⚈ স্পয়লার-ফ্রি রিভিউ— ❛ঋভু❜
❝নিজের সাফল্যকে যে তুলে ধরতে পারে না, সে যতই মেধাবী হোক না কেন, মানুষের চোখে সে একজন বোকা ছাড়া আর কিছুই না।❞
বোকা-মেধাবী দ্বন্দ্বে সাফাল্য যে সবসময় সঠিক পথে পরিচালিত হয় সেটা অজানা নয়। শুধুমাত্র ‘সাফল্য’ পাওয়ার জন্য মানুষ কতকিছু না করে বসে। ভালো-মন্দের হিতাহিতজ্ঞান হারিয়ে করে ফেলে এমন অকল্পনীয় কিছু কাজ যা সচারাচর সুফলের চেয়েও কুফল বেশি ডেকে আনে। ইতিহাস এমন কাজের সাক্ষী অনেক। নিজের আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে যে খ্যাতি অর্জন করা যায় সেটা আদতে কতটুকু কাজে লাগে? দিনশেষে এইরকম কাজের কোনো মূল্য থাকে? ভবিষ্যতে বা এই কাজ কতটা ভূমিকা রাখে? পৃথিবীতে প্রতিটা আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সেটা যদি মানব কল্যানের বিরোধিতা করে তাহলে এই আবিষ্কারের তাৎপর্য কী?
কূটকৌশল আর ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়ানো ❛ঋভু❜ উপন্যাস পড়লে বোঝা যায় ইতিহাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কতশত প্রতারণা বিশেষ মাথাওয়ালা মানুষরা করে এসেছে। আর এই প্রতারণার ভুক্তভোগী হয়েছে সাধারণ মানুষ। কেউ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে চেয়ে হারিয়েছে পরিবার, আপন��ন। কেউ হয়েছে গিনিপিগ আবার কেউ বরণ করে নিয়েছে দাসত্ব। সত্য-মিথ্যা খুঁজতে গিয়ে ভবলীলা সাঙ্গ হয়েছে এইরকম মানুষেরও অভাব নেই। ❛ঋভু❜ উপন্যাসে লেখক টেনে এনেছেন পৃথিবীর অন্ধকারাচ্ছন্ন বিষয়গুলো। কারা পুরো দুনিয়াকে নিজেদের কবজা করতে চায়? কেন করতে চায়? লাভ বা ক্ষতি কী সেটা জানার জন্য হলেও পড়তে পারেন এই উপন্যাসটি।
লেখক ইতিহাস নির্ভর যে-কোনো ঘটনা দক্ষতার মাধ্যমে সাজাতে বেশ ভালোভাবে পারেন৷ তেমনই এই উপন্যাসে জড়িয়ে আছে মৌর্য্য সাম্রাজ্যের তৃতীয় শাসক, সম্রাট আশোকের জীবনকাল। তবে সেটা খুবই সংক্ষিপ্ত। খ্রিষ্টপূর্ব ২৬৮ থেকে ২৩২ সাল পর্যন্ত ছিল তার শাসনকাল। তিনি ছিলেন ইতিহাসের এক আদর্শ শাসক। কিন্তু এই শাসকের নৃশংসতা ছিল উদাহরণ দেওয়ার মতো। কতটা ভয়ানক ছিলেন তিনি, লেখক সেটা স্বল্পতার মধ্যে বুঝিয়ে দিয়েছেন। সম্রাট অশোক সিংহাসনে উপবিষ্ট হওয়ার প্রায় আট বছর পর খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ২৬১তে আসে ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সে-ই যুদ্ধ, কলিঙ্গের যুদ্ধ। এই হলো সে-ই কলিঙ্গ সাম্রাজ্য, যা চন্দ্রগুপ্তও জয় করতে পারেননি। কিন্তু তার পৌত্র অশোক, নৃশংসতার চরমে আরোহণ করে কলিঙ্গকে ঠিকই জয় করে নিয়েছিলেন।
এইখানে লেখক ঢুকিয়েছেন অভিনব একটি মিথ! যে মিথ নির্ভর করে ‘ঋভু’ উপন্যাস লেখা হয়েছে। অর্থাৎ ইতিহাসে এই কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা কতটুকু সেটা সবারই জানা কিন্তু কীভাবে এই যুদ্ধ ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ছিল সেটার পেছনের কাহিনি উপন্যাসে রয়েছে। এই মিথ সম্পূর্ণ কাল্পনিক তাই কেউ সত্যতা যাচাই না করা ভালো। সম্রাট আশোকের সাথে উপন্যাস ঠাঁই পেয়েছে ইতিহাসের অন্যতম সেরা দার্শনিক, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ মহামতি চাণক্য!
❝শ্রেষ্ঠ গুরুমন্ত্র হচ্ছে নিজের গোপনীয়তা কারও কাছে প্রকাশ না করা।❞ — চাণক্য।
ব্যাপ্তি কম হলেও উপন্যাসে মূল নায়ক কিন্তু এই মহামতি চাণক্য। কেন সেটা পড়লে বুঝতে পারবেন৷ ইতিহাসের সাথে বর্তমান প্লট তৈরিতে লেখক বেশ ভালোই কাজ করেছেন। ইতিহাসে এখনও এমন অনেককিছু রয়েছে যেটার কোনো ব্যাখ্যা নেই, চাণক্যর মৃত্যু ছিল তেমনই একটি দিক। লেখক তাও উপন্যাসে সে দিকটি নিজের মতো খোলাসা করেছেন।
❝কারও কাছে গোপন কথা বলতে যাওয়া মানে আত্মসমর্পণ করা।❞
বিজ্ঞানী কিছু চরিত্র উঠে এসেছে ❛ঋভু❜ উপন্যাসে। বিজ্ঞানীরা যথাসম্ভব তাদের গবেষণা গোপন রাখার চেষ্টা করেন। শুধুমাত্র বিজ্ঞানীরা এইরকম কাজ করেন তাও না। সাধারণ মানুষদের উচিত এই গোপনীয়তা বজায় রাখা। অপরিচিত কারও কাছে নিজের গোপনীয়তা ফাঁস করার অর্থ কিন্তু আত্মসমর্পণ করা।
এইবার আসা যাক ঋভু অর্থ কী? ঋভু হচ্ছে দেবত্বপ্রাপ্ত মানুষ। বিজ্ঞানীরা হরদম নিত্য নতুন আবিষ্কারের নেশায় মত্ত থাকেন। সেটা করতে গিয়ে আবিষ্কার করে ফেলেন এমন কিছু যেটা কল্পনারও বাইরে। আর তাদের সব আবিষ্কার যে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে সেটা ভাবা ভুল। এই ❛ঋভু❜ উপন্যাসের সাথে ❛সাম্ভালা❜ উপন্যাসের বেশ সাদৃশ্য রয়েছে। লেখক একই কনসেপ্ট ব্যবহার করেছেন। তাই যারা সাম্ভালা পছন্দ করেন এই বইটি তাদের লুফে নেওয়ার মতো।
➲ আখ্যান—
ঢাকায় পা রাখা মাত্রই অর্জুনের উপর আক্রমন, কেন? অর্জুন ঢাকায় এসেছেই বা কী উদ্দেশ্যে! বান্দরবানের সীমান্তে সাকিব আর অয়নের সাথে দেখা হলো এক অদ্ভুত মানুষের, নাম শাহরিয়ার সুলতান, বিশ্বখ্যাত অ্যাডভেঞ্চারার। দিনের পর দিন ক্যাম্প করে কিছু একটা খুঁজে চলেছে মানুষটা, কী সেটা? দু’জন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী পাহাড়ের তলার ল্যাবে গবেষনা করছেন কিছু একটা নিয়ে, যার পেছনে আছে গোপন এক সংগঠন, পুরো পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রন করতে চায় তারা। তেইশ’শ বছর আগে সম্রাট অশোক শুরু করেছিলেন অতিমানবীয় এক গবেষনা, তার ফল কি পাবে আজকের পৃথিবী?
