কবরস্থানে মৃতদের সাথে ছাড়া তার ঘুম হয়না। নতুন কোনো কবর হলে সে গভীর রাতে সেই কবরে সে ঢুকে যায়। কাফন সরিয়ে মৃতের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। শরীরে হাত বুলিয়ে আদর করে। নিজ হাতে যাকে ভয়ঙ্কর ভাবে খুন করেছে, কবরে তার লাশ পেলে পরম মমতায় আদর করে দেয়। না, সে তাদের সাথে কোনো বিকৃত যৌনাচার করে না। সর্বোচ্চ আদর করে কপালে, ক্ষেত্র বিশেষে গালে চুমো দেয়। মৃতদের সে ভালোবাসে। মৃত্যুকে ভালোবাসে।
❛যুগ যুগ ধরে মানুষ চলে আছে মরীচিকার পিছে। একদল ভাবছে তারা ভালো, শ্রেষ্ঠ। আরেকদল ভাবছে তারাই ভালো। আর এরা একে অপরকে দোষারোপ করে আসছে। শুভ আর অশুভের ল ড়াই চলে আসছে। চলতেই থাকবে যতদিন না এই দুনিয়া তার শেষ সময়ে পৌঁছে।❜
সময়টা কঠিন যাচ্ছে এখনো রেজার। ভাগ্নির দায়িত্ব, নিজের জীবনের কঠিন সময়, অসুস্থতা আর একমাত্র পরিবার হারিয়ে দিশেহারা। সেই সাথে জুড়েছে ভাগ্নির নিরাপত্তার বিষয়। কে, কারা বা কেনই চায় তার ভাগ্নিকে সে জানে না। এত অশান্তির মাঝেও শান্তির এক মৃদু বাতাস নিয়ে জীবনে এসেছে তানিয়া। তার এবং নিরার নিরানন্দ জীবনে আনন্দের পরশ এনে দিয়েছে। ভালোই যাচ্ছিল সময়। বদ্ধ এক কেবিনে জেরিনের জীবন অসহায়। সাধারণের থেকে বাড়িয়ে চিন্তা করলেই লোকে পা গল উপাধি দিয়ে দেয়। সেও তাই পেয়েছে। বড় কর্তা বাবাও নিজের ক্যারিয়ার ঠিক রাখতে মেয়ের বলা কথাগুলো পাত্তা না দিয়ে তাকে ভর্তি করে দিলো মানসিক হাসপাতালে। সাদা আর কালোর দ্বন্দ্ব বুঝতে পেরেছিল সে। দুনিয়াটা আমরা ঠিক সেভাবেই দেখি যেভাবে কেউ আমাদের দেখায়। ভেতরের অবিশ্বাস্য ব্যাপার আমরা দেখতেই পাই না। এইটুক উপলব্ধিই তাকে বন্দী করেছে এই কুঠুরিতে। ইকবাল তার স্যারের রেখে যাওয়া নোটগুলো পড়ছে আর নিজের বিশ্বাস অবিশ্বাসের বালুচরে খাবি খাচ্ছে। মিথ নিয়ে যথেষ্ট জ্ঞান থাকার পরেও যা জানছে তা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে তার। একদল তাকে হুমকি দিচ্ছে। কী এমন সে জানলো যার জন্য এই হিসহিসে কন্ঠের থেকে হুমকি পাচ্ছে? থেমে যাবে না আগাবে? পরম এক তৃপ্তির রেশ কাটতে কাটতে রেজা আবিষ্কার করলো তার ছোট্ট নিরা ঘরে নেই। কোথায় গেল! নিজেকে খুব ছোটো আর অসহায় লাগে তার। অফিসার অমিতের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করে সে। এদিকে তানিয়াও ঘরে নেই। জুলকার যথেষ্ঠ ক্ষমতাবান। তাও তার সমস্ত মনোযোগ যেন কী একটা কেড়ে নিচ্ছে। ওই লাল সাদা চোখগুলো কার? কী বলতে চায় তাকে? নিরা হাজার বছরের অপেক্ষার ফসল। তাকে