What do you think?


গল্পগুচ্ছ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) এক বিরলপ্রজ কথাশিল্পীর নাম। সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে তাঁর মমতামাখানো জাদুস্পর্শী লেখা নেই। তাঁর ছোটগল্পগুলো অসাধারণ। রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প বলতে আমরা সাধারণভাবে তাঁর 'গল্পগুচ্ছ' সংকলনের গল্পগুলোর কথাই বুঝি। বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পের বইগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। তাঁর 'গল্পগুচ্ছ' যেন মহাসমুদ্র, যেখানে নানা রকম মণি-মুক্তার সন্ধান মেলে। ১৯০৮-১৯০৯ সালে ইন্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস ৫ খণ্ডে এ গল্পগুলো প্রকাশ করে। তবে ১৩০৭বঙ্গাব্দে মজুমদার লাইব্রেরি প্রকাশিত সংস্করণকেই প্রথম সংস্করণ হিসেবে গণ্য করা হয়। এ সংকলনের প্রায় বেশির ভাগ গল্পের ওপর বিভিন্ন সময় নাটক নির্মাণ হয়েছে। সংকলনের গল্পগুলো বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হয়। তাঁর প্রথম ছোটগল্প 'ভিখারিণী' ভারতী পত্রিকায় ১৮৭৪ সালে প্রকাশ হয়। পরবর্তীতে ১৮৮৪-৮৫ সালে 'ঘাটের কথা', 'রাজপথের কথা' ও 'মুকুট' প্রকাশ হলেও তাঁর প্রথম সার্থক ছোটগল্প 'দেনা-পাওনা'। গল্পটি হিতবাদী পত্রিকায় প্রকাশ হয়। এ সংকলনের পোস্টমাস্টার, ছুটি, অতিথি, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন, ব্যবধান, হৈমন্তী, নষ্টনীড়, মাল্যদান, প্রায়শ্চিত্ত, গুপ্তধন, অনধিকার প্রবেশ, মানভ
968 pages, Hardcover
First published January 1, 1908
About the author
Rabindranath Tagore
2,740 books4,396 followersAwarded the Nobel Prize in Literature in 1913 "because of his profoundly sensitive, fresh and beautiful verse, by which, with consummate skill, he has made his poetic thought, expressed in his own English words, a part of the literature of the West."
Tagore modernised Bengali art by spurning rigid classical forms and resisting linguistic strictures. His novels, stories, songs, dance-dramas, and essays spoke to topics political and personal. Gitanjali (Song Offerings), Gora (Fair-Faced), and Ghare-Baire (The Home and the World) are his best-known works, and his verse, short stories, and novels were acclaimed—or panned—for their lyricism, colloquialism, naturalism, and unnatural contemplation. His compositions were chosen by two nations as national anthems: India's Jana Gana Mana and Bangladesh's Amar Shonar Bangla.
The complete works of Rabindranath Tagore (রবীন্দ্র রচনাবলী) in the original Bengali are now available at these third-party websites:
http://www.tagoreweb.in/
http://www.rabindra-rachanabali.nltr....
Tagore modernised Bengali art by spurning rigid classical forms and resisting linguistic strictures. His novels, stories, songs, dance-dramas, and essays spoke to topics political and personal. Gitanjali (Song Offerings), Gora (Fair-Faced), and Ghare-Baire (The Home and the World) are his best-known works, and his verse, short stories, and novels were acclaimed—or panned—for their lyricism, colloquialism, naturalism, and unnatural contemplation. His compositions were chosen by two nations as national anthems: India's Jana Gana Mana and Bangladesh's Amar Shonar Bangla.
The complete works of Rabindranath Tagore (রবীন্দ্র রচনাবলী) in the original Bengali are now available at these third-party websites:
http://www.tagoreweb.in/
http://www.rabindra-rachanabali.nltr....
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 102 reviews
April 6, 2016
গল্পগুচ্ছ সম্পূর্ণ শেষ করেছিলাম ২০১৩ সালে। প্রায় দশ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে একটা-দুটো করে গল্প পড়তে পড়তে শেষে সব গল্প পড়ে ফেললাম। এখন মনে হচ্ছে আবার গল্পগুচ্ছ পড়া শুরু করা দরকার। গল্পগুচ্ছ বারবার পড়া উচিত। ছোট্ট জীবনে গল্পগুচ্ছ পড়ার যথেষ্ট সময় যেন আল্লাহ আমাদের দেননি।
আমার স্মরণশক্তি তেমন নয়। তারপরও গল্পগুচ্ছের যেই গল্পগুলো এখনো মনে অনুরণন সৃষ্টি করে তার কয়টার নাম করছি - ছুটি, পোস্টমাস্টার, নষ্টনীড়, সমাপ্তি, রবিবার, ল্যাবরেটরি, কাবুলিওয়ালা, হৈমন্তী, একটা আষাঢ়ে গল্প, একরাত্রি, ক্ষুধিত পাষাণ, মণিহারা, অপরিচিতা, ইচ্ছাপূরণ, অসম্ভব কথা, গুপ্তধন, দিদি, মেঘ ও রৌদ্র, স্ত্রীর পত্র, করুণা (মনে না থাকায় ভাললাগা অনেক গল্পের নাম উল্লেখ করতে পারলাম না)। ৯১টি গল্পের প্রায় পঞ্চাশটির মত গল্প আমার খুব ভালো লেগেছিল, ভাল লাগে নি এমন গল্পের সংখ্যা খুবই কম।
আমার স্মরণশক্তি তেমন নয়। তারপরও গল্পগুচ্ছের যেই গল্পগুলো এখনো মনে অনুরণন সৃষ্টি করে তার কয়টার নাম করছি - ছুটি, পোস্টমাস্টার, নষ্টনীড়, সমাপ্তি, রবিবার, ল্যাবরেটরি, কাবুলিওয়ালা, হৈমন্তী, একটা আষাঢ়ে গল্প, একরাত্রি, ক্ষুধিত পাষাণ, মণিহারা, অপরিচিতা, ইচ্ছাপূরণ, অসম্ভব কথা, গুপ্তধন, দিদি, মেঘ ও রৌদ্র, স্ত্রীর পত্র, করুণা (মনে না থাকায় ভাললাগা অনেক গল্পের নাম উল্লেখ করতে পারলাম না)। ৯১টি গল্পের প্রায় পঞ্চাশটির মত গল্প আমার খুব ভালো লেগেছিল, ভাল লাগে নি এমন গল্পের সংখ্যা খুবই কম।
July 15, 2019
কবিগুরুর গল্পগুচ্ছ নয়, এ হল গুরুর গল্পগুচ্ছ। বাংলা সাহিত্যে গুরুর যদি কিছু অবদান থেকে থাকে তো তার এক নম্বরে আসবে গুরুর বৈচিত্র্যময় গদ্যভাষা, যা কখনও ডোবায়, কখনও ভাসায়, কখনও উল্টেপাল্টে দেয়। দুনিয়া যখন কলতলায় পরিণত, চিন্তাহীনতাই যখন প্রকাশভঙ্গী, খেউড়ই যখন ভাষা, তখন একমাত্র নতুন এক পৃথিবীই আপনাকে অন্য আকাশ দেখাতে পারে। তারই এক ঝলক হল এ গল্পগুচ্ছ।
August 4, 2014
বইটি অনেক আগের কেনা এবং পড়ব পড়ব করেও এতদিন পড়া হয় নি। আমি যে একটা বিশাল বড় অন্যায় করে ফেলেছি তা আর কাউকে বলতে হবে না। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা একটা বই এতদিন না পড়ে পড়েছিলাম সূতরাং আমি এতদিন আসলে আমি কোন বই-ই পড়িনি বলা যায়।
গল্পগুলোর মূল্যয়ণ করার মত ধৃষ্টতা আমার নেই। শুধু বলব রবীন্দ্রনাথ ছোটগল্পগুলোর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে অনেকগুলো চরিত্র রচনা করে গেছেন যেগুলো চিরকাল পাঠকের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে। পোস্টমাস্টার গল্পের রতন, সমাপ্তি গল্পের মৃন্ময়ী, কাবুলিওয়ালা গল্পের কাবুলিওয়ালা, ছুটি গল্পের ফটিক, হৈমন্তী গল্পের হৈমন্তী, জীবন্মৃত গল্পের কাদম্বিনী এরকম আরো অসংখ্য চরিত্র উপমা হিসেবে চলে আসছে।
ছোটগল্প সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের নিজস্ব একটি কবিতা উল্লেখ না করে পারছি না।
" বর্ষার সমান সুরে অন্তর বাহির পূরে
সংগীতের মুষলধারায়-
পরাণের বহুদূর কূলে কূলে ভরপুর,
বিদেশী কাব্যে সে কোথা হায়!
তখন সে পুঁথি ফেলি দুয়ারে আসন মেলি
বসি গিয়ে আপনার মনে-
কিছু করিবার নাই, চেয়ে চেয়ে ভাবি তাই
দীর্ঘদিন কাটিবে কেমনে।
মাথাটি করিয়া নিচু বসে বসে রচি কিছু
বহুযত্নে সারাদিন ধরে-
ইচ্ছা করে অবিরত আপনার মনোমত
গল্প লিখি একেকটি করে।
ছোটো প্রাণ, ছোটো ব্যথা, ছোটো ছোটো দুঃখকথা
নিতান্তই সহজ সরল-
সহস্র বিস্মৃতিরাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি,
তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা,
নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ-
অন্তরে অতৃপ্তি রবে, সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হইয়াও হইল না শেষ।
জগতের শত শত অসমাপ্ত কথা যত,
অকালের বিচ্ছিন্ন মুকুল,
অঞ্জাত জীবনগুলা, অখ্যাত কীর্তির ধুলা,
কত ভাব, কত ভয় ভুল-
সংসারের দশ দিশি ঝরিতেছে অহর্নিশি
ঝরঝর বরিষার মতো-
ক্ষণ-অশ্রু ক্ষণহাসি পড়িতেছে রাশি রাশি,
শব্দ শুনি তার অবিরত।
সেইসব হেলাফেলা, নিমিষের লীলাখেলা
চারিদিকে করি স্তূপাকার
তাই দিয়ে করি সৃষ্টি একটি বিস্মৃতিবৃষ্টি
জীবনের শ্রাবণনিশার।
- বর্ষাযাপন।
ওহ হ্যাঁ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাংলা সার্থক ছোটগল্পের জনক বলা হয়।
গল্পগুলোর মূল্যয়ণ করার মত ধৃষ্টতা আমার নেই। শুধু বলব রবীন্দ্রনাথ ছোটগল্পগুলোর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে অনেকগুলো চরিত্র রচনা করে গেছেন যেগুলো চিরকাল পাঠকের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে। পোস্টমাস্টার গল্পের রতন, সমাপ্তি গল্পের মৃন্ময়ী, কাবুলিওয়ালা গল্পের কাবুলিওয়ালা, ছুটি গল্পের ফটিক, হৈমন্তী গল্পের হৈমন্তী, জীবন্মৃত গল্পের কাদম্বিনী এরকম আরো অসংখ্য চরিত্র উপমা হিসেবে চলে আসছে।
ছোটগল্প সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের নিজস্ব একটি কবিতা উল্লেখ না করে পারছি না।
" বর্ষার সমান সুরে অন্তর বাহির পূরে
সংগীতের মুষলধারায়-
পরাণের বহুদূর কূলে কূলে ভরপুর,
বিদেশী কাব্যে সে কোথা হায়!
তখন সে পুঁথি ফেলি দুয়ারে আসন মেলি
বসি গিয়ে আপনার মনে-
কিছু করিবার নাই, চেয়ে চেয়ে ভাবি তাই
দীর্ঘদিন কাটিবে কেমনে।
মাথাটি করিয়া নিচু বসে বসে রচি কিছু
বহুযত্নে সারাদিন ধরে-
ইচ্ছা করে অবিরত আপনার মনোমত
গল্প লিখি একেকটি করে।
ছোটো প্রাণ, ছোটো ব্যথা, ছোটো ছোটো দুঃখকথা
নিতান্তই সহজ সরল-
সহস্র বিস্মৃতিরাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি,
তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা,
নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ-
অন্তরে অতৃপ্তি রবে, সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হইয়াও হইল না শেষ।
জগতের শত শত অসমাপ্ত কথা যত,
অকালের বিচ্ছিন্ন মুকুল,
অঞ্জাত জীবনগুলা, অখ্যাত কীর্তির ধুলা,
কত ভাব, কত ভয় ভুল-
সংসারের দশ দিশি ঝরিতেছে অহর্নিশি
ঝরঝর বরিষার মতো-
ক্ষণ-অশ্রু ক্ষণহাসি পড়িতেছে রাশি রাশি,
শব্দ শুনি তার অবিরত।
সেইসব হেলাফেলা, নিমিষের লীলাখেলা
চারিদিকে করি স্তূপাকার
তাই দিয়ে করি সৃষ্টি একটি বিস্মৃতিবৃষ্টি
জীবনের শ্রাবণনিশার।
- বর্ষাযাপন।
ওহ হ্যাঁ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাংলা সার্থক ছোটগল্পের জনক বলা হয়।
April 6, 2021
বাংলাসাহিত্য ও বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ঐশ্বর্য।
January 22, 2020
রবীন্দ্রনাথের তুলনা কেবল তিনি নিজেই। তাঁর বইয়ের সমালোচনা করার ধৃষ্টতা দেখানোর ক্ষমতা আমার নেই। তাই শুধু বই পড়ার প্রতিক্রিয়াটুকুই বলতে পারি।
কত বিচিত্র ধরনের গল্পের সমাহার গল্পগুচ্ছে! মজার গল্প থেকে শুরু করে ভুতের গল্প, সাধারণ ঘরকন্নার গল্প — সবই আছে। গল্পগুলো খুব বেশি বড় নয়, অথচ তার রেশ থেকে যায় অনেকক্ষণ। তাঁর লেখা চরিত্রগুলোও অসাধারণ। "পোস্টমাস্টার" গল্পের রতন, "নষ্টনীড় ”গল্পের চারু এদের কি ভোলা যায়?
" ক্ষুধিত পাষাণ " গল্পটা এখনও আমাকে ভাবায়। মনে মনে চিন্তা করি সেই পয়লা নম্বরের বাবুটি কি ভুলতে পেরেছিলেন। অচিরা আর নবীনমাধব কি ভালোবাসাকে বিসর্জন দিয়ে তাদের নিজ নিজ কাজে সফল হতে পেরেছিল? অনুপম আর কল্যাণীর ই বা কী হল?
আরও বহুবার পড়ব গল্পগুচ্ছ, আবার নতুন করে প্রেমে পড়ব গল্পগুলোর সাথে।
কত বিচিত্র ধরনের গল্পের সমাহার গল্পগুচ্ছে! মজার গল্প থেকে শুরু করে ভুতের গল্প, সাধারণ ঘরকন্নার গল্প — সবই আছে। গল্পগুলো খুব বেশি বড় নয়, অথচ তার রেশ থেকে যায় অনেকক্ষণ। তাঁর লেখা চরিত্রগুলোও অসাধারণ। "পোস্টমাস্টার" গল্পের রতন, "নষ্টনীড় ”গল্পের চারু এদের কি ভোলা যায়?
" ক্ষুধিত পাষাণ " গল্পটা এখনও আমাকে ভাবায়। মনে মনে চিন্তা করি সেই পয়লা নম্বরের বাবুটি কি ভুলতে পেরেছিলেন। অচিরা আর নবীনমাধব কি ভালোবাসাকে বিসর্জন দিয়ে তাদের নিজ নিজ কাজে সফল হতে পেরেছিল? অনুপম আর কল্যাণীর ই বা কী হল?
