রেটিং আসলে ৪.৫। ভগ্নাংশ দেওয়া যায় না দেখে পূর্ণ সংখ্যার তারকাই দিলাম।
চমৎকার একটি ছোটোখাটো। প্রথাগত থ্রিলার বা রহস্য বা সাইফাই বলা যায় না এটাকে। তবে নিশ্চিতভাবেই খুবই আগ্রহজাগানিয়া ও চিত্তাকর্ষক একটি গল্প। গল্পটি আসলে গণিতের প্রয়োগের মাধ্যমে রহস্যের সমীকরণ সমাধানের একটি গল্প।
ঘটনার শুরু প্রফেসর রাউখের ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে। সমীকরণের কাজ করতে গিয়ে কিছু জটিল হিসাবের প্রয়োজন ছিলো প্রফেসরের। এই কাজটা কম্পিউটার ছাড়া করা সম্ভব নয়। ঠিক ঐসময়ই উনার চোখ পড়লো পত্রিকায় প্রকাশিত 'ক্রাফৎস্টুদৎ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড'এর একটি বিজ্ঞাপনের ওপর। বিজ্ঞাপন অনুযায়ী জানতে পারলেন এই কোম্পানি থেকে চুক্তি ভিত্তিতে যে কোনো সমীকরণের হিসাব এবং তা সমাধান করে দেওয়া। ঠিক এটারই প্রয়োজন ছিলো প্রফেসর রাউখের।
তাই নিজের সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করলেন ক্রাফৎস্টুদৎ কোম্পানির সাথে। আশ্চর্যজনক ভাবে, খুবই দ্রুত সময়ে তাঁর সমস্যার সমাধান করে দেওয়া হলো। সেটাও একেবারে নিখুঁতভাবে।
তাই দ্বিতীয় আরেকটি সমস্যা নিয়ে গেলেন উনি। এটাও আগের মতোই নিখুঁতভাবে দ্রুতই সমাধান করে দেওয়া হলো কোম্পানি থেকে।
তবে আশ্চর্যের ব্যাপার এটাই যে, সমাধানটা কোনো যন্ত্র করেনি, করেছে মানুষ। রক্ত-মাংসের মানুষ।
এটা দেখে কিছুটা কৌতুহলি হয়ে উঠলেন প্রফেসর রাউখ। স্বশরীরে গিয়ে পৌঁছালেন কোম্পানিতে। কোম্পানির পাশেই ছিলো একটা পাগলাগারদ। সেখানে গিয়ে আর্ত চিৎকারও শুনতে পেলেন।
কী ঘটছে ওখানে বা এই অতি দ্রুত জটিল সমস্যার সমাধান করে দেওয়া কোম্পানিতে?
আর যা জানতে পারলেন......
এরপরের গল্পটা আসলে আমি বলে দিলে আসল মজাটা পাওয়া যাবে না। সত্যিকারের মজাটা পাওয়া যাবে বইতেই।
আগেও বলেছি, গল্পটি আসলেই চমৎকার। হয়তো আধুনিকায়নের অনেক উপাদান এতে নেই, কিন্তু গল্পটি ফুঁটিয়ে তোলায় হয়েছে পুরোপুরি নিখুঁতভাবে। উত্তম পুরুষে লেখা গল্পটি পড়ে মনে হয়েছে যেনো আমার নিজের সাথেই ঘটছে ঘটনাগুলো। আমি নিজেই যেন রহস্যের আবিষ্কার করছি, এর জট ছুটাচ্ছি, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছি বা সফল হওয়ার আনন্দে মাতছি। আর সেই সাথে গণিতের প্রতি ঝোঁক থাকায় ইন্টারেকশনের মাত্রাটাও কিছুটা প্রবল হয়েছে। পুরোপুরি উপভোগ্য একটি বই আমার জন্য।
গল্পে বেশ কিছু চমৎকার উক্তি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে আমার যে কয়টা ভালো লেগেছে, সেগুলো হলোঃ
** অপরাধ হচ্ছে আপেক্ষিক। প্রকৃতপক্ষে সবকিছু নির্ভর করে উদ্দেশ্যের ওপর। উদ্দেশ্য যদি মহৎ হয়, তাহলে যে কোনো পদক্ষেপই ভালো বলে বিবেচিত হবে।
** মানুষ তখনই সবচেয়ে বেশি আনন্দ লাভ করে যখন সে নিজেকে চিনতে পারে; আত্নোপলব্ধি করতে পারে।
** জীবন হচ্ছে তোমার এই দেহযন্ত্রে বিদ্যমান নিউরনের ভেতর দিয়ে কোডবদ্ধ বৈদ্যুতিক উত্তেজনার অবিরত সঞ্চালন প্রক্রিয়া। (এটা বেশ কঠিন। বুঝতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিলো প্রথমে, তবে গল্পটা পুরোপুরি পড়ার পর বুঝতে আর কোনো সমস্যা হয়নি।)
অনুবাদের ব্যাপারে বললে - ফার্স্টক্লাস অনুবাদ। অনুবাদকের উন্নতি আগে থেকে নিশ্চিতভাবেই অনেক বেড়েছে। গল্পের ভাব-গাম্ভীর্য অনুযায়ী শব্দচয়নগুলো ছিলো একদম নিখুঁত। উপভোগ্য ও ঝরঝরে অনুবাদ।
তবে কিছু কিছু জায়গায় ত্রুটিও ছিলো, খুব সম্ভবত চোখ ফস্কে যাওয়া ত্রুটি এগুলো। ত্রুটিগুলো না থাকলে পাঠটা অনেক আরামদায়ক হতো ঠিকই, তবে এতে করে পড়তে গিয়ে অতোটা কষ্টও হয়নি।
ত্রিশ মিনিটে পড়ে শেষ করেছি বইটা। এতেই বুঝা যায় যে অনুবাদ কতোটা মসৃণ ছিলো। নাহলে এতো অল্প সময়ে এতো পৃষ্ঠা পড়াও সম্ভব হতো না।