দিয়েই হবে চূড়ান্ত সাধনার লাভ। আছে দেবী রেনেনউতেত। সেও এই বিশাল আয়োজনের অন্যতম ব্যক্তি। রেজা তার ভাগ্নিকে খুঁজে পেতে ম রিয়া। জীবন বাজি রেখে এক অসম্ভব কাজে এসে পড়েছে সে। অমিত তার দল নিয়ে নিজের সাধ্যের বাইরে গিয়ে কাজ করে ফেলেছে। তবুও আরো পথ বাকি। যে করেই হোক তাকে সফল হতে হবে। ওদিকে হাসপাতালে তার স্ত্রী প্রসব বেদনায় ছটফট করছে। অনাগত সন্তানের মুখ দেখতে পাবে তো? সামনে যে কঠিন অসম এক যু দ্ধ। গোপন এক স্থানে তৈরি হচ্ছে বেদি। হাজার বছরের অপেক্ষার অবসান হবে। সব উপকরণ তৈরি। শুধু ধাপে ধাপে এগোনোর অপেক্ষা।
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
❝তৃতীয়া - সর্পাবতার❞ লেখক তামজীদ রহমানের লেখা তৃতীয়া ডুওলজির শেষ বই। প্রথম বইয়ের সমাপ্তি থেকেই দ্বিতীয় বইয়ের ঘটনা শুরু। প্রথম বইতে সূচনা দিয়ে এখানে একের পর এক ঘটনা এগিয়েছে। লেখক মিথ, আরবান ফ্যান্টাসির সাথে প্যারানরমাল ঘটনা এবং একইসাথে ড্রামাটিক দৃশ্যের আশ্রয় নিয়েছেন বেশ। পড়তে বেশ ভালো লেগেছে। হাজার বছর আগের অসম্পূর্ণ কাজ সফল করতে যুগে যুগে মানুষ নিষিদ্ধ জ্ঞান চর্চা করে প্রভুত্ব তৈরি করতে চেয়েছে। তারই ধারায় আঁচ এসেছে আমাদের এই দেশে। প্রাচীন মিশরের ফারাওয়ের সাথে দেশী ঘটনার মিশেল দারুণ ছিল। শুরু থেকে ধোঁয়াশা, রহস্য জমতে জমতে শেষে এসে সব ঘটনা একত্র হয়েছে। এই ব্যাপারগুলো দারুণ লেগেছে। উপন্যাসে একদল ম রিয়া মানুষের কর্মকান্ডের ফল যেমন দেখিয়েছেন, সেভাবেই শুভ শক্তি কোনো অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা ছাড়াই শুধু ইচ্ছা শক্তির জোরে কীভাবে এগিয়ে যায় সেই ব্যাপারটাও ফুটিয়ে তুলেছেন। মানব মনের আবেগ এবং একজনের প্রতি তৈরি হওয়া অনুভূতিগুলো দারুণ দেখিয়েছেন। মানুষের মনের ভেতর সুপ্ত এক পশুর বাস। সুযোগ পেলে সেই পশু নিজেকে বিকশিত করে। এই ব্যাপারটা লেখক ভালো-মন্দ উভয় চরিত্র দিয়েই বুঝিয়েছেন। শেষের দিকে এসে রহস্য খুলেছে তেমনিভাবে বেড়েছে কী হয় কী হয় ভাব। শেষটা আমার কাছে একটু ড্রামাটিক মনে হয়েছে। তবে বিরক্ত লাগেনি। নৃশং সতার সাথে যৌথভাবে অবদান রেখেছে ভৌতিক আবহ। তাল মিলিয়ে চলেছে অ্যাকশন দৃশ্য। শেষের কয়েকটা অধ্যায় চুম্বকের মতো টেনেছে। লেখকের বর্ণনাভঙ্গি, লেখায় আটকে রাখার সহজাত ব্যাপার ঐ অংশগুলোতে প্রকটভাবে ধরা দিয়েছে। শেষটা বেদনামিশ্রিত সুন্দর। তবে আমার কাছে অনেকগুলো ব্যাপার অদ্ভুত এবং গল্পের সাথে অমিল লেগেছে। উপন্যাস পড়েও তার জবাব মেলেনি।
