ট্রিলজির শর্ত মেনে ‘রুদ্রাক্ষ’ সিরিজের প্রথম বইটিতে রয়েছে তিনটি পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস – নরক দহন, ভুজঙ্গ সংহার এবং আদিম দ্বন্দ্বে রুদ্রাক্ষ। পুরাণ, ইতিহাস ও বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে রচিত এই মাইথোলজিক্যাল থ্রিলার সিরিজের মূল চরিত্র রুদ্রাক্ষের বিচিত্র ও অলৌকিক ঘটনাবহুল জীবন থেকে তুলে আনা এই কাহিনিত্রয়ে রুদ্রাক্ষ কখনও মুখোমুখি হয়েছেন আসুরিক শক্তির, কখনও আবার মহাপ্রলয়ের। উরগপ্রধান আদিনাথ শাস্ত্রীর মানসপুত্র এবং শিব ও শুভশক্তির ধারক ও বাহক রুদ্রাক্ষের অলৌকিক অভিযানসমূহ যদি বাংলা সাহিত্যের অনুরাগীদের মনে পুরাণভিত্তিক অভিযান জঁর নিয়ে আগ্রহের সঞ্চার করে, তবেই লেখক ও প্রকাশকের পরিশ্রম সার্থক।
''সত্য নিয়ে কখনওই আপস করবে না রুদ্র, তা সে যত কঠিন সত্যই হোক না কেন। মনে রাখবে, উপনিষদে লেখা আছে, সত্যম্-শিবম্-সুন্দরম্, অর্থাৎ, যা সত্য, তাই শিব, তাই আবার সুন্দর।''
তন্ময় দেবের “রুদ্রাক্ষ” ট্রিলজির প্রথম বইতেই লেখক স্পষ্ট করে তৈরী করেছেন এক পুরাণ-ভিত্তিক ইউনিভার্স, যেখানে রহস্য, আধ্যাত্মিকতা, ইতিহাস ও আধুনিক চিন্তা একে অপরের সঙ্গে নিঃশব্দে সহাবস্থান করে।
তিনটি পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত কাহিনি - নরক দহন, ভুজঙ্গ সংহার এবং আদিম দ্বন্দ্বে রুদ্রাক্ষ - আসলে একটি বৃহৎ ক্যানভাসের তিনটি স্ট্রোক। আলাদা করে দেখলে এগুলো অ্যাডভেঞ্চার, রহস্য ও পৌরাণিক সংঘর্ষের গল্প; কিন্তু একত্রে পড়লে বোঝা যায়, এগুলো রুদ্রাক্ষ নামক এক সত্তার আত্ম-উন্মোচনের ধাপমাত্র। রুদ্রাক্ষ চরিত্রটি আসলে কোনো প্রচলিত অর্থের নায়ক নয়। সে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হলেও অহংকারী নয়, নেতৃত্বের লোভে আক্রান্ত নয়। বরং সে মহাদেবের প্রতি সমর্পিত এক প্রাণ, যার মধ্য দিয়ে শুভ ও অশুভ শক্তির দ্বন্দ্ব নিজেকে প্রকাশ করে।
প্রথম কাহিনি নরক দহন পাঠকের মনে রহস্যের বীজ বুনে দেয়। কে রুদ্রাক্ষ? চন্দন নামের এক ভীত-সন্ত্রস্ত বালকের সঙ্গে তার সম্পর্কই বা কী? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখক সরাসরি দেন না - বরং ধীরে ধীরে পাঠককে প্রশ্ন করতে শেখান। দ্বিতীয় কাহিনি ভুজঙ্গ সংহার-এ সেই রহস্য রূপ নেয় অভিযানে। উত্তরবঙ্গের প্রকৃতি, অরণ্য, ভয়ংকর অভিজ্ঞতা আর অলৌকিকতার মিশেলে গল্প পায় গতি ও বিস্তার। আর তৃতীয় কাহিনি আদিম দ্বন্দ্বে রুদ্রাক্ষ - এখানেই উপন্যাস দর্শনের স্তরে পৌঁছায়। উরগ ও পুঙ্গব - এই দুই আদিম গোষ্ঠীর সংঘর্ষ কেবল ইতিহাস নয়, এটি সভ্যতার ভিতরে লুকিয়ে থাকা চিরন্তন দ্বন্দ্বের রূপক।
ভাষা সাবলীল, কিন্তু হালকা নয়। আলাদা কোনো কথক না থাকায় পাঠক নিজেই কখনো রুদ্রাক্ষ হয়ে ওঠে, কখনো বন্ধন, কখনো আবার অশুভ শক্তির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা এক সাধারণ মানুষ। লেখকের গবেষণা এই বইয়ের প্রতিটি পাতায় স্পষ্ট। যোগ, তন্ত্র, পুরাণ, আদিম গোষ্ঠীর ইতিহাস - সবকিছুই এসেছে সংযত ভঙ্গিতে। এই বইয়ের প্রতিটি কাহিনী বারবার মনে করিয়ে দেয় - অসীম শক্তি থাকলেই শ্রেষ্ঠ হওয়া যায় না; আবার নিছক বিশ্বাসই একজন সাধারণ মানুষকে অসাধারণ করে তুলতে পারে।
'রুদ্রাক্ষ' প্রথম থেকেই আমার নজরে থাকলেও পরবর্তী পর্ব আসবে জানতে পারায় ইচ্ছে করেই একটু দেরি করেই প্রথম পর্ব পড়লাম, কারণ মাঝেমধ্যে ব্যাপার স্যাপার মিসপ্লেস করে ফেলার দোষ আছে একটু আমার। পুরাণপ্রেমী, থ্রিলার বা অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী, আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানী - সব ধরনের পাঠকের কাছেই এই বই আলাদা করে ধরা দেবে।
আজকেই পড়ে শেষ করলাম তন্ময় দেবের লেখা "রুদ্রাক্ষ"। এটি একটি মাইথোলজিক্যাল থ্রিলার ট্রিলজি। আমি জীবনে প্রথম বার এরকম কোনো উপন্যাস পড়লাম। বই টা এবছরের কলকাতা বইমেলা থেকেই কিনেছি। বাড়িতে এসে খুব উত্তেজনা অনুভব করায় বই টা প্রায় সাথে সাথেই পড়তে শুরু করে দিয়েছিলাম কিন্তু তখন কিছু জায়গায় বুঝতে সমস্যা হওয়ার জন্য আজকে আবার পড়তে শুরু করেছিলাম। এবারে একদমই ঠিক ঠাক বুঝেছি।
যেহেতু "রুদ্রাক্ষ" একটি ট্রিলজি আর এটি তিনটে ছোটো ছোটো খণ্ড দিয়ে একটা আরেকটার সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত তাই বিশদ আলোচনায় আমি যাবো না। যতো টা সম্ভব সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করবো..
🌼 প্রথম খন্ড "নরক দহন"
এই খন্ডে শিব ও শুভ শক্তির ধারক ও বাহক রুদ্রাক্ষ কিভাবে অসুররাজ বিদ্যুন্মালির জ্বলন্ত অবতার নরক পালকে ধ্বংস করেছিলেন সেটা নিয়ে বলা হয়েছে।
🌼 দ্বিতীয় খণ্ড "ভুজঙ্গ সংহার"
এই খন্ডে লেখক উত্তরবঙ্গের অপরূপ সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়েছেন, তার পাশাপাশি রুদ্রাক্ষের অলৌকিক ক্ষমতার কথা তুলে ধরেছেন।
🌼 তৃতীয় খন্ড "আদিম দ্বন্দ্বে রুদ্রাক্ষ"
এই খন্ডে লেখক উরগ গোষ্ঠী আর পুঙ্গব গোষ্ঠীর কথা বলেছেন। অর্থাৎ প্রাচীন ভারতের দুটি আদিম গোষ্ঠীর গৌরবময় অতীত আর তাদের মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্বের কথা নিয়ে বিশদে আলোচনা করেছেন।
এই টুকু বলতে পারি আমাদের মধ্যে যাঁরা পৌরাণিক কাহিনীর ভক্ত, বিশেষত দেবাদিদেব মহাদেব অর্থাৎ শিব ঠাকুরের ভক্ত তাঁদের এই উপন্যাস খুবই ভালো লাগবে। তাই দেরি না করে আপনারাও পড়ে ফেলুন। নিরাশ হবেন না। লেখকের লেখনী খুবই ভালো।
পুরো উপন্যাস পড়ে আমার কেনো জানি না সত্য ঘটনা বলেই মনে হয়েছে। যদিও মতামত আমার একান্তই ব্যক্তিগত।
পুরাণের অমোঘ শক্তি, রহস্যের অন্ধকার গলি, আর আধুনিক বিজ্ঞানের সম্ভাবনার আলো—এই তিনকে একসূত্রে গেঁথে তন্ময় দেবের “রুদ্রাক্ষ” যেন পাঠকের সামনে খুলে দেয় এক অনন্য দিগন্ত।
