Jump to ratings and reviews
Rate this book

মাগুর মাছের ঝোল

Rate this book
একটি নতুন পৃথিবী, একজন অধীশ্বর। দুইটি বই: জীবন এবং স্বতন্ত্র পুস্তক।
নিনাদযন্ত্রের সুরে বিষণ্ণতাকে খুঁজতে যায় না কেউ, আব্রুডিয়ামের অর্ধগোলাকার পর্দায় দৃশ্যমান আকাশের রঙ দেখে অনুভব করে না প্রশান্তি। প্রসূন প্রাঙ্গন কিংবা বিহঙ্গবৃত্তে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পেয়েও কারও মনে জাগে না কৌতূহল।
এখানে চাইলেই শোনা যায় মরুভূমির বুকে আছড়ে পড়া বৃষ্টির প্রথম ফোটার শব্দ। ঘরে বসে উপভোগ করা যায় যেকোন খাবারের সিন্থেটিক স্বাদ।
তবু কেন অস্তিত্বের সংকটে ভুগে রউফের খেতে ইচ্ছে করে প্রাচীন পৃথিবীর মাগুর মাছের ঝোল?

112 pages, Hardcover

First published February 21, 2025

4 people are currently reading
117 people want to read

About the author

Wasee Ahmed

57 books802 followers
মৌলিক গ্রন্থ:
* আঁধারের গহীন নিরুদ্দেশে (উপন্যাস)
* যে বাক্য অশ্রুত অন্ধকার (গল্প সংকলন)
* হান্নান বোতলে পরী আটকে রাখে (উপন্যাস)
* মৃতদের স্মরণে সমবেত প্রার্থনা (গল্প সংকলন)
* আখতারুজ্জামান একটু চা খেতে চান (উপন্যাস)
* কলেজ খুইলাছে (উপন্যাস)
* মাগুর মাছের ঝোল (উপন্যাস)

অনুবাদ:
* দ্য স্পাই (পাওলো কোয়েলহো)
* হিপ্পি (পাওলো কোয়েলহো)
* দি আর্চার (পাওলো কোয়েলহো)
* দ্য জুডাস স্ট্রেইন (জেমস রলিন্স)
* কোরালাইন (নিল গেইম্যান)
* আ মনস্টার কলস (প্যাট্রিক নেস)
* উই হ্যাভ অলওয়েজ লিভড ইন দ্য ক্যাসেল (শার্লি জ্যাকসন)
* ব্লাড অন স্নো (জো নেসবো)
* রামেসিস: দ্য ব্যাটল অফ কাদেশ (ক্রিশ্চিয়ান জাক)
* মিশর পুরাণ (রজার ল্যান্সেলিন গ্রিন)
* নর্স মিথলজি (নিল গেইম্যান)
* আফটার ডার্ক (হারুকি মুরাকামি)
* অডিশন (রিউ মুরাকামি)
* দ্য গার্ল অন দ্য ফ্রিজ এন্ড আদার স্টোরিজ (এটগার কেরেট)
* সী প্রেয়ার (খালেদ হোসাইনি)
* টেন্ডার ইজ দ্য ফ্লেশ (আগুস্তিনা বাস্তারিকা)
* আয়নাদোজখ ও অন্যান্য
* অভ মাইস এন্ড মেন (জন স্টাইনবেক)
* ডেইজ অ্যাট দ্য তোরুনকা কফিশপ (সাতোশি ইয়াগিসাওয়া)

সংকলন:
* প্রহেলিকা (অরণ্যমন প্রকাশনী, কলকাতা)
* অতীন্দ্রিয় (আফসার ব্রাদার্স)
* অলৌকিক (আফসার ব্রাদার্স)
* ছায়াপথ (আফসার ব্রাদার্স)
* প্যাপিরাসে পুরাণ (জাগৃতি)
* প্রতিবাস্তব: স্বপ্ন ও স্মৃতি (ঢাকা কমিক্স)
* থ্রিল এক্সপ্রেস (সতীর্থ)
* রহস্য রোমাঞ্চ- থ্রিলার ও অতিপ্রাকৃত গল্প সংকলন (পুঁথিপুরাণ)
* সবুজ বসন্ত (ফেরিওয়ালা, কলকাতা)
* কার্নিভাল অফ অ্যানাইহিলেশন (বুক স্ট্রিট)
* ইনিভিজিবল প্ল্যানেটস (আফসার ব্রাদার্স)
* ব্রোকেন স্টার (আফসার ব্রাদার্স)
* হরর-থ্রিলার গল্প সংকলন (প্রতিচ্ছবি)
* দ্য উইটনেস ফর দ্য প্রসেকিউশন এন্ড আদার স্টোরিজ - আগাথা ক্রিস্টি (আদী প্রকাশন)
* দে ডু ইট উইথ মিররস - আগাথা ক্রিস্টি (আদী প্রকাশন)
* শার্লক ভার্সেস পোয়ারো (সেবা প্রকাশনী)

সম্পাদনা:
* গল্পতরু (অবসর প্রকাশনা সংস্থা)
* গল্পরথ (অবসর প্রকাশনা সংস্থা)
* নিশুতি ১,২,৩,৪ ৫,৬ (আদী প্রকাশন)
* এডগার অ্যালান পো: আতঙ্কের অলীক আখ্যান (অবসর প্রকাশনা সংস্থা)
* ১: রক্তে লেখা বিপ্লব (বুক স্ট্রিট পাবলিশিং হাউজ)
* অভিযাত্রিক - কিশোর গল্প সংকলন (আদী প্রকাশন)

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
14 (12%)
4 stars
26 (23%)
3 stars
55 (50%)
2 stars
14 (12%)
1 star
1 (<1%)
Displaying 1 - 30 of 38 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,709 reviews468 followers
March 3, 2025
dystopian এর বাংলায়ন করা হয়েছে "কল্পনরক" বা "দুঃস্বপ্নলোক।" দুইটা পরিভাষাই আমার পছন্দের। যারা নিয়মিত  "কল্পনরক"ভিত্তিক সাইফাই পড়েন তাদের কাছে "মাগুর মাছের ঝোল" এর কাহিনি নতুন মনে হবে না। তবে যথাস্থানে কবিতার প্রয়োগ, ভাষিক সৌন্দর্য, চাপা বিষণ্ণতা, অসহায়ত্বের বোধ ও পরিণতির ক্ষেত্রে প্রথাগত পথ পরিহার করার জন্য বইটা পড়তে ভালো লেগেছে।
Profile Image for Shuk Pakhi.
527 reviews339 followers
March 1, 2025
কলেজে পড়ার সময়ে ম্যাট্রিক্স সিনেমাটা দেখে অস্তিত্বের সংকটে পড়ে গিয়েছিলাম। মাথামুথা কিছুদিন সিরিয়াস ধরনের আউলায় গেছিল। সুতরাং অস্তিত্বের সংকট কি জিনিস আমি তা হাড়ে হাড়ে জানি।
মাগুর মাছের ঝোল বইটাও অস্তিত্বের সংকটের। সাই-ফাই ঘরানার বই যারা বেশি বেশি পড়েছেন তাদের কাছে হয়তো কাহিনীর মূল থিম নতুন লাগবে না। কিন্তু ওয়াসি আহমেদের মুন্সিয়ানা এখানেই যে তিনি এমনভাবে গল্প বলেছেন পাঠক আগ্রহ নিয়ে বইটা পড়তে থাকে।

বিগ ব্রাদারের মতন একজন অধীশ্বর আছেন যিনি সবার মঙ্গলের জন্য মানুষকে একটা সিস্টেমের মধ্যে আটকে রেখেছেন। সিস্টেমের বাইরে চিন্তা করলেই মানুষ হারিয়ে যায়। হারানো মানুষগুলো কোথায় যায়?
অন্যদিকে বইটি পাঠকের সামনে তুলে ধরে কিছু দার্শনিক প্রশ্ন। স্বাধীনতা কি! মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হলে আর কি পাওয়ার থাকে! যা চায় তাই পেলে জীবন আসলে কেমন হয়!

অধীশ্বরের বাণীগুলোতে বেস মজা পেয়েছি। ভাবনার স্বাধীনতা ও উদারতা থাকলে এসব নিয়ে আলাপ দেয়া যেতো। আপাতত চুপ থাকি। যারা বইটি পড়বেন তারা নিজেরাই ভেবে নেবেন।
সব মিলিয়ে বইটি পড়তে ভালো লেগেছে। টানটান উত্তেজনার কাহিনী না হলেও রিল্যাক্স মুডে পড়তে আরাম পেয়েছি। বইয়ের প্রচ্ছদ, বাঁধাই, কাগজ দারুন! দিনদিন আফসার ব্রাদার্স এর প্রডাকশনের ফ্যান হয়ে যাচ্ছি।
ও আরেকটা কথা প্রতিটি অধ্যায়ের নাম যেভাবে দেওয়া হয়েছে ব্যাপারটা অসামমম লেগেছে।
Profile Image for Nobonita Roy.
15 reviews3 followers
March 8, 2025
প্রেমিস পরিচিত হলেও, গল্পটা বেশ ভাবাতে বাধ্য করে।

লেখার স্টাইল একটা শান্ত স্রোতের মতো। লেখক প্রতিটি লাইনে নিজের যত্ন রেখেছেন, আর ভাষাটা সহজ কিন্তু গভীর।

পিএস১: চ্যাপ্টারের নাম আর সংখ্যাগুলোর সাথে ইলাস্ট্রেশনগুলো একেবারে গল্পের সাথে মিলে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

পিএস২: বইটার ফিজিক্যাল কোয়ালিটিও দারুণ—কভার থেকে শুরু করে পৃষ্ঠাগুলি পর্যন্ত। পাবলিশার এই বইটার জন্য সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।
Profile Image for Tasfia Promy .
117 reviews37 followers
May 6, 2025
২০২৫ রিভিউ
বিষয়: বই
রিভিউ: ৩৬
বই: মাগুর মাছের ঝোল
লেখক: ওয়াসি আহমেদ
প্রকাশনী: আফসার ব্রাদার্স
প্রচ্ছদ: পরাগ ওয়াহিদ
জনরা: সায়েন্স ফিকশন

গরম ভাত, মাগুর মাছ, নতুন আলু আর টমেটোর ঝোল। এই অমৃত পছন্দ করবে না, এমন মানুষ পাওয়া মুশকিল। সে আজ এই বড় বেলা হোক কিংবা ছোটবেলা।
পথ্য কিংবা সুস্বাদু খাবার হিসেবে মাগুর মাছের ঝোলের যেমন তুলনা নেই, ঠিক তেমন এই ছোট্ট বইটা।

অল্প কথায় কী দুর্দান্ত ভাবে লেখক অতীত ভবিষ্যতের পৃথিবীকে সাজিয়েছেন!
রউফ, ডিম্বাকার এক ঘরে তার জীবন আবর্তিত হয়। অতীত স্মৃতি তার নেই, কেউ নেই, আহারের স্বাদ সে পায় কোন যন্ত্রে। ঠিক যেন ডোরেমনের গ্যাজেট। ব্রকলি খেলে মুরগীর মাংসের স্বাদ।

পৃথিবী দখল করে আছে এক অধীশ্বর। রউফের মত হাজারো কিংবা শত কিংবা লক্ষ মানুষের জন্য আছে মাত্র দুটো বই। এক অধীশ্বরকে নিয়ে লেখা আর দুই স্বতন্ত্র। আমার বই আপনার মত হবে না। এই জগতে কোন মায়া-মোহ নেই, জৈবিক চাহিদা নেই, ক্ষুতপিপাসা নেই। সমস্ত কিছুই নিয়ন্ত্রিত।

এক দিন, রউফের সাথে বন্ধুত্ব হয় ওরই মত কিছু মানুষের। যারা স্ব স্ব পেশায় জড়িত। এদের আড্ডা জমে নানা জায়গায়। অনেক তথ্যের আদান-প্রদান ঘটে।

একদিন রউফের জীবনে আসে জ্যান্ত মাগুর মাছের বোল আর নিষিদ্ধ বস্তু, তার মায়ের মস্তিষ্ক। সেদিনের পর থেকে বদলে যেতে থাকে তার সমস্ত চেনা জগত।

পেশায় কবি এই রউফ ধীরে ধীরে যে সত্যের মুখোমুখি হয়, ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলে অনেক কিছুই। যান্তব আর যান্ত্রিকতার এই বেড়াজাল থেকে সে মুক্ত হবে? এর রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব? কেননা লক্ষ চোখ আর অধীশ্বর নজরে রেখেছে প্রতিটি……

স্কুইড গেমসের কথা আজকাল মুখে মুখে। না এই বইয়ের সাথে তার কোন যোগই নেই, তবুও সেই মাস্ক ম্যানের মত এই দুনিয়ার বাসিন্দাদের নজরবন্দী করে রেখেছে কেউ।

সায়েন্স ফিকশন বলা চলে৷ কিন্ত যে অদ্ভুত মন খারাপের অনুভূতি লেখক দিয়ে গেলেন এর নাম জানিনা। মা-তো মা। মায়ের সেই জারে আবদ্ধ মস্তিষ্ক ঠিকই সন্তানদের অনুভূতি অনুভব করেছে। মায়ের সেই অংশ না পেলে হয়তো চক্রাকারে এক ঘেয়ে হত রউফের জীবন।

দু-একটা বানান ভুল ছিল, আর কোন সমস্যা চোখে পড়েনি।
প্রচ্ছদের জন্য পরাগ ভাই কে 🫡 স্যালুট। প্রতি অধ্যায়ের ছবিগুলো আর নামগুলো অন্যরকম সুন্দর।

প্রত্যেক অধ্যায়ের নাম, কবিতার পঙক্তি সব এত সুন্দর ছিল, যেটা ব্যাখ্যা সম্ভব না। অসম্ভব মন খারাপ করে দিলেও, একটা ভালো বই পড়লাম। ছোট্ট বই, অনেক বার্তা।
সব কিছুর শেষ কথা, যতই যান্ত্রিক হই আমরা, যতই যন্ত্র আমাদের নিয়ন্ত্রণ করুক, মায়ের ভালোবাসা আর মায়ের হাতের মাগুর মাছের ঝোল কেউ দখল করতে পারবেনা।

জানিনা, কী অনুভূতি জানালাম, তবে এবারের বইমেলার বইগুলো আসলেই এত সুন্দর!

বি: দ্র: লেখকেরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, পাঠকদের কাঁদিয়ে,মন খারাপ করিয়ে ছাড়বেন?
Profile Image for Mahbub Mayukh Rishad.
57 reviews13 followers
February 28, 2025
মাগুর মাছের ঝোল পড়ে শেষ করলাম এক বসাতেই। যেই ডিসটোপিয়ান সায়েন্স ফিকশন গল্পটা লেখক বলতে চেয়েছেন, সেই ডিসটোপিয়ান গল্পটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু গল্পের সাথে ওয়াসির ধীরস্থির ভাষা, কবিতার ব্যবহার, গানের ব্যবহার আলাদা করে তুলেছে এই ধাঁচের বই থেকে। সাথে মানুষের মুক্তি আসলে কোথায়? এই ফিলোসফিক্যাল প্রশ্নের যে উত্তর ওয়াসি খুঁজেছেন, তা আসলে এই কলেবরের (১১২ পৃষ্ঠা) উপন্যাসের জন্য ছোট বটে। একটু হুড়োতাড়ায় শেষ হলো। সম্ভবত ওয়াসি নিজের লেখা কবিতাও রেখেছেন। সেগুলো বেশ ছিল।
Profile Image for শুভাগত দীপ.
292 reviews42 followers
March 1, 2026
নতুন পৃথিবী। প্রাচীন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেছে আগেই। এখনকার এই পৃথিবীর অধিবাসীরা বাস করে ডিম্বাকৃতির একেকটা ঘরে। তাদের মাথার ওপর আকাশের রূপে ভাসে আব্রুডিয়াম। সেখানে খেলা করে নানা উজ্জ্বল রঙ। নতুন পৃথিবীর মানুষদের মাঝে কোন অসুখ-বিসুখ নেই। নেই কোন দুঃখ-কষ্ট। তারা বাজার-সদাই করে সওদামার্ট থেকে। তাদেরকে সিন্থেটিক খাবারের স্বাদ দেয়ার জন্য আছে ডিমিটার নামের এক রোবোটিক ডিভাইস। প্রতিদিন বিকেলে এখানকার মানুষেরা এক ঘন্টার জন্য বেড়ানোর সুযোগ পায়। সেই সময়টুক��তে টেলিপোর্টেশনের মাধ্যমে তারা নতুন পৃথিবীর যেকোন জায়গায় ভ্রমণ করতে পারে। এই জায়গাটাতে কৌতূহল নিষিদ্ধ। এখানে দুটো বইয়ে লেখা নিয়ম-কানুনের ভিত্তিতে মানুষ জীবনযাপন করে। এক, জীবন-পুস্তক আর দুই, স্বতন্ত্র-পুস্তক। নতুন পৃথিবীর এই সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করে শ্বরকর্প নামের একটা প্রতিষ্ঠান। আর এই শ্বরকর্পের মূলে আছেন পরম শক্তিধর এক সত্ত্বা, যাঁকে সবাই অধীশ্বর নামে ডাকে। নিশ্চয়ই অধীশ্বর সকলের মঙ্গল চান।


এই নতুন পৃথিবীর বাসিন্দাদের একজন রউফ। সে এখানকার কাব্য মন্ত্রণালয়ের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। তার কাজ অধীশ্বরের স্তব-স্তুতি করে কাব্য রচনা করা। রউফের দিন ভালোই কেটে যাচ্ছিলো। একদিন তার সাথে পরিচয় হয় যাঈমার। আর যাঈমার মাধ্যমে সে পরিচিত হয় কাইশারের সাথে। এভাবে ধীরে ধীরে রউফ পরিচিত হতে থাকে নতুন পৃথিবীর এমন কিছু অধিবাসীদের সাথে, যাদের ভেতরে রয়েছে নানা বিষয় নিয়ে প্রচুর কৌতূহল। বিভিন্ন সময় এই কৌতূহলী মানুষদের সাথে নানা জায়গায় ঘুরতে ঘুর‍তে আর নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে করতে রউফের মনেও উদয় হতে থাকে অনেক প্রশ্ন। সংবিৎজার নামক এক যন্ত্র তাকে সন্ধান দেয় তার হারিয়ে যাওয়া মায়ের একাংশের৷ আর তারপর থেকেই রউফের খেতে ইচ্ছা করে প্রাচীন পৃথিবীর মাগুর মাছের ঝোল। তার মায়ের হাতে রান্না করা মাগুর মাছের ঝোল।


ওয়াসি আহমেদের ডিস্টোপিয়ান সাইফাই জনরার বই 'মাগুর মাছের ঝোল'-এর প্লট একেবারে ইউনিক না হলেও বইটা আমার ভেতরে ভালো লাগা আর হতাশার এক অদ্ভুত অনুভূতি রেখে গেছে। এই উপন্যাসে লেখক এমন এক পৃথিবীর গল্প বলেছেন যেখানে কোন দুঃখ-কষ্ট বা জরা-মৃত্যু নেই। নেই কোন অভাব-অনটন। কিন্তু তারপরও কেমন একটা অদ্ভুত বিষাদে মোড়ানো যেন চারপাশের সবকিছু। প্রবল প্রতাপশালী অধীশ্বরের কথার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই কারো। সৃষ্টিশীলতার এমন শিকলবন্দী অবস্থা দেখে মাঝেমাঝেই চাপা এক ধরণের অস্বস্তির শিকার হয়েছি বইটা পড়তে গিয়ে। অধীশ্বর নামক সত্ত্বার বাধ্যতামূলক একনিষ্ঠ উপাসনা আর নতুন পৃথিবীর সব মেকি সৌন্দর্যের বর্ণনার ব্যাপারগুলো একরকম ক্রিপি লেগেছে আমার কাছে। তবে ভালো লেগেছে রক্ষীবট, সংবিৎজার, আব্রুডিয়াম, মাছোরিয়াম, সওদামার্ট আর নিনাদযন্ত্রের মতো টার্মগুলো। এগুলো 'মাগুর মাছের ঝোল'-এর কাহিনিকে আরো কিছুটা ইন্টারেস্টিং করে তুলেছে।


জীবন-পুস্তক আর স্বতন্ত্র-পুস্তকের কন্সেপ্টটাও চমৎকার লেগেছে। অজানাকে জানার প্রতি মানুষের সহজাত কৌতূহল বেশ দারুণভাবে ফুটে উঠেছে 'মাগুর মাছের ঝোল'-এ। একটা সাধারণ ডিস্টোপিয়ান সাইফাই-এর চেয়েও এই উপন্যাস খানিকটা আলাদা হয়ে উঠেছে এর কাহিনির অদ্ভুত বিষাদময় আবহের কারণে। কেমন যেন একটা মন খারাপ করা অনুভূতি বারবার চেপে ধরেছে আমাকে। মাঝেমাঝে সেটা উপন্যাসের শেষটা জানার স্বাভাবিক কৌতূহলকেও ছাপিয়ে গেছে বলে মনে হয়েছে আমার। সবচেয়ে বেশি খারাপ লেগেছে রউফ আর তার মায়ের জন্য। মায়ের ভালোবাসা আসলেই নতুন বা পুরাতন পৃথিবী মানে না। মা মা-ই হয়। 'মাগুর মাছের ঝোল' উপন্যাসে কবিতা, সঙ্গীত আর শিল্পকলা নিয়ে ওয়াসি আহমেদের ডিস্টোপিয়ান ধাঁচের আলোচনার জায়গাগুলো বেশ উপভোগ করেছি। প্রতিটা অধ্যায়ের শুরুতে সংযুক্ত করা ইলাস্ট্রেশন আর অধ্যায়ের নামগুলো ইউনিক লেগেছে। শুধু মনমতো হয়নি শেষটা। এই উপন্যাসের শেষটা কিছুটা বৈচিত্র্যময় হবে বলে আশা করেছিলাম। সেটা হয়নি।


বইটার চমৎকার প্রচ্ছদটা করেছেন পরাগ ওয়াহিদ। এর প্রোডাকশনও ভালো হয়েছে। ভিন্ন ধাঁচের ডিস্টোপিয়ান সাইফাই পড়তে চাইলে 'মাগুর মাছের ঝোল' ট্রাই করতে পারেন।


ব্যক্তিগত রেটিং: ৩.৫/৫


বই: মাগুর মাছের ঝোল 

লেখক: ওয়াসি আহমেদ 

প্রকাশক: আফসার ব্রাদার্স 

প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

ঘরানা: ডিস্টোপিয়ান সাইফাই 

প্রচ্ছদ: পরাগ ওয়াহিদ 

পৃষ্ঠা: ১১২

মুদ্রিত মূল্য : ২৮০ টাকা

ফরম্যাট: হার্ডকভার


(০১ মার্চ, ২০২৬, বিকাল ৫ টা ৪৯ মিনিট; নাটোর)
Profile Image for Mahrufa Mery.
210 reviews114 followers
March 29, 2025

বইঃ মাগুর মাছের ঝোল
লেখকঃ ওয়াসি আহমেদ
প্রকাশনা সংস্থাঃ আফসার ব্রাদার্স
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১১২
প্রথম প্রকাশঃ একুশে বইমেলা,২০২৫
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৮০ টাকা
প্রচ্ছদঃ পরাগ ওয়াহিদ

ওয়াসি আহমেদের লেখা এই প্রথম পড়লাম আমি। তার লেখা হান্নান বোতলে পরী আটকে রাখে বইটা আমার কাছে আছে কিন্তু পড়া হয়নি এখনো। কেউ দারুণ একটা ডিসটোপিয়ান সাই-ফাই এর সঙ্গে ফিলোসফি মেশানো গল্প পড়তে পছন্দ করে তাহলে মাগুর মাছের ঝোল তার পড়া উচিত। গল্পের বেসিকটা অনেকটা 1984 টাইপের, যেখানে মানুষের ওপর একটা শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দিয়ে দিয়েছে একজন অধীশ্বর, শুরুতে জানা জায় না কে সেই অধীশ্বর যে কিনা মানুষের জন্য নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে। কাহিনী শুরু একটা ভবিষ্যৎ নতুন দুনিয়ায়, যেখানে মানুষেরা একটা নির্দিষ্ট পডের মধ্যে আটকে জীবন যাপন করে অধিশ্বরের বেঁধে দেয়া নিয়মে, যেখানে তারা পুরনো পৃথিবীর স্মৃতি নিয়ে কনফিউজড হয়ে বেঁচে থাকে। নির্দিষ্ট গন্ডির বাইরে যাওয়ার অনুমতি নেই, সব কিছু একটা সিস্টেমের মধ্যে বাঁধা।
কি শুনতে সবকিছু খারাপ লাগছে? এই সবের মাঝেও গল্প টেনে নিয়ে যাবার মাঝে একটা ফিল-গুড ভাইব আছে, আর এখানেই মজা। মেইন ক্যারেক্টার হুট করেই তার মায়ের হাতের মাগুর মাছের ঝোল রান্নার স্মৃতিতে কনফিউজড হয়ে যায় এপর কৌতুহলি, কৌতুহল না থাকলে আর মানবজন্ম কি? আর এই কৌতুহল জিনিসটাই তাকে ধীরে ধীরে নিয়ে যায় একটা বড় অভিযানের দিকে— সে জানতে চায় নতুন দুনিয়ার আসল সত্য।
একটা ভাল দিক হলো বইটার ভাষাচয়ন। এখানে ফিলোসফিকাল পোয়েট্রি এত সুন্দরভাবে এসেছে যে পড়তে পড়তে একটা মিউজিক্যাল ফিল আসে। আছে কাব্য সুর নিয়ে রঙ নিয়ে আলোচনা। এটা শুধু একটা সাই-ফাই সাধারন থ্রিলার না, বরং একটা গভীরভাবে ভাবানোর মতো গল্প। অসাধারন বলবেন কিনা সেটা পাঠকের ব্যাপার। আমার কথায় - দারুণ একটা বই। সুন্দর ভূমিকা করে দেয়ার ভঙ্গিতে আটটি অধ্যায়ে ভাগ করে দেয়া ছোট্ট বই, কিন্তু ভাল। পড়ার জন্য রেকমেন্ডেড।
ব্যাক্তিগত রেটিংঃ ৩/৫
Profile Image for Samsudduha Rifath.
443 reviews23 followers
January 28, 2026
যারা সাই-ফাই পড়েন সবসময় তাদের কাছে গল্পটা নতুন মনে হবে না। তবে ছোট্ট পরিসরে কিছু জিনিস ইউনিক থাকায় উপভোগ্য ছিল।
Profile Image for সুমাইয়া সুমি.
248 reviews5 followers
June 23, 2025
পারসোনাল রেটিংসঃ 2.5/5
বইয়ের নামটা বড় অদ্ভুত। আর এজন্যই নজর কেড়েছিলো। সেই সঙ্গে যখন জানলাম যে এটা সায়েন্স ফিকশন তখন উইশলিস্টে রাখতে দ্বিধা করিনি।

এ বছর অনেক লেখকদের লেখা প্রথমবারের মতো পড়েছি। কমন বিষয় যেটা সবাই অনেক সাবলীল ভাবে গল্প বলেন। একটানা পড়ে ফেলা যায়। এই বইও তার ব্যতিক্রম না।

এবার আসি গল্পের কথায়। সাই-ফাইয়ের হিসাবে প্লট নতুন কিছু না। মানুষের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী���াবে সব দখল করে নিয়ে মানুষকে এক নিয়মের ভেতরে পরিচালনা করে যায়। আর এই নিয়মের ভেতরেই কয়েকজন নিয়ম ভাঙার জন্য প্রত্যয়ী হয়ে পড়ে। আমরা যতই বলি AI সব দখল করে নিচ্ছে আসলেও কি একেবারে সম্ভব সৃষ্টিশীলতা দখল করে নেয়া?

সাই-ফাইয়ের সাথে প্রাচীন পৃথিবীর কবিতা ও দর্শনের মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। যদিও সব মিলায়ে আমার অত জমে নাই। অধ্যায় গুলোর নাম কবিতার লাইন দিয়ে করার ব্যাপারটা ভালো ছিলো।

মাগুর মাছের ঝোল খাবার হিসাবে খেতে যতটা দারুণ বই হিসাবে ততটা দারুণ লাগলো না।
Profile Image for Raihan Ferdous  Bappy.
260 reviews16 followers
October 9, 2025
অস্তিত্ব নিয়েই যদি সংকটে পড়তে হয়? কেমন লাগবে? কি করবেন আপনি?

উপরের প্রশ্নগুলা মাথায় আসবে 'মাগুর মাছের ঝোল' পড়তে গিয়ে। রউফ নামের এক ব্যক্তি, যার জীবন আবর্তিত হচ্ছে ডিম্বাকার এক ঘরে। না আছে অতীতের স্মৃতি, না আছে এই নিয়ে তার মাথাব্যাথা। একটা নতুন পৃথিবীর সদস্য সে। যা দখল করে আছে এক অধীশ্বর। তিনি সবার জন্য দিয়েছেন দুটি করে বই। জীবন এবং স্বতন্ত্র পুস্তক। স্বতন্ত্র পুস্তক সবার আপন আপন৷ অর্থাৎ, একজনেরটার সাথে আরেকজনের বইয়ের মিল নাই। কেউ কারো পরিচয় জানে না। নিয়মে বাঁধা এক অদ্ভুত দুনিয়া চলছে। তার সাথে পরিচয় ঘটে কয়েকজনের। যা তাকে নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য করে। তবু কেনো অস্তিত্বের এই সংকটপূর্ণ অবস্থায় রউফের খেতে ইচ্ছে করছে প্রাচীন পৃথিবীর মাগুর মাছের ঝোল? জানতে হলে পড়ে ফেলতে হবে বইটা।

বইটা পড়তে গিয়ে বারবার মনে আসছিলো জর্জ অরওয়েলের '1984' বইয়ের কথা। কেনো আসছিলো সেটা আপনিও পড়লে বুঝতে পারবেন। সেরকমই কিছুটা ভাইব আছে। তবে, ঐটার মতো আশা নিয়ে পড়তে যায়েন না। তাহলে হতাশ হবেন।

ওয়াসি আহমেদ ভাইয়ের লেখনী সহজ। তাই পড়তে আরাম লাগে। এই বইটাও তেমনই। তবে, নতুনত্ব নাই। আর, কবিতা ও দর্শনের মেলবন্ধনটা আমার কাছে খুব একটা জমলো বলে মনে হলো না। একটু খাপছাড়া গোছের লেগেছে বলা যায়।

সবমিলিয়ে বলবো, এভারেজ লেগেছে। একবার পড়ার জন্যে ঠিক আছে। তবে, রেশ থেকে যাবার মতো কিছু না।
Profile Image for তান জীম.
Author 5 books290 followers
October 14, 2025
খুব বেশি ভালোও লাগে নাই, খারাপও লাগে নাই। মাঝামাঝি।
Profile Image for Saima  Taher  Shovon.
531 reviews208 followers
February 27, 2025
3.5
ধরো পৃথিবীটা ধ্বংস হয়ে গেছে যে সকল মানুষজন ছিল তারা নাই হয়ে গেছে, বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধরা,দূর্বলেরা । আবার পৃথিবী যেন সে নীল আকাশের পৃথিবীও নেই। ডোমের মধ্যে পুরো একটা জগত। এ জগতে সবার জায়গা নেই। আছে শুধু এক জাতের -সুদর্শন, চিরতরুণ, চিরঞ্জিব।এই নতুন বিশ্বের নিয়ন্ত্রক হলেন অধীশ্বর। আবার এই পৃথিবীতে তার জন্য বই আছে দুটো, একটা হল অধীশ্বর কিভাবে নতুন পৃথিবীর সাজিয়েছেন সে বিষয়ে। অন্যটা পেশা নিয়ে, পরিচয় নিয়ে-তার করণীয় গুলো সেই স্বতন্ত্র পুস্তকে দেওয়া আছে। তাহলে নির্ধারিত থাকে তবে এ পৃথিবীতে হলোটা কি হঠাৎ?
while the story is kind of familiar like any other -the world ended,someone took over, kind of story, this has a bit of a nostalgic element that makes this special. I mean I read this kind of story, like even a few days back, স্বর্গরাজ্য, has a similar story like this I mean someone took over and didn't let anyone talk over them, serial people get curious about the administration, etc. but the writing itself is very different. I mean I couldn't put down the book for a moment. I started this in the Fajr & finished by 8 ish. overall this is a very good read, the poems make it more appealing.
Profile Image for Ahmed Aziz.
391 reviews69 followers
March 12, 2025
সারাদিন সবখানে এআই এআই শুনতে শুনতে বাস্তবে ভবিষ্যতে এর মন খারাপ করা ব্যাপকতা নিয়ে চমৎকার একটা সাইফাই পড়লাম। একদম শেষের কবিতাটা দুর্দান্ত, চরিত্রগুলোর জন্য মায়া লাগে। দিন দিন মানুষ আসলে কতটা অসহায় হয়ে যাচ্ছে।
Profile Image for Afsan Ahmed .
47 reviews2 followers
April 16, 2025
সাইফাই গল্প পড়া হয় নাহ আমার, কিন্তু বইটা যেহেতু ওয়াসি আহমেদ এর বিশ্বাস করাই যায় তিনি নিরাশ করবে নাহ, আর করেননি, বইটা শেষ করে রউফ এর জন্য খারাপ লাগল, সেই খারাপ থেকে কখন বের হতে পারব জানি নাহ....
Profile Image for ANIT.
88 reviews2 followers
May 29, 2025
Old school story book type.
Profile Image for Nabila Progya.
48 reviews23 followers
July 7, 2025
৩.৫
সাই-ফাই ঘরোনার বই আরেকটু বড় হলে, ডিটেলিং হলে ভালো লাগতো। মনে হলো গল্পটা যখনি একটু টুইস্টে যাচ্ছিলো তখনি কোনোরকমে এন্ডিং দিয়ে দেওয়া হলো।