➤ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা—
ইতিহাস, লেখকের নিজস্ব মিথ, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, প্রভাব বিস্তার, কূটনীতি ইত্যাদির মিশ্রণে এই উপন্যাসের আনাচে-কানাচে ভর্তি। আরও একটি বিশেষ দিক রয়েছে সেটা হচ্ছে গুপ্ত সংঘ! ইম্প্রেস করার জন্য লেখক কোনোকিছুর কমতি রাখেনি উপন্যাসে। তাই বলে আবার জগাখিচুড়ি বানিয়ে ফেলেননি। সবকিছুর কারণ দেখিয়েছেন। আবার কিছু কারণ ছিল উহ্য। যেগুলো বেশি ব্যাখা করার প্রয়োজন নেই। দিন শেষে এই বই ফিকশন ক্যাটাগরির হলেও বাস্তবে খুঁজতে গেলে এইরকম অনেক কিছুর অস্তিত্ব অবশ্যই রয়েছে। সবমিলিয়ে উপভোগ্য।
● প্রারম্ভ—
গল্পের শুরুটা কিছুটা কমপ্লেক্স মনে হবে৷ কারণ বর্তমান টাইমলাইন হলেও সেখানে তিনটি কাহিনি সমান্তরালে চলবে। তা-ই শুরুটা মনোযোগ দিয়ে পড়া উচিত। গল্পের শুরুটা হয় ফ্ল্যাশব্যাকে বার্মা সীমান্তের কোনো এক এলাকায়। ধীরে ধীরে কাহিনি ফিরে আসতে থাকে বর্তমানে। প্রায় ৪১ পৃষ্ঠা পর্যন্ত কাহিনি বিল্ডাপে ব্যয় হয়। এরপরে তেইশ শ বছর পূর্বের মৌর্য বংশের কাহিনি উঠে আসবে৷ পুরো কাহিনি বুঝতে এতটুকু অপেক্ষা করতে হবে। বাকিটা বেশ সাবলীলভাবে চলতে থাকে।
● গল্প বুনন—
লেখকের গল্প বুননে আলাদা দক্ষতা বিদ্যমান। কোন সিকুয়েন্স কখন টানবেন, কখন কোথায় পর্ব শেষ করে পাঠকদের থ্রিলের ছোঁয়া দিবেন সে-ই বিষয়ে জ্ঞান নখদর্পনে। কোনো পর্ব দীর্ঘসময় ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার কাজটা থেকে বিরত থাকেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ঘটনার ফ্লেভার অল্প সময়ের মধ্যে পাওয়া যায়। বেশিক্ষণ ধৈর্য ধরে থাকতে হয় না নির্দিষ্ট কাহিনি শেষ হওয়ার জন্য। গল্পের প্রেক্ষাপট বিশাল হলেও সেটাকে সহজভাবে ব্যাখা করে ছোটো করে বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা অসাধারণ। ❛ঋভু❜ উপন্যাস বিশাল কলেবরের উপন্যাস নির্দ্বিধায় করা যেত কিন্তু লেখক সেটা মেদহীন করেছেন দেখে ভালো লাগল।
● লেখনশৈলী—
ঝরঝরে লেখনশৈলী পাশাপাশি শব্দচয়নে সাবলীলতা প্রশংসনীয়। কোনো ঘটনা বোঝার জন্য দুইবার পড়তে হয়নি। গল্পের শুরুতে সিকুয়েন্স বুঝতে কিছুটা বেগ পেতে হলেও লেখনশৈলী সে-ই যাত্রায় বাঁচিয়ে দিয়েছে। পুরো বইটি দারুণভাবে উপভোগ করলেও বানান, নামের মাত্রাতিরিক্ত ভুল ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে।
● বর্ণনাভঙ্গি—
