই নিজেকে পুরোপুরি ডুবাতে পারিনি।
বিভূতিভূষণের সব লেখা পড়ার ইচ্ছা আছে তাই শেষ করেছি।
তবে অন্য সব লেখার মত এখানেও প্রকৃতির বর্ণনা যতটুকু ছিলো পড়ে মুগ্ধ হয়েছি।
সেই ৪০ এর দশকে, একটা জায়গায় না গিয়ে শুধু বই পড়ে এত নিপুণ কৌশলে সেখানকার বর্ণনা করা হয়তো বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই সম্ভব।
বইটা কিশোর বেলায় পড়তে পারলে আরো ভালো লাগতো বলেই আমার বিশ্বাস।
রেটিং ৩ দিলে মনে হচ্ছে কম হয়ে যাচ্ছে আবার ৪ দিলে বেশি হচ্ছে।
তাই ৩.৫/৫ দিতে হচ্ছে।
২৯.১২.২০২১
October 24, 2024
First read: October 24, 2024
Second read: August 7, 2026
Second read: August 7, 2026
February 22, 2025
বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিকায় লেখা অনেক ইংরেজি উপন্যাস পড়েছি। কিন্তু বাংলায় এনিয়ে যে এমন মর্মস্পর্শী উপন্যাস আছে, এ আমার অজানা ছিলো। বিভূতিভূষণ প্রণম্য! যে বিষয়ে হাত দিয়েছেন তাতেই সোনা ফলিয়েছেন। অথচ কি আশ্চর্য পরিমিতিবোধে সফল থিমের কাছে বারবার ফিরে ফিরে আসেননি। তবে শুধু যুদ্ধকালীন বীভৎসতার নয়, এ কাহিনি দুই বাঙালি যুবকের বিদেশবিভুইতে অ্যাডভেঞ্চারেরও। সেদিক থেকে ‘চাঁদের পাহাড়’ বা ‘হীরা মাণিক জ্বলে’র সাথে এক পঙক্তিতেও বসানো যায় হয়তো। মানুষের থেকে পরিপার্শ্বের বর্ণনা বিভূতিভূষণের কলমে যেন প্রাণ পায়। বাংলার শ্যামল গ্রাম হোক বা লবটুলিয়া বইহারের আদিমতা বা যুদ্ধবিধ্বস্ত স্যাংহাই — এরাই যেনো কাহিনিগুলোর মূল চরিত্র হয়ে ওঠে।
আমার খুবই ভালো লেগেছে। এতদিন পড়িনি ভেবে খারাপও।
আমার খুবই ভালো লেগেছে। এতদিন পড়িনি ভেবে খারাপও।
September 17, 2024
মানব সভ্যতার ইতিহাসে যুদ্ধ বিগ্রহ লেগেই থাকে, মাথার উপর মরণের ডঙ্কা বাজে কিন্তু তার মধ্যেই উঁকি দেয় প্রেম, বেঁচে থাকে ভালোবাসা।
ভারতবর্ষের এক লেখক যিনি পাড়াগাঁয়ের গল্প লিখে মানুষকে মোহিত করতেন, সেই মানুষ নাকি জাপান ও চীনের যুদ্ধ নিয়েও একখানা বই লিখেছেন এবং তার মাঝেও ভালোবাসা দেখিয়েছেন--এটা ভাবতেও তো ভালো লাগে।
ব্যস্ত দিনে বিভূতিভূষণের একটা বই পড়ার সময় বের করাটাই তো কেমন আনন্দের ব্যাপার।❣️
ভারতবর্ষের এক লেখক যিনি পাড়াগাঁয়ের গল্প লিখে মানুষকে মোহিত করতেন, সেই মানুষ নাকি জাপান ও চীনের যুদ্ধ নিয়েও একখানা বই লিখেছেন এবং তার মাঝেও ভালোবাসা দেখিয়েছেন--এটা ভাবতেও তো ভালো লাগে।
ব্যস্ত দিনে বিভূতিভূষণের একটা বই পড়ার সময় বের করাটাই তো কেমন আনন্দের ব্যাপার।❣️
November 29, 2023
গল্পের প্রেক্ষাপট চীন-জাপান যুদ্ধ। দুই ভারতীয় যুবক ঘটনাক্রমে হয়ে যায় এই যুদ্ধের অংশ। বইটি মূলত তাদের অভিজ্ঞতার বর্ননা।
মনে হচ্ছিল আমিই যেন যুদ্ধক্ষেত্রে বর্তমান, এই বুঝি কোনো বোমা এসে পড়ল। বোমা, গোলাগুলি সাক্ষী দেয় যুদ্ধের ভয়াবহতা, মানুষের পৈশাচিক রূপ আর এ্যালিস, বিমলরা প্রমাণ করে মনুষ্যত্ববোধ।
মনে হচ্ছিল আমিই যেন যুদ্ধক্ষেত্রে বর্তমান, এই বুঝি কোনো বোমা এসে পড়ল। বোমা, গোলাগুলি সাক্ষী দেয় যুদ্ধের ভয়াবহতা, মানুষের পৈশাচিক রূপ আর এ্যালিস, বিমলরা প্রমাণ করে মনুষ্যত্ববোধ।
August 3, 2025
বারবার গাজার কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল l
May 20, 2026
যুদ্ধ বর্বরের ব্যাবসা
February 12, 2019
This book reminded me of a scene from movie "the good the bad and the ugly" where captain said, "They're beginning their daily slaughter right on time".
May 9, 2025
চারিদিকে যুদ্ধের আবহ। এর চেয়ে উপযুক্ত সময় বোধহয় আর কোনোদিনই আসবে না এই উপন্যাসটি পড়ার। যদিও মন অশান্ত, ছোট্ট উপন্যাস পড়তে তাই সময়ও লাগল একটু বেশি।
দুই বাঙালি যুবক সুরেশ্বর ও বিমল নিজ-নিজ কাজ (মেডিক্যাল ফিল্ডের) নিয়ে চলেছে সিঙ্গাপুর। সেখান থেকে ভাগ্যের ফেরে গিয়ে পৌঁছায় দু'জনে চিনদেশে, চিন বনাম জাপানের যুদ্ধের মাঝে। যোগ দেয় দু'জন চিকিৎসা ও ওষুধ সংক্রান্ত কাজে। সেই কাজের সূত্রেই বারংবার প্রত্যক্ষ যুদ্ধরোষের কবলে পড়া, যুদ্ধকালীন সমাজচিত্র অনুভব করা এবং যাযাবরবৃত্তি।
বিষয়বস্তু শুনে আকর্ষণীয় মনে হলেও আমার এটিকে অনেকাংশেই একটি দুর্বল উপন্যাস বলে মনে হয়েছে। তার মূল কারণ হল -
১) বাঙালি চরিত্রদের আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নিয়ে গিয়ে ফেলার প্রচেষ্টা চাঁদের পাহাড়ের মতন এইবারে ততটা সার্থক মনে হল না। সবই যেন কেমন অতিরঞ্জিত। বাঙালি যুবকেরা হুট করে চিনে গিয়ে সাবলীলভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে, বিদেশিনী বান্ধবী জুটিয়ে স্নেহ-আদর পাচ্ছে, বুড়ো প্রফেসর ঈশ্বরীয়ভাবে সবজায়গায় গিয়ে কাব্যিক ছন্দ সার্থক করছে - সবই যেন বাস্তবের চেয়ে অনেক দূরে।
২) ঘটনাক্রম বড্ড বড্ড বড্ড বেশি রিপিটেটিভ। বারবার শুধু জাপানি বোমারু বিমান বোম ফেলছে মূল চরিত্রদের আশেপাশে আর প্রতিবারই সবাই উড়ে গেলেও আমাদের মূল চরিত্রেরা অক্ষত বেরিয়ে আসছে। একবার-দুইবার মানা যায়, তা-বলে এতবার?
৩) যুদ্ধ সংক্রান্ত সামাজিক দুঃখ প্রকটে লেখক স্টার মার্ক নিয়ে পাস করলেও যুদ্ধের খুঁটিনাটি অনেককিছু যেন বেশিই কল্পনাপ্রসূত কিংবা লজিক-বিচ্যুত। পাশে বোমা পড়ছে আর দোকানে এখনও চা খাচ্ছে সবাই - এটা কেমন কেমন না? শহরে এক জায়গাতে বোমা পড়লেও, বাকি শহর নিমেষে গুটিসুটি মেরে লুকিয়ে পড়ার কথা। সেখানে বিন্দাস রিকশা অবধি মিলছে তারপরে।
৪) যুদ্ধের প্রেক্ষাপট সম্বন্ধে বিশেষ আলোচনা নেই। হয়তো তৎকালীন সময়ে সেটার দরকার ছিল না কিন্তু এতদিন পরের কোনো পাঠকের কাছে দরকার আছে বইকি। হয়তো গুগলে খুঁজলেই মিলবে কিন্তু এতে করে একটা লেখা স্বয়ংসম্পূর্ণ হল না।
শেষের দুই পাতায় বেশ কাব্যি করা। পড়তে বেশ লাগে। কিন্তু সত্যি বলতে এই কাহিনির প্রপার এন্ডিং নেই। রিপিটেটিভ লুপে গল্প চালাতে চালাতে আরও আগে বা আরও কিছুটা টেনেও এই একই এন্ডিং বসিয়ে দেওয়া যেত। তাই উপসংহারের কোনো স্বতন্ত্রতা নেই এখানে।
কেবলমাত্র একমুঠো যুদ্ধের আবহ অনুভব করতে হলে তবেই এই কাহিনি পাঠ করা সার্থক। বাকিটুকু থ্রিলারের কায়দায় লেখা হলেও বিভূতিবাবুর বাকি উপন্যাসগুলির মতন মনে দাগ কাটবে না। অন্তত আমার ক্ষেত্রে তাই!
দুই বাঙালি যুবক সুরেশ্বর ও বিমল নিজ-নিজ কাজ (মেডিক্যাল ফিল্ডের) নিয়ে চলেছে সিঙ্গাপুর। সেখান থেকে ভাগ্যের ফেরে গিয়ে পৌঁছায় দু'জনে চিনদেশে, চিন বনাম জাপানের যুদ্ধের মাঝে। যোগ দেয় দু'জন চিকিৎসা ও ওষুধ সংক্রান্ত কাজে। সেই কাজের সূত্রেই বারংবার প্রত্যক্ষ যুদ্ধরোষের কবলে পড়া, যুদ্ধকালীন সমাজচিত্র অনুভব করা এবং যাযাবরবৃত্তি।
বিষয়বস্তু শুনে আকর্ষণীয় মনে হলেও আমার এটিকে অনেকাংশেই একটি দুর্বল উপন্যাস বলে মনে হয়েছে। তার মূল কারণ হল -
১) বাঙালি চরিত্রদের আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নিয়ে গিয়ে ফেলার প্রচেষ্টা চাঁদের পাহাড়ের মতন এইবারে ততটা সার্থক মনে হল না। সবই যেন কেমন অতিরঞ্জিত। বাঙালি যুবকেরা হুট করে চিনে গিয়ে সাবলীলভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে, বিদেশিনী বান্ধবী জুটিয়ে স্নেহ-আদর পাচ্ছে, বুড়ো প্রফেসর ঈশ্বরীয়ভাবে সবজায়গায় গিয়ে কাব্যিক ছন্দ সার্থক করছে - সবই যেন বাস্তবের চেয়ে অনেক দূরে।
২) ঘটনাক্রম বড্ড বড্ড বড্ড বেশি রিপিটেটিভ। বারবার শুধু জাপানি বোমারু বিমান বোম ফেলছে মূল চরিত্রদের আশেপাশে আর প্রতিবারই সবাই উড়ে গেলেও আমাদের মূল চরিত্রেরা অক্ষত বেরিয়ে আসছে। একবার-দুইবার মানা যায়, তা-বলে এতবার?
