সময়কেও উলঙ্গ করতে হয়। যদি নিজের সময়ের দাসত্ব না করে একজন লেখক তার সামনে রুখে দাঁড়ান, 'হত্যাবৃত্ত'-র মতো উপন্যাস লেখা হতে পারে। এমন উপন্যাস বাংলা ভাষায় বিরল। এই উপন্যাস বাঙালির এই সময়ের অধঃপতনকে তুলে ধরেছে, কিন্তু এই সময়ের ঐশ্বর্যকে অস্বীকার করেনি। এতখানি সেক্স আর ভায়োলেন্স নিয়ে এর আগে কোনো উপন্যাস হয়তো বাঙালি পাঠকের সামনে আসেনি। বাঙালি পাঠকের রুচির পরোয়া করেননি লেখক। কেবল ভেবেছেন নিজের জাতির বিবেক নিয়ে। আপনার বিবেক জেগে আছে তো?- এই প্রশ্ন বুকে নিয়ে উপন্যাসটা পড়া শুরু করতে পারেন আপনি। পড়া শেষ হলেই সম্ভবত উত্তর পেয়ে যাবেন।
এই বছরে সবচাইতে বেশি অবাক হয়েছি হয়তো এই বইটা পড়ে। বইটা যখন ধরি তখন আহামরি কোনো এক্সপেকটেশন ছিলো না। কিন্তু পড়ার পরে বলতেই হচ্ছে, হ্যাটস অফ অনুপম বাবু!
কথা বলছি অনুপম মুখোপাধ্যায়ের লেখা বই 'হত্যাবৃত্ত' নিয়ে। এইটা একটা রাজনৈতিক মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার জনরার বই। উপন্যাসের শুরু হয় আলেফ আলিকে দিয়ে। আলেফ আলি রূপনগরের প্রথম সারির মাস্তান। হঠাৎ করেই তার পরিচয় হয় রাজকুমার নামের এক যুবকের সাথে। যাকে দেখতে মনীষীর মতো। শুধু দেখতেই নয়, তার কাজকারবারও মনীষীদের মতোই। সে সবার মধ্যে ভালোবাসা ছড়াতে চায়, কোনো খারাপ যেনো তাকে স্পর্শ করতে পারে না। স্কুল কলেজে পড়াশোনা না করেও সব বিষয়েই যেনো তার পান্ডিত্য। রাজকুমারের সাথে পরিচয় হবার পরে আলেফ আলি জানতে পারে যে রাজকুমার যাচ্ছে আলেফেরই বসের কাছে। হ্যাঁ, রাজকুমার এসেছে বিবেকানন্দ বসাকের কাছে। যিনি এই অঞ্চলের নেতা, সর্বেসর্বা। যার কথায় রূপনগরে বাঘে মহিষে এক ঘাটে জল খায়। যার ক্ষমতাতেই আলেফ আলি সারা অঞ্চল দাপিয়ে বেড়ায়। রাজকুমারের বাবা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বিবেকানন্দ বসাকের কাছে পাঠিয়েছেন যেনো সে এবার আর দশটা মানুষের মতো স্বাভাবিক হয়। কিন্তু রাজকুমার রূপনগরে আসার পরে এমন কিছু হয় যা শুধু রাজকুমারকেই নয়, পুরো এলাকাকেই পাগল বানিয়ে ছাড়ে। এই বিশৃঙ্খলা এক পর্যায়ে রাজকুমারকে খুনী বানিয়েই ছাড়ে। কেনো? কি হয়? জানতে হলে অবশ্যই পড়ে ফেলুন চমৎকার বইখানা।
আচ্ছা, একটা কথা অবশ্যই বলা উচিৎ। বইয়ে প্রচুর পরিমাণে ১৮+ কনটেন্ট উপস্থিত। তাই সেইরকম প্রস্তুতি নিয়েই পড়বেন। তবে, বইয়ের যৌনতাকে সাইডে রেখে দার্শনিক তীক্ষ্ণতা আপনার চোখ ধাঁধিয়ে ফেলবে এই বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিন্তে থাকুন। আমি ভাবতেই পারিনি এইভাবে উপন্যাস মোড় নেবে। এক কথায়, অনবদ্য।
