ফরেস্ট অফিসারের একমাত্র সন্তান পিকু। আব্বার বদলির সুবাদে পিকু বিভিন্ন সময়ে পড়েছে বিভিন্ন স্কুলে। ভাবুক পিকু, আনমনা পিকুকে নিয়ে আব্বার একটু বেশিই চিন্তা হয়।একে তো মা নেই ছেলেটার, তার ওপর কোথায় কোথায় যে ঘুরে বেড়ায়!
আরো একবারের মতো বন্ধুদের ছেড়ে, পরিচিত জায়গা পেছনে ফেলে পিকু আর আব্বা ট্রেনে চেপে চলেন নতুন গন্তব্যে, পিকুর আব্বার নতুন কর্মস্থলে। জায়গাটার নাম নাকি কাঁকনপুর। আচ্ছা, কেমন হবে নতুন জায়গাটা?
পিকু তখনো জানে না, ট্রেনে ওর সঙ্গে কী ঘটতে যাচ্ছে। আবার কাঁকনপুরের মতো ছোট্ট, সুন্দর আর নিরিবিলি শহরেও পিকু গন্ধ পায় রহস্যের। ছোট্ট পিকু, কিন্তু দুঃসাহসী পিকু কি সেই রহস্য উদঘাটন করতে পারবে? কাঁকনপুরের অন্ধকার রাতটা ওর জন্য কী রহস্য নিয়ে অপেক্ষা করছে?
Ali Imam (আলী ইমাম) is a Bangladeshi children's writer and audio-visual organizer. He written a lots of scientific story, travel story etc. for children.
Imam has written more than 550 books, translated nearly 40. Child psychology, humanism and adventure is found in his writing. A simple style is available. Adventures, science fictions, stories related with historic events are the categories.
Ali Imam was the General Manager of Bangladesh Television and retired from the job in 2006. He is now hosting two popular TV Talk shows in private channels and more concentrating in his forthcoming books.He is Very Famous Familiar Face in Bangladesh about his Workings Experience.
এক সময় ভাবতাম বাংলাসাহিত্যে কিশোর উপন্যাসের সংখ্যাটা তুলনামূলক কম। আসলেই কি কম ? কত কম...? এর উত্তরটা একবাক্যে দেয়া সম্ভব না।কেননা কত টুকুই বা পড়তে পেড়েছি কৈশোরে ! আর কত টুকুই বা জানতাম সে সময় !
আমাদের কাছে পছন্দের কিশোর উপন্যাস বলতে প্রথমেই মনে পড়ে, রকিব হাসানের - তিনগোয়েন্দা কিংবা জাফর ইকবালের কিছু উপন্যাস। কিন্তু সত্য বলতে এর বাহিরে আরো একটি নাম উঁচু বুকে ঢুকে যেতে পারে এই তালিকায়। তিনি হলেন 'আলী ইমাম'। এবং তার উপন্যাস 'অপারেশন কাঁকনপুর'।
সকলের আড়ালে চাপা পড়া এই লেখক লিখে গেছেন পাঁচশ এর বেশি কিশোর উপন্যাস। এরমধ্যে অন্যতম কিশোর গোয়েন্দা সিরিজ 'পিকু'। ছোট ছোট তিনটি উপন্যাস - অপারেশন কাকনপুর, রক্তমাখা পুথি, কুঠিবাড়ি রহস্য নিয়ে এই সিরিজ। আমার কাছে সিরিজের সবথেকে পছন্দের বই 'অপারেশন কাঁকনপুর'।
