মুন্নির স্বামী আনিস মারা গেছে। সে নিজে দূর থেকে দাঁড়িয়ে তার মৃতদেহ কবরে রাখার দৃশ্যটা দেখেছে। তারপর জানাযায় আসা সবাই চলে গেলে মুন্নী একাকী দাঁড়িয়ে ছিল। তার চোখে তখন হয়তো জল ছিল না, কিন্তু বুকের মধ্যে ছিল অদ্ভুত এক শূণ্যতা। বিষয়টা হলো, আনিস আর নেই। নেই তার বহু অজানা, অন্ধকার গোপন বিষয়—যেগুলোর কথা কখনোই আনিস জানাতে চায়নি। মুন্নির এখন আর সেগুলো জানার প্রয়োজন নেই। আনিস তো আর কখনো ফিরে আসবে না। কয়েকদিন পর স্বামী হারাবার কষ্টটা মুছে ফেলে মুন্নি যখন শপিং করার জন্য বাইরে গেল তখন তার হঠাৎ মনে হলো কেউ তাকে অনুসরণ করছে। পেছনে তাকাতেই তার মনে হলো আনিসের মতো দেখতে একটা লোক তার দিকে এতক্ষন তাকিয়েছিল। সে এক দৌড়ে লোকটা যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল সেখানে গেল। কিন্তু না, আনিসের মতো দেখতে লোকটা সেখানে নেই। আনিস কি তবে কবর থেকে উঠে এসেছে? নাকি মুন্নী পাগল হয়ে যাচ্ছে? "ত্রেতা" আপনাকে প্রতি পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় চমকে দেবে। বই থেকে এক মুহূর্তের জন্য চোখ সরাতে পারবেন না। আর সবার শেষে আক্ষরিক অর্থেই আপনার চোয়াল মাটিতে ফেলে দিয়ে আপনাকে নিকটস্থ হাসপাতালের স্মরণাপন্ন হতে বাধ্য করবে।
❛যার থেকে মুক্তি চাই মন থেকে, তার থেকে মুক্তি কি মেলে? অমোঘ, অনতিক্রম্য এক বন্ধনে নিয়তি আটকে থাকে। মুক্তির পথ নেই। বারবার দূরে ঠেলে দিলেও আবার নতুন করে যেন দূরত্ব কমে যায়। এমন ঘনিষ্ঠতা তো কাম্য নয়!❜
মুন্নীর স্বামী আনিস প্রাণ হারিয়েছে এক সড়ক দূর্ঘটনায়। প্রাণপ্রিয় পতির অকাল প্রয়াণে মুন্নী শোকার্ত থাকবে এই স্বাভাবিক। প্রবল এই শোককে সে কাটিয়ে উঠতে চায়। নিজেকে একটু শক্ত করে সে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রয়াসেই সে তার প্রিয় কাজ শপিং করতে বেরোয়। স্বপ্নের দোকানে শ্যাম্পু বাছাই করতে করতে তার মনে হয় এক জোড়া চোখ তাকে অনুসরণ করছে। অস্বস্তি ভরা এক অনুভূতি হয় তার। কিন্তু পিছে ফিরে কাউকেই দেখতে পায় না। এরপর আবার যখন একই অনুভূতি তার চিত্তকে হরণ করে নেয় তখন দেখতে পায় তার থেকে অন্তত ফুটেক বিশ দূরে এক লোক। যাকে এক পলকের জন্যই দেখতে পায় সে। কিন্তু এটা কী করে সম্ভব! যাকে সে দেখেছে সে আনিসের মতো দেখতে। এটা তো হতেই পারে না! মৃ ত মানুষ ফিরে আসে কী করে? হয়তো অতি শোকে মুন্নীর দৃষ্টিভ্রম হচ্ছে। মুন্নীর খারাপ সময়ে তাকে অবাক করে দেয়ার মতো ঘটনার যেন শেষ নেই। এই যেমন সে আবিষ্কার করলো সে অন্তঃসত্ত্বা। প্রয়াত স্বামীর এক টুকরো স্মৃতিকে সে তার গর্ভে ধারণ করেছে। এটা কি মুন্নীর জন্য আনন্দের না হতাশার? এক দুপুরে দরজায় বেলের শব্দে দেখতে পেল এক মহিলাকে। আর সে যা জানালো সেটা মেনে নিতে তাকে অনেক বেশি মানসিক দৃঢ় হতে হবে। রুবি নামের এক মহিলা দাবি করছে সে আনিসের স্ত্রী। এবং তারা একত্রে অনেকগুলো বাচ্চা ফুটিয়েছে! সে আনিসের বিপুল এই সম্পত্তির ভাগ নিতে এসেছে। মুন্নী জানেনা সে কী করবে। স্বামীর জীবনের একটা অংশ তার কাছে একেবারেই অজানা। আনিসও চাইতো না মুন্নী অতীত নিয়ে প্রশ্ন করুক। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে স্বামীর অতীত ছানবিন করা খুবই দরকার। মুন্নী এক সত্য লুকিয়ে রেখেছে। বাইরে থেকে আমরা মানুষের সম্পর্ক দেখে ভেতরটা আঁচ করতে পারিনা। মুন্নীর সত্যটাও সেরকমই। সদ্য বিধবা, সদ্য আবিষ্কার করা গর্ভবতী, আনিসের আরেক পক্ষ, অনুসরণ করা আনিসের মতো এক ব্যক্তি এত কিছু সে একা কীভাবে সামাল দিবে? ওদিকে বাড়ির উঠানে কে যেন লুকিয়ে আছে। হাতে শাবল নিয়ে মুন্নী প্রস্তুত। জীবনে আর ঝড়ঝাপটা সে চায় না। একটা সাদা সোনালী কিংবা নীল কালো কাপড়ের জন্য মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যায় এমনটা শুনেছেন? ❛ত্রেতা❜ হোক আর যাই হোক এই ঝড় কীভাবে সামাল দিবে অন্তঃসত্ত্বা মুন্নী?
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
❝ত্রেতা❞ কয়েস সামীর লেখা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। লেখকের কমফোর্ট জোন জনরা এটি। সেই সাথে বিদেশী গল্পের ছায়া অবলম্বনে লিখেছেন বইটি। আর আগে দুইটি বই পড়েছি সেগুলোও অ্যাডাপটেশন ছিল। তবে এই বইটি কোন বইয়ের ছায়ায় লেখা লেখক নামটি উল্লেখ করেননি। বিদেশী ছায়া হলেও দেশী ভাব বইতে বেশ ভালোই ছিল। অন্যগুলোর মতো এই বইতে পরদেশী ভাব কমই প্রকাশ পেয়েছে। ৭৮ পৃষ্ঠার বইটিকে উপন্যাসিকা বলাই শ্রেয়। গল্পের শুরু মুন্নী নামের এক সদ্য বিধবাকে নিয়ে। যে সুপার শপে শপিং করতে গিয়ে তার প্রয়াত স্বামীকে দেখতে পায়। এমনকি এরপর থেকে বিভিন্ন জায়গায় দেখতে পায় তাকে। তাকে অনুসরণ করছে। কিন্তু একজন মৃ ত মানুষের পক্ষে এমনটা তো করা সম্ভব নয়। এর একটাই ব্যাখ্যা থাকতে পারে। আপনারা যা ভাবছেন তাই! দুঃখের উপর আরো দুঃখ হিসেবে যোগ হয় আনিসের গোপন সংসার। যেখানে তার এক হালি বাচ্চা আছে। এভাবেই মুন্নীর জীবনে নানা অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে থাকে। সেই সাথে রহস্য ঘনীভূত হয়। আর খোলাসা হয় কিছু সত্য। উপন্যাসের শুরু থেকে বেশ রহস্য জমেছে। ধীরে ধীরে সেই রহস্যের কিনার কেমন হয় সেটা জানতে উদগ্রীব হয়েছি। