Jump to ratings and reviews
Rate this book

বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি

Rate this book
এ গল্পে বৃষ্টি আছে এবং ভূত আছে। একজন রিকশাচালক আছেন যার রিকশায় চড়ে মৃতদের আত্মারা অন্তিম গন্তব্যে যাত্রা করে। একজন ব্যবসায়ী আছেন যিনি বিশ্বজয় করতে চান। একজন অধ্যাপক আছেন যিনি বেঁচে থাকার মূল উদ্দেশ্য জানেন। এ গল্পে আছে খুন আর রহস্য আর মৃত্যু আর বিষাদ।

96 pages, Hardcover

First published February 21, 2025

8 people are currently reading
186 people want to read

About the author

তানজীম রহমান

34 books761 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
17 (8%)
4 stars
67 (32%)
3 stars
92 (44%)
2 stars
28 (13%)
1 star
4 (1%)
Displaying 1 - 30 of 74 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,679 reviews447 followers
March 2, 2025
৩.৫/৫
"অনামিকা চুপ" এর রেশ ধরে তানজীম রহমান আরেকটি হরর উপন্যাস লিখেছেন, যেখানে বিরামহীনভাবে ঘটনা ঘটতেই থাকে, বীভৎস রস প্রচুর ও শেষটা অর্থবহ। নামের সঙ্গে কাহিনির মিল সামান্যই। এছাড়া মনে হবে, লেখক আরেকটু ধীরেসুস্থে ঘটনার বিস্তার ঘটালে পড়ে আরাম পাওয়া যেতো। এ বইটা নিয়েও পাঠককূল বিভক্ত হতে যাচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে, রচয়িতার হরর ও দর্শনের যুগলবন্দী আমি বেশ উপভোগ করছি এবং প্রত্যাশায় আছি একটা মাস্টারপিসের।
Profile Image for Shuk Pakhi.
518 reviews326 followers
March 7, 2025
হরু একজন রিকশাওয়ালা....কোন কোন বৃষ্টির রাতে তার রিকশায় মরে যাওয়া মানুষের প্রেত যাত্রী হয়ে উঠে। কোন একটা ঠিকানায় তারা যেতে চায়, হরু চুপচাপ ভালো মানুষের মতন সেই ঠিকানায় তাদেরকে পৌঁছে দেয়। এরপর যা হওয়ার তা ঐ বাড়ির লোকের হোক, হরুর জান ত বাঁচলো।
এর মধ্যে এক প্রেত বায়না ধরলো সে আবার মানুষ হবে। সেই ব্যবস্থা হরুকে করতে হবে, না হলে সে হরুকে ছাড়বে না। এর মধ্যে হরুর পরিচয় ঘটে নবী স্যারের সাথে। তিনিও এই ভূতকাণ্ডে জড়িয়ে যান। এরপর আসে অনেকগুলো যখের মালিক রমজান আলী ভূঁইয়া ...কাহিনী আরো প্যাঁচ খায়।

’যত্ন সহকারে মৃত মানুষ বাঁচিয়ে তোলা হয়।
প্রোপাইটর গোপাল দাস
মোবাইল নাম্বার ও ইমেইল দেওয়া।’
এটা পড়ে নিজেই কতক্ষণ হিহিহি করে হেসেছি। তবে গোপাল দাসের ভিজিটিং কার্ডটা আসল কার্ডের মতন বক্স করে দিলে আরো মজার হতো।

নবী স্যারের চরিত্রটা ইন্টারেস্টিং ছিল। তিনি মরার পরের জীবন নিয়ে প্রেতের সাথে আলাপ চালানোর চেষ্টা করেন। তিনি এতদিন ভাবতেন মরার পর সব নিভে যায় কিন্তু প্রেত দেখার পর সেই থিওরি অকেজো হয়ে পড়ে। তিনি নতুন করে ভাবতে থাকেন। জীবন নিয়ে প্রেত ও নবী স্যারের যৌথ ভাবনাগুলো বেস আগ্রহজাগানিয়া।

হরর কমই পড়া হয়। তবে তানজীম ভাইয়ের হরর পড়ে আরাম পাই। ভয় ভয় লাগে ঠিকই তবে সেটা মাত্রা ছাড়ায় না। এটা লেখকের মুন্সিয়ানাই বলবো। লিমিটে থেকে পাঠককে ভয় দেখিয়ে আনন্দ দেন।
বইটা পড়ে মজা পেয়েছি। বইয়ের প্রচ্ছদ সুন্দর, বাঁধাই, কাগজ সবই চমৎকার। শুধু টাইপো নিয়ে ছোট্ট একটা অভিযোগ থাকলো।
Profile Image for Ahmed Aziz.
388 reviews70 followers
March 10, 2025
তানজীম রহমানের অতিপ্রাকৃত উপন্যাসগুলো নেশার মত, এক বসায় পড়া হয়ে যায়, পুরো বইতেই টানটান উত্তেজনা। সেরা চরিত্র রিকশাওয়ালা হারু। শুরুর ঢাকার বর্ণনাটা ক্লাসিক। যখের অংশগুলো সেরা। প্রেতগুলো যতটা ভয় দেখায় বা অস্বস্তি তৈরি করে তার চেয়ে বেশি মায়া তৈরি করে।
Profile Image for Ishraque Aornob.
Author 29 books407 followers
March 14, 2025
বইটা পড়ে বেশ মজা পেয়েছি আসলে।
তানজীম রহমানের সিগনেচার হরর, যা সাধারণ হররের থেকে ভিন্ন। কারণ উনার ভাবনার ধরন অন্যদের থেকে আলাদা। রিকশা ও এক রিকশাওয়ালাকে নিয়ে দারুণ এক হরর গল্প পেতে ফেলেছেন লেখক। এর সাথে যুক্ত হয়েছে হাস্যরস, দর্শন। ফলে বইটা আর সাধারণ হররে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরাবরের মতোই লেখকের দর্শন আমার পছন্দের। সাধারণ বিষয়ের গভীরে সুন্দরভাবে প্রবেশ করেন উনি। তবে এবার সেইসাথে হিউমারগুলোও ভালো লেগেছে। অনেকবার হেসে উঠেছি। মাঝেমধ্যে মাঝরাতে পড়ার সময় যখ নিয়ে ভাবতে গিয়ে অস্বস্তিও হয়েছে। তবে নিঃসন্দেহ হরু ও নবী স্যারের জুটি দারুণ ছিল। সবমিলিয়ে বেশ মজার একটা বই পড়লাম। হরর প্রেমীদের ভালো লাগার কথা বইটা। সেইসাথে যারা জীবন, ভালোবাসা, বাস্তবতা, মৃত্যুর পরের জীবনের দর্শন নিয়ে আগ্রহী তাদেরও।
Profile Image for Wasim Mahmud.
357 reviews29 followers
March 8, 2025
যেকোন যানবাহনের চালকের সাথে ভৌতিক ঘটনার সংযোগটা ঠিক কোথায়? ব‌ইয়ের নাম দেখেই বুঝা যায় এখানে রিকশা বুঝানো হচ্ছে। রিকশাওয়ালা হরু প্রেত দেখতে পায়। উপন্যাসের আরো কিছু চরিত্রের এ ক্ষমতা আছে। কিন্তু হরুর কাজ সেই ভূত-প্রেতদের একটা নির্দিষ্ট সীমা পার করিয়ে দেয়া।

গ্রিক ও নর্স পুরাণে মৃত্যুর পর পথ দেখানো চালকের উদাহরণ তো আছে। হরু কি জেনে না জেনে সেই দায়িত্ব পেয়ে গেছে? হরুকে সাহায্য করতে ঘটনাচক্রে এগিয়ে আসেন নবী স্যার। দর্শনের এই পন্ডিত জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে সারাজীবন গবেষণা করে বেরিয়েছেন। ঘোরতর নাস্তিক সৈয়দ নুরুন্নবী হামজা মৃত্যু পরবর্তি এমন এক অবস্থার সাথে হরুর মাধ্যমে পরিচিত হন যা তীব্র যন্ত্রনা, বিভ্রান্তি ও বিষাদের ভারে ভারাক্রান্ত।

'বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি'এ আছেন একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যবসায়ী। নাম তাঁর রমজান আলী ভূঁইয়া। লিট্যারালি যার আছে 'যখের ধন'। রমজান শুধুমাত্র ধনসম্পদের সমৃদ্ধি নয়, চান একজন মুসলমান হিসেবে বিশ্বজয় করতে। মেয়ের জামাই ফায়েককে নিয়ে এক ভয়ঙ্কর খেলায় মেতে ওঠেন রমজান আলী।

উপন্যাসে আছেন মাসলম্যান 'মোস্তাকিমুল বারী'। পুরো উপন্যাসজুড়ে তাঁর নাম ' ' বন্ধনীর মাঝে কেন আছে সেই সাবটেক্সট সচেতন পাঠক হয়তো ধরে ফেলবেন। একদিকে ক্ষমতা-অর্থের জন্য যেমন নারকীয় এক খেলার প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে হরু, নবী স্যারের মতো মানুষেরা চান মৃতদের গভীর যাতনা থেকে মুক্তি দিতে।

'বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি' একটু বেশি‌ই গতিশীল। আমি এক বসায় পড়ে শেষ করেছি। তানজীম রহমানের কোন ব‌ই সচরাচর আমি মিস করি না। লেখকের প্রতিনিয়ত নিজেকে ভেঙে নিরীক্ষামূলক আখ্যান রচনা করে যাওয়া, হররের সাথে দর্শনের যে ব্লেন্ডিংটা তাঁর চমৎকার কল্পনাশক্তির সাথে যেভাবে গল্পকথনে ফুটিয়ে তুলেন তা আসলে পাঠককে ধরে রাখতে সক্ষম।

আমার মনে হয়েছে কলেবরে এ উপন্যাস আরেকটু বড় হলে ভালো হতো। লেখক কথার ফাঁকের কথায় কি আমাদের সমসাময়িক কিছু বিপদজনক প্রবণতা তুলে ধরেছেন? তানজীম সাধারণত সাবটেক্সট দিতে পছন্দ করেন বেশি। তাঁর পাঠকেরাও সেটা পছন্দ করেন। ইন্ট্যারেস্টিং চরিত্র সৃজনে লেখকের হাত বরাবরের মতোই ভালো। শেষের দিকটা আমার কাছে অর্থবহ লেগেছে।

তানজীম রহমান যা লিখেন তা শুধুমাত্র হরর নয়। হররের মোড়কে লেখক এমন কিছু দর্শন হাজির করেন, তাঁর সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার মাধ্যমে এমন কিছু বলে ফেলেন যা হয়তো শুনতে কিংবা বলতে আমরা অস্বস্তিবোধ করি।‌ নাকি ভয় পাই?

