Jump to ratings and reviews
Rate this book

সাগর #1

আমার যা আছে

Rate this book

144 pages, Hardcover

First published January 1, 2004

9 people are currently reading
158 people want to read

About the author

Prachet Gupta

75 books59 followers
Prachet Gupta(alternative spelling Procheto Gupta or Prachet Gupta or Procheta Gupta; Bengali: প্রচেত গুপ্ত, porocheto gupto) born 14 October 1962) is a Bengali writer and journalist. In 2007, his work Chander Bari has been adapted into a Bengali film by director Tarun Majumdar. In 2011, director Sekhar Das made film on Gupta's story Chor-er bou ("Wife of a thief"), the film was named Necklace. One of the front runners in contemporary Begali literature, few of his stories have been translated into Hindi, Oriya and Marathi language. He is a key writer of the magazine Unish-Kuri, Sananda, Desh.

Early Life:
Gupta spent his childhood in Bangur Avenue and studied in Bangur Boys school. He started writing from his childhood. His first story was published in Anandamela when he was only 12 years old. Later his literary works were published in many more magazines. He completed his graduation from Scottish Church College, Kolkata.

Family:
Spouse: Mitra Gupta
Children: Samudra Gupta
Parents: Kshetra Gupta (father), author Jyotsna Gupta (mother).

Awards:
Bangla Academy's Sutapa Roychowdhury Smarak Puraskar (2007)
Shailajananda Smarak Samman (2009)
Sera Sahityik Puraskar by Akash Bangla(2209)
Ashapurna Devi Birth Centinary Literature Award (2009)
Gajendra Kumar Mitra O Sumathanath Ghosh Smarak Samman (2010)
Barna Parichay Sharad Sahitya Samman(2010)
Most Promising Writer Award By Publishers and Bookseller's Guild (Kolkata Book Fair)-2011

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
15 (23%)
4 stars
30 (46%)
3 stars
14 (21%)
2 stars
1 (1%)
1 star
5 (7%)
Displaying 1 - 18 of 18 reviews
Profile Image for Wasee.
Author 51 books787 followers
September 5, 2021
গুরুদেবের সুরে সুর মিলিয়ে বলতে হয় "মৌলিক হইয়াও হইলো না মৌলিক!"

বিশ্বাস হচ্ছে না? হুমায়ূন আহমেদের হিমু চরিত্রের যেকোন বই পড়া থাকলে বিশ্বাস হওয়ার কথা। হ্যাঁ, অস্বীকার করছি না, হিমু নিজেও খানিকটা ইনফ্লুয়েন্সড। প্রচেত গুপ্ত নিজেই তার আরেকটি বইয়ে বলেছেন (খুব সম্ভবত 'সাগর হইতে সাবধান): সুনীলের নীললোহিত, সুবোধ ঘোষের শুন বরনারী খ্যাঁত হিমালয়, হুমায়ূনের হিমু- এরা সবই যুগে যুগে একই বোহেমিয়ান চরিত্রের প্রতীক। কথাটার সাথে আমি পুরোপুরি একমত নই। কারণ, প্রচেত গুপ্তর সাগর চরিত্রটি শুধু বোহেমিয়ান যুবকের প্রতিনিধিই নয়। বরং সে আগাগোড়া ওপার বাংলার হিমু।

হিমুর রূপার মতো তার রেবা নামের এক বান্ধবী আছে, ঠিক একইভাবে যেই মেয়েটির বাবা অত্যন্ত প্রভাবশালী। সাগরকে ভালোবাসে রেবা এবং যথারীতি সাগর তার সাথে রহস্যজনক আচরণ করে যায়। ঠিক হিমুর মতো করেই পাশ কাটিয়ে চলে। হিমুর অতি প্রভাবশালী বড়লোক বন্ধুর মতো সাগরেরও তমাল নামে এক বন্ধু আছে, যার কাজ হচ্ছে বিভিন্ন সময়ে সাগরকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়া। এবং এসব ক্ষেত্রে সাগর আবার হিমুর মতোই চাকরিগুলো হয় অন্য কাউকে গছিয়ে দেয় অথবা ঝামেলা পাকায়। হিমুর বন্ধুপত্নী নিতুর মতো সাগরের বন্ধুর স্ত্রীও তাকে সহ্য করতে পারে না।

হিমুর মতো মানুষকে ভড়কে দেয়া, ইনটুইশন খাঁটিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা; ছন্নছাড়া জীবনদর্শন, কৌতুকমিশ্রিত কথাবার্তা, প্রভাবশালী লোক বিশেষ করে পুলিশের সাথে তামাশা করা, রাস্তাঘাটে যেকোন মানুষের সাথে সহজেই মিশে যাওয়া, তীক্ষ্ম রসবোধসম্পণ্ণ আচরণ- সাগরের মাঝে সবকটি গুণই খুঁজে পাওয়া যায়। পুলিশ এবং রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে হিমুর রসিকতা করার স্বভাব ছিল, সাগরেরও আছে। সাগর সিরিজের অন্য একটা বইয়ে পড়েছিলাম, হিমুর নীল জোছনার মতো সরাসরি রবীন্দ্রনাথের উপস্থিতিই আছে সেখানে। মাজেদা খালা, বাদল, মেসের মালিক-এধরণের পরিচিত চরিত্রগুলোও খুঁজে পাওয়া যায় খুব সহজে। এমনকি লেখার ভঙ্গিটাও... থাক না হয় সে কথা।

