ফুটবলরঙ্গ নিছক ফুটবল বিষয়ক কতগুলো রঙ্গ-রসিকতা বা হালকা চুটকির সংকলন নয়। রঙ্গ-কৌতুকের আড়ালে এটা একপ্রকার ফুটবলের খুদে তথ্যকোষ। বাংলাদেশে, বাংলা ভাষায় এমন বই বিরলই বলা যায়। আধুনিক পৃথিবীতে ফুটবল নিঃসন্দেহে সবচেয়ে প্রভাববিস্তারী খেলা। ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্বদেশপ্রেম, রাজনীতি, অর্থনীতির মতো বিষয়—যেগুলো কিনা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পৃথিবীর চালিকাশক্তি। এ বইয়ের ছত্রে ছত্রে সেসবই নানামাত্রায় উপস্থিত হয়েছে। এতে ফুটবল-ইতিহাসের সংক্ষিপ্তসার যেমন বর্ণিত হয়েছে, বর্ণিত হয়েছে ফুটবল নিয়ে নানা ধরনের বিচিত্র ঘটনা। এর কোনো কোনোটা নিখাদ বিনোদন দেবে, কিছু কিছু জোগাবে আনন্দ, বেদনা ও কৌতূহল। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য যেমন, তেমনি বিচিত্র বিষয়ে আগ্রহী পাঠকদের জন্যও বইটি তুমুলভাবে আকর্ষণীয়।
সব খেলার সেরা খেলা ফুটবল কিনা—সে তর্কে না গিয়েই বলা যায়, নিঃসন্দেহে ফুটবল পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আলোচিত জিনিসগুলোর একটি। ফুটবলে জীবনে পা ছোঁয়াননি এমন মানুষও এ খেলার নাম শুনলে আনন্দে আত্মহারা হন, উত্তেজনায় টগবগ করে ওঠেন। ফুটবল-ইতিহাসের বহু অবিশ্বাস্য সত্য ঘটনা ও মজার কাহিনি নিয়েই এ বই।
ফুটবলের অনেক মজার মজার ঘটনা আর ইতিহাস জানতে পারলাম। বইটি ১৯৮৬ এর বিশ্বকাপের পরে লেখা। তো বইয়ের অনেকগুলো রেকর্ডই বর্তমানে ভেঙ্গে গেছে। অনেক তারকার নামই প্রথম জানলাম বইটি পড়ার সময়। প্রতি বিশ্বকাপের পর বইটির একটি করে নতুন পার্ট আসলে ব্যাপারটা দারুণ হতো।
ফুটবলরঙ্গ প্রথম প্রকাশ হয়েছিল সেবা থেকে সেই ১৯৮৯ সালে। এরপর দীর্ঘকাল বইখানা হাপিস হয়ে গেছিলাম পাঠকের সামনে থেকে। এই এতকাল পরে বইয়ের জাহাজ বইটিকে নতুন করে হাজির করেছে পাঠকের দরবারে।
এই সিজনের ফুটবল বিশ্বকাপ চলার সময়ে বইটি প্রকাশ হলেও আমি হাতাতে পেরেছি গত মাসে ঢাকা বাতিঘর থেকে। ফুটবল নিয়ে মজার সব তথ্য ও ঘটনা নিয়ে ভরপুর বইটি। পড়তে পড়তে হেসেছি আজিব সব তথ্য জেনে। মজায় মজায় পড়তে ভালো লেগেছে দারুননন বইখানা।