Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
ইশতিয়াক ব্যাকপ্যাকে করে স্কুলে নিয়ে এসছিলো এটা। ক্লাস নাইনে ছিলাম বোধহয় তখন। ওর কাছ থেকে বইটা নিয়ে যখন পিছনের সিটে চলে গিয়েছি, তখনই জাফর এসে আমার সাহিত্যচর্চায় বাগড়া দিতে শুরু করে। ও বইটা বাসায় নিয়ে যাবে, তাই আমাকে পড়তে দিবে না। এটা নিয়ে আমরা দু'জন চিৎকার চেঁচামেচি করতে করতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলার দশায় চলে গেছিলাম প্রায়, তাই স্যার এসে কখন ক্লাসে ঢুকেছেন তা খেয়ালই করি নি।
''হিমুর মধ্যদুপুর" নিয়ে টানাটানি করছি দেখে আমাদের উত্তম মধ্যম দেয়া উচিত ছিল উনার, কিন্তু সেদিন আবু হোসেন আজাদের মতো ঘাঁড় বাকা শিক্ষকও কিছু করেন নি। শুধুমাত্র বলেছিলেন,হিমু ভাল্লাগে তোদের? পইড়ো সবাই।
এইখানে ক্ষান্তি দিলে সেটা নিতান্ত সাধারণ স্মৃতি হয়ে যায়। তাই, এখানেই শেষ না। ক্লাসে যখন ইংরেজী পড়াচ্ছেন, তখন হঠাৎ করেই একটা গল্প বললেন। আমাদের স্কুলের প্রাক্তন এক শিক্ষার্থীর কথা, যে মাত্র ক্লাস এইটে লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। সে মৃত্যুর আগেও বলেছিল, আজাদ স্যারকে দেখে যেতে চাই...কারণ স্যার ওকে হিমুর বই উপহার দিতেন!
সেদিন বিষণ্ণ হয়ে পড়েছিলাম, স্যার নিজের এক টুকরো স্মৃতি আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে আমাদেরকে বিষণ্ণ করে তোলেছিলেন। ঐ ছেলেটার জন্যে খারাপ লাগছিলো, খারাপ লাগছিলো ওর মৃত্যুতে। আর আজ সেই স্মৃতি পুনরায় হঠাৎ করে যখন চেতনায় ফিরে এল, তখন অবাক হচ্ছি হিমুর প্রভাব নিয়ে! একটা কাল্পনিক চরিত্র যা মানুষের মৃত্যুকেও প্রভাবিত করে, এরকম কিছু সহজে খোঁজে পাওয়া যায় না।
হুমায়ূন আহমেদ মন খারাপ থাকলে হিমু লিখত, আমিও মন খারাপ থাকলে হিমু পড়ি। ইদানীং হিমু বেশি পড়া হচ্ছে আর একটি জিনিস টের পাচ্ছি হিমু আস্তে আস্তে তার খেই হারাচ্ছে। এখানেও সে ধারা অব্যহত রেখেছে। হুটহাট আচারন হিমুর জন্য স্বাভাবিক, কিন্তু এখানে একটু বেশিই হুটহাট আচারন করেছে সে। কিছু বিষয় ভালোলাগলেও, প্রথমে অনেক ধীরগতিতে শুরু হয়। তবে ঐ যে শেষের দিকের টুইস্টের জন্য অপেক্ষা করতে চাইলে পড়া যায়।
আমাকে সম্ভবত 'হিমু' রোগে ধরেছে। কিছুদিন থেকে শুধু হিমু সিরিজই পড়ছি। এই কাজটা আমি সাধারণত করি না। টানা সিরিজ পড়লে মজা নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এবার যে কি হলো! বেশ মজা পাচ্ছি। তাই আর থামাথামির সীন নাই। চালিয়ে যাচ্ছি।
'হিমুর মধ্যদুপুর' বইটাও আর দশটা হিমু সিরিজের বই যেমন হয় ঠিক তেমনই। এবার হিমু হয়েছেন বাড়ির কাজের লোক। হ্যাঁ, পল্টু সাহেবের বাড়ির কাজ লোক। পল্টু সাহেব একদম মাতামাতি টাইপের ধনী। কিন্তু তার কিডনি নিয়ে সমস্যা। তার একটা অসাধারণ গুণ হচ্ছে সে অনেক বই পড়ে আর মুরগির মতো কক কক করে। তার বাড়িতে কাজের লোক হিসেবে হিমু চালিয়ে যাচ্ছে তার মজার এক্সপেরিমেন্ট। নতুন চরিত্র হিসেবে আমরা রানুকে দেখতে পায় এই বইয়ে। রানুর সাথে বাদলের কেমিস্ট্রিটাও চরম উপভোগ করেছি। এভাবেই বই এগোতে থাকে।
দেখুন, হিমু সিরিজ হচ্ছে আপনার খারাপ হয়ে থাকা মনটাই বিনোদনের ছাটা দেওয়া সিরিজ। আপনার হাসি আসবেই। আমার মন খারাপ থাকলেই আমি হিমু সিরিজ থেকে একটা করে বই পড়তাম। সমস্যার বিষয় হচ্ছে, সিরিজটাও আস্তে আস্তে শেষের দিকে চলে এসেছে। কি আর করার! যার শুরু আছে তার শেষও আছে।
হিমুর বাবার মতে মহাপুরুষ হতে গেলে লোকের বাড়িতে চাকরও খাটতে হয়। আর এই উপদেশ পালন করতে গিয়ে একের পর এক অদ্ভুত কাণ্ড। একে একে চরিত্র গুলি ধরা দেয়। যেমন বই পড়ুয়া পল্টু স্যার,হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার সাত্তার,বিপদে পড়া কলেজ ছাত্রী রানু,থানার ওসি প্রত্যেকের সমস্যার মুশকিল আসান ওয়ান অ্যান্ড অনলি হিমু।
হিমুর সব বই ভালো লাগলেও এই বইটা একটু তুলনামূলক কম ভালো লেগেছে। এই রানু ক্যারেক্টার আমার পরিচিত। বাদল, মাজেদা খালা, খালু সাহেব এনাদের প্রত্যেকের আচরণ পরিচিত��� বরং হিমুর আচরণ কিছুটা অন্যরকম লেগেছে। তবে অন্যরকম লাগলেও খুব একটা ভালো লাগেনি।
হিমুর বিভিন্ন গল্পগুলোর যে সিরিজ আছে, তাতে এই গল্পটা না থাকলেও কোনো সমস্যা হবে না। এই উপন্যাস আর যেকোনো একটি হিমু উপন্যাসের মতো। নামে মধ্যদুপুর আছে ঠিকই, তবে এমৎ নামকরণের সাথে খুব কমই সম্পর্ক আছে আসল বিষয়বস্তুর। পাওনা বলতে "বাদল-রানু কথামালা"। এছাড়া রূপার অনুপস্থিত উপস্থিতি আছে, অর্থাৎ টেলিফোনের মাধ্যমে। এই উপন্যাসে ওভার-দ্য-টপ আচরণের হিমুর অলৌকিক ক্ষমতার নিদর্শন দেখাতে গিয়ে লেখক কখনো কখনো মাত্রাতিরিক্ত বিশেষণ ও উপন্যাসের ধাঁচার সাথে বেমানান ভাষা ব্যবহার করেছেন। যার ফলে যেখানে হাসি পাওয়ার কথা, সেখানে বিরক্তির উদ্রেক হয়। সংক্ষেপে বলতে গেলে, যদি হাতে সময় থাকে এবং মাথা ঘামানোর ইচ্ছে না থাকে, তবে অবশ্যই পড়তে পারেন এই বই। আর না পড়লেও কিছু হারাবেন না।
পড়তে গিয়ে দেখলাম বইটা এর আগেও একবার পড়া হয়েছে। কাহিনী অস্পষ্টভাবে মনে আছে। চটুল প্রকৃতির বই। বিশেষ কিছু নেই। তবে টাইমপাস করার জন্য ভাল। বইয়ের কিছু কিছু জায়গা পড়ে অনেক হেসেছি। যেমন হিমুর সাথে কিসলুর প্রথম কথোপকথনের জায়গাটি।
হিমু, তুই আমাকে একটা কিডনী দিতে পারবি? আমার একটা কিডনী দরকার।
মানুষজনের কথায় হকচাকিয়ে যাওয়া কিংবা বিভ্ৰান্ত হওয়া আমার স্বভাবে নেই। তারপরেও মাজেদা খালার কথায় হকচকিয়ে গেলাম। ধানমন্ডি ২৭ নাম্বার রোডে গাড়ি থামিয়ে তিনি আমাকে ধরেছেন। এখন কিডনী চাচ্ছেন। তাঁর কথার ভঙ্গিতে বিরাট তাড়াহুড়া। মনে হচ্ছে এই মুহূর্তেই কিডনী দরকার।
হিমু অবাক হবে নাই বা কেন, এভাবে আপনার থেকে হুট করে কেউ কিডনী চাইলে আপনি নির্ঘাত হকচকিয়ে বলতেন ওরে কেউ ৯৯৯ এ কল দে! এ নিশ্চয়ই অন্য মতলবে এসেছে। হুহহু এ হচ্ছে হিমু, হিমুকে সহজে ভড়কে দেয়া যাবে না। মাজেদা খালার কথায় তবুও সে হকচকিয়ে গেছে। মাজেদা খালা উত্তর না পেয়ে আবার বললেন,
কিডনী কি বাসায় নিয়েই কেটে কুটে রেখে দেবে? ডাক্তার কাটবে না-কি তুমি নিজেই কাটবে? ধারালো স্টেরিলাইজড ছুরি-কাঁচি আছে তো?।
অকারণে কথা বলিস কেন? গাড়িতে ওঠ।
এইটুকুতে বোঝাই যাচ্ছে মাজেদা খালার একটা কিডনি দরকার। মাজেদা খালার নিজের জন্য অবশ্য চাই না, ব্যাপার অন্য। তাঁর পরিচিত এক ভদ্রলোকের দুটা কিডনীই নষ্ট। ডায়ালাইসিস করে দিন কাটছে। তাকে কিডনী দিতে হবে। তিনি সিঙ্গাপুরে যাবেন কিডনী ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে।
হিমু! তুইও উনার সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবি। ফাঁকতালে তোর বিদেশ ভ্ৰমণ হয়ে যাবে। ভাল না? মাজেদা খালা এমন ভাবে বললেন যেন এভাবে কিডনী দিলেই অনায়েসেই বিদেশে ভ্রমণ সহজ।
খালা বললেন, আমরা ছোটবেলায় তাঁকে ডাকতাম, মুরগি। উনি বই পড়ার সময় নিজের অজান্তেই মুরগির মতো কক কক করেন এই জন্যে মুরগি নাম। তোকে গাড়ি দিয়ে তার কাছে পাঠাব। ঠিকানা দিয়ে পাঠালে তুই যাবি না। আমাকে বলবি ঠিকানা হারিয়ে ফেলেছিস। তোকে আমি হাড়ে হাড়ে চিনি; যাকে কিডনী দিবি তাঁর নাম পল্টু। অসাধারণ মানুষ। পরিচয় হলেই বুঝবি। উনার দশটা কথা শুনলেই তুই তার কেনা গোলাম হয়ে যাবি। তুই তাঁকে বলবি, আপনি আমার কিডনী, হার্ট, লিভার সব নিয়ে নিন।
হিমু শেষমেশ মাজেদা খালার তাড়া খেয়ে গেল দেখা করতে। মাজেদা খালার সাথে বেচারা হিমুও পারে না। তিনি হলেন ধর তক্তা মার পেরেক টাইপের মহিলা। গোপন সূত্রের একটা খবর দেই মাজেদা খালার সাথে পল্টুর বিয়ে হবার কথা ছিলো।
যাই হোক হিমু তো গেল দেখা করতে। পল্টু সাহেব বসে বসে বই পড়ছেন। এবং ইশারায় হিমুকে বললেন অপেক্ষা করতে। বই শেষ করেই তিনি বললেন বেতন কত চাও বলো? কত হলে পোষাবে সেটা বলো। বেতন নিয়ে মুলামুলি করার সময় আমার নেই। হিমু ধাঁধায় পড়ে গেল। তাঁর মনে হচ্ছে বাসার চাকর হিসেবে পল্টু স্যার তাঁকে এপয়েন্টমেন্ট দিয়ে ফেলবেন।
তবুও বাবার মহাপুরুষ বানানোর স্কুলের নিয়ম মেনে হিমু পল্টু স্যারের বাসায় গৃহভৃত্য খাস বাংলায় চাকরের কাজ নিলো। নতুন চাকরির খবর আবার জানিয়ে দিলো আরেক খালার ছেলে বাদলকে। কোনো এক ইউনিভার্সিটিতে ফিজিক্স পড়াচ্ছে। তার ছাত্ৰ-ছাত্রীরা তাকে ডাকছে পগা স্যার। এটা নিয়ে সে মানসিক সমস্যায় আছে। পগা ডাকের পেছনের কারণ বের করতে পারছে না। হিমুর নতুন চাকরির কথা শুনে সে মহা খুশি বলেছে একদিন আসবে দেখতে।
ওদিকে মাজেদা খালা এক মেয়েকে জোগাড় করেছিল কিডনী দেবার জন্য রানু নামে। সেই মেয়েটির মাকে কেউ চিঠি লিখে মেয়েটির নামে বাজে কথা ছড়িয়েছে। তাঁকে তাড়িয়ে দিয়েছে বাড়িওয়ালা। মেয়েটির সাথে হিমুর অবশ্য আগেও দেখা হয়েছিল। হিমু তাঁকে যত্ন করে খাইয়েছিল, রিকশার ভাড়া মিটিয়েছিল, সবশেষে হিমুর থেকে টাকাও ধার করেছিল মেয়েটি। পরে অবশ্য কিছুটা ফেরতও দিয়েছিল মেয়েটি। এবং একদিন রান্না করে নিয়ে এসেছিল নিজের হাতে।
বাড়িওয়ালা বের করে দেয় দুর্নাম শুনে এবং মাজেদা খালা মেয়েটিকে হিমুর কাছে পাঠায় সমস্যা সমাধানে। হিমুর ওখানে গিয়ে রানু শোনে হিমু নাকি ওখানে চাকরের কাজ করে। বাদলও কিছুদিন হলো হিমুর কাছে থাকতে এসেছে। ভার্সিটিতে ছুটি চলছে। সে মহা আনন্দে ঘর মুছে দিচ্ছে। রানু এদের সব কর্মকাণ্ড দেখে অধিক শোকে কংক্রিট অবস্থা। হিমু পল্টু স্যারের কাছে রানুকে নতুন রাঁধুনি হিসেবে পরিচয় দিলো। রানু শেষটায় পল্টু স্যারের বাসায় থেকে গেল।
মহা আনন্দে রানু আর বাদল মিলে রান্নায় ব্যস্ত। তাঁদের মধ্যে বেশ ভাব হয়ে গেছে। এবং হিমুর মনে চলছে সন্দেহ তাঁদের কথাবার্তা নিয়ে।
রানু বললো, রান্না করতে গেলে একটু-আধটু তেলের ছিটা খেতে হয়। আপনি এত কাছে থাকবেন না, আপনার গায়ে লাগবে। (গূঢ় অর্থ–ওগো, গরম তেল আমার গায়ে লাগে লাগুক, তোমার গায়ে যেন না লাগে।)
বাদল বললো, আমি দাঁড়িয়ে থাকব। (গূঢ় অর্থ— তোমাকে ছেড়ে আমি যাব না।)
রানু বললো, হাত ধরে থাকলে আমি নাড়ানাড়ি করব কিভাবে? আপনিতো ভাল পাগল! (গূঢ় অর্থ–প্রহর শেষের আলোয় রাঙা, সেদিন চৈত্র মাস। তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ!)
এরমধ্যে বাদলের বাবা এসে হানা দিলেন হঠাৎ। ঝামেলা শুরু হয়ে গেল। ওদিকে পুলিশও এসে গেছে! কিন্তু পুলিশ কে আনলো! সবার ঠাঁই হয়েছে হাজতে। তাহলে এরপর?
// পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
অনেকদিন হিমু পড়া হয়নি। তাই হিমুর খোঁজে শেলফে হানা দিলাম। খুঁজে খুঁজে হাতের কাছে এটা আর পেয়েছিলাম হিমুর আছে জল। আমি নিলাম মধ্যদুপুর। কারণ এখানে মাজেদা খালা আছে। এই মহিলাকে আমার দারুন পছন্দ। বেচারি প্রতিবার নাকানিচোবানি খায়। তবে এই বইয়ে মাজেদা খালার উপস্থিতি খুব কম।
পল্টু স্যারের মুরগির মত ককককক শব্দ করা ভালোই লেগেছে। বেচারা কিডনীর সমস্যায় ভুগছেন। তবে বইপাগল মানুষ। হিমুর ভাষ্যমতে বই পড়ার সময় ওনাকে "এই ছাগলা, বই পাগলা" বলে গালি দিলেও উনি কিচ্ছু শুনতে পান না।
রানু মেয়েটা ভালো আছে। বাদলের সাথে শেষমেশ কোনো হিল্লে হবে কী! বাদল যা আলাভোলা লোক! আর হিমুর কথা কী বলি! মাঝে মাঝে ওর পাগলামি মিস করলেই হুট করে হিমুকে ধরে নিয়ে আসি। হিমু আনন্দ দেয় ব্যাস এইটুকুই। অত চুলচেরা বিশ্লেষণে গিয়ে কাজ কী বাপু!