মাত্র ৪৪ পেজের একটা উপন্যাস 'অপারেশন কাঁকনপুর'। গল্পের মূল চরিত্র মা মরা ছেলে পিকু। যাকে বইয়ের পাতায় আর দশটা গোয়েন্দার থেকে একটু অন্যভাবে উপস্থাপন করেছেন আলী ইমাম। অন্তত আমার তাই মনে হয়। পিকুর মধ্যে রহস্য উন্মোচনের প্রবণতা আছে ঠিকই। কিন্তু তার বেশি আগ্রহ প্রকৃতির নিখাদ রূপ পর্যবেক্ষণে। এই দিকটাই অন্য সবার থেকে আলাদাভাবে তুলে ধরে পিকুকে।
দুই মলাটের মাঝের পাতাগুলোতে সাধারণ বাঙ্গালী এক কৈশোরের চিত্রায়ন করেছেন আলী ইমাম। যা মিলে যায় প্রকৃতিপ্রেমী যে কারোর ফেলা আসা শৈশবের সাথে। যে কিশোর বাবার বদলীতে অন্য জায়গায় পাড়ি জমালেও, মনের জায়গা থেকে সরাতে পারেনা ফেলে আসা বন্ধুদের। বারবার আকুলতা দেখায় জমিয়ে রাখার স্মৃতির প্রতি।
সাবলীল ছোট ছোট বাক্যে, বিমুগ্ধ সব উপমায়, সুনিপুণ হাতে অতুলনীয় এক উপন্যাস রচনা করেছেন আলী ইমাম। কোনো জায়গায় অতিমানবীয় রূপ না দিয়ে, সাদামাটা এক কৈশোরের গল্পই তুলে এনেছেন বইয়ের পাতা জুড়ে। যা উঠতি বয়সী যেকোনো পাঠককে কাঁকনপুরে হারিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য। . . কাহিনী সংক্ষেপ::
পিকুর বাবা ফরেস্ট অফিসার হওয়ায় বদলীর চাকরী। ছুটে বেড়ান এ শহর থেকে ও শহর। সাথে থাকে পিকু। এবারে বদলী হয়েছে কাঁকনপুরে।
পথে আসতে আসতে নিঃশব্দ কাঁকনপুরে অবারিত রূপ বিমোহিত করে ফেলে পিকুকে। তাই তার বাবা অফিসে চলে গেলে, সুযোগে বুঝে মংলিকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সে। মংলি সাঁওতালদের ছেলে। পিকুদের নতুন বাসায় রান্নার কাজ করে।
ঝার্না, বুন ঝোপঝাড় এসব ডিঙ্গিয়ে পাহাড়ের দিকে হাটতে থাকে তারা। হঠাৎ ঝোপ থেকে সাৎ করে কি যেন সরে যেতে দেখে পিকু। ঝোপটার কাছে পৌছে দেখলো একটা পোড়া সিগ্রেট পড়ে আছে। এদিকওদিক চোখ ফেরাতে দেখতে পেলো, ট্রেনের সেই লোকটা। যে তাকে ফ্যাসফ্যাসে গলায় গল্প বলে চমকে দিয়েছিল। আর তাকে বিষাক্ত কিছু খাইয়ে অজ্ঞান করতে চেয়েছিল। কিন্তু সে এখানে কি করে আসবে? সে তো চুপ করে এক স্টেশন আগে নেমে গিয়েছিল। আর এখন এই অন্ধকার ঝোপে বসে কি করছিল সে?
পরেরদিন রাতে গেট খোলার চেষ্টা করছিল কেউ। বারান্দায় দাঁড়িয়ে ল্যাম্পের আলোয় ট্রেনের সেই আজগুবে বুড়ো লোকটাকে দেখতে পেল পিকু। সাথে সাথে চিৎকার দিতেই পালিয়ে যায় লোকটা। রাতে ভালো ঘুম আসেনা আর। কেনো এই লোকটা তাদের পিছু নিয়েছে? কেনো লুকিয়ে তাদের ফলো করছে? অনেক ভেবেও উত্তর পায়না পিকু। কিন্তু রহস্য রহস্য একটা গন্ধ পেয়ে যায় ঠিকই।
কাকনপুরে সাঁওতালদের একটা বস্তি আছে।পাহাড়ের কাছে। নাম 'বাঘমুন্ডী'। ওখানে থাকে মংলিরা। প্রতি বছরে একবার উৎসব হয় ওখানে। ওদের গ্রামের সবচেয়ে পুরনো গাছের কোঠরে রাখা হয় সোনার হাসের মূর্তি।সারা বছর কেউ খোজ পায়না হাসটার। সর্দারের কাছে লুকনো থাকে। শুধুমাত্র উৎসবের দিনে গ্রামের সবচাইতে পুরনো গাছের কোঠরে এনে রাখা হয় হাসটা । তাকে ঘিরে গোল করে নাচে সাঁওতালরা। এই উৎসব দেখতে মংলিকে সাথে নিয়ে ওদের গ্রামে যাচ্ছে পিকু।
হঠাত পথে দেখা হয় ক্যানারি সাহেবের সাথে। ক্যানারি দ্বীপে অনেকদিন ছিল বলে এমন নাম। কাঁকনপুরের জনপ্রিয় লোকদের একজন তিনি। কিছু কিছু লোক আছে, তারা যখন বলে, তখন মনে হয় কথার তুলি দিয়ে ছবি আঁকছে। তিনি হচ্ছেন সেই ধরনের লোক। পিকু বাঘমুন্ডি যাচ্ছে শুনে চমকে উঠলেন ক্যানারি সাহেব। যেতে নিষেধ করলেন পিকুকে। চেষ্টা করলেন ভয় দেখাবার। ক্যানারি সাহেবের এই আচরণের উদ্দেশ্য বুঝতে পারলোনা পিকু।
বিকেলের দিকে সাঁওতালী গায়ে পৌছে যায় ওরা। একটা সময় গোধূলিকে বিদায় দিয়ে, মস্ত গোল চাঁদ উঠে যায় আকাশে। সর্দার এসে গাছের কোঠরে রাখে সোনার হাস। ঠিক তখনি ঘটনাটা ঘটে গেল বাঘমুন্ডি'তে। পরপর দুবার গুলির শব্দ। যে যার মতো ছুটে পালাতে লাগল। সুযোগ বুঝে কালো কাপড় জড়ানো দুটো লোক হাসটা তুলে নিয়ে দৌড়াতে লাগল। কিন্তু বিড়াল আক্রমণ করলো একজনকে। শেষমেশ পালাতে পারলেও, বয়ে নিয়ে গেল বিড়ালের আঁচড়ের ক্ষত।
এমন ঘটনা ঘটে যাওয়াতে বাঘমুন্ডী'র সকলের মন খারাপ। চাপা কষ্ট অনুভব করে পিকু নিজেও। বিষণ্ণ হয়ে থাকে সব সময়। এমন একটা দিনে ক্লু ধরা পরে খুদে রহস্যপ্রিয় পিকুর চোখে। সেটা ধরেই সে নেমে পরে গোয়েন্দাগিরি'তে। . . পাঠ-প্রতিক্রিয়া::
ছোটবোন আমার থেকেও বেশি বই পড়ে। পিচ্চি বয়সে সে বাসার খাটের নিচে থাকা ট্রাঙ্ক খুলে সব বই পড়ে ফেলেছে। এরমধ্যে কঠিনীয়া ভাষায় লিখা শ্রীকান্ত'ও আছে। আমি বয়সে বড় হলেও এইসব বই ধরার সাহস করিনি। মনে মনে চিন্তা আরো বড় হই। তখন পড়ব।
এরমধ্যে একটা বই ওকে প্রায় পড়তে দেখি। আর শুনি মনপ্রাণ ঢেলে প্রশংসা করতে। তাই একদিন হাতে নিলাম বইটা। দেখি কভার টভার কিছু নেই। পেজ গুলিনো খোলা। আলাদা আলাদা হয়ে আছে। এমন বই পড়ার রুচি হয়না। তাই সে যতই ভালো বলুক। সেবার পড়া হলোনা।
কিছুদিন পরে পড়ার মতো কোনো বই হাতে নেই। কিন্তু মনের খোঁড়াক মেটাতে বই চাইই চাই।তো, কোনো উপায় না পেয়ে শেষমেশ সেই ছেড়া বইটাই শুরু করে দিলাম।
আলী ইমামকে চিনতাম পাঠ্যবইয়ের একটা প্রবন্ধ পড়ে। নাম মনে নেই। কিন্তু মনে ছিল একদম ভালো লাগেনি লিখাটা। কিন্তু 'অপারেশন কাঁকনপুর' এর প্রথম লাইন থেকে ধারণা বদলে যেত লাগলো। নিজেকেই বারবার বলতে ইচ্ছে করলো, এতদিন কেনো পড়িনি এই বই। কেনো পড়িনি! কেনো !