** নিরার র ক্তধারা নিয়ে রহস্য খোলাসা হয়নি। ধরে নিতে হবে ওই পালিয়ে যাওয়া চোরের কেউ সে। তবে এটা ধরে নিলে মা'আতের পাত্র বিষয়ক ব্যাপারটা কেমন অসামঞ্জস্য লাগে। সে কেন পালালো বা কী এসব কিছুই বলা নেই। ভবিষ্যদ্বাণী কী করে আসলো সেটাও নেই। ** অতীত তথা সেই পাঁচ হাজার বছর আগের অতীতে আরেকটু গুরুত্ব দেয়া দরকার ছিল। এতে গল্পের ভিত আরো মজবুত হতো। ** গোরস্থানে মিশনের সময় অমিত জানতো না যাকে খুঁজছে তার নাম নুরু। তাও কীভাবে সে নিজে নিজে বলল নুরুর নাম? (একটা প্যারায় নুরু বিষয়ক কথা ছিল। সেটা লেখক বর্নকানর খাতিরে নাম দিয়ে থাকতে পারেন ধরে নিয়েছি) ** শ্বেত জাদু নিয়ে বিস্তারিত থাকলে ভালো হতো। অর্থাৎ যারা একটা সংঘ খারাপ উদ্দেশ্যে চালাচ্ছে তাদের বিপরীত কারো উপস্থিতি থাকতে পারতো। এতে খুব একটা সমস্যা যদিও হয়নি। ** অমিত একজন পুলিশ অফিসার। চাইলেই সে নিজের থানা থেকে অ স্ত্র বাড়তি নিতে পারে। সেজন্য কেন তার রেজার বাড়িতেই যেতে হলো ব্যাপারটা কেমন অদ্ভুত ঠেকেছে। ধরে নিলাম এটা আবেগ থেকে করছে। তবে ঐ চূড়ান্ত সময়ে এমন আবেগ একটু বেশীই নাটকীয়।
চরিত্র:
এই উপন্যাসের সবথেকে শক্তিশালী দিক হতে পারতো চরিত্রগুলোর সঠিক ব্যবহার। প্রথম বইতে যেমন অল্প ধারনা, পরিচিতি ছিল এখানে সেগুলো আরো বিস্তৃত হতে পারত। কয়েকটা চরিত্র ছাড়া বাকিগুলো তেমন জায়গা পায়নি।
নিরা এখানে অনেক বড় একটা উপাদান কিন্তু তাকে খুবই অল্প সময় দেয়া হয়েছে। প্রথম বইয়ের শেষে বলা ছিল ওর নয় বছর বয়সে ও নিজেই আসবে বা রেজা নিজেই তাকে নিয়ে আসবে এমন কিছু। কিন্তু এই বইতে সেই ব্যাপারে কিছুই ছিল না। প্রথম বইয়ের ফ্ল্যাপের ২০১৮ সালের ব্যাপারটা পুরোটাই ভুল এটা পড়ে বুঝতে পেরেছি (ঘটনা ২০০৯ সালের লেখার কথা ছিল তবে)। রেজাকে ভালো লেগেছে। ডুবে যাওয়া একটা মানুষ নিজেকে প্রমাণের জন্য আর দায়িত্বের কাছে সব উজাড় করে দিয়েছে। জুলকার চরিত্রটা স্লেভ জাতীয় লাগলো। তার থেকে আরো ভালো কিছু আশা করেছিলাম। ইকবালকেও চাইলে আরো ব্যবহার করা যেত। একসময় যেমন তাকে মরিয়া লাগছিল হুট করেই দৃশ্যপট থেকে সে হাওয়া হয়ে গেল। জেরিন চরিত্রটা অল্প সময়ের জন্য ভালোই লেগেছিল। তাকে আরো আশা করেছিলাম। এই বইয়ের হিরো অমিত আমার কাছে। লেখক এই চরিত্রের প্রতি সুবিচার করেছেন। পুলিশ অফিসার মানেই একটা নেগেটিভ ভাইব এসে পড়ে উপন্যাসে। তাকে লেখক নিষ্ঠাবান অফিসার বানিয়েছেন যেমন, তেমন মানবিক গুণাবলীর অদ্ভুত সুন্দর মিশেল দিয়েছেন। দায়িত্বের প্রতি সচেতনতা, উপযুক্ত সময় নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়া, আবেগ, অনুভূতি সবকিছু দারুণ ছিল।
