সে যখন ছোট্ট বিশু, কত প্রশ্নই না বিমূঢ় করে তুলত তাকে। কেন অবিচার, কেন এত দুঃখ-কষ্ট-কান্না, কোন কাজ পাপ— এমন কত-কী । বড় হয়ে সে যখন বিশ্বরূপ সেন, দায়িত্ববান এক পুলিশ অফিসার, তখনও যেন ঘোচে না তার বিমূঢ়তা। থেকে-থেকেই এক চাপা ক্লান্তি, এক প্রগাঢ় বিষাদ। প্রশ্ন ও সংশয়। কেন ? অথচ বিশ্বরূপ অকুতোভয়। জীবনমৃত্যু পায়ের ভৃত্য তার। অপারেশন সুরিন্দর-এর নায়ক। সেই সুরিন্দর, যার কাছে সব সময় এ. কে. ফর্টিসেভেন-এর মতো সফিস্টিকেটেড অস্ত্র, সেই ভয়ংকর উগ্রবাদী নেতা, সপরিবার এক সাংসদকে খুন করে যে পলাতক। তবে? অথচ বিশ্বরূপ দীর্ঘকায়, সুপুরুষ। নিজের কাপুরুষ স্বামীর পাশে মনে মনে তাকে দাঁড় করায় বকুল, তাকায় বীর-পূজারীর চোখে। সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গিনী বন্দনার কাছে সে ‘মিস্টার সেক্স-অ্যাপিল’। তা হলে? এই সময়ের পটভূমিকায় তীব্র গতি ও অনন্যস্বাদ এক উপন্যাস ‘কাপুরুষ’। এই হানাহানির সাম্প্রতিক কুরুক্ষেত্রে এক নতুন অর্জুনের গভীর, গূঢ় কাহিনি।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।
তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।
তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি।
যাকে নিয়ে ভীতি-জাগানিয়া কাহিনি শুরু হয়েছিল, সেটার পাঠ এত জলদিই চুকিয়ে ফেলা হলো কেন কে জানে। বলছিলাম সুরিন্দরের কথা... আরেকটু দীর্ঘায়িত করলে ভালো লাগত।
রহস্য উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত এই গল্পে শবর নেই, তবে আরেকজন চৌকস পুলিশ অফিসার রয়েছেন; যার নাম বিশ্বরূপ। সেকাল-একালের বিশুর যে জীবনবোধ অল্প কথায় তুলে ধরা হয়েছে, তা রীতিমতো ভাববার মতোই।
পৃথিবীর সবচেয়ে বলবান, সাহসী মানুষটাও কাপুরুষ হতে পারে বইকি– অন্যের কাছে, নয়তো নিজের কাছে!
রহস্য সমগ্রে অন্তর্ভুক্ত করেছে অথচ রহস্য-ই ঠিকমতো টের পেলাম না! বাদবাকি সব ঠিক আর শুধু রহস্য নেই বললেই চলে। বিশুর শৈশোরের উপলব্ধিগুলো, শ্যামলের অনিরাপত্তা, বন্দনার ঈর্ষা, বিশুর যৌবনের ‘ Assigned to kill or assigned to be killed' জীবনের অনিশ্চয়তা, বকুলের মুগ্ধতা, ভজনা জ্যোতিষী বা পীতাম্বরের জীবন, সুরেন্দরের বিপ্লব বা সন্ত্রাস – সবকিছুই লেখক দারুণভাবে এনেছেন। কিন্তু…কিন্তু যে রহস্যটা তিনি প্রথম থেকেই শুরু করেছিলেন তার শেষটা এতটা সাদামাটা হয়েছে যে রীতিমতো হতাশ। সুরেন্দরকে নিয়ে এত কাহিনী অথচ তার মৃত্যুর খবর লেখক কি অবহেলা করে বর্ণনা করলেন! সত্যি বলতে, বইটা যে প্লটের উপর লেখা তাতে অনায়াসে আরও অনেক পৃষ্ঠা সংখ্যা যোগ করা যেত। লেখক কেন যেন এত কিপ্টেমি করলেন তা তিনিই জানেন!
I will need more time to get used to this author's writing style.
The story is supposed to be a mystery but I couldn't find anything related to mystery and I totally dislike the fact that the writer likes to describe all the important events in a single sentence whereas spends paragraphs after paragraphs describing things that don't seem necessary for the story.
Like the whole story goes on with an aim to kill Shurendor and the act is explained in a single line- Shurendor died last night in a hotel. That even in a newspaper as a news. No details. How did he die? What happened? How did Bishshorup feel while killing his childhood friend? I want the description, not a one line news in a newspaper.
কাপুরুষ, সুপুরুষ এবং এদুয়ের মাঝে বসবাসকারী মানুষের জীবন চিত্রই ফুটে উঠেছে এ উপন্যাসে।
কাপুরুষ বলতে দুর্বল চিত্তের পুরুষকে বোঝানো হয়েছে।যার অক্ষমতা তাকে ছোট করে রাখে,গুটিয়ে রাখে নিজের তৈরি খোলসে।সে নিজেও যেমন অস্বস্তিতে ভোগে, ঠিক তেমনি একঘেয়েমিতে ফেলে দেয় পাশে থাকা মানুষটিকেও।এ কারনেই হয়তো পাশে থাকা মানুষটিও একসময় কোনো সুপুরুষ কে পাশে পাবার স্বপ্নে ভেলা ভাসিয়ে দেয়।কিন্তু সুপুরুষের স্বপ্নের গল্পটি শুধুমাত্র কল্পনাতে রয়ে যায়।কেননা একসময় সে নিজেই বুঝতে পারে সুপুরুষ দুর থেকে ভালো লাগে।পাশে থেকে নয়।
অন্যসব থ্রিলারের থেকে এটি প্রায় ভিন্নধর্মী। লেখক সুনিপুণ হাতে একই সাথে কিশোরকাল,দৈনন্দিন জীবনের চলতে থাকা ঘটনা,রোমাঞ্চকর পরিবেশের মাধ্যমে থ্রিলার রচনা করেছেন। উপন্যাসের চরিত্রে বাড়তি রূপরস নেই বললেই চলে।জীবনধারার সাধারণ চিত্রই ফুটে উঠেছে উপন্যাসের পেক্ষাপটে।প্রয়োজনের ধারাবাহিকতায় চলতে থাকা তিনটি বগিকে লেখক তুলে এনে জুড়িয়ে দিয়েছেন একটি ট্রেনে। যে ট্রেন নিজে জানেনা তার গন্তব্য কোথায়। . . কাহিনী সংক্ষেপ:: একেকজন সুপুরুষ একেকভাবে তাদের পৌরষত্বের পরিচয় দিয়ে থাকেন।তাহলে পীতাম্বর মিশ্র কি ২৪ বছরের দেহাতি মেয়েকে বিয়ের মাধ্যমে সেটি দিলেন ! এ বিষয়টি অজিতকে যতটা না বিচলিত করলো,তার থেকে বেশি দোটানায় ফেলে দিল মিশ্রজী'র হাতে উগ্রপন্থীদের "একে থারটি সেভেন"।অজিত তার কাছে এসেছিল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া পত্রিকাটি চালু রাখার বিষয়ে পরামর্শ করতে।মিশ্রজীর বদৌলতে আজ এখানে সে চাকুরী করছে।কিন্তু সে যে পরিস্থিতি দেখতে পেল,সে বড় ভাবনার বিষয়।এই ভাবনা কিছুদিনের মধ্যে অন্য দিকে মোড় নিল,ফের যখন সে এ বাড়িতে পা রাখে।গেটে তালা,চাকরদের চাপা উদ্বেগ, মিশ্রজীর মতো বলবান মানুষটিরো চুপসে থাকা।মুখে এক কথা,চোখ বলছে অন্য।এর কারণ কি?বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা অপরিচিত পুরুষটি নয়তো।তাহলে কি ভয়ংকর কিছু ঘটতে যাচ্ছে এ বাড়িতে?
শ্যামল তার ছোট পরিবার নিয়ে দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরছে।ট্রেন লেটের চিন্তায় সে অস্থির।বউয়ের কাছে তার চরিত্রটি কাপুরুয়ের পরিচয়ই বহন করে। তাদের কামরায় উঠেছে আরো একজন ।বিশ্বরূপ সেন ওরফে বিশু।বিশুর নিঃসঙ্গতা, মলিন মুখ,গম্ভীরতা শ্যামলের স্ত্রী বকুলকে কিছুটা নাড়া দেয়।বিশু কি আসলে একা,নাকি এর পেছনে একটি অতীত রয়ে গেছে,যা তখনো অজানা।
শ্যামল এবং তার স্ত্রী'র কাছে বিশু নরম মানুষ হলেও। সে এমনটা নয়।পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে সে কাজ করে।সেখান থেকেই এক ভয়াবহ দায়িত্ব নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা।উগ্রপন্থীদের লিডার সুরিন্দরকে মারার ভার তার উপর।
সেই সুরিন্দর, যার কাছে মিশ্রজী পরাজিত। যার দলের মাত্র দুটি সদস্যের কাছে পুরো কলকাতা দমে গিয়েছিল। তাকে মারতে যাচ্ছে পারবে কি? না,সে নিজেও জানেনা।সে চলছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।যেখানে টিকতে গেলে হয় মারো,নয় মরো'র লড়াই।
এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেও বিশু ফিরে যায় পুরোনো শৈশবে। তার ছোট গ্রাম জগদীশপুরে।যেখানে দাদু ছিল,রুকুদি ছিল,আর ছিল তার ছেলেবেলা।এরমাঝেও বিশু স্বপ্ন দেখে একটি ছোট পিঁপড়ে ধীরেধীরে ধানের ডগা বেয়ে উঠছে, আবার নামছে। . . ব্যক্তিগত মতামত:: প্রত্যেক মানুষের জীবনযাত্রা আলাদা। চাওয়া পাওয়াও ভিন্ন। অভিজ্ঞতাও একেক জনের একেক রকম। আর সেসব চিত্রই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র দিয়ে তুলে ধরেছেন লেখক। প্রথম দিকে কিছু অংশ স্মৃতিময়। মধ্যে কিছু অংশ বোরিং। এরপরে কিছু অংশ দৌড়ের উপর থেকে শেষ করে ফেললাম কাপুরুষ।
কাপুরুষ আমার পড়া 'শীষেন্দু মুখোপাধ্যায়' এর ৩য় থ্রিলার উপন্যাস। এর আগে তার 'বিকেলের মৃত্যু' ও 'কালো বেড়াল সাদা বেড়াল' পড়েছিলাম। এটি অন্য দুটির মতো অনেক বেশি উত্তেজনাপূর্ণ নাহলেও, খারাপ লাগেনি।কোনো চরিত্রকে মহানায়ক না বানিয়ে খুব সাধারণ একটা চিত্রই ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। এক কথায় বললে, আমাদের প্রতিদিনের চেনা সংবাদের ভেতরের গল্পই 'কাপুরুষ'।
বইটা পড়ে ছিল প্রায় বছর তিনেক ধরে। পড়ব পড়ব করে পড়া হয়নি।
আরেকটা কাহিনী হল আমার কাছে যে সংস্করণটা আছে সেইটা আমার জন্মের এক মাস মাত্র পরের। আজ নাড়তে চাড়তে ভাবলাম এই মাসেরই যেহেতু সংস্করণ তাহলে এই মাসেই পড়ে ফেলি।
খুব যে ভাল লেগেছে এমন বলবোনা। খুব খারাপও লাগেনি। সাদা মাটা ভাবে এগিয়েছে। আমি রসহ্য খুজিনি। তাই এক্সপেকটেশন কম ছিল। আমি লেখকের ছোট খাট কিছু কথাতে নিজেকে ভোলাতে চেষ্���া করেছি। সব মিলিয়ে ভাল লেগেছে।
উগ্রপন্থী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দারুণ একটা থ্রিলার ড্রামা। শুরুটা বেশ স্লো, কিন্ত এরপর এর থামাথামি নেই.। বিশ্বরূপ চরিত্র টার উপরে আসলেই মায়া জন্মে গেছে । টুইস্ট টার্ন গুলো ও বেশ উপভোগ্য। তবে একটা প্রচ্ছন্ন Woke থিম ছিল মনে হল, একদম ই অপ্রয়োজনীয় লাগল সেটা।
হয়তো আমি গল্প বুঝিনি। আমার কাছে এলোমেলো লেগেছে। বিশু অর্থৎ বিশ্বরূপের ছোটবেলার চরিত্রকেই একটু ভালো লেগেছে। তাছাড়া বাকি সব এলোমেলো আর তাড়াহুড়ায় গল্প শেষ করা। সুরিন্দরের গল্প তো শুরুই করে নি! অথচ খুব সম্ভবত মূল স্টোরি লাইন সুরিন্দরের গ্রেফতার করা নিয়ে। অথচ বাল্য দুই বন্ধু সেই অন্তিম মূহুর্তে কীভাবে একে অপরের মুখোমুখি দাড়ালো, তার কোনো বর্ণনা লেখক দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। উল্টো সংবাদপত্রের একটা হেডলাইনের মাধ্যমে সে গল্প শেষ করেছেন! তবে শেষটার মাধ্যমে পুরো গল্পটা চক্রের মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। যেভাবে শুরু, ঠিক সেভাবেই শেষ!
কাহিনি-সংক্ষেপঃ শ্যামল বউ-বাচ্চা নিয়ে দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরছে ট্রেনে করে। কলকাতায় বন্ধ থাকায় ট্রেন লেট। ট্রেনেই পরিচয় বিশ্বরূপ সেনের সাথে। সবসময় কি যেন চিন্তা করে সে, চেহারায় ফুটে থাকে মলিন ভাব ও নিঃসঙ্গতা। পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে কাজ করে সে। বর্তমান লক্ষ্য উগ্রপন্থীদের নেতা সুরিন্দর। এককালে দুজন ভাল বন্ধু ছিল। পীতাম্বর মিশ্র এক্স-রাজনীতিবীদ। সত্তুর বছর বয়সেও তার সুঠাম স্বাস্থ্য। সেটা করতেই মনে হয় ২৪ বছর বয়সী এক দেহাতি মেয়ে বিয়ে করেন। ইদানীং তার আগ্রহ কালাশনিকভ অর্থাৎ একে-৪৭ এর প্রতি। অজিত নিউ পাটনা টাইমস্-এর সাংবাদিক। পত্রিকাটা বাঁচানো উদ্দেশেই পীতাম্বর মিশ্রেই নিকট আসা। যদি কোন লেখা লিখে দেন সেই আশায়। প্রতিশ্রুতি পায় সে। কিছুদিন পর যখন আবার সে মিশ্রের সাথে দেখা করতে আসে, বুঝতে পারে, কোখায় কোন ঘাপলা আছে। পীতাম্বর মিশ্র যেন আগের মতো নেই। বিরাট পরিবর্তন। বিশ্বরূপ, শ্যামল, বকুল, অজিত, পীতাম্বর, কিংবা সুরিন্দর---সবাই কি একই সুতোয় গাঁথা? এদের সাথে উগ্রপন্থীদেরই বা কি যোগাযোগ? বিশ্বরূপ কি পাবে সুরিন্দর এর নাগাল?
পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ উপন্যাসের প্রথম অধ্যায় পড়া শুরু করলে, কিছুটা হতাশ হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম একটি বড়দের রহস্য উপন্যাস পড়ব। কিন্তু অধ্যায়টি পড়ে মনে হচ্ছিল, ছোটদের উপন্যাস। ভুল ভাঙ্গে দ্বিতীয় অধ্যায়ে। সাথে সাথে হতাশা দূর হয়ে গিয়েছিল। যার ফলে একটানে উপন্যাসটা শেষ করি। দুঃখের বিষয় হতাশাটা আবার ফিরে আসে। উপন্যাসের সবকিছুই সুন্দর ছিল, শুধু মাত্র ক্লাইম্যাক্সটাই যেন তাড়াহুড়ো করে লেখা হয়েছে। এক লাইনেই ক্লাইম্যাএক্সের বর্ণনা শেষ!!!! এইটা আশা করিনি। তারপর এই উপন্যাস নিয়ে লেখকের মন্তব্য পড়ে মন অনেকটাই শান্ত হয়।
লেখকের মন্তব্যঃ “‘কাপুরুষ’ উপন্যাসটি ঠিক গোয়েন্দাকাহিনি বা রহস্যকাহিনি নয়। তবে হ্যাঁ, উপন্যাসের নায়ক বিশ্বরূপ স্পেশাল ব্রাঞ্চের অফিসার। দিল্লিতে, খালিস্থান আন্দোলনের ফলে যে বিশাল অশান্তি দেখা দিয়েছিল তারই একটি আংশিক ছবি এই উপন্যাসে আছে।.....
উপরের বক্তব্য মেনে যদি উপন্যাস পড়তে বসেন, উপভোগ করবেন। আর যদি অমান্য করে পড়েন, তবুও নিঃসন্দেহে উপভোগ করবেন উপন্যাসের টান ও গতি কারণে। তবে উপন্যাসের শেষটা মন মতো নাও হতে পাবে। পছন্দের কিছু অংশঃ ।। মানুষ কত কী দেখে না! ।। মানুষ তো কেবলই চায়। এটা চায়, সেটা চায়, ওটা চায়। ওই থেকেই মনটা বিগড়োয়। ।। মাঝে মাঝে আমরা ভীষণ কাপুরুষের মতো আচরণ করি। পালাই। হারি। সাকসেস্ স্টোরির চেয়ে আমাদের আনসাকসেস্ স্টোরি অনেক বেশি লম্বা।
ইউ হ্যাভ আ মেলানকলিক ফেস। সবার বিশ্বরুপকে দেখে প্রথমে একথাটাই মনে হয়।
বিশুর জীবনটা অনেক সরল। গ্রামের পিপড়া তার বন্ধু। ক্ষুধাকে পরম মমতায় জড়িয়ে তার জীবন। আপন বলতে আছে এক দাদু। যে দাদু কিনা পরম মমতায় তাকায় থাকে সীমান্তের ওপারে নিজের ফেলে আসা দেশের দিকে। বিশু ওরফে বিশ্বরুপ বড় হয়ে গড়ে উঠে তুখোড় পুলিস অফিসার হিসেবে। তাড়া করে ফিরে ভয়ংকর সন্ত্রাসী সুরিন্দর সিংকে।
এই গল্পটাকে আসলে থ্রিলার কিংবা একশ্যান জনরায় যেমন ফেলা যাবে না ঠিক তেমনি সামাজিক গল্পও বলা যায় না। মিলায় মিশায় যে লেখক কি বানিয়েছেন সেটা লেখকই জানেন। কিন্তু দারুন প্লট আর অসাধারণ প্রেজেন্টেশন। একই সাথে সমাজের বিভিন্ন স্তরের চিন্তাভাবনা আর জীবনদর্শনকে ব্যাপক সুন্দরভাবে তুলে এনেছেন লেখক।
"অ্যাসাইনড টু কিল! নাকি অ্যাসাইনড টু বি কিলড! কে জানে কি। তবে বিশ্বরূপ জানে সে গুপ্তঘাতকের প্রিয় টাগের্ট। কে আগে কাকে গুলিটা চালাবে। ঈশ্বর জানেন কার টিপ আসল মুহূর্তে কতটা নির্ভুল। " its all about choice and time, expectations and reality run with thrills....
"মস্ত মাঠের অগুনতি ঘাসের ডাঁটির একটিতে একটা বোকা পিঁপড়ে ধীরে ধীরে উঠছে। উঠলো, চারদিক বুঝি চেয়ে দেখলো একটু, তারপর ফের নামতে লাগলো। কি মিষ্টি, বোকা, ছোট্ট একটু ঘটনা। পিঁপড়েরা মাঝে মাঝে এমনি মিছেমিছি পরিশ্রম করে।" I loved the way Bishwojit sees the world! So sweet, so innocent, so pure!
দুর্দান্ত একটা লেখা। শীর্ষেন্দু এখানে দেখিয়েছেন সাধারণ বাংলা ভাষায় কিভাবে বাংলার সমাজ নিয়ে থ্রিলার লেখা যায়। খুবই সুন্দর ভাবে গল্পের টানটান উত্তেজনা ধরে রাখা গেছে শেষ অবধি।
একটানে পড়ে ফেলার মতো।সাহিত্যগুণ সম্পর্কে বিচার করতে পারবোনা তবে সুখপাঠ্য।অবশ্য পড়া শেষ করে একধরণের বেদনা অনুভব করতে হয়।রূপকের প্রয়োজনে কিছু আপাত খাপছাড়া সাবপ্লট আছে যা অদরকারি ছিলোনা মোটেই।হলধর ভূত আর জলধর ভূতের পরিণতিহীন লড়াই যেমন সমাজ-রাষ্ট্র-বিশ্বের অভ্যন্তরীণ গোলযোগের অন্তহীনতা আর তার সামগ্রিক অসারতাকেই নির্দেশ করে।জয় নেই,পরাজয় নেই।কেউ হারেনা,কেউ জেতেনা।কেবল লড়াই চলতে থাকে।যে লড়াইয়ের অর্থ যোদ্ধা নিজেই খুঁজে পায়না।তবু লড়াই করতে হয়,করে যায়।কেন,কে জানে?
Didn't expect much when i started reading. Absolutely amazing. I will keep thinking about Bishu's melancholic face, Bakul's amusement, shymal's insecurity