পালকের চিহ্নগুলো জীবনের অনাবৃত সত্যের অক্ষরযাত্রা। শৈশবের ক্ষত, প্রেমের উন্মাদনা, দাম্পত্যের ঢেউ, মৃত্যুর সাথে বোঝাপড়া —সবই এলো অবলীলায়, কপটহীন এক সাহসী স্বরে।এ লেখার মূল শক্তি বক্তব্যের সারল্য; বিশ্বের নানা জায়গায় ঘুরেছেন বলে এতে আছে ভ্রমণকাহিনীর স্বাদও।আছে উপন্যাসের টান ও শিল্পিত স্বচ্ছতা। জীবন-বর্ণনার পাশাপাশি কিছু পর্ব রোমাঞ্চকর, শ্বাসরুদ্ধকরও! বইটি পাঠে একজন লেখকের জীবনের গোপন-অন্দরে পাঠক অনায়াসেই প্রবেশ করতে পারবেন।
Nasreen Jahan (Bangla: নাসরীন জাহান), (1966) is a modern Bangladeshi author and literary editor. She became famous with the publication of her award-winning novel উড়ুক্কু in 1993 which was later translated as The Woman Who Flew.
She has distinguished herself with her poetic prose and psychological approach to human behavior. She is capable of handling intricate human mind with dexterity. She is prone to focus on man-woman relationship in the backdrop of social fabric and examine its intricacies. Nasreen Jahan has candidly treated sex as a theme and went ahead of time by reflecting on homosexuality her short stories and novels. Her writing separately exhibits realism, surrealism, also magic realism. Her works are never erotic in nature.
জীবনের মতো অতি আশ্চর্যময় জিনিস বোধহয় আর কিছুই নেই! এ এক গোলকধাঁধা। এই গোলকধাঁধায় সমস্তটা নিয়ে কেউ দৌঁড়ে চলে,কেউ ধীর মন্থর গতিতে পার করে দেয় সমস্তটা। সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনা, হাসি, কান্না সমস্ত কিছু নিয়েই এই গোলকধাঁধার তৈরি। মানুষের জীবনের ভাঁজে ভাঁজে তৈরি হয় কতো ঘটনা,কতো গল্প, কতো স্মৃতি। সেইসব নিয়েই মানুষ দৌড়ে চলে এবং আরো আরো স্মৃতির জন্ম দেয়।সেইসব স্মৃতি আঁকড়ে মানুষ বেঁচে থাকে। তেমনি স্মৃতির ঢালি নিয়ে নাসরীন জাহান লিখেছেন, তার স্মৃতি গদ্যের বই 'পালকের চিহ্নগুলো'। একজন আপাদমস্তক কথাশিল্পীর স্মৃতিগদ্য যে ধাঁচের হওয়া উচিত, 'পালকের চিহ্নগুলো' তার চেয়ে একটু বিভিন্ন ধাঁচের। নাসরীন জাহান এখানে রাখঢাক না করে অকপটে সমস্ত জীবনের বাঁকে বাঁকে নদীর পলি পড়ার মতো স্মৃতিদের উর্বরতার সঙ্গে পাঠকের সামনে তুলে এনেছেন। বলছেন বেদনার কথা, আনন্দের কথা, তার শিল্পী সত্তার ভাঙা গড়ার কথা এবং নারী হিসেবে শিল্পের সঙ্গে জীবনের সঙ্গে আফসোস না করার তুমুল যুদ্ধের কথা। শৈশবের ক্ষত, প্রেম, দাম্পত্যবৃক্ষের কথা। সাহিত্যিকদের সঙ্গে তার তুমুল শৈল্পিক সম্পর্কের কথা। তার লেখক হওয়ার প্রস্তুতি, ছড়া থেকে ছোটগল্পে, ছোটগল্প থেকে উপন্যাস সৃষ্টির দারুণ সব অভিজ্ঞতা তিনি অকপটে বলে গেছেন পালকের চিহ্নগুলোতে। তার বিখ্যাত উপন্যাস 'উড়ুক্কু' লেখার অভিজ্ঞতায় তিনি বলছেন— (কোট: "উড়ুক্কু উপন্যাস লেখার আগ পর্যন্ত, এবং উড়ুক্কু লেখার সময়ও আমার দিনগুলো ছিল অসহ্য ছটফটের।নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসহীন ভরসাহীন, ঘুমহীন রক্তপাতময়।") এভাবেই ঘুমহীন রক্তপাতময় সময়ের মধ্য দিয়ে নাসরীন জাহান তৈরি করেছেন তার সাহিত্যের বিশাল এক ভুবন। 'পালকের চিহ্নগুলো' সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং বিষয় একজন মা হওয়ার গল্প, সন্তান প্রসবের দিনগুলোর গল্প। একজন নারী লেখকের পক্ষেই এই বয়ান তুলে আনা সম্ভব আরকি। সমস্ত জীবনের খুঁটিনাটি অজস্র স্মৃতি তিনি এই বইতে তুলে এনেছেন। সেক্ষেত্রে রিপিটেশন হয়েছে অনেক অনেক জায়গায়। এজন্য বিরক্তি বোধও তৈরি হয়েছে বারবার। আবার সেইসব কে ঠেলে ফেলে দিয়ে লেখক নতুন গল্পের বয়ান করেছেন।
'পালকের চিহ্নগুলো' -তে নাসরীন জাহানের সেই সুঠাম, ক্ল্যাসিকাল গদ্যের বদলে তিনি একদম সহজ সরল মেদ হীন ভাষার নিরীক্ষা মূলক কাজ করেছেন। এই বইয়ের সমস্ত দিক বিবেচনায় একে লেখকের সরলতম বয়ানের জন্যে হলেও একটিবার পাঠকের টেবিলে ওঠা উচিত।