Jump to ratings and reviews
Rate this book

আংশিক মেঘলা আকাশ ও মৃত্যুর সম্ভাবনা

Rate this book
কালিম্পং জেলার এক কোনায়, পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা কোলাখাম। বিস্তৃত উপত্যকা, অদূরে জলপ্রপাত ও দিগন্তে কাঞ্চনজঙ্ঘা— সব মিলিয়ে ইদানীংকালে ট্যুরিস্টদের মধ্যে যথেষ্ট জনপ্রিয়। তবে আচমকা আবহাওয়ার অবনতির কারণে এখন সবকিছুই মেঘ ও কুয়াশার চাদরে ঢাকা। সেইসঙ্গে অবিরাম বৃষ্টি।
এহেন পরিস্থিতিতে একদল মানুষের আপাতত অস্থায়ী ঠিকানা এখানকার এক হোমস্টে। অনেকে যেমন এসেছিলেন নিছক ভ্রমণেরই উদ্দেশে, আবার কেউ শেষ মুহূর্তে বাধ্য হয়েছেন নিজের প্ল্যান বাতিল করে এখানে কিছুদিনের জন্য ঠাঁই নিতে।
এই ধূসর একঘেয়েমির মাঝে অতর্কিতে হানা দেয় মৃত্যু। ওলট-পালট হয়ে যায় পাহাড়ি দৈনন্দিনতার রুটিন। পুলিশি তৎপরতা ও নিয়মমাফিক তদন্ত সাময়িকভাবে আশ্বস্ত করে।
কিন্তু কথায় বলে, মৃত্যু যখন কোনো ঠিকানায় কড়া নাড়তে আসে, তার তালিকায় কখনোই শুধু একটিমাত্র নাম থাকে না...
A quaint little village in Kalimpong. As the weather turns bad, a group of tourists and travellers are forced to stay put. The mundane boredom is torn apart when death strikes in their midst. Will it come knocking again? 'Angshik Meghla Akash O Mrityur Samvabana' is a cozy mystery novel filled with atmosphere, secrets, striking characters and scintillating murders.

240 pages, Hardcover

Published January 28, 2025

Loading...
Loading...

About the author

Arup Ratan Samajdar

2 books2 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
11 (26%)
4 stars
26 (61%)
3 stars
4 (9%)
2 stars
1 (2%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 12 of 12 reviews
Profile Image for MD Mostafijur Rahaman.
174 reviews26 followers
June 13, 2026
উপন্যাসের শুরুতেই প্রকৃতি যেন নিজের উপস্থিতি জানান দেয়। অবিরাম বৃষ্টি, পাহাড়ি রাস্তার ধস, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ সব মিলিয়ে কোলাখামের একটি হোমস্টে যেন পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন ছোট্ট এক দ্বীপে পরিণত হয়। সেখানে আশ্রয় নেন ডঃ নীলাদ্রি চক্রবর্তী এবং আরও কয়েকজন অতিথি। সকলেই আবহাওয়ার দয়ায় বন্দি। এমন এক পরিস্থিতিতে হঠাৎ ঘটে যায় একটি মৃত্যু। তারপর আর কিছুই আগের মতো থাকে না।
তদন্ত শুরু হয়, সন্দেহের বৃত্ত বড় হতে থাকে, আর ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত জীবন, গোপন ক্ষত এবং সম্পর্কের জটিলতা।

রহস্যকাহিনির ক্ষেত্রে আমরা প্রায়শই একজন অসাধারণ গোয়েন্দার উপস্থিতি দেখতে অভ্যস্ত। এই উপন্যাসে সেই পরিচিত ফর্মুলা নেই। এখানে তদন্তকারী চরিত্রও রক্তমাংসের মানুষ, যার নিজের অতীত, ব্যর্থতা এবং মানসিক বোঝা রয়েছে। ফলে তদন্তের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত লড়াইটাও সমান গুরুত্ব পায়।

লেখার ভঙ্গি সাবলীল, দৃশ্য নির্মাণ শক্তিশালী এবং অত্যন্ত সিনেম্যাটিক।

বই - আংশিক মেঘলা আকাশ ও মৃত্যুর সম্ভাবনা
লেখক - অরূপ রতন সমাজদার
Profile Image for Mohana.
100 reviews22 followers
July 4, 2025
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া