আহা কি মায়াময় একেকটা শব্দের বুনন। কি অদ্ভুত মুদ্ধতা ঘিরে ধরে পড়বার সময়। টেনে নিয়ে যায় দূর..... বহুদূর। হয়ে যাই গল্পের পিকু। উঠে পড়ি ছুটতে থাকা ট্রেনে। যার গন্তব্য কাঁকনপুর। চোখের সামনে ভেসে আসে কুলিদের 'চা গ্রাম, চা গ্রাম'। শুনতে পাই ট্রেন গুম গুম শব্দে ব্রিজের উপর দিয়ে চলছে। মুদ্ধ চোখে দেখি, নদীর বুকে আলতো করে ভেসে বেড়াচ্ছে ধূসর বরণ গাঙচিল। নীল অপরাজিতার মতো আকাশ ঝলমল করছে লাল রোদে। ডুবে যাই কাঁকনপুরের স্নিগ্ধ বর্ণানায়।
চাদের সাথে আমি দেবনা... তোমার তুলনা ......। এদেশে এক সময়ের জনপ্রিয় গান। প্রেয়সীর রূপকে আলাদাভাবে একটা স্থান দেয়া হচ্ছে গানটাতে। যেই রূপকে চাদের সাথেও তুলনায় আনতে চায়না গাতক। ঠিক তেমনি 'অপারেশন কাঁকনপুর' কে, অন্য কোনো কিশোর উপন্যাসের সাথে তুলনা করবোনা।তপু, রাশেদ, দীপু ;কিংবা কিশোর, রবিন, মুসা কারো সাথে না। পিকু আলাদা একটা জায়গা তৈরি করে নিয়েছে। এবং সেটা অতুলনীয়।
বইয়ের শুরুটা এক অদ্ভুতুড়ে রহস্য দিয়ে শুরু এবং শেষটা রহস্যভেদ কাহিনী হলেও, পুরো বই জুড়ে ছিল প্রকৃতির বিবর্ণ, নিঃশব্দ, নিঃসঙ্গ রূপের মোহময় বর্ণনা। যা পাঠককে নিজের স্থান থেকে সরিয়ে স্বপ্নলোকে ভাসিয়ে দিতে সক্ষম।
যেসব কিশোর পড়ুয়া স্বপ্নে ভেসে বেড়াতে পছন্দ করে। হারিয়ে যেতে চায় প্রকৃতির পথে পথে। মুদ্ধ হয় ধরনীর অপার সৌন্দর্যে। এই বই তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য।
বি.দ্র:: 'অপারেশন কাঁকনপুর' আমার কৈশোরে পড়া সেরা বইগুলির একটি। এখনো ভালোলাগার রেশটা রয়ে গেছে। প্রকৃতির রূপের এমন মনকাড়া বর্ণনা এরপরে শুধুমাত্র 'বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়' এর 'চাদের পাহাড়' এ পেয়েছি।
বই পড়ার সবচাইতে দারুণ মজাটা হলো চাইলেই যে কোনো সময়ে হারিয়ে যাওয়া যায়। সেটা হতে পারে কল্পনার কোনো জগৎ কিংবা ফেলে আসা শৈশবকাল।
আমার নিজের শৈশব কেটেছে গ্রামে। শাপলা শালুক আর কচুরিপানা ফুলের সহচার্যে কিংবা ফসলের মৌ মৌ গন্ধে বনে বাদাড়ে ঘুরে ঘুরে বিকেল গড়িয়ে কখন সন্ধ্যা নামতো টেরই পেতাম না। বাড়ির পেছনের বাঁশঝাড়ে জোনাক পোকাদের মিটমিটে আলোয় মায়াময় সন্ধ্যাবেলায় ঘুমঘুম চোখে দাদুর গল্পের ঝুড়ি থেকে গল্প শুনতাম প্রতিদিন। আর ফড়িং কিংবা কাঠবেড়ালীর পিছে ছুটতে ছুটতেই একেকটা ছুটির দিন শেষ হয়ে যেতো।
নিজের মায়াময় শৈশবের জন্যই সম্ভবত গ্রাম্য পরিবেশের বর্ণনা আমাকে সবসময় আবেগাপ্লুত করে ফেলে। আলী ইমামের মায়ামাখা লেখা পড়তে গিয়ে রীতিমতো নস্টালজিক হয়ে গিয়েছিলাম! অপারেশন কাঁকনপুর গল্পের বুনন যতোটা না সুন্দর তার চাইতেও বেশী মিষ্টি কাঁকনপুর গ্রামখানি। শেষবার গ্রামের এমন জাদুকরী বর্ণনা পড়েছিলাম Humayun Azad এর লেখা ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না বইয়ে।
