এই গ্রন্থে সন্নিবিষ্ট হয়েছে তিনটি উপন্যাস: ‘মৃত্যুর নির্মাণ’, ‘অনল অতল’ এবং ‘অতন্দ্র আকাশ’। এক শৈলশহরে বেড়াতে গিয়ে পাহাড় থেকে পড়ে ডা. অনুভব মিত্র মারা যান। প্রশ্ন ওঠে সেই মৃত্যুর কারণ কি হত্যা, আত্মহত্যা না দুর্ঘটনা? তদন্তে নামে ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট চিরায়ু দত্ত। খুঁজতে খুঁজতে চিরায়ু পৌঁছে যায় এমন এক সত্যে যেখানে ডাক্তার অনুভব মিত্রের সঙ্গে সাংবাদিক চিরায়ু দত্ত যেন একাকার হয়ে যায়। এই সত্যসন্ধানের ইতিবৃত্ত নিয়ে রচিত হয়েছে উপন্যাস ‘মৃত্যুর নির্মাণ’। ‘অনল অতল’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র অক্ষরের সমস্যা অন্যরকম। এক জ্যোতিষী তার হাত দেখে এমন এক ভবিষ্যৎবাণী করে যার প্রভাবে জীবনকে নতুন করে দেখতে শুরু করে অক্ষর। একসময় ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে দূর দেশে যাত্রা করে। শুরু হয় আত্মঅন্বেষণ। অক্ষর শেষ পর্যন্ত ফিরে আসে। কিন্তু যে অক্ষর চলে গিয়েছিল আর ফিরে এল যে অক্ষর, দুটি মানুষ কি অভিন্ন? তৃতীয় উপন্যাস ‘অতন্দ্র আকাশ’-এ মেঘলা সদ্য চাকরি খুইয়েছে। স্বামীর থেকে আলাদা মেঘলা যুদ্ধ করছে সন্তানের অধিকারের জন্য। তখনই তার জীবনে আসে এক রহস্যময়ী নারী এবং অতীতের স্মৃতিমাখা এক পুরুষ। নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করে মেঘলা।
নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে প্রয়াত বিমল কর-এর হাত ধরে ছোটগল্পকার হিসাবে আত্মপ্রকাশ। প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘মহাজাগতিক’(১৯৯৭) সাড়া জাগিয়েছিল। তারপর প্রায় দশ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে লিখে যাওয়া। ‘চতুর্থ হৃদয়’(২০০৬) উপন্যাস প্রকাশের পর বেশ কিছুদিন সাহিত্যের বৃহত্তর অঙ্গন থেকে সরে যাওয়া। ‘আবাস’, ‘বরণ’, ‘তর্পণ’ ইত্যাদি ছোটগল্পের মধ্য দিয়ে আবার ফিরে আসা।‘মহাজাগতিক’ বাংলা আকাদেমি প্রদত্ত পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছে। ‘চতুর্থ হৃদয়’-ও পেয়েছে শ্রেষ্ঠ উপন্যাসের শিরোপা ‘শারদঅর্ঘ্য’। ছোটগল্প ‘শনাক্তকরণ’ স্থান পেয়েছে সাহিত্য অকাদেমির সংকলনে। ‘চালশে’ গল্পটি নির্বাচিত হয়েছে শ্রেষ্ঠ শারদীয় ছোটগল্প হিসাবে।কিন্তু পুরস্কার নয়, তাঁর কোনও ছোটগল্প বা উপন্যাস পড়ে পাঠক যখন বিচলিত হন, আলোড়িত হন অথবা স্তব্ধ হয়ে ভাবতে বসেন, পাঠকের সেই প্রতিক্রিয়াকেই পাথেয় হিসাবে গণ্য করেন লেখক অভিজিৎ তরফদার।