ফিলিস্তিনি অকুতোভয় মুজাহিদদের নিয়ে সায়ীদ উসমান রচিত রাহনুমা’র নতুন শ্বাসরুদ্ধকর এক থ্রিলার– ইসরাইলের বন্দিনী। যেভাবে গল্পটার শুরু... মহামূল্যবান এক ধাতুর পেছনে হন্যে হয়ে ছুটছে ইসরাইলি ইহুদি চক্র। হাজার কোটি টাকার সেই ধাতু রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে ফিলিস্তিনি আবিদ ও তার স্ত্রীকে। বেঁচে আছে তাদের একমাত্র সন্তান আহমাদ। ইহুদি চক্র পিছু নিয়েছে তারও! আহমাদ বয়সে কিশোর। নাকের নিচে গোঁফ উঁকি দেই দেই করছে। প্রাণ নিয়ে পালাতে গিয়ে ঘটনাক্রমে দেখা পেয়ে যায় সামিরার। অদ্ভুত এক কিশোরী। ফিলিস্তিনি যাইতুনের মতো মিষ্টি তার চেহারা। অসম্ভব প্রখর তার অনুভূতি। অসামান্য তার বুদ্ধি। কিন্তু তার পরিচয় নিয়ে তৈরি হয় রহস্য। কে সে? কী তার পরিচয়? যে চক্রের হাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে আহমাদ, শেষে কী সেই চক্রের হাতেই পড়তে হলো? পাঠক, দমবন্ধ করা নাটকীয়তা, জটিল ও কুটিল ষড়যন্ত্র, ঘটনা-অনুঘটনার চমক, রুদ্ধশ্বাস সাসপেন্স এবং ঘাত-প্রতিঘাতের মুখোমুখি হয়ে ঘুরে আসুন ইসরাইল, ফিলিস্তিন এবং লেবাননের মাটি থেকে।
এটা নিতান্তই একটা ফিকশন। ঐতিহাসিক কিছুর আশা রাখবেন না।
মে 2025 এর নতুন সংস্করণ, রকমারি থেকে নিয়েছি।
এখন আসি আমার ব্যক্তিগত অভিমতে।
স্পয়লার এলার্ট!!!
প্রথমত: পড়ে মনে হল কিশোর-কিশোরীদের উদ্দেশ্য করে লেখা। পুরো বইটাই একটা অ্যাডভেঞ্চার, সাথে সাইন্সের খুব হালকা একটু ছোয়া (প্রথম দিকে)। কিছু বইয়ের শেষটা টেনে লম্বা করতে দেখা যায়। তবে এই বইয়ে এটি করা হয়েছে পুরোটা জুড়েই। অযথা এক লাইনকে বর্ণনা করা হয়েছে তিন-চার লাইনে। তাছাড়া গল্পটা অন্যরকম হতে পারত যেখানে হাদির জায়গায় হিরো হত আহমাদ।
এক: "প্রতিশোধের অগ্নি জ্বালিয়ে দেব" -- এটা একদমই ভালো লাগল না। মা-বাবা হারানোর কষ্ট থেকে প্রতিশোধ নেবার ইচ্ছা জাগাই যথেষ্ট। কিন্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে এবং আবিদের বাবার নির্মম পরিণতি দেখলে আবিদের এরকম আক্রমণাত্মক মনোভাবের যথার্থতা বোঝা যায়।
দুই: বার বার যাইতুনের কথা এনে ফিলিস্তিনের কালচারকে মনে করিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা আমার মতে বইয়ের সৌন্দর্য নষ্ট করেছে।
তিন: "চাচ্চু" না বলে চাচা সম্বোধন করলে একটু ম্যাচিউর এবং সম্মানিত বোধ হত। কিন্ত আহমাদের বয়স স্পষ্ট নয় (ষোল হয়ত)। তাই কী আশা করা উচিত জানিনা।
চার: অ্যাডভেঞ্চারের মধ্যে বাতাসে ঘুষি মারা, নাকের ঘুঁতঘুঁত শব্দ, মুখে মশা ঢুকে যাওয়া ইত্যাদির উল্লেখ করে পরিস্থিতি হালকা করতে চাওয়ার যে প্রচেষ্টা সেটি বরং আমার বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শেষ: লেখকের উদ্দেশ্যে বলছি - যাইতুনের ডাল, দেবদারুর শুকনো ডাল, খেজুর গাছের গোড়া, মাত্র দুই পৃষ্ঠার ব্যবধানে তিনটি গাছের উপমা একটু বেশি হয়ে যায়। আর পুরো বই জুড়ে নানান গাছের উল্লেখ তো আছেই।
দ্য টাইগার অব ফিলিস্তিন বইটা পড়ে ইসরাইলের বন্দিনী পড়া। দ্য টাইগার অব ফিলিস্তিন বইটি পড়ে মোটামুটি লেগেছিলো, ভেবেছিলাম ইসরাইলের বন্দিনী হয়তো-বা আরেকটু ভালো লাগবে। তবে সত্যি বলতে কিছুটা ডিসেপয়েন্টিং। শুধুমাত্র কাল্পনিক উপন্যাস না হয়ে পাশাপাশি কিছুটা ইতিহাস থাকলে মান আরো ভালো হতো মনে হয়। অন্তত ইতিহাস জানা যেত। বইয়ের সবচেয়ে বিরক্তিকর অংশ হলো, অতিরিক্ত রূপক ব্যবহার করা। ভয়ের অনুভূতি বুঝাতে কিংবা মন খারাপের অনূভুতি বুঝাতে এতো বেশি প্রকৃতির সাথে মিলিয়ে রূপক ব্যবহার করা হয়েছে যা রীতিমতো বিরক্তিকর। ৪/৫ লাইন নিয়ে শুধু রূপকই ব্যবহার করা হয়েছে ! এই অংশগুলো স্কিপ করে করে পড়তে হয়েছে। এন্ডিং পার্ট, স্টার্টিং পার্ট ভালো ছিলো। তবে, মাঝের অংশটুকু কিছুটা প্রয়োজন বিহীনভাবে বড় করা হয়েছে। ওভারঅল, মোটামুটি ছিলো। আরো ভালো আশা করেছিলাম।