কৃত্তিবাস পণ্ডিতের রামায়ণের পুথি নিয়ে এই থ্রিলার। সেই পুথি খুঁজতে শুরু করে শুভময় ভাদুড়ি। কিন্তু কে খুন করতে চায় তাকে? রাতের অন্ধকারে কারা ঘুরে বেড়ায় ভাঙা মন্দিরে? গুপ্তকক্ষের পুথির পাতায় কীসের সংকেত?
সিজার বাগচী-র জন্ম ১৯৭৭ সালে। দক্ষিণ কলকাতায়। পূর্বপুরুষের বসবাস ছিল অধুনা বাংলাদেশের ময়মনসিংহে। অল্প বয়সে পিতৃহীন। কলেজে পড়ার সময়ে লেখালিখি শুরু। ফিচার, গল্প, প্রবন্ধ, সমালোচনা, চিত্রনাট্য, কথিকা, উপন্যাস। সহজ তরতরে ভাষায় লেখা সব গল্প-উপন্যাসের বিষয়ই আলাদা। এবং তা উঠে আসে রোজকার জীবনযাত্রা থেকে। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের গল্পও লিখছেন নিয়মিত৷ নানা পেশায় যুক্ত থেকেছেন। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার চাকরি করেছেন ‘আনন্দলোক’ পত্রিকায়। বর্তমানে ‘আনন্দমেলা’য় কর্মরত৷ লেখালিখি ছাড়াও বাংলার লোকসংস্কৃতি নিয়ে কাজ করতে ভালবাসেন।
**Spoiler Alert ** শুরু থেকেই গল্পটা দারুণ টানটান ছিল। কিন্তু 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন রহস্য' র মতো এটাতেও সমস্যা আছে। সমস্যাটা মোটিভ নিয়ে। আর সেটা এই গল্পতে ধরা দিয়েছে আরো বেশি। প্রথমত, শুভময়কে এই রহস্যে জড়ানোর মোটিভ কোনভাবেই সন্তুষ্ট করার মতো না। দ্বিতীয়ত, সিদ্ধার্থ কেন পুঁথি আর চিরকুটের মাধ্যমে শুভময়কে নিজের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা দিল সেটাও স্পষ্ট না। অর্থাৎ লেখক মশাই পাঠককে বড়সড় টুইস্ট দিতে গিয়ে যুক্তি আর মোটিভটাকেই দুর্বল করে ফেলেছে।
রহস্য ভালোই ঘনীভূত হয়েছিলো, কিন্তু বড্ড তাড়াহুড়ো করে রহস্যভেদ হলো। কেন শুভময়কে এই রহস্যে জড়ানো হলো আর শুভময়ই বয়া কিকরে সঙ্কেত উদ্ধার করলো - তার উত্তর পাওয়া গেলো না।
তবে বাংলা ও বাঙালীর ইতিহাসের এক গর্বের অথচ বিস্মৃতপ্রায় (আমাদের নিজেদের অবহেলায়) সৃষ্টি ও স্রষ্টাকে নিয়ে লেখার জন্য লেখককে ধন্যবাদ!