বই - আংশিক মেঘলা আকাশ ও মৃত্যুর সম্ভাবনা
লেখক - অরূপ রতন সমাজদার
প্রকাশক - বৈভাষিক
মুদ্রিত মূল্য - 475/-

আন্তর্জাতিক বইমেলায় বৈভাষিক এর স্টলে ঢুকে যখন জানতে পারলাম যে অনেকদিন পর তারা আবার কোনো একদম নতুন লেখকের সঙ্গে কাজ করলেন তখন আর দেরী করিনি বইটা কিনে নিতে, তার উপর যখন সেটার প্রচ্ছদ স্বয়ং পিনাকী দে স্যার করেছেন তখন কোনো মানেই হয় না বইটা কিনতে দেরী করবার।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে একটি কাজে যাওয়ার কথা ছিল ডঃ চক্রবর্তীর, কিন্তু পরিবারকে বাড়ির দিকে রওনা করিয়ে দিলেও সেই কাজে আর তার যাওয়া হল না কারণ উপস্থিত হল প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এই দুর্যোগে অনেক কষ্টে এক চেনা ব্যক্তির হাত ধরে তিনি এসে পৌঁছলেন কোলাখাম গ্রামের একটি হোমস্টে তে, আপাতত যান চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া অবধি থাকতে হবে এখানেই। একই হোমস্টে তে উপস্থিত হলেন ফারুক ও। আর আগে থেকেই হোমস্টে তে ছিলেন আরো দুটি পার্টি। সবাই মোটামুটি আটকে পড়েছেন এখানেই, বাড়ি ফিরবার কোনো পথ নেই। এমন সময় এই হোমস্টে তেই ঘটে গেল খুন, আর খুন যখন অধিক বর্ষণে আসে তখন একলা আসে না। কি হল, কেন হল, কিভাবে হল জানতে পড়তে হবে বইটা।

আদ্যোপান্ত একটা ক্রাইম থ্রিলার বই কিন্তু মেইন স্ট্রিম থ্রিলারের বইয়ের থেকে এই বই অনেকটা আলাদা, আবার এই বইকে শুধুই থ্রিলার বই বলতে আমার অসুবিধা আছে। বৃষ্টি, দুর্যোগ, পাহাড়, খুন সব মিলিয়ে একটা মায়াবী পরিবেশের সৃষ্টি করে এই বই। আমরা যারা চিরকাল পাহাড় ও বৃষ্টিকে রোম্যান্টিসাইজ করে এসেছি তারা বুঝতে পারি যে দুর্যোগে পড়লে ওগুলোর প্রতি বিরক্তি ছাড়া আর কোনো অনুভূতি আসে না এবং এই বই সেটাও দেখায়। শেষবার কোনো ক্রাইম থ্রিলার পড়ে এতটা ভালো লাগার অনুভূতি পেয়েছিলাম 'শেষ মৃত পাখি' পড়ার সময়। হ্যাঁ সেই একই গোত্রে আংশিক কে ফেলা যায় তবে পুরোপুরি একেবারেই নয়।

বইয়ের প্রথম থেকেই আমরা মূল গোয়েন্দাকে চিনতে শুরু করি না। আমরা প্রত্যেকটি চরিত্রকে চিনতে শুরু করি দুর্যোগের বিস্তৃতির মাঝে, সেই পরিসর লেখক আমাদের স্বেচ্ছায় দেন। মূল গোয়েন্দা চরিত্র এখানে সুপার হিউম্যান নন, বরং পুলিশেরই অবসরপ্রাপ্ত একজন অফিসার, যার নিজের জীবনের প্রচুর অমীমাংসিত ট্রমা আছে। দক্ষ মুন্সিয়ানায় লেখক সেই ট্রমাগুলিকেও এই উপন্যাসে যেভাবে বর্ণনা করেছেন এবং সেগুলোকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলা এই চরিত্রকে যেভাবে দেখিয়েছেন, তাতে সে আমাদেরই মতো একজন হয়ে উঠেছে খুব সহজেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লেখক পাঠককে এমন একটা জায়গায় বসিয়ে লিখেছেন যে তাতে এটাও মনে হয়েছে আমরা অর্থাৎ পাঠকরাই কেসটা সলভ করছি ওই চরিত্রের মাধ্যমে, পাহাড় বেয়ে উঠছি, নামছি, ম্যাগির দোকানে বসছি।