৩) যুদ্ধ সংক্রান্ত সামাজিক দুঃখ প্রকটে লেখক স্টার মার্ক নিয়ে পাস করলেও যুদ্ধের খুঁটিনাটি অনেককিছু যেন বেশিই কল্পনাপ্রসূত কিংবা লজিক-বিচ্যুত। পাশে বোমা পড়ছে আর দোকানে এখনও চা খাচ্ছে সবাই - এটা কেমন কেমন না? শহরে এক জায়গাতে বোমা পড়লেও, বাকি শহর নিমেষে গুটিসুটি মেরে লুকিয়ে পড়ার কথা। সেখানে বিন্দাস রিকশা অবধি মিলছে তারপরে।
৪) যুদ্ধের প্রেক্ষাপট সম্বন্ধে বিশেষ আলোচনা নেই। হয়তো তৎকালীন সময়ে সেটার দরকার ছিল না কিন্তু এতদিন পরের কোনো পাঠকের কাছে দরকার আছে বইকি। হয়তো গুগলে খুঁজলেই মিলবে কিন্তু এতে করে একটা লেখা স্বয়ংসম্পূর্ণ হল না।
শেষের দুই পাতায় বেশ কাব্যি করা। পড়তে বেশ লাগে। কিন্তু সত্যি বলতে এই কাহিনির প্রপার এন্ডিং নেই। রিপিটেটিভ লুপে গল্প চালাতে চালাতে আরও আগে বা আরও কিছুটা টেনেও এই একই এন্ডিং বসিয়ে দেওয়া যেত। তাই উপসংহারের কোনো স্বতন্ত্রতা নেই এখানে।
কেবলমাত্র একমুঠো যুদ্ধের আবহ অনুভব করতে হলে তবেই এই কাহিনি পাঠ করা সার্থক। বাকিটুকু থ্রিলারের কায়দায় লেখা হলেও বিভূতিবাবুর বাকি উপন্যাসগুলির মতন মনে দাগ কাটবে না। অন্তত আমার ক্ষেত্রে তাই!
March 18, 2019
পড়ে মন ভরলো না। বিভুতি অনেক বিনোদন দিয়ে লিখতে পারতেন, চাঁদের পাহাড় ধরণের লেখায় অনেক অভিযান আর উত্তেজনা ছিল। কিন্তু এটি পড়ে মনে হলো অল্প সময়ে তাড়াহুড়ো করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছিল। কাজেই ২ তারা।
May 12, 2021
চীন জাপান যুদ্ধের পটভূমিতে রচিত এই কাহিনী। গল্পের নায়ক দুই বাঙালি তরুণ,ভাগ্যচক্রে যারা চীনের সাংহাই শহরে চীনা মেডিকেল ইউনিটে যোগ দেয়। যুদ্ধের বীভৎস বর্ণনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পুরো কাহিনীতেই, 'অল কোয়ায়েট অ্যাট দি ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট' উপন্যাসের সঙ্গে অনেকাংশেই তুলনা করা যায় গল্পটিকে।
September 2, 2018
কিশোর উপন্যাস, তাদেরই পড়া উচিৎ। আমি বুড়িয়ে যাইনি কিন্তু বিভূতি'র উপস্থিতি আমার কাছে অন্য এক স্তরে।
July 8, 2025
