রেড এলার্ট - একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র ছড়িয়ে রেখেছে ভয়ংকর জালের ফাঁদ! সাইকোলজিক্যাল ট্রিকস ব্যবহার করে তারা তরুণীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে গোপনে তাঁদের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। অতঃপর গোপন আস্তানায় তুলে নিয়ে হ ত্যা করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গ বিদেশে পাচার করে দেয়। আপনি কি মনে করছেন ছেলেরা নিরাপদ? না, মোটেও না! এই চক্রে রয়েছে প্রলোভনসন্ধানী নারীরাও, যারা একই কৌশলে ছেলেদের ফাঁদে ফেলে নিঃশেষ করে দেয়! অন্যদিকে, চট্টগ্রামের চক্রশালা বৌদ্ধ মন্দির থেকে চুরি হয়ে গেছে হাজার বছরের পুরাতন বজ্রযান বক্স, যার মূল্য বিলিয়ন ডলার! একইসঙ্গে, পাহাড়ে একদল ষড়যন্ত্রকারী বাংলাদেশ থেকে একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের চক্রান্ত করে চলেছে। যাদের কারণে শান্তিতে থাকতে পারছে না উপজাতিরাও৷ তাঁদের জীবন নষ্ট করার পিছনে কারা দায়ী? উপল ও উপমা—যাঁদের জীবন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে! এই সবকিছু কীভাবে জুড়ে যাচ্ছে এক সুতোয়? তাঁদের ভাগ্যে কী ঘটবে?মুসা গালিব কি পারবেন এই ভয়ংকর রহস্য উন্মোচন করতে? এক শ্বাসরুদ্ধকর থ্রিলারের মোড়কে, ভয়, ষড়যন্ত্র আর জীবনের লড়াই— আপনি কি প্রস্তুত সত্যের মুখোমুখি হতে?
Book review: বইয়ের নামঃ মুসা গালিব মিস্টার অবজারভার পার্ট ২ লেখকঃ মোঃ সৈকত আজীম প্রকাশনীঃ প্রিমিয়াম পাবলিকেশন্স মুদ্রিত মূল্যঃ ২২৫ টাকা মুসা গালিব হচ্ছেন ১ জন অবজারভার এবং ডিটেক্টিভ, যিনি বিভিন্ন কেসের অনুসন্ধানের পাশাপাশি মানুষকে অবজার্ভ করে তাদের সম্পর্কে বলে দিতে পারেন এবং মানসিক সমস্যাগ্রস্ত মানুষকে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে ঠিক করে থাকেন। থ্রিলার জনরা আমার খুবই পছন্দের আর গোয়েন্দা গল্প পড়তে আমার খুবই ভালো লাগে। আর সেই ভালো লাগা থেকেই বইটি কেনা এবং পড়া। আর এই বইটি এই সিরিজের ২য় বই এবং সেই সাথে লেখকেরও লেখা ২য় বই এটি। পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ এই বইয়ে মোট ৩টি গল্প আছে। ১. জার্নি অব লাইফঃ এই গল্পটি আবর্তিত হয় উপল ও উপমা নামের ২ তরুণ-তরুণীকে ঘিরে, যারা একে অপরকে ভালোবাসে। কিন্তু উপমা অবসেসিভ লাভ ডিসঅর্ডার নামে ১ জটিল সাইকোলজিক্যাল সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে যায়। তাদের ২ জনের এই কাহিনি নিয়েই এই গল্পটি। তবে আমার কেন জানি এই গল্পটি যখন আমি ১ম বার পড়তে যাই, তখনই অর্ধেক পড়ে আমি রিডিং ব্লকে পড়ে গিয়েছিলাম। এছাড়াও যতবারই পড়তে গিয়েছি, ততবারই রিডিং ব্লকে পড়ার মতো অবস্থা হয়েছে। আর এই গল্পে যৌনতা বিষয়ক কিছু জিনিস বেশিবার এসেছে, যা আমার খুব একটা ভালো লাগেনি, তাই হয়তো এমন হয়েছে। পার্সনাল রেটিংঃ ৩/৫ ২. বজ্রযানঃ এই গল্পটি মূলত নিতু নামের ১টি মেয়েকে ঘিরে। যার অনলাইনে ১টি সিজনাল ব্যবসা আছে। কিন্তু সমস্যা হয় তখন থেকে, যখন হঠাৎ করেই মেয়েটির বাবা-মা মারা যায় এবং তার কিছুদিন পরেই তার কাছে ১টি বাক্স আসে। কেন এলো সেই বাক্স আর কে-ই বা পাঠালো সেই বাক্স? তদন্তে উঠে আসে ১ এর পর ১ চাঞ্চল্যকর তথ্য। কী সেই রহস্য জানতে হলে পড়তে হবে এই গল্পটি। এই গল্পটি অনেক অ্যাডভেঞ্চারাস ছিল। যদিও কেন জানি আমার এই গল্প পড়তে বেশ বোর ফিল হয়েছে। এই গল্পে লেখক অনেক ইতিহাস এনেছেন। যদিও আমার কাছে একটু বেশিই ইতিহাস টেনেছেন বলে মনে হয়েছে, যা বেশ বিরক্তিকর ছিল