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার পড়তে গেলে এই মজা। মগজ নিয়ে বেশ খেলা করে এরপর একের পর এক টুইস্ট আর টার্ন দিয়ে চোয়াল ঝুলিয়ে দেয়। এই উপন্যাসেও অল্প সময়েই একত্রে এতগুলো টুইস্ট টার্ন ছিল যা অবাক করেছে। যা ভাবছিলাম সেগুলো যেমন সত্যি হচ্ছিলো সেই সাথে যা ভাবিনি সেগুলোও এসে হাজির হয়েছিল। শেষের দিকে এত দ্রুত এত কিছু হয়ে গেল যে খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম। শেষটা খুব দ্রুত হয়েছে। আর আমার মনে হয়েছে ক্লিফ হ্যাঙ্গার রয়ে গেছে। শেষটায় এসে লেখক হয়তো সিদ্ধান্ত পাঠকের হাতে দিয়েছেন। তবে খারাপ হয়নি। আশা যদিও একটু বেশি ছিল। লেখক গল্পে সমসাময়িক পরিস্থিতির কথাও এনেছেন। জুলাই আন্দোলন এসেছে। সেই সাথে সাদা-সোনালী নাকি নীল-কালো ড্রেস এই কনসেপ্টে বেশ ভালো একটা কাহিনি তৈরি করেছেন। যদিও ছায়া আছে বিদেশী তবুও ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং লেগেছে। তবে গল্পে কিছু অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করেছি। * সাকিবের ব্যাপারটা অদ্ভুত ছিল। বাজে বলতে যেভাবে বোঝানো হয়েছিল আদতে এটা অনেক বেশি ভয়ানক ছিল না। আর সাকিবের উপর যে ব্লেম দিতে চেয়েছিল সেটাও কেমন আরোপিত লাগছিল। * পুলিশি কাজগুলোতে যথেষ্ঠ খামখেয়ালী ছিল। এটা আরেকটু সাজানো যেত। * এক দেখায় কারো সাথে এতটা ফ্রি হওয়া যায় না। তবুও এমন ঘটনার পর। শেষের দিকের ব্যাপারটা এজন্য ভালো লাগে নি। * একটা নির্দিষ্ট ব্যান্ডকে পছন্দ না বলে জীবন সঙ্গীকে ভালো লাগবে না ব্যাপারটা অদ্ভুত। * এটা অসামঞ্জস্য না তবে আমার কাছে ব্যাপারটা দৃষ্টিকটু (পড়াকটু আরকি!) লাগে। আগের বইগুলোতেও লেখক নিজের অন্যান্য বইয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। এটা উল্লেখ করা দোষের না বা খারাপ না। তবে উল্লেখের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে হলে ঠিক আছে। আগের উপন্যাস এবং এটাতেও উনার পূর্ববর্তী বইয়ের উল্লেখের মাত্রা অনেক বেশি ছিল। এই ব্যাপারটা একটু কমালে মন্দ হয় না।
উপন্যাসের শেষে এসে বইটির নামের যথার্থতা প্রকাশ পেয়েছে। ❛ত্রেতা❜ বলতে হিন্দুধর্মের চারযুগের এক যুগ বোঝায়। এছাড়াও এটিকে তিন ভাগ হিসেবেও বলা হয়। আর বাংলায় একে ট্রিপলেট তথা ত্রিমজের বাংলা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। বইয়ের কাহিনি এবং টুইস্টের সাথে নামটি যথার্থ। তবুও কিছুক্ষেত্রে কিন্তু রয়ে যাবে!
