বিগত চুয়ান্ন বছর ধরে কিছু যে লেখালেখি করা গেল, তার বেশিরভাগই গোয়েন্দা গল্প। কারণ, সেই লেখাতেই আমি আনন্দ পেয়েছি বেশি। অথচ, আমার গল্পের পাঠকদের কাছ থেকে লেখক হিসেবে গ্রহণযোগ্যতার সাড়া আসে আমার একটি অপার্থিব কাহিনি থেকে যার নামে এই ‘সিরিজ’ (‘এবং কালরাত্রি ১’ ও ‘এবং কালরাত্রি ২’)-এর নামকরণ করা হয়েছে।
বোঝাই যাচ্ছে, এই বইটি অতীন্দ্রিয় বা অপার্থিব গল্পের সংকলন। এই গল্পগুলির মধ্যে বেশিরভাগ তথাকথিত ভূতের গল্প। আর আছে কিছু কল্পবিজ্ঞানের গল্প। এদের উপস্থিতি অনেকের কাছে অস্বস্তি বা বিরক্তিকর বলে মনে হতে পারে। আমি তাঁদের কাছে আমার যুক্তি হিসেবে বলতে চাই যে, এই কাহিনিগুলিও তো ‘অপার্থিব’। এদের সবক-টাই আমাদের পৃথিবীর বাইরে থেকে আসা জীবেদের নিয়েই লেখা।
বইটিতে আরও একজন আছে। একটি নিঃসঙ্গ ‘দময়ন্তী’। এটা সকলকে জানানো দরকার যে, আমি আজ যে বয়েসে এসে পৌঁছেছি, কখন যে খেলার সাথি বিদায়দ্বার খুলে দেবেন, তা তো জানা নেই। তখন আমার এই সাম্প্রতিক ‘রহস্য সন্ধানী দময়ন্তী উপন্যাসিকা’-িট (মাসাবোর গুপ্তধন) সকলের অগোচরেই ধরার ধুলায় মিশে যাবে। তাই, এই চিন্তাটা মনে আসতেই তাড়াতাড়ি এই উপন্যাসিকাটি ঝাঁকের কইয়ে মিশিয়ে দিলুম।
ভালো করেছি কি না সেটা পাঠক বিচার করবেন। - মনোজ সেন
সূচিপত্র :
সমাপ্তি ॥ ৯ ফিরে আসে ৷ ২৫ ধীরেন সরকারের রহস্য ॥ ৫০ মজুমদারবাড়ির রহস্য ॥ ৬৪ হরার স্টোরি ॥ ৮৭ বিজয়িনী ॥ ১০৫ শিশিরবাবুর স্বপ্ন ॥ ১৩০ এ পরবাসে ॥ ১৪৫ আবার কালরাত্রি ॥ ১৫৬ মাসাবোর গুপ্তধন (দময়ন্তী' উপন্যাসিকা) |৷ ১৬৫
মনোজ সেন-এর জন্ম ১৯৪০, বেলেঘাটায়। পড়াশোনা শুরু স্কটিশ চার্চ কলেজিয়েট স্কুলে। সেখান থেকে স্কুল ফাইনাল পাশ করে প্রেসিডেন্সি কলেজে ইন্টারমিডিয়েট সায়েন্স। অতঃপর বি ই কলেজ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে বিই পাশ করে চাকরি জীবনের শুরু। প্রথম কাজ ভারী নির্মাণ সংস্থা হেড রাইটসনে, শেষ কাজ টার্নকী ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ায় ডিরেক্টর পদে। ১৯৯৭ থেকে অবসর জীবন, মাঝে মাঝে ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্সি।
১৯৭২ সালে প্রথম সাহিত্য পত্রিকা 'রোমাঞ্চ'-তে গল্প প্রকাশিত হয়। এরপর টানা কুড়ি বছর (১৯৭২-১৯৯২) 'রোমাঞ্চ' পত্রিকায় রহস্য, অলৌকিক, বিজ্ঞানভিত্তিক, রূপকথা ইত্যাদি মিলিয়ে প্রায় হাজার দেড়েক পাতা ছোটো ও বড়োদের উপযোগী কাহিনি লিখেছেন। ১৯৯২ সালে 'রোমাঞ্চ' পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দশ বছর লেখা বন্ধ ছিল। অনিশ দেব আবার লেখা শুরু করান ২০০১ সালে। 'রোমাঞ্চ' ছাড়া লিখেছেন 'সাপ্তাহিক বর্তমান', 'পরমা' ইত্যাদি পত্রিকায়। মহিলা গোয়েন্দা চরিত্র দময়ন্তী দত্ত গুপ্ত ও খুদে গোয়েন্দা সাগর রায় চৌধুরী-কে নিয়ে লিখেছেন অনেক কাহিনি।
সাহিত্যের অনুপ্রেরণা আগাথা ক্রিস্টি, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ও শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। ঘোর নাস্তিক হলেও ইতিহাসের সন্ধানে পড়তে ভালোবাসেন ধর্ম সংক্রান্ত বই। এককালে ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবলের মতো সব খেলাতেই ছিলেন পারদর্শী রসিক এই মানুষটি ভালোবাসেন ক্লাসিক গান, ভ্রমণ ও আড্ডা। তাঁর উল্লেখযোগ্য অধুনা-প্রকাশিত কিছু বই হল 'এবং কালরাত্রি', 'কালসন্ধ্যা', 'রহস্যসন্ধানী দময়ন্তী সিরিজ' প্রভৃতি।
মনোজ বসুর লেখা ন'টি ভয়ের (?) গল্প এবং একটি রহস্য (?) বড়োগল্প সংকলিত হয়েছে আলোচ্য বইটিতে। তারা হল~ (ক) গল্প ১. সমাপ্তি; ২. ফিরে আসে; ৩. ধীরেন সরকারের রহস্য; ৪. মজুমদারবাড়ির রহস্য; ৫. হরার স্টোরি; ৬. বিজয়িনী; ৭. শিশিরবাবুর স্বপ্ন; ৮. এ পরবাসে; ৯. আবার কালরাত্রি (খ) বড়োগল্প ১০. মাসাবার গুপ্তধন মনোজ বসুর সরস লেখনী ও বৈঠকি ভঙ্গির জন্য লেখাগুলো পড়তে মন্দ লাগে না। কিন্তু গল্পগুলো খুবই নিস্তরঙ্গ এবং অনেকাংশে অযৌক্তিক, তদুপরি ফেনানো। ফলে বইটা না-পড়লে কারও কিছুমাত্র ক্ষতিবৃদ্ধি হবে বলে মনে হয় না।
Overall this book is somewhat a pleasant read - I won’t say the experience is too good. Few of the short stories are actually interesting (I found one of them really funny) but rest are either somewhat predictable or disappointing in the end. And I found the plot of the only detective story a bit flawed.