Jump to ratings and reviews
Rate this book

বনলতা টি কেবিন

Rate this book
ছিমছাম, শান্ত মফস্বল শহর সুনামগঞ্জে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে অজানা কিছু লোকের আনাগোনা।
কেউ ওভারকোট, কালো রোদচশমা আর চওড়া বারান্দাওয়ালা টুপি পরে দিনে দুপুরে খুনখারাবি করে বেড়াচ্ছে, যাকে ভুঁইফোঁড় পত্রিকাগুলো নাম দিয়েছে ‘সুনামগঞ্জের ফ্যান্টম’!
কেউ কলির কেষ্ট সেজে হাতে রংতুলি নিয়ে রমণীমহলে প্রেম বিলিয়ে বেড়াচ্ছে।
কেউ মুখে মুখোশ এঁটে চষে বেড়াচ্ছে গোটা শহরটা।
কেউ কমেডিয়ান হিসেবে ব্যর্থ হয়ে এখানে এসে ক্যাফের ম্যানেজারি করে দিন গুজরান করছে, তো কেউ খুলে বসেছে ‘বনলতা টি কেবিন’ নামের বিলাসী বুক ক্যাফে!
ওসি প্রদীপের ‘বেসিক পুলিশি ইনটিউশান’ বলছে অবৈধ কিছু একটা ঘটছে শহরতলীর এই সদ্যজন্মা বুকক্যাফেটাতে।
অন্যদিকে বিখ্যাত ব্যবসায়ী সাধন রায়ের পরিবারের পেছনে আদাজল খেয়ে লেগেছে কোনও এক অজানা নেমেসিস। ওঁর গোটা পরিবারকে ধ্বংসের আগে যেন থামবে না সে!
মফস্বলের এই নিস্তরঙ্গ জীবনে হঠাৎ করেই কেন এত এত ঢেউ উঠছে?
‘বনলতা টি কেবিন’ একটা অন্ধকার মানবীয় অনূভুতির আখ্যান— যার নাম প্রতিশোধ! গল্পটা বুকভরা জিঘাংসার, গল্পটা ভয়াল মাৎসর্যের, গল্পটা লোভের...
মানবমনের অন্ধকারে আপনাদের স্বাগত!

240 pages, Hardcover

First published February 10, 2025

Loading...
Loading...

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
5 (14%)
4 stars
21 (60%)
3 stars
7 (20%)
2 stars
2 (5%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 8 of 8 reviews
Profile Image for শুভাগত দীপ.
334 reviews48 followers
July 29, 2026
শান্ত-নিস্তরঙ্গ মফস্বল শহর সুনামগঞ্জ। চমৎকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই শহরটা হঠাৎ-ই যেন অশান্ত হয়ে উঠলো। কালো ওভারকোট আর মাথায় চওড়া বারান্দাওয়ালা টুপি পরা এক রহস্যময় আগন্তুকের উদ্ভব ঘটলো শহরে। একইসাথে রহস্যময় আর ভয়ঙ্কর এই আগন্তুক একের পর এক খুন করে যেতে লাগলো। সুনামগঞ্জের লোকাল পত্রিকাগুলো এই আগন্তুকের নাম দিলো সুনামগঞ্জের ফ্যান্টম। লোকটা আসলে কে? কি চায় সে? নাকি আর দশজন সাধারণ সিরিয়াল কিলারের মতো এই সুনামগঞ্জের ফ্যান্টমও একজন সিরিয়াল কিলার?


দীর্ঘদিন বিদেশে বসবাস করার পর নিজ শহরে ফিরে এসেছে একজন মানুষ। মানুষটার একটা উদ্ভট সমস্যা আছে। সে নিজের আসল চেহারা কাউকে দেখাতে চায় না। এই কারণে মানুষটা সবসময়ই মুখোশে ঢেকে রাখে নিজের মুখ। তার কালেকশনে আছে নানা ধরণের মুখোশ। নিজের মুড আর পারিপার্শ্বিক সিচুয়েশনের ওপর ভিত্তি করে মানুষটা মুখোশ সিলেকশন করে। এতোদিন পর সুনামগঞ্জের বুকে সে ফিরে এসেছে একটা বিশেষ মিশন হাতে নিয়ে। কি সেই গোপনীয় মিশন?


অরিন্দম বাগচীকে লেডি কিলার বললে বোধহয় ভুল বলা হবে না। রমণীমোহন স্বভাবের এই তরুণ গতো কয়েক মাস ধরে সুনামগঞ্জে নিজের আস্তানা গেড়েছে। এই মেয়ে-সেই মেয়ের সাথে সে মেতে উঠেছে প্রেমের মহোৎসবে। রঙ-তুলি হাতে নিয়ে অরিন্দমের এই লাগামছাড়া প্রেমের সমাপ্তি আসলে কোথায়? নাকি এসবের পেছনেও তার আছে কোন গোপন অভিসন্ধি?


সুনামগঞ্জের নামকরা ব্যাবসায়ী সাধন রায়। ভদ্রলোক টাকার কুমির বলতে যা বোঝায়, ঠিক তাই। তাঁর আছে নানা ধরণের ব্যাবসা। অগাধ টাকার পাশাপাশি প্রভাব-প্রতিপত্তিরও কোন অভাব নেই সাধন বাবুর। ইদানীং তাঁর পরিবারের সাথে অদ্ভুত কিছু ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে। কে বা কারা হঠাৎ আদাজল খেয়ে লেগেছে সাধন বাবু আর তাঁর পরিবারের পেছনে। ব্যাপারটা পুরোনো প্রতিশোধ গ্রহণের সাথে সম্পর্কিত, এটা বুঝতে বুদ্ধিমান সাধন রায়ের তেমন কোন বেগ পেতে হলো না। কে এই অজ্ঞাতনামা নেমেসিস? কিসের প্রতিশোধ চায় সে?


নিজেকে একজন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাওয়া ইরাজ এখন থাকে সুনামগঞ্জে। বনলতা টি কেবিন নামের একটা বুক ক্যাফের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করে সে। ইদানীংকালে সুনামগঞ্জ শহর জুড়ে ঘটে চলা নানা অদ্ভুত ঘটনার সাথে কোন না কোন ভাবে জড়াচ্ছে বনলতা টি কেবিনের নাম। ওসি প্রদীপ সাহাও এবার নড়েচড়ে বসলো। বনলতার পর্দার আড়ালে কি ঘটছে সেটা জানার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলো সে। পুরো শহর জুড়ে দারুণ এক খেলা শুরু হলো, যে খেলার পরতে পরতে জড়িয়ে আছে লোভ, প্রতিহিংসা, বুদ্ধির দৌড় আর প্রতিশোধের নেশা।


আমি ফাইয়াজ ইফতির লেখা ছোট গল্প পড়েছি এর আগে। কিন্তু তাঁর লেখা কোন পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস আমার পড়া হয়েছিলো না। 'বনলতা টি কেবিন' দিয়েই শুরু করলাম। এটা একটা নিখাদ রিভেঞ্জ থ্রিলার। রিভেঞ্জ থ্রিলার ঘরানাটা আমার বেশ পছন্দের। তাই দেশিয় আবহ নিয়ে লেখা সম্পূর্ণ মৌলিক 'বনলতা টি কেবিন'-এর ফ্ল্যাপের লেখা পড়েই বইটা সংগ্রহ করার আর পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম। বইটা প্রকাশিত হওয়ার পরপরই সংগ্রহ করা হলেও পড়তে একটু দেরিই হয়ে গেলো। যাই হোক, 'বনলতা টি কেবিন' ওভারঅল আমার কাছে ভালোই লেগেছে।


লেখক ফাইয়াজ ইফতি তাঁর এই উপন্যাসে একটা প্রতিশোধের গল্প বলার চেষ্টা করেছেন। যেখানে প্রতিশোধে পাশাপাশি মানবমনের আরো বেশ কিছু অন্ধকারাচ্ছন্ন দিকও তিনি চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস পেয়েছেন। ফাইয়াজ ইফতির গল্প বলার ধরণ চমৎকার। অনেকটা বৈঠকি চালে বেশ ধীরে-সুস্থে গল্প বলেন তিনি৷ পারিপার্শ্বিকের বর্ণনার ক্ষেত্রেও তাঁর গল্প বলার ধরণে বজায় থাকে উপভোগ্য একটা মেজাজ। ফলে 'বনলতা টি কেবিন' পড়তে গিয়ে আমি কোন রকম বিরক্তিকর অবস্থার মুখোমুখি হইনি। বিশেষ করে এই উপন্যাসের শুরুটা ফাইয়াজ ইফতি করেছেন বেশ চমৎকার ভাবে। তার ওপর 'বনলতা টি কেবিন'-এর প্লটটাকে তিনি গড়ে তুলেছেন তাঁর নিজ হোমটাউন সুনামগঞ্জ শহরকে কেন্দ্র করেই। সম্ভবত এই কারণেই লেখকের বর্ণনায় পুরো সুনামগঞ্জ যেন জীবন্ত হয়ে ধরা দিয়েছিলো আমার চোখের সামনে। 