ব‌ই রিভিউ

নাম : বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি
লেখক : তানজীম রহমান
প্রথম প্রকাশ : একুশে ব‌ইমেলা ২০২৫
প্রকাশক : আফসার ব্রাদার্স
প্রচ্ছদ : শ্রাবণ
জনরা : হরর
রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ।
Profile Image for Masfia Karim.
38 reviews
January 25, 2026
পড়ার চেয়ে বই শেষ করার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছি। হয়তো এবার থেকে বইয়ের প্রচ্ছদ দেখে বই কেনার অভ্যাসটা পরিবর্তন করতে হবে।
Profile Image for Heisenberg.
154 reviews8 followers
March 11, 2025
তানজিমীয়ও হ���র, বেশ ভাল লাগছে।
প্রচ্ছদ টাও দারুন।
Profile Image for Nazifa  Reads.
11 reviews
July 11, 2025
"যত্ন সহকারে মৃত মানুষ বাঁচিয়ে তোলা হয়"


তানজিম রহমানের অতিপ্রাকৃত উপন্যাসগুলো নেশার মতো। পুরো বই জুড়ে টানটান উত্তেজনা। আর সেরা চরিত্র ছিল হরু,এক কল্পনাপ্রিয় রিক্সাওয়ালা,যার রিকশায় চড়ে মৃতের আত্মারা। অতিপ্রাকৃত + ফিলোসফি,ভালো না লাগার কোনো কারণ ছিল না। তবে অক্টরিন পড়ার সময় যেমন হরর ফিল পাচ্ছিলাম,এটায় তেমন লাগে নাই।  

But the best part is the Cover!!! Mind blowing!!

 

Overall 4.3/5
Profile Image for তান জীম.
Author 4 books285 followers
April 6, 2025
একটা বইয়ের মাঝে খানিকটা হররের সাথে প্রচুর পরিমাণ ফিলোসফি থাকলে সে বই ভালো না লাইগা উপায় কী? তার ওপর তানজীম রহমানের দুর্দান্ত লিখনশৈলী, ঢাকার বর্ণনা একদম পারফেক্ট। বইটা ছোটো হইতে পারে কিন্তু বইটা চমৎকার। তবে এ বই সবার ভালো লাগবে না।
Profile Image for Zakaria Minhaz.
261 reviews24 followers
April 14, 2025
#Book_Mortem 229

বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি

হরু একজন কল্পনাপ্রবণ রিকশাচালক। একদিন আবিষ্কার করে তার রিকশায় উঠে বসেছে অতৃপ্ত আত্মা। সেই আত্মাকে পৌছে দিতে হবে নির্দিষ্ট গন্তব্যে। এভাবে একের পর এক আত্মারা বসতে শুরু করে তার রিকশায়। তারই ধারাবাহিকতায় একদিন এক নারী যাত্রী এসে বসে তার রিকশায়। দাবী করে তাকে আবার বাঁচিয়ে তুলতে হবে।
নবী স্যার একজন স্বঘোষিত নাস্তিক। পরকাল বা ঈশ্বরের অস্তিত্বে উনার বিশ্বাস নেই। তবে হরুর সাথে দেখা হওয়ার পর এলোমেলো হয়ে যায় তার জীবন দর্শন।
রমজান আলী ভুঁইয়া, প্রবল ধর্মপ্রাণ একজন মুসলিম। কিন্তু ধার্মিক এই মানুষটাকে কেন খুঁজে বেড়াচ্ছে একজন প্রেতাত্মা?

এমন একখানা বই যা শেষ করে কনফিউজড হয়ে যেতে হয়। এটা কি ভালো বই নাকী মন্দ বই! মোটাদাগে আমার অবশ্য ভালোই লেগেছে।

আস্তিক, নাস্তিক আর সাধারণ মানুষের মেলবন্ধন

বইয়ে বেশকিছু চরিত্র থাকলেও মোটামুটি এই তিন চরিত্র নিয়ে গল্পের ভিত্তি গড়ে উঠেছে। হরু একজন নিম্নবর্গের হিন্দু ধর্মাবলম্বী, ধর্ম নিয়ে তার মাঝে তেমন কোনো বাড়াবাড়ি দেখা যায় না। অপরিদকে নবী স্যার ধর্মকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেন। আবার এদিকে রমজান আলী ভুঁইয়া সবকিছুকে ধর্ম দিয়েই বিবেচনা করেন। এই গল্পে হরু নিম্নবিত্ত, নবী স্যার মধ্যবিত্ত আর রমজান আলী উচ্চবিত্ত সমাজের প্রতিনিধি। বইটার সবচেয়ে বড় অলংকার সম্ভবত এর মাঝে থাকা দর্শনের ব্যাপার স্যাপার গুলো। মানে ব্যক্তিগত ভাবে লেখকের উল্লেখ করা দর্শনের অংশগুলো আমার বেশ ভালো লেগেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষদের চিন্তাভাবনা, তাদের মুখে বসানো বিভিন্ন সংলাপ একেকটা ভাবনার খোরাক হয়ে এসেছে। রাজনৈতিক, সামাজিক, ইহকাল, পরকাল কিংবা দৈনন্দিন জীবন নিয়ে এমন কিছু লেখা রয়েছে বইয়ে যা পড়তে গিয়ে ভীষণ ভালো লেগেছে।

অলৌকিক নাকি সাদামাটা গল্প?

খুব বেশি হরর বা অতিপ্রাকৃতিক গল্প আমার পড়া হয়নি। তাই বলতে পারছি না বইয়ের প্লটটা একেবারেই ইউনিক কি না! তবে গল্প যেভাবে শুরু হয়, সেভাবে আগায় না কিংবা শেষটাও গল্পের শুরুর সাথে খুব একটা মেলে না। বইটাকে অতিপ্রাকৃতিক ঘরানার বলা হলেও, এখানে হরর এলিমেন্ট খুব বেশি নেই। যেটুকু আছে সেটার বর্ণনাভঙ্গিও ভয় লাগার মতো নয়। যদিও বেশ ক্রিপি সিকুয়েন্স আছে কয়েক জায়গায়। তবে লেখক তা এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যে তাতে হালকা শিরশিরে অনুভূতিই তৈরি হয় শুধু।আর এ জায়গায় এসে লেখকের লিখনশৈলী নিয়ে কিছু কথা বলতে হয়।

নীরিক্ষাধর্মী লেখা!

তানজীম রহমান সম্ভবত নিজের লেখা নিয়ে কিছু পরীক্ষা নীরিক্ষা করছেন। উনার পড়া আমার প্রথম বই আর্কন। সেটার তুলনায় সর্বশেষ উনার পড়া অনামিকা চুপ কিংবা এই বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি বই দুটোর লিখনশৈলী একেবারেই আলাদা। লেখক এখন অল্প শব্দে অনেক কিছু বলার চেষ্টা করেন। এবং উনার প্রচেষ্টা যে কাজে দিচ্ছে সেটার প্রমাণ এই বইটাই। এই বইতে এমন কিছু ওয়ান লাইনার আছে, যা এক কথায় দূর্দান্ত লেগেছে আমার কাছে। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন রিভিউতে সেগুলা উল্লেখ করায় আমি আর আলাদা করে বলছি না। আর অসংখ্য ছোট ছোট রেফারেন্স রয়েছে। যেগুলো ধরতে পারলে একচুয়েলি দারুণ লাগে।

তবে এই নীরিক্ষা করতে গিয়ে লেখক গল্পে ডিটেইলসের পরিমাণ একেবারেই কমিয়ে দিয়েছেন। এই ব্যাপারটা কিছুটা হতাশাজনক। এছাড়া আরেকটা ব্যাপার হলো, বইয়ের কলেবর বেশ কমেছে। এতে করে হচ্ছে কি, গল্প লাফিয়ে লাফিয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে যাচ্ছে। অতি দ্রুত ঘটনাপ্রবাহে পরিবর্তন চলে আসতেছে, সবকিছু ঠিকঠাক বোধগম্য হওয়ার আগেই নিত্য নতুন সিকুয়েন্স সামনে এসে পড়ছে। এই বইতেই যেমন রিকশায় করে ভূতকে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারটা শুরু হতে না হতেই, মৃতের আবারও বেঁচে ফেরার তাড়না, সেখান থেকে পরকালের ভাবনা, যখের ধন, মৃতকে ফিরিয়ে আনার মতো মানুষ খুঁজে ফেরা, শরীরে আত্মার প্রবেশসহ আরো অনেক ব্যাপার স্যাপার উঠে এসেছে অতি স্বল্প সময়ের মাঝেই। বইয়ের শেষটা চলনসই, তেমন কোনো চমক নেই সেখানে। তবে আফসোস আছে। জ্যোতি নামের মেয়েটার ডিপ্রেশনের কারনটা ঠিকঠাক ফুঁটে উঠেনি। আর গল্পের প্লটটা আরো বড় পরিসরে এক্সিকিউট করলে ভালো হতো। এখন কী যেন পাইনি, কী যেন হতে পারত টাইপ একটা বেখাপ্পা অনুভূতি হচ্ছে।

ব্যক্তিগত রেটিং: ০৭/১০ (এটা সেসব বিরল ধরণের বই যা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না খুব বেশি ভালো লাগল, নাকি এভারেজ লাগল। শুধু এতটুকু বলতে পারি সময়টা মন্দ কাটেনি পড়ার সময়ে। তবে সব পাঠকের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একরকম নাও হতে পারে। অত্যন্ত বিরক্তিকর থেকে একদম অসাধারণ টাইপ অনুভূতি হতে পারে পাঠকভেদে)

⛺ লেখক: তানজীম রহমান
⛺ প্রকাশনী: আফসার ব্রাদার্স
⛺ প্রচ্ছদ: শ্রাবণ
⛺ পৃষ্টা সংখ্যা: ৯৬
⛺ মূদ্রিত মূল্য: ২৫০ টাকা
Profile Image for Subril Haque.
16 reviews1 follower
March 1, 2025
তানজিম রহমান এর হরর মানেই, এমন গ্রাউন্ডেড একটা সেটাপ, যেখানে মনে হয় পাশের রাস্তাটাতেই ভুত আছে।
এই ভাইবটা মিসিং ছিলো "অক্টারিন ২" তে, যেটা আবার "বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি" তে ব্যাক করেছে।

"একজন রিকশাচালক আছেন যার রিকশায় চড়ে মৃতদের আত্মারা অন্তিম গন্তব্যে যাত্রা করে। একজন ব্যবসায়ী আছেন যিনি বিশ্বজয় করতে চান। একজন অধ্যাপক আছেন যিনি বেঁচে থাকার মূল উদ্দেশ্য জানেন।"

"অনামিকা চুপ" এখনও পড়া হয় নাই, হরর দিয়ে একটু ব্রেক নিব। তারপর আবার পড়বো হয়তো।
এই বইটা এক বসায় শেষ করা যাবে, কোন জায়গায় মনে হয় নাই, টোন ব্রেক হয়েছে বা রেখে দেই। এখানেও ভুতের ডিস্ক্রিপশন গুলা একটু রিং বা গ্রাজের মত ছিলো বাট তাদেরকে ঢাকার বনানী বা মগবাজারের রাস্তায় চিন্তা করাটাই মেইন কারিশ্মা। বেশ নস্টালজিক একটা স্যাত স্যাতে ফিলিং আছে গল্পটায়, ২০১৮ এর অক্টারিন পড়ার ফিল দেয়।
ক্যারেক্টার গুলাও বেশ গ্রাউন্ডেড, একজন রিকশা ওয়ালা, একজন প্রফেসর, একজন ব্যবসায়ী আর তার ক্লু লেস মেয়ের জামাই, আর ক্রেজি একটা পেত্নি। সবার বিল্ড আপ এবং কনক্লিউশনই আ���ার কাছে ভালো লেগেছে। লাস্টের মার্ডার মিস্ট্রি র ভাইবটাও খারাপ নয়।

তানজিম ভাইয়ের লেখার সেই পুরনো ম্যাজিকটা অনেকটাই ফিরে এসেছে, কিন্তু তাও জানি না কেন — একটা অদৃশ্য শূন্যতা থেকে যায়।

৪.৫/৫
Profile Image for Khandaker Sanidulla Sanid.
44 reviews6 followers
January 29, 2026
তেমন ভালো লাগলো না। হুটহাট করে একেকটা ক্যারেক্টর একেক জায়গা দিয়ে ঢুকে যাচ্ছে। একটা দৃশ্য বুঝে উঠতে না উঠতেই আরেকটা দৃশ্য চলে আসছে সামনে। গল্পে ফ্লো বলতে যেটা থাকে সেটা কেমন যেন নেই মনে হলো।
Profile Image for Farzana Reefat  Raha.
40 reviews17 followers
May 17, 2025
এই বইয়ের যা সবচেয়ে চমকপ্রদ লেগেছে তা হল এর প্রচ্ছদ। আমি খুব কমই বই পড়তে গিয়ে প্রচ্ছদ খেয়াল করি। কিন্তু "বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি" পড়তে গিয়ে বারবার গল্পের কাহিনীর সাথে এর প্রচ্ছদ এর সামঞ্জস্য দেখে মুগ্ধ হয়েছি এবং এই প্রথম পাতা উল্টিয়ে প্রচ্ছদকার এর নাম খুঁজে বের করেছি : "শ্রাবণ"।
এক কথায় বললে, গল্পটি খুবই ফান্কি স্টাইলে লেখা হয়েছে ভৌতিক ব্যাপার-স্যাপার আর ঢাকার রাস্তার রিকশা নিয়ে : গল্পের পুরো শানে-নজুল এবং আমেজই যেন এঁকে দেয়া প্রচ্ছদে!

তানজীম রহমানের লেখা এটি আমার প্রথম গল্প। পড়তে গিয়ে বারবার মনে হয়েছে অনেক্কক্কদিন পর কোনো একজন পাগলা লেখকের বই পড়লাম। এরকম পাগলামির ছটা শেষবার বোধহয় হিমু বা মিসির আলির মত লেখায় পেয়েছিলাম। আমার বাংলা বই খুব কম পড়া হয়েছে মাঝে... তাও নতুন লেখকদের লেখা তো আরও কম। তাই বেশ ভালো লাগলো দেখে যে নতুনদের মাঝেও এমন পাগলামি বজায় আছে।

নতুনদের লেখা পড়া শুরু করেছি দেখেই হয়তো লেখার প্যাটার্নে বেশ ভালোই পরিবর্তন নজরে পড়ল। যেমন, অনেক জায়গায় পড়তে গিয়ে মনে হচ্ছিল, সাবটাইটেল পড়ছি। কিংবা, ইউটিউব ভিডিওর ধারা-বিবরনী। বোধহয় এটা লেখকের লেখার নিজস্বতা - পড়তে অবশ্য মজাই লেগেছে!
ভৌতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে লেখা হলেও, গল্পের ফাঁকে ফাঁকে যে দার্শনিক চিন্তা তুলে ধরা হয়েছে তা বেশ ভাবনার উদ্রেককারীই বটে! Recommended!

3.5✨
.
.
.
সিলেট,
৩০ এপ্রিল, ২০২৫।
Profile Image for Sakib A. Jami.
346 reviews41 followers
March 7, 2025
“বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি” — কিছু কিছু বইয়ের নাম এমন আগ্রহ জাগানিয়া হয়, কোনো কিছু না জেনেই নিয়ে পড়ে ফেলতে ইচ্ছা হয়।

“বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি” তেমনই একটা বই। তবে এই বিষয় নিয়ে তর্ক হতেই পারে — কাহিনির সাথে বইয়ের নামের সামঞ্জস্যতা ঠিক কোনখানে?

সে যাই হোক, বইয়ের গল্পে ফেরা যাক। এই গল্পে একজন রিকশাওয়ালা আছে, নাম হরু। যার পারিবারিক জীবন তেমন সুখের না। এই রিকশাতেই তার ভরসা। এমন একদিন ঝুম বৃষ্টি নেমেছিল। রাতও হয়েছিল বেশ। হরু ভেবেছিল এই রাতে আর যাত্রী নিবে না। তখনই সে অনুভব করে, তার রিকশাতে কেউ একজন উঠেছে।

সেই অদ্ভুত যাত্রীর কন্ঠ সে শুনতে পায়। তাকে পেছনে তাকাতে বারণ করা হয়। ভয় নিয়েই যাত্রীর বলা গন্তব্যে সে চলতে থাকে। সেদিনই হরু জানতে পারে, এই শহরে থাকা অশরীরী, অতৃপ্ত আত্মাকে হরু দেখতে পায়, শুনতে পায়।

আরেকদিনের ঘটনা। এমনই এক রাতে আরেক আত্মা হরুর রিকশায় যাত্রী হয়ে ওঠে। সেদিন থেকেই গল্পের মোড় বদলে যেতে থাকে। সেই মেয়ে, যার আত্মা হরুর রিকশায় ওঠে, সে এমন একজনকে খুঁজে দিতে বলে, যাকে পেলে মেয়েটা বেঁচে ফিরতে পারবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একবার মারা গেলে কি বেঁচে ফেরা যায়?

নুরুন্নবী স্যার পেশায় একজন অধ্যাপক ছিলেন। অনেকদিন আগে রিটায়ার্ড করেছেন। এখন তিনি নিজস্ব দর্শন নিয়ে গবেষণা করেন। প্রচুর বই, জার্নাল পড়ে নিজের দর্শন লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি মনে করেন, তার এই দর্শন প্রকাশ পেলে সবাই তা বিশ্বাস করতে শুরু করবে। অনেক কিছুই বদলে যাবে। তাই তিনি চান না এ প্রকাশ পান।

তার সাথে পরিবারের কারও সম্পর্ক ভালো না। হয়তো তার ব্যক্তিগত দর্শনের কারণেই এ দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। একদিন স্যারের সাথে দেখা মেলে হরুর। হরুর বিপদের কথা জানতে পারে নবী স্যার। মৃত্যুর পরের জীবন বলে আসলেই কিছু আছে? এ ব্যাপারে বিশ্বাস ছিল না স্যারের। তিনি যখন এখানে রহস্যের গন্ধ পান, তখন পিছনে যাবেন কেন? মৃত্যুর পরের জীবন সম্পর্কে, মৃত্যুর পরে এক আত্মার কষ্ট সম্পর্কে তাই জানার তবে আগ্রহ তাকে এই অশরীরী খেলায় জড়িয়ে ধরে।

রমজান আলী ভূঁইয়া একজন শিল্পপতি। তিনি ধার্মিক। যার পিছনে এক নিগূঢ় রহস্য আছে। ধানমন্ডির এক নিস্তব্ধ বাড়িতে এ রহস্য জমা। তার কথাতে মেয়ের জামাই ফায়েক খুঁজে বেড়াচ্ছে গোপাল নামের একজনকে। যে কি না মৃত মানুষকে ফিরিয়ে আনতে পারে।

ধানমন্ডির বাড়িতে মিলেছে সবাই। যেখানে চিত্রিত হচ্ছে এক অতিপ্রাকৃত ঘটনা! যে ঘটনা অনেক প্রশ্নের উত্তর দিবে। কোনটা সত্যি আর কোনটা বিভ্রম, তা উত্তর মিলবে তো?

তানজীম রহমানের আরো একটি ব্যতিক্রমধর্মী লেখা “বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি”। লেখক নিরীক্ষাধর্মী লেখা লিখতে পছন্দ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় এই বইটি মিশ্র এক প্রতিক্রিয়া দিয়ে গেল। ভালো লাগার উপাদান থাকলেও সংক্ষিপ্ত পরিসরে লেখার কারণে ঠিক মন মতো হলো না। ফলে পাঠক সমাজ বইটা নিয়ে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে যেতে পারে।

মনে হচ্ছিল এই লেখা আরো ব্যাখ্যার দাবি রাখে। চরিত্রগুলোর গভীরে পৌঁছানোর প্রয়োজন ছিল বলে মনে হয়েছে। যদিও বইটিতে চরিত্রের সংখ্যা ছিল সীমিত। প্রতিটি চরিত্রকেই লেখক স্বল্প পরিসরে বেশ ভালো মতোই উপস্থাপন করেছেন। তারপরও মনে হয়েছে একটি বিস্তারিত বর্ণনা বইটিকে প্রাণবন্ত করতে পারত।

লেখকের লেখা গতিশীল নয়, আবার খুব বেশি ধীরও নয়। পড়তে গেলে কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত হতে হয়। হয়তো লেখকের লেখার ধরনের জন্য। লেখক স্বল্প পরিসরে প্রচুর পরিমাণে দর্শনের প্রবেশ ঘটান। যা হয়তো জীবনের সাথে এক ধরনের সামঞ্জস্যপূর্ণ, মন থেকে অনুধাবন করা যায়। সে কারণেই তার লেখার এই ধরন বেশ ভালো লেগেছে। বইটির যেটুকু ভালো লেগেছে, তার মূল কারণ এই অতিপ্রাকৃত ঘটনার সাথে দর্শনের সংমিশ্রণ।

আগেই বলেছি, লেখক খুব সংক্ষিপ্ত পরিসরে ঘটনাগুলো লিখেছেন। ব্যাখ্যার পরিমাণ কম ছিল। ফলে শুরুর দিকে ঘটনাপ্রবাহের অনেক কিছুই বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল। এক কাহিনি থেকে আরেক কাহিনিতে খুব দ্রুত চরিত্রগুলো জাম্প করছিল। যদিও সময়ের সাথে সাথে অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। তবুও ৯৬ পৃষ্ঠার বইতে কাহিনির গতিপথ আর কতটা ধরা যায়!

উপন্যাসিকার প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুটা আকর্ষণীয়। শুরুতে কাব্যিক তিন-চার বাক্যে লেখক অধ্যায়ে কী ঘটতে যাচ্ছে তার একটা আভাস দিয়ে দিয়েছেন। দারুণ লেগেছে বিষয়টা। পাঠক আগে জানবে কী হচ্ছে, তারপর কীভাবে হচ্ছে জানার জন্য পুরো বইটা পড়বে।

গল্পের মূল চরিত্রে একজন নাস্তিক আছে, আরেকজন ধার্মিক আছে। নাস্তিক যেমন বিশ্বাস করে মৃত্যুর পরের জীবন বলতে কিছু নেই, কিন্তু এমন কোনো ঘটনার তার দ্বিধাদ্বন্দ্ব মনে এই বিশ্বাস চলে আসে। ধার্মিক ব্যক্তি হয়তো মনের অজান্তেই এমন কিছু ভুল করে, যা ধর্ম বিরোধী। ধর্মে তাকে কুফরী বা শিরক বলা হতে পারে।

মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিতে এমন এক বিষয় আছে, সে ভুল করলেও তাকে ভুল মানতে চায় না। নিজেকে সঠিক প্রমাণে নানান যুক্তি খুঁজে বের করে। আর সেভাবেই নিজের শুদ্ধতার বয়ান দেয়।

উপন্যাসিকাকে হরর বলা হলেও ভয়ের ছাপ তেমন ছিল না। পাঠকের মনে ভয়ের সঞ্চার করতে লেখক এদিক দিয়ে ব্যর্থ বলা যায়। লেখক মনে হয় ভয়ের চেয়ে লেখার মধ্য দিয়ে কিছু বার্তা পাঠককে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

তার মধ্যে একটি হলো, সম্পর্কের বন্ধন। যেই মেয়েটিকে নিয়ে এই কাহিনি, তার পারিবারিক বিষয় এখানে গুরুত্ব পেয়েছে। পরিবার যতই আপন হোক না কেন, আমরা কি পরিবারের সবাইকে বুঝতে পারি? নিজেদের চাওয়া-পাওয়া দিয়েই একে অন্যকে বিচার করি। সমস্যার সমাধান দিয়েই কাজ সারতে চাই। সমস্যার মূল বা পাশে থেকে অনুপ্রেরণা দেওয়ার মতো কাজ কতজন করি?

ফলে আমরা খুব কাছে থেকেও পরিবারের সদস্যদের থেকে দূরে চলে যাই। মনের দিক দিয়ে এই দূরত্ব হয়তো ঘুঁচে না। তারপরও যে অদৃশ্য বন্ধন পরিবার জড়িয়ে রাখে, মা জড়িয়ে রাখে — তাকে এড়িয়ে যাওয়ার উপায় কি আদৌ আছে?

“বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি” নামটার সাথে উপন্যাসিকার কিঞ্চিৎ মিল পেলাম। নামটা যৌক্তিক মনে হয়নি পুরোটা শেষ করে।

আফসার ব্রাদার্স-এর সম্পাদনা, বাঁধাই নিয়ে অভিযোগ থাকলেও এই বইয়ে বানান ভুল ছিল না বললেই চলে। বাঁধাই ভালো হয়েছে। সম্পাদনা ঠিকঠাক। আর রিকশা আর্টের এই প্রচ্ছদ আমার ভীষন ভালো লেগেছে। কিন্তু এখানেও গল্পের সাথে মিল সামান্যই।

◾পরিশেষে, মৃত্যু মানবজীবনে অবধারিত সত্য। এরপর কী হয়? পরিবারের মায়া ছেড়ে আত্মা কি চলে যেতে পারে? না-কি খুঁজে বেড়ায় সেই সংযোগ? হয়তো যে বিষাদ জমা হয় মৃত্যুর পর, তার টানেই বারবার ফিরে ফিরে আসা! কিন্তু, ফিরে পাওয়া যায় কি সেই দিন?

◾বই : বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি
◾লেখক : তানজীম রহমান
◾প্রকাশনী : আফসার ব্রাদার্স
◾পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৯৬
◾মুদ্রিত মূল্য : ২৫০
◾ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৫/৫
Profile Image for Saima  Taher  Shovon.
529 reviews196 followers
February 26, 2025
এটা হরর জনরার এটা জানতাম। লেখকেরই অনামিকা চুপ পড়ার সময় ভূতূড়ে এক অনুভূতি হয়েছিলো। সেটা কী কাটিয়ে উঠেছি? নাকি এটা তেমন ভয়ের লাগেনি? কাহিনী ফেলে উঠতে পারিনি এটা সত্য। আবার উলটো পা এর ক্লিসে, সামনে চুল এই জিনিসগুলো সত্যিই উপভোগ করেছি। আবার চরিত্রগুলো কী বিচিত্র এই বইয়ের! গ্যারান্টি দিচ্ছি, এই বইয়ের চরিত্রগুলো অবাক করবে। একমাত্র আমাদের এক্স নাস্তিক প্রফেসর ছাড়া। কেননা তিনি ক্যারেক্টরের বাইরে যাননি। তার যেমন আচরণ করার, তেমনটাই করেছেন।
Profile Image for Saima  Taher  Shovon.
529 reviews196 followers
February 26, 2025
এটা হরর জনরার এটা জানতাম। লেখকেরই অনামিকা চুপ পড়ার সময় ভূতূড়ে এক অনুভূতি হয়েছিলো। সেটা কী কাটিয়ে উঠেছি? নাকি এটা তেমন ভয়ের লাগেনি? কাহিনী ফেলে উঠতে পারিনি এটা সত্য। আবার উলটো পা এর ক্লিসে, সামনে চুল এই জিনিসগুলো সত্যিই উপভোগ করেছি। আবার চরিত্রগুলো কী বিচিত্র এই বইয়ের! গ্যারান্টি দিচ্ছি, এই বইয়ের চরিত্রগুলো অবাক করবে। একমাত্র আমাদের এক্স নাস্তিক প্রফেসর ছাড়া। কেননা তিনি ক্যারেক্টরের বাইরে যাননি। তার যেমন আচরণ করার, তেমনটাই করেছেন।
Profile Image for Sehemi Akhi.
70 reviews2 followers
March 29, 2025
সবার এত ভাল ভাল রিভিউয়ের মাঝে আমার হতাশাজনক রিভিউ। গল্পের চরিত্র, তাদের ব্যাপারে এক্সপ্লেনেশন, আমার কাছে প্লটের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে। কানেক্ট করতে পারিনি কতক জায়গায়। একটা ছোট্ট বই, সেখানেও যদি একেকটা চরিত্রের বিবরণ প্লটের অপ্রয়োজনীয়তা মনে হয়, তাহলে আর কি বলার আছে! কেন এমন মনে হয়েছে জানিনা!!!!!
Profile Image for Dipak Karmoker.
69 reviews2 followers
April 12, 2025
পড়লাম তানজীম রহমানের লেখা 'বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি'। ব্যতিক্রমী নাম ও প্রচ্ছদ এবং বইপাড়ায় উপন্যাসটি নিয়ে আলোচনা দেখেই বইটি পড়ার ইচ্ছা জাগে।
লেখক তানজীম রহমান কিংবা তাঁর লেখার সাথে আমার কোন পরিচয় ছিল না। সমকালীন লেখকের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই এমন হয় যে, যতটা নামডাক শোনা যায়, বই পড়তে গেলে সেই নামডাকের পরিচয় পাওয়া যায় না। এইক্ষেত্রে তানজীম রহমান আমাকে হতাশ করেননি।

যেকোনো গল্প বা উপন্যাসের ক্ষেত্রে, গল্পটি কেমন সেটি আমার কাছে প্রাধান্য পায় না, গল্পটা কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেটাই আমার কাছে প্রাধান্য পায়। আবার, পুরো একটা গল্প না পড়ে গল্পটা কেমন সেটা যেমন জানা বা বোঝা যায় না, তেমনি গল্পটি সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্তও নেওয়া যায় না। কিন্তু, কোন বইয়ের অন্তত একটি পাতা পড়েই বোঝা যায় লেখকের লেখা কেমন। তাই গল্প পরের বিষয়, লেখার ধরণটাই আমার কাছে মূখ্য। 'বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি' পড়ার পরে মনে হলো গল্পটিও যেমন সুন্দর, লেখকের লেখাও বেশ।

গল্পটি লেখক খুব সাধারণভাবে উপস্থাপন করেছেন, একদম নাটকীয়তা ছাড়া। এমনকি গল্পটি শেষ করে মনে হবে শেষে একটু টুইস্ট বা একটু টানটান উত্তেজনা থাকলে মন্দ হতো না। কিন্তু আগেই বলেছি, লেখক কোনরকম নাটকীয়তাকে প্রশ্রয় দেননি, বরং—গল্পটি যেমন হতে পারত—তেমন করে লিখেছেন। ফলে, হরু নামক কল্পনাপ্রবণ একজন রিকশালচালক, যার রিকশায় চড়ে মৃত আত্মারা বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে এবং সেই মৃত আত্মা তাকে নানান ঘটনার মারপ্যাচে ফেলে দেয়— এসব পড়েও মনে হবে যেন এটা খুবি সাধারণ একটি বিষয়। আবার এই আত্মারা ভূত হলেও, গল্পটাকে ভূতের গল্প যেমন বলা চলে না, একইভাবে লেখাটিকে জাদুবাস্তবতাও বলা যায় না।

গল্পে রিকশাচালকের সাথে আছেন একজন দর্শনের অধ্যাপক, যিনি সোজা কথায় নাস্তিক এবং জীবনের উদ্দেশ্য তিনি জানেন। একইসাথে মরণের পরের দুনিয়া নিয়েও তাঁর আগ্রহ আছে। হরুর রিকশায় চড়ে তিনি সেই অজানাকে জানার একটি সুযোগ পান। আর একজন ব্যবসায়ী আছেন, যিনি ধার্মিক এবং মৃতদের আত্মা নিয়ে তাঁর একটি বিশেষ পরিকল্পনা আছে। আর এক অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার যিনি মৃত আত্মাকে জীবিত করার কৌশল জানেন। এর বাইরে কিছু মানব চরিত্রের সাথে কিছু মৃত আত্মার কথাও আমরা জানবো, সেই মৃত আত্মার মধ্যে জ্যোতি নামের অভিমানী মেয়েটি অন্যতম। অল্প-স্বল্প করে আমরা মোটামুটি সবার গল্পই শুনতে পাই এবং কিঞ্চিত বিশৃঙ্খল ঘটনার পরে একটি সহজ পরিণতির মধ্য দিয়ে গল্পটি শেষ হয়ে যায়।

লেখকের বর্ণনায় কিঞ্চিত শহীদুল জহিরের প্রভাব লক্ষ করা যায়। আর কিছু ক্ষেত্রে বর্ণনা কিছুটা ঝাপসা থেকে যায়, ফলে বুঝতে মাঝে-মাঝে সমস্যা হয়। আর যতি চিহ্নের ব্যবহার (বিশেষত কমার ব্যবহার) হয়তো লেখকের ইচ্ছাতেই হ্রাস করা হয়েছে। কমার ব্যবহার না থাকলেও অনেক জায়গায় কোলনের ব্যবহার দেখা যায়। সংলাপের ক্ষেত্রে যেকোনো এক নিয়ম ব্যবহার করলে বিষয়টা ভালো হতো বলেই মনে করি।
লেখক ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানের যে বর্ণনা দিয়েছেন, ঢাকা শহরে তাঁর চরিত্রের বিশ্বাসযোগ্য ও নিয়মমাফিক বিচরণ একটি অলৌকিক গল্পকে বাস্তবভাবে উপস্থাপনে সহায়তা করেছে। এমনকি কড়াইল বস্তির এক অংশে যে মূল রাস্তা থেকে বস্তিতে যাওয়ার জন্য নৌকা ব্যবহার করতে হয় সে অংশটুকুও লেখক বাদ দেননি।
গল্পটিতে একজন দর্শনশাস্ত্রের অধ্যাপক আছেন বলেই নয়, দর্শনশাস্ত্রের বিষয়ে লেখকের জানাশোনা ও আগ্রহের বিষয়টি এবং নিজস্ব দর্শনের পর��মিতি ব্যবহার গল্পটিতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

আফসার ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত বইটির প্রচ্ছদ ভালো লেগেছে। রিকশা পেইন্টিং-এর ধাঁচে প্রচ্ছদটি এঁকেছেন শ্রাবণ। ৬ ফর্মার ২৫০ টাকা মলাটমূল্যের বইটির প্রোডাকশন বেশ ভালো, তবে কিছু প্রিন্টিং মিসটেক আছে।

সবমিলিলিয়ে ফ্যান্টাসি ঘরানার বইটি ফিকশন প্রেমীরা চাইলে পড়তে পারেন। ধন্যবাদ।
Profile Image for Alvi Rahman Shovon.
476 reviews17 followers
August 15, 2025
এবারের বইমেলায় যখন প্রকাশিত হলো তখন থেকেই পড়ার আগ্রহ ছিলো তানজীম রহমানের বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি বইখানা। অতিপ্রাকৃত থ্রিলার জনরার বই আমার সব সময়ই খুব পছন্দের। এই বইটার প্রতি এই জন্য মূখ্য আগ্রহ থাকার কারণ হলেও আগ্রহের আরেক কারণ ছিলো এর ভিন্নধর্মী নামকরণ আর প্রচ্ছদের কারণে। এমনিও লেখক তানজীম রহমান বরাবরই কিছুটা নীরিক্ষা করে লিখে থাকেন। সুন্দর এই নামকরণ আর রিকশা পেইন্টের এই চমৎকার প্রচ্ছদ উনার বইটাকে যেন কেনার জন্য আরও বেশি আকর্ষিত করছিলো।

৯৬ পৃষ্ঠার ছোট্ট এই বইখানার কাহিনী আবর্তিত হয় রিকশাচালক হরুকে নিয়ে। সে এক অদ্ভূত ক্ষমতার অধিকারী যার মাধ্যমে সে অশরীরী - অতৃপ্ত আত্মাদের দেখতে পায়; তাদের কথা শুনতে পায়। গভীর রাতে রিকশা চালাতে গেলে এমন বহু অশরীরী - অতৃপ্ত আত্মাদের তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয় হরু। এমনি এক রাতে হরুর রিকশায় ওঠে এক আত্মা মেয়ে, যে তার হারিয়ে যাওয়া কাউকে খুঁজে পে��ে চায়। হরুকে সে জানায়, যদি সে তাকে খুঁজে বের করতে পারে, তবে সে আবার বেঁচে ফিরতে পারবে। কিন্তু সত্যিই কি মৃত্যুর পর আবার জীবিত হওয়া সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই কাহিনী এগিয়ে চলে।

অতিপ্রাকৃত ঘরানার বই ভেবে পড়া শুরু করলেও আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম বইখানায় ভৌতিক আবেশের সাথে ব্লেন্ড করা হয়েছে নানা ধরনের দার্শনিক ভাবনারও। সেই সাথে রয়েছে সমাজ ব্যবস্থা, মানুষের বিশ্বাস - ধারণা এবং পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের এক অদ্ভূত মেলবন্ধন। গল্পে গা ছমছমে ভাব তেমন ছিলো না সুন্দর লেখনীশৈলীর জন্য পড়ে আরাম পাওয়া গেছে। বইটি শেষ করার পর মনে হয়েছে আরও বিস্তৃতভাবে লেখা যেতে পারত। কিছু কিছু জায়গায় মনে হয়েছে আরও ব্যাখ্যা দরকার ছিলো। তবে এটা লেখক ইচ্ছাকৃত ভাবে করেছেন কিনা বোধগম্য হলো না। তবে গল্পের শেষে এসে সেই অতৃপ্ত আত্মা মেয়েটির যে রহস্য উন্মোচিত হয় সেটি এক অন্য রকম তৃপ্তি দেয় পড়া শেষে।

