‘শেক্সপিয়ার অ্যান্ড কোম্পানি’ প্যারিসের প্রথম ইংরেজি বইয়ের দোকান। সিলভিয়া বিচ নামে এক মার্কিন তরুণীর দোকান এটি। ইংরেজিভাষী প্রবাসী লেখক ও আঁদ্রে জিদের মতো ফরাসি লেখকদের মিলনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেতে সময় নেয়নি। ‘শেক্সপিয়ার অ্যান্ড কোম্পানি’ সাহিত্যের ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছে জেমস জয়েসের কালজয়ী এপিক উপন্যাস ইউলিসিস প্রকাশের জন্য। যখন ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রে সেন্সরশিপের ভয়ে কোনো প্রকাশক এই বই প্রকাশ করতে সাহস করেননি, তখন সিলভিয়া বিচ এগিয়ে এসেছিলেন, তাঁর পুঁজির অভাব সত্ত্বেও। বাকিটা ইতিহাস। বিখ্যাত সেই গ্রন্থ ইউলিসিস প্রকাশের কাহিনি নিয়েই হাসনাত আবদুল হাইয়ের এই নভেলা শেক্সপিয়ার অ্যান্ড কোম্পানি। যা পাঠ করা হবে পাঠকের জন্য এক রুদ্ধশ্বাস ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
হাসনাত আব্দুল হাই (English: Hasnat Abdul Hye) একজন বাংলাদেশি লেখক এবং প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক। তিনি ঢাকা, ওয়াশিংটন, লন্ডন ও কেমব্রিজে লেখাপড়া করেন। তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার, জগদীশ চন্দ্র বসু পুরস্কার, শের-ই-বাংলা পুরস্কার, এস.এম. সুলতান পুরস্কার, শিল্পাচার্য জয়নুল পুরস্কারে ভূষিত হন।
জয়েস, প্রুস্ত, হেমিংওয়েসহ আরো অনেক লেখক 'শেকসপিয়ার অ্যান্ড কোং' লাইব্রেরিতে প্রায়ই এসে আড্ডা মারতো। এই লাইব্রেরি ঘিরে তাদের জীবনের বিভিন্ন সমস্যা, সাহিত্য নিয়ে আলাপ চলতে থাকে। মূলত জেমস জয়েসের 'ইউলিসিস' লেখা ও ছাপানোর পিছের ঘটনা নিয়েই পুরো উপন্যাসটা আবর্তিত। হাসনাত হাই বই আকারে প্রকাশিত হবার আগে বর্ধিত কলেবরে লিখবেন এই প্রত্যাশা রাখি।
প্রথম থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে ইংরেজি ও ফরাসি সাহিত্যের কিছু অতি প্রতিভাবান লেখক, যারা থাকতেন প্যারিসে এবং পরবর্তীতে সাহিত্যের ইতিহাসে চিরস্থায়ী আসন গেড়ে নিতে সমর্থ হয়েছেন - তাদের সম্পর্কে জেনে থাকলে, এ বইটি আপনি উপভোগ করবেন। আর জেমস জয়েস পড়ে থাকলে, শেকসপিয়ার অ্যান্ড কোম্পানি এবং সিলভিয়া বিচের প্রেমে পড়ে যাবেন।
বিশেষ করে সাহিত্যের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এ বইটি পড়া জরুরী, কেননা জেমস জয়েসকে বুঝতে পারা তার কোনো লেখা বোঝার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এখানেই রেটিংয়ে এক কমাতে হয়েছে। জয়েসের চরিত্রায়নে আমি আরেকটু ডিটেইলিং আশা করেছিলাম। তবে এও ঠিক, সেটা করতে গেলে এই বইখানা রীতিমতো ইউলিসিসের আকার ধারণা করত।