ছিমছাম, শান্ত মফস্বল শহর সুনামগঞ্জে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে অজানা কিছু লোকের আনাগোনা। কেউ ওভারকোট, কালো রোদচশমা আর চওড়া বারান্দাওয়ালা টুপি পরে দিনে দুপুরে খুনখারাবি করে বেড়াচ্ছে, যাকে ভুঁইফোঁড় পত্রিকাগুলো নাম দিয়েছে ‘সুনামগঞ্জের ফ্যান্টম’! কেউ কলির কেষ্ট সেজে হাতে রংতুলি নিয়ে রমণীমহলে প্রেম বিলিয়ে বেড়াচ্ছে। কেউ মুখে মুখোশ এঁটে চষে বেড়াচ্ছে গোটা শহরটা। কেউ কমেডিয়ান হিসেবে ব্যর্থ হয়ে এখানে এসে ক্যাফের ম্যানেজারি করে দিন গুজরান করছে, তো কেউ খুলে বসেছে ‘বনলতা টি কেবিন’ নামের বিলাসী বুক ক্যাফে! ওসি প্রদীপের ‘বেসিক পুলিশি ইনটিউশান’ বলছে অবৈধ কিছু একটা ঘটছে শহরতলীর এই সদ্যজন্মা বুকক্যাফেটাতে। অন্যদিকে বিখ্যাত ব্যবসায়ী সাধন রায়ের পরিবারের পেছনে আদাজল খেয়ে লেগেছে কোনও এক অজানা নেমেসিস। ওঁর গোটা পরিবারকে ধ্বংসের আগে যেন থামবে না সে! মফস্বলের এই নিস্তরঙ্গ জীবনে হঠাৎ করেই কেন এত এত ঢেউ উঠছে? ‘বনলতা টি কেবিন’ একটা অন্ধকার মানবীয় অনূভুতির আখ্যান— যার নাম প্রতিশোধ! গল্পটা বুকভরা জিঘাংসার, গল্পটা ভয়াল মাৎসর্যের, গল্পটা লোভের... মানবমনের অন্ধকারে আপনাদের স্বাগত!
লেখক প্রমিজিং, সন্দেহ নেই। বেশ ভালো রিভেঞ্জ স্টোরি। তবে অতি নাটকীয়তা এক পর্যায়ে বাহুল্য লেগেছে। কিছুটা কাটছাট করলে লেখাটা আরও আঁটোসাঁটো হতো। আশা করা যায়, সিক্যুয়েলে কাহিনি জমে যাবে।
"No other mind is as brilliant or destructive as a mind with a purpose.." লাইন টা আমার পছন্দের একটা বই থেকে - Dan Brown এর Inferno.. থ্রিলার আমার বরাবর ই ভালো লাগে। কিন্তু আমাদের দেশে actual ভালো থ্রিলার... হয় খুব কম, নাহলে হয়ত আমি ই এখনো পাইনি। দ্বিতীয় টা সত্যি হলে আমি ই খুশি হবো:3 ..এই বইটা বইমেলায় বই কিনতে যেয়ে স্টল এর আপু/ভাই দের সাজেশন এ কেনা, আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। এবার আসি গল্পে, তো গল্পের স্টাইল টা একটু আলাদা, রিভেঞ্জ জনরার কাহিনী, তাই আমরা আগে থেকে জানি কালপ্রিট কে। মানে পাঠক জানে, কিন্তু বাকি চরিত্র রা কেউ জানেন না। লেখা বেশ ভালো, মাঝে মাঝে একটু "অতি মাত্রায় সিনেমাটিক" ভাব টা না থাকলেই একদম... যা হোক, এও ভালো। 'গল্পের ভিলেন' ফাইয়াজ কে ভালো লেগেছে, শেষে আরেকটু জানতে পারলে (সৌরভের কি হলো?) ভালো লাগতো...হেহেহে।
ইঁদুর-বিড়াল খেলা। কে ইঁদুর, কে বিড়াল আর কে বাঁধে ঘন্টা, কে ঘুরায় ছড়ি?