'বনলতা টি কেবিন'-এর চরিত্রগুলোর চরিত্রায়ণও মোটামুটি ভালো লেগেছে আমার। বিশেষভাবে ভালো লেগেছে ব্যাবসায়ী সাধন রায়ের ব্যাক স্টোরি আর আশিক রহমান নামের চরিত্রটার নানা রহস্যময় কীর্তিকলাপ। ওসি প্রদীপের চরিত্রায়ণটা একটু দুর্বল বলে মনে হয়েছে আমার। একজন ওসি হিসেবে তাকে আমার ঠিক জুতসই মনে হয়নি। পুরো 'বনলতা টি কেবিন'-এ কয়েকবার কাহিনি ঝুলে গেছে এমনটা মনে হয়েছে। এই জায়গাগুলোতে ওসি প্রদীপ সহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের দুর্বল ভূমিকাকে অবস্থাটার জন্য দায়ী বলে মনে হয়েছে আমার। লেখক ফাইয়াজ ইফতি তাঁর এই উপন্যাসে বিশাল বড়সড় কোন টুইস্ট রাখেননি। যেটা রেখেছেন, সেটা অন্তত আমি আগে থেকেই অনুমান করতে পারছিলাম। তবে টুইস্টের দিক দিয়ে না হলেও শেষে গিয়ে লেখক ঠিকই আমাকে চমকে দিয়েছেন। সেটা নিয়ে বিস্তারিত লিখবো না। স্পয়লার দেয়া হয়ে যেতে পারে।


পারিবারিক আর ব্যক্তিগত নানা ব্যস্ততায় 'বনলতা টি কেবিন' শেষ করতে আমার প্রায় ১১ দিন সময় লেগে গেছে। তবে বইটা বেশ দ্রুতগতির। এই উপন্যাসের প্রিক্যুয়েল 'বেদুইন ক্যাফে' পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম। লেখক ফাইয়াজ ইফতির কাছ থেকে 'বনলতা টি কেবিন'-এর মতো এক্সপেরিমেন্টাল কাজ আরো চাই৷ তাঁর অন্যান্য বইগুলোও পড়ার আশা রাখি। সজল চৌধুরীর করা প্রচ্ছদটা ভালো লেগেছে। বইটার প্রোডাকশনও দারুণ ছিলো।


উপভোগ্য একটা রিভেঞ্জ থ্রিলার পড়তে চাইলে 'বনলতা টি কেবিন' হাতে তুলে নিতে পারেন। রিকমেন্ডেড। 


ব্যক্তিগত রেটিং: ৩.৭৫/৫


বই: বনলতা টি কেবিন 

লেখক: ফাইয়াজ ইফতি

প্রকাশক: ভূমিপ্রকাশ

প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

ঘরানা: রিভেঞ্জ থ্রিলার 

প্রচ্ছদ: সজল চৌধুরী

পৃষ্ঠা: ২৪০

মুদ্রিত মূল্য: ৫৪০ টাকা

ফরম্যাট: হার্ডকভার 


(২৯ জুলাই, ২০২৬, দুপুর ১২ টা ৪১ মিনিট; নাটোর)
3 reviews3 followers
March 5, 2025
ঘরনা: রিভেঞ্জ থ্রিলার / মিস্ট্রি
প্রকাশনী: ভূমিপ্রকাশ

ইঁদুর-বিড়াল খেলা। কে ইঁদুর, কে বিড়াল আর কে বাঁধে ঘন্টা, কে ঘুরায় ছড়ি?

