মহারাজা নন্দকুমারকে যখন ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল তখন তাঁর বয়স ছিল সত্তর বছর। পরাধীন ভারতের সবচেয়ে কুখ্যাত আইনি হত্যার মামলা নিয়ে এই বই লেখা হয়েছে।
গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস এবং তাঁর বাল্যবন্ধু স্যর এলাইজা ইম্পে-র ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন মহারাজা নন্দকুমার। অথচ সেই সময়ের বাংলার এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন তিনি। শুধু যে ইংরেজদের ষড়যন্ত্রে নন্দকুমারের ফাঁসি হয়েছিল তা নয়। দেশীয় কিছু বিশ্বাসঘাতক যোগ দিয়েছিলেন ইংরেজ শিবিরে। কিন্তু কেন? কী দোষ ছিল নন্দকুমারের যে তাঁকে এভাবে প্রাণ দিতে হল? কারাই-বা এই বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন?
আদালতের সম্পূর্ণ ট্রায়াল রয়েছে এই বইয়ে। ঐতিহাসিক উপন্যাসের আকারে লেখা হলেও এই বইয়ের কোনো চরিত্র কাল্পনিক নয়। এই বইয়ের কোনো ঘটনা মিথ্যা নয়।
সৌরভ চক্রবর্তীর জন্ম ত্রিপুরার আগরতলায়। শৈশব কেটেছে ত্রিপুরার রাজধানীতেই। পড়াশোনা রাজন্য ঐতিহ্যবাহী উমাকান্ত একাডেমি বিদ্যালয়ে। বিজ্ঞান বিভাগের কৃতী ছাত্র ছিলেন। পরবর্তীকালে কারিগরি বিদ্যা নিয়ে স্নাতক। বিদ্যালয় জীবন থেকেই লেখার হাতেখড়ি। পরবর্তীকালে কলেজ জীবন থেকে ব্ল্যাকবোর্ড পত্রিকার মুখ্য সম্পাদক হিসেবে কাজ করা শুরু। একসময় চুটিয়ে করেছেন গ্রুপ থিয়েটার। বড়োদের জন্য গল্প লেখার শুরু তখন থেকেই। প্রথম প্রকাশিত গল্প 'ত্রিকালদর্শী' এবং প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'চতুর্থস্তন্ত' যথাক্রমে ২০০৭ এবং ২০১২ সালে। তখন থেকেই প্রেম-অপ্রেম, রহস্য-থ্রিলার, জীবনমুখী সমাজের সব লেখাতেই সমান স্বচ্ছন্দ। কিন্তু জঁর ফিকশন নিয়ে বাংলায় লিখে চলেছেন উল্লেখযোগ্য লেখা। ছোটোদের জন্যে লিখেছেন কিশোর-ভারতী, সন্দেশ-এর মতো ঐতিহ্যবাহী পত্রিকাগুলোতে। ত্রিপুরার শিশুমহল-এর জন্য একবছর টানা লিখেছেন জনপ্রিয় কমিক্স কলাম সিরিজ। এ ছাড়াও বিভিন্ন সংকলনে প্রকাশিত হয়েছে একাধিক জনপ্রিয় গল্প। 'শেষ গল্প'-র মতো অন্য ধারার গল্প লিখে বাংলা সাহিত্যের লেখক-পাঠক নির্বিশেষে পেয়েছেন অকুণ্ঠ ভালোবাসা। চন্দ্রহাস গ্রন্থের জন্য দেশ-বিদেশের পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়েছেন। কলকাতা কসাইখানা-র মতো সাহসী রাজনৈতিক উপন্যাস লিখে পাঠকের হৃদয়ে চিরকালের মতো স্থায়ী আসন পেয়েছেন। একাধিক অডিয়ো স্টোরিতে পাঠ হয়েছে তাঁর লেখা। লেখকের লেখা থেকে ভবিষ্যতে তৈরি হতে চলেছে চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজ। ত্রিপুরায় রোগীদের স্বল্প মূল্যে চিকিৎসার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন 'দ্য মেডিট্রাস্ট হেলথকেয়ার'। বর্তমানে কলকাতা নিবাসী, সময় পেলেই বিভিন্ন পরিচিত পত্রিকা ও ওয়েবজিনের জন্য কলম তুলে নেওয়া নিয়মিত অভ্যেস। গল্পের খোঁজে দেশ চষে বেড়ানো সাম্প্রতিককালে নেশায় পরিণত হয়েছে। প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ কলকাতা কসাইখানা, চন্দ্রহাস সিরিজ, মহাগুরু, উদ্ভব লিঙ্গ, মৃতকৈটভ সিরিজ, ব্রহ্মহত্যা, দেবী রাক্ষস ইত্যাদি।
বাংলা সাহিত্যে মহারাজ নন্দকুমার নিয়ে এত ডিটেলে কাজ খুব কমই আছে। সেদিক থেকে দেখলে বইটা অসামান্য ইতিহাসের দলিল। বইটি পড়লে কোর্ট ও কোর্টের বাইরের প্রহসন সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়। স্যার এলিজা ইম্পে আর হেস্টিংসের কূটনীতিক চক্রান্তের জালে প্রথম রাজনৈতিক হত্যা হয় ভারতবর্ষ তথা বাংলার ইতিহাসে।
তবে বইটিতে অনেক প্রিন্টিং মিস্টেক বা টাইপো আছে, সেগুলো শুধরে দিলে এটি আরো পাঠযোগ্য হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে।