করোনার ঠিক পাঁচ বছর পর, ২০২৪ সালে বিশ্বে এক নতুন ভয়াবহতার সৃষ্টি হয়েছে—তা হচ্ছে অনিদ্রা। অতীতে যারা করোনা ভাইরাসের টিকা নিয়েছিল, শুধুমাত্র তাদের মাঝেই এই রোগের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগীরা তেমন ভয়াবহ না হলেও, সময়ের সাথে সাথে মেজাজ খিটখিটে হওয়ার ফলে আশেপাশের সাধারণ মানুষের জন্য তারা হয়ে উঠছে সাংঘাতিক ও প্রাণঘাতী আক্রমণাত্মক। শুরুতে এদের দুই চোখ লাল রক্তবর্ণের হলেও, শেষ পর্যায়ে তা থেকে রক্ত ঝরতে শুরু করে।
অন্যদিকে, সাভারের একটি বৃদ্ধাশ্রমের রহস্যময়ী প্রধান রাঁধুনী, মালতি মাসি এমন একটি শুঁটকি ভর্তা রান্না করেন, যা খেলে রাতে ঘুম ভালো হয়। যেকোনো সাবান দিয়ে বারবার হাত ধুলেও, দুদিনের আগে সেই ভর্তার সুবাস যায় না। একইসাথে বৃদ্ধাশ্রমের নতুন সদস্য টুম্পার চোখে এখানকার বেশ কিছু অস্বাভাবিক বিষয় ধরা পড়ে।
আসলে কী এই শুঁটকি ভর্তার রহস্য? কারা সেই চাটুকার? এবং নতুন এই অনিদ্রা রোগের ভয়াবহতা সামনে কতটা গভীর রূপ নিতে চলেছে তা জানতে হলে পড়তে হবে— 'সুস্বাদু শুঁটকি ভর্তা ও একদল চাটুকার...!'
'সুস্বাদু শুঁটকি ভর্তা ও একদল চাটুকার' নামটা বেশ ইউনিক না? আমার কাছেও তাই মনে হয়েছে। নামের মতো কনসেপ্টও ইউনিক করার চেষ্টা ছিলো। সেই ব্যাপারেও সন্দেহের অবকাশ নাই। তবে, হাজার জোর করেও এইটাকে কোনোভাবে ভালো লাগাতে পারলাম না।
আগেই বললাম, বইটার কনসেপ্ট ইউনিক। করোনার ঠিক পাঁচ বছর পর, ২০২৪ সালে দুনিয়ায় এক নতুন মহামারীর রূপ দেখা দিয়েছে। তা হলো অনিদ্রা। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীরা তেমন ভয়াবহ না হলেও সময়ের সাথে সাথে হয়ে উঠছে সাংঘাতিক ও বিপজ্জনক। আরেকদিকে, সাভারের একটা বৃদ্ধাশ্রমে রয়েছে মালতি মাসি। যার শুঁটকি ভর্তা খেলে রাতে দারুণ ঘুম হয়। তবে, সমস্যা হচ্ছে, ভর্তা একবার হাতে নিলেই সেই ভর্তার ঘ্রাণ হাত থেকে অন্তত দুইদিন যায় না। বৃদ্ধাশ্রমের নতুন সদস্য টুম্পা এখানে আসার পরে বেশ কিছু অস্বাভাবিক বিষয় দেখতে পায়।
কি সেই অস্বাভাবিক বিষয়? মালতি মাসি-টাই বা কে? আর অনিদ্রা রোগের ভয়াবহতাটা কতটা গভীর হতে চলেছে? জানতে হলে বইটা পড়তে হবে।
শুনে বেশ চমৎকার লাগছে না? আমারও লেগেছিলো। তবে, শেষ করেছি একরাশ বিরক্তি নিয়ে। হাজার চেষ্টা করেও পাঠক হিসেবে আমি এই অখাদ্যের সাথে যুক্ত হতে পারিনি। বইয়ের ভাষা সহজসরল ছিলো। তবে, অপ্রয়োজনীয় ড্রামাগুলা বিরক্তিকর।
সবমিলিয়ে, কনসেপ্টটা ইউনিক না হলে ১ দিতাম। আমি ব্যক্তিগতভাবে মোটেই উপভোগ করতে পারিনি। অনেকের ভালো লেগেছে। তবে, আমার একদমই ভালো লাগেনি বললেই চলে। আমি রেকমেন্ড করতে পারলাম না। তবে, আপনি পড়বেন কি না তা কিন্তু আপনার হাতে। শুভরাত্রি!
The blurb of the book indicated it's a zombie thriller set in Dhaka and this was enough for me.
As I dove into the book, it turned out the story of a post COVID virus that takes over human beings, causing them to become violent.
On the other hand, there's this chef Malti Masi, who is well-known for her shutki bhorta and is probably a powerful witch and can infiltrate dreams.
However, the book ends with a completely unexpected twist which probably was not necessary.
In short, I liked his book. But I'm confused which genre should I categorize this in. Also, is a sequel coming up? Because this felt like an unfinished story
This entire review has been hidden because of spoilers.