'আমার যা আছে'- পশ্চিমবঙ্গের বাংলা অকাদেমি প্রবর্তিত সুতপা রায়চৌধুরী স্মারক পুরস্কারপ্রাপ্ত এই বইটি পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের হিমুভক্ত পাঠক পড়লে অবশ্যই আমার কথাগুলো উপলব্ধি করবেন। বিশেষ করে হিমুর প্রথম চারটি উপন্যাস 'ময়ুরাক্ষী,' 'দরজার ওপাশে,' 'পারাপার,' এবং 'হিমু' পড়া থাকলে আবিস্কার করবেন প্রায় ৮০ শতাংশ হুবহু কন্টেন্ট। তবুও বলতে হবে, বইটা সুখপাঠ্য।

প্রচেত গুপ্তর গল্প-উপন্যাস বেশ আগ্রহ নিয়ে পড়তে শুরু করেছি ইদানীং। পড়তে ভালো লাগছে। তবে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য থেকে তিনি যে ব্যপকভাবে প্রভাবিত, সে কথা অস্বীকারের কোন সুযোগ নেই।
Profile Image for Tiyas.
473 reviews126 followers
May 7, 2025
আমার যা আছে, তা হলো একখানি গল্প। গল্পের ভরসায় গৌরচন্দ্রিকার অবাধ লাইসেন্স।

ধৈর্য ধরবেন একটু।

বেশ ক'বছর আগের কথা। তখন স্কুলে পড়ি। ফিজিক্যাল কপির বাইরে ইবুক পড়া শুরু করেছি সদ্য। বাংলা ইবুক! এদিক ওদিক ঘুরে, ভুলভাল ওয়েবসাইটের বাজে ভাইরাস হজম করে, কপাল-জোরে খুঁজে পেয়েছি এক অদ্ভুত সিরিজের সন্ধান। সেই সিরিজের নায়ক এক বেখাপ্পা তরুণ ভ্যাগাবন্ড। তার পরনে হলুদ পাঞ্জাবী। মাথায় একরাশ অবিন্যস্ত চুল। মুখে একগুচ্ছ অগোছালো দাড়ি। পায়ে চটির অবস্থান, গল্প-প্রতি বদলে যায়।

নেশায় ফাজলামো ও পেশায় মহাপুরুষ, এই আইকনিক মানুষটির পরিচয় আশা করি চিনে ফেলেছেন এতক্ষণে।

এপার বাংলার মানুষ হওয়াতে, হিমু ও হুমায়ূন, দুজনেই বেশ দেরিতে এসেছে জীবনে। 'দা ক্ল্যাসিক বাংলাদেশ এক্সপেরিয়েন্স' ওরফে বড়দের লুকিয়ে নিষিদ্ধ হুমায়ূন আহমেদ পড়া অধরাই রয়ে গেছে বরাবর। তাই সেবারে আচমকা হিমুর সন্ধান পেয়ে যাওয়াটা এক ভিন্ন জানালা খুলে দেয় যেন। অমন সুন্দর, মিষ্টি স্লাইস-অফ্-লাইফ গল্পকথন মনে দাগ কেটে যায় সহজেই।

এর প্রভাব অবশ্য পড়ে অন্য ক্ষেত্রে।

অন্য কিছু ভেবে বসবেন না আবার। হলুদ পাঞ্জাবী গলিয়ে কি প্যাঁচানো কথাবার্তা বলে আরেকটি হিমু হয়ে ওঠার চেষ্টা করিনি আমি। সে কাজ বাংলাদেশের অনেক যুবকেই অনেক বছর ধরে করে যাচ্ছেন নিষ্ঠা সহকারে। আমার কেরদানি কেবল ওই খাতার পাতা অবধি সীমিত। গল্প লেখার শখ ছিল তখন। ডায়েরি খুলে বসতাম প্রতিনিয়ত। কোনো গল্পই ঠিকঠাক শেষ করে উঠতাম না, তবে লিখতাম অনেক।

তেমনিই একখানা গল্প নিয়ে বসেছিলাম সেবারে। মনে তখন হিমুর চরম প্রভাব। কলমে, হুমায়ূনী রম্য ঢেউ খেলছে অবিরত। ভাবটা এমন যেন আমিই সাদাত হোসেইন। মনের আনন্দে, পাঁচ-ছ'পাতা লিখেও ফেলি দ্রুত। তবে হ্যান্ড ব্রেক কষতে হয় অচিরেই। মানে, না থেমে উপায় থাকে না, আরকী। আধাখেচড়া জিনিসটা পড়তে বসে অনুধাবন করি একটাই কথা। মনের ভেতরে কে যেন নিরাশ কন্ঠে বলে ওঠে, বেটা, তুমসে না হো পায়েগা!

আমার সেই প্রথম পুরুষে লেখা অসমাপ্ত স্টোরিটির নায়ক, এক তরুণ যুবক। সে বেকার। সে হেঁটে বেড়ায় শহরের রাস্তায়। মজারু পন্থায় সে চমকে দেয় সবাইকে। তার মস্করার ধরণ, গায়ে পড়া ও বিভ্রান্তিকর। ঠিক আরেকজনের মতোই তার পকেটেও টাকাপয়সার পরিবর্তে মাছি ওড়ে বেশি...