প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:
বই দুটোর প্রচ্ছদ শুরুতে একটু ভয় জাগানিয়া লাগলেও পড়ার পরে প্রচ্ছদের রঙের সামঞ্জস্য আর অর্থটা ধরতে পারছি।
এই বইটার সবথেকে দুর্বল দিক প্রুফ রিডিং। মেলার তাড়াহুড়োয় ভুল এরপর সংশোধন করলে শুরুতে যারা পড়লো তাদের যে হ্যাপা হলো সেটা মূল্যহীন? ইংরেজি অংশগু���ো বিজয় কনভার্টের সময় ভেঙে গেছে। একদম সবগুলোই এমন ❛উঁঢ়রথ্ঘদ, ষগতডলঃঢথ❜ জাতীয় রয়ে গেছে। এখন এর অর্থ জানতে আমি কই যাবো? এই অংশে দুটো বইয়ের নামও ছিল। যে অমুক লেখকের ❛ষ্উঢৃঃঢথথঘধখ❜ বইতে লেখা এটা। এই বই কই পাবো আমি! মুদ্রণ প্রমাদ ছিল। বানানেও অল্পস্বল্প ভুল চোখে পড়েছিল।
❛আলো-আঁধারের মাঝেই আমাদের জীবন। সত্যের জয় সবসময় হয়ে আসছে। হবে সামনেও। তবে এজন্য ঝড়ে যায় অনেক প্রাণ। এভাবেই সভ্যতার ভিত হয়ে এসেছে।❜
তৃতীয়া ডুওলজি-র দ্বিতীয় খণ্ড একেবারে শ্বাসরুদ্ধকর অভিজ্ঞতা। প্রথম বই যেখানে চরিত্র ও প্রেক্ষাপট গড়ে তোলে, সেখানে দ্বিতীয় বই কাহিনিকে বিস্ফোরণের মতো এগিয়ে নেয়। রহস্য, অ্যাকশন ও দার্শনিক প্রশ্ন—সব মিলিয়ে এই খণ্ডটিকে বলা যায় সিরিজের হৃদয়। লেখক দক্ষতার সঙ্গে প্রাচীন মিথোলজি, আধুনিক ষড়যন্ত্র এবং মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্বকে জুড়ে দিয়েছেন। প্রতিটি অধ্যায় উত্তেজনা বাড়ায়, আর শেষাংশ এতটাই শক্তিশালী যে বই শেষ হওয়ার পরও পাঠকের মনে রেশ থেকে যায়। দ্বিতীয় খণ্ড কেবল প্রথমটির প্রত্যাশা পূরণই করে না—বরং তা অতিক্রম করে। বাংলা কল্পবিজ্ঞান-থ্রিলারের ক্ষেত্রে এটি নিঃসন্দেহে এক মাইলফলক।
চমৎকার একটি বই। দুই খণ্ডের বই মিলিয়েই গল্পটা এগিয়েছে। প্রথম খণ্ডটি কিছুটা ধীর গতির। কিন্তু দ্বিতীয় খণ্ডটি একদম টানটান থ্রিলার আর ফাস্ট পেস। দ্বিতীয় খণ্ডের আবার শেষের অর্ধাংশকে এক কথায় বলা যায় 'অ্যাবসোলিউট সিনেমা' । আসলেই মনে হচ্ছিল কোনো মুভি দেখছি। গল্পের নাটকীয়তা, অনাকাঙ্ক্ষিত মোড় এবং সবশেষে সমাপ্তি—সব মিলিয়ে বেশ ভালো লেগেছে। অনেক দিন পর আনপ্রেডিক্টেবল গল্পের একটা বই পড়লাম। Highly recommended!
i’m honestly impressed by the boldness of releasing a book that clearly bypassed the 'editing' and 'formatting' stages of production. It’s a bold avant garde choice to let the typos do the heavy lifting. My moneybag, however, isn't feeling quite as experimental.
