আড়াই লক্ষ ডলারের বুলিয়নের একটা চালান যাচ্ছিল রেটন পাস থেকে স্যান মার্কোস সিটিতে। দৃষ্টি আকর্ষিত হলো শকুনদের, অ্যাম্বুশ করল তারা। কপালগুনে বেঁচে গেল বুলিয়নবাহী ওয়্যাগনের মাস্টার জেব স্টুয়ার্ট। মারা পড়ল ওর তিন বন্ধু। শহরে ফিরে বুঝতে পারল,ফেঁসে গেছে সে- লুন্ঠিত চালান উদ্বার করতে না পারলে জেল হয়ে যাবে। এদিকে ওর কম্পানির একাংশ কিনে নিয়েছে অলিভিয়া কারসন,যে মনে করে তার বাবার মৃত্যুর জন্য জেবই দায়ী। শরীরে বুলেটের ক্ষত,নতুন পার্টনারের মনে সন্দেহ।শকুনেরা ব্যাস্ত আরেকটা নীলনকশা বাস্তবায়নে। দুমাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে কোম্পানি দেউলিয়া।এ অবস্থায় ডেথ ট্রেইলে রওয়ানা হতে হল জেবকে। যে ট্রেইল দিতে পারে হারানো বুলিয়গুলোর সন্ধান। কিন্তু ঘাতকরা আছে সংগে। হামলা করতে পারে ইন্ডিয়ানরা। সুতরাং ডেথ ট্রেইলে কারও-না-কারও মরণ সুনিশ্চিত।
সায়েম সোলায়মানের জন্ম ২৩ জুলাই, ১৯৭৯, ঢাকায়। পেশাজীবনে তিনি একজন ব্যাংকার। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যায় অনার্স এবং মৎস্যবিজ্ঞানে মাস্টার্স করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিজিডিআইটি সমাপ্ত করেন। এরপর একটি আইএসপি-তে কিছুদিন কাজ করার পর যোগদেন ব্যাংকে। বই কেনা ও পড়ার নেশাই তাকে উদ্বুদ্ধ করেছে লেখালেখির সঙ্গে জড়িত হতে। ছোট থেকেই নিয়মিত লিখতেন স্কুলের দেয়ালপত্রিকায় আর বার্ষিকীতে। তেবে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ১৯৯২ সালে, কিশোর পত্রিকায় অনুবাদ গল্পের মাধ্যমে। ২০০৪ থেকে রহস্য পত্রিকায় নিয়মিত হওয়ার পাশাপাশি হাত দেন বড় কাজে।
নভেম্বর ২০০৪-এ সেব প্রকাশনীতে প্রকাশিত হয় তার প্রথম ওয়েস্টার্ন বই ‘সংকট’। ওয়েস্টার্ন বই তার কাছ থেকে আরো ৫টি পেয়েছি আমরা। একটি গল্প-সংকলন সহ অনুবাদ ও কিশোর ক্লাসিকের বই পেয়েছি ২১ এর বেশি। যার মাঝে রয়েছে আগাথা ক্রিস্টি, এইচ. জি. ওয়েলস, এরিক মারিয়া রেমার্ক, জুল ভার্ন, রাফায়েল সাবাতিনি, হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর মতো বিক্ষাত লেখকদের বই।
বেচারার তো মাথায় হাত! এহন কী হইব? বুলিয়নগুলা উধার করতে না পারলে নিজের তো পথে বসতে হইব-ই, লগে পথে বসতে হইব তার ফ্রেইটিং ব্যবসার নতুন লাস্যময়ী অলিভিয়া কারসনকেও। তাই আবার রাস্তায় নামল জেব, বুলিয়ন উদ্ধারের জন্য। ততক্ষণে সে মোটামুটি নিশ্চিত আকামটা করছে কে। আরও অনেকগুলা কাফেলার লগে নিজের কাফেলা নিয়া চলল বুলিয়নবাহী হারানো ওয়্যাগনটার সন্ধানে। সাথে চলল পার্টনার অলিভ, ছোটবেলার বান্ধবী শ্যানন, অলিভের ফোরম্যান টেক্স বেল, আরেক ফ্রেইটার ভ্যান হেফলিন, আরও অনেকে।
এইবার শুরু হইলো মৃত্যুর তুফান। ডেথ ট্রেইলের বাঁকে বাঁকে বিপদ আসা ধরল ইণ্ডিয়ানদের রূপ ধইরা। হাজার হাজার সংঘবদ্ধ ইণ্ডিয়ানের বিরুদ্ধে শুরু হইলো কয়েকশো লোকের অস্তিত্বের লড়াই। নিজের জান বাঁচানোই দায়, বুলিয়ন উদ্ধার তো পরের ব্যাপার। শুরু হইলো ডেথ ট্রেইলে কচ্ছপের মতো কামড়ায়া থাকার প্রতিযোগিতা। যে শেষ পর্যন্ত মাটি কামড়ায়া পইড়া থাকতে পারব সে-ই বাঁইচা থাকবো।
এইদিকে ঘরের শত্রু বিভীষণ হইলে যা হয়, জেব পড়ছে তেমন বিপদে। বাইরে ইন্ডিয়ানরা, আর ভিতরে নিজেগো ভিতরে শত্রু। যেকোনো সময় পিঠে বুলেটের চুমু খাওয়ার আশংকা। এইবার তর কী হবে রে জেব...?!!
৪০০+ পৃষ্ঠার বিশাল বই। যারা ভাবতাছেন স্পয়লার দিয়া দিলাম, বইটা পড়লেই বুঝবেন তাতে ক্ষতিবৃদ্ধি হয় নাই। ভিলেনের পরিচয় ১০০ কাহিনির শুরুতেই পরিষ্কার ফাঁস হয়া যায় সবার কাছে। 'ডেথ ট্রেইল' মূলত সারভাইভাল ওয়েস্টার্ন। মোটাতাজা বইটা সায়েম সোলায়মানের লেখনীর দক্ষতায় পড়তে বেশ ভালোই লাগছে। তবে শ্যাননের ক্যারেক্টারটা একটু বিরক্তিকর লাগছে। নায়ক জেব স্টুয়ার্টরেও টেক্স বেলের তুলনায় ডাউন মনে হইছে। এক পর্যায়ে তো মনে হইতেছিল, নায়ক ছাড়া মোটামুটি সবাই জানে চোর কে, আর কী করা লাগব। তবে কাহিনি যত আগাইছে জেব আরও শক্ত হইছে। এইসব ছোটখাটো ২-১টা জিনিস বাদ দিলে উপভোগ্য একটা বই। বিশেষ কইরা শেষের ২০০ পৃষ্ঠা আগাইছে দারুণ গতিতে।
ওয়েস্টার্ন বই হয়তো এটাই প্রথম পড়েছি, কিন্তু এই আবহের সাথে আমার সম্পৃক্ততা নতুন নয়, ওল্ড ওয়েস্টের সিনেমা দেখেছি বেশ কতগুলো, গেমও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলেছি একাধিক, দেখেছি এমিনেশনও। তবে যেহেতু বই আছে এবং দেশীয় ভাষায় সেবা থেকে এই সিরিজটি দীর্ঘদিন ধরে স্বমহিমায় চলে আসছে, তাই আগ্রহ ছিল সুজোগ পেলেই পড়বো। যদিও সুযোগ পাইনি সেভাবে।
এবারে বইমেলা থেকে ইতিমধ্যেই পেয়ে গিয়েছিলাম সায়েম সোলায়মান ভাইয়ের "ডেথ ট্রেইল" ... সুতরাং অদম্য ইচ্ছাটা আটকে না রেখে এটাই শুরু করে দিলাম শেষমেশ।
বইয়ের শুরুতেই অ্যামবুশ, তারপর খুন। পুড়িয়ে দিতে চাওয়া হোল নায়ককে। আরে বাবা সে কি দুর্ধর্ষ ব্যাপার, গুলি খেয়ে আগুনে পুড়ে জখম নায়ক, ধুকে ধুকে পৌছালো বান্ধবীর বাড়ি। আমি তো রুদ্ধশ্বাস পড়েই চলছি। এরপরে এঁকে এঁকে এলো আরও কয়েকজন, এবং রাতারাতি চলমান ঘটনায় পড়লো শিথিলতার রাশ। কথোপথনের জালে আটকে গেল ঘটনার ক্রম। তবে সেটাও খারাপ লাগছিল না। মূলত প্রত্যেকের অভিপ্রায়, ঐসব অধ্যায়গুলোতেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিলো। এর পরের ঘটনা পড়তে হয়েছে কিভাবে বিপদ কাটিয়ে নায়করা জয় পেতে পারে সেটা জানতে।
গল্পের শেষ দু'শ পাতা উড়ে গেছে বারুদের বেগে, রুদ্ধশ্বাস দৌড় যাকে বলে। ঝাঁপিয়ে পড়া রেড ইন্ডিয়ানদের মধ্যে যুদ্ধটা এক কথায় কিংবদন্তী ছিল, সেই সাথে যথেষ্টই বাস্তব মনে হল সিদ্ধান্তগুলোও। নায়কের প্রেমও এসেছে সুন্দরভাবে। আর সবশেষে গিয়ে সমাপ্তিও ভালো লেগেছে।
তবে, যেহেতু বাংলা ওয়েস্টার্ন প্রথম পড়েছি, সেহেতু কিছু বিষয় কেমন কেমন লেগেছে। তার মধ্যে একটা হচ্ছে ইংরেজি শব্দের আধিক্য। ধারণা করা যায় এই কাজ করা হয়েছে গল্পে পশ্চিমি ভাব বজায় রাখার জন্য, কিন্তু তার পড়েও কিছু শব্দ হয়তো বাংলাতেও নিয়ে যাওয়া যেত। যাই হোক, আগেই বলেছি এটা আমার পড়া প্রথম ওয়েস্টার্ন বই, ধারণা করছি ব্যাপারটা অভ্যাস হয়ে গেলে সমস্যা হবেনা আর। তবে বইটা আমাকে এই ধারায় আগ্রহী করে তুলতে সফল হয়েছে, ভবিষ্যতেও চেষ্টা করবো আরও ওয়েস্টার্ন পড়ার। :)
ডুয়েল, ফ্রেইটিং, নেটিভ আমেরিকান আর সোনার চালান। সবই ছিল ডেথ ট্রেইল এ। হত্যা, ষড়যন্ত্র, ভালোবাসা, প্রতারণারও অভাব ছিল না বইটায়। প্রথমেই বুঝতে পারা যায় মুল ভিলেন কে? তবে সেটা আমাদের নায়ক জেব-এর বুঝতে একটু বেশীই দেরী হয়ে যায়। যাই হোক, গল্পটা "কে করলো?" তে বেশী ফোকাস না করে, অনেকটা সারভাইভাল গল্পে রূপ নেয়ায় বেশ তৃপ্তিকর সময় কেটে গেছে। নায়ক হিসেবে জেব ভালোই, তবে সেয়ানে সেয়ানে টক্করে টেক্স-কেই মনে ধরেছে বেশী। আর বিরক্ত লেগেছে অলিভকে। কেন ওয়েস্টার্নের মেয়েদের নায়কের প্রতি সবসময় এতে বাজেভাবে দুর্বল হতে হবে? বাবার খুনের সন্দেহভাজন জেব, হায় তার প্রতিও ভালবাসা উপচে পড়লো তোমার! এর চে' ভ্যাম্প চরিত্রের শ্যানন ঢের ভালো।