প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:
বইটির প্রচ্ছদ আমার তেমন ভালো লাগেনি। প্রোডাকশনের কথা বলতেই হয়। ছোটো বইটির পৃষ্ঠাগুলো আলাদা করে ছাপা যার সাথে প্রচ্ছদের মিল রয়েছে। প্রোডাকশন এবং সম্পাদনা বেশ ভালো হয়েছে। সে অনুযায়ী বইটির মূল্য কম। কেন কম তার উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ফ্ল্যাপে লেখা ছিল বইটি পেপারব্যাক। আমার কপিটা হার্ডব্যাক। যেহেতু এটা পেপারব্যাক ভার্সন না এই একই কথা এই বইটিতে না দিলেও হতো। এছাড়াও লেখক ভূমিকায় বলেছেন ৫৫ পৃষ্ঠার কথাটা উনার পরবর্তী বই ❛দ্য বয়ফ্রেন্ড❜ এর। তবে আমার জানামতে এটি অনুবাদ। সেক্ষেত্রে আসন্ন কিংবা প্রকাশিতব্য অনুবাদ বই উল্লেখ করা যেত। যদিও সমস্যা না। তবে আমি আবার একটু বেশি ধরি এজন্য বলা আরকি।
❛বাইরে থেকে দেখতে মাকাল ফলকেও অনেক সুন্দর মনে হয়। মনে হয় খুবই সুস্বাদু। কিন্তু এর ভেতর দেখে সে ধারনা বদলে যায়। আমাদের সম্পর্কগুলোও তেমন। নিখুঁত, পারফেক্ট is just a myth!❜
ড. আইভান মেন্ডেস দাবি করেছেন, তার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা এমন এক অস্ত্রোপচার প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেছেন, যার প্রয়োগে মানুষের স্বাভাবিক আয়ু প্রায় দিগুন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে-বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কি মানবশরীরে এই প্রক্রিয়া প্রয়োগের অনুমতি দেবে?
এদিকে একদল চীনা ধর্মান্ধ(ফ্যানটিক) উঠে পড়ে লেগেছে তার বিরুদ্ধে। হামলা করা হচ্ছে গবেষণা কেন্দ্রে, অপহরণ করা হচ্ছে বিজ্ঞানীদের। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য কি?
এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে ফিরে যেতে হবে খ্রিষ্টের জন্মের ২০০ বছর পূর্বের প্রাচীন চীনে। কিন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট কিন সি হুয়াং মৃত্যুভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। যাদুকর আংকি সেং তাঁকে ❝এলিক্সার অফ লাইফ❞- এর সন্ধান দেন, যা পান করলে মানুষ অমর হয়ে যেতে পারে। সম্রাট তার বিশ্বস্ত নাগরিক জু ফু- এর নেতৃত্বে প্রায় তিন হাজার নারী-পুরুষের একটি দল পাঠান সেই এলিক্সারের খোজে।
কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও তারা আর ফিরে আসেনি। কেউ কি জানে তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছিল?
সমস্ত রহস্যের উত্তর জড়িয়ে আছে একটি মেয়ের অস্তিত্বের সঙ্গে। মেয়েটির নাম স্কারলেট-একজন সাধারন তরুনী, যে নিজের অজান্তেই ভালোবেসে ফেলেছে..........
🪟 ঘটনার প্রেক্ষাপটঃ ঘটনায় মূলত দুইটি প্লট একসাথে চালানো হয়েছে- 🍀প্রথম প্লটঃ আজ থেকে প্রায় পূর্বের চীন সম্রাজ্য। সেখানকার সম্রাট কিন সি হুয়াং। তিনি এক আশ্চর্য তরলের খোজ পান, যা পান করলে মানুষের আয়ু বাড়ে না৷ মৃত্যুর ভয়ে তাকে গ্রাস করে৷ তিনি সেই তরল আনতে পাঠান একদল সৈন্য৷ অনেক বছর কেটে গেলেও তারা আর কখনো ফিরে আসেনি।
🍀দ্বিতীয় প্লটঃ বর্তমান সময়, ইংল্যান্ড। ড. আইভান মেন্ডেস এমন এক অস্ত্রপচার প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেন, যা দিয়ে মানুষের আয়ু দিগুন করা সম্ভব। কিন্তু চিনের এক জঙ্গি সংগঠন তাদের অপহরন করছে কেন? তাদের সাথে এই সংগঠনের যোগসুত্র কি? দুইশো বছর আগের হারিয়ে যাওয়া সৈন্যদের সাথে কি সম্পর্ক বর্তমান ইংল্যান্ডের বিজ্ঞানীদের?
