অতি সাম্প্রতিক ঘটনার ছায়ায় রচিত দৈত্যের বাগান উপন্যাসটি। এই উপন্যাসের দৈত্য চরিত্রটি এক অতিলোভী, নিষ্ঠুর, শিশুহত্যাকারী, যার বাগান খুঁড়ে পাওয়া গিয়েছিল থরেথরে শিশুদের মৃতদেহ। পুলিশ ইন্সপেক্টর সুনন্দ চ্যাটার্জির কাধে দায়িত্ব এসে পড়ে শহর জুড়ে বেড়ে ওঠা শিশু পাচার তদন্তের। কাকতালীয়ভাবে ঠিক তখনই নিখোঁজ হয় তার পরিবারের ছোট্ট জয়ন্তী, যাকে দত্তক নিয়েছিল নিঃসন্তান দম্পতি আইভি ও অর্চিষ্মান একটি অনাথ আশ্রম, এঞ্জেলসহাউস থেকে। তদন্তচলতে থাকে। এবং ঘটনার প্রতি বাঁকেই অপেক্ষা করে থাকে নতুন নতুন চমক। শেষ পর্যন্ত সুনন্দ গ্রেফতার করে পাচার চক্রের চাঁইকে। কিন্তু সেকি খুবই অচেনা ছিল সুনন্দ চ্যাটার্জির কাছে? জয়ন্তী আবার ফিরে আসে পরিবারে, কিন্তু কীভাবে? চ্যাটার্জি পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যা চারুবালা স্বপ্ন দেখতেন একদিন তাঁর ঘর-বন্দিদশা ঘুচবে। তিনি আবার খোলা আকাশের নীচে দাঁড়াবেন, প্রাতঃভ্রমণকারীদের সঙ্গে গান গাইতে গাইতে হেঁটে যাবেন রাস্তা দিয়ে। পূরণ হয়েছিল কি তাঁর স্বপ্ন? খুব সমকালীন, প্রাসঙ্গিক এবং সামাজিক সমস্যা নিয়ে লেখা উপন্যাসটি পাঠককে টেনে রাখে শেষ পর্যন্ত।
শাশ্বতী নন্দীর জন্ম ৮ আগস্ট, ১৯৬৬।শিক্ষা-দীক্ষা-কর্মকলকাতায়। বিজ্ঞানের স্নাতক। পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনে বিশেষ পদে কর্মরতা। প্রথম উপন্যাস ‘বসন্ত অফুরান’,শারদীয়া সানন্দা, ২০১৪ সালে প্রকাশিত।এছাড়াও ছোটগল্প, ‘বৃষ্টিরগন্ধ’, ‘গোল্ডফিস’, ‘অমলতাস’ (দেশ ও আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত) পাঠক-অভিনন্দিত। প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘স্বপ্নবলাকা’, ২০১০ সালে বেহালা বইমেলায় শহিদ প্রদ্যোৎকুমার স্মৃতিউৎকর্ষ পুরস্কার লাভ করে। প্রশংসিত হয়েছে ২০১৩ সালে প্রকাশিত দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘যখন বৃষ্টি এল’। তাঁর গল্প অবলম্বনে আকাশবাণী কলকাতায় তিনটি নাটক সম্প্রচারিত।