আরও বহুবার পড়ব গল্পগুচ্ছ, আবার নতুন করে প্রেমে পড়ব গল্পগুলোর সাথে।
August 16, 2022
প্রতিবার নতুন লাগে। যতবার পড়ি ততবার আলোকিত পুলকিত হই নতুন প্রাতে সূর্যের মতো।
যখন আমায় কেউ বই সাজেস্ট করতে বলে তখন আমি 'গল্পগুচ্ছ' এর কথা বলি।
আমার পায়ে চলার পথ, স্বপ্ন, আশা-দুরাশা, সুখ-দুঃখ-বেদনা, দিবালোক, মর্তলোক, সুরলোক সবই তুমি। মানবজীবনের অজানা দ্বীপে তোমার আগে আর কেউ পৌচ্ছাতে পারেনি এবং পারবে না কবি গুরু।
যখন আমায় কেউ বই সাজেস্ট করতে বলে তখন আমি 'গল্পগুচ্ছ' এর কথা বলি।
আমার পায়ে চলার পথ, স্বপ্ন, আশা-দুরাশা, সুখ-দুঃখ-বেদনা, দিবালোক, মর্তলোক, সুরলোক সবই তুমি। মানবজীবনের অজানা দ্বীপে তোমার আগে আর কেউ পৌচ্ছাতে পারেনি এবং পারবে না কবি গুরু।
Currently Reading
June 25, 20221. ঘাটের কথা
2. রাজপথের কথা
3. মুকুট
4. দেনাপাওনা
5. পোস্টমাস্টার
6. গিন্নি
7. রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা
8. ব্যবধান
9. তারাপ্রসন্নের কীর্তি
10. খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
11. সম্পত্তি-সমর্পণ
12. দালিয়া
13. কঙ্কাল
14. মুক্তির উপায়
15. ত্যাগ
16. একরাত্রি
17. একটা আষাঢ়ে গল্প
18. জীবিত ও মৃত
19. স্বর্ণমৃগ
20. রীতিমত নভেল
21. জয়পরাজয়
22. কাবুলিওয়ালা
23. ছুটি
24. সুভা
25. মহামায়া
26. দানপ্রতিদান
27. সম্পাদক
28. মধ্যবর্তিনী
29. অসম্ভব কথা
30. শাস্তি
31. একটি ক্ষুদ্র পুরাতন গল্প
32. সমাপ্তি
অপূর্বকৃষ্ণ বি.এ. পাশ করিয়া কলিকাতা হইতে দেশে ফিরিয়া দুরন্ত এক কিশোরী মৃন্ময়ীর প্রেমে পড়ে এবং বিয়ে করে। বিয়ের পর আপূর্ব আইন পরিবার জন্য কলিকাতা চলে আসলে এক দিনের ব্যবধানে মৃন্ময়ী কিশোরীর কোল ছাড়িয়া যৌবনের কোলে আছড়ে পরে। পরিশেষে শাশুড়িসহ মৃন্ময়ী কলিকাতা রওনা দেয় অপূর্বর কাছে।
“পৃথিবীতে অনেক মুখ চোখে পড়ে কিন্তু এক একটি মুখ বলাকহা নাই একেবারে মনের মধ্যে গিয়া উত্তীর্ণ হয়। সে কেবল সৌন্দর্যের জন্য নহে, আর একটা কী গুণ আছে। সে গুণটি বোধ করি স্বচ্ছতা। অধিকাংশ মুখের মধ্যেই মনুষ্যপ্রকৃতিটি আপনাকে পরিস্ফুটরূপে প্রকাশ করিতে পারে না; যে-মুখে সেই অন্তর-গুহাবাসী রহস্যময় লোকটি অবাধে বাহির হইয়া দেখা দেয়, সে মুখ সহস্রের মধ্যে চোখে পড়ে এবং এক পলকে মনে মুদ্রিত হইয়া যায়। এই বালিকার মুখে চোখে একটি দুরন্ত অবাধ্য নারীপ্রকৃতি উন্মুক্ত বেগবান অরণ্যমৃগের মতো সর্বদা দেখা দেয়, খেলা করে, সেইজন্য এই জীবনচঞ্চল মুখখানি একবার দেখিলে আর সহজে ভোলা যায় না।“
“রৌদ্রোজ্জ্বল নির্মল চঞ্চল নির্ঝরিণীর দিকে অবনত হইয়া কৌতূহলী পথিক যেমন নিবিষ্টদৃষ্টিতে তাহার তলদেশ দেখিতে থাকে, অপূর্ব তেমনি করিয়া গম্ভীর গম্ভীর নেত্রে মৃন্ময়ীর উর্ধ্বোৎক্ষিপ্ত মুখের উপর, তড়িত্তরল দুটি চক্ষুর মধ্যে চাহিয়া দেখিল এবং অত্যন্ত ধীরে ধীরে মুষ্টি শিথিল করিয়া যেন যথাকর্তব্য অসম্পন্ন রাখিয়া বন্দিনীকে ছাড়িয়া দিল।“
“রাত্রে ঘন মেঘ করিয়া ঝুপ ঝুপ শব্দে বৃষ্টি হইতে আরম্ভ হইল। অপূর্বকৃষ্ণ বিছানার মধ্যে অতি ধীরে ধীরে মৃন্ময়ীর কাছে ঈষৎ অগ্রসর হইয়া তাহাক কানে কানে মৃদুস্বরে কহিল,
'মৃন্ময়ী, তুমি আমাকে ভালোবাস না?'
মৃন্ময়ী সতেজে বলিয়া উঠিল, 'না। আমি তোমাকে কক্খনোই ভালোবাসব না।' তাহার যত রাগ এবং যত শাস্তিবিধান সমস্তই পুঞ্জীভূত বজ্রের ন্যায় অপূর্বর মাথার উপর নিক্ষেপ করিল।
অপূর্ব ক্ষুণ্ন হইয়া কহিল, 'কেন, আমি তোমার কাছে কী দোষ করেছি।' মৃন্ময়ী কহিল, 'তুমি আমাকে বিয়ে করলে কেন।“
“ঘরের মধ্যে স্থানাভাব, লোকাভাব, অন্নাভাব, কিন্তু ক্ষুদ্র ছিদ্র হইতে ফোয়ারা যেমন চতুর্গুণ বেগে উত্থিত হয় তেমনি দারিদ্র্যের সংকীর্ণ মুখ হইতে আনন্দ পরিপূর্ণ ধারায় উচ্ছ্বসিত হইতে লাগিল।“
“মৃন্ময়ী শয্যাত্যাগ করিয়া উঠিয়া দাঁড়াইলে অপূর্ব তাহার দুই হাত ধরিয়া কহিল, 'এখন আমার একটি প্রার্থনা আছে। আমি অনেক সময় তোমার অনেক সাহায্য করিয়াছি আজ যাইবার সময় তাহার একটি পুরস্কার দিবে?'
মৃন্ময়ী বিস্মিত হইয়া কহিল, 'কী।'
অপূর্ব কহিল, 'তুমি ইচ্ছা করিয়া ভালোবাসিয়া আমাকে একটি চুম্বন দাও।'
অপূর্বর এই অদ্ভুত প্রার্থনা এবং গম্ভীর মুখভাব দেখিয়া মৃন্ময়ী হাসিয়া উঠিল। হাস্য সংবরণ করিয়া মুখ বাড়াইয়া চুম্বন করিতে উদ্যত হইল--কাছাকাছি গিয়া আর পারিল না, খিল খিল করিয়া হাসিয়া উঠিল। এমন দুইবার চেষ্টা করিয়া অবশেষে নিরস্ত হইয়া মুখে কাপড় দিয়া হাসিতে লাগিল। শাসনচ্ছলে অপূর্ব তাহার কর্ণমূল ধরিয়া নাড়িয়া দিল।“
“গল্পে শুনা যায়, নিপুণ অস্ত্রকার এমন সূক্ষ্ণ তরবারি নির্মাণ করিতে পারে যে, তদ্দ্বারা মানুষকে দ্বিখণ্ড করিলেও সে জানিতে পারে না, অবশেষে নাড়া দিলে দুই অর্ধখণ্ড ভিন্ন হইয়া যায়। বিধাতার তরবারি সেইরূপ সূক্ষ্ণ, কখন তিনি মৃন্ময়ীর বাল্য ও যৌবনের মাঝখানে আঘাত করিয়াছিলেন সে জানিতে পারে নাই; আজ কেমন করিয়া নাড়া পাইয়া বাল্য-অংশ যৌবন হইতে বিচ্যুত হইয়া পড়িল এবং মৃন্ময়ী বিস্মিত হইয়া ব্যথিত হইয়া চাহিয়া রহিল।“
“আমি আমাকে বুঝিতে পারি নাই বলিয়া তুমি আমাকে বুঝিলে না কেন।“
33. সমস্যাপূরণ
কৃষ্ণগোপালের বিশাল জমিদারি। বৃদ্ধ বয়সে সে তার সমস্ত জমিদারি তার ছেলে বিপিনের হতে সমর্পণ করে কাশী যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং কাশী গমন করেন। বিপিন জমিদারি হাতে নিয়া দেখেন সমস্ত প্রজা সম্প্রদায় তার পিতার সরলতার সুযোগ নিয়া এতদিন ঠকাইয়া আসতেছিল। বিপিন এ ক্ষতি মেনে নিতে পারলো না। সে সকল প্রকার প্রতি কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। সকল প্রজা মেনে নিলেও মেনে নিতে পারেনি মির্জাবিবির পুত্র মুসলমান ছেলে আছিমদ্দি। অবশেষে আছিমদ্দির সাথে মামলা মোকদ্দমা পর্যন্ত গড়ালে, মামলার সাক্ষীর দিন কৃষ্ণগোলাপ কাশী হতে চলে আসে মামলা নিষ্পত্তির আদেশ নিয়ে। বিপিন এর কারণ জানতে চাইলে তার পিতা তাকে জানায় যে, আছিমদ্দি তার ভাই।
সংসারে সাধু-অসাধুর মধ্যে প্রভেদ এই যে, সাধুরা কপট আর অসাধুরা অকপট
34. খাতা
35. অনধিকার প্রবেশ
36. মেঘ ও রৌদ্র
37. প্রায়শ্চিত্ত
38. বিচারক
39. নিশীথে
40. আপদ
41. দিদি
42. মানভঞ্জন
43. ঠাকুরদা
44. প্রতিহিংসা
45. ক্ষুধিত পাষাণ
46. অতিথি
47. ইচ্ছাপূরণ
48. দুরাশা
49. পুত্রযজ্ঞ
50. ডিটেকটিভ
51. অধ্যাপক
52. রাজটিকা
53. মণিহারা
54. দৃষ্টিদান
55. সদর ও অন্দর
56. উদ্ধার
57. দুর্বুদ্ধি
58. ফেল
59. শুভদৃষ্টি
60. যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
61. উলুখড়ের বিপদ
62. প্রতিবেশিনী
63. নষ্টনীড়
64. দর্পহরণ
65. মাল্যদান
66. কর্মফল
67. গুপ্তধন
68. মাস্টারমশায়
69. রাসমণির ছেলে
70. পণরক্ষা
71. হালদারগোষ্ঠী
72. হৈমন্তী
73. বোষ্টমী
74. স্ত্রীর পত্র
75. ভাইফোঁটা
76. শেষের রাত্রি
77. অপরিচিতা
78. তপস্বিনী
79. পয়লা নম্বর
80. পাত্র ও পাত্রী
81. নামঞ্জুর গল্প
82. সংস্কার
83. বলাই
84. চিত্রকর
85. চোরাই ধন
86. বদনাম
87. প্রগতিসংহার
88. শেষ পুরস্কার
89. মুসলমানীর গল্প
90. ভিখারিণী
91. করুণা
2. রাজপথের কথা
3. মুকুট
4. দেনাপাওনা
5. পোস্টমাস্টার
6. গিন্নি
7. রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা
8. ব্যবধান
9. তারাপ্রসন্নের কীর্তি
10. খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
11. সম্পত্তি-সমর্পণ
12. দালিয়া
13. কঙ্কাল
14. মুক্তির উপায়
15. ত্যাগ
16. একরাত্রি
17. একটা আষাঢ়ে গল্প
18. জীবিত ও মৃত
19. স্বর্ণমৃগ
20. রীতিমত নভেল
21. জয়পরাজয়
22. কাবুলিওয়ালা
23. ছুটি
24. সুভা
25. মহামায়া
26. দানপ্রতিদান
27. সম্পাদক
28. মধ্যবর্তিনী
29. অসম্ভব কথা
30. শাস্তি
31. একটি ক্ষুদ্র পুরাতন গল্প
32. সমাপ্তি
অপূর্বকৃষ্ণ বি.এ. পাশ করিয়া কলিকাতা হইতে দেশে ফিরিয়া দুরন্ত এক কিশোরী মৃন্ময়ীর প্রেমে পড়ে এবং বিয়ে করে। বিয়ের পর আপূর্ব আইন পরিবার জন্য কলিকাতা চলে আসলে এক দিনের ব্যবধানে মৃন্ময়ী কিশোরীর কোল ছাড়িয়া যৌবনের কোলে আছড়ে পরে। পরিশেষে শাশুড়িসহ মৃন্ময়ী কলিকাতা রওনা দেয় অপূর্বর কাছে।
“পৃথিবীতে অনেক মুখ চোখে পড়ে কিন্তু এক একটি মুখ বলাকহা নাই একেবারে মনের মধ্যে গিয়া উত্তীর্ণ হয়। সে কেবল সৌন্দর্যের জন্য নহে, আর একটা কী গুণ আছে। সে গুণটি বোধ করি স্বচ্ছতা। অধিকাংশ মুখের মধ্যেই মনুষ্যপ্রকৃতিটি আপনাকে পরিস্ফুটরূপে প্রকাশ করিতে পারে না; যে-মুখে সেই অন্তর-গুহাবাসী রহস্যময় লোকটি অবাধে বাহির হইয়া দেখা দেয়, সে মুখ সহস্রের মধ্যে চোখে পড়ে এবং এক পলকে মনে মুদ্রিত হইয়া যায়। এই বালিকার মুখে চোখে একটি দুরন্ত অবাধ্য নারীপ্রকৃতি উন্মুক্ত বেগবান অরণ্যমৃগের মতো সর্বদা দেখা দেয়, খেলা করে, সেইজন্য এই জীবনচঞ্চল মুখখানি একবার দেখিলে আর সহজে ভোলা যায় না।“
“রৌদ্রোজ্জ্বল নির্মল চঞ্চল নির্ঝরিণীর দিকে অবনত হইয়া কৌতূহলী পথিক যেমন নিবিষ্টদৃষ্টিতে তাহার তলদেশ দেখিতে থাকে, অপূর্ব তেমনি করিয়া গম্ভীর গম্ভীর নেত্রে মৃন্ময়ীর উর্ধ্বোৎক্ষিপ্ত মুখের উপর, তড়িত্তরল দুটি চক্ষুর মধ্যে চাহিয়া দেখিল এবং অত্যন্ত ধীরে ধীরে মুষ্টি শিথিল করিয়া যেন যথাকর্তব্য অসম্পন্ন রাখিয়া বন্দিনীকে ছাড়িয়া দিল।“
“রাত্রে ঘন মেঘ করিয়া ঝুপ ঝুপ শব্দে বৃষ্টি হইতে আরম্ভ হইল। অপূর্বকৃষ্ণ বিছানার মধ্যে অতি ধীরে ধীরে মৃন্ময়ীর কাছে ঈষৎ অগ্রসর হইয়া তাহাক কানে কানে মৃদুস্বরে কহিল,
'মৃন্ময়ী, তুমি আমাকে ভালোবাস না?'
মৃন্ময়ী সতেজে বলিয়া উঠিল, 'না। আমি তোমাকে কক্খনোই ভালোবাসব না।' তাহার যত রাগ এবং যত শাস্তিবিধান সমস্তই পুঞ্জীভূত বজ্রের ন্যায় অপূর্বর মাথার উপর নিক্ষেপ করিল।
অপূর্ব ক্ষুণ্ন হইয়া কহিল, 'কেন, আমি তোমার কাছে কী দোষ করেছি।' মৃন্ময়ী কহিল, 'তুমি আমাকে বিয়ে করলে কেন।“
“ঘরের মধ্যে স্থানাভাব, লোকাভাব, অন্নাভাব, কিন্তু ক্ষুদ্র ছিদ্র হইতে ফোয়ারা যেমন চতুর্গুণ বেগে উত্থিত হয় তেমনি দারিদ্র্যের সংকীর্ণ মুখ হইতে আনন্দ পরিপূর্ণ ধারায় উচ্ছ্বসিত হইতে লাগিল।“
“মৃন্ময়ী শয্যাত্যাগ করিয়া উঠিয়া দাঁড়াইলে অপূর্ব তাহার দুই হাত ধরিয়া কহিল, 'এখন আমার একটি প্রার্থনা আছে। আমি অনেক সময় তোমার অনেক সাহায্য করিয়াছি আজ যাইবার সময় তাহার একটি পুরস্কার দিবে?'
মৃন্ময়ী বিস্মিত হইয়া কহিল, 'কী।'
অপূর্ব কহিল, 'তুমি ইচ্ছা করিয়া ভালোবাসিয়া আমাকে একটি চুম্বন দাও।'
অপূর্বর এই অদ্ভুত প্রার্থনা এবং গম্ভীর মুখভাব দেখিয়া মৃন্ময়ী হাসিয়া উঠিল। হাস্য সংবরণ করিয়া মুখ বাড়াইয়া চুম্বন করিতে উদ্যত হইল--কাছাকাছি গিয়া আর পারিল না, খিল খিল করিয়া হাসিয়া উঠিল। এমন দুইবার চেষ্টা করিয়া অবশেষে নিরস্ত হইয়া মুখে কাপড় দিয়া হাসিতে লাগিল। শাসনচ্ছলে অপূর্ব তাহার কর্ণমূল ধরিয়া নাড়িয়া দিল।“
“গল্পে শুনা যায়, নিপুণ অস্ত্রকার এমন সূক্ষ্ণ তরবারি নির্মাণ করিতে পারে যে, তদ্দ্বারা মানুষকে দ্বিখণ্ড করিলেও সে জানিতে পারে না, অবশেষে নাড়া দিলে দুই অর্ধখণ্ড ভিন্ন হইয়া যায়। বিধাতার তরবারি সেইরূপ সূক্ষ্ণ, কখন তিনি মৃন্ময়ীর বাল্য ও যৌবনের মাঝখানে আঘাত করিয়াছিলেন সে জানিতে পারে নাই; আজ কেমন করিয়া নাড়া পাইয়া বাল্য-অংশ যৌবন হইতে বিচ্যুত হইয়া পড়িল এবং মৃন্ময়ী বিস্মিত হইয়া ব্যথিত হইয়া চাহিয়া রহিল।“
“আমি আমাকে বুঝিতে পারি নাই বলিয়া তুমি আমাকে বুঝিলে না কেন।“
33. সমস্যাপূরণ
কৃষ্ণগোপালের বিশাল জমিদারি। বৃদ্ধ বয়সে সে তার সমস্ত জমিদারি তার ছেলে বিপিনের হতে সমর্পণ করে কাশী যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং কাশী গমন করেন। বিপিন জমিদারি হাতে নিয়া দেখেন সমস্ত প্রজা সম্প্রদায় তার পিতার সরলতার সুযোগ নিয়া এতদিন ঠকাইয়া আসতেছিল। বিপিন এ ক্ষতি মেনে নিতে পারলো না। সে সকল প্রকার প্রতি কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। সকল প্রজা মেনে নিলেও মেনে নিতে পারেনি মির্জাবিবির পুত্র মুসলমান ছেলে আছিমদ্দি। অবশেষে আছিমদ্দির সাথে মামলা মোকদ্দমা পর্যন্ত গড়ালে, মামলার সাক্ষীর দিন কৃষ্ণগোলাপ কাশী হতে চলে আসে মামলা নিষ্পত্তির আদেশ নিয়ে। বিপিন এর কারণ জানতে চাইলে তার পিতা তাকে জানায় যে, আছিমদ্দি তার ভাই।
সংসারে সাধু-অসাধুর মধ্যে প্রভেদ এই যে, সাধুরা কপট আর অসাধুরা অকপট
34. খাতা
35. অনধিকার প্রবেশ
36. মেঘ ও রৌদ্র
37. প্রায়শ্চিত্ত
38. বিচারক
39. নিশীথে
40. আপদ
41. দিদি
42. মানভঞ্জন
43. ঠাকুরদা
44. প্রতিহিংসা
45. ক্ষুধিত পাষাণ
46. অতিথি
47. ইচ্ছাপূরণ
48. দুরাশা
49. পুত্রযজ্ঞ
50. ডিটেকটিভ
51. অধ্যাপক
52. রাজটিকা
53. মণিহারা
54. দৃষ্টিদান
55. সদর ও অন্দর
56. উদ্ধার
57. দুর্বুদ্ধি
58. ফেল
59. শুভদৃষ্টি
60. যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
61. উলুখড়ের বিপদ
62. প্রতিবেশিনী
63. নষ্টনীড়
64. দর্পহরণ
65. মাল্যদান
66. কর্মফল
67. গুপ্তধন
68. মাস্টারমশায়
69. রাসমণির ছেলে
70. পণরক্ষা
71. হালদারগোষ্ঠী
72. হৈমন্তী
73. বোষ্টমী
74. স্ত্রীর পত্র
75. ভাইফোঁটা
76. শেষের রাত্রি
77. অপরিচিতা
78. তপস্বিনী
79. পয়লা নম্বর
80. পাত্র ও পাত্রী
81. নামঞ্জুর গল্প
82. সংস্কার
83. বলাই
84. চিত্রকর
85. চোরাই ধন
86. বদনাম
87. প্রগতিসংহার
88. শেষ পুরস্কার
89. মুসলমানীর গল্প
90. ভিখারিণী
91. করুণা
October 17, 2015
পকেটে নিয়ে ঘোরাঘুরি করা গেলে ভালো হত....
September 26, 2021
This one is one of my favorites of Rabindranath. It's a a complete collection of all of his short stories which include genres like- romance, comedy, tragedy etc.
And among all of them I have two favorites.
1. Shomapti.
2. Oporochita.
PS: to my Goodreads friends from abroad, I donno if this one has a translated version or not, if yes, you guys will love it.
And among all of them I have two favorites.
1. Shomapti.
2. Oporochita.
PS: to my Goodreads friends from abroad, I donno if this one has a translated version or not, if yes, you guys will love it.
October 24, 2014
Amazingly insightful....revealing those little ironies of life which is even difficult to comprehend or even notice.Definitely, the master story teller.Real evergreen stories.
February 2, 2021
I go back to this Monumental piece of literature again and again
January 19, 2026
বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পে নবপ্রবাহের পথিক, বাঙালির চিরায়ত ভক্তিরসে নিষিক্ত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে জীবনের স্পর্শ ও ভাষার মাধুর্যে নিজেকে এক অনন্ত নিদর্শনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
তাঁর গল্পগুচ্ছের প্রেক্ষাপটের দিকে তাকালে যে বাস্তবতা দেখা যায়, তাতে মানুষ-মনুষ্যত্ব, প্রকৃতি - পরিবেশ, প্রবাহিত জীবন থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া মানুষের কথা শিল্প সুষমার সৃষ্টি রসের ধারায় প্রাঞ্জল হয়ে উঠেছে।
গল্পগুচ্ছ পড়তে পড়তে বারবার মনে হয়েছে সময় বদলালেও মানুষের সুখ-দুঃখের ভাষা বদলায় না । শত বছর আগের গ্রামবাংলা হোক কিংবা আজকের শহুরে জীবন মানুষের ভাঙা মন, না বলা কথা আর ছোট ছোট স্বপ্নের পরাজয় একই রকম থেকে যায়। রবীন্দ্রনাথ সেই চিরন্তন মানবিকতাকেই শব্দে বেঁধেছেন গল্পগুচ্ছে।
তাঁর গল্পগুচ্ছের প্রেক্ষাপটের দিকে তাকালে যে বাস্তবতা দেখা যায়, তাতে মানুষ-মনুষ্যত্ব, প্রকৃতি - পরিবেশ, প্রবাহিত জীবন থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া মানুষের কথা শিল্প সুষমার সৃষ্টি রসের ধারায় প্রাঞ্জল হয়ে উঠেছে।
গল্পগুচ্ছ পড়তে পড়তে বারবার মনে হয়েছে সময় বদলালেও মানুষের সুখ-দুঃখের ভাষা বদলায় না । শত বছর আগের গ্রামবাংলা হোক কিংবা আজকের শহুরে জীবন মানুষের ভাঙা মন, না বলা কথা আর ছোট ছোট স্বপ্নের পরাজয় একই রকম থেকে যায়। রবীন্দ্রনাথ সেই চিরন্তন মানবিকতাকেই শব্দে বেঁধেছেন গল্পগুচ্ছে।
July 10, 2025
"গল্পগুচ্ছ"/"Golpo guchho"- meaning- a collection of stories in Bengali...
I LOVE Rabindranath Tagore/Thakur's works! Especially written in Bengali... because they have "the essence" in them. My heart melts whenever I read anything written by the Nobel laureate!
A True Gem of India💖
I LOVE Rabindranath Tagore/Thakur's works! Especially written in Bengali... because they have "the essence" in them. My heart melts whenever I read anything written by the Nobel laureate!
A True Gem of India💖
May 4, 2020
রবীন্দ্রসাহিত্যে আমার হাতেখড়ি ক্লাস সিক্সে। সে বছর জন্মদিনে সুমন স্যার রবীন্দ্রনাথের ছবিওলা খিটখিটে সবুজ মলাটের একটা 'গল্পগুচ্ছ' হাতে দিয়ে বলেছিলেন, "বাংলা সাহিত্যে তোমাকে স্বাগতম, মামুন! আর 'পোস্টমাস্টার' আগে পড়বে..."
এ নিয়ে কতবার যে শুধু 'পোস্টমাস্টার'ই পড়া হয়ে গেছে হিসেব নেই। কম বেশি সবগুলো গল্পই কয়েকবার করে পড়া হয়েছে। তার মধ্যে যে ক'টা গল্পের আকে বাকে মন অবসর পেলেই সবসময় ঘুরে বেড়ায় - একরাত্রি, জীবিত ও মৃত, দেনাপাওনা, মেঘ ও রৌদ্র, নষ্টনীড়, বলাই, পয়লা নম্বর, স্ত্রীর পত্র, শেষের রাত্রি, হৈমন্তী, অপরিচিতা সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
ছোটগল্পের যে একটা বিশেষ ব্যাপার আমাদের সকলেরই হয়ত জানা, দু'তিন পৃষ্ঠায় একটা গল্প শেষ হয়ে যায় ঠিক কিন্তু নিঃশব্দে মনের কোথাও রেখে যায় একটা অনিঃশেষ ভাবনা। পায়চারি করতে করতেই কখনও হুটহাট করে মাথায় চলে আসে,
"হায় বুদ্ধিহীন মানব হৃদয়! ভ্রান্তি কিছুতেই ঘোঁচে না।''
অথবা, "কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরিয়াও মরে নাই।"
আবার কখনও, "শিগগির চলে আয়, এই গাড়িতে জায়গা আছে।"
এ নিয়ে কতবার যে শুধু 'পোস্টমাস্টার'ই পড়া হয়ে গেছে হিসেব নেই। কম বেশি সবগুলো গল্পই কয়েকবার করে পড়া হয়েছে। তার মধ্যে যে ক'টা গল্পের আকে বাকে মন অবসর পেলেই সবসময় ঘুরে বেড়ায় - একরাত্রি, জীবিত ও মৃত, দেনাপাওনা, মেঘ ও রৌদ্র, নষ্টনীড়, বলাই, পয়লা নম্বর, স্ত্রীর পত্র, শেষের রাত্রি, হৈমন্তী, অপরিচিতা সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
ছোটগল্পের যে একটা বিশেষ ব্যাপার আমাদের সকলেরই হয়ত জানা, দু'তিন পৃষ্ঠায় একটা গল্প শেষ হয়ে যায় ঠিক কিন্তু নিঃশব্দে মনের কোথাও রেখে যায় একটা অনিঃশেষ ভাবনা। পায়চারি করতে করতেই কখনও হুটহাট করে মাথায় চলে আসে,
"হায় বুদ্ধিহীন মানব হৃদয়! ভ্রান্তি কিছুতেই ঘোঁচে না।''
অথবা, "কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরিয়াও মরে নাই।"
আবার কখনও, "শিগগির চলে আয়, এই গাড়িতে জায়গা আছে।"
July 27, 2017
বলা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আর কিছু না থাকলেও কিছু ছোটগল্প আর গান থেকে যাবে। এই থেকে যাওয়াটা যে শত বছরের পরিধিকে পেরিয়ে সহস্রের কৌটায়, সে অনুমান অমূলক নয়। তবে বাংলা ভাষাভাষী পাঠক হিসেবে গল্পগুচ্ছ বইখানিকে আরো কিছু বইয়ের সাথে স্বর্গে বা নরকে সংগে নিয়ে যেতে চাই।
January 20, 2020
রবীন্দ্রনাথের গল্পগুলো বিশ্ব সাহিত্য অঙনে বেশ সমাদৃত। গল্পের পটগুলো অনন্য আর এর সাথে মিশেছে বাঙালি জীবনযাত্রার বর্ণিল মাত্রা। সাধারণ জীবন সংসারের গল্প নিয়ে এ সাহিত্যকল্প বোনা। বিদেশী অনুকরণের বালাই নেই। একেবারে দেশি বলা চলে। আর প্রেমকে যেন শিল্পে রূপ দিয়েছেন গল্পকার।
February 16, 2016
কিছু বলার নাই। যতবার পড়ি নতুন লাগে। প্রতিবার যেন আরো বেশি ভাল লাগে।
ক্ল্যাসিক :)
ক্ল্যাসিক :)
December 20, 2021
Reading Done ✅
5/ 🌟🌟🌟🌟🌟
Most favorite book
5/ 🌟🌟🌟🌟🌟
Most favorite book
This entire review has been hidden because of spoilers.
October 28, 2023
বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য রত্ন! এই বইটা আমার এতো এতো এতো প্রিয়! একটা মাত্র বইয়ে কতগুলো ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের গল্প!
July 6, 2026
বিনা "গল্পগুচ্ছ", বাংলা সাহিত্য অসম্পূর্ণ।
October 17, 2016
অন্তরে অতৃপ্তি রবে
সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হইয়াও হইল না শেষ।
-রবীন্দ্রনাথ মানেই অন্য কিছু। এখন পর্যন্ত সম্ভবত তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ ছোটগল্প লেখক। আর সে সব অসাধারণ গল্পের সংকলন এই বইটি।
I would recommend it to anyone at anytime. If you are a native Bangla speaker or at least know Bangla you should read this phenomenal creation.
Even for someone who doesn't know Bangla there is translations and those probably deserve a shot as well.
সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হইয়াও হইল না শেষ।
-রবীন্দ্রনাথ মানেই অন্য কিছু। এখন পর্যন্ত সম্ভবত তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ ছোটগল্প লেখক। আর সে সব অসাধারণ গল্পের সংকলন এই বইটি।
I would recommend it to anyone at anytime. If you are a native Bangla speaker or at least know Bangla you should read this phenomenal creation.
Even for someone who doesn't know Bangla there is translations and those probably deserve a shot as well.
March 25, 2018
অনেক গুলো গল্পই আগের পড়া, তারপরও অনেকদিন পর পড়ে ভালোই লাগছে। আমি রবীন্দ্রনাথ বুঝি :') :')
January 4, 2019
The complete collection of short stories from the Bard of Kolkata himself. The stories exploring themes of love, loneliness, social norms.
