What do you think?
Rate this book


144 pages, Hardcover
Published February 1, 2025
"শীতকালে আমাদের বাড়ি খেজুর গুড় দিতে আসত ভবাগাছির সাজিদ মিয়া। ঠাকুমার মুখে শুনেছি, এ তল্লাটে অমন গুড় বানাতে পারত না কেউ। কিন্তু বাস্তুভিটে ছাড়া আর জমি ছিল না সাজিদ মিয়ার, অন্যের খেজুর গাছ জমা নিত। মন্বন্তরের সময় আমাদের বাড়ি এসেছিল সপরিবারে, স্বামী স্ত্রী আর পাঁচটি সন্তান। ঠিক যেন চামড়ায় জড়ানো কঙ্কাল, ঠাকুমা বলতেন, পোড়া কাগজের মতো চামড়া বুঝি ফুঁ দিলে গা থেকে খসে পড়বে। এরপর নিয়মিত সন্ধ্যাবেলা আট মাইল দূরের ভবাগাছি থেকে মাটির নাগরি কাঁখে পায়ে হেঁটে ফ্যান নিতে আসত মিয়াবউ। তারপর একদিন আর এল না। আমাদেরও আর দেবার মতো ফ্যান ছিল না, বাড়িতে রুটি খাওয়া শুরু হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে গম আসছে জাহাজে। প্রথমে ওরা আসত কন্ট্রোলের চাল নিতে। সারারাত ফুটপাথে পড়ে থাকত আর ভোরবেলা থেকে লাইন দিত শপের সামনে। তারপর ভিখিরি হয়ে এল, কাতারে কাতারে, দিনরাত শহরের আকাশে বাতাসে গোঙানির মতো ধ্বনি- দুটি ভাত দাও মা! আর্বজনার স্তূপে খাবারের জন্য কুকুরে মানুষে লড়াই। গভীর রাত অব্দি চলে, তারপর নিঝুম হয়ে আসে। গৃহস্থরা তখন একটু ঘুমোতে পায়। ওরা তখন মরে, ফুটপাথে নর্দমার ধারে, নিঃশব্দে। ভোরের আগ দিয়ে পুবের জলাভূমি থেকে শিয়ালেরা আসে।"
"পঞ্চাশের মন্বন্তরের সময় আমাদের কাশীপুরের বাড়ির সদর দরজায় লোহার গজাল-আঁটা পাত বসানো হয়েছিল। অবশ্য তার কোনো দরকার ছিল না, মানুষগুলো নিজেদের ছায়াই টানতে পারত না।"
"আমার বন্ধু প্রয়াত নীরেন দাশগুপ্ত তাঁর অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে যা বলল তা শুনলে এখনও গা শিউরে ওঠে। সে দেখেছে, বাগবাজারের রাস্তায় একটি শিশু বমি করতে করতে মারা যাওয়ার পর তার মা সেই বমি থেকে ডাল বা ছোলাজাতীয় খাবার তুলে নিয়ে নিজে খাচ্ছে।"