শরিফুল হাসানের পাঠক নন্দিত আহমেদ করিম সিরিজের নতুন সুপারন্যাচারাল থ্রিলার ''সালাম চৌধুরির তিন সমস্যা''। ড. আহমেদ করিম এক অদ্ভুত সমস্যার সমাধান করতে আসেন নিঝুমপুরী রিসোর্টে, যেখানে সালাম চৌধুরি নামে এক ব্যক্তি ছয় বছর ধরে বন্দি। তিনি রিসোর্টের বাইরে যেতে পারেন না, সূর্যের আলো সহ্য করতে পারেন না, এবং তার শরীর, চেহারা সম্পূর্ণ বদলে গেছে! রহস্য ঘনীভূত হয়, যখন দেখা যায় যে একাধিক ব্যক্তি নিজেকে সালাম চৌধুরি দাবি করছে!
Shariful Hasan hails from Mymensingh, Bangladesh. He has spent his childhood by the banks of Brahmaputra river. He completed his Masters in Sociology from University of Dhaka and is currently working in a renowned private organization.
Shariful's first novel was published on 2012 titled Sambhala. With two other books, this captivating fantasy trilogy has received widespread acclimation both within and beyond the borders of Bangladesh. The Sambhala Trilogy was translated in English and published from India.
Although his inception consisted of fantasy and thriller, he has later worked on a variety of other genres. These works have been received fondly by the Bangladeshi reader community. Lot of his works have also been published from different publications in West Bengal.
Award- Kali O Kalam Puroshkar 2016 for 'অদ্ভুতুড়ে বইঘর'
আহমেদ করিম আবার ফিরে এসেছে। ঢাকার অদূরে এক রিসোর্টের মালিক সালাম চৌধুরি। এক সমস্যার কারণে সে ডেকে পাঠায় আহমেদ করিমকে। সমস্যা আসলে একটা নয়, তিনটা।
এই তিনটা সমস্যার প্রথমটা সে এই রিসোর্টের বাইরে যেতে পারে না। দ্বিতীয় সমস্যা তার শরীরে আলো লাগলেই জ্বালাপোড়া হয়। আর তৃতীয়টা?
থাক... সবকিছু বলে দিলে তো হলো না!
"সালাম চৌধুরির ছেলে তিন সমস্যা" ছোটগল্প খুব যে বড় কিছু, এমনটা বলব নে। বেশ সাদামাটা গল্প। তবে এই সাদামাটা গল্পের ভিতর লেখক শরীফুল হাসান বেশ ভালোই রহস্য ছড়াতে পেরেছেন।
শরীফুল হাসান এমন একজন লেখক, তিনি তার লেখা দিয়েও একটি এভারেজ গল্পকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। তার বর্ণনাশৈলী এর সাবলীল, পড়তে বিন্দুমাত্র অসুবিধা হয় না।
"সালাম চৌধুরির তিন সমস্যা" এভারেজ গল্প না। আবার দারুণ কিছু না। ছোটগল্প যেমন হয়, ঠিক তেমনই। কিছুটা অতিপ্রাকৃত ছোঁয়া ছিল। মনস্তত্ত্বের বিষয় ছিল। হুট করেই শেষ হয়ে যেন ছোটগল্পের সার্থকতা জানান দিয়েছে। শেষে আহমেদ করিমের সমাধানও গ্রহণযোগ্য।
এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে এমন অনেক কিছুই ঘটে, যার অনেক কিছুর ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। বুদ্ধি দিয়ে সমাধান করতে হয়। আহমেদ করিম সেই বুদ্ধির উপরেই প্রতিনিয়ত নির্ভর করে।
এক বসায় পড়ে নেওয়ার মতো ছোটগল্পটা প্রকাশ হয়েছে ইবুক প্ল্যাটফর্ম বইঘরে।
▪️বই : সালাম চৌধুরির তিন সমস্যা ▪️লেখক : শরীফুল হাসান ▪️ইবুক : বইঘর
আহমেদ করিম সবসময় রহস্যের দুনিয়ায় বিচরণ করতে পছন্দ করেন। তিনি বহু কেসের মুখোমুখি হয়েছেন এখন এই মূহুর্তেও তিনি আছেন সুন্দর একটি রিসোর্টে। রিসোর্টটি বেশ বড় এবং আহমেদ করিম অনেকদিন পর ঢাকার বাইরে এসে বেশ ভালো অনুভব করছেন।
অবশ্য এই রিসোর্টের মালিক সালাম চৌধুরির তিনটি সমস্যার সমাধান করতে তিনি এসেছেন। সালাম চৌধুরির সাথে এখন পর্যন্ত তার দেখা হয়নি তবে তিনি অপেক্ষা করছেন ডাক কখন আসবে এবং তিনি নিজের রুম থেকে বেরিয়ে সালাম চৌধুরির সাথে দেখা করবেন। কিন্তু সালাম চৌধুরির সাথে দেখা করে তিনি নিজেই যেন জটিল এক রহস্যময় জগতে প্রবেশ করলেন। তিনি একজন নয়, একে একে পরিচিত হলেন তিনজন সালাম চৌধুরির সাথে! আর সেই তিন সালাম চৌধুরির রয়েছে আলাদা আলাদা তিনটি করে সমস্যা! মানে এসব হচ্ছেটা কী!
আহমেদ করিম কখনো বিপদে মাথা গরম করেন না। ঠান্ডা মাথায় তিনি মুখোমুখি হতে চলেছেন তিনজন সালাম চৌধুরির! তবে এই সাক্ষাৎ কী তার জন্য মঙ্গলজনক কিছু হবে? নাকি আহমেদ করিম জড়িয়ে পড়বেন কোনো বড় বিপদে?
🧁পাঠ প্রতিক্রিয়া🧁
"সালাম চৌধুরির তিন সমস্যা" শুরু থেকেই বেশ ছিমছাম গল্প। এবং আমার কাছে এই সিম্পল গল্পটা কখন যেন বেশ ইন্টারেস্টিং লাগতে শুরু করলো যখন আসল টুইস্ট দিলেন লেখক। সাদামাটা ছিমছাম গল্পটা এক মূহুর্তের মধ্যেই যেন বেশ ভালো লেগে গেল।
শরীফুল হাসানের লেখা সবসময় ভালো লাগে আমার কারণ তিনি খুব সাদামাটা গল্পকার আবার আপনি তার বর্ণনা ভঙ্গিতে খুঁজে পাবেন দারুন কিছু। গল্পটা তখন এক তৃপ্তির ছোঁয়া দেবে। যেমন এই গল্পটি শেষ করে মনে হলো ইসস! এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল! শেষের দিকে পুরো গল্পের মোড় ঘুরে গেছে একদমই।
"সালাম চৌধুরির তিন সমস্যা" আমার কাছে ভালো লেগেছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে শেষের দিকে। আহামরি বলবো না আবার খুব খারাপ ও নয়। পড়া শেষ করে বেশ ভালো লেগেছে। এমন ধরনের গল্পে শেষ করে একটা ভালো লাগা কাজ করে।
পৃথিবীতে এমন অনেক ঘটনা আছে যা আমাদের মনকে কৌতুহলী করে। হয়তোবা সালাম চৌধুরির তিনটি সমস্যার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। বেশ হরর ভাইব সাথে আহমেদ করিমের সাইকোলজিক্যাল যুক্তি। গল্পের সবটা মিলিয়ে বেশ ভালো লাগলো আসলেই। তবে ওই যে বললাম আরেকটু বড় হলে আরো আনন্দময় হতো পড়ার সময়টা। এক বসায় পড়ে নেওয়ার মতো ছোটগল্পটা প্রকাশ হয়েছে ইবুক প্ল্যাটফর্ম বইঘরে।
❛প্রকৃতি ব্যাখ্যার ঊর্ধ্বে। প্রকৃতির রহস্য উন্মোচন করতে গেলে নতুন অনেক রহস্য এসে হাজির হয়। আমরা যেগুলোকে ব্যাখ্যা করতে পারিনা সেগুলোকেই অতিপ্রাকৃতের তকমা দিয়ে দিই।❜ আবার ফিরে এসেছে আহমেদ করিম। তবে ছোটো পরিসরে। নতুন এক রহস্যের কিনার পেতে করিম সাহেব এসেছেন নিঝুমপুরী রিসোর্টে। রিসোর্ট মালিক সালাম চৌধুরি তাকে আনিয়েছেন। কারণ সালাম চৌধুরির তিন সমস্যা। প্রথমটা তিনি এই রিসোর্টের বাইরে যেতে পারেন না। দ্বিতীয় তিনি আলো সহ্য করতে পারেন না। আর তৃতীয়? এখানেই রহস্য। নিজের বিজ্ঞাপনে করিম সাহেব অতিপ্রাকৃত সমস্যার সমাধানের কথা বললেও আদতে নিজেই এই বিষয়ে বিশ্বাস রাখেন না। যুক্তি, প্রমাণ দিয়ে সমাধান করেন সব। তবে এবার তার যুক্তি প্রমাণ খাটে নাকি প্রশ্ন! পাঠ প্রতিক্রিয়া: ❝সালাম চৌধুরির তিন সমস্যা❞ শরীফুল হাসানের আহমেদ করিম সিরিজের একটা ছোটোগল্প। আহমেদ করিম সিরিজ আমার বেশ প্রিয়। এখানেও আহমেদ করিম নতুন রহস্য সমাধানে এসে মুখোমুখি হয়েছেন চ্যালেঞ্জের। যা তার বিশ্বাস এবং নীতিবোধের সাথে কখনো সাংঘর্ষিক হয়েছে। তবুও তিনি তার চিরায়ত সমাধান প্রক্রিয়ায় সমাধান দিয়েছেন। তবুও ছিল কিছু রহস্য। ছোটো গল্প শুরু না হতেই শেষ হয়ে যায়। গল্প নিজেকে মানিয়ে নেয়ার আগেই ইতি টানতে হয়। তবুও এই ইতিগুলো বেশ লাগে। আহমেদ করিমকে আবার বড়ো পরিসরে ফেরত চাই। ছোটো গল্পের গন্ডিতে তাকে আবদ্ধ থাকতে দেখতে চাই না। ❛রহস্য সমাধানের পথে যখন আরো রহস্য হাজির হয় তখন কি মনে হয় লাগবে না সমাধান। রহস্যের অতলে যাই হারিয়ে?❜