দুটি উপন্যাস। 'শ্লীলতাহানির পর' এবং 'কাটাকুটি'। যেন এই সময়ের দুই প্রতিচ্ছবি।
অফিসে ম্যানেজার সুকোমলবাবু নিজের রুমে পিছন থেকে জাপটে ধরেন শ্রাবন্তীকে। প্রস্তাব দেন মন্দারমণি ঘুরতে যাওয়ার। প্রতিবাদ করে শ্রাবন্তী। সেই প্রতিবাদ নাড়িয়ে দেয় কর্তৃপক্ষকে। ওদিকে শ্রাবন্তীকে ঘিরে জাল বুনতে থাকে সুকোমল। শুরু হল জটিল লড়াই।
অন্য কাহিনিতে চারটে আলাদা বৃত্তে ঘুরতে থাকা রুদ্রনাথ, শ্রেয়া, শ্রেয়ান এবং উপালি বারবার পরস্পরের বৃত্তে ঢুকে পড়ে। শুরু হয় টানাপোড়েন। চারজনের জীবনেই রয়েছে গোপন কথা। কী সেই কথা? শ্রেয়ার স্বামী সিদ্ধার্থকে কি খুন করা হয়েছে?
সিজার বাগচী-র জন্ম ১৯৭৭ সালে। দক্ষিণ কলকাতায়। পূর্বপুরুষের বসবাস ছিল অধুনা বাংলাদেশের ময়মনসিংহে। অল্প বয়সে পিতৃহীন। কলেজে পড়ার সময়ে লেখালিখি শুরু। ফিচার, গল্প, প্রবন্ধ, সমালোচনা, চিত্রনাট্য, কথিকা, উপন্যাস। সহজ তরতরে ভাষায় লেখা সব গল্প-উপন্যাসের বিষয়ই আলাদা। এবং তা উঠে আসে রোজকার জীবনযাত্রা থেকে। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের গল্পও লিখছেন নিয়মিত৷ নানা পেশায় যুক্ত থেকেছেন। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার চাকরি করেছেন ‘আনন্দলোক’ পত্রিকায়। বর্তমানে ‘আনন্দমেলা’য় কর্মরত৷ লেখালিখি ছাড়াও বাংলার লোকসংস্কৃতি নিয়ে কাজ করতে ভালবাসেন।
সদ্য পড়ে শেষ করলাম প্রিয় লেখক সিজার বাগচীর লেখা আরও একটি নতুন বই #শ্লীলতাহানির_পর ! বেশ কিছু দিন আগেই ওনার লেখা "হঠাৎ দেখা" বইটি পড়েছিলাম। বইটি দে'জ পাবলিশিং থেকে এই বছর বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মূল্য ২৯৯/-
বইটিতে দুটো উপন্যাস রয়েছে ১) শ্লীলতাহানির পর ২) কাটাকুটি
📗১) শ্লীলতাহানির পর এই উপন্যাসের মূখ্য চরিত্রে রয়েছে শ্রাবন্তী। শ্রাবন্তীর পাঁচ বছর হলো ডিভোর্স হয়েছে, ছেলেকে নিয়ে এখন একাই থাকে ভাড়ার ফ্ল্যাটে। শ্রাবন্তী এখন একটা প্রাইভেট সেক্টরে কাজ করে......সেই অফিসে ম্যানেজার সুকোমলবাবু নিজের রুমে পিছন থেকে জাপটে ধরেন শ্রাবন্তীকে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ করে শ্রাবন্তী। থানায় জেনারেল ডাইরি ও করে সুকোমলবাবু নামে। এরপর থেকে শ্রাবন্তীর জীবনে ঘনিয়ে আসে কালো ছায়া, শ্রাবন্তীকে ঘিরে জাল বুনতে থাকে সুকোমল...... এরপর শ্রাবন্তীর জীবনের মোড় কোন দিকে ঘুরতে চলেছে? জানতে হলে অবশ্যই উপন্যাসটি পড়তে হবে! আমাদের সমাজে এখনো পর্যন্ত এই ধরনের কতো ঘটনাই না ঘটে চলেছে সবার অলক্ষ্যে! কোনো কোনো মেয়ে হয়তো মেনে নিচ্ছে, অথবা সেই সব মেয়েদের পরিস্থিতি মানিয়ে নিতে বাধ্য করছে। উপন্যাসটি পড়ার পর একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করলাম "আমাদের সমাজে পুরুষ মানুষ যদি ঢাল হয়ে না দাঁড়ায় তবে মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়?"
📗২) কাটাকুটি এই উপন্যাস অসম্পূর্ণ রয়ে গেল...... উপন্যাস শুরু হয় চারটে চরিত্রকে ঘিরে। তাদের প্রত্যেকের জীবন বয়ে চলে ভিন্ন খাতে। কেউ জীবন থেকে পালিয়ে বাঁচতে চায়, তো কেউ জীবনটাকে আবার নতুন করে শুরু করতে চায়। আবার কেউ সংসারের মায়া না কাটাতে পেয়ে সংসারের যাঁতাকলে পিষে মরে! প্রত্যেকের জীবন এগিয়ে চলে টানাপোড়েনের মাধ্যমে......... আমার মনে হয়েছে এই উপন্যাসটাকে আরও একটু বড়ো করে গুছিয়ে লিখলে ভালো হতো! দ্বিতীয় উপন্যাস টা আমার খুব একটা ভালো লাগেনি, তবে প্রথম উপন্যাসটি চমৎকার! One Time Read 👍🏻