একটি ক্রাইম থ্রিলারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল যে কোনো জিনিসের সঠিক প্লেসমেন্ট সেটা তথ্য হতে পারে, চরিত্রের আগমন অপসারণ হতে পারে, কথোপকথনের শুরু ও শেষ হতে পারে, সাসপেন্স বজায় রাখা হতে পারে..এগুলির মধ্যে কোনো একটাও ঘেঁটে গেলে সবটাই ঘেঁটে যায়। অথচ, এই বইতে কোনো কিছুই ঘেঁটে যায়নি, সবকিছুর প্লেসমেন্ট এক্কেবারে সঠিক অর্থাৎ যখন যখন যেটা হওয়ার দরকার ছিল তখন তখন সেটাই হয়েছে এবং এতটুকুও কোনো কম্প্রোমাইজ করা হয়নি কোথাও। আর শেষ ভালো যার সব ভালো তার এ কথা আমরা বহুযুগ ধরে জানি, বিনা দ্বিধায় বলতে পারি, এই বই শেষ করবার পর একটা অদ্ভূত কষ্ট টের পেয়েছি নিজের মনে। মেঘলা আকাশের দিকে তাকিয়ে চরিত্রদের জন্য দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলেছি আমি। অকপট ও সুন্দর একটা শেষ, বিন্দুমাত্র অতিরঞ্জিত কিছু নেই। আর তাই হয়তো বইটা, বা চরিত্রগুলো ভীষণ কাছের মনে হয়, যেন চেষ্টা করলেই ছুঁতে পারবো, বা আমার আশে পাশেই হয়তো এরা ঘোরা ফেরা করে রোজদিন। যারা আগাথা ক্রিস্টিকে সম্পূর্ণ পড়ে ফেলেছেন তারা খানিকটা হলেও সেই আমেজ এই বইতেও পাবেন।

শুরু থেকে শেষ কোথাও এক বারের জন্যেও মনে হয়নি এটা লেখকের প্রথম বই। তার পিছনে যে কতটা পড়াশোনা বা বারংবার লেখার অনুশীলন আছে তা আর আলাদা করে বলে দিতে হয় না। ভাষা এবং লেখনশৈলী আমায় মুগ্ধ করেছে। প্রকৃতির বর্ণনার অংশ গুলো আমি বারবার পড়েছি। আর হ্যাঁ বইটা আমি একটা মেঘলা দিনেই শেষ করেছিলাম তাই হয়তো গভীরভাবে বইটা আমার উপর এতটা প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে। প্রত্যেকটি চরিত্র আমাকে তাদের মতো করে ভাবতে শিখিয়েছে, প্রত্যেককে নিয়ে একটা কষ্ট থেকেই গেছে। মানুষের মন ও সেই মনের ভিতরে চলতে থাকা অন্ধকার ও আলোর দ্বন্দ্বে এইভাবে যে কত মানুষ নিঃস্ব হয়ে যায়, হয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতেও হতে থাকবে তা সত্যিই ভাবতে গেলে থমকে যেতে হয়।

শেষে বলব, 'আংশিক মেঘলা আকাশ ও মৃত্যুর সম্ভাবনা' কে শুধু ক্রাইম থ্রিলার হিসেবে নয় বাংলায় একটা সুন্দর ভালো বই পড়তে হলে পড়ুন, আর পারলে মেঘলা দিনে পড়ুন, পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে পড়ুন বা ম্যাগির দোকানে বসে পড়ুন। কিন্তু পড়ুন। অবশ্যই পড়ুন।

বইয়ের গুনগত মান বৈভাষিক এর জন্য আলাদা করে বলতে হয় না, সেটা ভালোই হয়। পুরো বইতে কোথাও কোনো ভুল পাইনি, শুধু দুটি জায়গায় পরিষেবা 'পরিসেবা' হয়ে গেছে।

