Tetul Bone Jochna by Humayun Ahmed is another popular novel. Doctor Anis is the main character of these stories. His appointment in Biratnagar. He became very popular in this village people for his treatment. Everybody loves him. He cannot take any money for his treatment. Naboni is Anis’ wife who lives with his father. Noboni is the only daughter of his father. This is the full story about different events of the Biratnagar village.
Moti Miya is another character of this story. Moti Miya is a professional thief. To read the full book, he finds another character who is an Imam. Suddenly he hangs from a tamarind tree. Why was he hanged? What is the backstory of this event? This is a good part of this story.
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
“ডাক্তার সাহেব, তুমি আমার জন্য দু'ফোঁটা চোখের জল ফেলছ, তার প্রতিদানে আমি তোমার জন্য 'জনম জনম ধরে কাঁদিব’।”
গল্পের পটভুমই সেই সময়ের গ্রামের যখন মোবাইল ফোন কারো হাতে ছিলো না। হয়ত শহরে দুই একজনের হাতে ছিলো। বাকিরা মোবাইল ফোন চিনতো না। সেই সমাজে ছিলো আত্মিক সম্পর্ক, ছিলো কুসংস্কার। এই সকল গ্রামিণ প্রেক্ষাপট নিয়েই “তেতুল বনে জোছনা”।
সেই সাথে ছিলো ডাক্তার আনিস আর নবনীর প্রেম। কেউ একবারও বললো না ‘ভালোবাসি’। অথচ সেই না বলার মধ্যে কত কথা! এই কাজটা লেখক খুব চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলেন তার প্রায় সব চরিত্রে।
ডাক্তার সাহেব,তুমি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছ,তার প্রতিদানে আমি "জনম জনম কাঁদিব
আমি দুই-তিন বছর অন্তর অন্তর চাইল্ডহুড ফেবারিটগুলো রিরিড দিই।সেই ধারাবাহিকতায় আমার ১৪/১৫ বছর বয়সের আবেগমাখা এই বইটি আজ খুললাম। প্রথমবার যখন পড়েছিলাম তখন নবনী আর আনিসের মনের অব্যক্ত কথাগুলোই আমার একমাত্র কৌতুহলের বিষয় ছিল।যত দিন যায় কিছু বইয়ের মিনিং বদলাতে শুরু করে।বইটি যে এক গ্রাম্য পলিটিক্স এবং পাওয়ার ব্যাটেল এর একটি সুন্দর নিদর্শন তা সবাই স্বীকার করবে।এবার আসি গল্পের দিকে। শহুরে ছেলে আনিস বিরাটনগর গ্রামে ডাক্তারি করতে আসে।ভালো ডাক্তার হিসেবে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়লেও তার ব্যক্তিগত জীবন একটু ভিন্ন।চুপচাপ এই মানুষটা তার স্ত্রী নবনীকে বুঝতে পারে না।সংসারটা টিকবে কিনা তাও পুরো বই জুড়ে বোঝা না গেলেও লাস্ট পেজে একদম চমৎকার একটি উক্তির মাধ্যমে বইটার জৌলুস বাড়িয়ে দিয়েছেন হুমায়ূন সাহেব। জহির খাঁর চরিত্র খুব সুন্দরকরে বুঁনেছেন লেখক।বেশ কয়েকটা মৃত্যুতে তার সংযোগ ছিল।অন্যদিকে মতি এইখানে একটা ম্যোরালি গ্রে চরিত্র।খারাপ মানুষের মনেও যে মায়া থাকতে পারে মতি তার প্রমাণ। ছোট বই,পড়তে বেশি সময় লাগবে না।কিন্তু এর রেশ অনেকক্ষন আপনার সাথে থাকবে।
হুমায়ূন আহমেদের প্রেমের উপন্যাস নিয়ে যাদের ধারণা আছে, তাদের কাছে খুব একটা আলাদা লাগবে এমন না। ক্যারেকটার সবগুলোই সেই একই ছাঁচেই গড়া কিন্তু গেইমচেঞ্জার হচ্ছে একদম শেষের চিঠিটা। অসম্ভব সুন্দর একটা চিঠি। উপন্যাসটা আরো বড়ো হতে পারতো, গভীর হতে পারতো। প্লটটা সুন্দর, চমৎকার একটা আবহ তৈরি হয়ে হয়েছিলো। এবং এন্ডিং টাও। তবুও নবনী আর আনিসের আরেকটু কথাবার্তা থাকতে পারতো। এইজন্য আফসোস লাগছে।
কিছু কিছু বইয়ের ভালো লাগা প্রকাশ করতে নেই।পুষিয়ে রাখতে হয় নিজের ভিতরে।কেননা সব ভালো লাগা দু চার লাইন লিখে বোঝানো সম্ভব না,এটি নিজের অস্তিত্বের কতটুকু জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।কিভাবে গেঁথে গিয়েছে মনের ভেতর।হুমায়ূন আহমেদের "তেতুল বনে জোছনা",আমার পড়া ঠিক তেমনি এক উপন্যাস।
ধারণা থেকে বলা যায়,হুমায়ূন প্রেমীরা সকলেই পড়ে ফেলেছেন। যদি কারো পড়া না হয়ে থাকে,তবে বাজি ধরে বলতে পারি, তারা পাঠক হিসেবে অনেক বড় পাওনা থেকে বঞ্চিত।
'কাউকে খুব ভালোবাসি'।এই অনুভূতি প্রকাশ করতে হয় কিভাবে ? -সারাজীবন পাশাপাশি থেকে? -তেতুল বনে জোছনাকে সাক্ষী রেখে ভালোবাসার দিব্যি দিয়ে? ---নাকি,সাতসাগর তেরো নদী'র পাড়ে বসে বলা 'দু ফোটা চোখের জলের বিনিময়ে জনম জনম কাঁদিব',এমন স্বীকারোক্তিতেও লুকিয়ে থাকে অব্যক্ত ভালোবাসা???