এইতো। এটুকুই যথেষ্ট।

বলাই বাহুল্য, ও জিনিস ন্যায্য কারণেই কোনোদিনও দিনের আলো দেখেনি। ইমিটেশন ফ্ল্যাটারির বিগেস্ট ফর্ম হলেও ফটোকপি বোধহয় নয়। অগত্যা, আমার না-হওয়া সাহিত্যকীর্তির কালজয়ী পালা সেখানেই চুকেবুকে যায়।

তবে, আমার মতো সঙ্কোচে না ভুগে যে একখানা জলজ্যান্ত হিমু-কপিকে নিয়ে একটা আস্ত সিরিজ লিখে ফেলা যায় তারই আশ্চর্য নিদর্শন প্রচেত গুপ্ত ও তার সাগর। মস্করা মাপ করবেন। লেখক বড় মাপের সাহিত্যিক। ব্যক্তিগতভাবে ওনার লেখা আমার দিব্যি লাগে। ওনার ইনফেমাস্ হুমায়ূন-প্রীতি নিয়ে একটু আধটু কানাঘুষো যে শুনিনি সেটা বলা অন্যায়।

তবে সাগরের প্রথম উপন্যাসটি পড়ে এমন আশ্চর্য হবো ভাবতে পারিনি। খুব বেশি হেজিয়ে কাজ নেই। সাগর ও হিমুর যাবতীয় মিল ও অমিলের পাই-চার্ট আপনি ইন্টারনেটের সমস্ত কোণেই পাবেন। প্রচেত গুপ্তের এই সহজ ভ্যাগাবন্ডটি ঢাকার বদলে কলকাতা শহরে হেঁটে বেড়ায়, এই যা। তার ধরণ-ধারণ ও স্বভাব-চরিত্তিরে মৌলিকতার প্রচ্ছন্ন অভাব। এহেন সাদৃশ্যের সূক্ষ্ম হিসেব কষতে বসে, আমার সমস্ত ভালো-লাগা শিকেয় উঠেছিল তাই।

ফলস্বরুপ, একদিনের ছোট্ট একটা গ্যাপ। উপন্যাসটিকে এক সিটিংয়ে সাবাড় না করে, টেস্ট ক্রিকেট ন্যায় দ্বিতীয় দিনে নয়া উদ্যোমে ফিরে আসি আমি। এতে কাজ হয় চমৎকার। হলুদ পাঞ্জাবীর অবয়ব হয়তো বা একেবারে শূন্যে মিশে যায় না। তবুও, তুলনা সরিয়ে রেখে, গল্পটির মর্মে ডুব দেওয়া সহজ হয়ে দাঁড়ায়। এখানেই লেখকের সাহিত্যের চরম সাফল্য। দিনশেষে, টুকলিবাজি করে আমিও একটা প্যাস্টিশ লিখতে বসেছিলাম, কিন্তু হলফ করে বলতে পারি ; প্রচেত গুপ্তের মতন এতটা মায়া আমার কলমে ছিল না কোনোদিনই।

সেই তো একগুচ্ছ চরিত্র দল। কেউ গরীব, কেউ ক্ষমতাবান, কেউ ঠোঁটকাটা, কেউ বদরাগী। সব্বাই সাগরকে নিয়ে একেবারে তিতিবিরক্ত। তাদের রাগ কি সন্দেহের মাঝেই রোপিত স্নেহের বারুদ। সবটাই চেনা। সবটাই পরিচিত। তবুও মায়াময়। ভীষণ মায়াময় ও মনখারাপিয়া! এরই মাঝে উপন্যাসটি যেন একরাশ চেষ্টার সমষ্টি। সাগরের চেষ্টা। সবাইকে কিছু না কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার তার অমলিন প্রয়াস।

তার যা আছে। যতটুকু আছে। সেটুক��ই তার পুঁজি। সেই নিয়েই সে পাড়ি জমায়। স্বার্থপর পৃথিবীর কবিতা-মাখা রাস্তাঘাটে বৃষ্টি মাথায় হেঁটে বেড়ায় প্রতিনিয়ত। তাই কোথাও গিয়ে, ইমিটেশনের বেড়াজাল টপকে পড়ে থাকে স্রেফ একটি সুন্দর উপন্যাস। নিজ-অজান্তেই বইয়ের পাতায় ঘটে যায় এক মহাজাগতিক নাটক। ভীষণ মিষ্টি একটি কাহিনীতে, এক সাধারণ যুবক হয়ে ওঠে দেবদূত বালক! এইতো।

(৩.৭৫/৫ || জুন, ২০২৪)
Profile Image for সালমান হক.
Author 66 books1,965 followers
June 10, 2018
এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গের কোন লেখকের লেখা পড়ে মনে হলো হুমায়ূন আহমেদ দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত। সাধারণত এরকম প্রভাবিত সাহিত্য আমাকে টানে না তবুও প্রচেত গুপ্তের আমার যা আছে বইটিকে চার তারা দেয়ার কারণ, ভালো লেগেছে পড়ে। প্রভাব সত্ত্বেও লেখনীতে স্বকীয়তা বজায় রেখেছেন লেখক। সাগর চরিত্রটা অবিকল হিমু না হলেও ৯০% হিমু। রেবা হচ্ছে রূপা। হিমুপ্রেমীরা পড়ে দেখতে পারেন।
Profile Image for Shadin Pranto.
1,475 reviews559 followers
October 5, 2019
প্রচেত গুপ্তের সাগর এতবেশি অভাবনীয় এবং ঘাবড়ে দেয়ার মতো কর্মকান্ড করেন এই উপন্যাসে তাতে সবার আগে মনে আসে হুমায়ূন আহমেদের হিমুর কথা। সেই মিল আরো বেশি গাঢ় হয়ে ওঠে সাগরের 'অর্থহীন' দার্শনিক কথাবার্তা। সুনীলের নীললোহিত আর সুবোধ ঘোষের "শুন বরনারী"র হিমুকে গুলিয়ে প্রচেত গুপ্ত মহাশয় সৃষ্টি করেছেন সাগরকে - এই ধারণাকে প্রবল করার মালমশলা ঔপন্যাসিক ই যোগাড় করে দেন পাঠককে।