আর বইটার পুরো রিভিউ ভিডিও মাধ্যমেও দিয়েছি ইউটিউবে, যদি ইচ্ছা হয় দেখতে পারেন।
লিঙ্ক রইল।
https://youtu.be/GxMew7peRLU
Profile Image for Musharrat Zahin.
464 reviews563 followers
August 23, 2026
পাহাড়ে ঘুরতে গেলে আমরা সাধারণত পাহাড়ের যে ছবিটা মাথায় নিয়ে যাই, সেটা অনেকটা পোস্টকার্ডের মতো। মেঘের ফাঁকে রোদ, দূরে পেঁজা তুলার মতো মেঘে ঢাকা পাহাড়, চারপাশে সবুজ আর সন্ধ্যার পর এক কাপ চা। কিন্তু সেই পাহাড়েই যদি টানা বৃষ্টি নামে, রাস্তা ধসে যায়, চারপাশ কুয়াশায় ঢেকে যায় এবং আপনি চাইলেও সেখান থেকে বেরোতে না পারেন, তখন সেই সুন্দর পাহাড়টাই খুব দ্রুত অসহ্য হয়ে উঠতে পারে। 

কোলাখামের একটা হোমস্টেতে কয়েকজন মানুষ বিভিন্ন কারণে এসে আটকে পড়েন। বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি, পাহাড়ি রাস্তা ধসে গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বন্ধ। এর মধ্যেই হোমস্টেতে ঘটে যায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু। প্রথমে সেটাকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে হলেও ধীরে ধীরে সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর আরেকটি মৃত্যু পরিস্থিতিকে পুরোপুরি বদলে দেয়। হোমস্টেতে থাকা মানুষগুলোর প্রত্যেকেরই যেন কিছু না কিছু লুকোনো আছে। সেই জায়গা থেকেই অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার ফারুক সিদ্দিকীর তদন্ত শুরু।

লেখকের লেখার ধরনটা সত্যিই ভালো লেগেছে। তাঁর বর্ণনার ধরন চমৎকার। অনেক জায়গাতেই মনে হয়েছে যেন একটা সিনেমার দৃশ্য দেখছি। 

তবে এরপরেও বইটা আমার কাছে পুরোপুরি জমেনি। গল্পটা একটু দুর্বল লেগেছে। কোথাও কোথাও মনে হয়েছে ঘটনাগুলোকে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু জিনিস একটু বেশি করে জোড়া লাগানো হয়েছে। মাঝামাঝি অংশেও তদন্তের গতি কিছুটা কমে যায়, ফলে আগ্রহটা মাঝে মাঝে একটু নেমে গিয়েছিল।

তার উপর আমি বেশ আগেই অপরাধীকে ধরে ফেলেছিলাম। ফলে শেষের দিকে রহস্যটা কীভাবে খুলবে সেটা নিয়ে খুব একটা উত্তেজনা কাজ করেনি। 

আর একটা জিনিস ভালো লেগেছে, বইটা অকারণে খুব বেশি নাটকীয় হওয়ার চেষ্টা করেনি। চরিত্রগুলোকে খুব চড়া রঙে আঁকা হয়নি। প্রত্যেকের মধ্যেই ভালো-মন্দ দুটোই আছে। ফলে অপরাধীর প্রতি সহানুভূতি দেখানো না গেলেও তার মানসিক অবস্থাটা বোঝার চেষ্টা করা যায়। এই গ্রে এরিয়াটাই গল্পের মনস্তাত্ত্বিক দিকটাকে কিছুটা শক্তিশালী করেছে।