আমার জন্য। তবে যারা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন তাদের কাছে গল্পটি বেশ লাগবে আশা করি। পার্সনাল রেটিংঃ ৪/৫ ৩. অ্যাটেম্পট টু মা র্ডারঃ এই গল্পটি এই বইয়ের শেষ গল্প এবং পার্সনালি আমার সবচেয়ে প্রিয় গল্প ছিল এই বইয়ের। গল্পটি গড়ে উঠেছে বাবলু মিয়া সরকারি হাসপাতালের ১ ডোমকে ঘিরে। যে কিনা ডোমঘরে ১ অদ্ভুত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরে। প্রথমে সবাই এটি তার ভ্রম মনে করলেও পরে মুসা গালিবের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ১ চাঞ্চল্যকর তথ্য। এইসবের পেছনে আছে ১ গোপন সংস্থা, যারা ছেলে-মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে তারপর তাদের হ/ত্যা করে। কী হয়েছিল শেষে? মুসা গালিব কী তাদের ধরতে পারবে? নাকি তাদের জন্য অপেক্ষা করছে কোনো ভয়ংকর কিছু? সবকিছু জানা যাবে এই গল্পটি পড়লে। পার্সনাল রেটিংঃ ৫/৫ এবার আসি পুরো বইয়ের আলোচনায়। বলতে গেলে ভালোই ছিল, তবে ১ম গল্পটি ভালো লাগেনি অতিরিক্ত যৌ/নতা বিষয়ক আলোচনার কারণে আর ২য়টি ঐতিহাসিক তথ্যের অধিক্যের কারণে কিছুটা বোর লেগেছে। আমি শেষের গল্প ছাড়া বাকিসব গল্পগুলো বেশি ইনজয় না করলেও বইয়ের মধ্যে বেশ কিছু সাইকোলজিক্যাল হ্যাকস ছিল, যা ছিল এই বইয়ের মূল আকর্ষণ। তবে গল্পে মুসা গালিবকে ডিটেক্টিভ কম আর দার্শনিক বেশি মনে হয়েছে আমার। তার দার্শনিক টাইপ কথাবার্তা বেশি ছিল। আশা করব লেখক তার পরের বইয়ে সেটা কমিয়ে আনবেন। যদিও এই বই থেকে অনেক কিছুই শিখতে পেরেছি, সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। যারা নতুন থ্রিলার পড়া শুরু করতে চাচ্ছেন এবং যাদের ছোট গল্প পছন্দ, তাদের জন্য বেশ ভালো ১টি বই হবে এটি। বইয়ের কিছু জায়গায় বানান ভুল চোখে পড়েছে। প্রিমিয়াম পাবলিকেশন্সের আমি যতগুলো বই পড়েছি, তার সবগুলোতেই অনেক বানান ভুল ছিল। আশা করি তারা এইসব জিনিস খেয়ালে রাখবে ভবিষ্যতে। পার্সনাল রেটিং (পুরো বইয়ের): ৪/৫
সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের উদাহরণ আর কাহিনীর বর্ণনার ফাঁকে ফাঁকে দার্শনিক কিচু অভিব্যক্তির মিশেলে লেখা ডিটেকটিভ থ্রিলার , নাকি সাইকোলজিকাল থ্রিলার ? লেখক বেশ পড়াশোনা করে লিখেছেন বইটি । পড়তেও দারুণ , তবে পাঠক হিসেবে আমি লেখার গভীরতা নিয়ে একটু হতাশ । লেখায় আরও একটু গভীরতা ও সাবলিলতা আনলে বইটিকে অসাধারণ বলা যেত । লেখক যেখানে তাত্ত্বিক কথা বলেছেন সেখানে সাহিত্যের ছোঁয়া দিতে পারেননি । তত্ত্ব আর সাহিত্যের মিশেলটার অভাব বোধ করেছি । আর গল্প গুলো খুব তাড়াহুড়া করে বলা , থ্রিল আনতে গেলে আরেকটু রয়ে সয়ে বলতে হবে , কিছু জায়গায় রহস্য উদ্ঘাটনে আরেকটু পরিণত বর্ণনা আশা করেছিলাম। তবে কনসেপ্ট ভালো আর লেখকের হাতও পরিণত হচ্ছে ধীরে ধীরে , আশা করি ভবিষ্যতে আরও ভাল গল্প উপহার পাবো লেখকের কাছ থেকে।
মুসা গালিব শুধু একজন ডিটেকটিভ নয়, এক ধরনের চেতনা। এটা অন্তত আমার মনে হয়। মুসা গালিব এমন একজন চরিত্র, যিনি প্রতিটি অপরাধের ভেতরকার মনস্তত্ত্ব, দার্শনিক দ্বন্দ্ব ও নৈতিক বিভাজন দেখে ফেলেন।
পার্ট–২ বইটি যেন আগের খণ্ডের আরও গভীর ছায়ায় প্রবেশ করেছে বলা যায়। যেখানে প্রতিটি পৃষ্ঠা পাঠককে শুধু একটি গল্প দেয় না, বরং প্রশ্ন করায় পাপ কি শুধুই আইন ভঙ্গের নাম? নাকি আত্মার অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া যুদ্ধের একটি ফল?। বইটিতে অনেক ফিলোসোফি কোড আছে। যা জীবন বদলে দিতে সক্ষম। তবে যৌন কিছু বিষয় আছে যা আমার ভালো লাগেনি।