শেষ করি একটা রেসিপি দিয়ে থানায় এক থুথুওয়ালা ব্যক্তি খালু সাহেবকে বলেছিল এক গামলা টাটকা গরম র ক্ত নিবেন। তার মধ্যে লবণ দিবেন, বাটা লাল মরিচ দিয়া ঘুটবেন। অতঃপর ঠাণ্ডা জায়গায় রাখবেন। জমাট বাইন্ধা পুডিং হয়ে যাবে। চাইলের আটার রুটি দিয়া খাইবেন। বিরাট স্বাদ।
বইয়ের নামঃ "হিমুর মধ্যদুপুর" লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.২/৫
টিপিক্যাল হিমু ফ্লেভারের উপন্যাস। বরাবরের মতই অন্যান্য চরিত্র গুলোর সমস্যা সমাধানের একমাত্র কান্ডারি হিমু। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে হিমুর জেলে থাকতে হয়েছে যে কারনে থানার পুলিশ অফিসারদের সাথে তার ভালো সম্পর্ক থাকে। এ কারণে তার অদ্ভুত আচরণের কারণে তাকে কেউ পুলিশে দিলেও সে সহজেই ছাড়া পেয়ে যায়।
"হিমু কে তার মাজেদা খালা ধানমন্ডির ২৭নাম্বার রোডে গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞেস করে ও একটা কিডনি দিতে পারবে কিনা, হিমু একটু হকচকিয়ে গিয়ে বলে, হ্যাঁ দিব, তারপর হিমু কে বলে গাড়িতে ওঠ বাসায় চল। এটা শুনে হিমু বলে কিডনি কি বাসায় কেটে কুটে রেখে দিবে নাকি"
হিমুর বাবা বিশ্বাস করতেন, ডাক্তার আর ইন্জিনিয়ার তৈরি করা গেলে মহাপুরুষ ও তৈরি করা যাবে। আর মহাপুরুষ হওয়ার স্টেপ গুলোর মধ্যে একটি ছিল চাকর/গৃহভৃত্য থাকা। পল্টু স্যার কে কিডনি দিতে গিয়ে তার ঘরের কেয়ারটেকার এর কাজ পেয়ে যায় হিমু।
গল্পের মূল আকর্ষণ পল্টু স্যার, দুটো কিডনি অকেজো, ডাক্তার বলেছেন কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট ছাড়া কোন গতি নেই, কিন্তু বই পাগল পল্টু স্যার কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করাতে রাজি না, তার মতে তিনি অন্য কারো শরীরের অঙ্গ নিয়ে বাঁচতে চান না। সারাদিন শুধু বই পড়েন আর কোন কঠিন চ্যপ্টার বা প্রশ্নের সম্মুখীন হলেই কক কক আওয়াজ করেন। এই কক কক আওয়াজ এর কারনেই তার বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল।
তাছাড়া রানু আর বাদলের কম্বো টা ন্যরেটিভে একটা ব্যালেন্সড রোমান্টিক ফিলিংস যোগ করেছে। আর হিমু ক্যারেক্টার টা বরাবরের মতই আনপ্রেডিক্টেবল এবং রহস্যময়, হুট হাট করেই পরিবর্তন হয়ে যাওয়া, এক যায়গায় ফিলোসফিকাল আবার আরেক যায়গায় সিআইডি। যেটা পাঠকের ইমোশন কে ডিফারেন্টলি ইনফ্লুয়েন্স করে।
তবে শেষ পর্যন্ত হিমু কি মহাপুরুষ হতে পেরেছে, মহাপুরুষ হওয়ার পর কি মহাপুরুষরা কি নিজেরা বুঝতে পারে?