তবে লেখকের লেখার ধরন দেখে পরের বইয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে যদি একেবারে টানটান রহস্য, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপরাধী কে সেটা বুঝতে না-পারা ধরনের থ্রিলার চান, তাহলে হয়তো প্রত্যাশাটা একটু কমিয়ে পড়াই ভালো।
Profile Image for শোয়েব হোসেন.
208 reviews14 followers
September 9, 2026
৪.৫ আউট অব ৫। চমৎকার গোল্ডেন এজ মিস্ট্রি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, একটা হোমস্টেতে আটকে পড়া কিছু কিছু অতিথি। এরমধ্যে এরমধ্যে হয়ে গেল একটা মৃত্যু, খুন কিনা নিশ্চিত না। তারপর একটা নিশ্চিত খুন। রহস্য সমাধানের জন্য আছে প্রাক্তন এসিপি ফারুক সিদ্দিকী, আর আছে স্থানীয় থানার ওসি।
সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হলো পাঠককে চমকে দেয়ার জন্য লেখক এর অতিরিক্ত চেষ্টা নেই, টুইস্ট দেওয়ার নামে অবিশ্বাস্য কিছুর অবতারণা করেননি। গল্প তার স্বাভাবিক প্রবাহে বয়ে গেছে, আর দারুন লিখুন শৈলী তো আছেই।
পোয়ারো, মিস মার্পল বা পের মেসন সিরিজ ভালো লাগলে, আশা করি এই বইটাও আপনার ভালো লাগবে।
Profile Image for Shashwata Ganguly.
28 reviews7 followers
August 7, 2026
গোয়েন্দা গল্প হতে গিয়ে গল্পই হয়ে উঠতে পারল না। ব্লার্বেই লেখা খুন হচ্ছে। ফলে শুরু থেকে খুন অবধি সময়টায় পাঠকের প্রত্যাশা নিয়ে খেলানো যেত। তার জায়গায় খুবই কাঠকাঠ চরিত্রবর্ণন। আবহ সৃষ্টি দুর্বল। খুন হয়ে গেলেও বাকি চরিত্রদের উপর তার কী প্রভাব পড়ল তা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
Profile Image for Nira Mukherjee.
58 reviews9 followers
April 8, 2026
"উপলব্ধি বড়ই বিড়ম্বনার বস্তু। সকলেই তার পথ চেয়ে জীবন কাটিয়ে দেয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সে যখন ধরা দেয়, তখন অবধারিতভাবে দেরী হয়ে গেছে"

"আংশিক মেঘলা আকাশ ও মৃত্যুর সম্ভাবনা" - শুরু করার প্রায় দু'দিনের মাথায় গতকাল রাতে শেষ করেছি এবং তারপর থেকে সমগ্র উত্তেজনা, ভালো থ্রিলার, টানটান ও দ্রুতগতিসম্পন্ন লেখা পড়ার পরিতৃপ্তি ছাপিয়ে একটা নামহীন পাহাড়ী কুয়াশার মতো মনখারাপ যেনো হঠাৎই ঘিরে ধরেছিল আমায়। কেন এবং কি কারণে - সেটা বুঝলাম উপন্যাসটির এই ওপরে লিখিত উদ্ধৃতিটির কাছে বারবার ফেরত এসে।
"উপলব্ধি" সত্যিই বিষম বস্তু। সঠিক সময়ে সঠিক উপলব্ধি - তা যে কোনো মানুষের ক্ষেত্রেই মুক্তির পথ বা ভুল শোধরানোর পথ হলেও হতে পারে। যেমনটা হতে পারতো ঋজুর বাবা বা ডঃ সমীরণ পালের সাথে। যদি তারা ঠিক সময়ে ঠিক উপলব্ধির হাত ধরতেন তাহলে পরবর্তী প্রজন্মকে এতটা কষ্ট, অবমাননা আর ফ্রাস্ট্রেশনের মধ্যে দিয়ে যেতে হতো না। এমন কোনো পরিস্থিতিতে তাদের পড়তে হতো না - যেখানে থেকে ফেরার উপায় থাকে না।

বিরামহীন বৃষ্টি ও তার সঙ্গে পাহাড়ী রাস্তার ধসে কার্যত আটকে কোলাখামের হিলটপ হেভেন হোমস্টেতে এসে ওঠেন ডঃ নীলাদ্রি চক্রবর্তী। তার সঙ্গে আছেন কেশব কোঠারী - যার বদান্যতায় এই সুযোগ। হোমস্টেতে তাদের সঙ্গেই আছে আরো বেশ কিছুজন যারা সবাই মূলত আবহাওয়ার হাতে বন্দী। সবকিছুই এখন মেঘ আর কুয়াশার চাদরে ঢাকা। এই ধূসর একঘেয়েমির মধ্যে অতর্কিতে হানা দেয় মৃত্যু। ওলট পালট হয়ে যায় পাহাড়ী একঘেয়ে দৈনন্দিনতার রুটিন। পুলিশি তৎপরতায় ও নিয়মমাফিক তদন্ত সাময়িকভাবে আশ্বস্ত করলেও ঘটে যায় আরো একটি মৃত্যু অপ্রত্যাশিতভাবে...

