হাদীসের প্রামাণ্যতাকে অস্বীকারের নানারকম ব্যর্থ প্রচেষ্টা আজ নতুন নয়। যুগে যুগে ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানান মোড়কে এই চ্যালেঞ্জ উম্মাহর সামনে এসেছে। কিন্তু আল্লাহ যে শরীয়তকে সুরক্ষিত করেছেন, দুশমনদের কী সাধ্য, এর ক্ষতি করবে! যখনই মুখরোচক কোনো স্লোগান বা উপস্থাপনের মাধ্যমে হাদীস অস্বীকারের তথা অবমাননার কসরত করা হয়েছে, দ্বীনের প্রহরী উলামায়ে কেরাম মজবুতভাবে সেসব আপত্তির খণ্ডন করেছেন। ‘হাদীস মানতেই হবে’ তেমনই একটি সংকলন। এখানে খুবই সংক্ষিপ্তভাবে এমন কিছু মৌলিক কথা আলোচিত হয়েছে, যা পড়ার পর ইনসাফওয়ালা কোনো মানুষ হাদীসের প্রয়োজনীয়তা, সংরক্ষণ, এর অপরিহার্যতাকে অস্বীকার করতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনে তাঁর প্রেরিত রাসূলকে অনুসরণ করতে বলেছেন। এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিজেই কুরআনে বলে দিয়েছেন যে, তাঁর রাসূল দ্বীনের বিষয়ে ওহি ছাড়া নিজ থেকে কিছু বলেন না। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বিধান, আদেশ, নিষেধ সবই ওহির অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর বিধান, আদেশ, নিষেধ–এগুলো কোনোটাই কুরআনের কোনো বিধান, আদেশ, নিষেধ-এর বিপরীত নয়। বরং সেগুলো ক্ষেত্র অনুসারে কুরআনের ব্যাখ্যা। এবং অনেক ক্ষেত্রে কুরআন ব্যতীত সরাসরি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বিধান নাজিল করেছেন। সে বিধানগুলো সংরক্ষিত হয়েছে হাদিসের মাধ্যমে। সেক্ষেত্রে কুরআনের বিধি-বিধান মানা যেমন ফরজ, ঠিক তেমনইভাবে হাদিস এবং হাদিসের বিধি-বিধান মান্য করাও ফরজ। আর এই বিষয়টি কুরআনের বহু আয়াত দ্বারাও প্রমানিত।
তাছাড়া কিয়ামত পর্যন্ত যে বিধান মান্য করা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আবশ্যক করেছেন, সেগুলোর সংরক্ষণও তিনিই কিয়ামত পর্যন্ত যথাযথভাবেই করবেন।
মূলত হাদিস অস্বীকারকারী কাফিরদের উত্থাপিত কিছু সংশয়কে মিথ্যা প্রমাণ এবং হাদিস কেন অবশ্যই মানতে হবে–এ বিষয়ে লেখক খুব সংক্ষেপে কার্যকরী আলোচনা করেছেন। এটি একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ এবং এ বিষয়ে খুব ভালোভাবে জানতে হলে আরো বিস্তারিত কিতাবাদি অধ্যয়ন করতে হবে। তবে লেখক সংক্ষেপে কিছু পয়েন্ট এখানে চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। এবং এটাই অধিকাংশের জন্য মোর দ্যান এনাফ।
তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, সাধারণ পাঠকদের শুধুমাত্র আগ্রহ বশত এই ধরনের পুস্তক অধ্যয়নের প্রয়োজন নেই। তবে সংশয়গ্রস্ত ও কেউ এই ফিল্ডে দাওয়াহ-এর জন্য পড়তে চাইলে পড়তে পারেন অবশ্যই।