বেকার যুবক সাগর মেয়েদের ভড়কে দেয়। সেই রমণীরা অবশ্যই হন রূপবতী। তারও একটি রূপা আছে, যার নাম রেবা। মন্ত্রীমশাইকে বোকা বানানোর কীর্তি আছে। হাসি আছে, কান্না আছে আর আছে অন্যসব ঔপন্যাসিক যেসব কালজয়ী চরিত্র ইতিমধ্যে সৃষ্টি করেছেন তার অবলম্বনে ১৪৪ পৃষ্ঠা সমৃদ্ধ একটি উপন্যাস।

প্রচেত গুপ্ত সুন্দর লিখেন। মনে হচ্ছিল চাইলেই তিনি সাগর চরিত্রটিকে একেবারে নিজের করে তুলতে পারতেন। অথচ সেই ইচ্ছেটার অভাবই উপন্যাসটি ঠিক গড়ে উঠতে পারলো না। সবই যেন এর-ওর থেকে ধার করা। আপনাকে বড় রিক্ত মনে হচ্ছিল লেখককে - এই উপন্যাস পড়তে গিয়ে।
Profile Image for বিমুক্তি(Vimukti).
156 reviews88 followers
June 19, 2020
হুঁ, এই বইয়ের সাগর হচ্ছে হিমুর ক্যালকাটা ভার্সন। সাগরকে হিমুর ছায়ায় তৈরি বলা যায় না, বরং হিমুর কপি- পেস্টই বলা উচিত। এই চরিত্রের কোনো মৌলিকত্ব নেই।

এইসব দিক বিবেচনায় নিলে আমার উচিত ছিল দুই তারা দেয়া। কিন্তু বইটা আমার অসম্ভব ভালো লেগেছে। এত্ত ভালো লেগেছে যে এখন আর এই মাত্রাতিরিক্ত প্রভাবিত লেখাটার কোনো খুতই আর নজরে আসছে না।

একটা জিনিস ভাবছি, গোয়েন্দাগল্প, ভৌতিক, সাই-ফাই প্রভৃতির মত বাংলা সাহিত্যে ভ্যাগাবন্ডগল্প নামে নতুন একটা শাখা গড়ে উঠলে কেমন হয়? বাঙালিদের মধ্যে হিমুর যে প্রভাব দেখা যায়, তাতে মনে হয় না একজন হিমু যথেষ্ট।

বইটা আমার এতোটা ভাল লেগেছে তারপরও এক তারা খসালাম। কারণ সাগর চরিত্রটার কিছুটা হলেও মৌলিকত্ব থাকা উচিত ছিল। লেখক ওকে পুরোটাই হিমুর রিফ্লেকশন কেন করলেন, তা বুঝতে পারছি না।
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 37 books1,866 followers
August 19, 2014
কিছু-কিছু বই-এর রিভিউ করা যায় না| ঘেমো গরমের এক বিকেলে নাকে ধাক্কা দেওয়া চাঁপা ফুলের গন্ধ বা মনমরা অবস্থায় বাড়ি-ফেরার পথে হঠাত করে পাওয়া মশলামুড়ির গন্ধকে যেমন ফরাসি পারফিউম বিশেষজ্ঞ-র কাছে জমা রেখে মতামত চাওয়ার কোনো মানে হয় না, ঠিক তেমন ভাবেই প্রচেত গুপ্তের লেখার (বিশেষত যা সাগর নামের একটি আধপাগলা/বাউন্ডুলে/বেকার/ঐশ্বরিক মানুষকে কেন্দ্র করে রচিত) ব্যাখ্যা হয় না| আমাদের পাকা দালান-কোঠায় যেমন চাঁদ আসে না, তেমনই সাগর-এর অকল্পনীয় কীর্তিকলাপ-এর মূল্যায়ণ আমাদের ঘোর সাংসারিক মনে হয়ে ওঠে না| কিন্তু তা বলে কি বই পড়বো না, যদি জানি সাগর হবো না এই জন্মেতে! এই বই পড়বো, চোখের কোনাটা একটু ভিজে আর ঠোঁটের কোনায় একটু হাসি নিয়ে ঘুমোতে যাবো, আর সব্বাইকে বলবো: এই বই পড়তে হয়, না হলে জানাও যায় না কী অলৌকিক জীবন-রহস্যের মধ্য দিয়ে আমরা কাটিয়ে দিচ্ছি এইসব দিনরাত্রি|
Profile Image for শুভাগত দীপ.
276 reviews43 followers
April 24, 2020
|| রিভিউ ||

বইঃ আমার যা আছে
লেখকঃ প্রচেত গুপ্ত
প্রকাশকঃ দে'জ পাবলিশিং, কলকাতা
প্রকাশকালঃ জানুয়ারি, ২০০৭
ঘরানাঃ সমকালীন উপন্যাস
প্রচ্ছদঃ দেবব্রত ঘোষ
পৃষ্ঠাঃ ১৪৪
মুদ্রিত মূল্যঃ ৭০ রুপি
ফরম্যাটঃ পিডিএফ


