কোথাও আকাশছোয়া দুর্লঙ্ঘ্য পর্বতরাজ্য, বজ্রনির্ঘোষে যেখানে মুহূর্মুহূ ভেঙ্গে পড়া হিমানী সম্প্রপাত, আবার কোথাও খরস্রোতা স্রোতস্বিনী ধেয়ে আসে ফেনিল উল্লাসে । ...কোথাও গহন অরণ্যে ঢাকা নিভৃত উপত্যকা, কোথাও শব্দহীন ধু ধু মতুপ্রান্তর । ...আবার এখানেই আছে সুন্দর জনপদ - মিনার মঞ্জিল মসজিদ দালান কোঠা । ...শুধু বিশাল বিপুল অঞ্চল জুড়ে ব্যপ্তিতে নয় বা অসংখ্য চরিত্রের ঘনঘটা-সংঘর্ষে আলোড়িত নয়, বিভিন্ন রাষ্ট্র ও প্রদেশ জুড়ে, বিপ্লবের আগুনে কীভাবে শুদ্ধ হয়ে লোহা হয়ে ওঠে ক্ষুরধার ইস্পাত, নিঃসঙ্গ মিন-আরখার গাঁয়ের শিকারি 'জুরা'কে কেন্দ্রীয় চরিত্র করে তারই মহা উপন্যাস দুরন্ত ঈগল । বাংলা সাহিত্যে এক ও অদ্বিতীয় ।
পটভূমিঃ
ভারতের সর্বোত্তরে কাশ্মীর । কাশ্মীরের উত্তরে পাঁচটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের সীমান্তরেখা এক জায়গায় এসে মিলিত হয়েছে । এই সেই পামীর, যেখানে মিলিত হয়েছে পৃথিবীর কতকগুলি আকাশছোঁয়া মহাবিশাল গিরিশ্রেণি - হিন্দুকুশ, সুলেমান, তিয়েনশান, কিউনলুন, আলতিন তাগ, কারাকোরাম, হিমালয় প্রভৃতি । পৃথিবীর উচ্চতম মালভূমি এই পামীর - চিরন্তন তুষার ও বরফের রাজ্য । চিরতুষারে ঢাকা অসংখ্য পর্বতশ্রেণির আদিঅন্তহীন কুণ্ডলী ও গোলকধাঁধা যেন । মানুষের বসবাসের সম্পূর্ণ অযোগ্য এ দেশ । কোন কোন এলাকায় এখানে-ওখানে কিছু বসতি চোখে পড়লেও, তা এত বিরল ও দূরে দূরে ছড়ানো যে দেশটাকে প্রায় বিজন বলা চলে । বিষম দুর্গম, ভয়ঙ্কর ও পর্বতসঙ্কুল এই এলাকা, তেমনি আবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণও বটে । আলোচ্য উপন্যাস 'দুরন্ত ঈগল' শুরু হয়েছে এই পামীরের এক দুরধিগম্য বিজন অঞ্চলে । ১৯১৭ সালের নভেম্বর মাসে রাশিয়ায় যে বিপ্লব ঘটে, তাতে জারের শাসন লোপ পায়, জার-সাম্রাজ্যের ধ্বংসস্তুপের ওপর গড়ে ওঠে প্রথম সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন । বিপ্লবের আগে থেকেই জার-সাম্রাজ্যের সর্বত্র, বিশেষ করে তার মধ্য এশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চলছিল বিশৃঙ্খলা, অরাজতা ও সন্ত্রাসের রাজত্ব । ছোটবড় বহু ডাকাত দলের ঘাঁটি গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন জায়গায় । গঞ্জে, জনপদে ও বর্ধিষ্ণু জনবহুল এলাকায় তারা লুটপাট, খুনজখম ও রাহাজানি করে ফিরত । তাদের বলা হতো বাসমাচি । এইসব বাসমাচি দলের মধ্যে এমন দলও অনেক ছিল, যারা জনবল ও অস্ত্রবলে ছিল যথেষ্ট বড়, সংগঠিত ও বেশ শক্তিশালী । বিপ্লবের পর সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার জন্য ভেতরের ও বাইরের বহু বিরোধী শক্তি গোপনে ও প্রকাশ্যে জোট বেঁধে তার বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে এবং এইসব বাসমাচি দলের অধিকাংশই তখন বাঁচার তাগিদে স্বভাবতই হাত মেলায় তাদের সঙ্গে । এ সবই আজ ইতিহাস । এই সময়কার সংঘাতবহুল রোমাঞ্চকর ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই উপন্যাস দুরন্ত ঈগল ।
"নবীন প্রবীন সর্বজনের কাছেই সমান হৃদয়গ্রাহী ।" - আনন্দবাজার "মহাকাব্য বললেও অত্যুক্তি হয় না"। - আজকাল "দুরন্ত দুর্ধর্ষ ।" - গণশক্তি "এ যে মহাকাব্য, এ যে চিরায়ত সাহিত্যের কোঠায় স্থান পাবার যোগ্য রচনা ।" - যুবনাশ্ব (মনীশ ঘটক)
শিক্ষা, এম.এ. (ইংরাজি সাহিত্য) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। সংগ্রামী জীবন। তারই প্রতিফলন দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সমগ্র সৃষ্টিতেও। কৈশোরে সশস্ত্র স্বাধীনতা-সংগ্রামের পথ ধরে যৌবনে গ্রহণ করেন বৈজ্ঞানিক মতাদর্শ। পেশাগত ভাবে গ্রহণ করেন প্রকাশন ব্যবসা। প্রথম সাহিত্য স্বীকৃতি ১৯৬২ সালে, ভয়ঙ্করের জীবন-কথা ভূষিত হয় রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে। বহুদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় ১৯৬৮ সালে। দীনেশচন্দ্রের সম্পাদনায় প্রকাশিত হল কিশোর ভারতী। উৎসারিত হল এক জাদুকরী লেখনীর ঝরনা। সাড়া পড়ে যায় পাঠকমহলে। ১৯৮৭ সালে দীনেশচন্দ্র সম্মানিত হলেন বিদ্যাসাগর পুরস্কারে। দীর্ঘজীবনে তিনি পেয়েছেন আরও অনেক পুরস্কার ও সম্মান।
প্রকাশিত গ্রন্থ : দীনেশচন্দ্র রচনাসমগ্র, বিজ্ঞানের দুঃস্বপ্ন, ওদের বাঁচতে দাও, দুরন্ত ঈগল, নীল ঘূর্ণি, কালের জয়ডঙ্কা বাজে, ভাবা সমগ্র ১ ও ২, প্রথম পুরুষ, চিরকালের গল্প, ভয়ঙ্করের জীবন-কথা, মানুষ অমানুষ, ভারত গল্পকথা, ইত্যাদি।
বাংলা ভাষায় সোভিয়েত উপন্যাস বলতে মাথায় আসে রাদুগা, প্রগতি প্রকাশনীর থরে থরে সাজানো বই, বহু ক্ষেত্রেই সোভিয়েত লেখকদের লেখা, বাংলায় অনূদিত। দীনেশচন্দ্র কোনো সোভিয়েত ঔপন্যাসিক নন। তবুও তাঁর লেখা কিশোর উপন্যাস 'দুরন্ত ঈগল' হয়ে ওঠে একটি সার্থক সোভিয়েত উপন্যাস, উপকথার নায়কের জায়গা নেয় মধ্য এশিয়ার পার্টিজানেরা - বাসমাচি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই হয়ে ওঠে আধুনিক রূপকথা।
আগের বার বইটা যখন পড়েছিলাম ক্লাস সেভেনে, তখন জুরা বা জয়নাবের চরিত্রগুলি মনে যতটা দাগ কেটেছিল সেটা এবার অত হয়নি, বরং উদ্বুদ্ধ করেছে কীভাবে বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষ একসময় সোভিয়েতের জন্য প্রাণপাত করে সাম্যবাদী সমাজতান্ত্রিক আদর্শকে বাঁচিয়ে রেখেছিল।
বিশেষভাবে প্রশংসার দাবি রাখে লেখকের বাংলা ভাষা, যেখানে তৎসম ও তদ্ভবের মত ফার্সি শব্দেরও বাহুল্য রয়েছে। আজাদি, ইনকিলাবের মত শব্দ বারবার ঘুরেফিরে এসেছে।
বলশেভিক বিপ্লবের সময়কার সোভিয়েত রাশিয়ার ছোট এক গ্রামের শিকারী তরুণ জুরাকে নিয়ে এই গল্প। তলস্তয়ের কশাক, গোগোলের তারাস বুলবার প্রভাব আছে। কিন্তু গোগোল বা তলস্তয় যেভাবে ওই ট্রাইবগুলার কথা বলতে পারছে এই বইয়ে সেটা নাই, থাকার কথাও না। এটু অ্যাডভেঞ্চার কিসিমের এবং ক্ষেত্র বিশেষে ফ্যান্টাসিঘেঁষা হয়ে গেছে। ছোটবেলায় পড়লে পাঁচ তারা দিতাম।
"Duranta Eagle" means The Untamed Eagle. The book circles around a central character Jura from Russian Pamirs. This is a good book to read based on a period of insurgency in central Asia during the revolution of the then Russia whereupon USSR was formed. This is the book on the places, the people their fight for the cause of socialism. In the preface the author mentions that he have taken helps from many a books including one great "Hunter of the Pamirs" by Gorgy Tasikhan. I did not read the book, but I feel may be the book partially depended on the theme. This book reminds me of at last another great Soviet book "How the Steel was Tempered" by by Nicholai Astrovsky. I give this a mere 3 star rating, though this is a good book to read and I really liked it. However in today's date when the main theme of the book is at bay I had to take one off.
“দুরন্ত ঈগল” এক প্রাণঢালা অ্যাডভেঞ্চার গল্প, যেখানে দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর স্বাক্ষরস্বভাবসুলভ রোমাঞ্চ, গতি ও রহস্যকে দারুণভাবে মেলেছেন। গল্পের তরুণ নায়করা বিপদ, ভূগোল, বুদ্ধি আর সাহসের মুখোমুখি হয়ে এগোতে থাকে—পাঠকও তাদের সঙ্গে টানটান উত্তেজনায় যাত্রা করে। লেখকের বর্ণনাভঙ্গি এতটাই জোরালো ও চিত্রময় যে মনে হয় যেন সিনেমার মতো চোখের সামনে দৃশ্যগুলো ফুটে উঠছে।
ভাগ্যিস বলশেভিক বিপ্লবের অব্যবহিত পূর্বের সময়কে পটভূমি তৈরি করে রচিত হয়েছে এই উপন্যাস। নয়তো কমিউনিস্টদের অপশাসনে ক্লান্ত জন-নাগরিকদের নিকট এই উপন্যাস মনে হত সুগারকোটেড। জানি না কমিউনিস্ট পার্টি কখনো গরীবের উপকারে এসেছে কিনা এই বঙ্গে কমিউনিস্টদের ইতিহাস শোষকের বা শাসককে তোষনের ইতিহাস। কাহিনী এবং কথা প্রণালী ভাল লেগেছে বিধায় ৪/৫ দিলাম!
প্রায় মহাকাব্য! অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় বাঙ্গালি, এই অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হবেন না! পামীরের বুকে, উন্মুক্ত আকাশে এখন নির্ভয়ে উড়ে বেরায় এক জোড়া দুরন্ত ঈগল-ঈগলী।