বইটাকে মাস্ট রিড টাইপ বলবো না। তবে ঝুম বৃষ্টির দিনে অথবা তীব্র ঝরের রাতে পড়ার জন্য চরম উপভোগ্য একখানা হই এটা সেটা নিশ্চিন্তে বলতে পারি।
Profile Image for Mahrufa Mery.
207 reviews117 followers
June 9, 2025
বইঃ বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি
লেখকঃ তানজীম রহমান
পৃষ্ঠাঃ ৯৬
প্রচ্ছদঃ শ্রাবণ
রেটিংঃ ৩/৫
তানজীম রহমানের লেখা “বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি” পড়ে ভাল লেগেছে। এটা জাস্ট একটা হরর উপন্যাস নয়, এর সাথে লেখক মিক্স করেছেন দর্শন, কমেডি আর ঢাকাবাসীর নগরজীবনের বেদনাভারাক্রান্ত বাস্তবতা। গুলশান বনানী মহাখালির বৃষ্টিভেজা রাস্তাঘাট, রিকশা, আর রহস্যময় রিকশাওয়ালা হরুকে ঘিরে গড়ে লেখক গল্পের ক্যানভাস্টি সাজিয়েছেন। হরু চরিত্রটি নিঃসন্দেহে বইটির প্রাণ—সে একইসাথে নরম দার্শনিক এবং কিছু ক্ষেত্রে মায়ার উদ্রেগকারী।
বইটির লেখার স্টাইল মেদহীন, কখনো কখনো ধারাবিবরণীর মতো একদম কাট কাট করে ঘটনা বলে যাওয়া, সাথে কোন বাহুল্য নেই—যা পড়ায় গতি এনে দেয়। অতিপ্রাকৃত জিনিসপত্রের মধ্যে হাস্যরস এবং জীবনদর্শন ঢুকিয়ে লেখক বইটিকে একটু অন্য ধাঁচে দাঁড় করিয়েছেন। একই চেষ্টা অনামিকা চুপ বইটিতেও তিনি করেছেন বাট ওই বইতে সেই চেষ্টাটা পরিণত মনে হয়নি। তবে এই বইটা উত্রে গেছে। যখ ও প্রেতের কিছু বর্ণনা বেশ অস্বস্তি জাগায়, তবে বেশি ভীতিকর কিছু এই বইটিতে নেই, বরং পাঠকের মনে ভাবনার রেশ ফেলে। হরু ও নবী স্যারের জুটির রসায়ন ভাল লেগেছে। নবী স্যার দার্শনিক হলেও উষ্ণ।
এত ছোট কলেবরের গল্পের মধ্যেও কিছু দৃশ্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে স্থান পেয়েছে, এবং সংক্ষিপ্ত আকারে গল্প শেষ হওয়ায় অনেকের মধ্যে অসম্পূর্ণতার রেশ রয়ে গেছে। কিন্তু সেসব গল্পের মজা নষ্ট করেনি। প্রচ্ছদ ও গল্পের সামঞ্জস্য ছিল। প্রচ্ছদ চমৎকার লেগেছে। লেখকের অতিপ্রাকৃত গল্প লেখার স্বকীয়তা এই বইকে একটা আলাদা মাত্রা দিয়েছে। হররপ্রেমী, দার্শনিক চিন্তায় আগ্রহী, বা শুধু একটু ব্যতিক্রমী কিছু পড়তে ইচ্ছুক যে কেউ “বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি” বইটা উপভোগ করবেন। তানজীম রহমান বাংলা অতিপ্রাকৃত জনরায় ন্যাতিক্রমি একটা ধারা দাঁড় করাতে চাচ্ছেন, সফল হবেন কিনা সময় বলে দেবে। তিনি থেমে যান , সেটা অয়াঠক হিসেবে চাইছি না আপাতত। অনামিকা বইটা মিস মনে হলেও এই বইটা হিট মনে হয়েছে। পড়ার জন্য রেকমেন্ডেড।
Profile Image for Fårzâñã Täzrē.
288 reviews23 followers
April 14, 2025
“বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি
রিকশাওয়ালা হরু খুব খুশি,
কিন্তু রিকশায় যাত্রী কারা?
কোন ঠিকানায় যায় তারা?"

“বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি” কথাটার সাথে আমরা কমবেশি সবাই পরিচিত বিশেষ করে ঝুম বৃষ্টিতে যখন বাধ্য হয়ে ঘরের বাইরে যেতে হয়। ভাড়া বেশি পেয়ে রিকশাওয়ালারাও খুব খুশি হয়। যেমন একজন হরু।

হরু পরিবার নিয়ে বস্তিতে থাকে। তবে হরুর পারিবারিক জীবন তেমন সুখের না। বউ মালতীকে সে সুখ দিতে পারে না। সংসারের প্রতি উদাসীন সে। এই রিকশাতেই তার জীবন যেন কাটে বেশিরভাগ। কিন্তু এই হরুর সাথে এমন এক ঘটনা ঘটলো হঠাৎ! একদিন ঝুম বৃষ্টি নেমেছিল। রাতও হয়েছিল বেশ। হরু ভেবেছিল এই রাতে আর যাত্রী নিবে না। তখনই সে অনুভব করে, তার রিকশাতে কেউ একজন উঠেছে।

বেশ গভীর গমগমে গলায় নির্দেশ এলো পেছনে তাকাবেন না। হরু বেশ ভয় পেয়ে যায়। কে তাকে এভাবে বলছে! আবার পেছন থেকে একটা ঠিকানার কথা বলা হলো। সেখানে যাত্রীকে পৌঁছে দিতে হবে। হরু ভয় পেয়ে চুপচাপ রিকশা চালিয়ে ঠিক নির্দিষ্ট জায়গায় যাত্রীকে নিয়ে আসে। পেছনে তাকানো নিষেধ থাকলেও কৌতুহলী হরু যা দেখে তাতে তার চক্ষু চড়কগাছ। একজন রিকশা থেকে হামাগুড়ি দিয়ে নেমে সামনের বিল্ডিং এর দিকে এগিয়ে চলেছে। বিভৎস তার শারীরিক অবস্থা। হরু তখন চিন্তা করতে শুরু করে ঢাকা শহরের এত মানুষের মধ্যে তবে কী একমাত্র সেই এসব দেখতে পায়? একটু আগে যে নামলো সে তো আর বোধহয় বেঁচে নেই। তারা হরুকে দেখা দিচ্ছে কেন? তবে কী হরু তাদের একটা মাধ্যম, ঠিক গন্তব্যে পৌঁছানোর?


আরেকদিনের ঘটনা হরু রিকশা নিয়ে ফিরছে হঠাৎ করেই তার মনে হলো একটা মেয়ের দেহ যেন আকাশ থেকে টুপ করে ঠিক তার সামনের রাস্তায় পড়লো। মেয়েটিকে দেখে হরু ভয় পায় না কারণ এতদিনে হরু এইসব অশরীরী আত্মাদের অনেক জায়গায় নামিয়ে এসেছে নিজের রিকশা দিয়ে। হরু দেখে মেয়েটি চুপচাপ রাস্তায় মাথা নিচু করে বসে আছে। হরু সাহস করে এগিয়ে গিয়ে বলে সে কোন ঠিকানায় যাবে। এবার মেয়েটি হরুর দিকে তাকায়। হরু আঁতকে উঠলো। এমন বিভৎস চেহারা হয়েছে। কী করে এই মেয়ের মৃ*ত্যু হয়েছে কে জানে! কিন্তু হরুকে অবাক করে দিয়ে মেয়েটি কোনো ঠিকানা বললো না শুধু বললো হরুর তাকে সাহায্য করতে হবে। সে আবার বেঁচে উঠতে চায়। হরুকে তাকে আবার জীবন দিতে হবে ততদিন হরুকে সে ছাড়বে না। এবং কী আশ্চর্য মেয়েটি সেই থেকে হরুর সাথেই আছে। হরুকে শুধু তাগিদ দিচ্ছে তাকে আবার জীবন দেয়ার জন্য। কিন্তু হরু সামান্য রিকশাওয়ালা সে কী করবে?

🍲নুরুন্নবী স্যার🍲

নুরুন্নবী স্যার পেশায় একজন অধ্যাপক ছিলেন। অনেকদিন আগে রিটায়ার্ড করেছেন। এখন তিনি নিজস্ব দর্শন নিয়ে গবেষণা করেন। প্রচুর বই, জার্নাল পড়ে নিজের দর্শন লিপিবদ্ধ করেছেন।
তার সাথে পরিবারের কারও সম্পর্ক ভালো না। হয়তো তার ব্যক্তিগত দর্শনের কারণেই এ দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। ছেলে রথীর ইচ্ছা বাবার এসব দর্শন বই আকারে আসুক কিন্তু নবী স্যার এসব ছাপতে নারাজ। ছেলে এসেছিল বাপকে নিজের বিয়ের সময় হাজির হবার অনুরোধ করতে নবী স্যার তাতেও রাজি নন।

ছেলের সাথে রেস্টুরেন্টে দেখা করে বের হবার সময় দেখা মেলে হরুর সাথে। হরুর বিপদের কথা জানতে পারে নবী স্যার। মৃ*ত্যুর পরের জীবন বলে আসলেই কিছু আছে? এ ব্যাপারে বিশ্বাস ছিল না স্যারের। তিনি যখন এখানে রহস্যের গন্ধ পান, তখন পিছনে যাবেন কেন? মৃ*ত্যুর পরের জীবন সম্পর্কে আত্মার মুখে জানতে কৌতুহলী নবী স্যার হরুকে কথা দেন তিনি হরুকে সাহায্য করবেন মেয়েটিকে আবার জীবন দেয়ার চেষ্টা চালাতে।

রমজান আলী ভূঁইয়া একজন শিল্পপতি। তিনি ধার্মিক। জামাই ফায়েক শ্বশুরের খুব বাধ্যগত। রমজান আলী খুঁজছেন গোপাল নামের একজনকে যে মৃত আত্মাদের জীবিত করতে পারে। এই গোপাল টাকা নেয় বেশি কিন্তু কাজ নিখুঁত। কিন্তু রমজান আলী কোন আত্মাকে জীবিত করতে চান? ওদিকে সেই হরু আর নবী স্যার ও গোপাল���র কথা জানতে পারলেন। এবার আশায় বুক বাঁধা যায়। কিন্তু শেষটা কী ভালোয় ভালোয় হবে? মেয়েটিকে কী গোপালের মাধ্যমে জীবিত করতে পারবে হরু আর নবী স্যার নাকি রমজান আলী গোপালকে দিয়ে করাবেন অন্য কিছু? এই গল্পের শেষটায় কী সব রহস্য এক সুতোয় বাঁধা পড়বে এসে?