কাহিনি সংক্ষেপঃ সাগর একজন বোহেমিয়ান স্বভাবের তরুণ। কাজকর্ম কিছুই করেনা। সারাদিন পথে পথে ঘুরে বেড়ানো আর মানুষকে ঘাবড়ে দেয়া, অর্থাৎ বিভ্রান্ত করাই ওর কাজ। এই সাগরের সাথে জড়িত মানুষগুলোর জীবনের গল্পগুলোও বেশ অদ্ভুত।

শ্যামলদা ও মঞ্জুবৌদির বাড়ির কাজের লোকের বাচ্চা ছেলেটার জন্মদিন। ঘটা করে পালন করা হচ্ছে জন্মদিনটা। রীতিমতো একটা বার্থডে পার্টি। কাজের লোকের ছেলের জন্মদিন পালন নিয়ে শ্যামলদা ও মঞ্জুবৌদি কি লজ্জিত, নাকি আনন্দিত সেটা বোঝা খুব কঠিন। এদিকে কখন যেন এটা নিয়ে নিউজ হয়ে গেলো।

সুন্দরী রেবা'র সাথে বোহেমিয়ান সাগরের এক অদ্ভুত সম্পর্ক। ভালোবাসা, নাকি ঘৃণা? নাকি সম্পূর্ণ অন্যকিছু? সাগর রেবাকে চমকে দিতে ভালোবাসে। ঘাবড়ে দিতে ভালোবাসে। আর রেবা চেয়েও যেন চায়না সাগর ওর আশেপাশে থাকুক। সাগর জড়িয়েও যেন জড়ায়না মেয়েটার সাথে।

চিড়িয়াখানার টাইগার কিপার ডেভিডচাচা সারাদিন মদে চুর হয়ে থাকেন। এই মানুষটাই করে বসলেন এক অদ্ভুত ভুল, যার কারণে পুলিশ-কেস হয়ে গেলো। ডেভিডচাচা ও তার স্ত্রী কমলাভাবীর জীবনে নেমে এলো অনিশ্চয়তা। হরিণচোখের বাঘের রক্ষক ডেভিডচাচাকে বাঁচাতে সাগর কি কিছু করতে পারবে?

বন্ধু তমাল পড়ে গেছে মহা বিপদে। ওর বস ওকে এমন একটা অ্যাসাইনমেন্ট দিয়েছেন, যেটা করতে না পারলে চাকরি নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে। সাগরকে সাথে নিয়ে তমাল চলে এলো ছবির মতো সুন্দর মফস্বল শিমুলতলায়। সেখানকার হলিডে হোমে যতীনবাবু ও তাঁর পরিবারের সাথে ওদের পরিচয় হলো। কেয়া কি নিয়ে পালাচ্ছে? কেন পালাচ্ছে? আর এভাবে পালানোটাই কি সমাধান? মনে হয় না।

শ্যামলদা'র শ্যালিকা মিতা সাগরকে এক হাজার টাকা দিয়েছিলো রবীন্দ্ররচনাবলী কিনে দেয়ার জন্য। সেই টাকার পরিণতি এমনভাবে হবে, তা-ই বা কে ভেবেছিলো! একটা হাসপাতালের বারান্দায় জমে উঠলো নাটক। এমন এক নাটক যা দেখে হয়তো স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও মুচকি হাসলেন। নাট্যকার আর কে? সাগর।

অনেকগুলো মানুষ। অনেকগুলো জীবন। কয়েকটা গল্প। আর এই গল্পগুলোর সাথে বোহেমিয়ান সাগর জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে। সে বারবার খেলে চলেছে তার বিখ্যাত ঘাবড়ে দেয়ার খেলা। আর এই খেলাটা নিয়েই 'আমার যা আছে'।


পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ প্রচেত গুপ্ত'র 'আমার যা আছে' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র সাগর। আমার মনে হয় এই চরিত্রটা পুরোপুরি হুমায়ূন আহমেদের কালজয়ী বোহেমিয়ান চরিত্র হিমু'র আদলে গড়া। হিমু বিষয়ক উপন্যাসগুলোতে তাকে যেমন অদ্ভুত সব কাজকর্ম করতে দেখা যায়, সাগরকেও এই উপন্যাসে তেমন অনেক অদ্ভুত কাজকর্ম করতে দেখা গেছে। বইটার শুরু থেকেই হিমু হিমু একটা ফ্লেভার পাচ্ছিলাম।

সাগরকে দেখা গেছে মানুষের ছোট-বড় নানা সমস্যার সাথে না মিশেও মিশে যেতে, তারপর দেখা গেছে রহস্যময়তা নিয়ে সেগুলোর সমাধান করতে৷ পুরো 'আমার যা আছে' জুড়েই একটা দারুন জাদুময়তার সৃষ্টি করেছেন প্রচেত গুপ্ত। উপন্যাসটার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোন বিরক্তি আসেনি পড়তে গিয়ে।

সাগর যেন মৌলিক কিছু না। তাকে হিমু'র ছায়া বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। ��নেকে হুমায়ূন আহমেদের হিমুকেও কারো না কারো ছায়া বলেছেন। আসলে এই ব্যাপারগুলো কিছুই না। আমার মতে, উপভোগ করাটাই আসল। আমি সেটা করেছিও। এই উপন্যাসের প্রত্যেকটা চরিত্রের সাথে সাগরের রসায়ন ভালো লেগেছে। ভালো লেগেছে উপন্যাসের শেষাংশও। আর শেষটা? অনেকটা যেন 'শেষ হইয়াও হইলোনা শেষ' টাইপ।

হালকা ধরণের কিছু যাঁরা পড়তে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য 'আমার যা আছে'। যাঁরা হিমুভক্ত, তাঁদের জন্য 'আমার যা আছে'। বিরক্ত হবেননা, এটুকু বলতে পারি।

প্রচেত গুপ্ত'র সাগর বিষয়ক অন্য কোন উপন্যাস আছে কিনা জানা নেই। খোঁজ পেলে পড়ে ফেলবো। লেখকের লেখনীর সাবলীলতার কারণে তাঁর অন্যান্য বইগুলোও পড়ার ইচ্ছা আছে।

প্রচ্ছদ ভালো লেগেছে। আমি পিডিএফ পড়েছি। আগ্রহী পাঠকদের জন্য রিভিউয়ের শেষে লিংক দিয়ে দিচ্ছি। চাইলে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন, আমার কাছে লিংক চাওয়া লাগবেনা। স্টে হোম। স্টে সেফ। হ্যাপি রিডিং।


ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪/৫
গুডরিডস রেটিংঃ ৩.৬৯/৫

© শুভাগত দীপ

'আমার যা আছে' পিডিএফ লিংকঃ https://m.box.com/shared_item/https%3...

(২৪ এপ্রিল, ২০২০, দুপুর ১ টা ৭ মিনিট; নিজ রুম, নাটোর)
Profile Image for সারস্বত .
237 reviews135 followers
November 5, 2018
বাংলা ফিকশনাল জগতে সম্প্রতি দশকগুলোতে নতুন এক ঘরানার সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে। আর সেই সাহিত্যের নাম হুমায়ূনী সাহিত্যে। কোন কোন সাহিত্যে বোদ্ধার এই ঘরানার সাহিত্যের মান নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে। কিন্তু অস্বীকার করার আর কোন উপায় নেই যে হুমায়ূনী সাহিত্যের শিকড় গেথে গেছে অনেক পাঠক কিংবা লেখকদের হৃদয়ের গভীর থেকে গভীরে।

হুমায়ূন আহমেদ চলে গেলেও তার ছায়াতে অস্বীকার করা সহজ নয়। আর আমার এই বক্তব্যের উপযুক্ত দলিল হতে পারে প্রচেত গুপ্তের 'আমার যা বইটি'। পুরো বইটিতে আমি হুমায়ূন আহমেদকে যতটা পেয়েছি তার সিকিভাগও যেন প্রচেত গুপ্তকে পেলাম না। অথচ গল্পটি মৌলিক।

গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সাগর এবং সে পুরোদস্তুর হিমুর প্রতিচ্ছবি। হুমায়ূন আহমেদের হিমুকে যে লেখক কত তীব্রভাবে গ্রহণ করেছে সেটা সাগরের প্রতিটি কথা, প্রতিটি চিন্তা, প্রতিটা কাজ থেকে বোঝা যায়।

পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যেও কিন্তু বাউন্ডুলে চরিত্র আছে। যেমন শরতের শ্রীকান্ত থেকে শীর্ষেন্দুর উপল। ঐ চরিত্রগুলোর আছে নিজস্ব স্বকীয়তা। দুএকটা চিন্তাধারায় মিলে গেলেও ঐ চরিত্রগুলো কখনোই হিমু নয়। কিন্তু অদ্ভুতভাবে লেখক তার অনুপ্রেরণাটা পেয়েছেন পুরোপুরি হিমুর কাছ থেকে।

তবে তরুণ লেখকের এই নতুন লেবাসের হিমুকে আমার ভাল লেগেছে। সাগর সমাজের অসংগতিগুলো শুধু আংগুল দিয়ে দেখিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, নিজেকে সেগুলির সাথে একাত্ন করেছে, মিশে গেছে আবার এক ঝটকায় সব ফেলে চলে এসেছে আর বলেছে আমার কিছু নেই।

লেখকের প্রচেষ্টাকে আমি সাধুবাদ জানাই। আসলে দুধের স্বাদ হয়তো ঘোলে মেটে না তবু তৃষ্ণাটা একটু হলেও স্বস্তি পায়।

বইয়ের নামঃ আমার যা আছে
লেখকঃ প্রচেত গুপ্ত
প্রকাশনীঃ দে'জ
প্রথম প্রকাশঃ জানুয়ারি, ২০০৭
পুরস্কারঃ সুতপা রায়চৌধুরী স্মারক পুরস্কারপ্রাপ্ত (পশ্চিমবঙ্গ অকাদেমি প্রবর্তিত)
Profile Image for প্রিয়াক্ষী ঘোষ.
363 reviews34 followers
April 16, 2023
"আমার যা আছে " একটি জনপ্রিয় উপন্যাস। উপন্যাসটিতে লেখক আধুনিক জীবনের মুখোমুখি দাড় করিয়ে দেয়।

সাগর একজন বেকার যুবক। তার পকেট সবসময়েই ফাঁকা থাকে। ভালোভাবে বেঁচে থাকার মত যা দরকার তার কিছুই তার নাই।

সাগর একদিন অটোরিকশায় করে চলেছে শ্যামলদার বাড়ীতে, তার পাশে বসা আছে এক বরফ সুন্দরী। সেখানে তার দুপুরে নেমন্তন্ন। কিন্তু নেমন্তন্নের উপলক্ষ্য টা কি সে যানে না তাই কোন উপহাটও নিয়ে আসে নি। কি উপলক্ষ্য জানলেও সে যে ভালো উপহার নিতে পারতো না নয়, তবে উপলক্ষ্য না জানার ফলে তার সুবিধা হয়েছে, উপহার না নেওয়ার খারাপ লাগাটা আর নাই।

