স্ক্রিন থেকে কমিকসে রহস্যময়, ধূর্ত, ভয়ংকর এবং ক্যারিশম্যাটিক এক চরিত্র ‘অ্যালেন স্বপন’! প্রথম হাজির হয় চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘সিন্ডিকেট’-এর এন্টাগনিস্ট হয়ে , এরপর এক লাফে হয়ে গেলো ফিল্ম ফান ফুর্তির দুনিয়ার ফ্যান-ফেভারিট ! সোশ্যাল মিডিয়া, নিউজ পোর্টাল, মিম পেজ সব জায়গায় শুধু একটাই নাম ‘অ্যালেন স্বপন’! ব্যস, দর্শকের সেই স্বপন-ক্রেজ থেকেই জন্ম নিলো বাংলাদেশের প্রথম স্পিন-অফ সিরিজ শিহাব শাহীন পরিচালিত চরকি অরিজিনাল ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন’। কিন্তু গল্প তো এখানেই শেষ নয়! স্বপনের প্রতি দর্শকের ভালোবাসা এতটাই তীব্র যে, দ্বিতীয় সিজনের কাজ ঝড়ের গতিতে শুরু করে দিলাম আমরা। আর এই যাত্রায় আরেকটি নতুন মাত্রা যোগ করতে আমরা হাজির বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ-ভিত্তিক কমিকস ‘ক্রনিকলস অফ অ্যালেন স্বপন’ নিয়ে। প্রথমে মনে হচ্ছিল, একটা সিরিজের রহস্য আর চরিত্রের জটিলতা কমিকসে ঠিকঠাক তুলে আনা যাবে তো? কিন্তু ঢাকা কমিক্স ও চরকি ক্রিয়েটিভ টিমের নিরলস প্রচেষ্টা সেই চ্যালেঞ্জকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে। ‘ক্রনিকলস অফ অ্যালেন স্বপন’ শুধু একটা কমিকস নয়, বাংলাদেশি কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রির জন্য গেম-চেঞ্জার। স্বপনের জটিলতা, চালাকি, টুইস্ট এবার ধরা দিচ্ছে কমিকসের পাতায়, এক নতুন ফরম্যাটে! এখন অপেক্ষা শুধু আপনাদের রিঅ্যাকশনের! ঢাকা কমিক্স, টিম চরকি, ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন’ এর সকল শিল্পী ও কলাকুশলী আর বাংলাদেশের সব কমিকস ফ্যানদের জন্য রইল অঢেল ভালোবাসা !
অটিটির কোন চরিত্রকে নিয়ে কমিক্স! দারুন একটা ব্যাপার।৫টা গল্প নিয়ে এই সংকলন।গল্পগুলো ছোট ছোট।আশা করি সামনে ঢাউস সাইজের একটা সংকলন পাবো এবং গল্পগুলোও দীর্ঘ হবে।
চরকি অরিজিনাল সিরিজ মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন'র মূল চরিত্র শামসুর রহমান স্বপন ওরফে অ্যালেন স্বপনকে নিয়ে লেখা ক্রনিকলস অফ অ্যালেন স্বপন। বইয়ে রয়েছে ৫টি গল্প। প্রতিটি গল্পই ভিন্ন। কোনো গল্পই একটি অন্যটির সাথে বা মূল সিরিজের সাথে লিংকড না।
বইয়ের প্রথম গল্প ডোম। লাশকাটা ঘরে পোস্টমর্টেমের প্রস্তুতি নিতে থাকা ডোমের পেছনে স্ট্রেচারে শুইয়ে রাখা লাশ হঠাৎ উঠে বসে...বাকিটা ইতিহাস!
দ্বিতীয় গল্প স্কন্ধকাটা। এই গল্পে স্বপন সাহেব ব্রোকার সেজে পুরনো একটা বাড়ি দখল করতে যায়। ওই বাড়িতে কিছু সমস্যা আছে বলে এলাকায় প্রচলিত। কি সমস্যা তাতো বাড়ির ভেতরে গেলেই টের পাওয়া যাবে।
তৃতীয় গল্প মানসাঙ্ক। করাবিল বস্তির মা/ক সম্রাট বদির মৃতদেহ পাওয়া গেছে তার নিজ বাড়িতে। খু* প্রথমে ছুরিকাঘাতে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে তারপর লাশের বুকে ছুরি দিয়ে ইংরেজি বর্ণ "S" লিখে দিয়ে যায়। পুলিশের সন্দেহ তালিকার প্রথম নামটি স্বপনের। কারণ বদির মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি লাভ স্বপনেরই। কিন্তু স্বপন খু* করেনি। স্বপন ভাবতে থাকে বদির মৃত্যুতে প্রাইমারি লাভ তার; সেকেন্ডারি লাভ কার? এর মধ্যে স্বপনের স্ত্রী শায়লা পেছন থেকে বলে ওঠে, "বইদ্দা চোরা মইরা একটা অন্তত লাভ হইছে; তোমাকে একটু ঘরে পাওয়া যাচ্ছে!"
পেঁয়াজু; চতুর্থ গল্প। এগল্পটা আজাইরা লেগেছে।
বইয়ের পঞ্চম ও শেষ গল্প ফাঁদ। এলাকার ডন ডাব্বু ভাইয়ের অ্যাসাইনমেন্টে তার রাইভাল গ্রুপকে ঢিসুম ঢিসুম দিয়ে খতম করে ফেলে স্বপন। তারপর...
৫টা গল্পের মধ্যে মানসাঙ্ক গল্পটা চমৎকার লেগেছে। বাকিগুলোর মধ্যে পেঁয়াজু আর ডোম খুব একটা ভালো লাগেনি। বাকি দুটো মোটামুটি। সবগুলো গল্পই একদম ছোট হয়ে গেছে। আর দারুণ ছিল আর্টগুলো। চমৎকার সব আঁকা...
ক্রনিকলস অফ অ্যালেন স্বপন লেখা: শেখ কোরাশানী ও জাহিদুল হক অপু আঁকা: মেহেদী, রাতিন, সাবিত, যুনায়েদ ও মারুফ