গল্পের প্লটটা ভালোই ছিলো, যেভাবে আাগাচ্ছিলো মোটামুটি সাসপেন্স ক্রিয়েট করে বেশ ভালো এন্ডিং দেওয়া যেতে পারতো। পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার পরে নতুন আরেক পৃথিবী কিন্তু পৃথিবী বললেও ভুল হবে এআই নিয়ন্ত্রিত একটা যন্ত্রের মতো। যেদিকে খাওয়া থেকে শুরু করে ঘুম সবকিছু যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। যেখানে মানুষরূপী সিমুলেশন তৈরি করা। কিন্তু কিছু একটা রহস্য বিদ্যমান এই জগতের মধ্যে।
Profile Image for Najmul Huda Nayeem.
5 reviews
May 29, 2025
মাগুর মাছের ঝোল জোস।
মাগুর মাছের ঝোল বইটা একটু কম জোস।

ওয়াসি আহমেদের পড়া পঞ্চম বই এটা। এখন পর্যন্ত "আখতারুজ্জামান একটু চা খেতে চান" তন্মধ্যে সবচেয়ে ভালো। মাগুর মাছ পড়তে গিয়ে প্রথমে দুই-চারটা হোঁচট খাইছি। খাওয়ার কারণ উদ্ভট কিছু বাংলা শব্দের ব্যবহার। তাছাড়া গল্পের শুরুটা পড়ে এটা একটা ডিস্টোপিয়ান ভাইব আনবে বলে মনে হইছিলো। মাঝামাঝি এসে মনে হইছে ইমোশনাল ডিস্টার্বেন্স থাকবে কড়া কিছু। শেষে এসে কড়া কিছু হয়নাই তবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য খারাপ নয়।

হালকার উপর ঝাপসা মিলায়ে বইটা নিদারুণ না, আবার দারুণও বলতে দ্বিধা হচ্ছে। তবে মোটের উপর পড়লে পস্তাবেননা। এনজয়েবল অবশ্যই।

নোট:
কাইশার আর যাইমার ব্যাপারে আরও কদ্দুর জানতে ইচ্ছা করে।
মার্লবোরো র হাসান এর শেষের কবিতাটা ভালো লাগছে।
আর অধ্যায়ের নামগুলা দেওয়ার ব্যাপারটা সেরা ছিলো। এটা বেশ ইউনিক।
Profile Image for Sakib A. Jami.
354 reviews42 followers
June 24, 2025
“মাগুর মাছের ঝোল” — নামটা অদ্ভুত, তাই না? মনে হয় যেন কোনো রান্নার রেসিপি সম্বলিত বই, অথবা এখানে রান্নার বিষয়-আশয় আছে। তা কিঞ্চিৎ আছে, তবে “মাগুর মাছের ঝোল” মূলত ভিন্ন স্বাদের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি। যে গল্পটা আজ থেকে কয়েক বছরের কোনো এক পৃথিবীর ঘটনার প্রতিকৃতি তুলে ধরে। এখন “মাগুর মাছের ঝোল” চেখে ��েখার অভিজ্ঞতা কেমন হলো, তা নিয়েই আলোচনা করা যাক।

আমাদের আজকের পৃথিবীর অবস্থা খুব যে ভালো, তেমনটা বলা যাবে না। পৃথিবীর মানুষদের মধ্যে লোভ-লালসা, অসীম চাহিদা, আবেগ-অনুভূতি, চাওয়া-পাওয়া এত বেশি বেড়ে গিয়েছে, এর পরিণতি ভয়াবহ। হানাহানি, কাটাকাটি লেগেই আছে। এভাবেই আজকের পৃথিবী ক্ষয়ে যাচ্ছে। ক্ষয়ে যেতে যেতে একসময় মৃত হয়ে পড়বে আজকের এই সমাজ। তখন কী হবে?

ধ্বংসপ্রাপ্ত পৃথিবীর পরেও কোনো পৃথিবীর জন্ম নিবে। একদল যুবককে বিশেষ প্রক্রিয়ায় এমনভাবে তৈরি করা হবে, তাদের মধ্যে আবেগের জায়গা থাকবে না। অনুভূতি জন্মাবে না। ক্ষুধা অনুভূত হবে না। চাইলেই যখন সব পাওয়া যায়, তখন চাহিদারা জন্ম নেবে না। এমন এক পৃথিবী চাইলেই সম্ভব। যে পৃথিবীর রক্ষাকর্তা অধীশ্বর। যার ইশারায় সবকিছু চলে। মানুষের খাদ্য ঘাটতি পূরণ হয় পুষ্টিতে।

এই পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষ নির্দিষ্ট কাজের জন্যই নির্বাচিত। যে কাজ কাউকে বলা যাবে না। নিজের জীবনকর্ম জানার জন্য নির্দিষ্ট পুস্তক আছে। আরও আছে জীবন-পুস্তক। যেখানে অধীশ্বরের বন্দনা করা হয়।

আমাদের এই গল্পের প্রধান চরিত্র রউফ। যার জবানে এমনই এক পৃথিবীর কথা জানতে পারি। যে কাব্য মন্ত্রণালয়ে কাজ করে। নিজে কবিতা লেখে। মৃত-প্রাচীন পৃথিবীর কবিদের কবিতাও পড়ে। ঘটনাক্রমে তার সাথে দেখা হয় যাইমার। তার মাধ্যমে পরিচিত হয় কাইশারের সাথে। য়াদ্রিতা, মুষাদের সাথে পরিচয় ঘটে এভাবেই।

এই নতুন পৃথিবীর মানুষগুলোর মধ্যে আবেগ অনুভূতির বালাই নেই। এক নির্দিষ্ট ছন্দে জীবন ছুটে চলে। কোথাও সেই ছন্দপতন নেই। ডিম্বাকৃতির নিজ বাসাতে শতভাগ গোপনীয়তা রক্ষা করা যায়। দিনে কেবল একবারই এক ঘণ্টার জন্য বাইরে যাওয়া যায়। নিজের কলোনির বাইরে যাওয়ার নিষেধ।

এমন অনুভূতিহীন, অপ্রয়োজনীয় পৃথিবীতে কেউ কেউ সংশয়ে দ্বিধান্বিত হয়। তারা খুঁজতে শুরু করে ফাঁকফোকর, এর উত্তর। যদিও এরা সংখ্যায় সীমিত। বেশিরভাগ মানুষ-ই এই নির্দিষ্ট ছন্দে নিজেকে মানিয়ে নেয়। তাদের চাওয়া পাওয়া বলতে কিছু থাকে না। ফলে যেকোনো অন্যায়ে নীরবতা পালন করে। নিজের ক্ষতি না হলে, সেদিকে মাথা ঘামানোর দরকার কী?

ওয়াসি আহমেদের লেখা ওয়ান টাইম রিড হিসেবে উপভোগ্য। তার “মাগুর মাছের ঝোল” বইটা ডিস্টোপিয়ান সাইফাই ঘরানার বই। যেখানে আজকের পৃথিবী মৃত, নতুন এক পৃথিবীর জন্ম হয়েছে। এই জাতীয় প্লট খুবই সাধারণ। নতুনত্ব খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায়। তবে আমার বইটা পড়তে ভালো লেগেছে। তার বিশেষ কারণ এখানে খটমটে বৈজ্ঞানিক বিষয় ছিল না। লেখক পুরোটা মনস্তত্ত্ব ও দর্শনের উপর জোর দিয়েছেন। এখানে মানুষের জীবনকে খুঁজে ফেরার ঘটনা গুরুত্বপুর্ণ। বাস্তব, অবাস্তবের মধ্যে যে সূক্ষ্ম দেয়াল উঠে, সেখানে সংশয় কাজ করে। কোনটা বাস্তব আর কোনটা অবাস্তব, তা নির্ণয় করা যায় না।

বইটা নিয়ে আমার অনুভূতি মিশ্র। ভালো লেগেছে বলা যায়, কিন্তু আহামরি কিছুও মনে হয়নি। তবে পড়তে ভালো লেগেছে। বিশেষ করে মানুষের ভাবনার যে দিকে লেখক আলোকপাত করেছেন, তা উপযুক্ত মনে হয়েছে বলেই হয়তো। হয়তো এর সাথে বর্তমান পৃথিবীর কোনো মিলও আছে। যেখানে কেউ কেউ প্রতিবাদে ঝাঁপিয়ে পড়ে, খুঁজে বেড়ানোর চেষ্টা করে না জানা উত্তর। আবার কেউ কেউ থাকে নির্জীব, যার কোনো কিছুতেই আসে যায় না। আর প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে আমরা মানুষকে ছুঁড়ে ফেলে দিই। যাকে আর প্রয়োজন নেই, তার গুরুত্বও হারিয়ে যায়। বাস্তব গল্পে তারা অবাস্তবতার ছায়ায় হারিয়ে যায়।

এখানে সবচেয়ে ভালো লেগেছে মা ও ছেলের কথাবার্তা। যে পৃথিবীর কথা বলা হয়েছে, সে পৃথিবীতে রান্নার বালাই নেই। ডিমেটর নামের এক যন্ত্র মানুষের প্রয়োজন মোতাবেক পুষ্টির মিশ্রণে খাদ্যের যোগান দেয়। যা কেবল স্বাদের অনুভূতি দেয়। যখন মা কিংবা মায়ের মস্তিষ্ক কথা বলে, তখন সন্তানকে যেভাবে শাসন করে, স্নেহ করে, অভিমান করে, তার পুরোটা এখানে অনুভব করা গিয়েছে। একজন মা সন্তানের জন্য কতটা পরিশ্রম করে, রান্নাবান্নার মতো কঠিন কাজ সম্পন্ন করে, তাই যেন লেখক গল্পের ছলে দেখাতে চেয়েছেন। রউফের বাবার গল্প এখানে খুবই গুরুত্বপুর্ণ। তার বিশেষ আবিষ্কার, কী সেটা? সময় হলেই জানা যাবে।

এই গল্পের আরও এক চরিত্র হিসেবে মাগুর মাছকে ধরে নেওয়া যায়। যে মাছের ঝোল রউফের জন্য রান্না করত তার মা। কিন্তু এই দুনিয়ার যে রান্নার বালাই নেই, সেখানে রান্নার উপাদান পাওয়া যাবে কীভাবে। যে ছন্দে এই পৃথিবীতে মানুষের জীবন চলছে, একই ছন্দে পানিতে ভাসে মাগুর মাছ। সেই কি মানুষের মতো ভাবতে পারে? রউফকে দেখে তারও কি করুণা হয়?

শেষে বেশ ভালো চমক ছিল। অধীশ্বর এখানে উন্মুক্ত হয়। যদিও কিছুট তাড়াহুড়োয় লেখক সমাপ্তি টেনেছেন বলে মনে হলো। আরেকটু ধৈর্য নিয়ে বর্ণনা করলে শেষের অংশ আরেকটু উপভোগ্য হতে পারত। এমনিতে অবশ্য খারাপ না। যে মানুষদের অনুভূতিহীনভাবে তৈরি করা হয়েছে, তাদের সেই অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করা এত সহজ নয়। কারো কারো আবেগ সময়ের সাথে সাথে বেরিয়ে আসে।

আফসার ব্রাদার্স-এর প্রোডাকশন কোয়ালিটি এই বইতে বেশ ভালো হয়েছে। খুব একটা বানান বা ছাপার ভুল ছিল না। বাঁধাই ভালো। প্রকাশনীর অনেক বই তো খুলে পড়া যায় না। তবে আমার দারুণ লেগেছে প্রচ্ছদ। কালারফুল প্রচ্ছদ হলেও দেখতে ভালো লাগে।

পরিশেষে, প্রত্যেকের কাজকর্মের এক নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকে। এই সীমা অতিক্রম করা অমার্জনীয় অপরাধ। এর শাস্তি ভয়াবহ হতে পারে। যে পৃথিবী মৃত, পরিত্যক্ত; তার কারণ জেনে কি কোনো লাভ আছে? তবুও কেউ কেউ খুঁজতে যায় এর কারণ। কিন্তু অধীশ্বর যে পৃথিবীর গল্প আড়াল করে রেখেছে, তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা নিজেকে বিসর্জন দেওয়ার শামিল। এর ফলে কী হবে? সময়ই বলে দেবে…

▪️বই : মাগুর মাছের ঝোল
▪️লেখক : ওয়াসি আহমেদ
▪️প্রকাশনী : আফসার ব্রাদার্স
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৭৫/৫
Profile Image for Rifah Tasfia.
161 reviews5 followers
May 4, 2025
মাগুর মাছের ঝোল একটি সাই-ফাই ঘরানার বই। এখানে দেখা যাচ্ছে আমরা এখন যেই পৃথিবীতে বাস করছি সেটা ধ্বংস করে নতুন পৃথিবী তৈরি করেছে অধিশ্বর নামের একজন, যিনি এই নতুন পৃথিবীর কর্তা। এখানে সবকিছু তার নিয়মে হয়। পুরোনো পৃথিবী থেকে কিছু সংখ্যক তরুণ মানুষ এনে তাদের শরীরে কিছু বদল আনা হয়েছে। তাদের মনে নেই আগের জীবনের কিছু,এখানে নেই কোনো পরিবার। এখানে তারা তাদের জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু পেয়ে যাচ্ছে। যদিও তাদের বাস করতে হয় কিছু নিয়মের মধ্যে, তাও তাদের এই নিয়ে সমস্যা নেই কারণ অনেকেই এখানে রোবটের মত জীবন যাপন করে। তাও এসবকিছুর বাইরে অস্তিত্বের সংকটে পড়ে যায় রউফ, শুধু একটু মাগুর মাছের ঝোল খেতে চায়।

এই বইয়ের একটা বিশেষ দিক আগেই বলে নেই। এই বইয়ের চরিত্রগুলোতে আমাদের আশেপাশের কিছু মানুষকে ব্যবহার করা হয়েছে। মুসা ভাই, আদৃতা আপু, জোয়া আপু, কায়সার ভাই ইত্যাদি মানুষের নামের আদলে এই বইয়ের চরিত্রদের নাম দেয়া হয়েছে।
যেহেতু সাই ফাই বই,সেহেতু আপনি ওই ধাচ টা একটু পাবেন। নাম দেখে আমি বুঝতেই পারিনি এটা সাই ফাই। আবার আপনি এটাকে ডিস্টোপিয়ান বলতেও পারেন। এখানে কেউ কোনো প্রশ্ন করেনা,নিয়ম ভঙ্গ করেনা। রউফ নিজেও করতোনা। বাকি চরিত্রদের সাথে তার বন্ধুত্ব হবার পরে তার মধ্যে দেখা দিল নিজের অস্তিত্বের সংকট। তারা সিস্টেম গ্লিচ ব্যবহার করে নিয়ম ভঙ্গ করা শুরু করল। রউফ কি কখনও জানতে পারবে তার জীবন আসলে কেমন ছিল? তার বাবা মা কেমন ছিল? মাগুর মাছের ঝোল কি সে খেতে পারবে? অধীশ্বর কি আসলেও সব নিয়ন্ত্রন করতে পারবে?

এই বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ে চমৎকার ইলাস্ট্রেশন করা আছে যা পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। বইটি আমার পড়তে ভালোই লেগেছে। বই পড়তে পড়তে রউফের অধিশ্বরের প্রতি বিশ্বাস আর আনুগত্য দেখে বারবার আমাদের হাসু আপার কথা মনে হচ্ছিল যে কিছু মানুষ আগে এবং এখনো বিশ্বাস করে হাসু আপা আমাদের ভালো চায়, উনি যা করতেন আমাদের জন্যই করতেন।

লেখক খুবই সহজ বাংলায় লিখেছেন যা পড়তে কষ্ট হবার কথা না। আর ছোট একটা বই, একবসায় শেষ করার মতো। যারা ছোটখাটো বই পড়তে চাচ্ছেন, তাদের জন্য এটা ভালো একটা চয়েজ হতে পারে।
Profile Image for Arpita Chowdhury.
25 reviews3 followers
February 11, 2026
#bookreview

বই: মাগুর মাছের ঝোল
লেখক: ওয়াসি আহমেদ
জনরা: সায়েন্স ফিকশন
প্রথম প্রকাশ: একুশে বইমেলা ২০২৫
প্রকাশনী: আফসার ব্রাদার্স
প্রচ্ছদ: পরাগ ওয়াহিদ
মুদ্রিত মূল্য: ২৮০ টাকা

⭐ পার্সোনাল রেটিং: ৪.৫/৫.০

নতুন পৃথিবীতে অধীশ্বর অল্পসংখ্যক মানুষকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন পুরাতন পৃথিবীর জরাজীর্ণ ধ্বংসস্তূপ থেকে। অধীশ্বরের এই নতুন পৃথিবীতে থাকা মানুষদের সকল মৌলিক চাহিদা পূরণ করা হয়েছে যাতে তারা শুধুমাত্র তাদের সৃজনশীলতা বিকাশে মনোনিবেশ করতে পারে। অধীশ্বরের মতে, প্রয়োজন বা চাহিদা যতক্ষণ থাকবে, মানুষ ততক্ষণ সৃজনশীল হতে পারবে না। তিনি অব���্যই সকলের মঙ্গল চান। কিন্তু, কে এই অধীশ্বর? আসলেই কি তিনি সকলের মঙ্গল চান নাকি রউফ, যাঈমাসহ কিন্তু মানুষ, যারা কোনো সিমুলেশনের অংশ নয় বরং রক্ত-মাংসের প্রাণ, এবং তাদের সহজাত কৌতুহলের কারণে চরম স্বাধীনতার অন্বেষণ করে চলেছে, তাদেরকে কন্ট্রোল করে চলা কোনো রহস্যময় অস্তিত্ব? বিস্তারিত জানতে পড়তে হবে বইয়ের শেষ পর্যন্ত।

ব্যক্তিগত অভিমত:
ওয়াসি আহমেদের বই এই প্রথমবারের মতো পড়লাম। সত্যি বলতে লেখকের শব্দচয়ন ও লেখনশৈলীর‌ ফ্যান হয়ে গেছি। পুরো বইটি আটটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত। প্রতিটি পরিচ্ছেদেই লেখক ব্যবহার করছেন সাহিত্যের বিভিন্ন বিখ্যাত কবিতার পংক্তিমালা। আর উনার কিছু কিছু উপমা ছিলো একদম মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো; যেমন- কৃত্রিম আব্রুডিয়ামের রং বুঝাতে কিংবা বেনযাইতেন থেকে সুরের মোহনীয়তা বর্ণনা করতে। তবে বইয়ের ২/১ টা অংশ পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে সেই জায়গায় কবিতার ব্যবহার না করলে বোধহয় গল্পের ফ্লো-টা আরেকটু স্মুথ থাকতো।

গল্পের প্লট হিসেবে লেখক যেই বিষয়টিকে বেছে নিয়েছেন, সেটি সত্যিই প্রশংসনীয়। সামান্য একটি মাগুর মাছের প্রতীকী ব্যবহার করে লেখক বিজ্ঞানের অভাবনীয় পরিবর্তনের সামনে মানুষের অসহায়ত্বের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে বর্তমান যুগে মানুষজন যেই মাত্রায় প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির অপব্যবহার করে চলেছে, তাতে করে এই গল্পটি সেইসকল মানুষদের জন্যে একটি সতর্কবার্তা, এটি বললেও বোধহয় ভুল হবে না।

সম্পূর্ণ গল্পের দু-একটি জায়গায় সামান্য কিছু বানান ভুল‌ ছাড়া আর তেমন কোনো ত্রুটি চোখে পড়েনি। পরাগ ওয়াহিদ এর করা বইয়ের প্রচ্ছদটিও বেশ আকর্ষণীয় ছিলো। যেসব সায়েন্স ফিকশন লাভাররা নতুন গল্প খুঁজছেন, তারা নিশ্চিন্তে এই বইটি পড়ে ফেলতে পারেন।
.
.
©️ অর্পিতা চৌধুরী
Profile Image for Nodi Akter.
17 reviews
June 2, 2025
আমার অদ্ভুত নামের বইটই পড়ার বেশ আগ্রহ আছে। মাঝে মাঝেই অদ্ভুত নামের বইটই কিনে পড়ে ফেলি।
তেমনি এই মাস শেষ করলাম ' মাগুর মাছের ঝোল' নামক অদ্ভুত উপন্যাসটি দিয়ে।

দর্শন, সায়েন্স ফিকশন ও কল্পনা জগত নিয়ে এই বইটি।

নতুন এক পৃথিবীর গল্প। আছে এক অধীশ্বর এবং দুটো বই। একটা অধীশ্বর কে নিয়ে। আরেকটি স্বতন্ত্র । অর্থাৎ, আলাদা আলাদা ব্যক্তির জন্য আলাদা ভাবে প্রস্তুত। এই নতুন জগতে অতি কৌতূহল ভয়াবহতা নিয়ে আসে। কেননা অধীশ্বর সবাইর মঙ্গল চান। সবার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখার পরেও মানুষের কেনো কৌতূহল থাকবে? এই জগতে মায়া, মোহ , চাহিদা নেই। সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত।

মানুষ কল্পনায় ভাসতে পছন্দ করে, নতুন রহস্য উন্মেচন করতে ভালোবাসে, প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তেমনি রউফ ও একদল মানুষকে বন্ধু হিসেবে পায়। যেখানে থাকে তাদের কৌতূহল, জানার আগ্রহ।

|| পাঠ প্রতিক্রিয়া ||

বইটা পড়ে অনুভূতি একটু মিশ্র হয়েছে। আমার সায়েন্স ফিকশন তেমন একটা পড়া হয়নি। এই কারণে কিনা জানিনা মাঝেমধ্যে একটু বোরিং লেগেছে। আবার রউফের সাথে তার মায়ের আলাপ গুলো খুব ভালো লেগেছে। কাইশার, য়াদ্রিতা, যাঈমার চরিত্রগুলো ভালো লেগেছে। তাদের কৌতূহল, আগ্রহের ভিতরে আমিও আগ্রহ খুঁজে বেড়িয়েছি। কিছু প্রশ্ন ও মাথায় এসেছে । যেমন মেশিন তৈরির উদ্দেশ্য, বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণ কী? এইসকল প্রশ্নের উত্তর থাকলে হয়তো আরো ভালো লাগতো।

প্রচ্ছদ নিয়ে একটু বলি। অদ্ভুত নামের পাশাপাশি আমার সবচে' টেনেছে এর প্রচ্ছদ। কী সুন্দর!!! প্রচ্ছদে যেই মানুষটি দেখা যাচ্ছে মনে হচ্ছিলো কল্পনায় ভাসমান। শূন্য নিজেকে নিয়ে যাচ্ছে।

▪️বই: মাগুর মাছের ঝোল
▪️লেখক: ওয়াসি আহমেদ
▪️প্রকাশনায়: আফসার ব্রাদার্স
▪️প্রচ্ছদ: পরাগ ওয়াহিদ
▪️মলাট মূল্য: ২৮০৳
Profile Image for Peal R.  Partha.
215 reviews13 followers
March 17, 2026
চব্বিশের বইমেলায় আমার একটা বই প্রকাশিত হয়েছিল, নাম সত্য বন্দি আলোকচিত্রে। বইটির কোনো নির্ধারিত জনরা নেই। পাঠক যে-কোনো মনস্তাত্ত্বিক ভাবনা বা দৃষ্টিকোণ থেকে উপন্যাসটি পড়তে পারে। ফিলোসফিক্যাল ফিকশন, ডিস্টোপিয়ান ফ্যান্টাসি, সুপারন্যাচারাল ইত্যাদি। সেই বইয়ে একটি চরিত্র আছে নাম মহানেশ্বর। ঠিক মাগুর মাছের ঝোল উপন্যাসিকায় তেমনই এক চরিত্র আছেন, নাম অধীশ্বর। বিষয়টা মজার।

তবে আমার বইয়ের মহানেশ্বর আর মাগুর মাছের অধীশ্বর, ভিন্ন দুই সত্তা। ইনফ্যাক্ট তাদের কার্যপ্রণালী কোথাও একই থাকলে দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, গল্পের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সেইসব ভিন্ন। ভিন্ন আরও বহুকিছু, কিন্তু অভিন্নতার কিছু কিছু বিষয় রয়েছে, যা পড়ে আমার উপন্যাসটি যখন লিখছিলাম, তখনকার সময়ের কথা বারবার মনে পড়ছিল।