📚বইটা মূলত কারা পড়বেন? যারা টান টান উত্তেজনা সমৃদ্ধ থ্রিলার বই পড়েন। যারা থ্রিলার জনরা পড়তে ভালবাসেন। থ্রিলার, মার্ডার মিষ্ট্রি জনরার বই বেশি পড়তে পছন্দ করেন।
📚 বইটার যেসব বিষয়ে ভালো লাগেনি! বইটার শুধুমাত্র শেষের অংশটা আমার কাছে তেমন একটা ভালো লাগেনি। আমার মনে হয় এটাকে আরো বর্ধিত করে কয়েকটা বই নিয়ে ডিটেইল একটা সিরিজ তৈরি করলে বেটার হতো।
'ত্রেতা' আপনাকে প্রতিটি পৃষ্ঠায় চমকে দেবে। বই থেকে এক মুহূর্তের জন্য চোখ সরাতে পারবেন না- বইটির ফ্ল্যাপে এমন লেখার সাথে কোনভাবেই দ্বিমতের সুযোগ নেই। বিদেশী কাহিনী অবলম্বনে লেখা হলেও গল্পের গাঁথুনীতে তা মনে হয় না।
মুন্নীর স্বামী আনিস মারা যাবার কিছুদিন পর থেকে আনিসের মত দেখতে এক লোক মুন্নীকে অনুসরণ করা শুরু করলো। কে সেই লোক, তা জানতে হলে অবশ্যই বইটি পড়তে হবে। স্পয়লারের ভয়ে এর চেয়ে বেশি লিখতে যাচ্ছি না।
বইটির মূল্য সম্পর্কে কিছু কথা না বললেই নয়। বাংলা ভাষী পাঠকমহলে যাতে সহজে বইটি পৌঁছে যায়, সে কারণে মূল্য মাত্র ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তা'ছাড়া লেখক এই বই থেকে কোন ধরনের স্বত্ব নিচ্ছেন না। কয়েস সামী ভাইয়ের লেখা প্রায় সবগুলো বই পড়েছি, ধীরে ধীরে তিনি পছন্দের লেখকের তালিকায় অন্যতম স্থানটি দখল করেছেন। আমি কিন্তু বইটি কিনিনি, কয়েস সামী ভাই বইটি উপহার দিয়েছেন।
আগ্রহী পাঠকেরা বইটি পড়ুন, বইটি হাতে নিলে শেষ না করে উঠতে পারবেন না- আমার স্থির বিশ্বাস।
বইটি পড়ে অত্যন্ত ভালো লেগেছে।কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় পড়তে গিয়ে বইটি ধীরগতির মনে হয়েছিল।আরেকটা বিষয় ভালো লাগেনি, তাহলো লেখক বইয়ের অনেক জায়গায় নিজের প্রশংসা নিজে করছেন,যেটা একদম ই পছন্দ হয় নি। তবে বইটি আপনাকে ধরে রাখবে।লেখক এই ৮০ পেজ আপনাকে এক বসায় পড়ানোর মত মুন্সিয়ানা রাখে। আমি অবশ্যই রেকমেন্ড করি বইটি পড়ার জন্য।শেষ এ গিয়ে অবাক না হয়ে পারবেন না।