উনিশ শতকে পুঁজিবাদ যখন মানব ইতিহাসের আরেক পর্বে নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা, মূলধন সংবর্ধন আর গতিশীলতার নতুন ব্যবস্থা হিসেবে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তখন নানা অসম্পূর্ণ, ভুল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যা থেকে মুক্ত করে পুঁজিবাদের শক্তি ও সংকট উপলব্ধি এবং তার মধ্যে মানুষের মুক্তির লড়াইয়ের ক্ষেত্র শনাক্ত করার কাজে হাত দেন ডক্টর কার্ল মার্ক্স। ১৮৫৭ সালে পুঁজি লেখার কাজ শুরু হয়, প্রথম খণ্ড শেষ হয় ১৮৬৭ সালের ১৬ আগস্ট। এর প্রথম ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৮৮৬ সালের শেষে মার্ক্সের মৃত্যুর পর। বর্তমান পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার গতি-প্রকৃতি বুঝতে মার্ক্সের এই গ্রন্থ অধ্যয়ন অপরিহার্য। সেই তাগিদ থেকেই আনু মুহাম্মদের এই পাঠ পর্যালোচনা। মার্ক্সের পর্যবেক্ষণ ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের পর্যালোচনা করতে গিয়ে লেখক পুঁজি গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের বহুলাংশের তরজমা করেছেন প্রাঞ্জল ও সহজবোধ্য বাংলায়।
পুরো নাম আনু মুহাম্মদ আনিসুর রহমান হলেও আনু মুহাম্মদ নামেই অধিক পরিচিত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক। ঢাকায় লেখাপড়া শেষ করে ১৯৮২ থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে যোগদান করেন। এছাড়া একই বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগেও শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী শোষণ, বৈষম্য, নিপীড়ন ও আধিপত্য বিরোধী তত্ত্বচর্চা ও লড়াইয়ে সক্রিয় অংশ নেন। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদে জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনসহ যে কোন প্রকার নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে তিনি তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব। বাংলাদেশে মার্কসীয় অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অর্থনীতি সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি সবচেয়ে পরিচিত লেখক।