এর উত্তর গল্পের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ লিখে রেখে গেছেন এ উপন্যাসে।চিত্র এঁকেছেন দুই প্রান্তের দু হৃদয়ের ভালোবাসার।পাশাপাশি থেকেও কাছে না পাবার ব্যাথা,দুরে থেকেও দুরে সরে যেতে না পারার কষ্ট একই সাথে আগলে রেখেছে যাদের। না বলা কথাগুলো প্রিয়জনকে বলা হয়ে উঠেনা কোনোদিন।তবুও তারা একজীবন নিঃসঙ্গতার মাঝে সামান্য ভালোবাসা পাবার কাঙ্গাল হয়ে বেচে থাকে আজন্মকাল।
শুধুমাত্র গল্পের মুখ্য দুই চরিত্র নয়, অন্যান্য চরিত্রায়নে বাস্তবতা ও আবেগ আচড় কেটেছে সুনিপুণ ভাবে।সেখানে দেখতে পাওয়া যায়, ছ্যাচকা চোরের মাঝেও যেমন উদারতার বিশাল উদাহরণ।তেমনি প্রভাবশালী ব্যক্তির ক্ষমতাবলের অপব্যবহার।নিজেকে ঠিকিয়ে রাখার যুদ্ধ যার জীবন।
উপন্যাসের সকল চরিত্র ফুটে উঠেছে আপন স্বত্তায়।সর্বোপরি অনন্য বৈচিত্র্য দিয়ে সাজানো এর পট। . . কাহিনী সংক্ষেপ:: বিরাট নগর গ্রাম।নামের সাথে মিল রেখে গায়ের ছোট ঘটনাগুলিও ছড়িয়ে পরে বড় করে।আর সেসব ঘটনা ঘটা থেকে রটার পিছনে থাকে চেয়ারম্যান জহির খাঁ'র ইশারা।ক্ষমতাবান লোকেরা তাদের ক্ষমতা দেখাতে পছন্দ করেন।তিনিও ব্যক্তিক্রম নন।কিন্তু সমস্যা বেধেছে অন্যখানে।লোকমুখে শোনা যাচ্ছে আজিজ মিয়া নাকি তার সাথে পাল্লা দিতে নেমেছে।অথচ সেদিনই তো অন্যের দেয়া টাকায় চলতে হতো তাকে।আজ হাতে কয়েকটা টাকা আসায় পুরোনো সব ভুলে গেলো।জহির খাঁ'র মতো ধুরন্ধর লোকের সাথে লাগার আগে কি তার একবারেও বিষয়টি ভালোভাবে ভেবে দেখা উচিত ছিলনা?
গল্পের নায়িকা নবনী অনেক ভেবেও সিদ্ধান্ত নিতে পারছেনা তার কি করা উচিত ? অনেক কঠিন সময় পাড়ি দিচ্ছে সে।প্রতিরাতে ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন তার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দেয়।কাউকে না জানিয়ে সে সাইক্রিয়াটিস্ট এর সাথে কথা বলেছে এ বিষয়ে।তিনি বলেছেন স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে আলাদা থাকলেই তার সমস্যা কেটে যাবে।
নবনীর স্বামী আনিস পেশায় ডাক্তার। শহর থেকে পাশ করে এখন গ্রামে ডাক্তারি করছে।গ্রামের লোকের কাছে তার কদর ভালো।সবাই বলাবলি করে তার সাইকেলের ঘন্টা শুনলেই নাকি রোগ পালিয়ে যায়।যা রটে কিছু তো বটে।তবুও আনিস সাহেব এসব গুজবে কান লাগায় না।নিজের মতো করে চলতে থাকে,আর পাড়ি দিয়ে চলে একেরপর এক নিষঙ্গ দিন।এই অজপড়া গায়ে যে কেউ তার খোজ রাখেনা,তা কিন্তু নয়।মতি মিয়া নিয়মিত তাকে চুপিচুপি দেখে যায়।কোনো অজানা কারনে এই একা ডাক্তারকেকে তার খুব ভালো লাগে।
মতি মিয়া পেশায় চোর।কিন্তু শৌখিনতা প্রবল।কিছুদিন থেকে জ্বরের ওষুধ বানানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সফল হচ্ছেনা।ডাক্তারের পরামর্শের সুযোগ খুজছে সে। সারাদিন চুরি করে সন্ধায় অন্ধকারে বসা ডাক্তার কে দেখে দিন পার হয় তার।এইভাবে গড়িয়ে চলে বিরাট নগরের ছোট দিনগুলি...... . . পাঠ প্রতিক্রিয়া:: যা বলার প্রথমেই বলে ফেলেছি,বাকি যা আছে তা উপন্যাসে।বইয়ের প্রতিটি মুহূর্ত আমাকে মুদ্ধ করেছে।খুব কাছে থেকে অনুভব করেছি দৃশ্যগুলো।ভালোবাসা, মায়া, ভিলেজ পলিটিক্স সব মিলিয়ে অসাধারণ। সাধারণ জীবনের গল্প হলেও অসম্ভব সুন্দর করে ফুটে উঠেছে সেই জীবনের চিত্র।চোরা মতি,নিঃসঙ্গ আনিস,বেখেয়ালি নবনী,ধুরন্ধর জহির খাঁ,সবাই মন ছুঁয়ে গেছে।অবশ্য আমি মতি মিয়ার কাজ কর্মে একটু বেশি মজা পেয়েছি।
সময় করে পড়ে দেখতে পারেন, আশাকরি হতাশ হবেন না।
বর্তমানে নতুন সংস্করনে প্রচ্ছদ পাল্টে গেছে।আমার কাছে নতুনটি একদম ভালো লাগেনি।পুরোনোটার সাথে গল্পের বেশ মিল ছিল।বইটা শেষ করে কভারের দিক তাকালে বুকে হাহাকারের সুর বেজে উঠতো।চোখের সামনে দেখতাম ডাক্তার সাহেবের সেই শশান,পাথড়ে হেলানো সাইকেল, গাঢ় নিষঙ্গতা,যাতে মিশে গেছে তেতুল বনের জোছনা।নতুন প্রচ্ছদে এসব খুজে পাইনি,সেকারনেই নতুনটার উপর নারায।
"ডাক্তার সাহেব, তুমি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলছ-তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব"
"আপু আপনার কাছে কি এই বইটা আছে?"হঠাৎ করেই ফোনের নোটিফিকেশনের দরুন জেগে উঠলাম তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থা থেকে, বস্তাপচা এক অনুবাদ পড়তে যেয়ে ত্যাক্ত হয়ে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম😴 কিন্তু প্রযুক্তির কল্যাণে সমগ্ৰ আকাশ বাতাস যখন যুক্তি করে ঘুম ভাঙ্গানোর তখন কুম্ভকর্ণের ও সাধ্য নেই তন্দ্রা বিলাসের আর আমি তো সাধারণ মনুষ্য !যাক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বইটা দেওয়ার পর চিন্তা করলাম যাই নিজে একটু আত্মার শান্তি করে আবার না হয় এই সাতকাহন নিয়ে বসবো.
কিন্তু ও মা এ কেমন লেখা!এটা কি সেই শব্দের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টিকর্ম?এত খাপছাড়া কাহিনী ,লেখা, চরিত্র বিন্যাস😤নাহ কপালে আমার সত্যিই রাহু দশা চলছে যাই পড়ি তাই দেখি অশান্তি ই দেয় বেশি 😖
কিন্তু ঐ যে শব্দজাদুকর! শেষ পর্যন্ত ঠিকই হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মত মন্ত্রমুগ্ধ করে দিল শেষ পাতায় এসে😊
চরিত্র: গ্রামের চেয়ারম্যান, মতি, জুম্মাঘর এর ইমাম সাহেব,আর এই গল্পের নায়ক গ্রামের ডাক্তার আনিস। যাকে সবাই সাইকেল ডাক্তার নামেই চিনে। তার বউ নবনী। ডাক্তার সাহেবের বাবা - মা, এবং অন্যান্য সদস্য।
মূলকথা:
অনান্য গ্রামের মতই এই গ্রামের চেয়ারম্যান জহির খাঁ। লোভী ও ক্ষমতাবান।গ্রামের সবাই তাকে সম্মান না করলেও ভয় পায়।ভোলাভালা ডাক্তারকে সাহেবকে সবাই মন থেকে ভালবাসে। কোনো রোগীর বাড়ির সামনে গিয়ে তার সাইকেলের ঘণ্টা বাজালেই রোগী শোয়া থেকে উঠে বসে পানি খেতে চায়।গ্রামের চোর মতি।গল্পে নানা মজার কাজে তার আগমন। জুম্মাঘরের ইমাম সাহেবকে মিথ্যা অপবাদ তার মৃত্যু এবং তার মেয়ের গ্রামে এসে তোলপাড় ও ভালবাসা প্রকাশ। নতুন ইমাম নিয়োগ।
ডাক্তার সাহেবের বউ নবনী। সে বুদ্ধিমতি,লাবন্যময়ী,আবেগী। তার গ্রামে আগমন। ডাক্তারের সাথে অন্য রকম ভালবাসার প্রতিযোগিতা। ডাক্তারের বাবা মার খুনসুটি যা পাঠকদের মনে আনন্দ জাগাবে। আর হ্যাঁ সুজাত একটা স্পর্শ চরিত্র। এরপর??? অবশ্যই পড়তে হবে,,, জানতে হলে,,,,, ডাক্তার ও নবনীর সম্পরকের কি দারাল,, বিরাটনগরের কি হল,, মতি এখন কি করছে,,,,,,,,,।
হুমায়ূন আহমেদের লেখা শেষ পড়েছিলাম সম্ভবত হাইস্কুলে। লেখালেখি শুরু করার পরে একটা ভীতি কাজ করত, প্রচলিত হুমায়ূনী ধারা আমাকে যেন গ্রাস না করে। অনেকটা সেই জন্যেই বাদ রেখেছিলাম তার লেখা পড়া।
আদনের অনুরোধের পরে বইটি পড়তে বসি, তবে গল্পটা আমাকে খুব আকৃষ্ট করেনি। গতানুগতিক গল্পেও মূলত লেখকের শৈল্পিক লেখনীর মোহ আমাকে টেনে নিয়ে গেছে শেষ অবধি। তিনি যে প্রান্তিক মানুষের কথাই বেশি বলেছেন সেটাই ফুটিয়ে তুলেছেন আবার। লেখকের নির্মিত নাটক দেখি প্রায়ই। বইটি পড়ে মনে হয়, কেন তিনি সহজে নিজের গল্পের নাট্যরূপ দিতে পারেন। সর্বপরি সাদামাটা চেনা গল্প থেকে শিখেছি অনেক কিছু। সেই শিক্ষা আমাকে কখনো দিয়েছে ইমাম সাহেবের মেয়ে সকিনা, আবার ছিঁচকে চোর মতি ও গল্পের দুই মুখ্যচরিত্র।
বইটি নিয়ে আহামরি কিছু বলার নেই বলে পূর্নাঙ্গ রিভিউ লিখলাম না। তবে PDF পড়ার পরে আমার এক বন্ধুকে এককপি উপহার পাঠালাম। নবনীর চরিত্রর প্রায় সবকিছু তার মাঝে খুঁজে পাই।
এই বইটা যে আজ পর্যন্ত কতোবার পড়েছি! মনে আছে, প্রথম পড়েছিলাম, কিশোরীবেলায়, ঝুঁটি করে স্কুলে যেতাম। একদিন সামিয়ার কাছ থেকে ধার নিয়ে বইটা পড়ে ফেললাম। বইয়ের শেষ অধ্যায়টা পড়ার পরের আনন্দটা এখনো মনে পড়ে। মাঝে কতো বছর গড়ালো। দুই ঝুঁটি খোলা চুলে নেমে এলো। ডাক্তার আনিস, নবনীর সম্পর্কের কথা ভাবতে ভাবতে আমার জীবনে ডাক্তার আনিসের জায়গাটা আর খালি রইলো না। এই এতো বছর পর আবার বইটা পড়ে কী মনে হলো? ঠিক আগের মতোই সাইকেল ডাক্তারকে ভালোবাসলাম, ইমামসাহেবের জন্য চিন্তিত হলাম, মতিমিয়ার কান্ড কারখানায় মজা পেলাম। এ বইয়ের কোন খারাপ চরিত্রকে ও ঠিক ঘৃণা করতে পারলাম না। আর শেষদিকে নবনীর চিঠি পড়ে ভাবছিলাম, আমরা যারা "তেতুল বনে জোছনা" পড়েছি, তারা সবাই কখনো না কখনো কি এমন একটা চিঠির আশায় ছিলাম না?
শুরুর দিকে ভালো লাগছিলো,মাঝ দিক দিয়ে এসে সেই চিরচেনা হুমায়ুন ফ্লেবারে বিরক্ত হচ্ছিলাম,কিন্তু শেষ দিক দিয়ে অচেনা হুমায়ুনের সুবাদে বেশ লেগেছে। যা ওনার উপন্যাসগুলির ক্ষেত্রে খুব কম দেখা যায়–শেষটা জমিয়ে রাখতে পারেন না। এই উপন্যাসে তার ব্যাতিক্রম হওয়াতে ভালোই লাগলো। আজকের পরিবেশ ভালো ছিলো;আকাশ কালো মেঘে ভার,অন্য কোনো বই পড়তে ভালো লাগছিলো না; তাছাড়া ইদানীং নার্ভটা বেশ দূ্র্বল লাগছিলো,তাই এমতাবস্থায় এই বইটা ���িয়ে মুশকিলে পড়তে হয়নি(যা বেশিরভাগ হুমায়ুন বই হাতে নিলেই হয়)। সো,সময় কাটানোর জন্য ভালো একটা বই। একবার করে পড়ে দেখা যায়।
হুমায়ূন আহমেদের সেরা প্রেমের উপন্যাস গুলোর মধ্যে এটা অন্যতম। আহা! কী মায়া আর রহস্য দিয়ে একেকেটা চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন! এভাবে একমাত্র তার পক্ষেই সম্ভব।
“তুমি আমার জন্যে দু’ফোটা চোখের জল ফেলেছ- তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব” কি জানি, এমন সীমাহীন কথার আখ্যান এক লাইনের মাঝে পুরে দিতে হুমায়ুন আহমেদ ছাড়া অন্য কেউ পারতেন কি না। এখন পর্যন্ত পড়া হুমায়ুন আহমেদের সেরা বই!
আমি যখন প্রথম প্রথম হুমায়ূন আহমেদের বই পড়া শুরু করেছি তখন একদিন এক বড়াপু আমায় জিগ্যেস করেন, ফুয়াদ, "তেঁতুল বনে জোছনা" এই বইটা কী পড়েছ? আমি যখন প্রতিউত্তরে না বলি তখন উনি বেশি অবাক হয়ে আমাকে বলেন, এখনো পড়ো নাই!! দ্রুত পড়ে ফেলো। হয়ত বইটা আপুর পার্সোনাল ফেভারিট ছিল। যাইহোক, বইটা অবশেষে পড়ে শেষ করলাম প্রায় দেড় বছর পর। না মানে বই শেষ করতে দেড় বছর লাগে নাই, বইটা পড়া হয়ে উঠছিল না। হুমায়ূন আহমেদের অন্য সব বই, সব মিলিয়ে শ'খানেক পড়া হলেও এটা পড়া হচ্ছিল না৷ যখনই পড়তে যেতাম মনে হতো, এখন না..কয়েকদিন পর পড়ব, এভাবেই অনেকদিন কেটে গেল। তারপর সেদিন সব পিছুটান ঝেড়ে ফেলে পড়া শুরু করে দি।
বইটার বিশেষত্ব বলতে... হুমায়ূন আহমেদের অন্য সামাজিক উপন্যাসের মতনই সবকিছু। ভিন্নতা নাই, নতুনত্ব নাই তবে পড়তে খারাপ লাগে না৷ আগ্রহ নিয়েই পড়ে শেষ করা যায়, এরপর যত্নে আবার বুকশেলফে সাজিয়ে রেখে দিতে হবে। এরপর আল্লাহ মালুম, কখন মন চাইলে যদি পড়া হয়। আমি বলতে চাচ্ছি, বইটা আসলে আত্নার সহিত ডিপ কোন এটাচ্মেন্ট ক্রিয়েট করতে পারে নাই। যেমনটা পেরেছিল হুমায়ূন আহমেদের অচিনপুর, শঙ্খনীল কারাগার, নন্দিত নরকের মতন উপন্যাস গুলা৷ যদিও এটা লোক ভেদে ভিন্নতর হতে পারে।
আমার মতে বইটা হয়ত হুমায়ূন আহমেদের আর দশটা সামাজিক উপন্যাসের মতনই হতে পারত কিন্তু এটা সিপারেটলি একটা ফ্যানবেস ক্রিয়েট করেছে জাস্ট বইটার শেষ একটা লাইন দিয়ে.. "ডাক্তার সাহেব, তুমি আমার জন্য দু'ফোটা চোখের জল ফেলেছ - তার প্রতিদ্বানে আমি " জনম জনম কাঁদিব।" that's it. বইয়ের পিক পয়েন্ট জাস্ট এটাই।হুমায়ূন স্যার এত কান্দাকান্দিকে কেন যে গ্লোরিফাই করত আল্লাহ ভাল জানেন।
আবার ফিরে আসি শুরুতে আমাকে বই সাজেস্ট করেছিল যেই আপুর কথা বললাম, তার প্রসঙ্গে। উনার মতে বইটা খুব আন্ডারেটেড। অথচ আপনি ফেসবুকে নিব্বি মার্কা মেয়েদের প্রোফাইল পিকচারের ক্যাপশনে এই স্পেসিফিক লাইনটা অনায়াসে পেয়ে যাবেন। সেক্ষেত্রে এটাকে আমি পার্সোনালি আন্ডারেটেড বলছি না, আবার "অপেক্ষা" উপন্যাসের মতন অভাররেটেড ও বলছি না। আমার কাছে বিলো মিড লেভেল লেগেছে। নট ব্যাড, বাট নট ম্যাজেস্টিক টাইপ ইদার। এনিওয়ে যার যার pov দিনশেষে।
দুঃখজনক ভাবে এই বইটা আমি আমার জন্মদিনে গিপ্ট হিসাবে পেয়েছিলাম। দুঃখজনক বলছি এই কারণে যে, বইটা আসলে যে আমাকে গিপ্ট করেছিল, আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি তার existence আমার মস্তিষ্ক থেকে মুছে ফেলতে কিন্তু এট দ্যা সেম টাইম, বইটাও যত্নে রেখে দিয়েছি কারণ...IDK.. 🤷♂️
"ডাক্তার সাহেব, তুমি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছ, তাঁর প্রতিদানে আমি তোমার জন্য জনম জনম কাঁদিব।"
শুরুর আলাপ:
বেশ কদিন রিডার্স ব্লকে যখন হাসফাস করছি, হাতের কাছে বই থাকলে অনিহা আর বিরক্তিতে ভ্রুকটি উঁচু করছি তখনই বইমেলা থেকে উপহার পাওয়া 'তেঁতুল বনে জোছনা' হাতে নেই। আমার বলতে বাঁধা নেই, ব্লকে থাকা যেকোনো রিডার্স একটা হুকড ওয়ালা বই শুরু করলে প্রথম ১০/১২ পেইজ হয়তো অস্বস্তিতে কাটে আর তারপর থেকেই শুরু হয় বইটা নিয়ে অধিক আগ্রহ আর উৎকন্ঠার উচ্ছাস। এই বইয়ের বেলায়ও সেইম জিনিসটাই হইছে আমার সাথে। এবার আসি বই প্রসঙ্গে...
যা কিছু নিয়ে:
প্লটটা সত্তর কিংবা আশির দশকের কাছাকাছি সময়কার, যখন মানুষের হাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে এক চিঠি ছাড়া তেমন বিশেষ মাধ্যম ছিল না। গ্রামের মানুষের জীবনচিত্র ছিল খুব সহজ কিংবা সাবলীল। আর গ্রাম্য প্লটে হুমায়ূনের জাদুকরী শব্দচয়নের মুন্সিয়ানা যাঁরা হুমায়ূন পাঠক আছেন তাঁরাই ভালোরকমের উপলব্ধি করতে পারবেন। তো, সেই সময়কালে মানুষের মধ্যে এক ধরনের অতিপ্রাকৃত চিন্তাচেতনার আবির্ভাব ঘটতো কেউ কেউ প্রবল কুসংস্কারে এসেও উপনীত হতো। সে সময়কার একটা টাইমলাইন কিংবা সাধারণ মানুষের জীবনচিত্র, গ্রাম্য রাজনৈতিক খুব সুক্ষভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন গল্পের জাদুকর।
মূলধারায়:
অন্যান্য গ্রামের মতো আমাদের গল্পকারের গ্রামের নাম বিরাটনগর। এই গ্রামের চেয়ারম্যান জহির খাঁ। ক্ষমতার অপব্যাবহারকারী হলেও লোকজন তাকে যথেষ্ট ভয় পায়। প্রধান চরিত্র আনিস, যাকে লোকজন ডাকে সাইকেল ডাক্তার বলে। গ্রামের জুম্মাঘরের ইমামসাহেব ইয়াকুব মোল্লা। চেয়ারম্যানের মিথ্যা অপবাদে যখন লোক সম্মুখে উলঙ্গ করে শাস্তি দেওয়া হয় তখন হতাশায়, দুঃখে জর্জরিত হয়ে সেই রাতেই তেঁতুল গাছের সাথে আ ত্ন হ ত্যা করে। আর তার পর পরই গ্রামজুড়ে শুরু হয় ভুতুড়ে কান্ড কিংবা লোকমুখে শুরু হয় নানারকমের কুসংস্কার! মতি মিয়া, যিনি মাঝে মাঝে চুরি করে আবার অন্যদিকে আনিস ডাক্তারের এপিএস হিসেবেও কাজ করে। এই লোকের যখন টাকার নেশা ওঠে তখন হাতের কাছে যা পায় তা-ই চুরি করে বিক্রি করে দেয়। এরপর আসে আমাদের মূল চরিত্রের সহধর্মিণী 'নবনী'। যে মেয়েটা ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। কাকতালীয় ভাবেই আনিসের সাথে পরিচয় এরপর বিয়ে। তাঁদের মাঝের সম্পর্ক হচ্ছে ভালোবাসাহীন কিংবা একজন আরেকজনকে কাছে না টেনে নেওয়ার মতোন তবুও এক জোড়া চড়ুইয়ের সংসার। ইদানীং নবনী দুঃস্বপ্নের মধ্য দিয়ে দিন-রাত অতিবাহিত করছে যার ফলে একসময় সে শরণাপন্ন হয় সাইক্রিয়াট্রিস্টের কাছে। একসময় গ্রামে আনিসের কাছে আসলে জ্বরে কাতর হয়ে ওঠে নবনী। গ্রামের মানুষের অসুখে-বিসুখে যেকোন পরিস্থিতিতে তাঁদের কাছে পৌছে যায় সাইকেল ডাক্তার খ্যাত আনিস। নবনীর অসুখের বেলায়ও এর ব্যাতয় ঘটে না। তবুও দুইজন দু'জনকে ভালবাসা না বলার মাঝেও যে ভালোবাসা লুকিয়ে আছে তা কতটা গাঢ় আর স্বচ্ছ তা পাঠক মহোদয় পড়া মাত্রই ধরে ফেলতে পারবে।
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
তেঁতুল বনে জোছনা আমার বই পড়ার ফ্লো ফিরিয়ে দিয়েছে তা আমি হলফ করে বলতে পারি। শুরুটা সুন্দর, মাঝখানে কিঞ্চিৎ বিরক্তি আর শেষের দিকটা পুরোই মারাত্মক লেভেলের সুন্দর। এই তিনের আদলে বই বিভাজন করলেও গল্পের মেইন গেইম চেঞ্জার ছিলো নবনীর দেওয়া আনিসের চিঠিটা! আর এই চিঠিটাই বইকে করে তুলেছে অনবদ্য আর উচ্ছাসের। গল্পের অন্যান্য চরিত্ররাও তাঁদের জায়গায় বেশ শক্তপোক্ত ছিল। চেয়ারম্যান জহির খাঁ'র মুখোশ পরে থাকা কিংবা গ্রাম্য অসুস্থ পলিটিক্সে মত্ত হয়ে থাকা। ইমাম সাহেবের আ*ত্ন*হ*ত্যায় গোটা গ্রামবাসীকে অবাক আর বিস্ময় করে দিয়েছিলো।গোটা গ্রাম যখন প্রবল কুসংস্কারে মত্ত তখনই নবনীর সাথে আনিসের অনর্গল কথাবার্তা। পুঁচকে একটা বই যদিও ১৩৫ পেইজের আর এই বইতে কোনকিছুই যেন অতিরঞ্জিত মনে হয়নি আমি নাদান পাঠকের কাছে। চরিত্রের প্রয়োজনে যতটুকু দরকার তার ততটুকুরই সদ্ব্যবহার করেছেন গল্পকার। তবে আনিস আর নবনীর কথাবার্তা যদি আরেকটু তুলে ধরা হতো তাহলে পাঠক হিসেবে আমার ষোলকলা'ই পূর্ণ হতো বোধ করি। তবুও, কম কি তাইনা!
আজকাল আগের মতো বই নিয়ে খুব একটা পাঠপ্রতিক্রিয়া শেয়ার করতে পারিনা। ব্যাস্ততা বাড়লে বুঝি বই পড়াও কমে যায়! কিন্তু আমি তো আজীবন বইয়ের কথা-ই বলে যেতে চাই....
"ডাক্তার সাহেব, তুমি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছো, তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব।" "প্রাণী হিসেবে মানুষ খুবই অদ্ভুত। কোনো প্রাণীই, তার স্বজাতিকে হত্যা করে না। শুধু মানুষ করে।"
"আনিস, পেশায় একজন ডাক্তার। তিনি বিবাহিত হলেও, কর্মস্থানের জন্য বিরাটনগরে থাকেন। বিরাটনগর গ্রামে সাইকেল নিয়ে রোগী দেখতে যায় বলে, গ্রামবাসীদের কাছে সাইকেল ডাক্তার নামেই পরিচিত। ডাক্তারের সাইকেলের শব্দ শোনার সাথে সাথেই, রোগী বিছানায় উঠে বসে বলে, মুরগির সালুন দিয়ে ভাত খামু। গ্রামের সবার কাছেই তিনি প্রিয় ব্যক্তি।
নবনী, আনিসের স্ত্রী। ইউনিভার্সিটিতে পড়েন, কাকতালীয় ভাবেই তাদের পরিচয় এরপর বিয়ে। ইদানীং সে প্রায় রাতেই দুঃস্বপ্ন দেখে। নবনী সিদ্ধান্ত নিলো সাইকিয়াট্রিস্ট কাছে যাবে, এবং নবনী সব কিছু খুলে বলবে। পরে সাইকিয়াট্রিস্ট ধারণা হলো আনিসকে নবনী মেনে নিতে পারছে না, তাই জন্যেই দুঃস্বপ্ন দেখছে।
ইয়াকুব মোল্লা, পেশায় একজন ইমাম। তিনি কোনো অপরাধ না করা স্বত্বেও মিথ্যা অপবাদে চেয়ারম্যান সাহেব উলঙ্গ করে মাঠে চক্কর দেয়া হয়। এই অপমান সহ্য না করে সেই রাতেই তেতুল গাছে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
জহির খাঁ, বিরাটনগরের চেয়ারম্যান, তিনি কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারেন না তার সমতুল্য কেউ হোক। আজিজ মিয়ার ছেলে কুয়েত পাঠিয়ে, বিভিন্ন ব্যবসা করে ভালোই টাকা আয় করেছেন। এটা দেখে তার হিংসা হতো।
মতি, মতি মিয়া মাঝে মাঝে চুরি করে। তিনি আনিস ডাক্তারের এপিএস হিসাবেও থাকেন, মতির যখন টাকা প্রয়োজন হয়, তখনই চুরি করেন, সে মাঝে মাঝে ইস্টিশন পাশে থাকা মর্জিনার কাছেও রাত কাটায়। সে মর্জিনার নাকফুল চুরি করে কুড়ি টাকা বিক্রয় করে উপহার নিয়ে আসেন। এমন কি ডাক্তারের সাইকেলও চুরি করেন।
"তেতুল বনে জোছনা" এমন একটি উপন্যাস যা আপনাকে এমন ভাবে আঁকড়ে ধরবে, শেষ না করা পযন্ত ছাড়বে না। বিশ্বাস না হলে পড়ে দেখতে পারেন?