এটি কেবল একটি উপন্যাস নয়; এটি আসলে এক পুরাণ-ভিত্তিক রহস্যধর্মী ট্রিলজি, যেখানে রহস্য, রোমাঞ্চ আর আধ্যাত্মিকতার সুষম মিশ্রণ দেখা যায়। গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো রুদ্রাক্ষ—এক বিস্ময় বালক, যার যাত্রা তাকে ধাপে ধাপে নিয়ে যায় আদি শক্তির প্রতিমূর্তিতে।
লেখক তিনটি কাহিনির মাধ্যমে এই রূপান্তরের পর্বগুলি ফুটিয়ে তুলেছেন—
“নরক সংহার”
“ভুজঙ্গ বধ”
“আদিম বনাম রুদ্রাক্ষ”
প্রতিটি অধ্যায়ে দেখা যায়, কিভাবে মহাদেব রুদ্রাক্ষকে মাধ্যম করে কখনো মহাপ্রলয়ের অগ্নিঝড়কে থামান, আবার কখনো ভয়ংকর অসুরকে বধ করেন। এই কাহিনিগুলি যেন আমাদের শোনায়—অলৌকিকতার ভেতরেও বাস্তবতার শিকড় রয়েছে, আর পুরাণ কেবল কিংবদন্তি নয়; বরং চিরন্তন সত্যের প্রতিফলন।
আমার কাছে এই বইটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো লেখকের চিন্তার গভীরতা। তন্ময় দেব কেবল পৌরাণিক আখ্যানকে নতুনভাবে লিখেননি, বরং তার সাথে যুক্ত করেছেন আধুনিক বিজ্ঞানের সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গি। যেমন, প্রেসক্রিপশনকে তিনি এক ব্যক্তির ইতিহাসের দলিলের সঙ্গে তুলনা করেছেন, আবার ভাষাকে দেখেছেন এক বিশেষ গোষ্ঠীর চেতনার সংমিশ্রণ হিসেবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি বইটিকে শুধু রোমাঞ্চকর করেনি, দিয়েছে এক বৌদ্ধিক মাত্রা।
পাঠক হিসেবে আমার অনুভূতি—“রুদ্রাক্ষ” পড়া মানে কেবল থ্রিলার নয়, বরং এক আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা। প্রতিটি অলৌকিক ঘটনা, প্রতিটি যুদ্ধ যেন বাস্তবতার সঙ্গে মিশে যায়, আর আমরা উপলব্ধি করি পুরাণের শক্তি কেবল অতীতে সীমাবদ্ধ নয়, বর্তমানকেও ছুঁয়ে যায়।
যারা থ্রিলারপ্রেমী পাঠক, তাদের কাছে এই বই নিঃসন্দেহে এক অমূল্য সংযোজন। রহস্য, উত্তেজনা আর পুরাণের চিরন্তন আবহ মিলিয়ে “রুদ্রাক্ষ” হয়ে উঠেছে এক অনন্য গ্রন্থ।
শে�� পর্যন্ত বলা যায়, প্রথম খণ্ড শেষ করার পর থেকেই দ্বিতীয় পর্বের জন্য প্রতীক্ষা শুরু হয়ে গেছে।
🕉️ সদ্য পরে শেষ করলাম তন্ময় দেবের লেখা ❝রুদ্রাক্ষ❞। এতে রয়েছে তিনটি কাহিনী i. নরক দহন ii. ভুজঙ্গ সংহার iii. আদিম দ্বন্দ্বে রুদ্রাক্ষ
♦️ এবার আসি কাহিনী নিয়ে আলোচনায়। আচ্ছা, আমি কি স্পয়লার দেব? নাকি কোন গূঢ় সত্য গোপন করব? না বাপু,স্পয়লার দিয়ে অযথা রুদ্রাক্ষকে স্পয়েল করে দেওয়ার কোন মানেই হয় না।
🔖 এবার আসি প্রতিটি কাহিনীর প্লট নিয়ে।
🔱 নরক দহন ≥»›⟩ কাহিনী শুরু হচ্ছে চন্দন নামের একটি ছেলেকে নিয়ে। সে যেন এক অদ্ভুত,এক অজানা একটা কারণে খুব ভীত,সন্ত্রস্ত। এদিকে দেখা যায়, তার ঘরের বাইরে বেরোনো বারণ। কাজেই, তাকে ঘরে বেঁধে রাখা হয়। কাহিনীতে দেখতে পাওয়া যায়, চন্দ্রপুর নামের এক বিত্তশালী পরিবার চৌধুরী বংশের। সেই বংশেরই কনিষ্ঠ সন্তান চন্দন, কোন রোগে আক্রান্ত সে? সেটা কি সত্যিই কোনো রোগ না অন্য কিছু?