আমার শৈশবের অন্যতম প্রিয় বই। আমি নিজে ক্লাস থ্রি অবধি স্কুল বদলেছি পাঁচ-ছয়বার; যে বয়সটাতে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আর সারাজীবনের স্মৃতিগুলো তৈরি হয়, কল্পনা আকাশ ছোঁয়, তখন আমাকে কিছুদিন পরপর পাততাড়ি গোটাতে হয়েছে, যদিও ছেঁড়া-ছেঁড়া সেসব গল্প আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়টাকে রহস্যময় ভালোলাগা করে রেখে দিয়েছে সারাজীবনের জন্য। পিকু তাই আমার খুব চেনা মানুষ। স্মৃতিকাতর মানুষ যেভাবে পুরোনো সময়কে হাতড়ায়, সময়গুলো উড়ে-উড়ে চলে যায় দৈবদুর্বিপাকে, আর অনেককাল আগের চেনা মানুষেরা এসে ভিড় করে একটু ফাঁক পেলেই, সেই ছবিটাকে আলী ইমাম এঁকেছেন সযত্নে, ভালোবাসায়। পিকুর এই অ্যাডভেঞ্চারের গল্প তাই কেবল রোমাঞ্চই জাগায় না, খুঁচিয়ে তোলে অনেককালের জমিয়ে রাখা ভাবাবেগকেও।
আলী ইমামের লেখার সঙ্গে কিশোরবেলার সুন্দর কিছু স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তাঁর কিশোর উপন্যাস 'অপারেশন কাঁকনপুর' পড়তে গিয়ে সেই স্মৃতি আবার সামরিক সময়ের জন্য ফেরত এলো। মাত্র ৪৪ পাতার একটা চমৎকার বই এটি।
পিকু সিরিজের প্রথম বই 'অপারেশন কাঁকনপুর'। বন কর্মকর্তা পিতার বদলির চাকরি। নানা স্থানে চাকরিসূত্রে যেতে হয় তাকে। তাই পিকুকে স্কুল বদলাতে হয়। বদল হয় তার সঙ্গী-সাথী। এবার পিতার কর্মস্থল কাঁকনপুর। যেতে যেতেই অদ্ভুত এক লোকের সঙ্গে দেখা। আরও বেশি বিদঘুটে তার গল্প।
কাঁকনপুরের বর্ণনা ছবির মতো চমৎকার করে লিখেছেন আলী ইমাম। এখানে একটি রহস্যের সঙ্গে জড়িয়ে গেল পিকু। কীভাবে তা সমাধান হলো জানতে পড়ুন 'অপারেশন কাঁকনপুর। '
বাংলাদেশের শিশুসাহিত্য নিয়ে আলাপ কম। এমনকি আমরা, বাংলাদেশি পাঠকেরা পর্যন্ত নিজ দেশের শিশু-কিশোরসাহিত্য নিয়ে কথা কম বলি। অথচ আমাদের নিজ দেশের শিশু-কিশোরসাহিত্য অনাদরে থাকার মতো নয় ; বেশ সমৃদ্ধ। আর, আলী ইমাম সেই লেখকদের একজন, যাঁরা ছোটোদের জন্য সত্যিই ভালো কিছু সাহিত্য রচনা করেছেন।
রিডিং ব্লকে আছেন? কি পড়বেন বুঝে উঠতে পারছেন না বুঝি?
ভাই আমি বলি কী একটু বাচ্চাকাচ্চাদের বই ট্রাই করে দেখতে পারেন। সময় কেটে যাবে আর দেখা গেল রিডিং ব্লক ও কেটে যেতে পারে। আমার ক্ষেত্রে এটা অনেকাংশে কাজে এেসেছে। গল্পটাকে ইনজয় করছি, লজিক খাটাতে যাই নাই সেরফ পড়ছি। আর বইটা শেষ করে দারুণ মজাও পেয়েছি। ভাবছি এমন কিছু বই আরো কিনে নিজের ঝুলিতে রেখে দিব। মন খারাপের মুহুর্তে এগুলাই পড়ব। অনেকটা প্যারাসিটামল এর মতন কাজ করবে এগুলা।
আমি যেহেতু কৈশোরে এবং শৈশবে শিশুতোষ কোনো লেখাপত্র পড়িনি।এই বইটি,আমার জন্য মুটামুটি চমৎকার এক অভিজ্ঞতা। শেষে পিকু'র জন্য মন খারাপ হলো, টুম্পার সাথে তার বন্ধুত্ব টা দীর্ঘায়িত হলো না। নাকি হয়েছিলো?
উল্লেখযোগ্য চরিত্র: পিকু,টুম্পা,ক্যানারি সাহেব,ফরেস্ট অফিসার,শিকদার সাহেব,স্টেশন মাস্টার,মংলি,মল্লিক সাহেব অদ্ভুত লোক, সাঁওতাল বুড়ি এবং তার কুচকুচে কালো বিড়াল।
একটি কৌতূহলী ছেলের রহস্য ভেদের কাহিনি। গল্পে প্রধান চরিত্র হিসেবে রয়েছে পিকু নামে একটি ছেলে। যার বাবার চাকরির বদলীর দরুনে সে অনেক অনেক জায়গায় যেতে পারে। একরকমই একটি জায়গা কাকনপুর। গল্পের একটি চরিত্র মংলির সাথে সে তাদের গ্রাম বামুন্ডিতে অন্যরকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়। এভাবে বামুন্ডি গ্রামের মূর্তি চুরির রহস্য নিয়ে কাহিনি রয়েছে। অপরদিকে কাকনপুর আসার অভিজ্ঞতা নিয়েও গল্পটি সুন্দর লেগেছে।