মার্সেল মোরিং ইউরোপিয়ান লেখক। এরই মাঝে তিনি ইউরোপের সবচেয়ে প্রেস্টিজিয়াস দুখানা সাহিত্য পুরস্কার বাগিয়ে নিয়েছেন, উপলক্ষ, এই বইটি, ইন ব্যবিলন।
নেদারল্যান্ড এবং ইহুদী পটভুমিকায় গড়ে ওঠা এক শতাব্দী বিস্তৃত পারিবারিক মহাকাব্য এই বইটি। নেথান হল্যান্ডার, ৬২ বছর বয়সের এই ব্যক্তি হলান্ডার পরিবারের শেষ আনুষ্ঠানিক বর্তিকা। তার থেকেই শেষ হয়ে যাবে শতাব্দী প্রাচীন এই পরিবার নাম। এই পরিবার দেখেছ ক্ষুধা, রোগ, সয়েছে হিটলারের হলোকাস্ট। কোন এক শীতে, মৃত আঙ্কেল হারমান এর বিলাসবহুল বাড়ির তদারকিতে গিয়ে চরম তুষারপাতে আটকা পড়ে যায় সে, সাথে ভাইয়ের অবৈধ সন্তান, তার বই এর সেলিং এজেন্ট, ভাতিজি নিনা।
নেথান হল্যান্ডার পেশায় একজন রুপকথা লেখিয়ে। সেই বাচ্চা কাল থেকেই তার কাছে আসে বংশের দুই পুরাতন ভুত, শুনিয়ে যায় হল্যান্ডার পারিবারের পারিবারিক ঐতিহ্য, আর তখন থেকেই সে একজন গল্প লেখিয়ে। কিছুটা ছিটগ্রস্থ এই মানুষটাকে নিয়ে এক প্রায় পরিত্যক্ত বাড়িতে আটকা পড়াটা মোটেই আনন্দদায়ক কোন বিষয় নয়। চরম তুষারপাত আর তার মাঝে জমা করে রাখা খাবার খেয়ে দুজনে উষ্ণ থাকার চেষ্টা, মুল বিপদটা কিন্তু খাবারের নয়, ভয়টা হল আগুনে দেবার মত কাঠ শেষ হয়ে না যায় তুষার ঝড় শেষ হবার আগেই। তাহলে শীতে জমেই কাঠ হয়ে যাবে দুজনে। বিভিন্ন ভাবে জমে না যাবার চেষ্টা আর এরই মাঝে আস্তে আস্তে করে আবিস্কার হতে থাকা হল্যান্ডার পরিবারের বিভিন্ন ঘটনা। যদি বলি হল্যান্ডার পরিবারে এক নবীর আগমন ঘটেছিল, বিশ্বাস করবেন কি? যদি বলি সেই নবীর ভুত অথবা অন্য কোন অস্তিত্ব এই বাড়িতে নিজের অবস্থান জানান দিয়ে চলেছে? যদি বলি শেষটা চমকে দেবে আপনাকে? বইটা কিনে পড়তে পারেন স্বাচ্ছন্দে। আশা করছি ইউরোপের এক প্রাচীন বংশ, যার শুরু হয়েছিল একজন ঘড়ি মেরামতকারির রোমান্স এর মাধ্যমে, তার ইতিকথা শুনতে খারাপ লাগবে না! এর সাথে বোনাস থাকছে পুরনো আমলের ইউরোপ নিয়ে ইন ডেপথ বর্ননা।