🍲পাঠ প্রতিক্রিয়া🍲

তানজীম রহমানের লেখা “বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি” আমার পড়া ওনার প্রথম বই। বইটি পড়ার আগেই শুনেছিলাম লেখক নিরীক্ষাধর্মী লেখা লিখতে পছন্দ করেন এবং ওনার শব্দচয়ন একটু আলাদা ধরনের। আমি জানি না ওনার কোনো বই আগে পড়িনি বলে এমন অনুভূতি হলো নাকি গল্পটি আরো বিস্তারিত আলোচনার দাবিদার ছিল বোঝার সুবিধার্থে।

আমার প্রথম যেটা সমস্যা হয়েছে সেটা হলো শব্দচয়নের ক্ষেত্রে। বেশ কঠিন ফিলোসফিক্যাল ধরনের মনে হচ্ছিল। গল্পের বর্ণনা শৈলী গতানুগতিক বইগুলোর থেকে বেশ আলাদা এবং ভেঙে ভেঙে বুঝে বুঝে পড়তে হচ্ছিল আমার। লেখক স্বল্প পরিসরে প্রচুর পরিমাণে দর্শনের প্রবেশ ঘটান। যা হয়তো জীবনের সাথে এক ধরনের সামঞ্জস্যপূর্ণ, মন থেকে অনুধাবন করা যায়। ভৌতিকতার সাথে দর্শনের মিশ্রণ বেশ নতুন অভিজ্ঞতা আমার কাছে।

আমি জানি না তবে আমার কাছে শুরু থেকেই গল্পের রেশ বোঝাটা জটিল হয়ে যাচ্ছিল। মাঝপথ পর্যন্ত বুঝতেই পারছিলাম না চরিত্রগুলো আসে কার কী ভূমিকা। আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা করলে ভালো হতো। বিশেষ করে ওই মেয়ে আত্মাটি, তাকে নিয়ে আলোচনা আরেকটু ভালো হতো। ভাগ্যিস শেষে এসে অন্তত লেখক সংক্ষিপ্ত হলেও কিছু বর্ণনা দিয়েছেন মেয়েটিকে নিয়ে।

বইয়ের নাম এর সাথে কাহিনীর তেমন কোনো সামঞ্জস্য নেই। নামটা যথার্থ লাগেনি আমার কাছে। লেখকের লেখা খুব মন্থর নয় আবার দ্রুত গতির নয় মিডিয়াম বলা যায়। আমার অবশ্য বেশ সময় লেগেছে বোধহয় আমি লেখকের লেখার ধরন বুঝতে পারিনি এইজন্য। ভয়ের থেকে এই বইয়ে জীবন দর্শনের বেশ কিছু মেসেজ উঠে এসেছে বেশি। জীবনের একটা দিক উঠে এসেছে। এখানে একজন আছেন নাস্তিক যিনি পরকালের কথা জানতে আগ্ৰহী, আবার একজন যে ইতিমধ্যে জেনে গেছে জীবিত ও মৃ*তের পার্থক্য। প্রত্যেকের কাছে জীবনের অর্থ একেক রকম।

শেষের ফিনিশিংটা ভালো ছিল বলেই স্বস্তি পেলাম। নাহলে বইটি আমার কাছে তেমন দারুন কিছু লাগেনি। মোটামুটি ভালো বলা যায়। তবে লেখকের বাকি বইগুলো পড়লে হয়তো আমার আরো বুঝতে সুবিধা হবে ওনাকে।

🍲বইয়ের নাম: "বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি"
🍲লেখক : তানজীম রহমান
🍲প্রকাশনী : আফসার ব্রাদার্স
🍲পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৯৬
🍲মুদ্রিত মূল্য : ২৫০
🍲ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৪/৫
Profile Image for সুমাইয়া সুমি.
248 reviews3 followers
May 11, 2025
তীব্র গরমে যখন হাঁসফাঁস অবস্থা তখন হুট করে চারপাশ অন্ধকার হয়ে এলো। ঝড়ো বাতাসের সাথে শুরু হলো বৃষ্টি আর বজ্রপাত। এরম সময় অতিপ্রাকৃত গল্প পড়ার উত্তম সময়। তাই পড়ে ফেললাম "বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি"।

যদিও নামের সাথে গল্পের কোন মিল নাই তবে এই গল্পে আছে বৃষ্টি আর হয়তো বা ভূত। আছে একজন রিকশা চালক যার রিকশায় চড়ে মৃতদের আত্মারা অন্তিম যাত্রা করে।

প্রচলিত আছে অপূর্ণ ইচ্ছা নিয়ে কেউ ম রে গেলে নাকি ভূত হয়ে ফিরে আসে। আবার এই ভূতেদেরও নাকি সৌভাগ্যবান (!) কেউ কেউ দেখতে পায়। যারা সেইসব অতৃপ্ত আত্মাদের সাহায্য করে ইচ্ছা পূরণ করে পৃথিবী থেকে মুক্তি দিতে। এরকম প্লটের অনেক বিদেশি গল্প, ড্রামা সিরিজ, এনিমে আর মুভি দেখেছি। বাংলা সাহিত্যে এরকম প্রথম পড়লাম।
প্রেডিক্টেবল ছিলো কিছুটা। শেষের দিকের কথাগুলো ভালো লেগেছে। আমাদের সমাজের কিছু তিক্ত সত্য সুন্দর করে লেখক বলে দিয়েছেন।

অতিপ্রাকৃত উপন্যাস কিন্তু পড়ে কোন ভয় পাই নাই টিমটিমে ইট্টু উত্তেজনা ছাড়া। তবে লেখার সাবলীলতা আপনাকে ধরে রাখবে শেষ পর্যন্ত।

গুড রিড।

পারসোনাল রেটিংসঃ ⭐⭐⭐.5/5
Profile Image for বিনিয়ামীন পিয়াস.
Author 11 books31 followers
Read
March 16, 2025
কাহিনী সংক্ষেপ বা রিভিউ কোনোটিই লেখা সম্ভব না। বইয়ের জনরাও ঠিক স্পষ্ট করতে পারব না। তবে, তানজীম ভাইয়ের লেখার সাথে আগে থেকে পরিচিত থাকায় জানি যে জনরা যাই হোক না কেন লেখায় ফিলোসফিকাল পিওভি থাকবে। এটাই মূলত আমার আগ্রহের জায়গা ছিল। জীবনের উদ্দেশ্য, পরপার, মৃত্যু, পুনরীজ্জবন ও তার বাহন মোটা দাগে এই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে গল্প ঘুরপাক খেয়েছে এক পরাবাস্তব প্রেক্ষাপটে। সাথে লেখকের নিজস্ব দর্শন পুরো গল্পে একটা ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। আমার কাছে গল্পটা বেশ ভালো লেগেছে। ভাবনার খোড়াক ও গল্পপাঠের আনন্দ দুটোই পেয়েছি সমান্তরালে।
তবে আমার যেটা মনে হয়েছে, তানজীম রহমান আসলে যে গল্পটা বলতে চেয়েছেন বা যেভাবে বলতে চেয়েছেন তা আরেকটু বড় ক্যানভাসে বললে হয়তো আরও স্পষ্ট হতো। মাত্র ছিয়ানব্বই পৃষ্ঠায় এই গল্পটা বলায় মনে হয়েছে যেন একটা আঁটোসাটো গল্প। যতগুলো প্লট ছিল তাতে গল্পটাকে আরেকটু মুক্ত করার সুযোগ অবশ্যই ছিল। একই সাথে ফিলসফিকাল পয়েন্টগুলো নিয়ে আরেকটু বিস্তারিত কথাবার্তার প্রয়োজনীয়তাও ফিল করেছি।
বইয়ের প্রচ্ছদটা দুর্দান্ত। প্রচ্ছদ করেছেন মুহাম্মদ লাকীব উর রশীদ শ্রাবণ। বইটি প্রকাশিত হয়েছে আফসার ব্রাদার্স থেকে। এখানে-সেখানে মিলিয়ে বেশ কিছু দৃষ্টিকটু টাইপো ছিল, আশা করি প্রকাশনী তা পরবর্তী মুদ্রণে ঠিক করে ফেলবে।
Profile Image for Zahidul  Tamim.
113 reviews5 followers
March 4, 2025
হুমায়ুন আহমেদ হরর কমেডি লিখলে বোধহয় অনেকটা এমনই হতো।

গল্পের মূল চরিত্র হারু। সে হঠাৎ আবিষ্কার করে সে মৃতদের দেখতে পারে। তার দায়িত্ব এই মৃতদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া। একদিন এক মৃতা এসে তার কাছে আজব এক আবদার জানায়। এই আবদার পূরণ না করলে মৃতা হারুর পিছু ছাড়বে না। হারুর মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। সেই আবদার পূরণ নিয়েই পুরো গল্পটা আবর্তীত হয়।

গল্পের সেটাপ, পরিধি ভালো লেগেছে। বইয়ের সাইজ ১০০ পেজের কম হলেও এর মাঝেই ৩-৪ টা ক্যারেক্টার খুব সুন্দর ভাবে বিল্ড করেছেন।

