অফিস ট্যুরে গিয়ে অনন্যর পরিচয় হল ঐশানীর সঙ্গে। ভীষণ মুডি আর অনেকখানি রহস্যে ঢাকা এক মেয়ে। অনন্য দূরে থাকতে চেয়ে গেছে প্রতিনিয়ত। ঐশানীকে বুঝতে চেষ্টা করে গেছে। তাকে বোঝা কি খুবই কঠিন? কলকাতা ফিরেই বা দুজনের কী হবে? মেঘছায়ে খুব কম একটা সময়ের গল্প। ওই কম সময়টুকুই অবশ্য মানবজীবনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সময়। দেখা যাক শেষ অবধি দুজনের কী হয়...
মফস্বল শহর অশোকনগরে বেড়ে ওঠা। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন হেরিটেজ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে। ছোটবেলা থেকেই পড়ার বইয়ের পাশাপাশি গল্পের বইয়ের নেশা ছিল। লেখার নেশা জাঁকিয়ে বসে কলেজে পড়াকালীন৷ ওই সময়েই "আদরের নৌকা" লিটল ম্যাগ প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্য জগতে প্রবেশ। প্রথম বই ২০০৮ সালের বইমেলাতে প্রকাশিত হয় , "এক কুড়ি গল্প"। পরবর্তী কালে অফিস থেকে ফিরে ফেসবুকে লিখতে বসা এবং ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাওয়া।
গান গাইবার পাশাপাশি ঘুরতে, ফটোগ্রাফি করতে ভালবাসেন লেখক।
🎏🕊️বইয়ের নাম - মেঘছায়ে🕊️🎏 ✍🏻লেখক - অভীক দত্ত 🖨️প্রকাশক - Book Look Publishing 📓প্রচ্ছদ - দিবাকর চন্দ 💰মূল্য - ১৮০/-
🎀⛳ কি ভাবছেন বইটা কেমন হবে? বইটা কি কেনা যাবে? কী আছে এই বইতে? আসুন দেখে নিই.......
🌿💌সদ্য পড়ে শেষ করলাম সাহিত্যিক অভীক দত্ত মহাশয়ের লেখা ‘মেঘছায়ে’ উপন্যাসটি। লেখকের লেখা সম্ভবত এর আগে পড়া হয়নি। মেঘছায়ে উপন্যাসটির মাধ্যমেই লেখকের লেখার সাথে প্রথম পরিচয় হলো।
~এবার আসি গল্পের বিষয়বস্তু তে~ 🌿💌একদম সহজ সরল ভাবে বয়ে চলা একটা অতি সাধারণ গল্প। ঠিক সিনেমায় যেমনটা হয় আর কি। গল্পের হিরো ‘অনন্য’ আর হিরোইন হচ্ছে ‘ঐশানী’ এই দুটো চরিত্রকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ‘মেঘছায়ে’ উপন্যাস। অফিস ট্যুরে গিয়ে অনন্যর সাথে পরিচয় হয় ঐশানীর। এখানে ঐশানী সম্পর্কে একটু জানিয়ে রাখি, গল্পের চরিত্র ও যে এই ধরনের মুডি হতে পারে তা আমার ধারণা ছিল না। যাই হোক তাদের পরিচয় হওয়ার পর তাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অনন্য ঐশানীকে বুঝতে চেষ্টা করে কিন্তু তাকে বোঝা মোটেই অনন্যর মতো সাধারণ ছেলের কম্ম নয়। এরপর তারা যে যার মতো কলকাতায় ফিরে আসে, কলকাতায় ফেরার পর থেকেই অনন্য ঐশানীর প্রতি একটা অন্যরকম অনুভূতি কাজ করতে শুরু করে। সেখান থেকেই তৈরী হয় রাগ, অভিমান, মনখারাপ ইত্যাদি। ভীষণ রকম মুডি ঐশানী কি বুঝবে অনন্যকে? জানতে হলে অবশ্যই উপন্যাসটি পড়তে হবে। ছোট উপন্যাস তাই আর বিস্তারিত আলোচনা করলাম না, এর থেকে বেশী বলতে গেলে স্পয়েল হয়ে যাবে। বইটি হার্ড কভার, ভালো কাগজ, ঝকঝকে ছাপা ও আকর্ষণীয় প্রচ্ছদ সমৃদ্ধ। লেখককে ধন্যবাদ। আপনার লেখার দীর্ঘায়ু কামনা করি, ভালো থাকবেন!
📌সবটাই তো আসলে মনের ব্যাপার। মন ঠিক মানে সব ঠিক। মন ঠিক নেই মানে কিছুই ঠিক নেই। কোটিপতি হয়েও মানুষ প্রবল ডিপ্রেশনে থাকে। পরের দিন কী খাবে তার ঠিক না থাকা মানুষ প্রবল আনন্দে বাঁচে। মানুষের জীবনটাই এমন। এ নিয়ে বেশি ভেবে লাভ নেই!
📥🗒️2024 Book Review ~ 48 যদি এই বইটি পূর্বেই কেউ পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনাদের ব্যক্তিগত মতামত জানাবেন। এছাড়াও আমার রিভিউ কেমন লাগছে সেটাও জানাবেন নিচের কমেন্ট বক্সে। যদি কিছু ভুল ত্রুটি হয় সেটাও জানতে ভুলবেননা। 🍀 আবারো দেখা হবে পরের রিভিউতে। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন আর অনেক অনেক বই পড়ুন। 🙂 🙏🏻 !! ধন্যবাদ !! 🙏🏻
বুকলুক প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এই প্রেমের উপন্যাসটি আমার কেমন লেগেছে?
প্রথমেই জানিয়ে রাখি আমি অভীক দত্তের লেখা প্রায় সব বই পড়েছি। বিশেষত ওনার লেখা "স্পাই সিরিজ"। ইনফ্যাক্ট ওনার লেখার সাথে আমার পরিচয় ওনার "স্পাই সিরিজ" এর হাত ধরেই। ওনার লেখা প্রেমের কাহিনী যেটা আমি প্রথম পড়লাম সেটাই এই "মেঘছায়ে"।
নেতারহাটে গল্প শুরু। নায়ক রাঁচি থেকে নেতারহাট যাচ্ছে। পথে নায়িকার সাথে আলাপ। সেখান থেকে গল্পের গতিমুখ ঘুরে সোজা কলকাতা হয়ে মায় বারাসাত অবধি।
অভীক বাবুর লেখা যেমন হয়, ঝরঝরে, মেঘছায়েও তার ব্যতিক্রম নয়। ঝাড়খন্ড আমার অন্যতম এক ভালোবাসার রাজ্য। ২০১৮ সাল থেকে প্রায় প্রতিবছর ঝাড়খন্ড আমি যাই। মাঝে কোভিডের বছরগুলো বাদ দিয়ে। রাঁচি আমার অন্যতম প্রিয় শহর। ২০১৮ থেকে ২০২৫ আমি রাঁচিকে ধীরে ধীরে দৃশ্যগত ভাবে চেঞ্জ হতে দেখেছি। সেখানে বরং নেতারহাট প্রায় একই রয়ে গেছে।
তাই অভীকবাবু যখন রাঁচি থেকে গল্পটা শুরু করলেন তখন একটু হলেও নড়ে বসেছিলাম। ভাষা আগেই বলেছি ঝরঝরে। বইটা আমি মোটামুটি ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে পড়ে ফেলেছি। বেশ বেশ সুন্দর লেগেছে এই প্রেম কাহিনীটি। অনন্য ও ঐশানী একেবারে পারফেক্ট কাপল নয়। কিন্তু অদ্ভূত সুন্দর। উপন্যাসটিতে বেশ কিছু সুন্দর প্রেমের মুহুর্ত আছে। যার অনেকগুলোর সাথে ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজে রিলেট করতে পারি।
আমি অবশ্যই "মেঘছায়ে" রেকমেন্ড করবো পড়ার জন্য। অনেক সময় মন চায় হাল্কা কিছু পড়তে। মেঘছায়ে আশাকরি আপনাদের সেই আশা পূরণ করবে।
শেষ কবে এরকম অদ্ভুত বাচ্চা বাচ্চা টাইপের চরিত্রের বই পড়েছিলাম জানিনা। প্রথম দিকটা ভালো লাগছিল। তারপর নেতারহাট থেকে ফিরে জানিনা এই চরিত্রগুলো কি করছে, আমি যদি টিনএজার হতাম ডেফিনেটলি আমি বোধহয় এতক্ষণ লাফাচ্ছি এই বই পড়ে, কিন্তু এত immature চরিত্র যারা আবার তাদের সম্ভবত লেট ২০'s এ রয়েছে কেমন অদ্ভুত ব্যাপারটা। এনাদের কথাবার্তা গুলো পড়ে আমার মনে হচ্ছে অনন্য ২০-২১ বছরের ছেলে সদ্য কলেজ পাশ করেছে এবং ঐশানীও সেরকমই। অম্বা চরিত্রটিকে একমাত্র বয়স অনুযায়ী ঠিকঠাক লাগছিল শেষ পর্যন্ত সেটাও আর থাকলো না। ঐশানীর বাবাকে লজিক্যাল মনে হল কিছুটা, কিন্তু যিনি এত লজিক্যাল কথা বলেন তিনি হঠাৎ করে নিজের মেয়েকে অচেনা কোনো এনআরআই এর সাথে বিয়ে দিয়ে দেবেন ব্যাপারটা কেমন চরিত্র-বিরুদ্ধ।
ঐশানী: "সত্যিই তো তুমি আমাকে কিছুই চেনো না। কাল যদি তোমার মনে হয় এই মেয়েটা তোমার জন্য না, তখন কি করবে?" অনন্য: "মনে হলে তো এদ্দিন বাড়ির ঠিক করা কারও না কারও সঙ্গে বিয়ে করে নিতাম। সেটা করিনি যখন, তাহলে যা বোঝার বুঝে নাও।"
এটা পড়ে আপনাদের মনে হতেই পারে বোধহয় অনেকদিনের সম্পর্ক। আসলে এক সপ্তাহ। 🙂 অভীকদা জাস্ট কেনো??? 🤦🏿♀️