মন্তব্য
হিমু সিরিজের অন্য উপন্যাস যেগুলো পড়া হয়েছে সেগুলো থেকে এটা একটু কম ই ভালো লেগেছে বলবো, তবে এটায় একটু হলেও বেশি হিউমার ছিলো।
নামের সাথে গল্পের মিল খুবই কম, এটার নাম "হিমুর মধ্যদুপুর" না হয়ে "মহাপুরুষ হিমু" হওয়া উচিত ছিল। গল্পের কিছু কিছু যায়গায় হিমুর ডায়ালগ গুলো এতটাই ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পাঠক হয়তো বিরক্ত ও হতে পারেন।
হিমু চরিত্রের আসল নাম হিমালয়। এ নামটি রেখেছিলেন তার বাবা। লেখক হিমুর বাবাকে বর্ণনা করেছেন একজন বিকারগ্রস্ত মানুষ হিসেবে; যার বিশ্বাস ছিল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার যদি প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করা যায় তবে একইভাবে মহাপুরুষও তৈরি করা সম্ভব। তিনি মহাপুরুষ তৈরির জন্য একটি বিদ্যালয় তৈরি করেছিলেন যার একমাত্র ছাত্র ছিল তার সন্তান হিমু। হিমুর পোশাক হল পকেটবিহীন হলুদ পাঞ্জাবী। হলুদ বৈরাগের রঙ বলেই পোশাকের রং হলুদ নির্বাচিত করা হয়েছিল। ঢাকা শহরের পথে-পথে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানো তার কর্মকাণ্ডের মধ্যে অন্যতম। উপন্যাসে প্রায়ই তার মধ্যে আধ্যাত্মিক ক্ষমতার প্রকাশ দেখা যায়। যদিও হিমু নিজে তার কোন আধ্যাত্মিক ক্ষমতার কথা স্বীকার করে না। হিমুর আচার-আচরণ বিভ্রান্তিকর। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তার প্রতিক্রিয়া অন্যদেরকে বিভ্রান্ত করে, এবং এই বিভ্রান্ত সৃষ্টি করা হিমুর অত্যন্ত প্রিয় একটি কাজ। প্রেম ভালবাসা উপেক্ষা করা হিমুর ধর্মের মধ্যে পড়ে। কোন উপন্যাসেই কোন মায়া তাকে কাবু করতে পারে নি। মায়াজালে আটকা পড়তে গেলেই সে উধাও হয়ে যায়। হিমু উপন্যাসে সাধারণত হিমুর কিছু ভক্তশ্রেণীর মানুষ থাকে যারা হিমুকে মহাপুরুষ মনে করে। এদের মধ্যে হিমুর ফুপাতো ভাই বাদল অন্যতম। মেস ম্যানেজার বা হোটেল মালিক- এরকম আরও কিছু ভক্ত চরিত্র প্রায় সব উপন্যাসেই দেখা যায়। এছাড়াও কিছু বইয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী ও খুনি ব্যক্তিদের সাথেও তার সু-সম্পর্ক ঘটতে দেখা যায়। হিমুর একজন বান্ধবী রয়েছে, যার নাম রূপা; যাকে ঘিরে হিমুর প্রায় উপন্যাসে রহস্য আবর্তিত হয়। নিরপরাধী হওয়া সত্ত্বেও সন্দেহভাজন হওয়ায় হিমু অনেকবার হাজতবাস করেছে এবং বিভিন্ন থানার ওসি ও সেকেন্ড অফিসারের সাথে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে।
হিমু বাংলাদেশের কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ সৃষ্ট একটি জনপ্রিয় ও কাল্পনিক। নব্বই দশকে হিমুর প্রথম উপন্যাস ময়ূরাক্ষী প্রকাশিত হয়। প্রাথমিক সাফল্যের পর হিমু চরিত্র বিচ্ছিন্নভাবে হুমায়ুন আহমেদের বিভিন্ন উপন্যাসে প্রকাশিত হতে থাকে। হিমু ও মিসির আলি হুমায়ুন আহমেদ সৃষ্ট সর্বাধিক জনপ্রিয় দু’টি কাল্পনিক চরিত্র। উদাসীন হিমু একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকের বাঙালি তরুণদের ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