📚 তৃতীয়া ডুয়োলজি — এক শ্বাসরুদ্ধকর থ্রিলার অভিযান বাংলাদেশি লেখকের কলমে রচিত “তৃতীয়া ডুয়োলজি” নিঃসন্দেহে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কল্পবিজ্ঞান ও থ্রিলার সাহিত্যকর্ম। এই ডুয়োলজির দুই খণ্ড একত্রে গড়ে তুলেছে এমন এক সাহিত্যিক ভুবন, যেখানে ইজিপ্টীয় মিথোলজি ও আধুনিক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট এক আশ্চর্যরকম সামঞ্জস্যে মিলেমিশে গেছে। এটি কেবল একটি কাহিনি নয় — বরং এক নিঃশ্বাস-আটকে রাখা পাঠ-অভিজ্ঞতা।
📖 গল্পের নির্মাণ ও গতি: প্রথম খণ্ডে গল্পের পটভূমি সুচিন্তিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। চরিত্রগুলোর পরিচিতি, তাদের মানসিক জটিলতা, এবং প্লটের সূক্ষ্ম সূচনা — সবই এক ধৈর্যশীল ছন্দে এগিয়েছে।
দ্বিতীয় খণ্ডে কাহিনির গতি হঠাৎ করেই নাটকীয়ভাবে বাড়ে। একের পর এক টানটান মিশন, অপ্রত্যাশিত প্লট টুইস্ট আর শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তে ঠাসা — প্রতিটি অধ্যায় যেন পাঠককে বইটি হাতছাড়া করতে না দিয়ে পরবর্তী পৃষ্ঠার দিকে টেনে নেয়।
🎯 গল্পের বিশেষত্ব: 🔄 Four Act Structure: গল্পটি রচিত হয়েছে Four Act structure-এর ভিত্তিতে, যা কাহিনির গভীরতা ও নাটকীয়তা বহুগুণে বাড়িয়ে তুলেছে। এখানে কোনো ‘plot armor’ নেই — অর্থাৎ চরিত্রগুলোর ভাগ্য একেবারেই অনিশ্চিত। কে কখন মারা যাবে, সেটা আগাম বোঝার উপায় নেই। এই অনিশ্চয়তা গল্পে উত্তেজনা ও উদ্বেগ দুটোই অনবদ্যভাবে ধরে রাখে।
🌍 ইজিপ্টীয় মিথোলজি ও বাংলাদেশি প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশি লেখক যেভাবে প্রাচীন ইজিপ্টীয় পুরাণকে আধুনিক বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার সঙ্গে গাঁথতে পেরেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বিষয়বস্তুর মৌলিকতা ও কল্পনার বিস্তার পাঠককে মোহিত করে রাখে।
📚 পাঠ অভিজ্ঞতা: লেখার ভাষা সহজ, সাবলীল ও বর্ণনামূলক। দৃশ্যপট বর্ণনায় লেখকের মুন্সিয়ানা স্পষ্ট — চরিত্র ও ঘটনাপ্রবাহ যেন চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠে। ব্যক্তিগতভাবে বলতে গেলে, বইটির টান এতটাই ছিল যে ডুয়োলজির দুই খণ্ড একটানা দেড় দিনে শেষ করতে বাধ্য হয়েছি!
🔚 চূড়ান্ত মন্তব্য ও ক্লাইম্যাক্স: গল্পের ক্লাইম্যাক্স ছিল অতুলনীয় — আবেগ, উত্তেজনা আর আশ্চর্যের দারুণ মিশেল। শেষ পর্যন্ত এসে গল্পটি এক গভীর প্রভাব ফেলে যায়।
✅ কাদের জন্য এই বই? যারা কল্পকাহিনি, থ্রিলার, মিথোলজি এবং সংস্কৃতির মিশ্রণ ভালোবাসেন — তাদের জন্য "তৃতীয়া ডুয়োলজি" একদম পারফেক্ট। বিশেষ করে যারা মিথোলজিকে আধুনিক সেটিংয়ে কল্পনা করতে ভালোবাসেন, এই বইটি তাদের পড়তেই হবে।