তানজীম রহমানের লেখার ইউনিক বিষয় হচ্ছে অনায়াস কমেডি এবং চকিতেই গভীর অর্থবোধক শব্দগুচ্ছের অবতারণা কর। এ বইতেও এই বিষয়গুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে উপস্থিত।
Profile Image for Mahbub Mayukh Rishad.
57 reviews13 followers
March 1, 2025
৩.৫/৫

বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশিও পড়ে শেষ করলাম এক বসাতেই। এর আগে লেখকের অনামিকা চুপে যে নির্লিপ্ত একটা টোন পেয়েছিলাম, এই নভেলেও তাই আছে এবং এটাই আমার সবচেয়ে ভালো লাগার জায়গা লেখকের পড়া দুটো উপন্যাস থেকে। অতিপ্রাকৃত জনরার সাথে ফিলোসফি ব্লেন্ড করতে চাওয়ার যে ইচ্ছা নবী স্যারের চরিত্রের মাধ্যমে এসেছে সেটাও উপভোগ করেছি। এই ধরনের গল্প পড়ার অভ্যাস আমার খুব নেই। তবে যেভাবে ঘটনার পর ঘটনা কোনো বিরাম না দিয়ে ঘটে সেটা বেশ অস্বস্তির উদ্রেক করে। এছাড়া অভিজ্ঞতা ভালো।
Profile Image for Mahmud Hasan.
35 reviews
August 9, 2025
তানজীম ভাইয়ের বই বরা��রই সেরা 👌
Profile Image for Salman Sakib Jishan.
275 reviews159 followers
October 9, 2025
তিনি যেমন দর্শন+অতিপ্রাকৃত লিখে মজা পান, আমিও তেমন পড়ে আনন্দ পাই। ওনার উইটটা এঞ্জয় করি। ওভারঅল বইটা ভালোই, শেষোক্ত জ্যোতির সাথে মায়ের কথোপকথনের অংশটা বেশি ভালো।

৩.৫★
Profile Image for Akhi Asma.
233 reviews465 followers
October 22, 2025
not for me. never really got what was so “meaningful” about naming the book বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি।
Profile Image for nerdy nia.
57 reviews
March 10, 2025
It felt like I was reading two entirely different books at once
Profile Image for শুভাগত দীপ.
282 reviews43 followers
January 1, 2026
হরু হালদার পেশায় রিকশাচালক। সে রিকশা চালায় তিলোত্তমা নগরী ঢাকার বুকে। অন্যের কষ্ট সহ্য করতে না পারা হরুর একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে৷ সে মৃত আত্মাদের দেখতে পায়। এই পথ হারানো আত্মাগুলো হরুর কাছে সাহায্য চায়৷ আর তার কাজ হলো এই আত্মাদের রিকশার প্যাসেঞ্জার করে তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়া। এক বৃষ্টির রাতে হরু মুখোমুখি হলো এক জেদি আর একগুঁয়ে আত্মার সাথে। সেই আত্মা তাকে জানালো, তার দাবী না মানা পর্যন্ত সে হরুকে কিছুতেই ছাড়বে না।

রমজান আলী ভূঁইয়ার একটা সিক্রেট আছে৷ একমাত্র মেয়ের জামাই ফায়েকের সাথে যখন তিনি তাঁর এই সিক্রেটটা শেয়ার করলেন, ছেলেটা রীতিমতো ভয় পেয়ে গেলো৷ নির্ভেজাল আর ধার্মিক স্বভাবের ফায়েক হঠাৎ-ই আবিস্কার করলো যে সে নিজের শ্বশুরকে একদম চিনতে পারছে না। রমজান আলী ভূঁইয়া আর তাঁর জামাই ফায়েক এমন এক অবিশ্বাস্য মিশনে নামলেন, যেটার কথা দিনের আলোয় শুনলে লোকে পাগল ভাববে।

সৈয়দ নুরুন্নবী হামজা ওরফে নবী স্যার ভয়াবহ রকমের জ্ঞানী একজন মানুষ। এমন অনেক ব্যাপার আছে, যেগুলো কেউ সেভাবে না জানলেও নবী স্যারের সেই ব্যাপারগুলো সম্পর্কে আছে সুস্পষ্ট ধারণা। বেশি জ্ঞানী এই মানুষটা নাটকীয়ভাবে জড়িয়ে পড়লেন রিকশাচালক হরুর সাথে। নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে একটা সময় হরু আর তাঁর লক্ষ্য এক হয়ে গেলো৷ গভীর রাতে ঢাকার অলিগলি ধরে হরুর রিকশা ছুটতে লাগলো নবী স্যারকে সওয়ারি করে।

উপরে ঘটে চলা এসবের সাথে যুক্ত হলো গোপাল দাসের নাম, যে কি-না মৃতদের আবার জীবনদান করতে পারে। দৃশ্যপটে আবির্ভাব ঘটলো অতি সিরিয়াস এক চরিত্র মোস্তাকিমুল বারীর। শুধু তাই না, বেশ কয়েকটা যক্ষও এসে জুটলো গল্পটাকে আরো খানিকটা রসালো করতে। আর এদিকে হরুর নীতি হলো বৃষ্টির দিন প্যাসেঞ্জারদের কাছ থেকে ভাড়া বেশি চাওয়া। এটার সাথে সমস্ত অদ্ভুত ঘটনার কি সম্পর্ক? হয়তো কোন সম্পর্কই নেই। এমনিই বলা আর কি।

বছরের শেষে ছোট পরিসরের আর হালকা ধাঁচের কিছু পড়বো ভেবে তানজীম রহমানের 'বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি' বইটা হাতে তুলে নেয়া। কিন্তু বইটা যখন পড়া শেষ হলো, খেয়াল করলাম নতুন বছরে পা রেখেছি অলরেডি। তানজীম রহমানের লেখার ফ্যান আমি সেই 'আর্কন' থেকে৷ তাঁর লেখায় এরপর পড়ার সুযোগ হয়েছে 'অক্টারিন' ও 'বিরূপকথা' সহ আরো বেশ কিছু বই৷ এবার তাঁর লেখা পড়লাম বহুদিন বাদে৷ বহুদিন বাদে তাঁর লেখা পড়লেও 'বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি' আমাকে মুগ্ধ করেছে। তাঁর লেখার প্রতি সেই পুরোনো ভালো লাগার অনুভূতিটা আবারও উঠে এসেছে এই বইটা পড়ার মাধ্যমে।

তানজীম রহমান বরাবরই লেখালেখির জন্য কিছুটা আলাদা ধরণের প্লট বেছে নেন। তাঁর গল্প বলার ধরণে থাকে অদ্ভুত রকমের এক সারল্য। অনেক জটিল বিষয়কেই তিনি জটিল না করে কিছুটা বৈঠকি ধাঁচে গল্প বলে চলেন তিনি। 'বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি'-তেও তাঁর গল্প বলার এই দিকটার দেখা পেয়েছি। মাত্র ৯৬ পৃষ্ঠার ছোট কলেবরের এই উপন্যাসটার প্লট আপাতদৃষ্টিতে সহজ-সরল মনে হলেও তানজীম রহমান এখানে অবতারণা ঘটিয়েছেন মৃত্যুর আগের ও পরের জীবন সম্পর্কে কিছু দার্শনিক ধারণার৷ সেই সাথে বেশ কিছু জায়গায় তিনি সৃষ্টি করেছেন উপভোগ্য রকমের ভয়ের আবহ। গতিশীল গল্পের মাঝে তাঁর স্বভাবসুলভ হিউমার কাহিনিতে যোগ করেছে ডার্ক কমেডির একটা ফ্লেভার। এই ব্যাপারটা 'বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি'-এর ওপর মনোযোগ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ একটা ভূমিকা পালন করেছে।

গুডরিডস-এর রেটিং দেখে শুরুতে ভেবেছিলাম, বইটা আমার অতোটা ভালো লাগবে না। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। 'বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি' আমার বেশ ভালো লেগেছে। ছোটখাটো দুই-একটা অসঙ্গতিকে সাইডে সরিয়ে রাখলে বইটা খুবই এন্টারটেইনিং। সেই সাথে আমাকে বেশ কিছু চিন্তার খোরাকও যুগিয়েছে বইটা। এরকম কাজ তানজীম রহমানের কাছে আরো চাই। 'বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি'-তে বেশ কিছু বানান জনিত সমস্যা লক্ষ্য করেছি। তবে সেটার মাত্রা খুব বেশি না। শ্রাবণ-এর করা প্রচ্ছদটা চমৎকার লেগেছে আমার। বইটা যখন প্রথম প্রকাশিত হয়, মূলত এর প্রচ্ছদটাই আমাকে সবার আগে টেনেছিলো। রিকশা পেইন্টিং থিমে করা প্রচ্ছদটা আশ্চর্যরকম সুন্দর ও পিকিউলিয়ার।

যারা ভয়, অলৌকিকতা আর হিউমারে ঠাসা কিছু পড়তে চান, 'বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি' তাদের জন্যই। পড়তে পারেন। রিকমেন্ড করছি।

সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। সবার পাঠ শুভ হোক।

ব্যক্তিগত রেটিং: ৩.৭৫/৫

বই: বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি
লেখক: তানজীম রহমান
প্রকাশক: আফসার ব্রাদার্স
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
ঘরানা: হরর থ্রিলার/ডার্ক কমেডি
প্রচ্ছদ: শ্রাবণ
পৃষ্ঠা: ৯৬
মুদ্রিত মূল্য: ২৫০ টাকা
ফরম্যাট: হার্ডকভার

(০১ জানুয়ারি, ২০২৬, রাত ১০ টা ২৮ মিনিট; নাটোর)
Displaying 1 - 30 of 74 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.