সুরেশ্বর, পাঁড়াগাঁয়ের এক শিক্ষিত ছেলে, ভাগ্যের সন্ধানে ওষুধ কোম্পানির হয়ে জাহাজে চড়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে। সেই জাহাজেই সাক্ষাত হয় বিমলের সাথে ,যে কিনা সদ্য মেডিকেল পাশ করা বাঙ্গালি ছেলে প্র্যাকটিসের জন্য পাড়ি জমাচ্ছে সিঙ্গাপুর। একে তো বাঙ্গালি, তার ওপর ওষুধ আর রোগী নিয়ে কারবার বলেই ভাব হয়ে যায় দু’জনের। একসাথে সিঙ্গাপুরে কাজ করার ভাবনা করলেও বিধির ছিল অন্য পরিকল্পনা। ভাগ্যক্রমে, গিয়ে পড়লো যুদ্ধগ্রস্ত চীন দেশে। দু’জনেই জুড়ে গেল দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধের সাথে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যেভাবে ভারত উপমহাদেশকে প্রভাবিত করছে, তেমনটা চীন-জাপান যুদ্ধ প্রভাবিত করেনি বলেই হয়তো বাংলা সাহিত্যে এ নিয়ে লিখালিখি তেমন নেই। তাই বিভূতির এই লিখাটা আসলেই বেশ আলাদা।
বিভূতির অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো পরিবেশের বর্ণনা দেয়া। ‘পথের পাঁচালী’, ‘আরণ্যক’ এর মতো এতেও চারপাশের পরিবেশ যেমন সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তাতে যুদ্ধ পীড়িত এলাকা, সেখানকার মানুষজনের অবস্থা বেশ ভালোভাবে উপলব্ধি করা যায়। ব্ল্যাকআউট,গোলাগুলি, ছিন্নভিন্ন লাশ, রক্তাক্ত-আহত মানুষ ইত্যাদি সব কিছুর বর্ণনায় যেন যুদ্ধের ভয়াবহতা চোখের সামনে ভেসে উঠে। এত কিছুর পরও কেন যেন মনে হয়েছে এট গল্পে লেখক ততটা আবেগ দেননি, যতটা আবেগের উপস্থিতি থাকলে মানুষের অবস্থাকে হৃদয় দিয়ে বুঝা যায়।
এছাড়াও আরো কয়েকটা বিষয় খাপছাড়া এবং আবেগহীন মনে হয়েছে। যেমন- আশেপাশেই বোমা পড়ছে, মানুষ মারা যাচ্ছে, কিন্তু গল্পের প্রোটাগনিস্টদের কিছুই হচ্ছে না। ঠিক যেন সুপারহিরো গল্পের কোনো চরিত্র! আবার পাশের শহরে মৃত্যুর মিছিল চলছে, এদিকে এপারের শহরবাসীরা দিব্যি খেয়ে-ঘুরে বেরাচ্ছে। হাবভাব এমন যেন যুদ্ধ নিজের দেশে কিংবা নিজের আশেপাশে না হয়ে দূর কোনো মূলকে ঘটছে। কিংবা “পড়শির বাড়ি গেলে যাক, নিজের তো কিছু হচ্ছে না”- এমন মনোভাব।
তবে নিঃসন্দেহে প্রফেসর লি, বিমল,সুরেশ্বর এবং বাকিদের সাহায্য করার মনোভাব বেশ ভালো লেগেছে। বিপদ জেনেও কত সুন্দরভাবে সবাই সাহায্য করতে এগিয়ে গিয়েছে!