উপন্যাসটি যতটা না বেশি থ্রিলার মনে হয়েছে ততটাই মনে হয়েছে মনস্তাত্ত্বিক। ঋজুর বাবার তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার ওপর পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া এবং ছোটবেলায় ভুল চিকিৎসায় দিদিকে হারানো যে ক্ষোভ তৈরী করে - তা তাকে একটু একটু করে গুটিয়ে যেতে বাধ্য করে সবার থেকে। যদিও, তার পরবর্তী কার্যকারণ কোনোভাবেই জাস্টিফাই করা যায় না, তেমনই অস্বীকার করা যায় না তার পরিবার থেকে জন্মানো এই ফ্রাস্ট্রেশন। ঠিক তেমনই অস্বীকার করা যায় না, সমীরণ পাল ছেলের ভালো চাইতে যে অমানুষিক চাপে তাকে ঠেলে দেয়, অস্বীকার করা যায় না সেই সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গীকেও যা ডলি রাইকে বারবার শুনতে বাধ্য করায় 'তার চরিত্র নোংরা, তার গায়ে গন্ধ' কারণ, কেবলমাত্র সে শহুরে নয়। এবং এই সবকিছুর চরম পরিণতি আসে অপরাধে, অবদমিত ক্ষোভ থেকে রিভেঞ্জে। এবং যেহেতু প্রতিটি মানুষ কখনোই শুধু ভালো বা খারাপ হয় না --- তারা সব সময়ই ধূসর - সব ভালো আর সব খারাপেরই কোনো না কোনো অতীত আছে তাই ভিক্টিম এবং খুনী উভয়ের জন্যই খানিক কষ্ট হয়।

পরিবেশকে এই উপন্যাসের প্রায় একটা চরিত্রই বলা চলে। একঘেয়ে বৃষ্টি, স্যাঁতসেঁতে ঠান্ডা, কুয়াশা মেঘ মিলিয়ে যে আবহাওয়া সৃষ্টি হয় তা অনবদ্য। উপন্যাসের টোন এখানেই সেট হয়ে যায়। এছাড়াও, লেখক যেভাবে প্রতিটা দিনকে আলাদা আলাদাভাবে দেখিয়েছেন সেই স্টাইলটাও বেশ ভালো লাগে।

উপন্যাসটি ভীষণভাবে সিনেম্যাটিক। কিছু কিছু দৃশ্য ভীষণ বাস্তবোচিত, জীবন্ত - যেন মনে হয় এরকমই তো হয়ে থাকে।

খারাপ লাগার কিছু চেষ্টা করেও খুঁজে পাইনি শুধু দুটো বানান ভুল ছাড়া।

সব মিলিয়ে "আংশিক মেঘলা আকাশ ও মৃত্যুর সম্ভাবনা" খুবই মনোগ্রাহী। মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার হিসাবে পড়তে চাইলে অবশ্যই পড়ুন। বাংলায় লেখা ভালো ও সুন্দর বই হিসাবেও অবশ্যই পড়ুন। জাস্ট পড়ুন। নিঃসন্দেহে ভালো লাগবে।
Profile Image for Pratik Gon.
239 reviews4 followers
November 30, 2025
লেখকের প্রথম বই হিসেবে সত্যিই প্রশংসনীয়। আশা রাখি ভবিষ্যতে এনার কলমে আরো ভালো ভালো লেখা পাবো।
Profile Image for Dipankar Bhadra.
758 reviews70 followers
December 27, 2025
পাহাড়ের নির্জনতায় মানুষের উপস্থিতি বরাবরই এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করে। প্রকৃতির বিশাল নীরবতার সামনে মানুষ ছোট হয়ে যায়, আর সেই ক্ষুদ্রতার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে ভয়, সন্দেহ ও অপরাধ। অরুপ রতন সমাজদারের “আংশিক মেঘলা আকাশ ও মৃত্যুর সম্ভাবনা” উপন্যাসটি সেই আবদ্ধতার মধ্যেই তার গল্প বলতে চায়।