মফস্বল একটা শহর সুনামগঞ্জরে কেন্দ্র কইরা গইড়া উঠসে ঘটনা। একটা পরিবারের উপরে নাইমা আসছে নরকের আযাব। মফস্বলের থানা, অল্প পুঁজি নিয়া ওসি প্রদীপ খুঁইজা যাচ্ছে নরকের আযাব দুনিয়ায় নিয়া আসা শয়তানরে। চোখের সামনে আছে। আবার চোখের আড়ালে। প্রতিশোধের আগুন খালি হারাধনরেই পুড়াবে না, পুরা এলাকার শান্তি পুড়ায় ছারখার কইরা দিবে।
প্রতিশোধ-রঙা চা খাইতে বনলতা টি কেবিনে যাইতে পারেন। যেইখান থাইকা পরিবেশন করা হয় বই, স্ট্যান্ড আপ কমেডি আর... প্রতিশোধ। এইটা একটা প্রতিশোধের গল্প। লোকেদের লোভের গল্প। পাপের গল্প। আর জানেনই তো— লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। হয়তো। মাঝে মাঝে ভিন্নকিছুও হয়। সব পাপের সাজা তো এই দুনিয়ায় হয়া উঠে না। কিছু পাপের হয়, কারো কারো পাপের হয়। আর কারো কারো? উমম, আল্লাহ্ শয়তানরে পাঠায় রাখসেন না দুনিয়ায়? "নাথিং ইজ মোর ক্রিয়েটিভ, নর ডেস্ট্রাক্টিভ, দেন আ ব্রিলিয়ান্ট মাইন্ড উইথ আ পারপাস!" __________
প্রতিক্রিয়া: এইটার রিভিউ লিখতে যায়া ভাবতেসিলাম কী লিখবো? স্পয়লার হয়া যাবে। তখন ভাবলাম বই সম্পর্কে না লিইখা বরং হেঁয়ালি করি। বই পড়ার পরে এই রিভিউ পড়লে বুঝতে পারবেন আসলে। বইয়ের একটা দিক বলেই প্রতিক্রিয়া শেষ করবো। লেখক হিসেবে ইফতি তার একটা ধারা চালায় যাইতেসেন— ছোট ছোট কবিতা লেইপা দিতেসেন পুরা বই জুইড়া। অথচ কবিতাগুলা খাপছাড়া কিংবা জোর কইরা লেইপা দেয়া লাগতেসে না। বেশ ক'টা কবিতা আমার ভালো লাগসে, প্রকাশক যে চরিত্রগুলার কার্ড বানাইসেন, ঐখানে চাইলে কবিতারও কার্ড হয়তো বানাইতে পারতেন।
ভালো কথা, লেখকের লেখা থাইকা সুনামগঞ্জ ঘুইরা আসার খায়েশ জাগতে পারে। কোন এক পূর্ণিতে ঘুইরা আসতে পারেন সুনামগঞ্জ, জোছনার শহর, আর দেইখা আসতে পারেন বনলতা টি কেবিনের জায়গা কিংবা সেই পুকুরপাড়।
“বনলতা টি কেবিন” আমার কাছে কেবল একটি রিভেঞ্জ থ্রিলার নয় এটা যেন আমার নিজের শহরের ধুলোমাখা গল্প, আমাদের চেনা চায়ের দোকান, সন্ধ্যার কুয়াশা আর কিছু চাপা গুঞ্জনের ভিতর গড়ে ওঠা এক অন্ধকার মোড়।
গল্পের মূল ছায়া একটি অদ্ভুত, নীরব শহরে, যেখানে সময় থমকে থাকে, যেখানে “বনলতা টি কেবিন” নামের একটি চা দোকান আসলে এক রহস্যের কেন্দ্র। একের পর এক ঘটনা, নিঃশব্দ প্রতিশোধের ইঙ্গিত, আর অদৃশ্য আবেগের ভার, সব মিলিয়ে বইটি এক বসায় পড়ে ফেলার মতো।গল্পের গতি ঝরঝরে। লেখক ধাপে ধাপে রহস্য উন্মোচন করেছেন, কখনো থেমে, কখনো ছুটে। ভাষা সহজ, অথচ মাঝে মাঝে এমন কিছু বাক্য উঠে এসেছে যা কেবল একজন সংবেদনশীল লেখকের কলমেই সম্ভব।
এটা লেখকের প্রথম বই নয়, কিন্তু আমার পাঠ হিসেবে ছিল তার লেখার সঙ্গে প্রথম পরিচয়। আর সেই প্রথম পরিচয়টাই এতটা মুগ্ধতা নিয়ে এসেছে, যা সহজে ভুলবার নয়।
সবচেয়ে ভালো লেগেছে, বইটিতে ছড়িয়ে থাকা কবিতাগুলো। এই কবিতাগুলো কখনও চরিত্রের কষ্ট প্রকাশ করেছে, কখনও গড়ে দিয়েছে এক রহস্যময় আবহ। কিছু কিছু কবিতা এমন ছিল, যেগুলো পড়ে মনে হয়েছে, এই গল্পের শরীরে একটা আলাদা হৃদয় আছে যেটা এই কবিতাগুলো।
লেখকের সবচেয়ে বড় শক্তি, তিনি ঢাকার বাইরের গল্প বলছেন, তার নিজের শহর সুনামগঞ্জকে প্রেক্ষাপটে এনে আমাদের সামনে একটি রহস্যময়, রক্তমাখা কিন্তু হৃদয়ছোঁয়া জগৎ তৈরি করেছেন। তবে, বইটিতে কিছু কিছু জায়গায় চরিত্র আরও গভীর হতে পারত, আর শেষটা একটু বেশি তাড়াহুড়ার মতো লেগেছে। কিন্তু এই ছোটখাটো সীমাবদ্ধতাগুলো উপেক্ষা করেও বইটি শেষ করার পর মনে হয়েছে এটা আমাদের শহরের গল্প ছিল, আমাদের সময়ের গল্প ছিল, আর সেই গল্প বলেছে আমাদেরই একজন।
লেখকের জন্যে শুভকামনা রইল। তার কলম আরও শাণিত হোক, গল্প আরও বিস্তৃত হোক এবং প্রতিটি শব্দে থেকে যাক তার শহর, তার সময়, আর তার সত্য। নতুন লেখা পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম।