মিতুল চলল বিদেশে, লক্ষ্য উচ্চশিক্ষা। বাবার সঙ্গে শর্ত মেনে, এবার তার চিঠি-চালাচালি। বাবা আর মেয়ের মাঝখানে মহাসাগর, মহাদেশও। দু’জনে দুই প্রজন্মের প্রতিনিধি। স্বভাবতই দু’জনের চিঠিই নিজস্ব প্রজন্মের স্বাক্ষ্য বহন করে। চিঠি যত এগোতে থাকে, একটু একটু করে আত্মপ্রকাশ করে জটিল সম্পর্কের হারানো চাবিকাঠি। মেয়ে বাবাকে অভিযুক্ত করে। অভিযোগের তির ঘুরে যায় সমস্ত বাবা-মায়ের দিকেই। মিতুল কি ফিরে আসবে বাবার কাছে? এক আধুনিকতম প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে, অভিজিৎ তরফদারের সাম্প্রতিক এই উপন্যাসে।
নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে প্রয়াত বিমল কর-এর হাত ধরে ছোটগল্পকার হিসাবে আত্মপ্রকাশ। প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘মহাজাগতিক’(১৯৯৭) সাড়া জাগিয়েছিল। তারপর প্রায় দশ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে লিখে যাওয়া। ‘চতুর্থ হৃদয়’(২০০৬) উপন্যাস প্রকাশের পর বেশ কিছুদিন সাহিত্যের বৃহত্তর অঙ্গন থেকে সরে যাওয়া। ‘আবাস’, ‘বরণ’, ‘তর্পণ’ ইত্যাদি ছোটগল্পের মধ্য দিয়ে আবার ফিরে আসা।‘মহাজাগতিক’ বাংলা আকাদেমি প্রদত্ত পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছে। ‘চতুর্থ হৃদয়’-ও পেয়েছে শ্রেষ্ঠ উপন্যাসের শিরোপা ‘শারদঅর্ঘ্য’। ছোটগল্প ‘শনাক্তকরণ’ স্থান পেয়েছে সাহিত্য অকাদেমির সংকলনে। ‘চালশে’ গল্পটি নির্বাচিত হয়েছে শ্রেষ্ঠ শারদীয় ছোটগল্প হিসাবে।কিন্তু পুরস্কার নয়, তাঁর কোনও ছোটগল্প বা উপন্যাস পড়ে পাঠক যখন বিচলিত হন, আলোড়িত হন অথবা স্তব্ধ হয়ে ভাবতে বসেন, পাঠকের সেই প্রতিক্রিয়াকেই পাথেয় হিসাবে গণ্য করেন লেখক অভিজিৎ তরফদার।
“সত্যি! তোমাকে নিয়ে আর পারা গেল না। পৃথিবী এগিয়ে যাবে। তুমি যেমন, আগের মতোই থেকে যাবে, পাল্টাবে না। ঠিক আছে, তাই সই। তবে একটা কথা। যদি এক্সপেক্ট করো ঘনঘন তোমাকে চিঠি লিখব, তা কিন্তু পারব না। লিখব, যখন সময় পাব”.....
উপন্যাসের শুরুতেই দেখা যায় মিতুকে। মিতুলের লক্ষ্য উচ্চশিক্ষা, তাই মিতুল পারি দিয়েছে বিদেশে। মিতুলের বাবা থাকে কলকাতায়, ফলে মেয়ে আর বাবার মধ্যে কয়েক হাজার মাইলের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। বাবা ও মেয়ের মধ্যে যোগসূত্র বলতে গেলে শুধুই চিঠি। মিতুল কতো বুঝিয়েছে বাবা কে তবুও তিনি স্মার্টফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থেকেছেন। মোবাইল-কম্পিউটারের যুগেও হাতে লেখা চিঠি সত্যিই ভাবা যায় না। তবে এই উপন্যাস যতো এগিয়ে চলে বোঝা যায় বাবা ও মেয়ের যোগসূত্র একমাত্র এই চিঠি। এই চিঠিই জিইয়ে রেখেছে বাবা-মেয়ের সম্পর্কের উষ্ণতা। চিঠি যত এগোতে থাকে, একটু একটু করে আত্মপ্রকাশ করে জটিল সম্পর্কের হারানো চাবিকাঠি। মেয়ে বাবাকে অভিযুক্ত করে। অভিযোগের তির ঘুরে যায় সমস্ত বাবা-মায়ের দিকেই। শেষ পর্যন্ত মিতুল কি ফিরে আসবে বাবার কাছে? জানতে হলে অবশ্যই উপন্যাসটি পড়তে হবে!
এই উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ‘শারদীয়া পত্রিকা ১৪৩১’ এ। এরপর ২০২৫ এ বইমেলায় প্রথম বই আকারে প্রকাশিত হয় আনন্দ পাবলিশার্স থেকে। এটাকে উপন্যাস না বলে ছোট নোভেলা বলাই ভালো। তবে বইয়ের দাম অতিরিক্ত বলে মনে হয়েছে, আনন্দ পাবলিশার্স বলে কথা তবুও...... তাই আমার মতো বইপ্রেমীদের পূজাবার্ষিকী গুলো অবশ্যই সংগ্রহ করা উচিৎ! এই গল্পটা আমার মোটামুটি লেগেছে। One Time Read 👍🏻