বইয়ের নামঃ তেতুল বনে জোছনা বইয়ের ধরণঃ সামাজিক উপন্যাস বইয়ের লেখকঃ হুমায়ুন আহমেদ প্রচ্ছদঃ ধ্রুব এষ প্রকাশকালঃ অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০০১ প্রকাশনীঃ অন্যপ্রকাশ পৃষ্ঠাঃ ১৩৬ মূদ্রিত মূল্যঃ ২২৫ টাকা
লেখক পরিচিতিঃ বইটির লেখক হুমায়ুন আহমেদ। এর বেশি আর কিছু লিখছি না। কারণ কিছু কিছু মানুষের পরিচয় তুলে ধরার জন্যে শুধু তাদের নামটাই যথেষ্ঠ!
বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখাঃ মাঝে মাঝে আমার খুব কবিতা লিখতে ইচ্ছা করে। তখন কাগজ কলম নিয়ে বসি এবং খুব আয়োজন করে কবিতার একটা নাম ঠিক করি। ব্যাগ এই পর্যন্তই। কবিতার শিরোনাম লেখা হয় কবিতা আর লেখা হয় না। বুদ্ধিমান পাঠক আশা করি এর মধ্যেই ধরে ফেলেছেন যে “তেতুল বনে জোছনা” আসলে আমার একটা কবিতার নাম। যে কবিতা লেখা হয় নি, এবং কখনো লেখা হবে না। কেউ যদি প্রশ্ন করেন-“এই নামের অর্থ কি? তেতুল বনে জোছনা কি আলাদা কিছু?” তাহলে আমি ব��পদে পড়ে যাব। আসলেইতো এর কোনো অর্থ কি আছে? প্রশ্নটাকে এখন আলোর অর্থ কি? বর্ষার মেঘমালার অর্থ কি ? যে অনন্ত নক্ষত্র বীথি আমাদের ঘিরে রেখেছে তার অর্থ কি> আচ্ছা আমরা কি অর্থহীন একটা জগতে বাস করে জীবনে অর্থ অনুসন্ধান করছি না? কেন করছি?
সার-সংক্ষেপঃ গ্রামের নাম বিরাটনগর। নামের মত এই গ্রামে ঘটে যাওয়া যে কোন ছোট ঘটনাও বেশ বড় আকারে রটায়। গল্পের মূল চরিত্র বলতে আছেন একজন ডাক্তার। নাম আনিস। গ্রামের যেকোন মানুষের রোগে শোকে সে এগিয়ে যায়। গ্রামের মানুষ তাই তাকে বিশ্বাসও করে খুব। অন্যদিকে এই ডাক্তারের কিছু একনিষ্ট ভক্তদের মধ্যে থাকে চোর মতি মিয়া। পেশায় চোর হলেও সে ডাক্তারকে খুব ভালোবাসে। গল্পে আরও একজন চরিত্র আছে। তিনি পেশায় ইমাম। একদিন একটি অদ্ভুত কারণে ইমাম তার বাড়ির পাশের তেতুল গাছে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরবর্তিতে এই আত্মহত্যাকে নিয়েই ঘটে যায় কিছু অদ্ভুত ঘটনা। গুজব রটে, ইমামের আত্মা নাকি রাতে রাস্তা ঘাটে বিচরণ করে আর মানুষদের ভয় দেখায়। অন্যদিকে চেয়ারম্যান জহির খাঁ’র কাছে সুবিচারের জন্য আসে ইমামের মেয়ে। চেয়ারম্যান তাকে আশ্বস্ত করেন। ঢাকা থেকে ডাক্তার আনিসের বৌ নবনী আসে তার একটি কঠিন সিদ্ধান্তের কথা জানাতে। কিন্তু কোনভাবেই যেন সে বলতে পারে না তার মনের কথা। এভাবেই বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে এগিয়ে চলে উপন্যাসের গল্প...
পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ হুমায়ুন আহমেদ স্যারের বইয়ের রিভিউ লেখা বরাবরই আমার কাছে দুঃসাহসের কাজ বলে মনে হয়। নিজে এখনও অতটা বড় হইনি যে তাঁ��� সাহিত্যমান নিয়ে কথা বলতে পারি। তবে একজন পাঠক হিসেবে তাঁর লেখা একটি অসাধারণ বই অন্য পাঠকদের নিকট তুলে ধরার একটি ব্যর্থ প্রয়াস করতে তো ক্ষতি নেই! মূলত গ্রামীন পটভূমীর গল্প হলেও গল্পে চরিত্র খুব সীমিত। এই সীমিত চরিত্রদের নিয়েই তৈরী হয়েছে হুমায়ুন আহমেদ স্যারের অন্যতম সেরা সৃষ্টি “তেতুল বনে জোছনা” উপন্যাস। ২০০১ সালে বের হওয়া বইটিতে তৎকালীন গ্রামীন সমাজের কথা বলা হয়েছে। সেই সমাজে যেমন ছিল মানুষে মানুষে আত্মিক সম্পর্ক, তেমনি ছিল কিছু কুসংষ্কারও। সেই সমাজের মানুষ খুব সরল মনের ছিল। খুব সহজেই অনেক কিছু বিশ্বাস করে ফেলতো। সেই সমাজে ছিল বাল্যবিবাহ, যা তখনও পুরোপুরি বিলীন হয়নি! আর এই সকল দিকই উঠে এসেছে হুমায়ুন আহমেদ স্যারের আলোচ্য উপন্যাসে। আমরা সকলেই জানি, হুমায়ুন স্যারের লেখার স্টাইল সবসময়ই অন্যদের থেকে একটু আলাদা। তাঁর লেখায় থাকে যেমন শুক্ষ্ম রসিকতা আবার থাকে খুব সহজভাষায় অল্পকথায় কঠিন সমালোচনা। আলোচ্য উপন্যাসেও লেখক তৎকালীন কুসংস্কারগুলো নিয়ে বেশ সূক্ষ্ম সমালোচনা করেছেন যা বইটি পড়লে বেশ ভালোভাবেই বোঝা যায়। কিন্তু এতকিছুর মধ্যেও বইটির সবথেকে বড় চমকের জায়গা হলো বইটির ভেতরের ভালোবাসার গল্প। হুমায়ুন স্যার তাঁর নিজস্ব স্টাইলে গ্রামীন গল্পের পাশাপাশি চমৎকার একটি প্রেমের গল্পও তুলে এনেছেন যা পাঠককে মুগ্ধ করতে বাধ্য। এছাড়া আরো কিছু “হুমায়ুনীয় হিউমার”এ ভরা বইটি নিঃসন্দেহে পাঠকের পড়া অন্যতম সেরা বই হয়ে থাকবে। বইয়ের বাহ্যিক দিকটিও বেশ সুন্দর। ধ্রুব এষের অসাধারণ প্রচ্ছদ বইটির সৌন্দর্যতা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে বরাবরের মত বইটির গায়ের মূল্য আবারো আমাকে হতাশ করেছে। ১৩৫ পৃষ্টার বইয়ের দাম ২২৫ টাকা। যা কমিশন দিয়ে ২০০ টাকার কম আসে না। ছাত্রসমাজের অনেকের পক্ষেই যা ব্যয় করা বেশ কঠিন। তবে সর্বোপরি বইটি অসাধারণ। কথা দিচ্ছি, মুখে একটি পরিতৃপ্তির হাসি ফুটে উঠবে যখন গোটা বই শেষে পাঠক পড়বেন সেই বিখ্যাত লাইন দুটি... “ডাক্তার সাহেব, তুমি আমার জন্য দু'ফোঁটা চোখের জল ফেলছ, তার প্রতিদানে আমি তোমার জন্য 'জনম জনম ধরে কাঁদিব’।”
রেটিংঃ দুঃখিত! হুমায়ুন আহমেদ স্যারের বইয়ের রেটিং দেবার ক্ষমতা আমার নেই!
বিরাটনগর গ্রামে ডাক্তার হয়ে আসে তরুণ আনিস।চারদিকে তার নাম ছড়িয়ে পরে।তার সেবায় সুস্থ হয়ে ফিরে আসে মানুষ। আবার গ্রামের প্রতিপত্তিশীল চেয়ারম্যান জহের। সে অন্যায় ভাবে শাস্তি দেয় মসজিদের ইমাম সাহেবকে।এই লজ্জায় তেতুল গাছে ঝুলে আত্নহত্যা করেন ইমাম সাহেব। এর ফায়দা নেয় গ্রাম্য চোর মতি মিয়া।ইমাম সেজে সবাইকে ভয় দেখায়। আনিসের বিয়ে করা বউ নবনী।ধনাঢ্য পরিবারের মেয়ে নবনী। একবার সে ভাবে সে আনিস এর সাথে থাকতে পারবে না।এ কথা গ্রামে এসে জানায়ও তাকে। কিন্তু যখন স্টেশনে আনিস নবনীকে ছাড়তে আসে তখন আনিসের চোখে পানি দেখে নবনী। পরে বাসায় গিয়ে চিঠিতে উপরোক্ত জনম জনম কান্নার কথা জানায়। এ চিঠি পড়ে আনিস শ্মশান ঘাটে শুয়ে নীরবে কান্না করতে থাকে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
"ডাক্তার সাহেব, তুমি আমার জন্যে দু’ফোঁটা চোখের জল ফেলেছ–তার প্রতিদানে আমি ‘জনম জনম কাঁদিব।"
তেতুল বনে জোছনা ঘনিয়ে এসেছে নাকি নিরব রাতেরা মনকে স্বান্তনা দিচ্ছে, ভালো কিছু ভাবাচ্ছে? গল্পটা কিছু ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের। তাঁরা এক হয়ে মিশেছে এক গ্ৰামে। আছে এক ডাক্তার, যাকে সবাই সাইকেল ডাক্তার নামেই চেনে। আর আছে সুযোগ সন্ধানী, নেশাখোর মানুষ যে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজেই আছে। গ্ৰামের চেয়ারম্যানের কথাও আছে। আছেন এক ধর্মপ্রাণ ইমাম সাহেব। গ্ৰামের প্রকৃতির সান্নিধ্যে এখানে অনুভব করা যাবে কিছু জীবনের গল্প। থাকবে কিছু অন্যায়ের চরিত্র, কিছু করুন কথা।
সব মিলেমিশে একাকার হয়ে তেতুল বনে জোছনা নামে। দূর আকাশের তারাগুলো রাতের বেলায় জ্বলতে থাকে নিভৃতেই। এখানে জীবনটা শহরের মতো আধুনিক নয় তবুও সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত রকমের ভালো লাগা কাজ করবে। তাহলে শুরু করা যাক গল্পটা।
মতির বয়স ত্ৰিশ। ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়াশোনা। বিরাটনগরে তার একটা চালাঘর আছে। তবু রাতে সে ঘুমায় নান্দাইল রোড ইষ্টিশনে। একই সঙ্গে সে নানান কাজকর্ম করে, আবার কিছুই করে না। মাঝে মধ্যে কুলির কাজ করে। যাত্রীদের মালামাল নামায়। কিছুদিন গ্রামে এসে থাকে। ঘরামীর কাজ করে। শীতের সিজনে মুড়ি নাড়ু বানিয়ে ট্রেনে করে বিক্রি করতে চলে যায়–গৌরীপুর,মোহনগঞ্জ। কিছুদিন হলো–সে জ্বরের একটা বড়ি বানানোর চেষ্টা করছে। লালু ফকিরের কাছ থেকে ফর্মুলা জোগাড় হয়েছে। ফর্মুলা মতো বড়ি বানিয়ে রোদে শুকাতে দেবার সময় গণ্ডগোলটা হচ্ছে। একটু শুকালেই বড়ি পাউডারের মতো হয়ে যাচ্ছে।
নান্দাইল রোড ৰাজারের একটা মেয়ে মানুষের কাছে তার যাতায়াত আছে। মেয়ে মানুষটার নাম মর্জিনা। এই মেয়ের খাওয়া খাদ্য খুব পছন্দ। সবসময় তার মুখে কিছু না কিছু আছে। মতি ঝড়ে মরে যাওয়া একটা পাখি তাঁর জন্য রান্না করে নিয়ে আসে। মর্জিনা জানতে পেরেছে খাবার পরে।বারান্দা থেকে গজগজ করছে তুই তোকারি করছে। হারামজাদি মরা পাখি শুধু দেখল। মরা পাখির পিছনের ভালোবাসাটা দেখল না? মতি চলে যায়।
বিরাটনগর কমিউনিটি হেলথ কমপ্লেক্সের ডাক্তার সাহেব অতি ভালো মানুষ। অতি সজ্জন। নিজ থেকে আগবাড়িয়ে সবার সঙ্গে কথা বলেন। ডাক্তার হিসেবে এক নম্বরেরও ওপরে। কোনো রোগীর বাড়িতে গিয়ে একবার শুধু যদি সাইকেলের ঘণ্টা দেয় তাহলেই ঘটনা ঘটে যায়। ঘন্টার শব্দ শুনে রুগি বিছানায় উঠে বসে বলে, মুরগির সালুন দিয়ে ভাত খাব। আগের যে দু’জন ডাক্তার ছিল তারা দু’জনই ছিল খচ্চর ধরনের। বর্তমান ডাক্তার সাহেবের নাম আনিসুর রহমান ঠাকুর। মুসলমানের নামের শেষে ঠাকুর থাকবে কেন কে জানে!
মাগড়া খালের পাশে সুন্দর বসার ব্যবস্থা আছে। জনৈক বিধুভুষণ চক্রবর্তীর বানানো গোলাকৃতি ঘর। যে ঘরের মেঝে, শ্বেতপাথরে বাঁধানো। ডাক্তারকে প্রায়শই সেখানে বসে থাকতে দেখা যায়। গ্ৰামের লোক মাঝে মাঝে দেখে ডাক্তারকে পাগলাও ভেবে বসে। স্ত্রী নবনী থাকে ঢাকায়। ইউনিভার্সিটির ছুটি থাকলে মাঝে মাঝে বেড়াতে আসে এখানে। নবনীর কথা আনিসের প্রায়শই মনে পড়ে ওর চিঠি পড়লে।
গ্ৰামের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন খাঁ মানুষটা তেমন সুবিধার নয়। অন্যায় করতে তাঁর তেমন কষ্ট হয় না। তিনি অনায়েসেই করে ফেলতে পারেন। গলা অবধি মদ খেয়ে মাতাল হয়ে থাকেন প্রায় সময়। আনিসকে অবশ্য খাতির করেন। নিজের এক ভাগ্নীর জন্য আনিসকে পাত্র খোঁজার ভার দেন। নবনীর খোঁজখবর ও নেন আনিসের থেকে।
জুম্মাঘরের ইমাম সাহেব মানুষটা বেশ ভালো। আনিসের সাথে দেখা হলেই মিষ্টি করে সালাম দিয়ে কথা বলেন। মানুষটাকে দে���লেই শ্রদ্ধা আসে মনে। এই লোকের মত দু চারটে ভালো মানুষ থাকলে মন্দ নয় আসলেই। যেখানে চেয়ারম্যানের মতো বদ লোক আছে, ইমাম সাহেবদের দরকার সেখানে।
নবনী থাকে ঢাকায়। আনিসের কাছে কালেভদ্রে বেড়াতে যায়। আনিস বিরাটনগর গ্ৰামে ডাক্তার হিসেবে কতটা সম্মান কুড়িয়েছে নবনী বোঝে। নিজের মধ্যে একটা সমস্যা আছে ওঁর। প্রায়শই ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন দেখে। ভীষণ রকম নিজের ইচ্ছায় চলা মেয়ে। কারো মতামত খুব একটা আমলে নেয় না। মাঝে মাঝে তাঁর মনে হয় আনিসকে কী আসলেই সে ভালোবাসে? নবনী এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।
আনিসের জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা এই চরিত্রগুলো সাথে তাঁর বিরাটনগরের কাজ। জীবনের এই সময়গুলো মন্দ যাচ্ছে না। মতির সাথে মাঝে মাঝে দেখা হয়, সে চোরের মত পালায়। চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন খাঁ ইমাম সাহেবের এক ভয়ানক অপরাধ খুঁজে পেয়েছেন, শাস্তিও ভেবেছেন তার চেয়েও ভয়ানক। বেচারা ইমাম সাহেবের কী হবে ভেবে আনিসের মন খারাপ হয়।
নবনী এসেও কেমন যেন ব্যবহার করছে এবার। সে কী এই সম্পর্কের থেকে মুক্তি চায়? আনিস কী নবনীকে ভালো রাখতে পারেনি? তাঁদের মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে নাকি আদৌ ভালোবাসা আছে আনিস বুঝতে পারছে না কী হবে শেষ পরিণতি।
//পাঠ প্রতিক্রিয়া:
হুমায়ূন আহমেদের "তেতুল বনে জোছনা" বইয়ের নাম যদি আনিস রাখা হয় তাহলেও কিন্তু একদিক থেকে ভুল হবে না। কারণ আনিসের জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা চরিত্রগুলো, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ নিয়ে হুমায়ুন আহমেদ যেভাবে কাহিনী এগিয়েছেন তাতে আসলেই মুগ্ধ হতে হয়।
আনিসকে কেন্দ্র করে তাঁর আশেপাশের মানুষগুলোর কথা, বিরাটনগরের কথা তুলে ধরেছেন সাথে আছে নবনীর সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন। কাহিনী বিন্যাস এবং চরিত্রায়ন এই উপন্যাসের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। প্রতিটি চরিত্র আলাদা আলাদা ভাবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে যেমন নেশাখোর, চোর মতিকেও কিছুদিক থেকে পাঠকের পছন্দ হবে তেমনি চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন খাঁ এর অন্যায় তাঁর প্রতি ঘৃণার উদ্রেক ঘটাবে। নবনী এবং আনিসের কথা ভালো লাগবে অন্যরকম ভাবে। একদিকে শঙ্কা থাকবে, অন্যদিকে পাঠকের মন কামনা করবে তাঁদের মিষ্টি মধুর প্রণয়। গল্পটা ঠিক কোনদিকে যাবে জানতে হলে পড়তে হবে একদম শেষ পর্যন্ত।
হুমায়ূন আহমেদের সাবলীল লেখনী স্বস্তি দেয় বরাবর এবং তাই যেন কোনো চেনা গল্পের মতো তরতর করে এগিয়ে চলেছিলাম গল্পে। এবং প্রতিবারের মতো হতাশ হতে হয়নি এই চমৎকার বইটির সাথে। বইটি আমি বলা যায় দুই থেকে তিনবার পড়েছি। মাঝে মাঝে মন খারাপে কাজে দেয় পরিচিত বইয়ের পাতা।