মফস্বল একটা শহর সুনামগঞ্জরে কেন্দ্র কইরা গইড়া উঠসে ঘটনা। একটা পরিবারের উপরে নাইমা আসছে নরকের আযাব।
মফস্বলের থানা, অল্প পুঁজি নিয়া ওসি প্রদীপ খুঁইজা যাচ্ছে নরকের আযাব দুনিয়ায় নিয়া আসা শয়তানরে। চোখের সামনে আছে। আবার চোখের আড়ালে। প্রতিশোধের আগুন খালি হারাধনরেই পুড়াবে না, পুরা এলাকার শান্তি পুড়ায় ছারখার কইরা দিবে।

প্রতিশোধ-রঙা চা খাইতে বনলতা টি কেবিনে যাইতে পারেন। যেইখান থাইকা পরিবেশন করা হয় বই, স্ট্যান্ড আপ কমেডি আর... প্রতিশোধ। এইটা একটা প্রতিশোধের গল্প। লোকেদের লোভের গল্প। পাপের গল্প। আর জানেনই তো— লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। হয়তো। মাঝে মাঝে ভিন্নকিছুও হয়। সব পাপের সাজা তো এই দুনিয়ায় হয়া উঠে না। কিছু পাপের হয়, কারো কারো পাপের হয়। আর কারো কারো? উমম, আল্লাহ্‌ শয়তানরে পাঠায় রাখসেন না দুনিয়ায়?
"নাথিং ইজ মোর ক্রিয়েটিভ, নর ডেস্ট্রাক্টিভ, দেন আ ব্রিলিয়ান্ট মাইন্ড উইথ আ পারপাস!"
__________

প্রতিক্রিয়া:
এইটার রিভিউ লিখতে যায়া ভাবতেসিলাম কী লিখবো? স্পয়লার হয়া যাবে। তখন ভাবলাম বই সম্পর্কে না লিইখা বরং হেঁয়ালি করি। বই পড়ার পরে এই রিভিউ পড়লে বুঝতে পারবেন আসলে।
বইয়ের একটা দিক বলেই প্রতিক্রিয়া শেষ করবো। লেখক হিসেবে ইফতি তার একটা ধারা চালায় যাইতেসেন— ছোট ছোট কবিতা লেইপা দিতেসেন পুরা বই জুইড়া। অথচ কবিতাগুলা খাপছাড়া কিংবা জোর কইরা লেইপা দেয়া লাগতেসে না। বেশ ক'টা কবিতা আমার ভালো লাগসে, প্রকাশক যে চরিত্রগুলার কার্ড বানাইসেন, ঐখানে চাইলে কবিতারও কার্ড হয়তো বানাইতে পারতেন।

ভালো কথা, লেখকের লেখা থাইকা সুনামগঞ্জ ঘুইরা আসার খায়েশ জাগতে পারে। কোন এক পূর্ণিতে ঘুইরা আসতে পারেন সুনামগঞ্জ, জোছনার শহর, আর দেইখা আসতে পারেন বনলতা টি কেবিনের জায়গা কিংবা সেই পুকুরপাড়।

বই এবং লেখকের জন্য শুভ কামনা।
Profile Image for Sondhyashoshii.
38 reviews5 followers
May 17, 2025
লেখক প্রমিজিং, সন্দেহ নেই। বেশ ভালো রিভেঞ্জ স্টোরি। তবে অতি নাটকীয়তা এক পর্যায়ে বাহুল্য লেগেছে। কিছুটা কাটছাট করলে লেখাটা আরও আঁটোসাঁটো হতো। আশা করা যায়, সিক্যুয়েলে কাহিনি জমে যাবে।
Profile Image for Chandra.
183 reviews14 followers
August 16, 2025
"No other mind is as brilliant or destructive as a mind with a purpose.."
লাইন টা আমার পছন্দের একটা বই থেকে - Dan Brown এর Inferno.. থ্রিলার আমার বরাবর ই ভালো লাগে। কিন্তু আমাদের দেশে actual ভালো থ্রিলার... হয় খুব কম, নাহলে হয়ত আমি ই এখনো পাইনি। দ্বিতীয় টা সত্যি হলে আমি ই খুশি হবো:3 ..এই বইটা বইমেলায় বই কিনতে যেয়ে স্টল এর আপু/ভাই দের সাজেশন এ কেনা, আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।
এবার আসি গল্পে, তো গল্পের স্টাইল টা একটু আলাদা, রিভেঞ্জ জনরার কাহিনী, তাই আমরা আগে থেকে জানি কালপ্রিট কে। মানে পাঠক জানে, কিন্তু বাকি চরিত্র রা কেউ জানেন না। লেখা বেশ ভালো, মাঝে মাঝে একটু "অতি মাত্রায় সিনেমাটিক" ভাব টা না থাকলেই একদম...
যা হোক, এও ভালো। 'গল্পের ভিলেন' ফাইয়াজ কে ভালো লেগেছে, শেষে আরেকটু জানতে পারলে (সৌরভের কি হলো?) ভালো লাগতো...হেহেহে।
Profile Image for Rihan Hossain.
109 reviews6 followers
September 24, 2025
পুরো গল্পটাই বেশ চমৎকার। কিন্তু বেশ তড়িঘড়ি করে সমাপ্তি টানা হয়েছে।
Profile Image for Nayan Sikdar.
Author 3 books2 followers
September 22, 2026
মেলোড্রামা আর রিভেঞ্জ থ্রিলারের মিশ্রণে দারুণ উপভোগ্য একটি উপন্যাস বনলতা টি কেবিন লেখক ফাইয়াজ ইফতি নিঃসন্দেহে একজন প্রতিভাবান লেখক।
পুরো গল্পটা সিনেমার মতো এগিয়ে চলে। তবে গল্পে নাটকীয়তা একটু বেশিই ঘটেছে বলে আমার মনে হয়।
ওভারঅল মাস্ট রিড একটা বই।
Profile Image for Tasnim Jency.
25 reviews3 followers
June 25, 2025
“বনলতা টি কেবিন” আমার কাছে কেবল একটি রিভেঞ্জ থ্রিলার নয় এটা যেন আমার নিজের শহরের ধুলোমাখা গল্প, আমাদের চেনা চায়ের দোকান, সন্ধ্যার কুয়াশা আর কিছু চাপা গুঞ্জনের ভিতর গড়ে ওঠা এক অন্ধকার মোড়।