🕉️অন্যদিকে ফ্ল্যাশব্যাকে ভেসে আসে ৭০ বছর আগের এক কাহিনী। এক সাধুবাবার শরণাপন্ন হয়েছেন ইন্দুভূষণ ও তার স্ত্রী শুক্লা।তাঁর মুখ থেকে জানা যায়, তাদের সদ্যজাত শিশুপুত্রের ওপর নাকি মহাদেবের প্রভাব বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
আদপেই এই দুই এ কাহিনী কি ভিন্ন নাকি এক? যদি একই হয় তাহলে কীভাবে তা মিলে গেল? কেন্দ্রীয় চরিত্র“রুদ্রাক্ষ”কে?কী তার আসল পরিচয়?চন্দন কী পারবে সুস্থ্য হতে?
প্রশ্ন অনেক ! আর প্রশ্নের উত্তর পেতে আপনাদের একটাই করণীয়। হাতে তুলে নিন ❝রুদ্রাক্ষ❞।
🪶🪶🪶🪶🪶🪶🪶🪶🪶🪶🪶🪶🪶
🔱 ভুজঙ্গ সংহার ≥»›⟩ নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে এখানে কাউকে সংহার করার কথা বলা হয়েছে।। হ্যাঁ, ঠিক ভেবেছেন, এখানে“ভুজঙ্গ”কে সংহার করার কথাই বলা হয়েছে। আচ্ছা কে এই ভুজঙ্গ? কাহিনী শুরুতেই চৌধুরী বাড়ির বড় ছেলে বন্ধন তার স্ত্রীর জোরাজোরিতে গুরু রুদ্রাক্ষ এর কাহিনীর বর্ণনা দিতে থাকেন। সেখানে চলে আসে বন্ধন ও তার চার বন্ধুর এক অভিযানের কাহিনী। সেখানে পৌঁছে এক দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয় তারা।
🕉️মূল কাহিনী এটাই। পুরো ঘটনা জানতে হলে আপনাকে পড়তে হবে,“ভুজঙ্গ সংহার”।
🪶🪶🪶🪶🪶🪶🪶🪶🪶🪶🪶🪶🪶
🔱 আদিম দ্বন্দ্বে রুদ্রাক্ষ ≥»›⟩ চন্দ্রপুরে এক বিশালব্যাপী রব উঠেছে। মাইকে শোনা যাচ্ছে, শিব-গীতি। আসল কারণটা কী? কারণ হলো চৌধুরীদের বাড়ির মন্দিরে মহাদেবের বিগ্রহ স্থাপন করা হবে। সেখানেই এসে উপস্থিত হন রুদ্রাক্ষ এবং নন্দদা। বন্ধনের তিন বন্ধুও সেখানে সপরিবারে পৌঁছায়। পরে বন্ধনরা চার বন্ধু রুদ্রাক্ষের মুখ থেকে শুনতে থাকে তার সাথে নন্দদার প্রথমবার সাক্ষাৎ এর বিচিত্র এক কাহিনী।
🕉️ আগেই বলেছি স্পয়লার দেব না। আপনাদের পুরোটা জানতে হলে,“আদিম দ্বন্দ্বে রুদ্রাক্ষ” পড়তে হবে।
🌞 এবার আসি নিজের ব্যক্তিগত কিছু মতামত নিয়ে।
১»❝রুদ্রাক্ষ❞ যখন পড়া শুরু করেছিলাম, তখন প্রথম দিনে আমার স্পষ্ট মনে আছে পাঁচ পাতার বেশি পড়তে পারিনি। ২» কাহিনীগুলি পড়তে গিয়ে বুঝেছিলাম যে, একটা দীর্ঘ সময়ে এইসব না পড়ার অভ্যাস যেন তীব্রভাবে গ্রাস করেছিল আমাকে। এত ডিটেইলিং প্রতিটি ছত্রে ছত্রে যে পড়তে পড়তে প্রথমে ঘুম চলে আসছিল। ৩» বর্তমানে বহু লেখাই পড়ি, যেখানে অনেকটা "গড়পরতা","ধুমধারাক্কা" শব্দগুলো প্রতিফলিত হয়। অর্থাৎ, পাঠকের ভাবার বেশি অবকাশ থাকে না।