মাগুর মাছের ঝোল উপন্যাসিকায় যে বিষয়টা আমার নজর কেড়েছে সেটা হলো—অস্তিত্বের সংকট। উপন্যাসের কয়েক জায়গায় লেখক মূল চরিত্রকে দিয়ে এই বিষয়টা দেখানোর প্রয়াস করেছেন। ভিত্তি গড়েছেন। সিমুলেশন বিষয়টা নিয়ে ইতোমধ্যে কল্পবিজ্ঞান বহু লেখাজোখা হয়েছে, যেখানে অস্তিত্ব নিয়ে একটা সংকট সবসময় লেগে থাকে। মাগুর মাছেও তা রয়েছে।

লেখকের লেখা ভালো। টানা পড়ে নেওয়া যায়। জীবনানন্দ কেন যেন এই ধরনের বিষণ্ণতম সাহিত্যের কাল্ট ফিগার হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আমিও আমার সত্য বন্দিতে তাঁর কবিতা ব্যবহার করেছি, লেখক ওয়াসি আহমেদও তাই করেছেন, অনেক লেখকই এটা করছেন। সবার কী অদ্ভুত মিল। চিন্তারও নেই অমিল। আমরা কি কোনো একভাবে, মহানেশ্বরের পৃথিবী নয়, অধিশ্বরের ‍সিমুলেশনেন দুনিয়ায় নয়... জীবনানন্দের কবিতার পাতায় বসবাস করছি?

মাগুর মাছ ওয়ান টাইম রিড হিসেবে ভালো, অস্তিত্ববাদের দর্শনও ভালো খাপ খেয়েছে। ডিস্টোপিয়ান বিষয়টা এই বইয়ের সাথে খুব একটা যায় না। কেমন ইউটোপিয়ান একটা ভাবসাব রয়েছে, মনস্তাত্ত্বিক সংকট ব্যতীত। সেদিক থেকে আমার সত্য বন্দি কিছুটা কঠিনভাবে, একঘেঁয়ে হয়ে, চিন্তক পাঠকদের অভিরুচিতে কোনোভাবে খাপ খেয়ে নেয়।
Profile Image for Ryhan Hasan.
16 reviews1 follower
May 20, 2025
হয়ত অনেক বেশি প্রত্যাশা নিয়ে পড়ার কারনে খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারিনি।তবে গল্পের মাঝে কবিতার ব্যবহার বেশ ভালো লেগেছে।জোরপূর্বক লাগে নাই।মানিয়ে গেছে। যার মাঝে এই কবিতাটি খুবই ভালো লেগেছে,


নিঃসঙ্গতার ক্লান্তিতে জর্জরিত হয়ে আমি লুটিয়েছিলাম আদিম পর্বতশৃঙ্গের সর্বোচ্চ চূড়ায়।

যেখানে ডানা মেলেনি সংবিগ্ন পক্ষীকুল, মাথা উঁচু করেনি দুর্বাঘাসের শিষ, সদম্ভে যে মেঘ উড়তে থাকে জোছনার আলো চিরে-তারাও মুখ লুকিয়ে ভেসেছে অযুত ক্রোশ নিচে।
অথচ স্বর্গের বাগান থেকে ছিনিয়ে নেওয়া রক্তগোলাপ হাতে আমি ঘুরে বেড়িয়েছি অচিন প্রান্তরে, অক্রুর উন্মাদনায়।
টগবগ, ঘৃৎকার, শকুনিবাদ, ক্রেংকার কিংবা ফণাতোলা হিসহিসে জানান দিয়েছি নিজের অস্তিত্বের।
কেউ শোনেনি, দেখেনি, জানেনি;

অথবা জেনেছে, দেখেছে, শুনেছে, অথচ চঞ্চল কলরবেও আমি হইনি দৃশ্যমান।

আমি লজ্জায় লুকিয়েছি হাঙরের জরায়ুতে, ঝিনুকের গর্ভে, ম্যাগনোলিয়ার কুড়ির ভিতর, পাপড়ি মেলার পূর্বে-আড়াল করেছি নিজের নিঃস্পন্দ দেহাবশেষ।

তারপর নভোগামী এক বৃহচ্চঞ্চুর ঠোঁটের ভিতর বন্দি হয়ে অনিচ্ছায় পতিত হয়েছি এই নির্জন পর্বতশৃঙ্গে।

খণ্ডিত শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে তবু পরম যত্নে লাল করে রেখেছি মুঠোর ভিতর আঁকড়ে ধরা পৃথিবীর শেষ গোলাপ।।
Profile Image for Snigdha .
21 reviews6 followers
April 13, 2025
আচ্ছা আপনাকে যদি এমন একটি পৃথিবীতে চিরজীবনের মত পাঠিয়ে দেয়া হয় যেখানে আপনি কোনো বিষয়েই কৌতূহল প্রকাশ কর‍তে পারবেন না নিজের কাজ ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে । যেখানে রোগ-শোক , জরা-ব্যধি, দুঃখ-কষ্ট , প্রেম-ভালোবাসা বলতে কিচ্ছু নেই। আপনি চাইলেই যেকোনো বিষয়ে রিসার্চ করতে পারবেন না কারণ আপনার কাজ পূর্বনির্ধারিত , আপনি প্রেমে পরতে পারবেন না কারণ সে সুযোগই নেই , এককথায় আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং যিনি নিয়ন্ত্রণ করছেন তার পরিচয়ও আপনার জানা নেই এবং আপনি চাইলেও জানতে পারছেন না। আপনার দৈনন্দিন জীবনে সবকিছু ঘড়ির কাটায় কাটায় নিয়মমাফিক চলছে , নিয়মভঙ্গের কোনো সুযোগ নেই কারণ এতেই মানবজাতির কল্যাণ নিহিত....
কমবেশি সাইফাই পড়ে থাকলে গল্পটি আপনার কাছে অজানা মনে হবে না , তবে চিরচেনা প্লট হলেও পড়তে খারাপ লাগবেনা । পরিচ্ছদের নামগুলো কবিতার লাইন থেকে দেওয়ার ব্যাপারটা খুব ইন্টারেস্টিং!
আমি অবশ্য বাচ্চাদের মত এন্ডিং চাচ্ছিলাম ...
1 review
March 17, 2025
Very well written dystopian novel. A very rare piece in Bangla originals. I must appreciate the writing style. I wasn’t sure I would read till the end when I started, but the book didn’t let me leave…for a not so regular reader like me, this kind of attraction towards the story is very important, which is missing in most of the Bangla books nowadays.

Thanks a lot Wasee Ahmed Rafi!!! 👏🏼👏🏼👏🏼
Profile Image for Faisal Mahmud.
2 reviews2 followers
February 27, 2025
কি সুন্দর লেখা! অধ্যায়ের নাম থেকে শুরু করে মাঝে মাঝে কবিতাগুলো পর্যন্ত সব এতো সাবলীল। শুরু করার সাথে সাথে মনে হচ্ছিল কেমন না কেমন হবে। কিন্তু দ্বিতীয় পৃষ্ঠা থেকেই আর চোখ উঠাতে পারলাম না। লেখকের পড়া প্রথম বই এটা। বায়ো ধরে এখন সব অর্ডার করবো।
Profile Image for Mila Hossain.
72 reviews2 followers
May 4, 2025
AI এর এই যুগে “মাগুর মাছের ঝোল” আমাকে কেমন অসহায় ভাবে ভাবালো। আমরা control করছি নাকি control হচ্ছি তা নিয়ে একটা সংশয় সবসময়ই মনে ছিল। Sci-fi বরাবরই আমার পছন্দের genre, but পড়া হয় কম। এই বইয়ের গল্প তেমন নতুন কীছু না যদিও, তবুও বইটা ভিষণ রকম ভাবিয়েছে।
Profile Image for Arif  Raihan Opu.
230 reviews7 followers
October 15, 2025
বইটা কেমন যেন হতাশা জনক। আহামরি তেমন ভাল লাগেনি। কাহিনীও সেভাবে ফুটে ওঠেনি৷ সাই-ফাই ঘরনার হলেও এলিমেন্ট অফ সারপ্রাইজ বা সাই ফাই এলিমেন্ট খুব কম৷ এছাড়া বইটার শেষটাও খাপ ছাড়া। দ্রুত শেষ করতে হবে, তাই হয়ত শেষটাও এমন।

প্লট বা কাহিনী আরও বিস্তৃত করা যেত। তাছাড়া বইটা আরও ইন্টারেস্টিং হতে পারত।
Displaying 1 - 30 of 38 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.