সবমিলিয়ে, 'হত্যাবৃত্ত' শুধু একটা উপন্যাস নয়। এইটা যেনো মানব আত্মার ট্রায়াল। এই বই আপনাকে চরম অস্বস্তিতে যেমন ফেলবে, তেমনই কিছু চোখ ধাঁধানো সত্যের সামনে দাঁড় করাবে। শেষে গিয়ে আপনিও মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারেন। হাইলি রেকোমেন্ডেড! অবশ্যই পড়বেন।
বই - হত্যাবৃত্ত লেখক - অনুপম মুখোপাধ্যায় অনুপম মুখোপাধ্যায় প্রকাশনী - তবুও প্রয়াস তবুও প্রয়াস প্রকাশনী মুদ্রিত মূল্য - ৪৫০/-
".....সন্দেহ করুন। সব কিছুকে সন্দেহ করুন। যত বড় ঘটনা, তত বেশি সন্দেহ করুন। জানবেন সবকিছু সাজানো হচ্ছে। সব কিছুই নাটক। স্ক্রিপ্টেড। যে ঘটনা নিয়ে আপনারা তর্ক করছেন, সেটা নাটক। যে ঘটনা নিয়ে কথা বলতেই সাহস পাচ্ছেন না সেটাও নাটক। শাসকরা বোমা ফেলে শহরের পর শহর গুঁড়িয়ে দিতে পারে আর একটু নাটক করে মানুষকে চমকাতে পারবে না? গ্রিক দেবতারা যেমন মানুষকে নিয়ে খেলা করত, জানবেন শাসকরা ঠিক তেমন। সব কিছু স্ক্রিপ্টেড....."
বইমেলার আগে থেকেই বইটা নিয়ে প্রচুর পোস্ট দেখেছি লেখকের, যা স্বাভাবিকভাবেই বইটা কেনার ইচ্ছা বাড়িয়ে দিয়েছিল আমার। অবশেষে বইমেলা গিয়ে যখন প্রথম বইটা হাতে তুলে দেখলাম এবং মলাটের ভিতরের বিষয়বস্তু পড়লাম তখন আর দু'বার ভাবিনি কিনে ফেলতে।
হত্যাবৃত্ত একটি সামাজিক রাজনৈতিক মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার অথবা বর্তমান সমাজের ও সময়ের এক জ্বলন্ত দলিল। এই উপন্যাস গড়ে উঠেছে রূপনগর নামে একটি জায়গায়। রূপনগরের সর্বেসর্বা হলেন শাসকগোষ্ঠীর নেতা বিবেকানন্দ বসাক। তাঁর মেয়ে হলেন সোনিয়া বসাক এবং তাঁর ডান হাত হল আলেফ আলি। এই রূপনগরে এসে উপস্থিত হয় রাজকুমার, যে কিনা সমাজের কাছে পাগল রূপে চিহ্নিত, মনীষী গোছের মানুষ, যে সবাইকে ভালোবাসতে চায়, কোনোকিছুকেই খারাপ ভাবে না, চরম বিশুদ্ধ একটা চরিত্র। এই রাজকুমার স্কুল কলেজে পড়াশোনা করতে পারেনি কিন্তু তার বিশাল জ্ঞান সব বিষয়ে, তার নিজের বাবা তাকে বাড়ি থেকে বার করে দিয়ে বিবেকানন্দ বসাকের কাছে পাঠিয়েছেন যাতে সে রাজকুমারকে মানুষ করতে পারে। রাজকুমার রূপনগরে আসার পর থেকে একের পর এক বিভিন্ন ঘটনা ঘটে রূপনগরে যা রাজকুমারকে মানুষ করে নাকি আরো পাগল বানিয়ে দেয় তা জানার জন্য পড়তে হবে বইটা।
উপন্যাসটি লেখক POV আকারে লিখেছেন, অর্থাৎ প্রত্যেক চরিত্রের আঙ্গিক ধরে ধরে আমরা একটু একটু করে গল্প তে ঢুকছি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই ধরণের লেখায় POV গুলোর সংযোগ মেলানো মুশকিল হয়ে যায় কিন্তু এখানে সেটা একেবারেই হয়নি যা দক্ষ লেখনশৈলীর পরিচয় দেয়। এছাড়া প্রত্যেকটি POV তে লেখক আলাদারকম ভাষা ব্যবহার করেছেন, অর্থাৎ আলেফ আলি একজন মস্তান তার ভাষা যা হবে সোনিয়া বসাকের ভাষা তা হবে না, আবার সোনিয়ার যা ভাষা হবে রাজকুমারের ভাষা তা হবে না। ফলে প্রত্যেকের POV এর ভাষা তাদের চরিত্র অনুযায়ী রাখা হয়েছে যা পাঠককে ভীষণভাবে চরিত্রের সঙ্গে আত্মিক হতে সাহায্য করে। এটাও দক্ষ কলমের পরিচয়।
উপন্যাসটি বর্তমান সময়কে, সমাজকে ও যৌনতাকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে দেখাতে সক্ষম হয়। কোনো রাখঢাক না রেখে, প্রচুর শক্ত শক্ত শব্দ ব্যবহার না করে, মারাত্মক রকমের ভাষার অলংকরণ না করেই একদম সোজাসুজিভাবে লেখক এগুলি লিখেছেন, যা লেখকের অদম্য সাহসের পরিচয় দেয় এবং আজকালকার যুগের মানুষের কাছে আরো বেশি করে পৌঁছে দেয়। বর্তমানে যেখানে সোশ্যাল মিডিয়াতে একটা জোক বললেও মানুষ গ্রেফতার হয়ে যাচ্ছেন সেখানে এই বই লেখার কথা ভাবাটাও প্রশংসার দাবী রাখে। বইটা বসিরহাট ও ধূলাগড় এর মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতেও সক্ষম বলে আমার মনে হয়।
সোনিয়া বসাকের মতো একটা চরিত্রকে সৃষ্টি করার জন্য লেখককে হ্যাটস অফ। ইংরেজি সাহিত্যতেও কুইয়ার সাহিত্যের মধ্যে বাইসেক্সুয়ালিটি বা উভকামীতা নিয়ে কাজ সবচেয়ে কম। সেখানে খোদ বাংলা সাহিত্যে দাঁড়িয়ে, যেখানে কুইয়ার সাহিত্য প্রায় নেই বললেই চলে সেখানে লেখক সোনিয়ার মতো গর্বিত উভকামী একটা চরিত্র তৈরী করেছেন এটা যে কি অসম্ভব ভালো একটা পদক্ষেপ তা বলে শেষ করা যাবে না। আর শুধু এটার জন্যই নয়, সোনিয়া বসাকের চরিত্র কোনো রাখ ঢাক ছাড়াই নিজের যৌন চাহিদার কথা বলে। যা বেশ কিছু প্রাচীনপন্থী মানুষের নাক সিটকানোর কারণ হবে কারণ মেয়েদের নাকি যৌন চাহিদা থাকতে নেই, সেসব কথা বলতে নেই। যাই হোক, আমার কিন্তু সোনিয়া বসাকের মতো চরিত্র অনেকদিন মনে থেকে যাবে। হয়তো সবক্ষেত্রে আমি এই চরিত্রের ভাবনার সাথে সহমত নই, কিন্তু এমন একটা শক্তিশালী সৃষ্টির প্রশংসা আমি সবসময় করব।
কেউ যদি দস্তভয়েস্কির ইডিয়ট পড়ে থাকেন তাহলে জানবেন যে উনি সেটা লিখেছিলেন এই ভেবে যে যদি যীশু খ্রিস্ট আজকের যুগে পৃথিবীতে আসতেন তাহলে কি উনি বিশুদ্ধ ও পবিত্র থাকতে পারতেন? সেই ভাবনা থেকেই মিশকিন নামক চরিত্রের সৃষ্টি এবং শেষে আমরা দেখি সে পবিত্র থাকতে পারে না কালিমালিপ্ত হয়। হত্যাবৃত্ততেও রাজকুমার কালিমালিপ্ত হয়, কারণ তার পবিত্র, ইনোসেন্ট বিশ্বাস ভেঙে গুঁড়িয়ে চুরমার হয়ে যায় বারবার। এই সমাজে সবাইকে যে ভালোবাসা যায় না তা সে বারংবার বিভিন্ন ঘটনায় বুঝতে থাকে।
উপন্যাসটি সবদিক থেকে ভীষণ ভালো লাগলেও চাঁদের গায়েও যেরকম সামান্য কালিমা থাকে সেরকমই এই উপন্যাসেও আছে। মূল উপন্যাস শেষ হয়ে যায় ২১৮ পৃষ্ঠায়। তারপর শুরু হয় রাজকুমারের লেখা উপন্যাসিকা যা ৩০টা গল্পে বিভক্ত। এই পুরো উপন্যাসিকাটি একটি ননসেন্স সাহিত্য, যেখানে রূপকের সাহায্যে চরম বাস্তব কিছু বলা হচ্ছে, রূপক ধরতে পারলে কেল্লা ফতে আর যদি না পারেন তাহলে কিছুই বুঝতে পারবেন না। মূল উপন্যাসে এতবার এই রাজকুমারের উপন্যাসিকা লেখার কথা আছে যে স্বাভাবিকভাবেই পাঠক হিসেবে আপনি ভাববেন এই উপন্যাসিকার সঙ্গে মূল উপন্যাসের মারাত্মক রকমের যোগ থাকবে, কিন্তু আদতে কোনো যোগ নেই। বরং ওই ৩০টা গল্প চূড়ান্ত ধীর গতির, এবং অস্পষ্ট। আমার মনে হয়েছে মূল উপন্যাস একদম যথাযথভাবে শেষ হয় ২১৮ পৃষ্ঠায়। তারপর আর রাজকুমারের উপন্যাসিকা "পাগলপুর" রাখার কোনো দরকার ছিল না বরং ওটার উপর লেখক আরো কাজ করে পরে একটি আলাদা বই হিসেবে বার করতে পারতেন। তবে অনেকের হয়তো এই অংশটাও ভালো লাগবে, আমার লাগেনি।
উপন্যাসটির মনস্তাত্ত্বিক দিকটা আমাকে এখনও ভাবিয়ে রেখেছে, পড়াশোনার খাতিরে ফ্রয়েডের থিওরি পড়তে হচ্ছে বর্তমানে ফলে বারবার মনে হচ্ছে লেখকের চরিত্রগুলো যেন ফ্রয়েডের থিওরির এক একটা ধাপ (Id, Ego, Superego)। যদিও এটা নিয়ে বিস্তারিত আরো ভাবতে হবে, তবে যারা ফ্রয়েডের থিওরি পড়েছেন তারাও হয়তো আমার সাথে সহমত হবেন। না পড়া থাকলেও কোনো ক্ষতি নেই, এটা নোলান এর সিনেমা নয় যে আপনাকে বিশাল পড়াশোনা করে তারপর পড়তে হবে।
শেষে বলি, ২১৮ পৃষ্ঠা অবধি বইটা একটা টানটান উত্তেজনাময় বর্তমান সময়ের মাস্ট রিড। এরকম কাজ আগে আমি অন্তত পড়িনি, তাই এই সাহসিকতার পাশে দাঁড়ানো দরকার বলে আমি মনে করি।
এই পুরো রিভিউটা আরো ডিটেলস এ এই অধমের ইউটিব চ্যানেল এ ইচ্ছে হলে দেখে আসতে পারেন। কমেন্টে লিঙ্ক থাকবে। https://youtu.be/yItIADeVtUc
গতবছর বইমেলার সময় থেকে এই বইটি নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু আলোচনা/ রিভিউ পড়েছিলাম । এই বছরের বই পড়া এই উপন্যাস দিয়ে শুরু করলাম।
হত্যাবৃত্ত উপন্যাসের বিষয়বস্তু ঠিক কি সেটা বলা আমার পক্ষে একটু কঠিন। কারন এই উপন্যাসের মধ্যে রাজনীতি, ধর্ম, দর্শন, যৌনতা, হিংস্রতা , ভায়োলেন্স ইত্যাদি সবকিছু নানা শেডে উপস্থিত। রাজ্যের সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও নির্মম চিত্র উঠে এসেছে এখানে। লেখক একটি কাল্পনিক শহর রূপনগরকে কেন্দ্র করে, সেখানে বসবাসকারী ও বাইরে থেকে আসা কিছু চরিত্র ও ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে যে বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন, তা অস্বস্তিকর হলেও অস্বীকার করার উপায় নেই।
ক্ষমতার লোভ, মৌলবাদ, স্বৈরাচারী শাসন, দুর্নীতি সাম্প্রদায়িক দা ঙ্গা, খুন , ধ র্ষ ণ,ডান ও বাম রাজনীতি ও ষড়যন্ত্র এই সমস্ত বিষয়গুলি লেখক একেবারে সোজা কথায় লিখেছেন কোন রাখঢাক না রেখে। এছাড়া ধর্ম ও যৌনতা নিয়ে এতো খোলামেলা লেখাও আগে কোন গল্প বা উপন্যাসে আমি অন্তত পড়িনি। এই সমস্ত লেখাগুলি পাঠক যদি মন দিয়ে পড়েন আমি নিশ্চিত মতের অমিল থাকলেও প্রচুর নতুন চিন্তার খোরাক পাওয়া যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই।
উপন্যাসের লেখার স্টাইলটাও বেশ ভালো লাগলো তিনটি মূল চরিত্র রাজকুমার, আলেফ ও সোনিয়া এদের বলে যাওয়া কথার মধ্য দিয়ে উপন্যাস চলতে থাকে। তিনজন সমাজের আলাদা আলাদা অংশ থেকে এসেছে স্বাভাবিকভাবেই তিনজনের চিন্তাভাবনা দৃষ্টিভঙ্গি একেবারেই আলাদা। রাজকুমার চরিত্রটি আপাত দৃষ্টিতে উদাসীন মনে হলেও ওর কথাগুলোই আমার বেশী ভালো লেগেছে। আলেফ ও সোনিয়াও যথাযথভাবে নির্মিত, শক্তিশালী ও সাহসী চরিত্র।চরিত্রগুলির পারস্পরিক কথোপকথনের মাধ্যমেই ধর্ম, দর্শন ও রাজনীতির জটিল বিষয়গুলো লেখক স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
এই উপন্যাসে ভায়োলেন্স খুব বেশী, বেশ কিছু ঘটনার বিবরণ খুবই অস্বস্তিকর ও নির্মম।যৌনতা সংক্রান্ত প্রচুর আলোচনা রয়েছে কিন্তু আজকের সমাজে ও জীবনে এই সব কিছুই উপস্থিত এবং এটাই বাস্তব Whether we accept it or not, it doesn’t really change anything.আমি লেখক ও প্রকাশককে কুর্নিশ জানাবো এই ধরনের দুঃসাহসিক কাজ পাঠকদের সামনে নিয়ে আসার জন্য।
যারা সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লেখা পড়তে পছন্দ করেন, যৌনতা সম্পর্কিত লেখা পড়তে যদি কোন অসুবিধা না থাকে তাহলে হত্যাবৃত্ত পড়ুন অবশ্যই।