অটোরিকশা থেকে নেমে যাবার পর পাশে বসা সেই বরফ সুন্দরী অনুমিতা না মধুমিতা নাম পিছন থেকে সাগরের নাম ধরে ডাকলো। এতোক্ষণে সারগ চিনলো এই বরফ সুন্দরী শ্যামলদার শালী। মেয়েটি সাগর কে মোটেই পছন্দ করে না।বিরক্তিকর এই মানুষ টাকে ঢেকে এই গরমে ডাব খাইয়ে নতুন পাঁচশ টাকার দুটি নোট দিলো রবীন্দ্র রচনাবলী কেনার জন্য। সাগরের ব্যপারটা অবাক লাগলো, কেউ এতো বিরক্তিকর একজন মানুষকে সহ্য করছে শুধু রবীন্দ্র রচনাবলী সস্তায় কেনার জন্য। তাছাড়া সগরের মনে হলো রবীন্দ্র রচনাবলী এমন নতুন টাকা দিয়েই কেনা উচিৎ।

সাগর মানুষকে খুব ভগড়ে দিতে পছন্দ করে এবং সে একাজটা করে মজাই পায়। কিন্তু আজ শ্যামলদার বাড়ীতে গিয়ে নিজেই ভগড়ে গেছে। পুরো বাড়ীকে সাজনো হয়েছে এবং তার তদারকি করছে শ্যামলদার ছেলে অর্ণব।

আজ শ্যমলদার বাসার কাজের মাসীর ছেলের জন্ম দিন। এটা হঠাৎ করেই করা হয়েছে তবে আয়োজনটি বিশাল। নেমন্তন্ন করা হয়েছে অনেককে তবে কাউকে বলা হয়নি উপলক্ষ্য টা কি।

এতো আযোজনের মাঝে শ্যামলদার স্ত্রী মঞ্জু বউদি খুব কান্নাকাটি করছেন। তিনি তার স্বামীকে ডিভোর্স দিবেন বলে ঠিক করেছেন। তবে তা কাজের মাসীর ছেলের জন্মদিনে অখুশী হয়ে নয়। এতো আয়োজন কিন্তু শ্যামলদা কেন তার গয়না ব্যাংক থেকে তুলে আনতে ভুলে গেছেন। এখন তিনি লোকের সামনে যাবেন কেমন করে?
জন্মদিন কাজের মাসীর ছেলের কিন্তু আয়োজন তো সামান্য নয়।
এখন এই সমস্যার সমাধান করবে সাগর।

এমনই টুকরো টুকরো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ধারাবাহিক ভাগে এগিয়ে নিয়ে গেছে উপন্যাসটাকে।
সাগরের চারপাশে ঘিরে আছে অসখ্য চরিত্র। বন্ধু, প্রেমিকা, ডাক্তার, মন্ত্রী, বই বাঁধাইঅলা, বারবনিতা এমন কি চিড়িয়াখানার বাঘ-রক্ষক।

সাগরের জীবনে সমস্যার শেষ নাই কিন্তু সে বেঁচে আছে সবচেয়ে আনন্দে। নিজের জীবনের নানা অপূর্ণতা থাকলেও সে সকলের না পাওয়াকে পূরণ করে চলেছে হাসিমুখে। তাছাড়া সাগরের আছে চমৎকার এক আকর্ষন শক্তি। যার ফলে সে সহজেই মানুষেকে নিজের দিকে টানতে পারে। সে না চাইলেও এমনটা হয় বারবারই তার জীবনে।জীবনের সব সুন্দর অসুন্দর কে সে আগলে চলেছে দুহাতে। কোন কিছুই তাকে বিচলিত করে না এমনই একটা চরিত্র এই সাগর।
Profile Image for ANGSHUMAN.
229 reviews7 followers
October 5, 2023
হিমুর সস্তা কপি।
নীলক্ষেতে বা কলেজ স্ট্রিটে এর চেয়ে ভালো কোয়ালিটির হিমু আরো কম দামে পাওয়া যায়।
Profile Image for Fahad Jewel.
33 reviews14 followers
April 22, 2020
আপনি যদি হুমায়ূন আহমেদ এর হিমু সিরিজের বইগুলো পড়ে থাকেন, তাহলে প্রচেত গুপ্ত'র 'আমার যা আছে' এটা পড়া শুরু করার কিছুক্ষণ পর আপনার একটা কথাই মনে হবে- কী হচ্ছে এটা! বইটা তো পুরোপুরি হুমায়ূন আহমেদ এর হিমু সিরিজ দ্বারা প্রভাবিত। অবিকল হিমুকে দেখা যায় এই বইয়ের কেন্দ্রীয় চরিত্র সাগরের মাঝে!