❝রুদ্রাক্ষ❞ তার ব্যতিক্রম। ৪» যেহেতু কাহিনীগুলি খুবই গবেষণা করে, বহুদিনের অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের মাধ্যমে দক্ষ হাতের কারিগরিতে সম্পন্ন করা, তাই লেখাগুলি পড়ে অনেক কিছু জেনেছি, শিখেছি। ৫» আজকালকার অনেক সাহিত্যই (যতটা আমি পড়েছি) ক্রিকেটীয় ভাষায়,“টি-টোয়েন্টি” টুর্নামেন্টের পাওয়ার প্লে কিংবা ডেথ ওভারে ব্যাটিং করার মত, অর্থাৎ কোন রাখঢাক নেই, শুধু বিধ্বংসী রূপ দেখানো।❝রুদ্রাক্ষ❞ সেক্ষেত্রে টেস্ট ফরমাটের মত ধরে ধরে এক ইনিংস টিকে থাকবার লড়াই, যেখানে খুব কম রানে প্রথম ইনিংস গুটিয়ে গেলেও চাপ নেই, পরবর্তী ইনিংসে লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়ার অবকাশ থাকে। অর্থাৎ,❝রুদ্রাক্ষ❞ তে এক একটি ইনিংস হল এক একটি কাহিনী এবং এক একটি বল হল এক একটি চরিত্র। ৬»❝রুদ্রাক্ষ❞ তে আলাদা করে কোন কথক নেই। কাজেই কাহিনীর লয় এগিয়েছে তিস্তার ঠান্ডা জলের মতই। নদী যেমন মাঝেমধ্যে বাঁক নিয়েছে তেমনি রুদ্রাক্ষ তেও পড়ার সময় মাঝেমাঝে মাথায় জট পাকাবার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে, বলা যেতেই পারে পাঠক নিজেই হয়েছেন কখনো রুদ্রাক্ষ, কখনো বন্ধন কখনো বা মিশে গেছেন ভিলেন চরিত্রের সাথে।
🔹 সত্যি বলতে Ekalavya Prakashan এর প্রোডাকশন কোয়ালিটি নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই।ওদের কোয়ালিটি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিন্দুকরা তো বলবেই ওদের জন্য শুধু এইটাই বলবো, "kuchh to log kahenge, logo ka kaam hai kehana chhodo bekar ki bato me kahi bit na jaye raina"......
Semanti দি কে অসংখ্য ধন্যবাদ, এমন এমন সব লেখা আমাদের সামনে আনার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। Soumik Pal দাদাকেও আলাদা করে একটা থ্যাংকস জানাতে হয়, ওর আঁকা প্রচ্ছদই তো আমার মন কেড়েছিল।তাই শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল আর যাই নিই না কেন,❝রুদ্রাক্ষ❞ নিতেই হচ্ছে। যদিও রুদ্রাক্ষ হাতে পেয়ে পড়তে পড়তে প্রায় তিন মাস লেগে গেল।
♦️ বইটিতে খুব সামান্য কিছু মুদ্রণ প্রমাণ আমার চোখে এসেছে। ওই তিন-চারটে মতন হবে। তাছাড়া সব ঠিকঠাক।❝রুদ্রাক্ষ❞ এর পরবর্তী পর্ব যদি আনা হয় তবে একটুও দুঃখ পাবো না 😋। বাংলা সাহিত্যের একজন নগণ্য পাঠক হিসেবে ,এটুকু দাবি তো করতেই পারি, তাই না?🥹
এই প্রথম লেখকের লেখা পড়লাম। ভাষা শৈলী, প্লট আর টুইস্ট ট্রিলজির মূল ইউএসপি। পুরাণ ও বিজ্ঞানের সঠিক মিশেলে কাহিনীগুলো আরো উপভোগ্য হয়ে উঠেছে। ইউনিভার্স বিল্ডিংয়ে লেখক একশতে একশ পাবেন। পরবর্তী খন্ডের অপেক্ষায় রইলাম।