একটি পাহাড়ি হোমস্টেতে ভিন্ন ভিন্ন কারণে এসে জড়ো হয় কয়েকজন মানুষ। হঠাৎ আবহাওয়ার অবনতিতে তারা বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই বিচ্ছিন্নতার মধ্যেই ঘটে যায় প্রথম মৃত্যু—বিশিষ্ট সার্জন নীলাদ্রি চক্রবর্তীর। আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক বলে মনে হলেও সন্দেহের বীজ খুব দ্রুতই মাথা তোলে। পরদিন আরেক অতিথির মৃত্যু সেই সন্দেহকে নিশ্চিত রূপ দেয়। তখন প্রশ্ন আর শুধু মৃত্যুকে ঘিরে থাকে না; প্রশ্ন ঘোরে মানুষকে ঘিরে—তাদের অতীত, তাদের সম্পর্ক এবং তাদের নীরবতার চারপাশে।

এই উপন্যাসে লেখক দ্রুত উত্তেজনার পথে হাঁটেননি। বরং ধীরে ধীরে, সংযত ভঙ্গিতে তিনি কাহিনির স্তরগুলো উন্মোচন করেছেন। শেষ দিকের অধ্যায়গুলোতে দীর্ঘ কথোপকথনের মধ্য দিয়ে যে রহস্যভেদ ঘটে, সেটিই বইটির প্রধান শক্তি। এখানে চমক আর আকস্মিকতার চেয়ে যুক্তি ও পর্যবেক্ষণ বেশি গুরুত্ব পায়। খুনের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি পাঠকের সামনে একসময়ে এসে স্পষ্ট হয়, এবং সেই স্পষ্টতাই কাহিনিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

এই উপন্যাসের আর এক বড় সম্পদ তার পরিবেশচিত্র। বৃষ্টিভেজা পাহাড় কেবল পটভূমি হয়ে থাকে না, বরং গল্পের নীরব চরিত্রে পরিণত হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে চরিত্রদের সংলাপ ও আচরণ অতিরিক্ত সংযত বলে মনে হয়। বাস্তব পরিস্থিতিতে, যেখানে পরপর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে এবং মানুষ কার্যত অবরুদ্ধ, সেখানে মানসিক চাপ, অস্থিরতা বা বিরক্তির প্রকাশ আরও তীব্র হতে পারত। এই সংযম কখনও কখনও চরিত্রদের আবেগকে কিছুটা দূরবর্তী করে তোলে।

সব মিলিয়ে, “আংশিক মেঘলা আকাশ ও মৃত্যুর সম্ভাবনা” একটি ধীরগতির রহস্যকাহিনি, যেখানে অপরাধের পাশাপাশি গুরুত্ব পায় মানুষের নীরবতা, মুখোশ এবং অব্যক্ত অতীত। মেঘলা পাহাড়ি আকাশের মতোই এই উপন্যাস দ্রুত ঝড় তোলে না; বরং ধীরে ধীরে ঘনায়, এবং শেষে পাঠকের মনে এক ধরনের ভারী অনুরণন রেখে যায়। রহস্যপ্রিয় পাঠকদের জন্য বইটি অবশ্যপাঠ্য।
6 reviews1 follower
January 5, 2026
'আংশিক মেঘলা আকাশ ও মৃত্যুর সম্ভাবনা' উপন্যাসটি বেশ ভাল লাগল। Agatha Christie style followed হয়েছে অনেকটাই। নির্জন পাহাড়ী গ্রাম, সাজানো হোমস্টে, বৃষ্টি, মেঘ, কুয়াশা, নানান বয়স আর পেশার কিছু মানুষ এবং অবশ্যই "খুন"। তদন্তের পরতে পরতে উঠে আসে মানুষের আদিম প্রবৃত্তিরা। শেষে আকাশ পরিষ্কার হয় ঠিকই কিন্তু আঁধার পুরোটা কাটে কি? এই উপন্যাসটি ঝিমঝিমে বর্ষার weather এ coffee নিয়ে বসে পড়ার মত , imagination and visualization জরুরী যদি পাঠক সম্পূর্ণ immersed হতে চান। লেখকের থেকে আরও এইরকম slow burn crime thriller or detective novel এর অনুরোধ জানাই। কিছু জিনিস যা খটকা লেগেছে -

হত্যাকারী কটেজে শেষের আগের বার যখন ঢুকলো তখন কি দরজা বন্ধ ছিল না?