আজ দুপুরে পড়লাম "হিমুর মধ্যদুপুর"। হিমু মানেই আমার কাছে একরকম নেশা — একলা দুপুর, হলুদ পাঞ্জাবি, খালি পা, আর কল্পনার ভিতরে লুকানো বাস্তব মানুষটা।
এই বইটার নামেই একটা গভীরতা আছে — মধ্যদুপুর। দুপুর মানে আলোর সময়, কিন্তু সেই আলোতেই কোনো ছায়া থাকে না। হুমায়ূন আহমেদ যেন ইচ্ছা করেই হিমুকে এমন এক সময়ে দাঁড় করিয়েছেন, যখন সে নিজের ছায়াকেও হারিয়ে ফেলে।
পুরো বইজুড়ে হিমু আগের চেয়ে অনেক শান্ত, অনেক বেশি চিন্তাশীল। সে হাঁটে, মানুষের সঙ্গে কথা বলে, অচেনা ঘটনাগুলোর ভেতরে এক ধরনের সৌন্দর্য খুঁজে বেড়ায়। একটা সময় মনে হয়, হিমু হয়তো নিজের ভেতরের শূন্যতাকে বোঝার চেষ্টা করছে — কিন্তু ভাষা দিয়ে বোঝানো যায় না এমন কিছু অনুভব তার মধ্যে ত���রি হয়।
রুপা এই বইয়েও আছে, তবে আগের মতো নয়। রুপা এখানে যেন বাস্তব জীবনের প্রতিনিধি — যে ভালোবাসে, আবার ভয়ও পায়। হিমুর প্রতি রুপার টান আছে, কিন্তু সে হিমুর মতো ভাসতে পারে না। তাই তাদের সম্পর্কটা যেন সবসময় অদেখা একটা দুপুরে আটকে থাকে — না সকাল, না বিকেল।
বইটার কিছু জায়গায় হিমুর কথাগুলো বুক কাঁপিয়ে দেয়। যেমন, যখন সে বলে —
“মানুষকে বোঝা যায় না, শুধু অনুভব করা যায়।” বা, “আমি খালি পায়ে হাঁটি, কারণ আমি মাটির গন্ধ জানতে চাই।”
এই লাইনগুলো হিমুর মতো সহজ, কিন্তু ভিতরে বিশাল গভীরতা আছে।
পুরো বইটা পড়তে পড়তে মনে হলো — হিমু আর গল্পের চরিত্র না, সে আমাদের ভেতরের সেই অংশটা, যেটা সমাজের নিয়ম মানে না, তবু মানুষকে ভালোবাসে নিঃস্বার্থভাবে। সে হয়তো পাগল, কিন্তু তার পাগলামির ভেতরেই এক ধরনের নির্মল সত্যি লুকানো।
শেষ করার আগে একটা কথা— ‘হিমুর মধ্যদুপুর’ হয়তো হিমু সিরিজের সবচেয়ে শান্ত, সবচেয়ে দার্শনিক উপন্যাস। এখানে প্রেম আছে, কষ্ট আছে, আর আছে এক ধরনের অদ্ভুত স্বচ্ছতা — যেমন দুপুরের আলো, চোখে লাগে, তবু সুন্দর লাগে।
হিমু যদি সত্যিই কোনোদিন পাশে এসে বসত, আমি শুধু জিজ্ঞেস করতাম —
"ঘুম যেমন ভয়াবহ কিছু না, মৃত্যুও না। বরং ঘুমের চেয়ে ভালো! ঘুম এক সময় ভাঙে, বাস্তবের পৃথিবীতে ফিরে আসতে হয়। গরম, ঘাম, পেটে ব্যথা, ক্ষুধা, বাথরুম নামক অসুবিধায় বাস করতে হয়। মৃত্যুতে এই সমস্যা নেই। তাঁর(আবু হেনা) একটাই সমস্যা— মৃত্যুর পর বইগুলো সঙ্গে থাকবে না।"
ডায়ালাইসিসের রোগী, অসুস্থ একজন মানুষ আবু হেনার জন্য মাজেদা খালা হুট করেই একটা কিডনি চেয়ে বসেন এবং তার এই অদ্ভুত আবদার পূরণ করতেই সে আবু হেনা (পল্টু) নামের লোকটার কাছে যায়। বা বলা যায়, হিমুর আশ্চর্য জগতে আবির্ভূত হন আবু হেনা নামের একজন স্ত্রী-সংসার বিচ্ছিন্ন জ্ঞানসাধকের। যার সাথে হিমুর অনেক মিল, তফাত অতি সামান্য। আবু হেনা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তার বই পড়ার নেশা অনেক প্রবল। হিমুর মনোজগত রোগশোক জ্ঞানস্পৃহার উর্ধ্বে। আবু হেনার চেয়েও অতিনাটকীয় ভাবে রঙ্গমঞ্চে উপস্থিত হয় রানু। হুট