March 2, 2025
“গল্পগুচ্ছ” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক অতুলনীয় সৃষ্টি, যেখানে প্রতিটি গল্প যেন একটি জীবন্ত ছবি, প্রতিটি চরিত্রের মধ্যে নিহিত অক্ষয় মানবতা ও গভীর অনুভূতি। ঠাকুরের মধুর ভাষায় এক একটি গল্প জড়িয়ে থাকে সময়ের সুর, পৃথিবীর সমস্ত স্নিগ্ধতা এবং ক্ষণিকের দুঃখ। প্রতিটি পৃষ্ঠায় এক একটি নতুন দিগন্ত খুলে যায়, যেখানে প্রেম, বিরহ, শান্তি ও সংগ্রামের সৌন্দর্য ভেসে ওঠে। এই বইটি শুধুই গল্প নয়, এটি একটি মনমোহন একাকিত্বের সঙ্গী, যে কখনো আপনাকে হাসায়, কখনো গভীরভাবে ভাবায়, আর সবশেষে আপনাকে মানব জীবনের অমোঘ সত্যের সামনে দাঁড় করায়।
December 2, 2023
Legendary 🏆
October 18, 2021
রবি ঠাকুরের ছোটগল্প মানেই আমরা জানি যেখানে থাকে চরম বাস্তবতার গল্প, জীবনের চরম শিক্ষাগুলো সাথে সমাজব্যবস্থা।
আজকে আমি ছোটগল্প "দেনাপাওনা" নিয়ে বলবো।
এই গল্পটা মূলত সমাজের তৎকালীন বা বর্তমানেরও যে যৌতুক প্রথা আছে তা নিয়ে বলা হয়েছে।
যেখানে দেখা যায় সামান্য কয়টা যৌতুকের জন্য কি নিদারুণভাবে গল্পের নায়িকার মৃত্যু হয়।
এই গল্পের প্রধান চরিত্র নিরুপমা। নিরুপমার বাবা রামসুন্দর এর ৫জন ছেলের পর ১জন মেয়ে জন্মালো আর সে হচ্ছে নিরুপমা।
নিরুপমা যখন বড় হলো তখন রায়বাহাদুর পরিবারের এক ছেলের সাথে তার বিয়ে ঠিক হলো ১০হাজার টাকা পণ এবং বহু দানসামগ্রীর বিনিময়ে। যদিও তারা রায়বাহাদুর বা বনেদি পরিবারের হলেও তারা আগের মতো সম্পদশালী নেই।
তবুও নিরুপমার পিতা অনেক খোঁজাখুঁজির পর যখন এমন ছেলে পেলেন তবুও তিনি দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও আসলে এই ঘরে মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি হলেন।
যথারীতি বিয়ের দিন আসলো নিরুপমার পিতা বহুকষ্টে কিছু টাকা সংগ্রহ করলেও এখনো ৬-৭হাজার টাকা বাকি রয়ে গেলো। একজন এই বাকি টাকা ধার দিবে বললেও সে বিয়ের দিন নিরুপমার পিতাকে টাকাটা দিতে আর আসে নি। তো
যেহেতু পণ বাকি রইলো সেহেতু তার শ্বশুরবাড়ির শ্বশুর বা শ্বাশুড়ি কেউই আসলে এই বিয়ে হতে দিতে চাইলো না। তবে নিরুপমার স্বামী শিক্ষিত হওয়ায় সে বললো, "কেনাবেচার দরদামের কথা আমি বুঝি না; বিয়ে বিবাহ করিতে আসিয়াছি, বিবাহ করিয়া যাইবো"
তো যাইহোক, বিয়ে হয়ে গেলো। কিন্তু বিয়ের পর নিরুপমাকে কেউই বধু হিসেবে দেখেনা৷ তার শ্বাশুড়ি সবসময় তাকে কথা শোনায়। নিরুপমার স্বামী মাজিস্ট্রেট হওয়ার সুবাধে বদলি হয়েছে তাই সে এসব অত্যাচার দেখেনা। নিরুপমার পিতা মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে গেলে চাকররা পর্যন্ত তাকে নূন্যতম সম্মান দেখায় না। প্রতিবেশীরা নিরুপমার সৌন্দর্যের প্রশংসা করলে শ্বাশুড়ি বলে, শ্রী তো ভারি; যেমন ঘরের মেয়ে তেমন তার শ্রী।
যাইহোক, আসলে রামসুন্দর মেয়ের এমন কষ্ট দেখে সে অনেক কষ্টে একদিন ৩হাজার টাকা জোগাড় করে কিছু পণ শোধ করতে আসে কিন্তু নিরুপমার শ্বশুর পুরো পণ না পাওয়াতে ওই ৩হাজার নেয় না। তখন রামসুন্দর সিদ্ধান্ত নেয় যে বসত বাড়ি বিক্রি করে দিবে এবং সেই মোতাবেক ৫ছেলেকে না জানিয়ে বিক্রিও করে দিলেন। ওই টাকা নিয়ে নিরুপমার শ্বশুর বাড়িতে গেলে নিরুপমা নিজেই এই টাকা তার পিতাকে দিতে দেয়না কারণ এতে তার নিজের ও পিতা দুইজনেরই অপমান হবে। বাবা বাড়িতে চলে গেলেন।
তো কার্তিক মাসের শীতে একদিন নিরুপমা এসব কষ্ট সহ্য না করতে পেরে শ্বশুর বাড়িতে নআ খেয়ে থেকে থেকে তার শরীরে রোগ ডুকে গিয়েছে এবং সে মৃত্যু পথযাত্রী হয়ে পড়ে। যেদিন সে মারা যায় সেদিন তাকে ডাক্তার দেখতে এসেছিলো এর আগে শ্বাশুড়ি ডাক্তার আনায় নি। নিরুপমা যখন বাবা আর ভাইদের দেখতে চাইতো তখন শ্বাশুড়ি সবসময় বলতো এসব বাপের বাড়ি যাওয়ার বাহানা।
যাইহোক, নিরুপমা সন্ধ্যায় মারা গেলো। তাকে চন্দন কাঠ দিয়ে সৎকার করা হলো। এমন রাজকীয় সৎকার রায়বাহাদুর পরিবারে হতে কেউ কখনো দেখেনি। অবশ্য এত জাঁকজমক ভাবে শেষকৃত্য করতে গিয়ে তাদের ঋণও করতে হয়েছে।
নিরুপমার মৃত্যুর পর তার স্বামী ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এর চিঠি আসলো যে সে তাকে নিয়ে যেতে চায়। তবে চিঠিতে নিরুপমার শ্বাশুড়ি সব জানালো এবং আবার এটাও বললো যে, তোমার জন্য নতুন সম্বন্ধ করিয়াছি অবিলম্বে ছুটি নিয়ে চলে আসো।
এবারের পণ ২০হাজার টাকা এবং তা হাতে হাতে আদায়।
আহ্ কি নিদারুণ বাস্তবতা এই সমাজের গল্পটা যত সহজে আমি বলেছি আপনি পড়তে গেলে আপনার চোখ ভিজে আসবে। সুযোগ থাকলে অবশ্যই পড়বেন ৬-৭পৃষ্ঠার একটা ছোট গল্প, সম্পূর্ণ সাধু ভাষায় রচিত।
আসলে রবীন্দ্রনাথ কিভাবে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন তার এই ছোটগল্পগুলো না পড়লে বুঝা যায় না।
আজকে আমি ছোটগল্প "দেনাপাওনা" নিয়ে বলবো।
এই গল্পটা মূলত সমাজের তৎকালীন বা বর্তমানেরও যে যৌতুক প্রথা আছে তা নিয়ে বলা হয়েছে।
যেখানে দেখা যায় সামান্য কয়টা যৌতুকের জন্য কি নিদারুণভাবে গল্পের নায়িকার মৃত্যু হয়।
এই গল্পের প্রধান চরিত্র নিরুপমা। নিরুপমার বাবা রামসুন্দর এর ৫জন ছেলের পর ১জন মেয়ে জন্মালো আর সে হচ্ছে নিরুপমা।
নিরুপমা যখন বড় হলো তখন রায়বাহাদুর পরিবারের এক ছেলের সাথে তার বিয়ে ঠিক হলো ১০হাজার টাকা পণ এবং বহু দানসামগ্রীর বিনিময়ে। যদিও তারা রায়বাহাদুর বা বনেদি পরিবারের হলেও তারা আগের মতো সম্পদশালী নেই।
তবুও নিরুপমার পিতা অনেক খোঁজাখুঁজির পর যখন এমন ছেলে পেলেন তবুও তিনি দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও আসলে এই ঘরে মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি হলেন।
যথারীতি বিয়ের দিন আসলো নিরুপমার পিতা বহুকষ্টে কিছু টাকা সংগ্রহ করলেও এখনো ৬-৭হাজার টাকা বাকি রয়ে গেলো। একজন এই বাকি টাকা ধার দিবে বললেও সে বিয়ের দিন নিরুপমার পিতাকে টাকাটা দিতে আর আসে নি। তো
যেহেতু পণ বাকি রইলো সেহেতু তার শ্বশুরবাড়ির শ্বশুর বা শ্বাশুড়ি কেউই আসলে এই বিয়ে হতে দিতে চাইলো না। তবে নিরুপমার স্বামী শিক্ষিত হওয়ায় সে বললো, "কেনাবেচার দরদামের কথা আমি বুঝি না; বিয়ে বিবাহ করিতে আসিয়াছি, বিবাহ করিয়া যাইবো"
তো যাইহোক, বিয়ে হয়ে গেলো। কিন্তু বিয়ের পর নিরুপমাকে কেউই বধু হিসেবে দেখেনা৷ তার শ্বাশুড়ি সবসময় তাকে কথা শোনায়। নিরুপমার স্বামী মাজিস্ট্রেট হওয়ার সুবাধে বদলি হয়েছে তাই সে এসব অত্যাচার দেখেনা। নিরুপমার পিতা মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে গেলে চাকররা পর্যন্ত তাকে নূন্যতম সম্মান দেখায় না। প্রতিবেশীরা নিরুপমার সৌন্দর্যের প্রশংসা করলে শ্বাশুড়ি বলে, শ্রী তো ভারি; যেমন ঘরের মেয়ে তেমন তার শ্রী।
যাইহোক, আসলে রামসুন্দর মেয়ের এমন কষ্ট দেখে সে অনেক কষ্টে একদিন ৩হাজার টাকা জোগাড় করে কিছু পণ শোধ করতে আসে কিন্তু নিরুপমার শ্বশুর পুরো পণ না পাওয়াতে ওই ৩হাজার নেয় না। তখন রামসুন্দর সিদ্ধান্ত নেয় যে বসত বাড়ি বিক্রি করে দিবে এবং সেই মোতাবেক ৫ছেলেকে না জানিয়ে বিক্রিও করে দিলেন। ওই টাকা নিয়ে নিরুপমার শ্বশুর বাড়িতে গেলে নিরুপমা নিজেই এই টাকা তার পিতাকে দিতে দেয়না কারণ এতে তার নিজের ও পিতা দুইজনেরই অপমান হবে। বাবা বাড়িতে চলে গেলেন।
তো কার্তিক মাসের শীতে একদিন নিরুপমা এসব কষ্ট সহ্য না করতে পেরে শ্বশুর বাড়িতে নআ খেয়ে থেকে থেকে তার শরীরে রোগ ডুকে গিয়েছে এবং সে মৃত্যু পথযাত্রী হয়ে পড়ে। যেদিন সে মারা যায় সেদিন তাকে ডাক্তার দেখতে এসেছিলো এর আগে শ্বাশুড়ি ডাক্তার আনায় নি। নিরুপমা যখন বাবা আর ভাইদের দেখতে চাইতো তখন শ্বাশুড়ি সবসময় বলতো এসব বাপের বাড়ি যাওয়ার বাহানা।
যাইহোক, নিরুপমা সন্ধ্যায় মারা গেলো। তাকে চন্দন কাঠ দিয়ে সৎকার করা হলো। এমন রাজকীয় সৎকার রায়বাহাদুর পরিবারে হতে কেউ কখনো দেখেনি। অবশ্য এত জাঁকজমক ভাবে শেষকৃত্য করতে গিয়ে তাদের ঋণও করতে হয়েছে।
নিরুপমার মৃত্যুর পর তার স্বামী ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এর চিঠি আসলো যে সে তাকে নিয়ে যেতে চায়। তবে চিঠিতে নিরুপমার শ্বাশুড়ি সব জানালো এবং আবার এটাও বললো যে, তোমার জন্য নতুন সম্বন্ধ করিয়াছি অবিলম্বে ছুটি নিয়ে চলে আসো।
এবারের পণ ২০হাজার টাকা এবং তা হাতে হাতে আদায়।
আহ্ কি নিদারুণ বাস্তবতা এই সমাজের গল্পটা যত সহজে আমি বলেছি আপনি পড়তে গেলে আপনার চোখ ভিজে আসবে। সুযোগ থাকলে অবশ্যই পড়বেন ৬-৭পৃষ্ঠার একটা ছোট গল্প, সম্পূর্ণ সাধু ভাষায় রচিত।
আসলে রবীন্দ্রনাথ কিভাবে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন তার এই ছোটগল্পগুলো না পড়লে বুঝা যায় না।
August 7, 2020
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি নোবেল পেয়েছিলেন গীতাঞ্জলী কাব্যগ্রন্থ এর জন্যে।তাকে মনে হয় আরেকবার নোবেল দেয়া দরকার ছিল তার ছোট গল্পের জন্য।তাকে বাংলার সার্থক ছোট গল্পের জনক বলা হয় কেন???সেই উত্তর পাবেন তারই ছোট গল্পের সমাহার "গল্পগুচ্ছ" এ।
গল্পগুচ্ছে মোট ৯১ টি ছোট গল্প আছে। এই ৯১ টা গল্প যেন বাংলা সাহিত্যের সৌন্দর্য। এই গল্পগুলিতে আছে হাসি-কান্না, সুখ- দুঃখ,আনন্দ -বেদনা,কষ্ট,মায়া,আবেগ বলতে গেলে জীবনের সকল উপকরণ। সমাজের ছবিও সুন্দরভাবে গল্পে ফুটিয়ে তুলেছে। পোস্টমাস্টার গল্পে রতন-পোস্টমাস্টার এর দূরে থেকেও আত্নীক বন্ধন,ব্যবধান গল্পে বনমালীর প্রতিক্ষা, হৈমন্তী গল্পের অবহেলিত হৈমন্তী,কাবুলিওয়ালা গল্পে আফগান ফল বিক্রেতার সাথে ছোট মেয়ে মিনির ভালবাসার সম্পর্ক, অতিথি গল্পে তারাপদের ফ্যান্টাসি, বলাই গল্পে বৃক্ষপ্রেমী বলাই সহ এই ৯১টা গল্পের সাথে জীবনের মিল হয়তো অর্থও খুজে পাওয়া যাবে।বাংলা সাহিত্যে আন্তন চেখভের মতো ছন্দময় এবং শেষ হয়েও হইল না শেষ এইভাবেই শেষ করেছেন। হয়তো বাকি কথা পাঠক এর জন্যে রাখা।
February 19, 2026
Read it when I was in the 7th standard. I keep coming back to this book as a comfort space.
All the short stories would force you to think from the then societal structures, and it's always great to experience different perspectives with variation of love, tragedy, laughter,.. but most importantly, depth of feelings.
All the short stories would force you to think from the then societal structures, and it's always great to experience different perspectives with variation of love, tragedy, laughter,.. but most importantly, depth of feelings.
Read
January 12, 2013nice
Displaying 1 - 30 of 102 reviews












![Profile Image for Saranya [uni- s.ia.].](https://i.gr-assets.com/images/S/compressed.photo.goodreads.com/users/1788580575i/187457635._UY200_CR5,0,200,200_.jpg)