একটা বিষয় স্পষ্ট, হুমায়ূন আহমেদ এর সৃষ্ট কর্ম বহু পাঠক ও লেখকের মনে গভীর প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে। সেটারই একটা উৎকৃষ্ট উদাহরণ প্রচেত গুপ্ত'র লেখা 'আমার যা আছে'।

হিমুর রূপার মত সাগরের রয়েছে রেবা নামের সুন্দরী ও মায়াবতী এক বান্ধবী, যার বাবা প্রভাবশালী। রেবা সাগরকে ভালোবাসে, এবং যথারীতি সাগর তাঁর সাথে রহস্যজনক আচরণ করে, এবং পাশ কাটিয়ে যায়। রেবা সাগরের এই আচরনে অভ্যস্ত।

হিমুর মত সাগরের চরিত্রেও দেখা যায় মানুষের জীবনের অসঙ্গতিকে তুচ্ছ করার ক্ষমতা, সমাজের মাঝে অন্তর্নিহিত সত্যকে উপলব্ধি করার ক্ষমতা, এবং সমাজকে কাঁচকলা দেখিয়েও নিজের মতো করে বাঁচতে পারার ক্ষমতা।

হিমুর মত সাগরের রয়েছে বন্ধু ও বন্ধুপত্নী। এখানে বন্ধুর স্ত্রী তাঁকে সহ্য করতে পারেনা। এই উপন্যাসেও একজনের সুপারিশে সাগরের চাকরি হয়, কিন্তু সে নিজে চাকরিটা না করে অন্য আরেকজনকে গছিয়ে দেয়। দেখা যায়, মন্ত্রী ও ডাক্তারকে ভড়কে দেয়ার দৃশ্য।

পুরো উপন্যাসে সাগরকে যেমন সামাজিক অনুশাসনের মধ্যে বাঁধা যায় না, তেমনি তাঁর প্রবল মানবিকতার স্বরূপও আমরা দেখতে পাই। বিশেষত শেষ দৃশ্যগুলো অসাধারণ ছিল।

হিমুর মত সাগরেরও রয়েছে মানুষকে ঘাবড়ে দেওয়া ও সুন্দর করে হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিমায় কথা বলার ক্ষমতা। কৌতুক মিশ্রিত কথাবার্তা ও প্রবল রসবোধ সম্পন্ন আচরণের মাধ্যমে খুব সহজেই সে মানুষকে বিভ্রান্ত করে তুলতে পারে। সমাজের নিম্ন আয়ের নানা মানুষের সাথে রয়েছে তাঁর আন্তরিকতা মিশ্রিত সখ্যতা। হিমুর মতো সাগরও কখনো কারো অনিষ্ট করেনা, বরং দিনশেষে তাঁকে একজন পরোপকারী ও নিঃস্বার্থ চরিত্রের মানুষ হিসেবেই দেখতে পাওয়া যায়।

বইটা নিঃসন্দেহে সুখপাঠ্য। পাঠক বিরক্ত হবেন না, সে নিশ্চয়তা দিতে পারি। হুমায়ূন আহমেদ দ্বারা প্রচন্ড প্রভাবিত হলেও একটা স্বকীয়তা লক্ষ্য করা যায়। লেখক সাগর কে নিয়ে হিমু সিরিজের মত আরো কোন বই লিখেছেন কিনা জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। একই সাথে লেখকের অন্য বইগুলোও পড়ার ইচ্ছে রাখলাম। হিমু সিরিজের সবগুলো বই অনেক আগেই পড়া শেষ, সে হিসেবে প্রচেত গুপ্ত'র সাগরের মাঝে হিমুকে পেয়ে খারাপ লাগে নি। মনে হয়েছে হিমুর নতুন একটা উপন্যাস শেষ করলাম।

আগ্রহী পাঠক বিশেষত হিমু প্রেমীরা পড়তে পারেন 'আমার যা আছে'। হাঁটতে পারেন বোহেমিয়ান সাগরের সাথে।

📖
Profile Image for Soumi Sukla.
31 reviews
May 16, 2025
besh laglo........ emonti satyi hoy na jeneo....... satyi holeo hote pare bhebei bhalolagay apluto holam........



punascho: baki review dekhe mone holo, eta janiye rakha bhalo je ami humayun ahmed-er himu series-er kono boi porini.........

punascher punascha: himu series-er mayurakkhi ebong darjar opase porlam ebong bujhlam keno ei lekhata samandhe bakira oi mantabya korechen

sesh katha: ar ei eki bishay porar ichche nei......... lekhak ra maf korun ar natun kichu likhun :)
Profile Image for Sushanto Kumar Saha.
93 reviews9 followers
April 30, 2020
প্রচেত গুপ্তর লেখা ব্যক্তিগতভাবে ভালো লাগে। যদিও লেখার মাঝে হুমায়ুন আহমেদের প্রভাব লক্ষণীয়, তারপরেও লেখার নিজস্বতা আছে। এই বইটিও খুবই সুখপাঠ্য।
Profile Image for Raka.
116 reviews35 followers
December 5, 2022
একী! হিমুর নকল পুরোপুরি!
14 reviews
July 14, 2024
Wonderful wonderful book( award winning).. What a character Sagar is... positivity dripping from every page... Kudos to the writer
Profile Image for Nazrul Islam.
Author 8 books228 followers
June 12, 2018
হুবুহু হুমায়ূন আহমেদের হিমুর কপি পেস্ট। লেখার স্টাইল থেকে ক্যারেক্টার সব। হিমুর মত সেও উদ্ভট কাজ কারবার করে। রূপার মত সাগরের ও একজন আছে। মোদ্দাকথা। হুমায়ূন আহমেদের লেখার সাথে এই বইয়ের লেখার কোন পার্থক্য নাই। এক বিন্দুও না।
বরাবরের মত হুমায়ূন আহমেদের লেখার মত উনার লেখার পড়তে খারাপ লাগে নাই।
Profile Image for Arindam  Chatterjee.
39 reviews1 follower
December 5, 2021
বইটা বেরিয়েছিল ২০০৭ সালে আর আমি পড়লাম ২০২১ সালে, হায়রে ! আগে কেন পড়িনি ! মন ভালো না খারাপ হলো কে জানে !
Displaying 1 - 18 of 18 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.