তেইশ শ বছর পূর্বের ইতিহাস নির্ভর প্লট সাথে আবার বর্তমান। তাও তিন টাইমলাইনে সমান্তরালে এগিয়ে নিয়ে চলার জন্য যেইরকম বর্ণনাভঙ্গি থাকা উচিত সেইরকমটা রয়েছে। কোথাও থামার দরকার হয়নি, পারিপার্শ্বিক প্রাঞ্জল বর্ণনার পাশাপাশি চরিত্র বিল্ডাপ ও তাদের কাণ্ডকারখানা যথেষ্ট উপভোগ্য লেগেছে। তবে তেইশ শ বছর পূর্বের কাহিনি যে টোন থাকার কথা সেটা মিসিং। বর্তমান কাহিনি যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে একইভাবে মৌর্য বংশের কাহিনি তুলে ধরেছে। সেক্ষেত্রে আলাদা কোনো সমস্যা হয়নি। গল্পের মূল আর্কষণ হচ্ছে বর্তমান প্লট, শুধুমাত্র প্রাসঙ্গিক কারণে টেনেছে তেইশ শ বছর পূর্বের কাহিনি।
বাদবাকি অ্যাকশন সিকুয়েন্স, অ্যাডভেঞ্চার জার্নি বেশ দারুণভাবে বর্ণনা করেছেন লেখক। পরিপূর্ণ প্যাকেজ বলা যায়।
● চরিত্রায়ন—
❛ঋভু❜ উপন্যাসের সবচেয়ে স্ট্রং দিক। তবে লেখক সাম্ভালা উপন্যাস থেকে অনেক চরিত্র ধার করে এনেছেন বলে মনে হলো। চরিত্র বিল্ডাপে অনেককিছুর মিল খুঁজে পেয়েছি। অসন্তুষ্ট নয় আবার পুরোপুরি সন্তুষ্ট বলা যাবে না।
তবে প্রত্যকটি চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড ভালোই শক্তপোক্ত রয়েছে। কোনোটা হেলা করার মতো না। চরিত্র নিয়ে টুইস্টও রয়েছে।
‘ঢাকা কিলার’ চরিত্রটির নাম বেশ লেগেছে। টিনএজ অয়ন ও সাকিবের সাথে বিশ্বখ্যাত অ্যাডভেঞ্চারার শাহরিয়ার সুলতানের মেলবন্ধনের সময়টুকু অন্যমাত্রা দিয়েছে। অন্যদিকে অর্জুন আর ড্রাইভার ইক���ালের সাথে ভিলেনের দ্বৈরথ উপভোগ করার মতো। প্রোটাগনিস্ট এই উপন্যাসে অনেক ছিল। ভিলেন, বিজ্ঞানী তো আছেই।
● সমাপ্তি—
সমাপ্তি দেখে মনে হলো সিক্যুয়েল টানবে! তবে ইতিহাস নির্ভর কাহিনির মতো একটা পরিমিত সমাপ্তির দরকার ছিল। যদিও লেখক পাঠকদের রহস্যে আটকে রাখতে চেয়েছিলেন, সেদিক থেকে প্রায় সফল। কিছু ধারণা মনে থেকে যাওয়া আর লেখকের রেখে যাওয়া ভালো। উত্তেজনা কাজ করে এতে।
সৃষ্ট হওয়া প্রত্যক ঘটনার সমাপ্তি ভালোভাবে টেনেছেন। নাটকীয়তা অবশ্যই রয়েছে, তবে সেটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে কিছু ঘটনার আরও বিস্তারিত ব্যাখা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে যে প্রজেক্ট নিয়ে পুরো কাহিনি আবর্তিত হয়েছে।
● খুচরা আলাপ—
