কিলিমানজারো আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত। এটি উত্তর-পূর্ব তানজানিয়াতে কেনিয়ার সাথে সীমান্তে অবস্থিত। কিলিমানজারোতে মুহাম্মদ হোসাইন সবুজের অভিযান নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে এই বই।
আফ্রিকা মহাদেশের তানজানিয়ায় অবস্থিত কিলিমানজারো পর্বত। এটি আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। কিলিমানজারো মূলত একটি আগ্নেয়গিরি, যার তিনটা চূড়া বিদ্যমান। চূড়াগুলো হলো উচ্চতা অনুযায়ী যথাক্রমে কিবো,মাউনজি ও শিরা। লেখকের এই কিলিমানজারো পর্বত অভিযানের গল্প নিয়েই এই বই। সেই ২০০৭ এ লেখকের বগালেক - কেওক্রাডংয়ের প্রতি আগ্রহ ও ট্রেকিংয়ের শুরু , এর দীর্ঘ এক দশক পর ২০১৭ সালে কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান "কোডি ইন্টারন্যাশনাল" এর একটি প্রশিক্ষণের জন্য স্কলারশিপে ইথিওপিয়া যান। ইথিওপিয়া ছাড়াও কানাডা আর দক্ষিণ আফ্রিকাতে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও লেখক মনে কিলিমানজারো অভিযানের সুপ্ত বাসনা থাকায় লেখক ইথিওপিয়াকেই বেছে নেন। তানজানিয়ার ভিসার ঝামেলা ও যাবতীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ২০১৭ এর ২১ অক্টোবর আদ্দিস আবাবার বোলে এয়ারপোর্টের জন্য রাওনা হন। এরপর ইথিওপিয়া থেকে ট্রেনিং শেষ করে স্বাভাবিক যাবেই তানজানিয়ায় যান কিলিমানজারো পর্বতারোহণ করতে।
পর্বতারোহণ বা কিলিমানজারো সম্পর্কিত বই আগে পড়া হয়নি। তাই বইয়ের ভালো খারাপ দিক নিয়ে সেভাবে বলার সুযোগ নেই। কিলিমানজারো সম্পর্কে খুব একটা জানাশোনা না থাকায় অজানা অনেক কিছুই জানতে পেরেছি। একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো এই পর্বতকে মাউন্টেনইন অব মুন বলা হয় এবং লেখকের কাছেও এটাকে শঙ্করের সেই চাঁদের পাহাড়ই মনে হয়েছে। তবে সব মিলিয়ে ভালোই লাগলেও বইটা এমনিতেই খুবই ছোট কলেবরের, তারমধ্যে বইয়ের অনেকখানি জুড়ে আবার পর্বতারোহণের পারিপার্শ্বিক অবস্থার বর্ণনা। অল্পকথায় শেষ করার দরুন পাঠকমনে কোনো অ্যাডেঞ্চার বা থ্রিল বিল্ডআপ হয়না। আর আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে লেখকের লেখনীর আরেকটু উন্নতি প্রয়োজন,কিছু অধ্যায় পড়ার সময় মনে হয়েছে ফেসবুক পোস্ট পড়ছি, তবে এটা বইটা সম্পাদনা না হওয়ার কারণেও হতে পারে। তবে আশা করি লেখক পরবর্তীতে তার অন্য কোনো অভিযানের গল্প নিয়ে লেখা বইতে এগুলো শুধরে নেবেন।
সবশেষে বইয়ের একটা কথা লাইফের কিছু ক্ষেত্রে অ্যাপ্লাই করা লাগবে আর সেটা হচ্ছে "পোলে পোলে" যার অর্থ "আস্তে আস্তে"।
আফ্রিকা মহাদেশের তানজানিয়ায় অবস্থিত কিলিমানজারো শুধু মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতই নয়, এটি এক বিস্ময়কর আগ্নেয়গিরি। এর তিনটি আলাদা শিখর—১. কিবো, ২. মাউনজি, ও ৩. শিরা। লেখকের ব্যক্তিগত কিলিমানজারো অভিযাত্রাকে ঘিরে লেখা এই বইটি মূলত একটি রোমাঞ্চকর দিনলিপি। যাত্রা শুরু বাংলাদেশ থেকে, তারপর ইথিওপিয়া হয়ে তানজানিয়ায় পৌঁছানো।
লেখকের পাহাড়ে যাত্রার শুরু বহু আগেই, ২০০৭ সালে বগালেক–কেওক্রাডং ট্রেকে। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৭ সালে কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান “কোডি ইন্টারন্যাশনাল”-এর প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। প্রশিক্ষণের জন্য কয়েকটি দেশের প্রস্তাব এলেও, কিলিমানজারো জয় করার স্বপ্ন তাঁকে বেছে নিতে বাধ্য করে ইথিওপিয়াকে—যেখানে থেকে সরাসরি তানজানিয়ায় গিয়ে শুরু হয় বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত অভিযান।
বই থেকে কিলিমানজারো সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য জানা যায়। মজার বিষয় হলো—অনেকে একে ‘মাউন্টেন অব দ্য মুন’ বলে ডাকেন, আর লেখকের কাছে এটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাঁদের পাহাড়-এর মতোই রহস্যময় মনে হয়েছে।
বইটি আকারে ছোট হলেও এর মধ্যে স্থান পেয়েছে অভিযানের পরিবেশ, প্রস্তুতি, এবং মানসিক লড়াইয়ের নিখুঁত বিবরণ। লেখকের পারিবারিক সমর্থন দেখে আমি সত্যিই অভিভূত হয়েছি—ছোট সন্তানকে রেখে বিদেশে প্রশিক্ষণ ও অভিযান করতে যাওয়া, এমনকি কিলিমানজারোতে থাকাকালীন জানতে পারা যে সন্তান হাসপাতালে ভর্তি—এসব মুহূর্তে নিজের জায়গায় লেখককে কল্পনা করেছি। আমি থাকলে হয়তো সেই সাহস দেখাতে পারতাম না।
বইটি পড়ার সময় মনে হয়েছে আমি নিজেও লেখকের সঙ্গে পাশাপাশি হেঁটে যাচ্ছি। এটি এক চমৎকার ভ্রমণকাহিনি, শুধু আফসোস—বইটি আরও কিছুটা বড় হলে ভালো লাগত। কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা ও আরও কয়েকটি ছবি যোগ হলে এটি নিখুঁত হতো।
সবশেষে, বইটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—“পোলে পোলে”, অর্থাৎ ধীরে ধীরে এগিয়ে চলা। এই কথা শুধু পর্বতারোহণেই নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।