Ravi Shankar (Bengali: রবি শংকর; born Robindro Shaunkor Chowdhury on 7 April 1920), often referred to by the title Pandit, is an Indian musician and composer who plays the plucked string instrument sitar. He has been described as the best known contemporary Indian musician.
In 1956, he began to tour Europe and America playing Indian classical music and increased its popularity there in the 1960s through teaching, performance, and his association with violinist Yehudi Menuhin and George Harrison of The Beatles. Shankar engaged Western music by writing concerti for sitar and orchestra and toured the world in the 1970s and 1980s. From 1986 to 1992 he served as a nominated member of the upper chamber of the Parliament of India. Shankar was awarded India's highest civilian honor, the Bharat Ratna, in 1999, and received three Grammy Awards. He continues to perform in the 2000s, often with his daughter Anoushka.
রবিশঙ্করের 'মাই মিউজিক, মাই লাইফের' নাম শোনা ছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম এটা বোধহয় তারই বঙ্গানুবাদ। যদিও তা নয়। সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে লেখা এ বইতে এসেছে কিংবদন্তী এ বাদকের সুরের জীবন, বেসুরেরও।
রাগ কিংবা তালের বর্ণনা অবশ্য আমার মতো অসুর পাঠকের বোধগম্যতার অনেকটাই উপরে। আরো সত্যি করে বলতে গেলে, প্রায় পুরোটাই। অনেকটা সে কারণেই বোধহয় বারবারই মনে পড়ছিল বাণী বসুর একটা উপন্যাস, গান্ধর্বী'র কথা।
রবিশঙ্করের ব্যক্তিগত জীবনের বেশকিছু অংশের কথা এসেছে, যাকে 'অনুরাগ' অংশে আলাদা করে নেয়া যায়। অকপটে বলা হয়েছে বিবাহপূর্ব এবং পরবর্তী প্রেমের কথাও। আগ্রা, কিংবা জয়পুরী ঘরানা.. এবং দক্ষিণ ভারতীয় সঙ্গীতের ধারা, ধরন এবং চর্চা, প্রথম স্ত্রী অন্নপূর্ণা, দুজনের যুগলবন্দী হয়ে বাজানো এবং যুগল হয়ে ওঠার পেছনের কথা।
পিতৃসম ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, বড়ভাই এবং নৃত্যগুরু উদয়শঙ্কর, খাঁ ঘরানার ওস্তাদ বিলায়েত খাঁ, আমির খাঁ, আলি আকবর খাঁ, আমজাদ আলী খাঁ আশিস আলী খাঁ, আবদুল করিম খাঁ, বড়ে গুলাম আলী,গাঙ্গুবাই হাঙল,আখতারী বাঈ,শচীন দেববমর্ণ, দেবব্রত বিশ্বাস, পণ্ডিত ওংকারনাথ, কানন দেবী, বিরজু মহারাজ, আল্লারাখা, ভীমসেন যোশী থেকে শুরু করে ইহুদী মেনুহীন, জর্জ হ্যারিসন, রোমা রোঁল্যা... বহু বিশ্ববিখ্যাত বহু রথী-মহারথী সঙ্গীতজ্ঞকে নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অভিমত আছে সবিস্তারে।
বইয়ের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং দিক বলিয়ের বলার ভঙ্গি। এরকম মজলিসি ঢঙের কথকের পাঠক হয়ে আরাম আছে। :)
