মহারাজা নন্দকুমারকে যখন ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল তখন তাঁর বয়স ছিল সত্তর বছর। পরাধীন ভারতের সবচেয়ে কুখ্যাত আইনি হত্যার মামলা নিয়ে এই বই লেখা হয়েছে।
গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস এবং তাঁর বাল্যবন্ধু স্যর এলাইজা ইম্পে-র ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন মহারাজা নন্দকুমার। অথচ সেই সময়ের বাংলার এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন তিনি। শুধু যে ইংরেজদের ষড়যন্ত্রে নন্দকুমারের ফাঁসি হয়েছিল তা নয়। দেশীয় কিছু বিশ্বাসঘাতক যোগ দিয়েছিলেন ইংরেজ শিবিরে। কিন্তু কেন? কী দোষ ছিল নন্দকুমারের যে তাঁকে এভাবে প্রাণ দিতে হল? কারাই-বা এই বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন?
আদালতের সম্পূর্ণ ট্রায়াল রয়েছে এই বইয়ে। ঐতিহাসিক উপন্যাসের আকারে লেখা হলেও এই বইয়ের কোনো চরিত্র কাল্পনিক নয়। এই বইয়ের কোনো ঘটনা মিথ্যা নয়।
বাংলা সাহিত্যে মহারাজ নন্দকুমার নিয়ে এত ডিটেলে কাজ খুব কমই আছে। সেদিক থেকে দেখলে বইটা অসামান্য ইতিহাসের দলিল। বইটি পড়লে কোর্ট ও কোর্টের বাইরের প্রহসন সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়। স্যার এলিজা ইম্পে আর হেস্টিংসের কূটনীতিক চক্রান্তের জালে প্রথম রাজনৈতিক হত্যা হয় ভারতবর্ষ তথা বাংলার ইতিহাসে।
তবে বইটিতে অনেক প্রিন্টিং মিস্টেক বা টাইপো আছে, সেগুলো শুধরে দিলে এটি আরো পাঠযোগ্য হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে।