“বনলতা টি কেবিন” আমার কাছে কেবল একটি রিভেঞ্জ থ্রিলার নয় এটা যেন আমার নিজের শহরের ধুলোমাখা গল্প, আমাদের চেনা চায়ের দোকান, সন্ধ্যার কুয়াশা আর কিছু চাপা গুঞ্জনের ভিতর গড়ে ওঠা এক অন্ধকার মোড়।
গল্পের মূল ছায়া একটি অদ্ভুত, নীরব শহরে, যেখানে সময় থমকে থাকে, যেখানে “বনলতা টি কেবিন” নামের একটি চা দোকান আসলে এক রহস্যের কেন্দ্র। একের পর এক ঘটনা, নিঃশব্দ প্রতিশোধের ইঙ্গিত, আর অদৃশ্য আবেগের ভার, সব মিলিয়ে বইটি এক বসায় পড়ে ফেলার মতো।গল্পের গতি ঝরঝরে। লেখক ধাপে ধাপে রহস্য উন্মোচন করেছেন, কখনো থেমে, কখনো ছুটে। ভাষা সহজ, অথচ মাঝে মাঝে এমন কিছু বাক্য উঠে এসেছে যা কেবল একজন সংবেদনশীল লেখকের কলমেই সম্ভব।
এটা লেখকের প্রথম বই নয়, কিন্তু আমার পাঠ হিসেবে ছিল তার লেখার সঙ্গে প্রথম পরিচয়। আর সেই প্রথম পরিচয়টাই এতটা মুগ্ধতা নিয়ে এসেছে, যা সহজে ভুলবার নয়।
সবচেয়ে ভালো লেগেছে, বইটিতে ছড়িয়ে থাকা কবিতাগুলো।
এই কবিতাগুলো কখনও চরিত্রের কষ্ট প্রকাশ করেছে, কখনও গড়ে দিয়েছে এক রহস্যময় আবহ। কিছু কিছু কবিতা এমন ছিল, যেগুলো পড়ে মনে হয়েছে, এই গল্পের শরীরে একটা আলাদা হৃদয় আছে যেটা এই কবিতাগুলো।
লেখকের সবচেয়ে বড় শক্তি, তিনি ঢাকার বাইরের গল্প বলছেন, তার নিজের শহর সুনামগঞ্জকে প্রেক্ষাপটে এনে আমাদের সামনে একটি রহস্যময়, রক্তমাখা কিন্তু হৃদয়ছোঁয়া জগৎ তৈরি করেছেন। তবে, বইটিতে কিছু কিছু জায়গায় চরিত্র আরও গভীর হতে পারত, আর শেষটা একটু বেশি তাড়াহুড়ার মতো লেগেছে। কিন্তু এই ছোটখাটো সীমাবদ্ধতাগুলো উপেক্ষা করেও বইটি শেষ করার পর মনে হয়েছে এটা আমাদের শহরের গল্প ছিল, আমাদের সময়ের গল্প ছিল, আর সেই গল্প বলেছে আমাদেরই একজন।
লেখকের জন্যে শুভকামনা রইল। তার কলম আরও শাণিত হোক, গল্প আরও বিস্তৃত হোক এবং প্রতিটি শব্দে থেকে যাক তার শহর, তার সময়, আর তার সত্য। নতুন লেখা পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম।