এ রকমভাবেও উপন্যাস লেখা হতে পারে বাংলায়? গদ্য নয়, পদ্যের আশ্রয়ে প্রসারিত হয়েছে এ উপন্যাস। যা এ রচনাকে করে তুলেছে অভিনব। অন্যদিকে বিষয়বস্তুও আকর্ষণীয়। গ্রিস এবং অশোকবন এ ওকে নিংড়ে গড়ে তুলেছে নতুন উপনগরী। হোমার এবং বেদব্যাস এবং বাল্মীকি পানপাত্র হাতে লক্ষ করছেন একজন তরুণীকে। কে সেই নারী? এক ক্যাফেটেরিয়ায় বসে যিনি লিখে চলেছেন একটি থিসিস। তিনিই কি গ্রিক সেনাপতির উপপত্নী? না তিনি পালাতে চান চেস্টিটি বেল্ট পরা কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাসের সঙ্গে। এই উপন্যাসে মিথ মিশে গেছে মানুষের আবহমান মেলানকলিয়ায়। এ কোনও দেওর-বউদির গল্প নয়। এখানে তিন মহাদেশ যেন একটা নৌকোর ভেতর জল-সঙ্গমে বিভোর। ছ'টি সর্গে, ছ'টি ক্যানটো-তে বিভক্ত এই উপন্যাস আসলে ছয় ঋতুর এপিসেন্টার, যার আসল নাম ভালবাসা। কী বিষয়ে কী আঙ্গিকে এক নতুন দিককে উন্মোচিত করে এই উপন্যাস।
সুবোধ সরকার-এর জন্ম ২৮ অক্টোবর, ১৯৫৮, কৃষ্ণনগরে। শরণার্থী পরিবারের ছেলে। বাবা মারা যান যখন ক্লাস এইটের ছাত্র। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক, পড়ান সিটি কলেজে। কবিতা পড়তে গিয়েছেন আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, রাশিয়া, তাইওয়ান, ইস্তানবুল। স্ত্রী প্রয়াত কবি মল্লিকা সেনগুপ্তের সঙ্গে সম্পাদনা করেছেন ‘ভাষানগর’ পত্রিকা। সম্পাদনা: দিল্লির সাহিত্য অকাদেমির ইংরেজি জার্নাল ‘ইন্ডিয়ান লিটরেচার।’ পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (২০১৩), বিনোদনশক্তি চট্টোপাধ্যায় পুরস্কার এবং বাংলা আকাদেমির পুরস্কার। এছাড়াও কবিতার জন্য পেয়েছেন সম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গঙ্গাধর মেহের জাতীয় পুরস্কার এবং গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাম্মানিক ডি লিট। ২০১৬তে ফুল ব্রাইট ফেলোশিপ নিয়ে আমেরিকার আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন এবং ৩৩টি দেশের কবি লেখকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক লেখক শিবিরে অংশ নিয়েছেন। পুত্র রোরোকে নিয়ে কলকাতার সিরিটিতে থাকেন। পশ্চিমবঙ্গ কবিতা আকাদেমির তিনি প্রথম সভাপতি।