সুস্বাদু শুঁটকি ভর্তা ও একদল চাটুকার উপন্যাসটি শুধুমাত্র একটি গল্প নয়, বরং এটি অনুভূতি, স্মৃতি, এবং মানুষের জীবনের গভীর দিকগুলোর এক চমৎকার উপস্থাপনা। লেখকের অনন্য ভাষাশৈলী এবং চরিত্রগুলোর অন্তর্নিহিত মানসিক জগতের বিশ্লেষণ এই উপন্যাসকে একটি ব্যতিক্রমী সাহিত্যকর্ম হিসেবে গড়ে তুলেছে। প্রথমত, উপন্যাসের ভাষাশৈলী ও রচনাশৈলী অত্যন্ত আকর্ষণীয়। লেখক প্রতিটি বাক্যে এমন এক ধরণের সাহিত্যিক আবহ তৈরি করেছেন, যা পাঠকদের ভাবনার জগতে প্রবেশ করিয়ে দেয়। সংলাপগুলো প্রাঞ্জল এবং জীবন্ত, যা চরিত্রগুলোর স্বাভাবিক আচরণকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে। দ্বিতীয়ত, উপন্যাসের গভীরতা ও থিম অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি শুধুমাত্র একটি প্রেমের গল্প নয়, বরং মানব সম্পর্কের জটিলতা, আত্ম-অনুসন্ধান, এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের রূপান্তরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। লেখক অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে নস্টালজিয়া, বেদনা এবং আশা-নিরাশার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেছেন। তৃতীয়ত, চরিত্রগুলোর বহুমাত্রিকতা উপন্যাসের অন্যতম সেরা দিক। প্রতিটি চরিত্র বাস্তবিক, মানবিক অনুভূতি ও ত্রুটিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। লেখক তাদের আবেগ, দ্বন্দ্ব এবং মানসিক জটিলতাকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন, যা পাঠকদের সংযোগ স্থাপনে সাহায্য করে। চতুর্থত, নেতিবাচক বাস্তবতার সংযোজন এটিকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলেছে। জীবন সবসময় মসৃণ নয়, এবং উপন্যাসটি সে বাস্তবতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। প্রেম, বিচ্ছেদ, সুখ-দুঃখের দোলাচল, সবকিছুই অত্যন্ত দক্ষতার সাথে উপস্থাপন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে,সুস্বাদু শুঁটকি ভর্তা ও একদল চাটুকার একটি হৃদয়স্পর্শী উপন্যাস, যা পাঠকের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। এর ভাষাশৈলী, চিন্তার গভীরতা এবং চরিত্রের বহুমাত্রিকতা এটিকে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম স্মরণীয় গ্রন্থে পরিণত করেছে
সুস্বাদু শুঁটকি ভর্তা ও একদল চাটুকার উপন্যাসটি নিছক গল্প নয়, বরং এটি এক গভীর মানসিক যাত্রার প্রতিচ্ছবি। উপন্যাসের অন্যতম প্রধান বিষয়বস্তু হলো একাকীত্ব, যা চরিত্রগুলোর অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শক্তিশালীভাবে প্রকাশ পেয়েছে। প্রথমত, উপন্যাসের প্রধান চরিত্রের মানসিক দ্বন্দ্ব ও বিচ্ছিন্নতা একাকীত্বের দৃষ্টান্তমূলক প্রকাশ ঘটিয়েছে। লেখক খুব সূক্ষ্মভাবে একাকীত্বের ব্যথা, অতীতের স্মৃতি, এবং বর্তমানের নিরব নিঃসঙ্গতা ফুটিয়ে তুলেছেন। এটি এমন এক বাস্তবতা যেখানে মানুষ শারীরিকভাবে সমাজের অংশ হলেও মানসিকভাবে চূড়ান্তভাবে বিচ্ছিন্ন থাকে। দ্বিতীয়ত, নস্টালজিয়া এবং স্মৃতির খেলা উপন্যাসে একাকীত্বের অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে। প্রধান চরিত্র নিজের জীবনের অতীত অভিজ্ঞতার মধ্যে আটকে থাকে, এবং বাস্তবতার সাথে তার সম্পর্ক ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে যায়। এই নিঃসঙ্গতা কখনো আশাহীনতা তৈরি করে, কখনো স্মৃতির আবেগে তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। তৃতীয়ত, ভাষার সংযম ও গভীরতা উপন্যাসটিকে আরও মর্মস্পর্শী করেছে। লেখকের গদ্যে একধরনের শূন্যতার সুর বাজে, যা পাঠকদের মনে একাকীত্বের বাস্তব অনুভূতি সৃষ্টি করে। বর্ণনার মধ্যেও একধরনের নির্জনতা কাজ করে, যা চরিত্রগুলোর মানসিক অবস্থার সঙ্গে মিল রেখে চলে। চতুর্থত, চরিত্রগুলোর পরস্পরের থেকে দূরত্ব উপন্যাসের নিঃসঙ্গতাকে আরও প্রকট করেছে। সম্পর্কের ভাঙন, ভুল বোঝাবুঝি, এবং নিজেদের মধ্যে থাকা অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে প্রতিটি চরিত্র আলাদা এক জগতে বসবাস করে। সারসংক্ষেপে, সুস্বাদু শুঁটকি ভর্তা ও একদল চাটুকার উপন্যাসটি নিঃসঙ্গতার একটি অনন্য সাহিত্যিক উপস্থাপনা। এটি শুধুমাত্র একটি গল্প নয়, বরং মানুষের মানসিক একাকীত্ব ও অস্তিত্বের সংকটের এক সংবেদনশীল চিত্র।
যথেষ্ট উৎসাহ নিয়ে পড়া শুরু। পড়তে মজা ও পাচ্ছিলাম। লাগছিল প্রত্যেকটা চরিত্র একটা আরেকটার সাথে কোন না কোন ভাবে যুক্ত। কিন্তু শেষেরটা সংযুক্তিটা আশাহত করে৷ অনেক কিছুই অসম্পূর্ণ থেকে যায়, যেমন মাসির ��্যাপারটা৷ আর পুরো বই জুড়ে দেখানো মনিরের ব্যবহার বা মানসিকতা কোনটার সাথেই শেষের বাক্যটি মিলল না।