গল্পের মূল ছায়া একটি অদ্ভুত, নীরব শহরে, যেখানে সময় থমকে থাকে, যেখানে “বনলতা টি কেবিন” নামের একটি চা দোকান আসলে এক রহস্যের কেন্দ্র। একের পর এক ঘটনা, নিঃশব্দ প্রতিশোধের ইঙ্গিত, আর অদৃশ্য আবেগের ভার, সব মিলিয়ে বইটি এক বসায় পড়ে ফেলার মতো।গল্পের গতি ঝরঝরে। লেখক ধাপে ধাপে রহস্য উন্মোচন করেছেন, কখনো থেমে, কখনো ছুটে। ভাষা সহজ, অথচ মাঝে মাঝে এমন কিছু বাক্য উঠে এসেছে যা কেবল একজন সংবেদনশীল লেখকের কলমেই সম্ভব।

এটা লেখকের প্রথম বই নয়, কিন্তু আমার পাঠ হিসেবে ছিল তার লেখার সঙ্গে প্রথম পরিচয়। আর সেই প্রথম পরিচয়টাই এতটা মুগ্ধতা নিয়ে এসেছে, যা সহজে ভুলবার নয়।

সবচেয়ে ভালো লেগেছে, বইটিতে ছড়িয়ে থাকা কবিতাগুলো।
এই কবিতাগুলো কখনও চরিত্রের কষ্ট প্রকাশ করেছে, কখনও গড়ে দিয়েছে এক রহস্যময় আবহ। কিছু কিছু কবিতা এমন ছিল, যেগুলো পড়ে মনে হয়েছে, এই গল্পের শরীরে একটা আলাদা হৃদয় আছে যেটা এই কবিতাগুলো।

লেখকের সবচেয়ে বড় শক্তি, তিনি ঢাকার বাইরের গল্প বলছেন, তার নিজের শহর সুনামগঞ্জকে প্রেক্ষাপটে এনে আমাদের সামনে একটি রহস্যময়, রক্তমাখা কিন্তু হৃদয়ছোঁয়া জগৎ তৈরি করেছেন। তবে, বইটিতে কিছু কিছু জায়গায় চরিত্র আরও গভীর হতে পারত, আর শেষটা একটু বেশি তাড়াহুড়ার মতো লেগেছে। কিন্তু এই ছোটখাটো সীমাবদ্ধতাগুলো উপেক্ষা করেও বইটি শেষ করার পর মনে হয়েছে এটা আমাদের শহরের গল্প ছিল, আমাদের সময়ের গল্প ছিল, আর সেই গল্প বলেছে আমাদেরই একজন।

লেখকের জন্যে শুভকামনা রইল। তার কলম আরও শাণিত হোক, গল্প আরও বিস্তৃত হোক এবং প্রতিটি শব্দে থেকে যাক তার শহর, তার সময়, আর তার সত্য। নতুন লেখা পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম।
Displaying 1 - 8 of 8 reviews