হাওর সংলগ্ন মিঠামইন গ্রামে ব্যাখ্যাতিতভাবে খুন হচ্ছে মানুষ। ওদিকে সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এক আদিবাসি গ্রাম জনশূন্য। রফিকের মনে ভয়, এসব খুনালার কাজ নয়তো? ভয়ঙ্কর সে দানব পারে না এমন কোনো কাজ নেই! দলের সদস্যদের দুটি দলে বিভক্ত করে রফিক ছুটল রহস্য অনুসন্ধানে। নাবিল আর রফিক মিঠামইনে, ওদিকে কিয়াসু, কাবিল আর নুশু গেল সীমান্তের বনঘেঁষা সেই আদিবাসি গ্রামে। জানত না, প্রাণের ঝুঁকি কতটা রয়েছে এই অভিযানে! চাঁদপুরে এক ব্যবসায়ীর পৈতৃক ভিটায় নৃশংস কিছু অতীতের ফিরে আসা কি কাকতালীয়? এসবের কোনোটার উত্তরই রফিকরা জানে না। শুধু জানে, খুনালা এবার আঘাত হানবে নিশ্চিত। এবার অতীতের চেয়েও অনেক ধূর্ত আর শক্তিশালী সে। রফিক আরেকটা ব্যাপার জানে না। এই লড়াইয়ে কে তার শত্রু, আর কে আসল বন্ধু! অন্ধকার সিরিজের শেষ আখ্যান, ‘অন্ধকার’; মূলত ন্যায় আর অন্যায়ের চিরন্তন এক লড়াইয়ের প্রতিরূপ।
অন্ধকারের যাত্রা তবে শেষ হলো। পেলাম সুন্দর একটা হ্যাপি এন্ডিং। তবুও আমি কিছুটা আশাহত। গল্পে একটা বড় এবং দুটো ছোট্ট সাবপ্লট ছিল। মিঠামইন (হাওর এলাকা) , সিলেটের আদিবাসী গ্রাম এবং চাঁদপুর। এই তিনটা সাবপ্লটেই বইটির ৩/৪ অংশ খেয়ে ফেলছে। এটা অস্বীকার করার কিছু নেই যে এই তিনটা সাবপ্লটই মারাত্মক কৌতুহল উদ্দীপক এবং অপ্রাকৃত জনরার জন্য আদর্শ। বরাবরের মতোই উপভোগ করেছি।
কিন্তু আমি বেচারা পাঠক অপেক্ষায় আছি খুনালার কারসাজি জানতে, পরিণতি জানতে, মৃত্তিকা আর রফিক মাহাইয়ের সাথে সময় কাঁটাতে অথচ লেখক আমাকে ঘুরিয়ে মারছেন মিঠামইন, সিলেট আর চাঁদপুরে। মূল গল্পের জন্য এই প্রথম দুটি সাবপ্লটের কিন্তু আহামরি প্রয়োজন মনে হয়নি। ঐখানেই আমি যাহোক আশাহত হয়েছি। একটি তাঁরকা কেটে নিয়েছি।
সে যাকগে, খুনালা থাকুক বা না থাকুক আমি সত্যকলামের সত্য উদঘাটনের রোমাঞ্চকর সব অভিযানের জন্য মুখিয়ে থাকব। ওটাতেই আমার যত আগ্রহ।
উল্লেখ্য - এটাকে কিন্তু আর প্রিকুয়েল বলা ঠিক হবে না। সমস্ত ঘটনা বর্তমান সময়কে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে।
পাঁচ পাঁচটা বইয়ের পর একটা রুদ্ধশ্বাস লড়াই যে কেউই আশা করবে সেক্ষেত্রে সমাপ্তিটা আশানুরূপ হতে পারেনি পুরো। তবে এক দারুণ যাত্রার সমাপ্ত হলো অবশেষে। সাবপ্লট গুলো যথেষ্ট আগ্রহ জাগানিয়া কিন্তু আমি ভেবেছিলাম পুরোটা সময়ই খুনালার সাথে যুদ্ধ করে যাবে সবাই। এক্ষেত্রেও কিছুটা হতাশ হয়েছি।সে হরর সিরিজটা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে নিজের লেখালেখির ক্ষেত্রে তার এই সমাপ্তিটা কিছুটা মন খারাপও করে দিয়েছে। রফিক মাহাই শিকদারকে মনে থাকবে সবসময়ই। তার তাবিজকেও।
অন্য বইওগুলোর মতোই ঝরঝরে এবং গতিময়। একইভাবে বানানভুল এবং ভুলভাল লোকের নাম বসিয়ে দেয়া। এসব কারণে হোঁচট খেতে হয়েছে বারবার। তবে যেভাবে বলেছে, কে শত্রু কে মিত্র তা চেনা সহজ না, আবার ওদিকে বইয়ের প্রায় শুরুতেই বলে দিয়েছে শত্রু কোন বন্ধুর ছদ্মবেশ ধরে রয়েছে। কেন ভাই! (ওহ! এর ইংগিত তো এর আগের বই ক্রমশ অন্ধকার এই দেয়া আছে।)
প্রথম দুইবার আরো কী কী যেন লিখেছিলাম, গুডরিডস খেয়ে দিসে, তাই এপর্যন্তই।