করেই চলে আসে আরও অসংখ্য চরিত্র। এই উপন্যাসটা আমার বেশি পছন্দ হয়েছে। অন্তরে দাগ কেটে যাওয়ার মত সব কাণ্ড ঘটতে থাকে। আর অনেক তীব্র আশাবাদ দিয়ে গল্পটা শেষ হয়। হিমুর একটি কথা দিয়ে লাগাম টানছি, "আনন্দ যজ্ঞে আমাদের সবার নিমন্ত্রণ। কিন্তু আমরা নিমন্ত্রণের কার্ড হারিয়ে ফেলি বলে যেতে পারি না। দূর থেকে অন্যের আনন্দ যজ্ঞ দেখি।" কোথায় হারিয়ে ফেলি সেই কার্ড? কার্ড খোঁজার শ্রেষ্ঠ সময় কিন্তু মধ্যদুপুর। এসময় মানুষের ছায়া পড়ে না। অন্বেষা প্রকাশনী থেকে হুমায়ূন সাহিত্যের পিকিউলিয়ার ক্যারেক্টার, ম্যানমেড মহাপুরুষ হিমুর গল্পসমগ্রের উনিশ নম্বর উপন্যাস হিমুর মধ্যদুপুর প্রথম বাজারে আসে ২০০৯ সালের বইমেলায়। বইটি আপনাকে নিয়ে যাবে অন্যভুবনে। হারিয়ে যাবেন গৃহত্যাগী জোছনার আলোয়।
এই বইটি আসলেই অনেক মজার, এক কথায় অনেক অনেক অনেক বেশি মজার। এখন পর্যন্ত আমি যত গুলো বই পড়েছি, যদিও তার সংখ্যা অতি নগন্য কিন্তু তার মধ্য থেকে এটি পড়েই আমি সবথেকে বেশি মজা পেয়েছি এবং সবচাইতে বেশি হেসেছি। এই বই এ যে বিড়াল নিয়ে একটা ছোট্ট অংশ ছিল যেখানে রবিন্দ্রনাথ কে নিয়ে এক যুবতি বিষয়ক একটি কৌতক ছিল সেটা অনেক বেশি মজার ছিল আর ছিল গাড়ির backview miror এর বাংলা অর্থ বলায় প্রেমিকা যে নিজের প্রেমিক কে 'ভাইয়া' বলে ডেকেছিল সেটা। আসলেই প্রেমিকের ভাগ্যটা অনেক খারাপ ছিল। নিজের প্রেমিকার মুখ থেকে 'ভাইয়া' ডাক শুনতে হয়েছিল, এটাও আবার একটা সত্যি কথা বলার কারণে। আরেকটা ছিল, সেটা হল হিমু যখন সোহাগ ভাই নামক গোন্ডাটাকে ধমকাচ্ছিল আর বলছিল "নষ্ট ছুরি যেন পকেটে না রাখে, নাহলে হটাৎ করে ছুরি খুলে বের হয়ে যাবে এবং পুট করে একটা বিচি কেটে পড়ে যাবে🤣। তখন সবাই আপনাকে ডাকবে এক বিচির🤣 সোহাগ"। আসলেই হুমায়ুন আহমেদ একজন মজার মানুষ। একজন রসিকতা প্রিয় লেখক এবং মানুষ কে অনেক আনন্দ দিতে পারেন।
মাজেদা খালা হিমুকে একটা কিডনি দিতে বললো পল্টু ভাই এর জন্য। হিমু যথারীতি পল্টু ভাই এর বাসায় উপস্থিত হওয়ার পর পল্টু ভাই তাকে ভুল বুঝে। তাকে বাসায় কাজ করার জন্য রেখে দেয়। হিমুও ভুল ভাঙ্গেনি। পল্টু ভাই এর অনেক সম্পদ। সেই সম্পদ নেয়ার জন্য পল্টু ভাই এর চাচা নানান রকমের ফন্দি করে। বলে রাখা ভালো পল্টু ভাই খুবই সহজ সরল যার কাজ শুধু বই পড়া। এদিকে বিপদে পড়ে রানু, তার সাথে হিমুর রাস্তায় দেখা। রানুকে টাকা দিয়ে বিপদ থেকে উদ্ধার করে হিমু। রানুকে একটি চাকরিও জোগাড় করে দেয় হিমু পল্টু ভাই এর বাসায় রাধুনী হিসাবে। সেখানে বাদলের সাথে রানুর সখ্যতা গড়ে উঠে।
হিমুর সিরিজের সবচেয়ে মজার বইগুলোর একটি। হুমায়ূন আহমেদের সেন্স অফ হিউমারের ঝলক আছে বলেতে গেলে পাতায় পাতায়। এত মজার মজার সব সংলাপ! এত ড্রামাটিক সব সিন! বাসে যেতে যেতে কল্লোল ভাইয়ের অডিওবুক শুনছিলাম, একটু পর পর হাসির দমক সামলাতে বেশ বেকায়দায়ই পড়তে হচ্ছিল। দূর থেকে কেউ দেখে নিশ্চয়ই অবাক হয়েছে, এই লোক এমন একা একা হাসছে কেন!