❛ঋভু❜ উপন্যাসে লেখক দেখাতে চেয়েছেন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার আর এর পেছনে লুকিয়ে থাকা রহস্য কতটা ভয়াবহ৷ এই আবিষ্কারের পেছনে রয়েছে বহুকাল পূর্বের অনেক জ্ঞানী মানুষের লুকানো সাফল্য। যুগ যুগ ধরে সেগুলো রূপান্তরিত হয়ে এসেছে। এখনও সেইসব নিয়ে কাজ চলছে। এছাড়া যে গুপ্তসংঘের বিষয় উঠে সেটা বেশ ভীতিকর। বর্তমান বিশ্বে কন্সপিরেসি অনেককিছু হচ্ছে যার পেছনে দায় করা হচ্ছে কিছু গুপ্ত সংগঠনকে। সেদিকটা লেখক স্বচ্ছ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। স্বকীয়তা বজায় ছিল বলে ভালো লেগেছে। তবে বিস্তারিত ছিল না, আশা করি সেটা নিয়ে কোনো এক বইতে লেখালেখি হবে। আর ইতোমধ্যে হয়ে গেলে তো ভালোই।
এই উপন্যাসের সিক্যুয়েল আসলে অনেক প্রশ্নের উত্তর খোলাসা হবে আর না এলে পাঠক নিজ চিন্তাতে সমাপ্তি টেনে নিবে৷ কারণ, ব্যাখা টানলে বইটি আরামসে ৩২০+ পৃষ্ঠা ক্রস হয়ে যেত।
➢ লেখক নিয়ে কিছু কথা—
লেখক শরীফুল হাসান পছন্দের একজন লেখক। অন্ধ জাদুকর বইয়ের মধ্যে দিয়ে ওনার পাঠক হওয়া। ইতিহাস, মিথ, ফ্যান্টাসি, অ্যাডভেঞ্চার নিয়ে ক্রিয়েট করা প্লটগুলো পছন্দের৷ অবশ্যই এক বইয়ের সাথে আরেক বইয়ের যোগসূত্র রয়েছে। সাম্ভালার সাথে ঋভু’র যেরকম মিল পাবেন আবার অন্ধ জাদুকর উপন্যাসে সেইরকম মিল রয়েছে। ওনার বর্ণনাভঙ্গি বেশ প্রাঞ্জল ও লেখনশৈলী স্মুথ থাকার দরুন বইগুলো হয়ে উঠে সুখপাঠ্য। মুহূর্তে হারিয়ে যাওয়া যায় বইয়ে সৃষ্ট কল্পনার দুনিয়ায়। সবমিলিয়ে দারুণ।
● সম্পাদনা ও বানান—
সম্পাদনা দিকটা উহ্য থাকলেও প্রুফিং বরাবরই হতাশাজনক।
প্রিন্ট, ড্রাইভার হয়েছে যথাক্রমে প্রেন্ট, ভ্রাইভার সাথে পিস্তল/রিভলবার বিভ্রাট। উ-কার (ু), ঊ-কার (ূ) উলটপালট ব্যবহার। ভক্তকে ভক্তি, শেভ-কে সেভ এবং ন ও ণ ব্যবহারে ভুল পরিলক্ষিত। রামকৃষ্ণ হয়েছে রামকৃষ, সূর্য হয়ে গেছে ঝড়, তুফান। করমজিত হয়েছে পরমজিত, নাগাদ হয়েছে নাগাল। এইরকম অসংখ্য ভুল আর টাইপোর ছড়াছড়ি পুরো বই জুড়ে।
● প্রচ্ছদ, অলংকরণ—
প্রচ্ছদ করেছেন ডিলান। ফ্রন্ট কাভারে মেটামরফোসিস চিত্র দেখানো হয়েছে। বইয়ের কনটেন্টের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।৷
● মলাট, বাঁধাই, পৃষ্ঠা—
বইয়ের মলাট ও বাঁধাই শক্তপোক্ত। তবে নতুন বই হিসেবে ঘ্রাণ ছিল একেবারে বিদঘুটে। বেশ অসুবিধে হয়েছে। বর্তমানে বাতিঘর প্রকাশনীর ক্রিম কালারের কাগজ ব্যবহার করছে সেদিক থেকে বিষয়টি ভালো লেগেছে। অবশ্যই নতুন মুদ্রণ হওয়া বইগুলোতে এই সুবিধা ভোগ করা যায়।
➠ বই : ঋভু | শরীফুল হাসান
➠ জনরা : মিথলজিক্যাল সায়েন্স-ফ্যান্টাসি থ্রিলার
➠ প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০১৫
➠ প্রচ্ছদ : ডিলান
➠ প্রকাশনা : বাতিঘর প্রকাশনী
➠ মুদ্রিত মূল্য : ২২০ টাকা মাত্র
➠ পৃষ্ঠা : ২৪২