চাল সেদ্ধ হল কীনা সেটা জানার জন্যে তো গোটা হাড়ির ভাত টেপার দরকার হয় না , এক আধটা টিপলেই বোঝা যায় । এ রকমই বাজনারও বাহাদুরি তার সুক্ষ রসোত্তীর্ণ কাজে,তার আবেদনে। তার ঘন্টা মাপা দৈর্ঘ্যে নয়” । একদম খাঁটি কথা । বাবা (আলাউদ্দিন খাঁ ) খুবই বলতেন । সংগীত নিয়ে রবীন্দ্রনাথেরও একই কথা । শাস্ত্রের শুচি বাই,কঠিন বিধি নিষেধ এর প্রতি তিনিও মনযোগী ছিলেন না । শাস্ত্রীয় ব্যাকরণের অস্থি কঙ্কাল এর উপর যেন মাংস মজ্জা যোগ হয়, তা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের সংগীত চিন্তা বিশেষ জায়গা দখল করে আছে । পুরো বইটা মনোযোগ দিয়ে পড়লাম । খুব মজার বই । যার বাজনা শুনতে শুনতে এই আমার মতো অতি ক্ষুদ্র মানুষটিও অনুপ্রানিত হয়েছি এবং সেই আতিশয্যে একদা সেতার হাতে তুলে নিয়েছিলাম , সেই আমি টার কাছে এই লেখার গুরুত্ব অপরিসীম । প্রথমে মনে হয়েছিল, লেখাটি মজলিশী বা বৈঠকি মেজাজের। কিন্তু পুরোটা পড়ার পর , সেটা আর মনে হয়নি। এটা এক ধরনের আত্মকথন, যদিও সেখানে দ্বিতীয় এক জনের অস্তিত্ব বিরাজ করছে, কিন্তু ক্রমাগত প্রশ্নোত্তর না থাকাতে তা একান্তই পণ্ডিত রবিশংকরেরই আত্মকথা হয়ে উঠেছে । বইটা যদিও খুব সরস, কিন্তু সঙ্গীতের অনেক জঠিল বিষয় এর অবতারনা এবং কিংবদন্তির মতো সকল সঙ্গীত স্রষ্টা দের কে পাদপ্রদীপের আলোর নিয়ে আসার প্রবল কারিশমা দেখে , এতই মুগ্ধ চিত্ত হয়েছি যে , এগুলো কে ধাতস্থ করতে অনেক সময় নিয়ে পড়তে হয়েছে । বইতে কিছু মানুষ কে আবার নতুন করে খুঁজে পেলাম, যারা রবিশঙ্কর নামের সাথে অবিচ্ছিন্ন । যেমন সঙ্গীত গুরু আলাউদ্দিন খাঁ সাহেব, তদীয় পুত্র আলি আকবর, পণ্ডিতজীর প্রথমা স্ত্রী অন্নপূর্ণা, উস্তাদ বেলায়েত খাঁ , অগ্রজ বিশ্বখ্যাত নৃত্য প্রতিভা উদয়শঙ্কর, জর্জ হ্যারিসন, দ্বিতীয় স্ত্রী কমলা , মৃদু আলোয় বিচরন করছেন আরও কিছু কিংবদন্তি সম প্রতিভা যেমন শুভলক্ষী, আল্লারাখা,বেগম আখতারী, কেশর বাঈ,হীরা বাঈ, জওহরলাল নেহেরু,কানন দেবী, পাহাড়ি সান্যাল,ইহুদী মেনুইন প্রমুখরা । তাদের কে একসাথে জানা চাট্টিখানি কথা নয় , তাও হল একেবারে সহজ সাবলীল অলঙ্কার বর্জিত বর্ণনা ভঙ্গিতে । আমাদের এ অঞ্চলে , সাধারনত ব্যক্তিগত খোলামেলা স্মৃতিকথা তেমন নেই । লিখতে গেলেও তা খোলনলচে পালটে যায়। মহাপুরুষ হয়ে উঠার একটা নিরন্তর প্রয়াস দেখা যায়। সেটার মূলে সমাজ ব্যবস্থা । আমাদের সামাজিক কাঠামো টা এমন যে, সবকিছু খোলাখুলি বললে,তখন বক্তার সততা কে মূল্য না দিয়ে বরং, পাড়াগাঁয়ের আঙ্গিনার কানাঘুষা টাই বড়ো হয়ে ঊঠে । রবীন্দ্রনাথ জীবন স্মৃতিতে তাঁর সৃষ্টি কর্মের সাথে কহতব্য বিষয় গুলো সু পরিসরে লিখেছেন,কিন্তু তাঁর একান্ত ভাবনা কামনা গুলোকে প্রশ্রয় দেননি, তার একটাই কারন হয়তো বা, যা তিনি তাঁর সৃষ্টি কর্মের আদি থেকেই প্রত্যক্ষ করেছেন – তা হল মানুষ তাঁর উপর কালিমা লেপন করার জন্যে প্রবল ভাবে মুখিয়ে ছিল। শুরুতে তাই রবীন্দ্রনাথের গান প্রকাশ্যে গাইলে তা চরিত্র দোষে দুষ্ট হতো। জীবনানন্দের কবিতা ও আদি রসের অপবাদ থেকে রেহাই পায়নি । এমনকি হালে এক ব্যবসায়ী পন্ডিত ‘কাদম্বরী দেবীর সুইসাইড নোট’ লিখে ক্ষান্ত হয়েছেন,কেউ আবার ব্যবসার খাতিরে বেচারা মৃণালিনী দেবি কে নিয়ে ‘আমি মৃণালিনী’ লিখে মানুষের দৃষ্টি গোচর হতে যার পর নাই চেষ্টা চালিয়েছেন। পন্ডিত রবিশংকর এদেশীয় সমালোচকদের মুখে চুন কালি দিয়ে, তাঁর একান্ত ব্যক্তি জীবনে ঘটমান এবং মানুষের মনে যা নিয়ে ছিল প্রবল অনুসন্দিতসা – তা অকপটে বর্ণনা করেছেন। একজন সৃষ্টিশীল মানুষের জীবন যে জ্যামিতিক সরল রেখায় কখনো যায়না, তার অনুপম সৌন্দর্য, তাঁর ইন্দ্রিয় পরায়নতা , যে প্রকৃতির মতো সাড়া দানে উৎকর্ণ, সেই নজির লেখার পরতে পরতে খুঁজে পেলাম । যা নিতান্তই পাশ্চাত্য ধাঁচের আত্মকথার ষ্টাইল বলে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে । “আমার মনের চাহিদা মনে হয় অশেষ । চেয়েই চলেছি ক্রমান্বয়ে । যেহেতু একটা মানুষের মধ্যে সব কিছু পাই না, তাই অনেকের ভেতর থেকেই টুকরো টুকরো সৌন্দর্য নিয়ে আমার সেই পূর্ণ প্রতিমাটা গড়ে তুলি”... “ প্রেমে পড়া আমার সেই ছেলেবেলা থেকেই একটা রোগের মতন। জন্মই হয়েছে বোধ হয় ঐ নিয়ে”।
উস্তাদ বিলায়েত খাঁ এবং রবিশঙ্কর এই দুই সেতার কিংবদন্তি পুরুষ কে নিয়ে যে একধরনের অস্বস্তিকর গুঞ্জন রীতিমত মীথ হয়ে আছে,তা তিনি সহজে স্পষ্ট করেছেন এবং নিজের মাহাত্ম্য টুকু দৃশ্যমান করেছেন,বিলায়েত খাঁ কে তাঁর মর্যাদার আসনে বসিয়ে। তেমনি সে যুগের যুগন্ধর সব সঙ্গীত প্রতিভা, যারা ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জগতে চির উজ্জ্বল , তাদের সবাইকে তিনি যথার্থ মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন। বেলায়েত খাঁর কথা উল্লেখ গিয়ে বলেছেন - “আমি জানতাম যে আমার আর ওঁর বাজনার পথ আলাদা । লোকে যখন হামেশা আমাদের তুলনা করে মনে একটা জ্বালার সৃষ্টি করতো । সেই জ্বালাকে তুমি যদি জেলাসি বলতে চাও ,বলতে পার ......বিলায়েত যখন আমার অসুখের কথা শুনে বলেছে,রবিশঙ্কর আছে বলেই বিয়ালেত খাঁ আছে,বিলায়েত আছে বলেই রবি শংকর, তখন ওঁর কথার অ্যাঙ্গলটা একটা স্বীকৃতি বোঝায়”। বাবা আলাউদ্দিন খাঁর সম্বন্ধে রয়েছে অপূর্ব সব কাহিনী, কীভাবে প্যারিসের পানশালায় তাঁর কোলে উদোম রমনী বসে পড়েছিলেন, তিনি ‘তউবা তউবা’ করছিলেন । তারপর রবি কে বলছিলেন ‘ রবু , অ্যা রে উইঠ্যা জাইতে কও” অথবা সমুদ্র যাত্রায় মিশরের বন্দরে জাহাজ নোঙ্গর করার পর, গুরু কে দক্ষিনা দেবার মানসে , হুক্কায় আসক্ত বাবাকে পাইপ উপহার দেবার পর ,তাঁর রুদ্র মূর্তি দেখার প্রসঙ্গ, ‘ এটা কী আমার মুখাগ্নি করার জন্যে ‘ বাবার রাগত প্রতিক্রিয়ার সাবলীল বর্ণন��� । তাঁর (বাবার) প্রবল রাগ, অনুরাগ সব উঠে এসেছে উপভোগ্য বর্ণনায় । “ বাবার জীবনের প্রতিষ্টার পেছনে নিছক সংগীত , বুদ্ধি এবং পরিশ্রম ছিল না – এ���টা পাগল করা চরিত্রবল ছিল । মেয়েদের দেখে ওঁর ভেতরে যে কোন শিহরন জাগত না তা হয়তো নয়, সেদিক দিয়ে উনি একজন দৈনন্দিন চেতনানুভুতির মানুষই ছিলেন,কিন্তু স্রেফ সংগীতের জন্য তিনি নিজের এই সব বাসনা, সাধ আহ্লাদ ইত্যাদিকে মেরে মেরে একেবারে একটা আত্মঘাতি নিয়ম নিষ্টার মধ্যে প্রবেশ করেছিলেন ।“ দাদা উদয়শঙ্কর – “ ওঁকে আমি গুরু বলে চিরদিন স্বীকার করে এসেছি ......ভারতীয় নাচে ব্যালের প্রবর্তনের ক্ষেত্রে উনি যে কত বড়ো একজন পথ পদ প্রদর্শকের কাজ করে গেছেন তা বুঝানই মুশকিল । ......অনেকের ভুল ধারনা আছে যে উনি আনা পাভলোভার কাছে নাছ শিখেছিলেন।।এটা খুবই ভুল কথা”। জর্জ হ্যারিসন এর সাথে রবিশংকরের সখ্যতা এক সময় ,অনেক বিতর্কের খোরাক তৈরি করেছিল । রবিশংকর নিজেই যে তা অবগত ছিলেন,তা তাঁর লেখায় স্পষ্ট “দুম করে হঠাত সুপারষ্টারডম পেয়ে গেলাম । সাড়া দুনিয়ার যুব সমাজের কাছে একটা ‘গুরু’ বনে গেলাম রাতারাতি ... যেহেতু অন্যতম বীটল জর্জ হ্যারিসন আমার শিষ্য হয়ে বসল । ...অনেকের ধারনা হল,বিশেষ করে এই দেশে যে, আমিও বুঝি বিটল দেরই একজন হয়ে গেলাম । আমি যেন হিপি এবং ড্রাগ কালচারের মাঝে নিজের সংগীত এবং সত্তা কে জলাঞ্জলি দিলাম । ...তাঁরা তাদের এক দেবতা জর্জ হ্যারিসনের গুরু বলে আমার কাছে ভালবাসা নিয়ে ছুটে এসেছিল ।...এল এস ডি , গাঁজা ,হসিস,মারিজুয়ানা – এসব নেশা করে একটা তুরিয় অবস্থায় পৌঁছে নাকি ভারতীয় সংগীত শোনা উচিত । এই মনোভাবের খোরাক যুগিয়ে ছিলেন টিমথি লেয়ারি,এলান ওয়াটস এবং এলেন গিন্সবাগ ...... বুঝতে পারছ বছরের পর বছর ধরে সবখানেই কীভাবে মেহনত করেছি আমি স্রেফ এদের বোঝাতে যে তাদের এসব ধারনা বদভ্যাস কতখানি ভুল” । অন্নপূর্ণা । গুরু কন্যা ,প্রথমা স্ত্রী । ধর্ম অতখানি বাধা হয়ে দাঁড়ায় নি বাবা আলাউদ্দিন খাঁর কাছে এমনকি ভাই আলি আকবরের কাছে,- যেই আলি আকবরের প প্রতি রবিশংকর আজীবন মুগ্ধ ছিলেন- সে সময়ের কিশোর আলি আকবরও নির্দ্বিধায় সায় দিয়েছিলেন। সেই শ্মশ্রু মন্ডিত , ততকালীন পূর্ববঙ্গের অতি পরহেজগার আলাউদ্দিন খাঁ সাহেবের মতো মানুষের মানসিক উৎকর্ষ সেকালে কেমন ছিল, তা এতেই অনুমিত হয় , যা এই একবিংশ শতকেও মেলে না । বলা যায় বরং আরও অধঃপাতে নেমে গেছে ,প্রতিটা মানুষ হয়ে উঠেছে চরম ফ্যানাটিক্স। পাকিস্থান আমলে এদেশে বাজারে বোরখা কেনা পাওয়া যেতো না। বনেদী ঘরের অপূর্ব সুন্দরী মেয়েরা ছোট এক ফালি ওড়না জড়াত কদাচিৎ। আর এখন সর্বাঙ্গ ঢাকা ,শুধু চোখ দেখা যায় । পুরুষরা এর প্রতিবাদ করেনা উৎসাহিত করে ,অথচ এটা তাদেরই অপমান । যা হোক , অন্নপূর্ণার সাথে এই মধুপায়ী শিল্পীর সম্পর্ক টেকেনি । ‘তুমি যেটা শুনে এসেছ কলকাতায় তোমার জানা শোনা মানুষ এবং বন্ধু বান্ধব দের কাছ থেকে,সেটা হয়তো ঠিক যে ,আমি যতখানি ভালবাসতে পেরেছিলাম অন্নপূর্ণাকে ,তার চেয়ে অনেক বেশী ভালবাসা ও আমায় দিয়েছে’...’কিন্তু ভালবাসার যে রসায়ন টা সেটা হয়তো শেষ পর্যন্ত কাজ করেনি’ । তাঁর কারন বিশ্বাস ভঙ্গ । তারপর জীবনে আসলো কমলা । লিভ টুগেদার ... অথচ এই কমলার প্রতিও আমি বিশ্বাস ভঙ্গের কাজ করেছি । আনফেথফুল আমি নিশ্চয় হয়েছি,কিন্তু আমি তাঁর জন্যে মিথ্যার আশ্রয় নিইনি’ । একান্ত নিজের সামান্য কথা বলে শেষ করব । তাও সেতার নিয়ে । আমি যখন বছর ছয়েক আগে, কলকাতা যাই সেতার কিনতে , তখন আমাকে বলা হয়েছিল, হেমেন কাকু (হেমেন এন্ড সন্স) রবিশংকরের সেতার নির্মাতা । আমি সেই সুবাদে ,হেমেন কাকুর কাছ থেকে একই ধরনের সেতার বানাতে অর্ডার দি। আনন্দ ছিল যে ,এই বিশ্ব সেরা সেতার প্রতিভার কারিগর থেকেই আমি সেতার নিচ্ছি । বইটা পড়ে তা ভুল জানলাম। রবি শংকরের সেতার যিনি বানাতেন, তাঁর নাম নদের চাঁদ মল্লিক - নদু ভাই ।
রবীশঙ্কর নামটি শুনলেই তো সেতারের ঝঙ্কার বাজে তাই না? শিল্পী মানেই তার শিল্প।তবুও তাদের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি আমাদের এক অযাচিত আকর্ষণ কাজ করে।বড় শিল্পীরা এক অর্থে স্রষ্টা বটে নানা শিল্পের, কিন্তু তারা নির্ভুল দেবতা নন।আর কেন যেন আমরা শিল্পীদের শিল্পের মতই তাদেরও নির্ভুল ভাবতে চাই,দেবত্ব আরোপ করতে চাই।ভাবি না একথা যে স্বয়ং দেবতা/স্রষ্টার সব সৃষ্টিও কী ত্রুটির উর্ধে? যখনই দেখা যায় ব্যক্তিজীবনে তারাও সাধারণ মানুষদের মতন আচরণ করেন অনেক ক্ষেত্রে,তারা নির্ভুল নন তখনই যেন এক ধাক্কায় স্বর্গ থেকে মর্ত্যে টেনে এনে তাকে আমরা হেনস্তা করি।অথচ ব্যক্তিগত জীবনের কত আঘাতই যে কখনো সুর,কখনো ঝঙ্কারের রূপে বাজে তার খবর ক'জনই বা রাখেন? বইটি আসলে রবিশঙ্করের মুখ হতে শ্রুত নানা ঘটনার,তাঁর ঘটনাবহুল জীবনের এক বৈঠকী উপস্থাপনা।আবার সঙ্গীতের নানান শাখার ব্যপ্তি,বর্ণনাও রয়েছে যাতে বইটি হয়ে উঠেছে তথ্যবহুল।বিভিন্ন গুনী মানুষদের কথাও রয়েছে।জীবনে সফল হওয়া মানেই দুঃখবেদনার উর্ধেব নয় বরঞ্ছ কখনো কখনো সেই সফলতার জন্য,সেই সাধনার পিছে থাকে এমন অনেক অকল্পনীয় বেদনা যার ফলেই হয়তো পার্থিব জীবনে অপার্থিব সুরের সন্ধান একজন শিল্পী পেয়ে থাকেন। আর এ অপূর্ব সন্ধানের যাত্রার পথে তাঁকে কত ত্যাগ করতে হয় তা আমরা দেখিনা।বড় কিছু পাওয়ার জন্য ছোট কিছু নয় প্রায়ই বড় কিছুই ত্যাগ করতে হয় ।