সবশেষে, একটুখানি খারাপ আর অনেকগুলো ভালো দিক মিলিয়ে এক বসায় পড়ে শেষ করার মতো চমৎকার একটি বই ‘মরণের ডঙ্কা বাজে’।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যেভাবে ভারত উপমহাদেশকে প্রভাবিত করছে, তেমনটা চীন-জাপান যুদ্ধ প্রভাবিত করেনি বলেই হয়তো বাংলা সাহিত্যে এ নিয়ে লিখালিখি তেমন নেই। তাই বিভূতির এই লিখাটা আসলেই বেশ আলাদা।
বিভূতির অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো পরিবেশের বর্ণনা দেয়া। ‘পথের পাঁচালী’, ‘আরণ্যক’ এর মতো এতেও চারপাশের পরিবেশ যেমন সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তাতে যুদ্ধ পীড়িত এলাকা, সেখানকার মানুষজনের অবস্থা বেশ ভালোভাবে উপলব্ধি করা যায়। ব্ল্যাকআউট,গোলাগুলি, ছিন্নভিন্ন লাশ, রক্তাক্ত-আহত মানুষ ইত্যাদি সব কিছুর বর্ণনায় যেন যুদ্ধের ভয়াবহতা চোখের সামনে ভেসে উঠে। এত কিছুর পরও কেন যেন মনে হয়েছে এট গল্পে লেখক ততটা আবেগ দেননি, যতটা আবেগের উপস্থিতি থাকলে মানুষের অবস্থাকে হৃদয় দিয়ে বুঝা যায়।
এছাড়াও আরো কয়েকটা বিষয় খাপছাড়া এবং আবেগহীন মনে হয়েছে। যেমন- আশেপাশেই বোমা পড়ছে, মানুষ মারা যাচ্ছে, কিন্তু গল্পের প্রোটাগনিস্টদের কিছুই হচ্ছে না। ঠিক যেন সুপারহিরো গল্পের কোনো চরিত্র! আবার পাশের শহরে মৃত্যুর মিছিল চলছে, এদিকে এপারের শহরবাসীরা দিব্যি খেয়ে-ঘুরে বেরাচ্ছে। হাবভাব এমন যেন যুদ্ধ নিজের দেশে কিংবা নিজের আশেপাশে না হয়ে দূর কোনো মূলকে ঘটছে। কিংবা “পড়শির বাড়ি গেলে যাক, নিজের তো কিছু হচ্ছে না”- এমন মনোভাব।
তবে নিঃসন্দেহে প্রফেসর লি, বিমল,সুরেশ্বর এবং বাকিদের সাহায্য করার মনোভাব বেশ ভালো লেগেছে। বিপদ জেনেও কত সুন্দরভাবে সবাই সাহায্য করতে এগিয়ে গিয়েছে!
সবশেষে, একটুখানি খারাপ আর অনেকগুলো ভালো দিক মিলিয়ে এক বসায় পড়ে শেষ করার মতো চমৎকার একটি বই ‘মরণের ডঙ্কা বাজে’।
February 26, 2025
"মানুষ যখন দুঃখকষ্ট পায়, সব দেশে সর্বকালে তারা এক। চীন, ভারতবর্ষ, রাশিয়া, অবিসিনিয়া, স্পেন, মেক্সিকো- এদের মধ্যে দেশের সীমানা এখানে মুছে গিয়েছে ।"
~বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় ।
সুদূর ভারতবর্ষ থেকে চীন। গরিব পরিবার, গ্রাম থেকে যুদ্ধক্ষেত্র। বেকার যুবক থেকে সৈনিক। ভাগ্যের সন্ধানে রেঙ্গুন গামী জাহাজে পরিচয় হয় সুরেশ্বর আর বিমল র। সুরেশ্বর হুগলীর এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা বেকার যুবক। এক ওষুধ কোম্পানির চাকরি জোগাড় অন্যের সুপারিশে এবং তাদেরই নির্দেশে তার সিঙ্গাপুর যাত্রা। অন্যদিকে বিমল সদ্য ডাক্তারি পাস করা যুবক। এক পরিচিতি লোকের সুপারিশে তারই চিঠি নিয়ে যাচ্ছে সে সিঙ্গাপুর কর্মের সন্ধানে। গন্তব্য একই হওয়ায় জাহাজের পরিচয় আর ভাগ্যের ফেরে তাদের গভীর বন্ধুত্ব হয়ে যায়। কিন্তু তাঁদের ভাগ্যে ছিল অন্যকিছু।