দ্বিতীয় খুনের পর murder weapon খোঁজার জন্য extensive search কেন হলনা?

অভিজ্ঞ police officer রা এত discuss করেও handwriting check করা উচিত এবং second murder এ আঘাত যে অন্য ভাবেও হতে পারে - এই দুটি বিষয় বুঝতে পারলেন না?

ঋজু জানলায় reflection এ যতটা details দেখে ফেলেছিল সেটা একটু overdone মনে হয়েছে।

if we put aside these nominal issues then the book is thoroughly enjoyable and a strong addition to the recently published detective novels in Bengali literature.
Profile Image for Nayantara Dutta.
7 reviews3 followers
August 29, 2026
আগাথা ক্রিস্টির দ্য মাউসট্র্যাপ থিয়েটারের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলা মঞ্চনাটক হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ে ফেলেছে। ১৯৫২ সাল থেকে এই নাটকটি আজও বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এবং এখনও থিয়েটারের রানিং শো। আমাদের নারায়ণ স্যান্যালও যখন নাগচম্পার উপর উত্তম কুমার অভিনীত পিকে বাসুকে পাকাপাকিভাবে ধারাবাহিক বইয়ের চরিত্রে আনতে চায়লেন তখনও তিনি বেছে নিলেন এই নাটকটাকে। লেখা হলো সোনার কাঁটা। যারা পড়েছেন তারা নিশ্চয়ই জানেন প্লট কতটা নাটকীয়। আংশিক মেঘলা আকাশের নিচে একটা হোটেলে কিছু বিচ্ছিন্ন মানুষ স্বভাবতই লাগাতার দুর্যোগের জলহাওয়ায় বিরক্ত। তার উপর তাদের মধ্য থেকে একে একে খুন হচ্ছেন হোটেলের বোর্ডার। পঠকরা উৎকণ্ঠায় পড়তে পড়তে একে একে পরিচিত হচ্ছি কুশীলবদের সাথে। তাদের মধ্যে একজন স্বপ্রণোদিত গোয়েন্দাগিরি শুরু করেন আর সীমিত সন্দেহভাজনদের মধ্যে সহজে ইঁদুরের ফাঁদ পেতে বসে থাকেন! ইঁদুর না বেড়াল না বেজি কে ধরা পড়র তা জানতেই চমৎকার এই থ্রিলার।

এই বইটাও সেইম সেইম বাট ডিফরেন্ট। একারণে বেশ হতাশ। তারপরও অনেককিছুই সুন্দর, নতুন আর চোখ কপালে তোলার মতো ডিপ একটা এন্ডিং।
3 reviews
August 11, 2026
লেখায় আগাথা ক্রিস্টির ছোঁয়া। এটা নালিশ নয় একেবারেই। যদ্দুর মনে হয় লেখকের প্রথম উপন্যাস। কিছু কিছু জায়গায় একটু খামতি পাওয়া গেছে, আশা করি পরের উপন্যাসে সেই জায়গা গুলো আর একটু ভালো হবে।
Environment creation ভালো লেগেছে। ক্লাইম্যাক্স অতিরঞ্জিত নয় মোটেই। প্রচ্ছদ খুব ভালো। পরবর্তী উপন্যাস এখনো কেনা হয়নি,লিস্টে আছে।
Profile Image for Debasrita Bhattacharjee.
3 reviews3 followers
April 19, 2025
বই টা পড়তে পড়তে অনেকবার ছোটবেলায় পড়া Agatha Christie র নভেল গুলোর কথা মনে পড়ছিল। বইটির উপস্থাপনা বেশ ভালো, কোলাখাম নামক একটি গ্রামে একটা দুর্যোগ এর পরিবেশে এক এর পর এক ঘটনাগুলো ঘটতে থাকে। চরিত্রগুলো ও একবার পড়লে চট করে ভুলে যাওয়ার মতো নয়। মোটের উপর একটি স্লো বার্নিং থ্রিলার
Displaying 1 - 12 of 12 reviews