সেইসময় চীন আর জাপান এর মধ্যে শুরু হয় এক তুমুল যুদ্ধ। জাপানের আতর্কিত আক্রমণ, বোমা আর আধুনিক অস্ত্রের সামনে চীন টিকতে পারে না। সুরেশ্বর আর বিমলের এই সময় পরিচয় হয় এক চীনা লোকের সঙ্গে। উনি প্রস্তাব দেয় চীন যেয়ে রেড ক্রসের চিকিৎসা কর্মে যোগ দেবার। বিনিময়ে সে উচ্চ বেতনের লোভ ও দেখায়। সুরেশ্বর আর বিমল ভাবে তাঁদের বুঝি ভাগ্য দেবী সহায় হলেন। কিন্তু তারা তখন ও জানত না সামনে তাদের ভাগ্যে কি হতে যাচ্ছে। নানান ঘটনা, দুর্ঘটনায় শেষ পর্যন্ত সুরেশ্বর আর বিমলের কি হয় সেইটা পাঠকের জন্যে বরাদ্দ থাক।
এই যুদ্ধ কালীন সময়, জাপানি আক্রমণ, নিপীড়ন ও চীনের দুর্দশার কথায় এই উপন্যাসের মূল আলোচ্য। যুদ্ধের করুন কাহিনী, নারকীয়তা,অসংখ্য মানুষের মৃত্যু, নির্বিচারে মানুষ হত্যা এসব কোনোদিনও কাম্য নয়। এই উপন্যাস এ আবার ও বিভূতিভূষণ মানব জীবনের করুণ অংশটিই যেন তুলে ধরেছেন।
~বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় ।
সুদূর ভারতবর্ষ থেকে চীন। গরিব পরিবার, গ্রাম থেকে যুদ্ধক্ষেত্র। বেকার যুবক থেকে সৈনিক। ভাগ্যের সন্ধানে রেঙ্গুন গামী জাহাজে পরিচয় হয় সুরেশ্বর আর বিমল র। সুরেশ্বর হুগলীর এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা বেকার যুবক। এক ওষুধ কোম্পানির চাকরি জোগাড় অন্যের সুপারিশে এবং তাদেরই নির্দেশে তার সিঙ্গাপুর যাত্রা। অন্যদিকে বিমল সদ্য ডাক্তারি পাস করা যুবক। এক পরিচিতি লোকের সুপারিশে তারই চিঠি নিয়ে যাচ্ছে সে সিঙ্গাপুর কর্মের সন্ধানে। গন্তব্য একই হওয়ায় জাহাজের পরিচয় আর ভাগ্যের ফেরে তাদের গভীর বন্ধুত্ব হয়ে যায়। কিন্তু তাঁদের ভাগ্যে ছিল অন্যকিছু।
সেইসময় চীন আর জাপান এর মধ্যে শুরু হয় এক তুমুল যুদ্ধ। জাপানের আতর্কিত আক্রমণ, বোমা আর আধুনিক অস্ত্রের সামনে চীন টিকতে পারে না। সুরেশ্বর আর বিমলের এই সময় পরিচয় হয় এক চীনা লোকের সঙ্গে। উনি প্রস্তাব দেয় চীন যেয়ে রেড ক্রসের চিকিৎসা কর্মে যোগ দেবার। বিনিময়ে সে উচ্চ বেতনের লোভ ও দেখায়। সুরেশ্বর আর বিমল ভাবে তাঁদের বুঝি ভাগ্য দেবী সহায় হলেন। কিন্তু তারা তখন ও জানত না সামনে তাদের ভাগ্যে কি হতে যাচ্ছে। নানান ঘটনা, দুর্ঘটনায় শেষ পর্যন্ত সুরেশ্বর আর বিমলের কি হয় সেইটা পাঠকের জন্যে বরাদ্দ থাক।
এই যুদ্ধ কালীন সময়, জাপানি আক্রমণ, নিপীড়ন ও চীনের দুর্দশার কথায় এই উপন্যাসের মূল আলোচ্য। যুদ্ধের করুন কাহিনী, নারকীয়তা,অসংখ্য মানুষের মৃত্যু, নির্বিচারে মানুষ হত্যা এসব কোনোদিনও কাম্য নয়। এই উপন্যাস এ আবার ও বিভূতিভূষণ মানব জীবনের করুণ অংশটিই যেন তুলে ধরেছেন।
Displaying 1 - 30 of 59 reviews






























